জামালপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট
প্রাক্তন নাম | শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট (২০২০-২০২৪) |
|---|---|
| ধরন | সরকারি |
| স্থাপিত | ২০২২ |
প্রাতিষ্ঠানিক অধিভুক্তি | বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ড |
| অধ্যক্ষ | এ.কে.এম মঞ্জুরুল হক[১] |
| শিক্ষার্থী | ৪৬০ (আনুমানিক) |
| ঠিকানা | , , বাংলাদেশ ২৪°৫৪′৩৮″ উত্তর ৮৯°৪৫′০৯″ পূর্ব / ২৪.৯১০৬৬২° উত্তর ৮৯.৭৫২৪৯৫৪° পূর্ব |
| শিক্ষাঙ্গন | গ্রামীণ, ৮.৩২ একর |
| ভাষা | বাংলা |
| ওয়েবসাইট | srti |
![]() | |
জামালপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।[২] টেক্সটাইল শিল্পের দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে এই ইনস্টিটিউটটি ডিপ্লোমা পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এটি বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিক্ষা খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত।
ক্যাম্পাসের অবস্থান
[সম্পাদনা]প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী ক্যাম্পাস মাদারগঞ্জ উপজেলার জোরখালী গ্রামের উত্তর-পশ্চিম পাশে অবস্থিত।[৩] কইয়ের বিল ও কাছিমগড় বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্যাম্পাসটিকে এক মনোরম পরিবেশে ঘিরে রেখেছে। এটি মিলন বাজার থেকে ৯০০ মিটার পশ্চিমে এবং জামালপুর-মাদারগঞ্জ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় যাতায়াত বেশ সুবিধাজনক।
প্রাকৃতিক জলাভূমি ও সবুজের সমারোহের মাঝে ক্যাম্পাসটি দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে।
ইতিহাস ও পটভূমি
[সম্পাদনা]জামালপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে একযোগে ৬টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করেন, যার মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৪] এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি সরকারের কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
২৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রতিষ্ঠানটির নাম শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট থেকে পরিবর্তন করে জামালপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট রাখা হয়।[৫][৬]
অবকাঠামো
[সম্পাদনা]এটি একটি সুসজ্জিত এবং আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক, প্রশাসনিক এবং আবাসিক সুবিধা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা এবং জীবনের অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সহায়ক।[৭]
প্রতিষ্ঠানটির আছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, যা শিক্ষাকার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজের সমন্বয়ে ব্যবহৃত হয়। শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও ব্যবহারিক কাজের জন্য আছে লাইব্রেরি ও ওয়ার্কশপ। ৪ তলা বিশিষ্ট একটি প্র্যাকটিক্যাল ল্যাবরেটরি ভবন আছে, যেখানে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়।[৭]
এছাড়াও রয়েছে ছাত্র এবং ছাত্রীদের জন্য ৪ তলা বিশিষ্ট আলাদা হোস্টেল ভবন, খেলার মাঠ, শহীদ মিনার, মসজিদ এবং অন্যান্য অবকাঠামো যা ক্যাম্পাসকে আরও পূর্ণাঙ্গ এবং জীবনযাত্রার জন্য উপযোগী করে তুলেছে।[৭]
আবাসিক ব্যবস্থা
[সম্পাদনা]এখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ২টি আবাসিক হোস্টেল রয়েছে। যার মধ্যে একটি ছেলেদের এবং মেয়েদের জন্য। হোস্টেলের আসন সংখ্যা যথাক্রমে ছেলেদের ১৯২টি এবং মেয়েদের ৫০টি। এছাড়াও আছে অফিসার্স কোয়ার্টার, অফিসার্স ডরমিটরি ও স্টাফ'স কোয়ার্টার।
শিক্ষা কার্যক্রম
[সম্পাদনা]বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এখানে চারটি বিষয়ে চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু রয়েছে। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ ৪ বছর। একেকটি বছরকে এক লেভেল হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রতিটি লেভেল আবার ২টি টার্মে বিভক্ত। মোট টার্ম সংখ্যা ৮ টি। প্রতি টার্মে নির্দিষ্ট সংখ্যক তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক কোর্স অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই কোর্সগুলো টেক্সটাইল শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ প্রকৌশলী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।[৮]
বিভাগসমূহ ও আসনসংখ্যা
[সম্পাদনা]| ডিপার্টমেন্টের নাম | আসন সংখ্যা |
|---|---|
| অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং | ৫০ |
| ইয়ার্ন ম্যানুফ্যাকচারিং | ৫০ |
| ওয়েট প্রসেস | ৫০ |
| মার্চেন্ডাইজিং এন্ড মার্কেটিং | ৫০ |
| মোট আসন সংখ্যা | ২০০ |
শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন
[সম্পাদনা]| নাম্বার শ্রেণী | গ্রেড লেটার | সিজিপিএ গ্রেড পয়েন্ট |
|---|---|---|
| ৮০-১০০ | A+ | ৪.০০ |
| ৭৫-৭৯ | A | ৩.৭৫ |
| ৭০-৭৪ | A- | ৩.৫০ |
| ৬৫-৬৯ | B+ | ৩.২৫ |
| ৬০-৬৪ | B | ৩.০০ |
| ৫৫-৫৯ | B- | ২.৭৫ |
| ৫০-৫৪ | C+ | ২.৫০ |
| ৪৫-৪৯ | C | ২.২৫ |
| ৪০-৪৪ | D | ২.০০ |
| ০০-৩৯ | F | ০.০০ |
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্য সূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "টেক্সটাইল ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট"। বস্ত্র অধিদপ্তর। ১৩ মার্চ ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২৫।
- ↑ "শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প" (পিডিএফ)। বাংলাদেশ সচিবালয়। ১৫ জানুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২৫।
- ↑ "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদারগঞ্জ উপজেলা"। বাংলা উইকিপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২৫।
- ↑ "ছয় টেক্সটাইল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী"। বাংলা ট্রিবিউন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২৫।
- ↑ "বস্ত্র অধিদপ্তরের ১১ প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন"। জাগো নিউজ। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২৫।
- ↑ "বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন ১১ প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন" (পিডিএফ)। বাংলাদেশ গেজেট। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২৫।
- 1 2 3 "বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা ২০২১-২২" (পিডিএফ)। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। ১৫ জুলাই ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২৫।
- ↑ "সিলেবাস/কোর্স স্ট্রাকচার/প্রবিধান"। বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষাবোর্ড। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২৫।
