জাপান-মালদ্বীপ সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জাপান-মালদ্বীপ সম্পর্ক
মানচিত্র Japan এবং Maldives অবস্থান নির্দেশ করছে

জাপান

মালদ্বীপ

জাপান-মালদ্বীপ সম্পর্ক, জাপান এবং মালদ্বীপ এর মাঝে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নির্দেশ করে। ১৯৬৭ সালে এই দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। [১]

জাপানের রাজধানী টোকিওতে মালদ্বীপের একটি স্থায়ী দূতাবাস রয়েছে। অপরদিকে, মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে জাপানের একটি স্থায়ী দূতাবাস রয়েছে। বর্তমানে, মালদ্বীপে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হলেন কাজুমি এন্ডো। ২০১৬ সালে তাকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়।[২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মালদ্বীপের সাবেক রাষ্ট্রপতি, মামুন আব্দুল গাইয়ুম ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ৪ বার রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে যান। এছাড়াও ২০১৪ সালে, মালদ্বীপের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুল্লাহ ইয়ামিন আব্দুল গাইয়ুম, জাপানে এক রাষ্ট্রীয় সফরে যান। তিনি সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী, শিনজো আবের সাথে বৈঠক করেন।[৩]

২০০৭ সালে, টোকিওতে, মালদ্বীপ তাদের দূতাবাস চালু করে।[৪]

সুনামি প্রতিরোধে জাপানের কার্যক্রম[সম্পাদনা]

২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে হওয়া ভূমিকম্প এবং সুনামির পর মালে

১৯৮৭ সালে মালদ্বীপে একটি প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে এবং এর ফলে হওয়া জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে মালদ্বীপের বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই দুর্যোগের কারণে মালদ্বীপের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে মালদ্বীপের অবকাঠামো খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মালদ্বীপের এই ক্ষয়ক্ষতির অর্থনৈতিক মূল্য ছিল প্রায় ৬ মিলিয়ন (৬০ লক্ষ) মার্কিন ডলার[৫]

এই বিপর্যয়ের প্রভাব মালদ্বীপের জিডিপি এর উপরও পরে। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় দেশটির জিডিপি প্রায় ৫.৭০ শতাংশ হ্রাস পায়। ১৯৮৬ সালে দেশটির জিডিপি ১৫৮ মিলিয়ন (১.৫৮ কোটি) মার্কিন ডলার হলেও, ১৯৮৭ সালে হয় ১৪৯ মিলিয়ন (১.৪৯ কোটি) মার্কিন ডলার।[৬]

এই দুর্যোগ পরবর্তী অবস্থায় মালদ্বীপ, জাপান সরকারের কাছে জরুরি এবং দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা চায়। জাপান দ্রুতই মালদ্বীপের এই আহ্বানে সাড়া দেয় এবং তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি, রাজধানী মালের উপকূলসহ মালদ্বীপের উপকূলীয় অঞ্চলে ৬ কিলোমিটার ব্যাপী একটি ঘূর্ণিঝড় ও সুনামি প্রতিরোধী বাঁধ নির্মাণে সহায়তা করে। এই বাঁধটি নির্মাণের কাজ ২০০২ সালে সম্পন্ন হয়।[৫]

বাঁধটি নির্মাণের ২ বছরের মাথায়, ২০০৪ সালে, ৯.১ বা এর চেয়ে তীব্র মাত্রার একটি মারাত্মক ভূমিকম্প ভারত মহাসাগরে আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পের প্রভাবে মালদ্বীপসহ ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরের নিকটের অনেকগুলো দেশে সুনামি আঘাত হানে এবং ব্যাপক প্রাণহানি হয়।[৭][৮][৯]

যদিও, জাপানের সহায়তায় নির্মিত সেই সুনামি প্রতিরোধী বাঁধের ফলে, মালদ্বীপে সুনামি ততটা তীব্র মাত্রায় আঘাত করতে পারেনি এবং মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে, এই সুনামির আঘাতে কোন মৃত্যুর ঘটনা ঘটে নি।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Japan-Maldives Relations (Basic Data)"জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  2. SunOnline - Japan appoints first resident Ambassador to Maldives ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১২ মার্চ ২০১৭ তারিখে - ৮ আগস্ট ২০১৬
  3. "President Yameen announced a successful bilateral summit meeting"। মালদ্বীপ দূতাবাস। ১৫ এপ্রিল ২০১৪। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  4. "Opening reception Thursday, May 10, 2007 Embassy of Maldives"। মালদ্বীপ দূতাবাস। ১০ মে ২০০৭। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  5. Highlighting JAPAN > Sixty Years of Japan's ODA > Ring of Protection: Japanese breakwaters protected capital from large tsunami | Cabinet Office, Government of Japan - আগস্ট, ২০১৪
  6. Maldives GDP (official exchange rate) - Economy
  7. "Earthquakes with 50,000 or More Deaths"। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভূতাত্ত্বিক জরিপ। ৫ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  8. "Indonesia quake toll jumps again"। বিবিসি নিউজ। ২৫ জানুয়ারি ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০১২ 
  9. "Indian Ocean tsunami anniversary: Memorial events held"বিবিসি নিউজ। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]