জাপানে মাধ্যমিক শিক্ষা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নাবিক ফুকু পড়া জাপানি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

জাপানে মাধ্যমিক শিক্ষা দুটি ভাগে বিভক্ত। নিম্ন মাধ্যমিক (中学校chūgakkō), যা সপ্তম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত এবং উচ্চ মাধ্যমিক (高等学校kōtōgakkō বা সংক্ষেপে 高校kōkō) যা দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত।

নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

কারাৎসু, জাপানে অবস্থিত ওনিজুকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়(鬼塚中学校)
Picture of a typical Japanese classroom
একটি সাধারণ জাপানি শ্রেণিকক্ষ

নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। তাদের বয়স মোটামুটি ১২-১৫ বছরের মধ্যে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ই সরকারি তত্ত্বাবধানে পাঠদান করে থাকে। ১৯৮০ এর দশকে মাত্র ৫ শতাংশ বিদ্যালয় ছিল ব্যক্তি মালিকানাধীন।[১]

জাপানে বছরে ন্যূনতম ২১০ দিন বিদ্যালয়ে কার্যক্রম চলমান থাকে। এর এক বিশাল অংশই বরাদ্দ থাকে বিভিন্ন পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও শিক্ষা সফরের জন্য।[২]

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকরাই সে বিষয়ে পাঠদান করে থাকেন। প্রতিটি শ্রেণির জন্য একজন করে শ্রেণিশিক্ষক বরাদ্দ থাকে। তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেন। নিম্ন মাধ্যমিক প্রত্যেক বিষয়ের জন্য আলাদা শিক্ষক রয়েছে। সাধারণত ছাত্রছাত্রীদের দুপুরের আহার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করে থাকে।

শিক্ষাদান[সম্পাদনা]

ওনিজুকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কক্ষ(সাধারণত শিক্ষার্থীরা এক স্থানে বসে থাকে এবং শিক্ষকরা প্রতি পিরিয়ডে স্থান পরিবর্তন করে শিক্ষাদান করেন)

শিক্ষা কার্যক্রমে রয়েছে জাপানি ভাষা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান, গণিত, বিজ্ঞান, সঙ্গীত, ফলিত কলা, শিল্পকলা, গৃহনির্মাণ, স্বাস্থ্য এবং শারীরিক শিক্ষা। এছাড়া নৈতিক শিক্ষা ও বিশেষ কার্যক্রমও এর অন্তর্ভূক্ত থাকে।[৩]

পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম[সম্পাদনা]

শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে। মেয়েদের মধ্যে জনপ্রিয় অন্যতম ক্লাব হচ্ছে উইন্ড ক্লাব।[৪] আর বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাব ছেলেদের মধ্যে জনপ্রিয়।[৫]

ফুটবল ক্লাব ইদানীং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অন্যান্য জনপ্রিয় ক্রীড়া ক্লাব হচ্ছে টেনিস, বাস্কেটবল, জিমনাস্টিক, জুডো এবং ভলিবল। প্রতিটি ক্রীড়াই আন্তঃবিদ্যালয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

কিছু বিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের একাডেমিক দক্ষতা যাচাইমূলক পরীক্ষা যেমন STEP Eiken (ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাইমুলক পরীক্ষা) ও Kanji kentei (কানজিতে দক্ষতা যাচাইমুলক পরীক্ষা) ইত্যাদিতে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করে থাকে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চলে শিক্ষাভ্রমণে গমণ করে।

উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের একটি উচ্চবিদ্যালয়

যদিও জাপানে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক নয়, ২০০৫ এর তথ্যমতে ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়।[৬]এবং তার মধ্যে ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়।[৭]

ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের একটি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়, যাতে জাপানি ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ইংরেজি বিষয়ে দক্ষতা যাচাই করা হয়।

দৈনন্দিন জীবন[সম্পাদনা]

উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সাধারণত সকাল ৮:৩০ এ শুরু হয়।[৮] প্রতিটি শ্রেনিকক্ষে ৪০-৪৫ জন শিক্ষার্থী থাকে।[৯]দুপুরের আহারের আগে ৫০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ৪টি ক্লাস থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষকরা বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে ক্লাস নিয়ে থাকেন। শুধু শারীরিক শিক্ষা, ল্যাবরেটরি ক্লাস ও অন্যান্য বিশেষ ক্লাসগুলোতে শিক্ষার্থীরা কক্ষ ত্যাগ করে অন্যস্থানে গিয়ে পাঠগ্রহণ করে।[১০]

কিছু কিছু বিদ্যালয়ে ক্যাফেটেরিয়া থাকে না। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণিকক্ষেই দুপুরের আহার গ্রহণ করে থাকে। প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মতো উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকার নির্ধারিত খাবারের ব্যবস্থা থাকে না। তাই শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসতে হয়। দুপুরের আহার শেষে আরও দুটি ক্লাস থাকে।

সাধারণত ৩:৩০ এর পরে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে।

পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম[সম্পাদনা]

অধিকাংশ বিদ্যালয়ে দুই ধরণের ক্লাব থাকে:

ভর্তির সময়ে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাব নির্ধারণ করে এবং খুব কম ক্ষেত্রেই তারা ক্লাব পরিবর্তন করে থাকে। বিদ্যালয় শেষে দুই ঘন্টার জন্য ক্লাবের কার্যক্রম চলে। মাঝেমাঝে ছুটির সময়ও ক্লাবের কার্যক্রম চলে। ক্লাবগুলো বন্ধুত্ব তৈরি ও সামাজিক আচরণ ব্যাপারে শিক্ষালাভে সাহায্য করে।

শিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক নির্ধারণ করে থাকে। সাধারণত শিক্ষার্থীরা গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান, জাপানি, বিজ্ঞান, ইংরেজি বিষয়ে তিন বছরের শিক্ষালাভ করে। এছাড়া শারীরিক শিক্ষা, সঙ্গীত, কলা ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে অতিরিক্ত শিক্ষালাভ করার সুযোগ রয়েছে। জাপানের সামাজিক বিজ্ঞান সাধারণত পৌরনীতি, ভূগোল, জাপানি ইতিহাস, বৈশ্বিক ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি এসব ভাগে বিভক্ত।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. A., Fadul, Jose (২০১১)। Insights from emergent education systems in selected countries : with De La Salle-College of Saint Benilde School of Multidisciplinary Studies scenarios upon full implementation of the K-12 program by 2016.। Morrisville, North Carolina: Lulu Press, Inc। আইএসবিএন 9781257995219ওসিএলসি 957970329 
  2. Shields, James J. (৩১ মে ২০০৪)। Japanese Schooling: Patterns of Socialization, Equality, and Political Control। Penn State Press। পৃষ্ঠা 82–84। আইএসবিএন 978-0-271-02340-3। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১২ 
  3. With a Mighty Hand, New Republic, March 19, 2011.
  4. Wind Bands and Cultural Identity in Japanese Schools by David G. Hebert (Springer press, 2011).
  5. "Schools - Explore Japan - Kids Web Japan - Web Japan" 
  6. STATISTICAL ABSTRACT 2006 edition<"Archived copy"। ২০০৮-০৬-১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৬-০৪ >
  7. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি" (PDF)। ২৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০২১ 
  8. "Japanese Education System - Grades 10-12" 
  9. Marcia, Johnson L. and Jeffrey R. Johnson. "Daily Life in Japanese High Schools." ERIC Digest. October 1996. ERIC Identifier: ED406301.
  10. "Archived copy"। ২০১৫-০৮-২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৮-২৫