জাতীয় ভিজ্যুয়াল আর্টস অ্যান্ড আর্কিটেকচার একাডেমি
ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ ভিজ্যুয়াল আর্টস অ্যান্ড আর্কিটেকচার ( ইউক্রেনীয় : Націона́льна акаде́мія образотво́рчого мисте́цтва и архітекту́ри ; НАОМА) হল একটি বিশেষ শিল্প বিশ্ববিদ্যালয় , কিউভিস আর্ট ইউনিভার্সিটি স্থাপত্য এতে চিত্রকলা , ভাস্কর্য , চিত্রায়ন , গ্রাফিক ডিজাইন , স্টেজ ডিজাইন , স্থাপত্য , শিল্প সংরক্ষণ , শিল্প ব্যবস্থাপনা বিভাগ রয়েছে ।[১]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]


১৯১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর কিয়েভে “ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রীয় শিল্পকলা একাডেমি” নামে জাতীয় চারুকলা ও স্থাপত্য একাডেমির সূচনা ঘটে। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ইউক্রেনীয় গণপ্রজাতন্ত্রের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ সম্পাদক আই. স্টেশেঙ্কোর উদ্যোগে। প্রতিষ্ঠাতা কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন পাভলুটস্কি। এর আগেই, ১৯১৭ সালের ৫ (১৮) নভেম্বর সেন্ট্রাল রাডা একাডেমির সংবিধি অনুমোদন করে এবং একই বছরের ডিসেম্বরের ৫ (১৮) তারিখে একাডেমির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
প্রাথমিকভাবে একাডেমির নেতৃত্বে ছিলেন ডি. আন্তোনোভিচ, পি. জাইতসেভ, ডি. শেরবাকোভস্কায়া (যিনি ছিলেন বৈজ্ঞানিক সচিব) প্রমুখ। প্রথম রেক্টর নিযুক্ত হন ফেদর ক্রিচেভস্কি।
প্রথম দিককার শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে ছিলেন এম. বোইচুক (স্মারক শিল্প), এন. বুরাচেক (ভূদৃশ্যচিত্র), ভি. ক্রিচেভস্কি (স্থাপত্য ও রচনা), এফ. ক্রিচেভস্কি (চিত্রকলা ও প্রতিকৃতি), এ. মানেভিচ, ও. মুরাশকো, এম. ঝুক (প্যানেল চিত্র ও অঙ্কন), এবং এইচ. নারবুট (গ্রাফিক্স)। ১৯২১ সালে আরও কিছু গুণী শিল্পী একাডেমিতে যোগ দেন—এল. ক্রামারেঙ্কো (স্মারক ও অলংকার চিত্রকলা), ভি. মেলার (থিয়েটার ডিজাইন), এস. নালেপিনস্কা-বোইচুক (খোদাই), ই. সাগাইদাচনি, বি. ক্রাটকো (ভাস্কর্য), এবং এ. তারান (মোজাইক) প্রমুখ।
শুরুতে একাডেমি ছিল প্রাক্তন শিক্ষামূলক জাদুঘরে (শিক্ষক ভবন)। পরে এটি স্থানান্তরিত হয় প্রাক্তন তেরেশেঙ্কোর ট্রেড স্কুল ভবনে। ১৯১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেড আর্মির কিয়েভ দখলের পর একাডেমিকে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তর করা হয়। কিন্তু ওই বছরের আগস্টে ডেনিকিনের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর দখলের পর একাডেমির অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়, ভবন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, এমনকি সম্পদগুলো অ্যাটিক ঘরে রেখে দেওয়া হয়। তখন রেক্টর দুটি ফাঁকা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করে সেখানে চিত্রকলার স্টুডিও, অফিস ও গ্রন্থাগার স্থাপন করেন।
১৯২০ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে একাডেমিটি স্থান পায় প্রাক্তন নোবেল অ্যাসেম্বলি ভবনে (বর্তমান ট্রেড ইউনিয়ন ভবনের জায়গায়)। ১৯২২ সালে এটি “কিয়েভ ইনস্টিটিউট অফ প্লাস্টিক আর্টস” নামে পুনর্গঠিত হয় এবং ১৯২৪ সালে স্থাপত্য ইনস্টিটিউট যুক্ত করে নামকরণ হয় “কিয়েভ আর্টস ইনস্টিটিউট”। এ সময় নতুন বিভাগ যুক্ত হয়—চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি, পলিগ্রাফি, সিরামিক শিল্প, ও রাজনৈতিক শিক্ষাদান।
স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইনস্টিটিউটটি সোভিয়েত ইউনিয়নের শীর্ষ শিল্পবিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে ১৯২০-এর দশকের শেষদিকে মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে একাডেমির গুরুত্ব কমে যায়। ১৯৩০ সালে কিছু বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। রেক্টর ইভান রোনাকে অপসারণ করে প্রোলেতকুল্ট মতাদর্শে পুনর্গঠন করা হয়। নতুন নাম হয় “কিয়েভ ইনস্টিটিউট অফ প্রলেতারিয়ান আর্টিস্টিক কালচার”। এখানে শিল্প ও প্রচার, সর্বহারা জীবনের সাজসজ্জা, সমাজতান্ত্রিক শহরের ভাস্কর্য, ও কমিউনিস্ট শিল্পশিক্ষার মতো বিভাগ চালু হয়।
১৯৩৪ সালে পুনরায় মৌলিক সংস্কারের মাধ্যমে একাডেমির নাম হয় “অল-ইউক্রেনীয় ইনস্টিটিউট অফ আর্টস”, পরে “কিয়েভ স্টেট আর্ট ইনস্টিটিউট”। একাডেমিক শিক্ষার ধারা পুনঃপ্রবর্তন হয়, প্যানেল চিত্রকলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি আরও সম্প্রসারিত হয়। গ্রাফিক ডিজাইন, রাজনৈতিক পোস্টার, নাট্য অলংকরণ, ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিভাগ খোলা হয়। তৈরি হয় শিল্পতত্ত্ব ও ইতিহাস বিভাগ।
১৯৯২ সালে মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্তে এটি আবার তার মূল নাম “অল-ইউক্রেনীয় একাডেমি অফ আর্টস” ফিরে পায়। এরপর ১৯৯৮ সালের ১৭ মার্চ এটি “জাতীয় একাডেমি অফ ফাইন আর্টস অ্যান্ড আর্কিটেকচার” হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৯৭ সালে এটি সর্বোচ্চ স্তরের স্বীকৃতি লাভ করে এবং ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে সনদপ্রাপ্ত হয়। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপতির ডিক্রি অনুযায়ী, একাডেমিকে জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া হয়—শিল্প, স্থাপত্য এবং শিল্পশিক্ষায় অসাধারণ অবদান রাখার জন্য।
নাম
[সম্পাদনা]- ১৯১৭–১৯২২ ইউক্রেনীয় স্টেট একাডেমি অফ আর্টস
- ১৯২২–১৯২৪ ইনস্টিটিউট অফ প্লাস্টিক আর্টস
- ১৯২৪–১৯৩০ কিয়েভ আর্ট ইনস্টিটিউট (ইউক্রেনীয় ইনস্টিটিউট অফ আর্কিটেকচারের সাথে যোগদান, ১৯১৮–১৯২৪)
- ১৯৩০–১৯৩৪ কিয়েভ ইনস্টিটিউট অফ প্রলেতারিয়ান আর্ট কালচার
- ১৯৩৪–১৯৯২ অল-ইউক্রেনীয় আর্ট ইনস্টিটিউট
- ১৯৯২-১৯৯৮ ইউক্রেনীয় শিল্পকলা একাডেমি
- ১৯৯৬ সালে কিয়েভে ইউক্রেনের শিল্পকলা একাডেমি (এএমইউ) প্রতিষ্ঠিত হয় একটি শিক্ষিত সমাজ বা জাতীয় একাডেমি হিসেবে যা বিভিন্ন ধরণের শিল্পকলায় (যেমন দৃশ্য, সঙ্গীত, নাট্যকলা ইত্যাদি) বিশেষজ্ঞ।
- ১৯৯৮-২০০০ একাডেমি অফ ভিজ্যুয়াল আর্টস অ্যান্ড আর্কিটেকচার
- ২০০০-বর্তমান, জাতীয় ভিজ্যুয়াল আর্টস অ্যান্ড আর্কিটেকচার একাডেমি
অনুষদ এবং বিভাগ
[সম্পাদনা]স্নাতক প্রোগ্রামের অধীনে ৩টি অনুষদ , ৪টি সাধারণ এবং ১০টি অনুষদ-ভিত্তিক বিভাগ রয়েছে । স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য আরও দুটি বিভাগ (অ্যাসপিরান্টুরা) উপলব্ধ। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসনের আগে , বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্রিমিয়ান শাখা (ক্যাম্পাস) ছিল।
স্নাতক
[সম্পাদনা]- ভিজ্যুয়াল আর্টস এবং পুনরুদ্ধার অনুষদ , মূল স্কুল যা ইউক্রেনীয় স্টেট একাডেমি অফ আর্টস-এর শিকড়ের সন্ধান করে
- চিত্রকলা এবং রচনা বিভাগ;
- গ্রাফিক আর্টস বিভাগ;
- ভাস্কর্য বিভাগ;
- শিল্পকর্মের কৌশল ও পুনরুদ্ধার বিভাগ ( শিল্প সংরক্ষণ );
- দৃশ্যকল্প এবং স্ক্রিন আর্টস বিভাগ ;
- নকশা বিভাগ।
- স্থাপত্য অনুষদ
- স্থাপত্য নকশা বিভাগ ;
- স্থাপত্য তত্ত্ব ও ইতিহাস বিভাগ এবং শিল্পকলার সংশ্লেষণ;
- স্থাপত্য কাঠামো বিভাগ।
- তত্ত্ব ও শিল্পকলার ইতিহাস অনুষদ
- তত্ত্ব ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগ।
- সাধারণ শিক্ষা বিভাগ
- অঙ্কন বিভাগ;
- সংস্কৃতি ও সামাজিক-মানবিক অধ্যয়ন বিভাগ;
- বিদেশী ভাষা বিভাগ;
- শারীরিক শিক্ষা বিভাগ।
স্নাতকোত্তর
[সম্পাদনা]- অ্যাসপিরান্টুরা
- ভিজ্যুয়াল আর্টস বিভাগ;
- স্থাপত্য তত্ত্ব এবং স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণ বিভাগ।
রেক্টর (পরিচালক)
[সম্পাদনা]- ফেদির ক্রিচেভস্কি (১৯১৭-১৯১৮ এবং ১৯২১-১৯২৩)
- হিওরহি নারবুত (ফেব্রুয়ারি ১৯১৮- ২৩মে, ১৯২০)
- মাইখাইলো বোইচুক (১৯২০)
- আইওরোনা (১৯২৪–১৯৩০)
- বেনকোভিচ (১৯৩৪–?)
- ভিএন রাইকভ (? –? এর সদস্য)
- ইন স্টিলম্যান (১৯৪০–১৯৪৪)
- ভিজেড বোরোডে (১৯৬৬-১৯৭৩)
- এএম লোপুখভ (১৯৭৩–১৯৮৫)
- ভিএন বোরিসেনকো (১৯৮৫–১৯৮৮)
- এভি চেবিকিন (১৯৮৯ –...)
- চেবিকিনের প্রচেষ্টায়, ১৯৯৬ সালে ইউক্রেনের জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ।
প্রাক্তন ছাত্র
[সম্পাদনা]- আন্দ্রে চেবিকিন
- জিনাইদা কুবার
- ভেলেরি লামাখ
- অনুসরণ
- মাইকোলা মালিশকো
- স্টেপান নেচাই
- অনুসরণ
- স্টেপান কোভাল
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Art Institute // Київ: Енциклопедичний довідник. — К., 1981. — С. 672–673. (On Ukrainian)