জাতীয় বাজেট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

জাতীয় বাজেট বাংলাদেশ সরকার প্রণীত একটি বার্ষিক দলিল যাতে রাষ্ট্রের সাংবাৎসরিক আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। বাজেট ইংরেজী শব্দ যার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ "থলে" বা ইংরেজীতে Bag। অতীতে থলেতে ভ'রে এটি আইন সভা বা সংসদে আনা হতো বলে এই দলিলটি 'বাজেট' নামে অভিহিত হয়ে আসছে। জাতীয় বাজেটের মূল অংশ দুটি । প্রথম অংশ রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত। এই অংশে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থা ও আদায় সংক্রান্ত প্রস্তবসমূহ বিবৃত থাকে দ্বিতীয় অংশে থাকে সরকারী ব্যয়ের প্রস্তাব সমূহ। প্রতি বৎসর একটি আইনপ্রস্তাব বা "বিল" আকারে জাতীয় বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়। একে বলা হয় অর্থ বিল। সংসদ সদস্যরা অনুমোদনের পর এটি আইনে পরিণত হয়। বাংলাদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রাজস্ব প্রস্তাবসমূহ প্রণয়ন করে এবং অর্থ বিভাগ ব্যয় প্রস্তাবসমূহ প্রণয়ন করে। বাংলাদেশে প্রতি বৎসর জুন মাসে জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয় এবং অনুমোদনের পর তা পরবর্তী অর্থবৎসরের জন্য কার্যকর হয়। । দেশের অর্থ মন্ত্রী জাতীয় সংসদের অর্থ বিল পেশ করেন।

বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়ন করা হয় ১২ মাসের জন্য যা চলতি বছরের ১লা জুলাই থেকে পরবর্তী বৎসরের ৩০শে জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। প্রতি বছর জুন মাসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সরকারের পক্ষে অর্থমন্ত্রী বাজেট বিল পেশ করেন। এর আগে এই বাজেট বিল ক্যাবিনেট সভায় বিবেচনা ও অনুমোদন করা হয়।

বর্তমানে কার্যকর বাজেট বাংলাদেশের ৪৫তম বাজেট যা ২০১৬-২০১৭ অর্থবৎসরের জন্য কার্যকর। এতে সরকারের ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। [১]

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

ফরাসি শব্দ Boudgette থেকে বাজেট শব্দের উৎপত্তি [নতুন বিশ্ব]। বলা হয়ে থাকে ১৭৩৩ সালে যুক্তরাজ্যে সর্বপ্রথম বাজেট দেওয়া হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট পেশ করেন তখনকার সময়ের অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ ৩০ জুন ১৯৭২ খ্রিঃ তারিখে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাজেট পেশ করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

এক নজরে বাজেট ঘোষণার তারিখ ও ঘোষক[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়ন করা হয় ১২ মাসের জন্য যা চলতি বছরের ১লা জুলাই থেকে পরবর্তী বৎসরের ৩০শে জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। প্রতি বছর জুন মাসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সরকারের পক্ষে অর্থমন্ত্রী বাজেট বিল পেশ করেন। এর আগে এই বাজেট বিল ক্যাবিনেট সভায় বিবেচনা ও অনুমোদন করা হয়। [২]

অর্থ বছর ঘোষণার তারিখ মোট আকার (কোটি টাকায়) ঘোষক
১৯৭২-৭৩ ৩০ জুন ১৯৭২ ৭৮৬ তাজউদ্দিন আহমেদ
১৯৭৩-৭৪ ১৪ জুন ১৯৭৩ ৯৯৫ তাজউদ্দিন আহমেদ
১৯৭৪-৭৫ ১৯ জুন ১৯৭৪ ১০৮৪.৩৭ তাজউদ্দিন আহমেদ
১৯৭৫-৭৬ ২৩ জুন ১৯৭৫ ১৫৪৯.১৯ ডক্টর এ আর মল্লিক
১৯৭৬-৭৭ ২৬ জুন ১৯৭৬ ১,৯৮৯.৮৭ জিয়াউর রহমান
১৯৭৭-৭৮ ২৫ জুন ১৯৭৭ ২,১৮৪ জিয়াউর রহমান
১৯৭৮-৭৯ ৩০ জুন ১৯৭৮ ২,৪৯৯ জিয়াউর রহমান
১৯৭৯-৮০ ২ জুন ১৯৭৯ ৩,৩১৭ ড. মীর্জা নুরুল হুদা
১৯৮০-৮১ ৭ জুন ১৯৮০ ৪,১০৮ এম সাইফুর রহমান
১৯৮১-৮২ ৬ জুন ১৯৮১ ৪,৬৭৭ এম সাইফুর রহমান
১৯৮২-৮৩ ৩০ জুন ১৯৮২ ৪,৭৩৮ আবুল মাল আব্দুল মুহিত
১৯৮৩-৮৪ ৩০ জুন ১৯৮৩ ৫,৮৯৬ আবুল মাল আব্দুল মুহিত
১৯৮৪-৮৫ ২৭ জুন ১৯৮৪ ৬,৬৯৯ এম সাইদুজ্জামান
১৯৮৫-৮৬ ৩০ জুন ১৯৮৫ ৭,১৩৮ এম সাইদুজ্জামান
১৯৮৬-৮৭ ২৭ জুন ১৯৮৬ ৮,৫০৪ এম সাইদুজ্জামান
১৯৮৭-৮৮ ১৮ জুন ১৯৮৭ ৮,৫২৭ এম সাইদুজ্জামান
১৯৮৮-৮৯ ১৬ জুন ১৯৮৮ ১০,৫৬৫ এম এ মুনিম
১৯৮৯-৯০ ১৫ জুন ১৯৮৯ ১২,৭০৩ ড. ওয়াহিদুল হক
১৯৯০-৯১ ১৪ জুন ১৯৯০ ১২,৯৬০ এম এ মুনিম
১৯৯১-৯২ ১২ জুন ১৯৯১ ১৫,৫৮৪ এম সাইফুর রহমান
১৯৯২-৯৩ ১৮ জুন ১৯৯২ ১৭,৬০৭ এম সাইফুর রহমান
১৯৯৩-৯৪ ১০ জুন ১৯৯৩ ১৯,০৫০ এম সাইফুর রহমান
১৯৯৪-৯৫ ০৯ জুন ১৯৯৪ ২০,৯৪৮ এম সাইফুর রহমান
১৯৯৫-৯৬ ১৫ জুন ১৯৯৫ ২৩,১৭০ এম সাইফুর রহমান
১৯৯৬-৯৭(অন্তর্বর্তী) ২০ জুন ১৯৯৬ - ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
১৯৯৬-৯৭(মূল) ২৮ জুলাই ১৯৯৭ ২৪,৬০৩ শাহ এ এম এস কিবরিয়া
১৯৯৭-৯৮ ১২ জুন ১৯৯৭ ২৭,৭৮৬ শাহ এ এম এস কিবরিয়া
১৯৯৮-৯৯ ১১ জুন ১৯৯৮ ২৯,৫৩৭ শাহ এ এম এস কিবরিয়া
১৯৯৯-০০ ১০ জুন ১৯৯৯ ৩৪,৫১২ শাহ এ এম এস কিবরিয়া
২০০০-০১ ৮ জুন ২০০০ ৩৮,৫২৪ শাহ এ এম এস কিবরিয়া
২০০১-০২ ৭ জুন ২০০১ ৪২,৩০৬ শাহ এ এম এস কিবরিয়া
২০০২-০৩ ৬ জুন ২০০২ ৪৪,৮৫৪ এম সাইফুর রহমান
২০০৩-০৪ ১২ জুন ২০০৩ ৫১,৯৮০ এম সাইফুর রহমান
২০০৪-০৫ ১০ জুন ২০০৪ ৫৭,২৪৮ এম সাইফুর রহমান
২০০৫-০৬ ৯ জুন ২০০৫ ৬১,০৫৮ এম সাইফুর রহমান
২০০৬-০৭ ৮ জুন ২০০৬ ৬৯,৭৪০ এম সাইফুর রহমান
২০০৭-০৮ ৭ জুন ২০০৭ ৮৭,১৩৭ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম
২০০৮-০৯ ৯ জুন ২০০৮ ৯৯,৯৬২ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম
২০০৯-১০ ১১ জুন ২০০৯ ১,১৩,১৭০ আবুল মাল আব্দুল মুহিত
২০১০-১১ ১০ জুন ২০১০ ১,৩২,১৭০ আবুল মাল আব্দুল মুহিত
২০১১-১২ ৯ জুন ২০১১ ১,৬৩,৫৮৯ আবুল মাল আব্দুল মুহিত
২০১২-১৩ ৭ জুন ২০১২ ১,৯১,৭৩৮ আবুল মাল আব্দুল মুহিত
২০১৩-১৪ ০৬ জুন ২০১৩ ২,২২,৪৯১ আবুল মাল আব্দুল মুহিত
২০১৪-১৫ ০৫ জুন ২০১৪ ২,৫০,৫০৬ আবুল মাল আব্দুল মুহিত
২০১৫-১৬ ০৪ জুন ২০১৫ ২,৯৫,১০০ আবুল মাল আব্দুল মুহিত
২০১৬-১৭ ০২ জুন ২০১৬ ৩,৪০,৬০৫ আবুল মাল আব্দুল মুহিত

সর্বশেষ বাজেট ২০১৬-১৭[সম্পাদনা]

২০১৬-১৭ অর্থবৎসরের বাজেট ২ জুন ২০১৬ খ্রিঃ তারিখে ঘোষণা করা হয়। এতে ব্যয়ের লক্ষ্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যার মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন খাতের ব্যয় প্রাক্কলন ১ লাখ ১০ হাজার ৭শত কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা এবং অন্যান্য সূত্র থেকে আদায়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। [৩]

জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ কালে অর্থমন্ত্রী অবহিত করেন যে ২০১৬-১৭ অর্থবৎসরে মুদ্রাস্ফীতির প্রাক্কলন ৫.৮ শতাংশ এবং জাতীয় অর্থনীতির (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির বাৎসরিক হার দাঁড়াবে ৭.২ শতাংশ। ৩০শে জুন ২০১৬ খ্রিঃ তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এই বাজেট অনুমোদন করে।[৪]


আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সংখ্যায় বাজেট ২০১৬-২০১৭
  2. এক নজরে বাজেট ঘোষণার তারিখ ও ঘোষক। এক নজরে বাজেট ঘোষণার তারিখ ও ঘোষক। প্রফেসর’স প্রকাশন। পৃ: ২১৬। 
  3. বাজেট ২০১৬-১৭ এবং বাংলাদেশের রাজনীতি
  4. জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট পাস

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]