জাকারিয়া খান বাহাদুর
জাকারিয়া খান زکریا خان বাহাদুর | |
|---|---|
১৯শ শতাব্দীর একটি শিখ চিত্রকর্ম থেকে জাকারিয়া খান বাহাদুরের বিশ্রামের দৃশ্যের অংশবিশেষ | |
| লাহোরের গভর্নর | |
| কাজের মেয়াদ ১৭২৬ – ১ জুলাই ১৭৪৫ | |
| সার্বভৌম শাসক | মুহাম্মদ শাহ |
| পূর্বসূরী | আব্দুস সামাদ খান |
| উত্তরসূরী | ইয়াহইয়া খান |
| মুলতানের গভর্নর | |
| কাজের মেয়াদ ১৭৩৭ – ১ জুলাই ১৭৪৫ | |
| পূর্বসূরী | আব্দুস সামাদ খান |
| উত্তরসূরী | ইয়াহইয়া খান |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| মৃত্যু | ১ জুলাই ১৭৪৫ লাহোর সুবাহ |
| সন্তান | ইয়াহইয়া খান শাহ নেওয়াজ খান মীর বাকি |
| পিতা | আব্দুস সামাদ খান |
| সামরিক পরিষেবা | |
| আনুগত্য | মুঘল সাম্রাজ্য |
| শাখা | মুঘল সেনাবাহিনী |
| যুদ্ধ | |
জাকারিয়া খান (মৃত্যু ১ জুলাই ১৭৪৫), যার নাম বিকল্পভাবে জাকারিয়া খান হিসেবেও লেখা হয়, ১৭২৬ থেকে ১৭৪৫ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত লাহোর এবং মুলতান সুবাহর মুঘল সুবাহদার ছিলেন। তিনি এই উভয় পদে তার পিতা আব্দুস সামাদ খানের স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি তার পিতার শিখদের কঠোরভাবে দমন করার নীতি অব্যাহত রাখেন এবং তার আমলে ও মৃত্যুর পর হাজার হাজার শিখ নিহত হয়, বিশেষ করে ছোট ঘাল্লুঘারার সময়।[১][২]
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]প্রশাসনিক কর্মজীবন
[সম্পাদনা]
১৭৩৮ সালে মুঘল সাম্রাজ্যে নাদের শাহের অভিযানের সময় পারস্য সম্রাট নাদের শাহ তাকে লাহোরের নিয়ন্ত্রণ প্রদান করেন। এর বিনিময়ে তাকে পারস্য রাজদরবারে বার্ষিক কর প্রদান করতে হতো।[৪]
শিখদের দমন
[সম্পাদনা]তিনি শিখদের দমন অব্যাহত রাখেন এবং অমৃতসর অবরোধ করার জন্য সালাবাত খানকে নিযুক্ত করেন যাতে শিখরা সেখানে উপাসনা করতে না পারে। জাকারিয়া খান হিন্দু ধর্মীয় শহীদ হকিকত রাইকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন।[৫] জাকারিয়া খান একটি মুঘল বাহিনীও পাঠিয়েছিলেন যা শেষ পর্যন্ত তারা সিং ওয়ানকে হত্যা করেছিল।[৬]
১৭৩০ এর দশকের শুরুর দিকে জাকারিয়া খান শিখ বিদ্রোহীদের সাথে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করেন। তিনি শিখদের মনোনীত নেতার জন্য মুঘল সম্রাটের পক্ষ থেকে একটি নবাবী, জায়গীর অনুদান এবং সম্মানসূচক পোশাক প্রদানের প্রস্তাব দেন। এই সম্মান গ্রহণের জন্য কাপুর সিংকে নির্বাচন করা হয়েছিল।[৬] তবে শিখ-মুঘল সম্পর্ক শীঘ্রই পুনরায় ভেঙে যায় এবং জাকারিয়া খান আরও তীব্র মাত্রায় তার শিখবিরোধী নীতি অব্যাহত রাখেন।[৬]
প্রাথমিক যুগের বিশিষ্ট শিখ ঐতিহাসিক রতন সিং ভাঙ্গুর মতে, মাথা থেকে চামড়া তুলে ফেলার প্রতিক্রিয়ায় ভাই তারু সিং জাকারিয়া খানকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে তিনি তার নিজের জুতো দিয়ে পিটিয়ে মারা যাবেন। শিখ উৎস অনুযায়ী ভাই তারু সিংয়ের চামড়া তুলে ফেলার পর জাকারিয়া খান অসহ্য যন্ত্রণায় এবং মূত্রত্যাগের অক্ষমতায় আক্রান্ত হন। শেষ উপায় হিসেবে খান তার শিখ দমনের জন্য খালসা পন্থের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে খান যদি নিজেকে শিখের জুতো দিয়ে আঘাত করেন তবে তার অবস্থা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। যদিও এটি খানের অসুস্থতা নিরাময় করেছিল, তবে ভাই তারু সিংয়ের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী জুতো দিয়ে নিজেকে আঘাত করার ২২ দিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যু এবং উত্তরাধিকারী
[সম্পাদনা]জাকারিয়া খান ১৭৪৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার মৃত্যুর সময় ইয়াহইয়া খান, হায়াতুল্লাহ খান এবং মীর বাকি নামে তিন পুত্র জীবিত ছিলেন।[৭] পিতার মৃত্যুর সময় ইয়াহইয়া খান এবং হায়াতুল্লাহ খান রাজদরবারে ছিলেন। অন্যদিকে মীর মমিন এবং নিম্মাত খান পাহাড়ি রাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে ব্যস্ত ছিলেন।[৮] ইয়াহইয়া খান শেষ পর্যন্ত বৈরাগী হয়ে যান। হায়াতুল্লাহ খান, যার উপাধি ছিল শাহ নেওয়াজ খান, প্রধান উজির কামারউদ্দিন খানের পুত্র মীর মান্নুর বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে নিহত হন। তার তৃতীয় পুত্র মীর বাকি দাক্ষিণাত্যে চলে যান এবং নিজাম উল মুলক আসাফ জাহ প্রথমের দরবারে চাকরি গ্রহণ করেন এবং তাকে ইজ্জ-উদ-দৌলা হিজবার জং উপাধি দেওয়া হয়েছিল।[৯]
১৭৪৮ সালের মার্চ মাসে জাসসা সিং আহলুওয়ালিয়ার সাথে এক সংঘর্ষে সালাবাত খান নিহত হন এবং শিখরা অমৃতসর মুক্ত করে।[১০]
জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে
[সম্পাদনা]চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন
[সম্পাদনা]জাকারিয়া খান চরিত্রে অভিনয় করেছেন:
- ডিডি ন্যাশনালের ধারাবাহিক মহারাজা রঞ্জিত সিং-এ শেখ সামি।
- ২০২৩ সালের চলচ্চিত্র মাস্তানে-তে অবতার গিল।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ The advanced study in history of the Punjab: Volume 1; G. S. Chhabra (1968), p 346
- ↑ Punjab district gazetteers, Volume 9, 1987, p 72
- ↑ Charles Francis Massy (১৮৯০)। Chiefs and Families of Note in the Delhi, Jalandhar, Peshawar and Derajat Divisions of the Panjab। Pioneer Press।
- ↑ bahādur.), Muḥammad Laṭīf (Saiyid, khān (১৮৯১)। History of the Panjáb from the Remotest Antiquity to the Present Time (ইংরেজি ভাষায়)। Calcutta Central Press Company, limited।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ Nirankari, Maan Singh (২০০৮)। Sikhism, a Perspective। Edited by Neelam Man Singh Chowdhry। Chandigarh: Unistar Books। পৃ. ১৫৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭১৪২-৬২১-৮। ওসিএলসি 289070938।
6. Hakikat Rai: He was born at Sialkot in 1781 B.S. or 1724 C.E. in a Kshtriya household of Bhagh Mal and his wife Kauran. He was married to Durga Devi daughter of a Sehajdhari Sikh Kishan Chand of Batala. He entered the Sikh faith through the inspiration of Bhai Budh Singh from Batala. When the Muslim ruler asked him to convert to Islam, he refused to obey his orders. As a result, this young boy was slaughtered under the orders of Khan Zakariya Khan, the Nawab of Lahore in 1741. A fair used to be organized on the day of Basant Panchmi in his memory at Lahore in the pre-partition days.
- 1 2 3 Grewal, J. S. (৮ অক্টোবর ১৯৯৮)। "Rise to Political Power"। The Sikhs of the Punjab। Cambridge University Press। পৃ. ৮৮–৮৯। আইএসবিএন ৯৭৮০৫২১৬৩৭৬৪০।
- ↑ Sinha, Narendra Krishna (১৯৪৬)। Rise of the Sikh Power। University of Calcutta। পৃ. ১১।
- ↑ Rashid, Abdur (১৯৭৮)। History of the Muslims of Indo-Pakistan Sub-continent, 1707-1806। খণ্ড I। Research Society of Pakistan। পৃ. ২১৯।
- ↑ Shahnavaz Khan Aurangabadi; Beveridge, H. & Baini Prashad (translators) (1941/1952). *Maʾāṣir al-Umara of Shahnavaz Khan Aurangabadi*, Vol. 1. Asiatic Society, Calcutta. p. 355.
- ↑ Singha, Dr H. S. (২০০৫)। Sikh Studies (ইংরেজি ভাষায়)। Hemkunt Press। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭০১০২৫৮৮।