জয়েস অ্যালান
জয়েস অ্যালান (৮ এপ্রিল ১৮৯৬ – ৩১ আগস্ট ১৯৬৬) ছিলেন একজন অস্ট্রেলীয় শঙ্খবিজ্ঞানী (conchologist), অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম-এর কিউরেটর এবং একজন বৈজ্ঞানিক চিত্রশিল্পী।
প্রারম্ভিক জীবন এবং শিক্ষা
[সম্পাদনা]অ্যালান ১৮৯৬ সালের ৮ এপ্রিল সিডনির বালমেইনে ক্যাথরিন মেবেল জয়েস অ্যালান নামে জন্মগ্রহণ করেন।[১] তিনি ফ্লোরেন্স ফাউন্টেন অ্যালান এবং জোসেফ স্টুয়ার্ট অ্যালানের অষ্টম সন্তান ছিলেন।[২] অ্যালানের শিক্ষা জীবন প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগতভাবে শুরু হলেও পরবর্তীতে তিনি ফোর্ট স্ট্রিট গার্লস হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন।[২] মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় তিনি প্রায়ই অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম পরিদর্শন করতেন এবং চার্লস হেডলির জন্য শামুক-ঝিনুকের খোলস বাছাই করতেন।[১]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]
অ্যালান ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামে একজন অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হন এবং চার্লস হেডলির সহকারী হিসেবে কাজ করেন।[২] তিনি প্রাথমিকভাবে শঙ্খবিজ্ঞান সংগ্রহের কিউরেটরি কাজে সহায়তার পাশাপাশি জাদুঘরের অন্যান্য কর্মীদের লেখা বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের জন্য চিত্র তৈরির দায়িত্বে ছিলেন।[২] অ্যালান একজন প্রতিভাবান শিল্পী ছিলেন[১] এবং রয়্যাল আর্ট সোসাইটি অফ নিউ সাউথ ওয়েলসে তার শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে।[২] সময়ের সাথে সাথে তিনি মোলাস্ক (শামুক-ঝিনুক জাতীয় প্রাণী) বিষয়ে আরও দক্ষতা অর্জন করেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেন।[১] তিনি তার শিল্পকর্ম এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র উভয়ক্ষেত্রেই "জয়েস কে. অ্যালান" নামে স্বাক্ষর করতেন।[২] তার প্রকাশিত বেশিরভাগ গবেষণাপত্র ওপিসথোব্রাঙ্কিয়া (Opisthobranchia) উপশ্রেণীর সাথে সম্পর্কিত ছিল।[৩]

১৯২০ সালে অ্যালান জাদুঘরে একটি স্থায়ী পদ লাভ করেন এবং ১৯২৪ সালে হেডলির পদত্যাগের পর তিনি অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের শঙ্খবিজ্ঞান শাখার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যেখানে টম ইরেডেল তার সহকারী ছিলেন।[১] ১৯২৫ সালে অ্যালান এবং ইরেডেলের পদের অদলবদল ঘটে।[১]
মোলাস্কের ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র লেখার পাশাপাশি অ্যালান অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম ম্যাগাজিনে নিবন্ধ লিখেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ান এনসাইক্লোপিডিয়ায় অবদান রেখেছেন।[২] তিনি বক্তা হিসেবেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেন।[৪] কেবল একজন নারী বিজ্ঞানী হওয়ার কারণেই নয়, বরং বিজ্ঞানকে সহজভাবে উপস্থাপনের প্রতিভার কারণেও তিনি প্রায়শই সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিনের নিবন্ধের বিষয়বস্তু হয়ে উঠতেন।[৫]
১৯৩১ সালে অ্যালান বৈজ্ঞানিক সহকারী পদে নিযুক্ত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি জাতীয় জরুরি পরিষেবাগুলোতে কাজ করেন এবং বিমান হামলা প্রতিরোধের সুপারিনটেনডেন্টের সহকারী হিসেবে নিযুক্ত হন।[১] ১৯৪৩ সালে অ্যালান রয়্যাল জুলজিক্যাল সোসাইটি অফ নিউ সাউথ ওয়েলসের ফেলো নির্বাচিত হন এবং এর মাধ্যমে তিনি এই সম্মান অর্জনকারী প্রথম নারী হন।[৫] ১৯৪৪ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামে ফিরে আসেন এবং ইরেডেলের অবসরের পর তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য নির্বাচিত হন।[১]
১৯৪৯ সালের শুরুর দিকে অ্যালান জাদুঘরের শেল (shell) কিউরেটর নিযুক্ত হন এবং সেই পদে থাকাকালীন অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্সের সভায় যোগ দেন। ১৯৪৯ সালে তিনি নিউজিল্যান্ডে প্যাসিফিক সায়েন্স কংগ্রেসে যোগ দেন এবং ১৯৫৩ সালে কোপেনহেগেনে ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অফ জুলজিতে অংশ নিতে ভ্রমণ করেন।[২]
১৯৫০ সালে অ্যালান 'অস্ট্রেলিয়ান শেলস' বইটি লিখেছিলেন, যা ছিল বেশিরভাগ অস্ট্রেলীয় মোলাস্ক বর্ণনা করার প্রথম কোনো প্রচেষ্টার বই।[২] এটি বিজ্ঞানী সমাজ এবং মোলাস্ক সংগ্রাহক উভয়ের কাছেই উচ্চ সমাদৃত হয়েছিল।[১]
স্বাস্থ্যহানির কারণে অ্যালান ১৯৫৬ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের পদ থেকে অবসর নেন। তবে তিনি একজন সম্মানীয় প্রাণিবিজ্ঞানী হিসেবে নিযুক্ত হন এবং সে হিসেবে জাদুঘরে স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যান। তিনি আরও বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ রচনা করেন।[২] ১৯৬২ সালের আগে তিনি জাদুঘরের সাথে সমস্ত প্রকার কাজ করা বন্ধ করেননি।[১]
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]১৯৪৯ সালের ১৮ মে অ্যালান মোসম্যানের সেন্ট ক্লিমেন্টস অ্যাংলিকান চার্চে হেক্টর ওয়াকার কার্কপ্যাট্রিককে বিয়ে করেন।[১] জয়েস অ্যালানের বাবা জোসেফ স্টুয়ার্ট অ্যালান নিউজিল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের একজন সুপরিচিত শিল্পী ছিলেন এবং অন্যান্য অনেক প্রকাশনার পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় ম্যাগাজিন 'দ্য বুলেটিন'-এ কার্টুন আঁকতেন। জয়েসের দাদা ওয়েলিংটনে বিচারক হিসেবে কাজ করার সময় একজন উল্লেখযোগ্য শিল্পী এবং এডিনবরা একাডেমির সদস্য ছিলেন।
মৃত্যু
[সম্পাদনা]অ্যালান ১৯৬৬ সালের ৩১ আগস্ট ৭০ বছর বয়সে মোসম্যানে সেরেব্রোভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার স্বামী বেঁচে ছিলেন এবং তাকে দাহ করা হয়েছিল।[১][২]
নির্বাচিত প্রকাশনা
[সম্পাদনা]- ১৯৩৬. Victorian sea shells : a handbook for collectors and students / লেখক: চার্লস জে. গ্যাব্রিয়েল; চিত্র অলংকরণ: জয়েস কে. অ্যালান, ফিল্ড ন্যাচারালিস্ট ক্লাব অফ ভিক্টোরিয়া, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
- ১৯৫০. Australian shells, with related animals living in the sea, in fresh-water and on the land / লেখক: জয়েস অ্যালান। জর্জিয়ান হাউস প্রা. লি., মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
- ১৯৫৬. Cowry Shells of World Seas / লেখক: জয়েস অ্যালান। চার্লস টি. ব্র্যান্ডফোর্ড কো., বোস্টন
- ১৯৫৮. The sea-horse and its relatives / লেখক: গিলবার্ট হুইটলি এবং জয়েস অ্যালান। জর্জিয়ান হাউস, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
জয়েস অ্যালানের সম্মানে নামাঙ্কিত প্রজাতি
[সম্পাদনা]অ্যালানের সম্মানে অন্তত তিনটি খোলসধারী প্রাণী, একটি মাছ এবং একটি পতঙ্গের নামকরণ করা হয়েছে।[২] এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- Coralastele allanea Iredale, 1930[৬]
- Microcanthus joycei Whitley, 1931[৬]
- Phosinella allanae Laseron, 1950[৭][৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 Walker, Prue। "Joyce Allan, Conchologist"। Australian Museum। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৫।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 টেমপ্লেট:Cite Australian Dictionary of Biography
- ↑ "Allan, Catherine Mabel Joyce (1896–1966)"। Encyclopedia of Australian Science। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০১৫।
- ↑ "Museum Lecture"। The Sydney Morning Herald। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৫।
- 1 2 Walker, Pru। "Joyce Allan – well-respected scientist"। Australian Museum। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০১৫।
- 1 2 "What Women Are Doing – She studies life story of shells"। Australian Consolidated Press। Australian Women's Weekly। ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০১৫।
- ↑ "Allan, Joyce K."। Conchology Inc.। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০১৫।
- ↑ "Rissoina allanae Laseron, 1950"। World Register of Marine Species। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০১৫।
শ্রেণী:১৮৯৬-এ জন্ম শ্রেণী:১৯৬৬-এ মৃত্যু শ্রেণী:শঙ্খবিজ্ঞানী শ্রেণী:অস্ট্রেলীয় মেলাকোলজিস্ট শ্রেণী:২০শ শতাব্দীর অস্ট্রেলীয় চিত্রশিল্পী শ্রেণী:অস্ট্রেলীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস চিত্রশিল্পী শ্রেণী:অস্ট্রেলীয় কিউরেটর শ্রেণী:২০শ শতাব্দীর অস্ট্রেলীয় প্রাণিবিজ্ঞানী শ্রেণী:অস্ট্রেলীয় নারী চিত্রশিল্পী শ্রেণী:সিডনির জীববিজ্ঞানী শ্রেণী:অস্ট্রেলীয় নারী কিউরেটর শ্রেণী:২০শ শতাব্দীর অস্ট্রেলীয় নারী বিজ্ঞানী শ্রেণী:ফোর্ট স্ট্রিট হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী