জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম (স)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম (স)
(جمیعت علمائے اسلام (س
সংক্ষেপেজেইউআই-এস
আমীরহামিদুল হক হাক্কানি
প্রতিষ্ঠাতাসামিউল হক
প্রতিষ্ঠা১৯৮০; ৪২ বছর আগে (1980)
পূর্ববর্তীজমিয়ত উলামায়ে ইসলাম
সদর দপ্তরদারুল উলুম হাক্কানিয়া
ছাত্র শাখাজমিয়ত তলাবায়ে ইসলাম (স)
মতাদর্শইসলামবাদ (দেওবন্দি)
জাতীয় অধিভুক্তিদিফায়ে পাকিস্তান পরিষদ
আনুষ্ঠানিক রঙ         কালো ও সাদা
নির্বাচনী প্রতীক
মই
Leiter.svg
দলীয় পতাকা
Flag of the Jamiat Ulema-e Islam.svg

জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম (স) (উর্দু: جمعیت علمائے اسلام (س)‎‎; সংক্ষেপে জেইউআই-এস) পাকিস্তানের একটি দেওবন্দি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সামিউল হক। দলের বর্তমান প্রধান হামিদুল হক হাক্কানিদারুল উলুম হাক্কানিয়ায় এর কেন্দ্র অবস্থিত। দলটি প্রকাশ্যে তালেবান সহ জিহাদিদের সমর্থনের জন্য পরিচিত। তালেবান গঠনেও এই দলটি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। দলটির নেতা সামিউল হককে তালেবানের পিতা বলা হয়। এটি পাকিস্তানে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ফজলুর রহমানের জমিয়ত (ফ) থেকেও নিজেদের ভূমিকা বেশি কার্যকর দাবি করে। ঐতিহাসিকভাবে সোভিয়েত–আফগান যুদ্ধে ভূমিকা পালনের জন্য দলটি গর্বিত। এটি পাকিস্তানে জিহাদিদের নির্দেশনা ও সমর্থনে একটি বড় ভূমিকা পালন করে চলেছে।[১]

১৯৮০ সালে সামরিক শাসক মুহাম্মদ জিয়া-উল-হকের সাথে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মূল দল জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একভাগ ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে যারা জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম (ফ) নামে পরিচিত। অপরভাগটি মুহাম্মদ জিয়া-উল-হককে সমর্থন করে সামিউল হকের নেতৃত্বে পাকিস্তানে ইসলামিকরণের প্রক্রিয়া চালায়, যারা জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম (স) নামে পরিচিত। দলটির নেতা সামিউল হক জিয়াউল হকের গঠিত মজলিসে শূরার সদস্য ছিলেন। মুহাম্মদ জিয়াউল হকের শাসনামলে জারি হওয়া হুদুদ অধ্যাদেশ, জাকাত, কিসাস (প্রতিশোধ) এবং দিয়াত (রক্তপণ) আইনের পাশাপাশি আহ্‌মদীয়া বিরোধী আইনের জন্য দলটি নিজেদের কৃতিত্ব দাবি করে।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৮০-এর দশকে জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম সোভিয়েত–আফগান যুদ্ধ নিয়ে মুহাম্মদ জিয়া-উল-হকের কিছু নীতিকে সমর্থন করেছিল। এই বছরগুলোতে জিয়া অতিরিক্তভাবে মাদ্রাসাগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা দেয় এবং জমিয়ত তার সহায়তায় হাজার হাজার মাদ্রাসা নির্মাণ করে, বিশেষ করে বর্তমান খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে, যা পরবর্তীতে তালেবান গঠনে সহায়ক ছিল। একই সময়ে জমিয়ত জিয়ার সাথে জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ে অবিশ্বাসী ছিল এবং জিয়া বিরোধী পিপিপির নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলনে যোগ দেয়।[২]

১৯৮০ সালে মুফতি মাহমুদের মৃত্যুর পর, জিয়ার শাসনামলের সাথে এই দ্বৈত সম্পর্কের ফলে শেষ পর্যন্ত দলটি বিভক্ত হয়ে যায়। ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম (ফ) এবং সামিউল হকের নেতৃত্বে জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম (স) গঠিত হয়। সামিউল হক জিহাদবাদ, সর্বগ্রাসী রাষ্ট্র ও জিয়ার শাসনকে সমর্থন করেছিলেন এবং তার সংসদ মজলিসে শুরার সদস্য ছিলেন।[৩]

দলটি খাইবার পাখতুনখোয়ার বেশিরভাগ আঞ্চলিক গুরুত্বে সক্রিয় ছিল কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে তাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।[৪] দলটি আফগানিস্তানে তালেবানের শক্তিশালী সমর্থকও ছিল এবং প্রকাশ্যে সামরিকবাদ/জিহাদিবাদকে সমর্থন করেছিল যার কারণে এর প্রধান প্রাক্তন সভাপতি সামিউল হক "তালেবানের পিতা" নামে পরিচিত হন।[৫] সামিউল হক দিফায়ে পাকিস্তান পরিষদের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন।[৬] দলটি ২০০২ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের আগে ছয়-দলীয় ধর্মীয় জোট মুত্তাহিদা মজলিসে আমলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।[৭] এটি ২০১৭ পর্যন্ত মুত্তাহিদা মজলিসে আমলের সাথে জোটবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে এটি ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সাথে রাজনৈতিক জোট গঠন করেছিল।[৮] কিন্তু ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে, এর প্রধান সামিউল হক ঘোষণা করেছিলেন যে তারা নিজস্ব নির্বাচনী প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।[৯]

এছাড়াও দলটি ২০১৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট ধর্মীয়-রাজনৈতিক দলগুলির একটি জোট, মুত্তাহিদা দ্বীনি মাহাজে যোগ দেয় কিন্তু এটি পরে মুত্তাহিদা মজলিসে আমলের সাথে একীভূত হয়।[১০] ২০১৮ সালে সামিউল হকের হত্যার পর দলের কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে যায়।[১১] তার ছেলে হামিদুল হক হাক্কানি পরবর্তীতে দলের প্রধান হন।[১২] এর কেন্দ্র দারুল উলুম হাক্কানিয়া, একটি দেওবন্দি মাদ্রাসা যা অনেক বিশিষ্ট তালেবান সদস্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।[১৩]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "পাকিস্তানের ইসলামি দল"ক্রাইসিস গ্রুপ (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ ডিসেম্বর ২০১১। পৃষ্ঠা ১৩–১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০২২ 
  2. "Jamiat Ulema-i-Islam – Fazl"Dawn (newspaper) (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৩-০৪-০৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-১১ 
  3. "Maulana Samiul Haq – life in focus"The Express Tribune (newspaper) (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১১-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-১১ 
  4. "The father of madrassas"The Nation (newspaper) (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১১-০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১০-১৯ 
  5. "Who was the 'Father of the Taliban' ?"TRT World (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১১-০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১০-১৯ 
  6. "Tahreek-e-Labbaiyak Pakistan Part 1/2: Jihadis itch for resurgence"The Express Tribune (newspaper)। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৮ 
  7. "Five DPC parties plan new electoral alliance"Dawn (newspaper)। ৬ ডিসেম্বর ২০১২। 
  8. "JUI-S to form poll alliance with PTI"The Express Tribune (newspaper) (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-১২-০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১০-১৯ 
  9. "JUI-S to contest polls on its own electoral symbol"Daily Times (newspaper) (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-০৬-২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১০-১৯ 
  10. "Six-member committee starts work on MMA revival"The Nation (newspaper) (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-১০-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১০-১৯ 
  11. Report, Recorder (২০২০-০৩-১৭)। "Renaming party: ECP accepts application of JUI-F"Business Recorder (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-১৭ 
  12. "Maulana Hamidul Haq elected JUI-S ameer"The Nation (newspaper) (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০২-১১। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১০-১৯ 
  13. "Taliban Training the Pakistan"ডয়েচে ভেলে। ২৩ মে ২০১৫।