জনপদ লোক
ভিরাগেস শিল্পীর প্রদর্শনী | |
| গঠিত | ১২ মার্চ ১৯৯৪ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠাতা | এইচএল নাগে গৌড়া |
| ধরন | এনজিও |
| আইনি অবস্থা | ফাউন্ডেশন |
| উদ্দেশ্য | লোকশিল্প ও ঐতিহ্য |
| অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক | ১২°৪২′৫″ উত্তর ৭৭°১৫′৪″ পূর্ব / ১২.৭০১৩৯° উত্তর ৭৭.২৫১১১° পূর্ব |
যে অঞ্চলে কাজ করে | কর্ণাটক |
চেয়ারম্যান | অধ্যাপক এইচসি রামচন্দ্র গৌড়া |
ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি | মিঃ আদিত্য নাঞ্জরাজ |
প্রধান প্রতিষ্ঠান | কর্ণাটক জনপদ পরিষদ |
| ওয়েবসাইট | www |
জনপদ লোক ( আক্ষরিক অর্থে: লোককাহিনী জগৎ বা লোক-সংস্কৃতি জগৎ ) হলো একটি লোক জাদুঘর যেখানে কর্ণাটক জনপদ পরিষদের তত্ত্বাবধানে কর্ণাটকের গ্রামীণ লোকশিল্পের প্রদর্শনী রয়েছে।[১][২][৩] জাদুঘরের একটি শাখা লোকমহলে ৫,০০০ লোকশিল্পের প্রদর্শনী রয়েছে।[৪] এটি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রামনগর জেলার রামনগরে বেঙ্গালুরু-মহীশূর মহাসড়কে পাশে বেঙ্গালুরু থেকে ৫৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।[৫][৬]
এইচ. এল. নাগেগৌড়া কর্ণাটকের লোকশিল্প ও সংস্কৃতি প্রদর্শনের জন্য একটি জাদুঘর তৈরি করার পরিকল্পনা করেন। এজন্য ২১ মার্চ ১৯৭৯ সালে কর্ণাটক জনপদ পরিষৎ প্রতিষ্ঠিত হয়। নাগেগৌড়া ও তাঁর বন্ধুেরা বহু বছর ধরে বিভিন্ন পুরাতাত্ত্বিক জিনিস সংগ্রহ করেন। জনপদ লোকা জাদুঘরটি বেঙ্গালুরু-মাইসুরু মহাসড়কের পাশে তৈরি হয়, যার জমি ১২ মার্চ ১৯৯৪ সালে কেনা হয়। জাদুঘরটি বিভিন্ন অংশে ভাগ করা হয়েছে, যেমন লোকশিল্প জাদুঘর, লোক মহল, চিত্র কুটীর, বড় বাড়ি, শিলা মালা ও অর্ঘ্য মালা। এখানে ৫,০০০টিরও বেশি লোকশিল্প সামগ্রী রয়েছে, যা কর্ণাটকের সংস্কৃতিকে তুলে ধরে।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]
প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও লোকসংস্কৃতির গবেষক এইচ. এল. নাগেগৌড়া কর্ণাটকের সমৃদ্ধ লোকশিল্প ও সংস্কৃতি প্রদর্শনের জন্য একটি জাদুঘর তৈরির পরিকল্পনা করেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর, তিনি এটি তাঁর আজীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।[৭] ১৯৭৯ সালে ২১ মার্চ কর্ণাটক জনপদ পরিষৎ (জনপদ একাডেমি) প্রতিষ্ঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল কর্ণাটকের লোকসংস্কৃতিকে সংরক্ষণ, প্রচার ও নথিভুক্ত করা।[৭][৮] এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে জনপদ লোক গড়ে ওঠে। অবসর গ্রহণের পর, নাগেগৌড়া তাঁর ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও বন্ধুদের আর্থিক সহায়তায় ১৫ একর জমি কিনে ১৯৯৪ সালের ১২ মার্চ বেঙ্গালুরু-মাইসুরু মহাসড়কের পাশে জনপদ লোকা স্থাপন করেন। এই জাদুঘরটি একটি গ্রাম্য পরিবেশ তৈরি করে যেখানে সবুজ প্রকৃতির মাঝেই কর্ণাটকের ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি তৈরি করতে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয় হয়।[৭][৯][১০] জাদুঘরে নাগেগৌড়া ও তাঁর বন্ধুদের তিন দশক ধরে সংগৃহীত বহু লোকশিল্প সামগ্রী সংরক্ষিত রয়েছে, যা কর্ণাটকের লোকসংস্কৃতির এক মূল্যবান ভান্ডার।[১০]
উৎসব
[সম্পাদনা]জনপদ লোকে প্রতি বছর বিভিন্ন লোকসংস্কৃতি সম্পর্কিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হলো লোকোৎসব (ফেব্রুয়ারি-মার্চ), দশেরা (অক্টোবর) এবং ঘুড়ি উৎসব (জুলাই)।[১১] দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত লোকোৎসব এখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় উৎসব হিসেবে পরিচিত। কর্ণাটকের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা লোকশিল্পীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে এটি উদযাপিত হয়। ২০১৪ সালে উৎসবটি এর প্রতিষ্ঠাতা এইচ. এল. নাগেগৌড়ার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষভাবে আয়োজিত হয়। এছাড়া ২০১৫ সালে কর্ণাটকের লোকশিল্পের প্রচারের জন্য ১০০ জন লোকশিল্পীকে সম্মাননা, নগদ পুরস্কার ও প্রশংসাপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।[১২]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Karnataka Janapada Parishat"। Karnataka Janapada Parishat। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১২।
- ↑ Shariff, Azmathulla। "Janapada Loka" (pdf)। Prologue For the Culture –Update November 2004Collecting Impressions : Janapada Loka present to us the impressions of our rich past। Central Secretariat Library।
- ↑ The India Travel Planner। Cross Section Publications (P) Limited। ২০০৮। পৃ. ১৪৩।
- ↑ "Janapada Loka"। National Informatics Centre।
- ↑ South India। Rough Guides। ২০০৩। পৃ. ২১৫–। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৩৫৩-১০৩-৬।
- ↑ "Janapada Loka Folk Arts Museum"। Lonely Planet।
- 1 2 3 Gowda, RAMCHANDRE (১৪ অক্টোবর ২০০৫)। "Rural love, urban life"। The Hindu। ২৬ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Achievements"। Janapadaloka Organization। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "Janapada Loka"। janapadaloka Organization। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০২৫।
- 1 2 Rashtriya Sahara। Sahara India Mass Communication। ১৯৯৪। পৃ. ১৩৩–৩৪।
- ↑ Aravind, V S (১০ জানুয়ারি ২০১১)। "Celebrating folk culture"। Decaan Herald।
- ↑ "Folk festival at Janapada Loka"। The Hindu। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪।