জংলি ঝুমকো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জংলি ঝুমকো

জংলি ঝুমকো হল ঝোপ-ঝাড় ও বনে জঙ্গলে বেড়ে ওঠা এক ধরনের লতা জাতীয় ফুল গাছ বিশেষ। এটি আরোহী লতা। আকর্ষীর মাধ্যমে কোনো ধারককে আঁকড়ে ধরে বেয়ে ওঠে। এ লতার বৈজ্ঞানিক নাম Passiflora foetida এবং ইংরেজি নাম Wild Passion Flower। এটি Passifloraceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।[১]

আবাসস্থল[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন, মাদাগাস্কার ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় এ লতার বিস্তৃতি রয়েছে। তবে অনুমান করা হয়, এর আদি আবাস দক্ষিণ আমেরিকা, যা পরবর্তীকালে উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।[১]

ফুল[সম্পাদনা]

জংলি ঝুমকো প্রজাতিটির ফুলের রং দুই ধরনের হয়। সাদা ও বেগুনি। তবে সাদা রঙা ফুল সহজে দেখা যায় না। বেগুনি রংটিই বেশি দেখা যায়। এ ফুল সুগন্ধি নয়, তবে দেখতে আকর্ষণীয়। বৃতি পাঁচটি, দল পাঁচটি এবং বৃতি নল থেকে কিছুটা খাটো। ফুল ফোটার সময় মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত।[১]

পাতা[সম্পাদনা]

পাতা একান্তর ও দুই খাঁজ বিশিষ্ট।[১]

ফল[সম্পাদনা]

ফল বহুবীজী। ফল পাকলে কমলা লাল বর্ণ ধারণ করে। পাকা ফল খাওয়া যায়। স্বাদে মিষ্টি ও রসাল। কিন্তু কাঁচা ফল বিষাক্ত। তাই ভক্ষণযোগ্য নয়।[১]

ব্যবহার[সম্পাদনা]

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বেড়া দিতে এবং বাড়ির চারপাশের উন্মুক্ত স্থান ঢাকার জন্য এ লতা লাগানো হয়।[১]

বংশবিস্তার[সম্পাদনা]

বীজ দ্বারা বংশবৃদ্ধি ঘটে। পানি জমে থাকে না এ রকম রোদ-ছায়াময় জায়গায় এ লতা ভালো জন্মে।[১]

বাংলাদেশে এর বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের পাহাড়ি বন থেকে আবাসস্থল ধ্বংসের ফলে এবং অতিরিক্ত গাছ কাটার কারণে লতাটি দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ বুনো ফুলটি অবহেলিত ও অরক্ষিতও বটে। পাহাড়ি এলাকায় বন বিনাশ, আবাসস্থল ধ্বংস, নগরায়ণ, প্রাকৃতিক জমি কৃষিতে রূপান্তর এবং জলাশয়ের সংকোচনের ফলে বুনো ফুলের এ প্রজাতিটি হারিয়ে যাচ্ছে।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]