চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ (The Channel Islands) ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূল হতে কিছুটা দূরে বিদ্যমান ইংলিশ চ্যানেলে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। ইংলিশ চ্যানেল আটলান্টিক মহাসাগরের একটি শাখা যা দক্ষিণ ইংল্যান্ডকে উত্তর ফ্রান্স থেকে পৃথক করে। চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ ছাড়াও ইংলিশ চ্যানেলে অবস্থিত বেশ কিছু দ্বীপ ফ্রান্সের অন্তর্ভুক্ত, যেমন- ব্রেহাট, আইল দে ব্যাট্‌জ, চ্যাউসি, আইল্‌স সেইন্ট মার্কুফ ইত্যাদি। দ্য আইল অফ ওয়াইট যা ইংল্যান্ডের একটি অংশেও বিদ্যমান, গ্রেট বৃটেন উপকূল হত একটু দূরে ইংলিশ চ্যানেল ও সোলেন্ট জলপ্রণালীর মাঝে অবস্থিত।

গ্রেট বৃটেনের তিনটি 'ক্রাউন ডিপেন্ডেন্সি' দ্বীপের মধ্যে দু'টিই চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত। 'বেইলিউইক অফ জার্সি' এই ক্রাউন ডিপেন্ডেন্সি দ্বীপের মধ্যে একটি। চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জের সকল দ্বীপ মিলিয়ে মোট জনসংখ্যা ১৭৪,৪২৯ জন। এখানকার সব দ্বীপ ইংল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত নয় যদিও এদের নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের সকল দায়িত্ব ইংল্যান্ড পালন করে। এর ক্রাউন ডিপেন্ডেন্সি দ্বিপগুলোও 'কমনওয়েল্‌থ অফ ন্যাশন' বা 'ইউরোপিয়ান ইউনিয়িন'-এর সদস্য নয়। চ্যানেল দ্বিপপুঞ্জে দু'টি বেইলিউইক অর্থাৎ 'বেলিফ বা বেইলি' আইনের অন্তর্ভুক্ত এলাকা বিদ্যমান। এ বেইলিউইকগুলোর ১৩ শতক থেকে নিজস্ব সরকার রয়েছে। 'বেইলিউইক অফ গার্নজেই বা গার্ন্‌জি(The Bailiwick of Guernsey)' মোট তিনটি এলাকায় বিভক্ত- গার্ন্‌জি, অ্যাল্ডার্নি ও সার্ক। অবশ্য বেইলিউইক অফ জার্সি এবং বেইলিউইক অফ গার্ন্‌জি একই বেইলিউইক এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

খুব সম্ভবত রয়্যাল নেভি বা ইংল্যান্ডের প্রধান নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রথম চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ নামটি ব্যবহার করা শুরু করেন ১৮৩০ সালে এবং তাদের থেকেই এই নামটি প্রচলিত হয়েছে। এই নামটি শুধুমাত্র ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমের উপকূল 'কোটেন্টটিন পেনিনসুলা(Cotentin Peninsula)'-তে অবস্থিত দ্বীপমালাকে নির্দেশ করে। যেমন, আইল অফ ওয়াইট ইংলিশ চ্যানেলে অবস্থিত হওইয়া সত্ত্বেও এটি চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত নয়।

চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ ইংলিশ চ্যানেলের অন্যতম দ্বীপপুঞ্জ। এর সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য সমুদ্রপ্রেমিক ও ভ্রমণকারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এখানকার ইতিহাসও প্রাচীন এবং বৈচিত্রময়। এর দ্বীপগুলোকে 'ডাচি অফ নরম্যান্ডি' নামক একটি ঐতিহাসিক শাসনামলের অবশিষ্টাংশ বলে ধারণা করা হয়। একারণে ইউরোপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গার মধ্যে চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জকেও একটি হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাগৈতিহাসিক যুগ[সম্পাদনা]

চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জে মানুষের প্রথম আগমন ঘটে প্রায় আড়াইশো বছর আগে, সে সময় এ দ্বীপপুঞ্জটি ইউরোপ মহাদেশের প্রধান ভূমির সাথে যুক্ত ছিল। পাথর যুগ(Stone Age)-এর পরবর্তী যুগ নিওলিথিক বা প্রাক-প্রস্তর যুগে এই এলাকার সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়তে থাকে এবং বেশ কিছু অঞ্চল প্রধান ভূমী থেকে আলাদা হয়ে যায়, যাদের বর্তমানে একত্রে চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ বলা হয়। এই দ্বীপগুলোর শিলাস্তর বা ভূ-গর্ভস্থ পাথরের প্লেটগুলোর কারণে এগুলো এখনো টিকে আছে এবং বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যার পাশাপাশি বিভিন্ন বড় বড় স্থাপনাও এ দ্বীপগুলোতে বিদ্যমান, যেমন, জার্সির 'লা হোগ বি বা La Hougue Bie' নামক সমাধিকেন্দ্র , 'মেনহার্স মূর্তি বা the statue menhirs ' ইত্যাদি।

লৌহযুগ[সম্পাদনা]

ষষ্ঠ শতাব্দীতে খ্রিস্টান মিশনারীরা দ্বীপপুঞ্জ পরিদর্শন করেছিলেন। দ্বীপগুলির সাথে যুক্ত সাধুদের মধ্যে ডল, হেলিয়ার, মার্ককুল এবং ম্যাগলয়েরের স্যামসন রয়েছেন। ষষ্ঠ শতাব্দীতে, তারা ইতিমধ্যে কাউটেন্সের ডায়োসিসে অন্তর্ভুক্ত ছিল যেখানে তারা সংস্কারের আগ পর্যন্ত ছিল।