চ্যবনপ্রাশ

চ্যবনপ্রাশ (সংস্কৃত: च्यवनप्राश, রোমানীকরণ: Cyavanaprāśa),[১] প্রাচীন নাম চ্যয়বনপ্রাশম্,[২][৩] একটি সিদ্ধ মিশ্রণ যা চিনি, মধু, ঘি, আমলকী (ভারতীয় আমলা) জ্যাম, তিলের তেল, ফলমূল ও বিভিন্ন ঔষধি গাছপালা ও মসলা দ্বারা প্রস্তুত।[৪] এটি আয়ুর্বেদীয় গ্রন্থসমূহে বর্ণিত নির্দেশনা অনুসারে প্রস্তুত করা হয়। চ্যবনপ্রাশ ভারতে ব্যাপকভাবে খাদ্য পরিপূরক হিসেবে বিক্রি ও সেবন করা হয়।
উৎপত্তি
[সম্পাদনা]চ্যবনপ্রাশ একটি প্রাচীন সংমিশ্রণ ও পণ্য।[৫] মহাভারত, পুরাণ ইত্যাদি প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে যে, অশ্বিনী কুমারগণ—যাঁরা বৈদিক চিকিৎসার দেবতা—প্রথম চ্যবন ঋষির জন্য এই সংমিশ্রণ প্রস্তুত করেন, যার ফলে এর নাম হয় চ্যবনপ্রাশ।[৬] চ্যবনপ্রাশের প্রথম ঐতিহাসিকভাবে নথিভুক্ত সূত্র পাওয়া যায় চরক সংহিতায়, যা খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দের প্রারম্ভিক সময়ের একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদীয় গ্রন্থ।[৭]
সেবন ও স্বাদ
[সম্পাদনা]চ্যবনপ্রাশ সাধারণত সরাসরি সেবন করা হয়। এটি গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করাও প্রচলিত।
চ্যবনপ্রাশের স্বাদ একযোগে মিষ্টি ও টক। এর স্বাদে মধু, ঘি (পরিষ্কৃত মাখন) ও আমলকীর প্রাধান্য থাকে; ঘি ও অন্যান্য মসলা যেমন চন্দন, দারুচিনি ও এলাচের সুবাস এতে বিদ্যমান।
উপাদান
[সম্পাদনা]চ্যবনপ্রাশের রন্ধনপ্রণালী আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসা পদ্ধতির গ্রন্থ যেমন অষ্টাঙ্গহৃদয়ম্, চরকসংহিতা, সঙ্গন্ধরসংহিতা ইত্যাদিতে উল্লেখিত। এতে ব্যবহৃত ঔষধি গাছপালার সংখ্যা ২৫ থেকে ৮০ পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে, তবে সকল চ্যবনপ্রাশের মূল উপাদান হল আমলকী।[৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ www.wisdomlib.org (৬ এপ্রিল ২০২০)। "Cyavanaprasha, Cyavanaprāśa, Cyavana-prasha: 5 definitions"। www.wisdomlib.org (ইংরেজি ভাষায়)। ৩১ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২২।
- ↑ www.wisdomlib.org (৬ আগস্ট ২০২১)। "Section 35 [Ashtanga-hridaya-samhita, Sanskrit text]"। www.wisdomlib.org (ইংরেজি ভাষায়)। ৩১ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২২।
- ↑ Sivarajan, V. V.; Balachandran, Indira (১৯৯৪)। Ayurvedic Drugs and Their Plant Sources (ইংরেজি ভাষায়)। International Science Publisher। পৃ. ২৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৮১৫৭০-২১-৯। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০২৩।
- ↑ Vora MS (২০১৫)। Rasayana: The Fountain of Life। Partridge Publishing India। পৃ. ২১৭। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৮২৮-৪৩১৫-৬। ৪ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ Gupta SK (২০০১)। Pharmacology and Therapeutics in the New Millennium। Springer Netherlands। পৃ. ৩৩২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯২৩-৭০৫৯-৮। ৪ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ Panda, H; Handbook On Ayurvedic Medicines With Formulae, Processes And Their Uses, 2004, p10 আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮৬৬২৩-৬৩-৩
- ↑ Bates, D, Knowledge and the Scholarly Medical Traditions Cambridge University Press 1995, p325 আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৪৯৯৭৫-০
- ↑ Johnston R (২০০৪)। The politics of healing : histories of alternative medicine in twentieth-century North America। New York: Routledge। পৃ. ২২৬। আইএসবিএন ০-৪১৫-৯৩৩৩৮-২।