বিষয়বস্তুতে চলুন

চেলেবি সুলতান মেহমেদ মসজিদ

চেলেবি সুলতান মুহাম্মদ মসজিদ
Τέμενος Μεχμέτ Α'
Çelebi Sultan Mehmed Camii
২০১০ সালে প্রাক্তন মসজিদটির দৃশ্য
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিইসলাম (প্রাক্তন)
যাজকীয় বা
সাংগঠনিক অবস্থা
অবস্থা
  • পরিত্যক্ত
    (মসজিদ হিসেবে);
  • আংশিক সংস্কারকৃত
অবস্থান
অবস্থানদিদিমোটিখো, পূর্ব মেসিডোনিয়া ও থ্রেস
দেশগ্রিস
চেলেবি সুলতান মেহমেদ মসজিদ গ্রিস-এ অবস্থিত
চেলেবি সুলতান মেহমেদ মসজিদ
গ্রিসে প্রাক্তন মসজিদটির অবস্থান
স্থানাঙ্ক৪১°২০′৫৬″ উত্তর ২৬°২৯′৩৮″ পূর্ব / ৪১.৩৪৯০° উত্তর ২৬.৪৯৩৯° পূর্ব / 41.3490; 26.4939
স্থাপত্য
স্থপতিইভাজ ইবনে বায়েজিদ
ধরনমসজিদ
প্রতিষ্ঠাতা
অর্থায়নেদোগান ইবনে আবদুল্লাহ
সাধারণ ঠিকাদারসৈয়দ আলী
সম্পূর্ণ হয়১৪২০
বিনির্দেশ
গম্বুজসমূহ
মিনার
উপাদানসমূহকাস্ট স্টোন; চুনাপাথর অ্যাশলার

চেলেবি সুলতান মুহাম্মদ মসজিদ (গ্রিক: Τέμενος Μεχμέτ Α'; তুর্কি: Çelebi Sultan Mehmed Camii), যা বায়েজিদ মসজিদ (Τέμενος Βαγιαζήτ) এবং বড় মসজিদ (তুর্কি: Büyük Camii বা Ulu Camii) নামেও পরিচিত,[] হলো গ্রিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পূর্ব মেসিডোনিয়া ও থ্রেস অঞ্চলের দিদিমোটিখো শহরে অবস্থিত একটি প্রাক্তন মসজিদ। উসমানীয় শাসন আমলে ১৪২০ সালে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং ১৯২০-এর দশকে এটি শেষবারের মতো মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

নির্মাণ

[সম্পাদনা]

১৭শ শতাব্দীর উসমানীয় পর্যটক এভলিয়া চেলেবি নথিবদ্ধ করেছেন যে, মসজিদটির নির্মাণ কাজ সুলতান প্রথম বায়েজিদের (রাজত্ব ১৩৮৯–১৪০২) অধীনে শুরু হয়েছিল। কিন্তু আঙ্কারার যুদ্ধে তাঁর মৃত্যু এবং পরবর্তী অস্থিতিশীলতার কারণে এর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সুলতান প্রথম মুহাম্মদের (রাজত্ব ১৪১৩–১৪২১) অধীনে নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হয়। মূল প্রবেশপথের ওপরের শিলালিপি অনুসারে, ১৪২০ সালের মার্চ মাসে মসজিদটি সম্পন্ন ও উদ্বোধন করা হয়। পার্শ্ব-প্রবেশপথের একটি দ্বিতীয় শিলালিপিতে স্থপতি ইভাজ ইবনে বায়েজিদ, নির্মাতা (দাতা) দোগান ইবনে আবদুল্লাহ এবং স্থানীয় কাজি সৈয়দ আলীর নাম পাওয়া যায়, যিনি নির্মাণ কাজ তদারকি করেছিলেন।[]

গঠনশৈলী

[সম্পাদনা]


মসজিদটি একটি বর্গাকার কাঠামো, যার প্রতি পাশের পরিমাপ দেওয়ালসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩২ মিটার। মসজিদটি 'কাস্ট স্টোন' পদ্ধতিতে নির্মিত এবং এর বহির্ভাগে চুনাপাথরের অ্যাশলার ব্লক বসানো হয়েছে। এর বাইরের দেওয়ালগুলো প্রায় ২.২ থেকে ২.৭ মিটার পুরু। এখানে জানালার দুটি সারি রয়েছে—একটি মেঝে বরাবর এবং অন্যটি ওপরে। মূল প্রবেশপথটি দক্ষিণ দিকে অবস্থিত এবং পূর্ব ও পশ্চিম দিকে আরও দুটি দরজা রয়েছে।[][]

অভ্যন্তরীণ গম্বুজসহ কাঠের ছাদ

এর নকশা থেকে বোঝা যায় যে, ভবনটি মূলত প্রবেশপথের অক্ষের ওপর দুটি বড় গম্বুজ এবং দুই পাশে দুটি ছোট গম্বুজ দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এছাড়াও তিনটি ছোট গম্বুজবিশিষ্ট একটি পোর্টিকো যোগ করার কথা ছিল। তবে সেই আদি নকশা বাদ দিয়ে সিসা দিয়ে ঢাকা চার-পার্শ্বের পিরামিড আকৃতির কাঠের ছাদ তৈরি করা হয়, যা আজও টিকে আছে। ১৭শ শতাব্দীতে মূল ছাদের নিচে একটি ছোট কুপোলাসহ কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি একটি অভ্যন্তরীণ ছাদ যুক্ত করা হয়েছিল।[][][]

অভ্যন্তরীণ স্থানটি চারটি বর্গাকার স্তম্ভের মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় বর্গক্ষেত্রে (যা মূল প্রার্থনা এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত হতো) এবং এর চারপাশের চারটি দীর্ঘায়িত স্থানে বিভক্ত। দক্ষিণ দেওয়ালে মিহরাব অবস্থিত, যার ওপরে একটি ফ্রেস্কোতে জান্নাতী শহরের চিত্র ফুটে উঠেছে। অন্যান্য দেওয়ালগুলো কুরআনের আয়াত, প্রার্থনা এবং জিকির দিয়ে সজ্জিত।[] মিনারটি দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত। ১৯১২ সালে প্রথম বলকান যুদ্ধের সময় বুলগেরীয় দখলের সময় মিনারের ওপরের অংশটি ধ্বংস করা হয় এবং মসজিদটিকে সেন্ট জর্জের নামে একটি গির্জায় রূপান্তরিত করা হয়। তবে ১৯১৩ সালে তুর্কিরা শহরটি উদ্ধার করলে এটি পুনরায় সংস্কার করা হয় এবং মিনারে একটি দ্বিতীয় বারান্দা যুক্ত করা হয়।[][]

গুরুত্ব ও সংরক্ষণ

[সম্পাদনা]
মসজিদের মূল প্রবেশপথ

গ্রিক সরকারের কর্মকর্তাদের মতে, এই মসজিদটি কেবল গ্রিসেই নয়, বরং সমগ্র ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম নিদর্শন, কারণ এটি ইউরোপীয় ভূখণ্ডের প্রাচীনতম মসজিদগুলোর একটি।[] ১৯৪৬ সাল থেকে এটি একটি সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ।

১৫শ শতাব্দীর শুরুর দিকের এই ওক কাঠের ছাদটি "বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠের নিদর্শন" হিসেবে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মূল সিসার আবরণটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং যুদ্ধের পরে প্রথমে টিনের পাত এবং পরে পুনরায় সিসা দিয়ে ঢাকা হয়। ১৯৯৮ সালে মেরামতের জন্য এগুলো সরানো হয়েছিল। তবে কাজ স্থবির হয়ে যাওয়ায় ছাদটি কেবল একটি সুরক্ষা পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। ২০০৮ সালে মিনারের একটি অংশ খসে পড়লে সেই পর্দাটি ছিঁড়ে যায়।[][]

ভবনটি জরুরি মেরামতের প্রয়োজন ছিল এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে ছিল। অবশেষে ২৩ নভেম্বর ২০১০ তারিখে কেন্দ্রীয় প্রত্নতাত্ত্বিক পরিষদ সংস্কার কাজ পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা জাতীয় এবং ইইউ তহবিলের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়।[][]

২২ মার্চ ২০১৭-এর প্রথম প্রহরে ছাদ সংস্কারের কাজ চলার সময় মসজিদে আগুন লাগে। কয়েক ঘণ্টা পর আগুন নেভানো সম্ভব হলেও পুরো ছাদটি ধ্বংস হয়ে যায়; তবে অভ্যন্তরীণ এবং দেওয়ালের ক্ষতির পরিমাণ তখন তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।[]

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রিক উগ্রপন্থীরা মসজিদে হামলা চালায় এবং ইসলামবিদ্বেষী ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়। ব্যানারে লেখা ছিল "এভ্রোসের ইসলামীকরণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।"[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Τέμενος Βαγιαζήτ (গ্রিক ভাষায়)। Didymoteicho Municipality। ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৭
  2. 1 2 3 4 5 Dadaki, Stavroula। Τέμενος Μεχμέτ Α΄ (গ্রিক ভাষায়)। Hellenic Ministry of Culture। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৩
  3. 1 2 "Çelebi Sultan Mehmet Camii"ArchNet। n.d.। ২৪ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৩
  4. Baram, Uzi; Carroll, Lynda, সম্পাদকগণ (২০০২)। A Historical Archaeology of the Ottoman Empire: Breaking New Ground। Kluwer Academic Publishers। পৃ. ১১৭আইএসবিএন ০-৩০৬-৪৬৩১১-৩
  5. 1 2 3 Kotti, Angeliki (২৬ নভেম্বর ২০১০)। Εργα αποκατάστασης στο τέমেνος ΒαγιαζήτTo Ethnos (গ্রিক ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৩
  6. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; kathimerini নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  7. Εκτεταμένη η ζημιά από τη φωτιά στο τέμενος Βαγιαζήτ του Διδυμοτείχουin.gr (গ্রিক ভাষায়)। ২২ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৭
  8. "Extremists target mosque in Greece, hang anti-islam banners"Daily Sabah (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০২৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
  • Repair of the Bayezid Mosque। Didymoteicho: Delta TV। ২৬ মার্চ ২০১১। ঘটনা সংঘটিত হয় 00:00।