চিত্রাঙ্গদা (নাটক)
বাংলা সংস্করণের শিরোনাম পৃষ্ঠা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় | |
| লেখক | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
|---|---|
| প্রকাশনার স্থান | ব্রিটিশ ভারত |
| ভাষা | বাংলা |
| ধরন | নৃত্যনাট্য |
| প্রকাশিত | ১৮৯২ |
১৮৯২ সালে প্রকাশিত, চিত্রাঙ্গদা একটি নৃত্য-নাট্য, অর্থাৎ নৃত্য-নাট্য ( বাংলা : নৃত্যনাট্য) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। এই নাটকটি চিত্রাঙ্গদা ( IAST : Citrāṅgadā ) এর গল্পের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যিনি মণিপুর রাজ্যের পৌরাণিক রাজকন্যা এবং মহাভারত অনুসারে অর্জুনের একজন স্ত্রী। [১]
কাহিনিসংক্ষেপ
[সম্পাদনা]নাটকের শুরু তে দেখা যায়, অর্জুন একাকী তপস্যা করতে করতে মনিপুর রাজ্যে এসে পৌঁছান। এই রাজ্যে রাজা তাঁর একমাত্র কন্যা চিত্রাঙ্গদাকে রাজ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে গড়ে তুলেছেন—তিনি রণশিক্ষায় পারদর্শী, ন্যায়পরায়ণ, কর্তব্যনিষ্ঠ এবং শারীরিক সৌন্দর্যে নয় বরং চরিত্র ও সাহসে গড়া এক অনন্য নারী। চিত্রাঙ্গদা অর্জুনকে দেখে মুগ্ধ হন এবং প্রেমে পড়েন।[২] কিন্তু তিনি জানেন, অর্জুন এমন এক নারীকে পছন্দ করবেন না যিনি রাজসভার পোশাক পরে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেন; বরং যাকে তিনি দেবীসম মনে করতে পারেন, এমন রমণীই তার পছন্দ।
এই আত্মসংশয় ও আত্মবিরোধিতা থেকেই চিত্রাঙ্গদা কামদেবের নিকট প্রার্থনা করেন যে তাকে যেন অতুল সৌন্দর্য দান করা হয়। [৩]কামদেব তার প্রার্থনায় সাড়া দেন এবং চিত্রাঙ্গদাকে এক বছরের জন্য মোহিনী রূপ দান করেন। এই নতুন রূপে অর্জুন চিত্রাঙ্গদার প্রতি আকৃষ্ট হন, প্রেমে পড়েন, কিন্তু জানেন না যে এই নারীই মনিপুরের রাজকন্যা। চিত্রাঙ্গদাও তার সত্য পরিচয় গোপন রাখেন।
অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে?[৪]এই অবস্থায় চিত্রাঙ্গদা ক্রমে উপলব্ধি করতে থাকেন যে বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে পাওয়া প্রেম চিরস্থায়ী নয়; একজন নারী নিজের প্রকৃত সত্তা নিয়েই ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার রাখে।[৩] এক সময় তিনি নিজেকে প্রকাশ করেন। চিত্রাঙ্গদা বলেন, তিনি চিত্রাঙ্গদা, মনিপুরের রাজকন্যা, যোদ্ধা, রাজ্যের ভবিষ্যৎ অধিপতি। তিনি যে রূপে জন্মেছেন, তাতেই তিনি গর্বিত। তিনি অর্জুনকে বলেন, তিনি দেবী হয়ে নয়, মানুষ হয়ে ভালোবাসতে চান এবং ভালোবাসা পেতে চান।
নাটকের শেষাংশে অর্জুন চিত্রাঙ্গদার এই আত্মবিশ্বাস, সততা ও ব্যক্তিত্বের প্রতি মুগ্ধ হন এবং তাকে পূর্ণ মর্যাদায় গ্রহণ করেন। চিত্রাঙ্গদা দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন,
আমি চিত্রাঙ্গদা। আমি রাজেন্দ্র নারী, আমি যুদ্ধ করিতে পারি, আমি ভালোবাসিতেও পারি
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চিত্রাঙ্গদা
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Mittal, J.P. (২০০৬)। History of Ancient India। Atlantic Publishers and Dist.। পৃ. ৪৯৩। আইএসবিএন ৮১২৬৯০৬১৭০।
- ↑ SAMAKAL। "নারী দিবস উপলক্ষ্যে 'চিত্রাঙ্গদা' নাটকের প্রদর্শনী"। নারী দিবস উপলক্ষ্যে ‘চিত্রাঙ্গদা’ নাটকের প্রদর্শনী (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২৫।
- 1 2 জনকণ্ঠ, দৈনিক। "বর্ষবরণ উপলক্ষে 'চিত্রাঙ্গদা' নাটকের দুই প্রদর্শনী"। দৈনিক জনকণ্ঠ || Daily Janakantha (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২৫।
- ↑ "নারী দিবসে স্বপ্নদলের নাট্য প্রদর্শনী ও সম্মাননা প্রদান"। www.ajkerpatrika.com। ২ মার্চ ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২৫।