চার্লস পালমার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চার্লস পালমার, সিবিই
চার্লস পালমার.jpg
১৯৫২ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে চার্লস পালমার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামচার্লস হেনরি পালমার
জন্ম(১৯১৯-০৫-১৫)১৫ মে ১৯১৯
ওল্ড হিল, স্টাফোর্ডশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু৩১ মার্চ ২০০৫(2005-03-31) (বয়স ৮৫)
লিচেস্টার, ইংল্যান্ড
উচ্চতা৫ ফুট ৭ ইঞ্চি (১.৭০ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার, প্রশাসক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৩৭২)
৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৩৬
রানের সংখ্যা ২২ ১৭,৪৫৮
ব্যাটিং গড় ১১.০০ ৩১.৭৪
১০০/৫০ ০/০ ৩৩/৯৮
সর্বোচ্চ রান ২২ ২০১
বল করেছে ৩০ ২৬,৬২১
উইকেট ৩৬৫
বোলিং গড় ২৫.১৫
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৮/৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ০/– ১৪৭/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৬ অক্টোবর ২০২০

চার্লস হেনরি পালমার, সিবিই (ইংরেজি: Charles Palmer; জন্ম: ১৫ মে, ১৯১৯ - মৃত্যু: ৩১ মার্চ, ২০০৫) স্টাফোর্ডশায়ারের ওল্ড হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার, ওরচেস্টারশায়ার ও ইউরোপিয়ান্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন চার্লস পালমার

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩৮ সাল থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত চার্লস পালমারের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ক্ষীণ দৃষ্টির অধিকারী থাকায় চশমা পরিধান করে খেলতেন। ইংল্যান্ড দলে খেলার পর অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ও সম্মানীয় প্রশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।[২] ১৯৩৮ সালে ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ১৯৩৯ সালে ২০ বছর বয়সী চার্লস পালমার তিনটি শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ১৯৩৮ সালে ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে প্রথম ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নেন। ১৯৪৬ সালে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে বোম্বে ইউরোপিয়ান্সসহ ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নেন। সাসেক্সে পরবর্তী ছয় বছর অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ব্যাটারিতে কর্মরত ছিলেন। যুদ্ধ শেষে ব্রোমসগ্রোভ স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। এ পর্যায়ে মাঝে-মধ্যে খেলতেন। ১৯৪৮ সালে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে প্রথম ও প্রায় একাকী কাউন্টি ব্যাটসম্যান হিসেবে ৮৫ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলে সমীহের কারণ হয়ে দাঁড়ান।

দল পরিবর্তন[সম্পাদনা]

১৯৫০ সালে লিচেস্টারশায়ারের অধিনায়ক ও সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন।[২] এরপর থেকে পরবর্তী আট মৌসুমের প্রত্যেকটিতেই পূর্ণাঙ্গ সময় দিয়ে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৯৫৩ সালে লিচেস্টারশায়ার দল কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে তৃতীয় স্থান অধিকার করে। ১৮৯৫ সালে এ প্রতিযোগিতায় যুক্ত হবার পর এটিই দলটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হবার ঘটনা ছিল। এ পর্যায়ে ঐ মৌসুমের আগস্ট মাসে দলটি তালিকার শীর্ষে প্রথমবারের মতো পৌঁছে। পালমারের প্রশংসায় উল্লেখ করা হয় যে, কোনরূপ বাহুল্যতা ছিল না তার, তবে যোগ্য নেতা ছিলেন।[৩]

অন্যান্য শৌখিন ক্রিকেটারের তুলনায় ব্যতিক্রমী ছিলেন। গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন শেষে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এমসিসি কর্তৃপক্ষ তাকে শীতকালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রেরণ করেন। সেখানে তিনি বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলেও কোন টেস্টে খেলানো হয়নি। এক বছর পর তাকে লিচেস্টারশায়ারের সম্পাদক ও অধিনায়কের দায়িত্ব ভার প্রদান করা হয়। ফুটবল মাঠে গমন করেন ও পুরো শীতকাল জুড়ে চিকেন-সালাদ নৈশভোজনে অর্থসংগ্রহে তৎপর হন।

১৯৫২ সালের গ্রীষ্মে ২০৭১ রান তুলেন। তন্মধ্যে, লর্ডসে জেন্টলম্যানের পক্ষে দারুণ শতরানের ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, সুইং ও কাট সহযোগে অনেকগুলো উইকেট লাভ করেন। আট মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। ১৯৫২ ও ১৯৫৫ সালে লর্ডসে জেন্টলম্যানের সদস্যরূপে প্লেয়ার্সের বিপক্ষে দুইটি খেলায় স্মরণীয় ইনিংস উপহার দেন। দেশের সেরা বোলারদের আক্রমণ সামাল দিয়ে ১২৭ ও ১৫৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। [৪]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন চার্লস পালমার। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে ব্রিজটাউনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে ইংল্যান্ড দলের ৩৪ বছর বয়সী চার্লস পালমারকে খেলোয়াড়-ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনের সুযোগ দেয়া হয়। তবে, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোর্ড কর্তৃপক্ষ দলের ষোড়শ খেলোয়াড়কে কোন অর্থ প্রদানের কথা নাকচ করে দেয়। তবে, দলীয় অধিনায়ক লেন হাটন কূটনীতির চেয়ে দলের বিজয়ের দিকে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।

ইংল্যান্ড দল পরাজিত হয়। তিনি ২২ ও রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাঁচ ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এ সিরিজটিতে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও তিনি তার সহজাত খেলোয়াড়ী মনোভাবের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।[২]

অবসর[সম্পাদনা]

নিজদেশে কার্যকর রান সংগ্রাহকে পরিণত হন ও বিস্ময়কর বোলারে পরিণত হন। ১৯৫৫ সালে অপ্রতিরোধ্য সারের বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরতে প্রয়াস চালান। পালমার ভেজা আবহাওয়াকে পুঁজি করে স্ট্যাম্প বরাবর বোলিং করতে থাকেন। সাতজন ব্যাটসম্যান বোল্ড হন।

১৯৫৫ সালে ক্রিকেটের ইতিহাসের অবিস্মরণীয় বোলিং স্পেল করেন। সারের বিপক্ষে দুইজন প্রধান বোলারের প্রান্ত বদল করে ৮/৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এক পর্যায়ে তার বোলিং ছিল ১২-১২-০-৮।[৫] স্মর্তব্য যে, তার এ বোলিং ১৯৫০ সালে জিম লেকারের গড়া ৮/২ রেকর্ডকে ম্লান করে দিয়েছিল। ক্যাচ ফসকে গেলে তার বোলিং বিনা রানে নয় উইকেট হতে পারতো। তাসত্ত্বেও, সারে দল সাত উইকেটে জয়লাভ করেছিল।[৬]

১৯৫০-এর দশকের শেষদিকে ইস্পাত কারখানায় চলে যান। টার্নারের সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে সংক্ষিপ্ত বিরতি নিয়ে ১৯৬৪ সালে ২৫ বছরের জন্যে লিচেস্টারশায়ারের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ পর্যায়ে দলটি আদর্শ দলে পরিণত হয়। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। লিচেস্টারশায়ারের সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের সদস্যসহ ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে প্রেসিডেন্ট হন। এছাড়াও, ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে টেস্ট ও কাউন্টি ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।[২] ১৯৮৪ সালে রাণীর জন্মদিনের সম্মাননায় ক্রিকেট খেলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সিবিই পদবীধারী হন।

৩১ মার্চ, ২০০৫ তারিখে ৮৫ বছর বয়সে লিচেস্টার এলাকায় চার্লস পালমারের দেহাবসান ঘটে।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

ছোট চোখের অধিকারী ছিলেন ও চশমা পরিধান করতেন। ট্রেভর বেইলি মজা করে বলতেন যে, সহজাত ব্যক্তি হিসেবে তাকে অনেকাংশে ব্যাংকের কেরাণী হিসেবে দেখাতো।[৪] তাসত্ত্বেও চমৎকার ব্যাটসম্যান হিসেবে তার প্রভাব রোখা যায়নি। এছাড়াও, শক্তিশালী কব্জির মোচরে স্লো মিডিয়াম বোলিং করতেন তিনি। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে কাট ও ড্রাইভে দর্শনীয় মার মারতেন।[৪]

তার খেলার ধরন তেমন দর্শনীয় ছিল না। কিছুটা অদ্ভুত ধরনের শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন তিনি। তাসত্ত্বেও ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটিং, শক্তিশালী কব্জির মার ও সঠিক সময়ে বলকে মোকাবেলা করতেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Telegraph, 95
  2. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 129আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  3. Wisden Obituary
  4. Telegraph, 93
  5. "Lord of the crease"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০১৭ 
  6. Telegraph, 94

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • Smith, Martin (editor). The Promise of Endless Summer (Cricket Lives from the Daily Telegraph). Aurum (2013).

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]