বিষয়বস্তুতে চলুন

চাও ফ্রায়া নদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চাও ফ্রায়া নদী
চাও ফ্রায়া নদী ব্যাংকক
Map of the Chao Phraya River drainage basin
স্থানীয় নামแม่น้ำเจ้าพระยา (থাই)
অবস্থান
দেশথাইল্যান্ড
শহরব্যাংকক
প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য
উৎসপিং নদী
 • অবস্থানদই থুয়াই, চিয়াংমাই
 • স্থানাঙ্ক১৯°৪৮′৪৫″ উত্তর ৯৮°৫০′২০″ পূর্ব / ১৯.৮১২৫০° উত্তর ৯৮.৮৩৮৮৯° পূর্ব / 19.81250; 98.83889[১]
 • উচ্চতা১,৭০০ মি (৫,৬০০ ফু)
২য় উৎসNan River
 • অবস্থানBo Kluea, Nan
 • স্থানাঙ্ক১৯°২০′০″ উত্তর ১০১°১২′০″ পূর্ব / ১৯.৩৩৩৩৩° উত্তর ১০১.২০০০০° পূর্ব / 19.33333; 101.20000
 • উচ্চতা১,২৪০ মি (৪,০৭০ ফু)
মিলন 
 • অবস্থানPak Nam Pho, Nakhon Sawan
 • স্থানাঙ্ক১৫°৪২′০৪″ উত্তর ১০০°০৮′৩১″ পূর্ব / ১৫.৭০১° উত্তর ১০০.১৪২° পূর্ব / 15.701; 100.142
 • উচ্চতা২৫ মি (৮২ ফু)
মোহনাGulf of Thailand
 • অবস্থান
Thai Ban, Samut Prakan
 • স্থানাঙ্ক
১৩°৩১′১২″ উত্তর ১০০°৩৬′১১″ পূর্ব / ১৩.৫২০° উত্তর ১০০.৬০৩° পূর্ব / 13.520; 100.603
 • উচ্চতা
০ মি (০ ফু)
দৈর্ঘ্য৩৭২ কিমি (২৩১ মা)
অববাহিকার আকার১,৬০,৪০০ কিমি২ (৬১,৯০০ মা২)
নিষ্কাশন 
 • অবস্থানNakhon Sawan
 • গড়৭১৮ মি৩/সে (২৫,৪০০ ঘনফুট/সে)
 • সর্বোচ্চ৫,৯৬০ মি৩/সে (২,১০,০০০ ঘনফুট/সে)
অববাহিকার বৈশিষ্ট্য
উপনদী 
 • বামেPa Sak River
 • ডানেSakae Krang River

চাও ফ্রায়া নদী [ক] থাইল্যান্ডের প্রধান নদী,[৫] যার মাধ্যমে পরিবাহিত পলিমাটি দিয়ে দেশের কেন্দ্রস্থল তৈরি হয়েছে। এটি ব্যাংককের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে থাইল্যান্ড উপসাগরে পড়েছে।

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

অনেক পুরাতন ইউরোপীয় মানচিত্রে, নদীটির নামকরণ করা হয়েছে মায়ে নাম (แม่น้ำ), থাই শব্দ যার অর্থ "নদী" (আক্ষরিক অর্থে, "মাতৃত্বপূর্ণ জল")। আইরিশ জরিপকারী এবং মানচিত্রকার জেমস ম্যাকার্থি, FRGS, যিনি রয়েল থাই জরিপ বিভাগ প্রতিষ্ঠার আগে সিয়ামিজ সরকার জরিপের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তার বিবরণে লিখেছেন, " মায়ে নাম একটি সাধারণ শব্দ, মায়ে "মা" এবং নাম "জল" বোঝায় এবং চাও পিয়া উপাধিটি বোঝায় যে এটি সিয়াম রাজ্যের প্রধান নদী।" [৫]

১৮৯১ থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত সিয়ামের খনিজ সম্পদ বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী হার্বার্ট ওয়ারিংটন স্মিথ [৬] তার ১৮৯৮ সালে প্রথম প্রকাশিত বইতে এটিকে "দ্য মায়ে নাম চাও ফ্রায়া" নামে উল্লেখ করেছেন। [৭]

থাইল্যান্ডের ইংরেজি ভাষার মিডিয়াতে, চাও ফ্রায়া নদী নামের অনুবাদে প্রায়শই রাজাদের নদী হিসাবে প্রকাশ করা হয়। [৮]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
১৭৫১ সালে আয়ুথায়া থেকে চাও ফ্রায়া নদীর মানচিত্র

চাও ফ্রায়া নদীর অববাহিকায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাচীনতম সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। ৭ম শতাব্দী থেকে ১১শ শতাব্দী পর্যন্ত প্রাচীন মন রাজ্য এবং দ্বারবতী সভ্যতা এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নদীটি লাভো রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যা উজানে চাও ফ্রায়া উপত্যকার বাম তীরে অবস্থিত ছিল এবং তারপর লাভো রাজ্যের উত্তরসূরী রাজ্যগুলিতেও তার ভূমিকা অক্ষুন্ন ছিল। এটি অয়োধায়া রাজ্যের ভিত্তি তৈরি করেছিল, যা পরবর্তীতে ১৪ শতকে আয়ুথায়া রাজ্যের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা আধুনিক থাইল্যান্ডের (পূর্বে সাইয়াম নামে পরিচিত) পূর্বসূরী ছিল। ১৭৮২ সালে পূর্ব তীরে রতনকোসিন (ব্যাংকক) প্রতিষ্ঠার পর নদীটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ব্যাংকক চাও ফ্রেয়া নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ছিল এবং পশ্চিম দিক থেকে আগত বার্মিজ আক্রমণ থেকে সাইয়ামকে সুরক্ষা প্রদান করেছিল।

ভূতত্ত্ব

[সম্পাদনা]

চাও ফ্রায়া নদীর উৎপত্তি হয় পিং এবং ন্যান নদীর মিলিত প্রবাহ থেকে নাখোন সাওয়ান (পাক নাম ফো নামেও পরিচিত) নামের এক স্থান থেকে যা নাখোন সাওয়ান প্রদেশ এ অবস্থিত। এর পর, এটি দক্ষিণে কেন্দ্রীয় সমভূমি হতে ব্যাংকক হয়ে থাইল্যান্ড উপসাগর. পর্যন্ত ৩৭২ কিলোমিটার (২৩১ মাইল) প্রবাহিত হয়। চা নাট এ নদীটি পরবর্তিতে প্রধান প্রবাহ এবং থা চিন নদীতে বিভক্ত হয় যা প্রধান নদীর সমান্তরালভাবে প্রবাহিত হয় এবং ব্যাংককের পশ্চিমে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার (২২ মাইল) দূরে সামুত সাখোন এ থাইল্যান্ড উপসাগরে পতিত হয়।

চাও ফ্রায়া বাঁধের নীচে শুরু হওয়া নিম্ন পলিমাটির সমভূমিতে, মূল নদী থেকে বিভক্ত অনেক ছোট খাল ( খলং ) তৈরি হয়েছে। খলংগুলি সে অঞ্চলের ধানক্ষেতে সেচের জন্য ব্যবহৃত হয়।

নদীর আনুমানিক স্থানাঙ্ক হল ১৩ ডিগ্রি উত্তর, ১০০ পূর্ব। এই অঞ্চলে আর্দ্র মৌসুমি জলবায়ু বিরাজমান, যেখানে বছরে ১,৪০০ মিলিমিটার (৫৫ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয় ।ব্যাংককের তাপমাত্রা ২৪ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৭৫ থেকে ৯১ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর মধ্যে থাকে ।

নদী প্রকৌশল

[সম্পাদনা]
The original course of the river and its shortcut canals (নদীর মূল প্রবাহ এবং এর সংকির্ণ খাল সমূহ)

আয়ুথায়া যুগে চাও ফ্রায়ার ভাটিতে বেশ কিছু মানবসৃষ্ট পরিবর্তন করা হয়েছিল। নদীর বৃহৎ বাঁকগুলিকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনেকগুলি সংকির্ণ খাল খনন করা হয়েছিল। ফলে রাজধানী শহর থেকে সমুদ্রে চলাচলের পথ সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এরপর থেকে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং এই খালগুলির অনেকগুলি নদীর মূল প্রবাহের অংশ হয়ে যায়।

  • ১৫৩৮ সালে, থাইল্যান্ডের প্রথম নদী প্রকৌশল এর প্রয়োগ ছিল ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল খনন যা রাজা চৈরচথিরাতের নির্দেশে করা হয়েছিল। এটি "খলং লাত" নামে পরিচিত ছিল এবং বর্তমান সময়ে এটি খলং ব্যাংকক নোইয়ের একটি অংশ। এটি সিয়াম উপসাগর থেকে তৎকালীন রাজধানী শহর আয়ুথায়া পর্যন্ত জাহাজ চলাচলের পথটিকে ১৩-১৪ কিলোমিটার সংক্ষিপ্ত করে।
  • ১৫৪২ সালে, "খলং লাত ব্যাংকক" নামে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি খনন সম্পন্ন হয়। এরপর চাও ফ্রায়া নদী নতুন খাল বরাবর বাঁক নেয়, এর পুরানো পথটি খলং ব্যাংকক নোই এবং খলং ব্যাংকক ইয়ের অংশ হয়ে যায়। বলা হয় যে এটি নদীর গতিপথকে ১৪ কিলোমিটার বা ৯ মাইল ছোট করে ফেলেছিল। . [৯]
  • ১৬০৮ সালে, সাত কিলোমিটার দীর্ঘ "খলং বাং ফ্রাও" খাল খনন সম্পন্ন হয়েছিল এবং এটি চাও ফ্রায়ার মূল গতিপথটি ১৮ কিলোমিটার বা ১১ মাইল ছোট করে দিয়েছিলো। . [৯]
  • ১৬৩৬ সালে, "খলং লাত মুয়াং ননথাবুরি" খাল খনন সম্পন্ন হয়। [৯]
  • ১৭২২ সালে, দুই কিলোমিটার দীর্ঘ "খলং লাত ক্রেট নোই" চাও ফ্রায়াকে ৭ কিলোমিটার বা ৪ মাইল সংক্ষিপ্ত করে ফেলে। এই খালটি কো ক্রেট দ্বীপ তৈরি করেছিল। [৯]
  • ২০২৪ সালে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ "চাও ফ্রায়া-২" চ্যানেলটি নির্মাণাধীন ছিল। এটি আয়ুথায়ার উত্তর এবং দক্ষিণ অংশে প্রবাহিত চাও ফ্রায়া নদীকে পরস্পরের সাথে মিলিত হবে, যা শহরের বন্যা নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখবে।

যোগাযোগ মাধ্যম

[সম্পাদনা]
ওয়াট অরুণের চাও ফ্রেয়ায় চাও ফ্রেয়া এক্সপ্রেস নৌকাটি পটভূমিতে দৃশ্যমান।

চাও ফ্রায়া নদী অতিক্রমকারী ব্যাংককের প্রধান সেতুগুলি: রামা ষষ্ঠ রেলপথ সেতু; গ্র্যান্ড প্যালেসের কাছে ফ্রা পিন-ক্লাও ; রামা অষ্টম, একটি একক টাওয়ার নির্ভর কেবল এর উপর ঝুলন্ত সেতু; রামা নবম, একটি আধা-প্রতিসম কেবলের উপর ঝুলন্ত সেতু; এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিং রোডে মেগা সেতু ।

ব্যাংকক শহরে চাও ফ্রায়া নদী, রিভার বাস, ক্রস-রিভার ফেরি এবং ওয়াটার ট্যাক্সি ("লংটেইল") এর নেটওয়ার্কের জন্য একটি প্রধান চলাচল পথ। শহরের নদী এবং খালগুলিতে ১৫টিরও বেশি নৌকার নেটওয়ারর্ক চলাচল করে, যার মধ্যে কমিউটার লাইনও আছে।

  1. ↑ /ˌtʃaʊ prəˈjɑː/[২] or /tʃaʊˈpraɪə/;[৩] থাই: แม่น้ำเจ้าพระยา, আরটিজিএস: Maenam Chao Phraya , উচ্চারণ [mɛ̂ːnáːm tɕâːw pʰráʔ.jāː] ⓘ or [tɕâːw pʰrā.jāː])[৪]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ "Chiang Dao National Park"। Thai Forest Booking। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০০৯।
  2. ↑ "Chao Phraya"। Lexico UK English Dictionary। Oxford University Press।[অকার্যকর সংযোগ]
  3. ↑ টেমপ্লেট:MW
  4. ↑ Pronunciation
  5. 1 2 McCarthy, James Fitzroy (১৩ জুলাই ২০০৫)। "Chapter VI. From Bangkok to Korat – Elephants"। Surveying and exploring in Siam (পিডিএফ)। John Murray, Albemarle Street। পৃ. ২১। ওসিএলসি 5272849। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২। উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "McCarthy" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  6. ↑ Tamara Loos (১ ডিসেম্বর ২০০২)। "Introduction to Five Years in Siam"। 1994 reprint। Pine Tree Web। ১৯ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১১। At the time of writing the "Introduction" to the 1994 reprint of Five Years in Siam, she was a PhD candidate in the Department of History at Cornell University.
  7. ↑ Smyth, H. Warington (১৯৯৪)। "I. The river and port of Bangkok"। Five Years in Siam : from 1891–1896। White Lotus। আইএসবিএন ৯৭৪-৮৪৯৫-৯৮-১। ১৯ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১১।
  8. ↑ "The River of Kings II : City of Angels"। Thai Stories। ১২ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১১। "The River of Kings II – City of Angels", a light and sound musical
  9. 1 2 3 4 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "ReferenceA" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি