বিষয়বস্তুতে চলুন

চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অব কানাডা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অব কানাডা
সংক্ষেপেসিডব্লিউএলসি
গঠিত১৯৯৪
ধরনএনজিও
অবস্থান
মূল ব্যক্তিত্ব
তানিয়া আয়রনস্টোন লক (নির্বাহী পরিচালক)
ওয়েবসাইটwww.cwlc.ca

চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অব কানাডা , হলো একটি জাতীয় সদস্যপদ-ভিত্তিক সংগঠন। এটি শিশু ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিবেদিত, বিশেষ করে যারা অরক্ষিত বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। সংস্থাটির মূল আকাঙ্ক্ষা হলো, প্রতিটি শিশু যেন সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে, ভালোবাসা পায় এবং তাদের মধ্যে একাত্মবোধ বা 'সেন্স অফ বিলংগিং' তৈরি হয়।

১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি একটি জাতীয় সদস্যপদ-ভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে, যার মূল লক্ষ্য তরুণ ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং মঙ্গলের প্রসার ঘটানো, বিশেষত যারা ঝুঁকিপূর্ণ এবং সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন।

সংগঠন ও কাঠামো

[সম্পাদনা]

চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অব কানাডা একটি জাতীয় সংস্থা, যার সদস্যপদ কানাডার সমস্ত প্রদেশ এবং অঞ্চলে বিস্তৃত; এমনকি ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় স্তরেও এর প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। সদস্য সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রাদেশিক/আঞ্চলিক শিশু ও পরিবার সেবা মন্ত্রণালয়, শিশু ও পরিবার সেবা সংস্থা, আদিবাসী সংগঠন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা, যুব সেবা এবং ফেডারেল সরকারি দপ্তরসমূহ।

চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অব কানাডার সদস্যপদ এবং পরিষেবাগুলো সকল সংস্কৃতি, জাতিগত উৎস এবং সামাজিক শ্রেণীর সংগঠন ও ব্যক্তিদের জন্য উন্মুক্ত। সংস্থাটি কানাডার দুটি দাপ্তরিক ভাষায় (ইংরেজি ও ফরাসি) তাদের পরিষেবা, প্রকাশনা এবং তথ্য সরবরাহ করে থাকে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অব কানাডা প্রতিষ্ঠার বহু বছর আগে থেকেই কানাডায় শিশু ও যুব সেবার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা উত্তর আমেরিকার বৃহত্তম ও প্রাচীনতম শিশু কল্যাণ সংস্থা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অফ আমেরিকাতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯২০-এর দশকের শেষের দিক থেকেই কানাডীয় সংস্থা ও সরকারি দপ্তরগুলো এই আমেরিকান সংস্থার সদস্য ছিল।

১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বেশ কিছু কানাডীয় সদস্য চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অফ আমেরিকাকে অনুরোধ করে কানাডায় সদস্য সেবা আরও জোরদার করতে। এর ফলে তারা একজন কানাডীয় পরামর্শক নিয়োগ করে, যিনি সদস্য সহায়তা প্রদান এবং চাহিদাপত্র মূল্যায়নের কাজ করেন।

এই মূল্যায়নে দুটি প্রধান অগ্রাধিকার উঠে আসে: প্রথমত, একটি কানাডীয় জননীতি বা পাবলিক পলিসি সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা এবং দ্বিতীয়ত, কানাডায় একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী উপস্থিতি (সম্ভবত একটি কানাডীয় অফিসের মাধ্যমে) নিশ্চিত করার সম্ভাব্যতা যাচাই করা।

'কানাডিয়ান কাউন্সিল অন চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ুথ' এবং 'কানাডিয়ান চাইল্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের' সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অফ আমেরিকার কানাডীয় সদস্যরা শিশু সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে একটি বড় জননীতি সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অফ আমেরিকা পরিকল্পনা পর্যায়ে সাচিবিক দায়িত্ব এবং প্রাথমিক তহবিল প্রদান করে এবং "কানাডাস চিলড্রেন: দ্য প্রাইওরিটি ফর দ্য '৯০স" (কানাডার শিশু: ৯০-এর দশকের অগ্রাধিকার) নামক সিম্পোজিয়ামটি সমন্বয় করে, যা ১৯৯১ সালের অক্টোবরে অটোয়ায় অনুষ্ঠিত হয়।

এই সিম্পোজিয়ামটি জাতীয় পর্যায়ে আরও পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এর ধারাবাহিকতায় ফেডারেল রাজনীতিবিদ এবং ফেডারেশন অফ কানাডিয়ান মিউনিসিপালিটিসের সাথে জোট গঠন ও ফলো-আপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সম্মেলনের ফলস্বরূপ বেশ কিছু প্রাদেশিক জোট গঠিত হয়, যা আজও শিশু এবং তরুণদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।

১৯৯২ সালের জানুয়ারিতে অটোয়ায় চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অফ আমেরিকার একটি কানাডীয় অফিস খোলা হয়। এটি পাবলিক পলিসি এবং অ্যাডভোকেসির ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সক্ষম হয়, যা আমেরিকার সদর দপ্তর থেকে পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না।

১৯৯২ সালের মে মাসে কানাডীয় সদস্যরা একটি জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করে, যার সভাপতিত্ব করেন এডমন্টন ক্যাথলিক সোশ্যাল সার্ভিসসের মনসিনিয়র উইলিয়াম আরউইন। এর উদ্দেশ্য ছিল একটি স্বতন্ত্র কানাডীয় সংস্থা গড়ে তোলা।[] মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্যমান কানাডীয় সংস্থাগুলো থেকে পাওয়া যায় না এমন সদস্য সহায়তা প্রদান করা এবং কাজের দ্বৈততা বা পুনরাবৃত্তি রোধে অন্যান্য সংস্থার সাথে মিলে কাজ করা।

জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি 'চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অব কানাডা' প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে, যা কানাডীয় সদস্যদের নির্দিষ্ট কিছু পরিষেবা ও প্রকাশনা নিশ্চিত করতে তার আমেরিকান প্রতিপক্ষের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে। আমেরিকান সংস্থাটি কানাডীয় সংস্থাকে তিন বছরের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানে সম্মত হয়। ১৯৯৪ সালের ২১ এপ্রিল চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অব কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়।

২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সংস্থাটি বার্ষিক 'চাইল্ড ওয়েলফেয়ার লিগ অব কানাডা অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' প্রবর্তন ও প্রদান করে।[]

২০০৪ সালে সংস্থাটি কানাডিয়ান ফাউন্ডেশন ফর চিলড্রেন, ইয়ুথ অ্যান্ড দ্য ল বনাম কানাডা (এজি) মামলার প্রেক্ষাপটে শিশুদের মারধর বিরোধী প্রচারণায় সমর্থন জানায়।[]

২০১৪ সালে সংস্থাটি কানাডায় পালক সেবা বা ফস্টার কেয়ারের অবস্থার ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।[]

২০১৯ সালের এপ্রিলে লিগ তরুণ ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও মঙ্গলের প্রচারণায় ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করে।

২০১৯ সালে সংস্থাটি পুনর্মিলন বা রিকনসিলিয়েশনের ওপর একটি 'লার্নিং কমিউনিটি' তৈরি করে। এই কমিউনিটি উপকূল থেকে উপকূল পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত, যাদের শিশু কল্যাণ, আবাসন, স্বাস্থ্য এবং যুব বিচার ব্যবস্থায় বিশেষ মনোযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো সমবেত হয়ে কমিউনিটি এই উপলব্ধিতে পৌঁছায় যে 'ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন' (টিআরসি) এর কর্মপরিকল্পনা বা 'কলস টু অ্যাকশন' বাস্তবায়নের গতি অত্যন্ত ধীর। কানাডায় পুনর্মিলন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হলে অ-আদিবাসী মানুষদের অর্থপূর্ণ কাজে আরও বেশি অবদান রাখতে হবে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে লিগের উদ্যোগটি মূলধারার শিশু, যুব ও পরিবার সেবা সংস্থাগুলোর জন্য নিম্নলিখিত সুযোগগুলো তৈরি করছে:

১. ফার্স্ট নেশনস, ইনুইট এবং মেটিস জনগোষ্ঠীর সাথে সৃজনশীল, সম্মানজনক এবং সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার সক্ষমতা জোরদার করা।
২. তাদের নিজস্ব অনুশীলনের প্রতিফলন ঘটানো, সহকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শেখা এবং পুনর্মিলন উদ্যোগগুলোর প্রোটোটাইপ তৈরি ও মূল্যায়ন করা।
৩. তাদের সংস্থায় টিআরসি-র কর্মপরিকল্পনা এবং আদিবাসী জনগণের অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের ঘোষণা (ইউএনডিআরআইপি) কার্যকর করা।

২০২০ সালে কোভিড-১৯ অতিমারির সময় লিগ সেবাযত্নে থাকা তরুণদের বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়ার কারণে সহায়তা পরিষেবা বন্ধ না করার জন্য একটি স্থগিতাদেশ বা মোরাটোরিয়ামের পক্ষে সক্রিয় সমর্থন জানায়।

ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সেন্টার ফর রিসার্চ অন চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ', 'কানাডিয়ান ফস্টার ফ্যামিলিজ অ্যাসোসিয়েশন' এবং 'ইয়ুথ ইন কেয়ার কানাডার' সাথে কাজ করে লিগ 'ক্লোজ টাইস' সম্মেলনের পরিকল্পনা করে (যা মূলত ২০২০ সালের জুনে মন্ট্রিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল)। সিডব্লিউএলসির শীর্ষ তিনটি কৌশলগত অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে এই বহু-দিনের আয়োজনটির লক্ষ্য ছিল, পারিবারিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং একাত্মবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে সেবাযত্নে থাকা শিশু ও তরুণদের উন্নতিতে সহায়ক উদ্যোগগুলোকে তুলে ধরা। অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছিল, যার মধ্যে ফার্স্ট নেশনস, ইনুইট ও মেটিস শিশু ও পরিবার, অভিবাসী শিশু, ২এসএলজিবিটিকিউ+ তরুণ, প্রতিবন্ধী শিশু এবং সেবা থেকে বেরিয়ে আসা তরুণরা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়। সশরীরে সমবেত হওয়ার পরিবর্তে আয়োজক দল ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে একটি অনলাইন লার্নিং প্রোগ্রাম চালু করে। আট মাস ব্যাপী এই কর্মসূচিটি ওয়েবিনার উপস্থাপনা এবং জার্নাল প্রকাশনার একটি অনুপ্রেরণাদায়ক সিরিজের মাধ্যমে 'ক্লোজ টাইস' সম্মেলনের বিষয়বস্তুগুলোর ওপর একটি অর্থবহ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। লিগ ২০২১ সালে কানাডায় 'ইয়ুথ ইন কেয়ার' নেটওয়ার্কগুলোর জন্য এই যুব কর্মসূচির একটি সংস্করণ তৈরির পরিকল্পনাও করে।

সংস্থাটি দারিদ্র্য বিমোচন উদ্যোগগুলোতেও সমর্থন জানায়।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "উত্তরাঞ্চলের শিশু কল্যাণ সেবা" (পিডিএফ)। ২৭ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  2. "অ্যাডভাইজার, শীতকাল ২০১১" (পিডিএফ)
  3. "কানাডীয় আদালত: শিশুদের মারধর ঠিক আছে"www.cbsnews.com। ৩০ জানুয়ারি ২০০৪। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
  4. "কানাডাজুড়ে পালক পিতামাতার সংখ্যা হ্রাস একটি সংকটের দিকে যাচ্ছে"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
  5. "অটোয়া সিটিজেন, ডিসেম্বর ২০১৮"