চাঁদাবাজি
| ফৌজদারি আইন |
|---|
| অপরাধের উৎপাদন শর্ত |
| ফৌজদারি দায়ের পরিধি |
| অপরাধের গুরুতরতা |
|
| অপরিণত অপরাধ |
|
|
| ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ |
|
|
| যৌন অপরাধ |
|
|
| সম্পত্তির বিরুধে অপরাধ |
|
|
| ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে অপরাধ |
|
|
| জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ |
|
|
| প্রাণীর বিরুদ্ধে অপরাধ |
|
|
| রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ |
|
|
| বিবাদীপক্ষের জবাব |
| অন্যান্য পূর্বমীমাংসাভিত্তিক (যুক্তরাজ্যের "কমন" বা সাধারণ) আইনের এলাকা |
| প্রবেশদ্বার |

চাঁদাবাজি হলো জোরপূর্বক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে সুবিধা (যেমন: অর্থ, জিনিসপত্র বা নিয়মিত চাঁদা) আদায় করার একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সাধারণত ভবিষ্যতে মানসিক বা শারীরিক ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়া হয়। অধিকাংশ আইনি ব্যবস্থায় এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। চাঁদাবাজির বিপরীতে, ডাকাতি হলো তাৎক্ষণিক শারীরিক সহিংসতা বা তার হুমকির মাধ্যমে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া, যা সাধারণত একটি এককালীন বা আকস্মিক ঘটনা হিসেবে ঘটে থাকে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
চাঁদাবাজিকে কখনও কখনও "সুরক্ষা র্যাকেট" বলা হয় কারণ র্যাকেটররা প্রায়শই তাদের দাবিগুলিকে অনির্দিষ্ট অন্যান্য পক্ষের (বাস্তব বা কাল্পনিক) হুমকি থেকে "সুরক্ষা" পাওয়ার জন্য অর্থ প্রদান হিসাবে প্রকাশ করে; যদিও প্রায়শই, এবং প্রায় সর্বদা, এই ধরনের "সুরক্ষা" বলতে কেবল একই পক্ষের কাছ থেকে ক্ষতি থেকে বিরত থাকা বোঝায়, এবং "সুরক্ষা" প্রস্তাবে এটিই বোঝানো হয়েছে। চাঁদাবাজি সাধারণত সংগঠিত অপরাধ দ্বারা অনুশীলন করা হয়। কিছু বিচারব্যবস্থায়, অপরাধ করার জন্য প্রকৃতপক্ষে সুবিধা অর্জন করা প্রয়োজন হয় না, এবং সহিংসতার একটি হুমকি দেওয়া যা ভবিষ্যতের সহিংসতা বন্ধ করার জন্য অর্থ বা সম্পত্তি প্রদানের প্রয়োজনীয়তা বোঝায়, অপরাধ করার জন্য যথেষ্ট।[১] এক্স্যাকশন বলতে কেবল মাত্র জোরপূর্বক আদায় বা দাবিকৃত কিছু পাওয়াকেই বোঝানো হয় না,[২][ভালো উৎস প্রয়োজন] কিন্তু অতিরিক্তভাবে, এর আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞায়, এর অর্থ হল ব্যথা এবং যন্ত্রণা এর মতো কিছুর প্ররোচনা বা কাউকে অপ্রীতিকর কিছু সহ্য করা।[৩][ভালো উৎস প্রয়োজন]

চাঁদাবাজি পরিভাষাটি প্রায়শই রূপকভাবে সুদ বা মূল্যবৃদ্ধি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যদিও আইনত কোনওটিকেই চাঁদাবাজি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এটি প্রায়শই প্রতিদিনের এমন পরিস্থিতিতেও শিথিলভাবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে একজন ব্যক্তি অপরিহার্য পরিষেবা পেতে বা আইনি পরিণতি এড়াতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অন্যের কাছে ঋণী বোধ করেন। চাঁদাবাজি বা ব্ল্যাকমেইল কোনো ফৌজদারি অপরাধমূলক হুমকি, যেমন: সহিংসতার হুমকি দাবি করে না; বরং এটি কেবল চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো কাজ, অর্থ বা সম্পত্তি আদায়ের জন্য ব্যবহৃত একটি হুমকি মাত্র। এই ধরনের হুমকির মধ্যে রয়েছে পুলিশের কাছে অপরাধমূলক আচরণের (সত্য বা মিথ্যা) রিপোর্ট দায়ের করা, আপত্তিকর অবস্থায় চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করা ইত্যাদি।[১] [তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
আইনের দৃষ্টিতে চাঁদাবাজি বলতে রাজনৈতিক দুর্নীতিকে বোঝানো যেতে পারে, যেমন: সরকারি পদ ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়া অথবা ক্ষমতার প্রভাব খাটানো। তবে সাধারণত এই পরিভাষাটি ব্ল্যাকমেইল বা চাঁদাবাজির মাধ্যমে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের (প্রোটেকশন র্যাকেট) দিকটি মনে করিয়ে দেয়।[৪] চাঁদাবাজি শব্দটির রাজনৈতিক দুর্নীতিসংক্রান্ত অর্থ এবং এর অন্যান্য অর্থগুলোর মধ্যে যুক্তিপূর্ণ সম্পর্ক হলো: কোনো ব্যক্তি যদি তার সরকারি পদ বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ দাবি করে, তাহলে প্রকৃতপক্ষে সেটি ব্ল্যাকমেইল বা চাঁদাবাজিরই একটি রূপ। অর্থাৎ, “আপনার একটি নির্দিষ্ট সম্পদের বা সেবার প্রয়োজন রয়েছে; সরকার এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে আমার অফিসের মাধ্যমে; আর আমি আপনাকে এ সেবা দিতে আইনবহির্ভূত ও অন্যায়ভাবে অর্থ দাবি করব"।[৫] চাঁদাবাজিকে বলপ্রয়োগমূলক আদায় নামেও অভিহিত করা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
[সম্পাদনা]চাঁদাবাজি ডাকাতি থেকে আলাদা। ডাকাতির ক্ষেত্রে, সশস্ত্র হোক বা না হোক, অপরাধী তাৎক্ষণিকভাবে বল প্রয়োগের মাধ্যমে অথবা তাৎক্ষণিকভাবে বল প্রয়োগের ভয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সম্পত্তি কেড়ে নেয়। চাঁদাবাজি, যা কেবলমাত্র সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর মধ্যে মৌখিক বা লিখিত "প্ররোচনা" জড়িত এই ভয় যে ভুক্তভোগীর ইচ্ছা মেনে না চললে তার সাথে কিছু ঘটবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো যে চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে সর্বদা মৌখিক বা লিখিত হুমকি জড়িত,[১] যেখানে ডাকাতি নাও হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেল আইনে, বলপ্রয়োগ সহ বা ছাড়াই এবং অস্ত্র ব্যবহার সহ বা ছাড়াই চাঁদাবাজি করা যেতে পারে। অনেক রাজ্যের চাঁদাবাজি আইন লঙ্ঘন ফেডারেল র্যাকেটিয়ারিং প্রভাবিত এবং দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্থা আইন, ১৮ ইউএসসি এর ধারা ১৯৬১ এর অধীনে "র্যাকেটিয়ারিং কার্যকলাপ" গঠন করে।
ব্ল্যাকমেইল-এ, যা সর্বদা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত, চাঁদাবাজ একজন ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে এমন তথ্য প্রকাশ করার হুমকি দেয় যা সম্ভাব্যভাবে বিব্রতকর, সামাজিকভাবে ক্ষতিকারক, বা অপরাধমূলক হতে পারে যদি না অর্থ, সম্পত্তি বা পরিষেবার দাবি পূরণ করা হয়।[৬] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রতে, চাঁদাবাজি ফেডারেল অপরাধ হিসেবে কম্পিউটার সিস্টেম, ফোন, ডাকযোগে, অথবা আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য যেকোনো হাতিয়ার ব্যবহার করেও সংঘটিত হতে পারে।
যুক্তরাজ্য
[সম্পাদনা]ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস
[সম্পাদনা]ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে জোরপূর্বক সম্পত্তি এবং অর্থ আদায় করা ব্ল্যাকমেইল এর অপরাধ যা শারীরিক হুমকি সহ যেকোনো "অযৌক্তিক দাবি সহ হুমকি" কে অন্তর্ভুক্ত করে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় থেফ্ট অ্যাক্ট ১৯৬৮-এর ধারা ২১ এবং লার্সিনি অ্যাক্ট ১৯১৬-এর ধারা ২৯ ও ৩০-এ। একটি দলবদ্ধভাবে এই কাজ করা হলে তা ষড়যন্ত্রমূলক অপরাধ হিসেবেও গণ্য হতে পারে।
স্কটল্যান্ড
[সম্পাদনা]স্কটল্যান্ডে চাঁদাবাজি হলো একটি সাধারণ আইনগত অপরাধ। এর অর্থ হলো, অন্য কোনো ব্যক্তি থেকে অর্থ, সম্পত্তি বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের জন্য ক্ষতির হুমকি ব্যবহার করা। এখানে দাবিটি বৈধ (যেমন পাওনা টাকা চাওয়া) নাকি অবৈধ, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ, যদি অবৈধ হুমকির মাধ্যমে ক্ষতি করার ভয় দেখানো হয়, তাহলেও এই অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।[৭][৮]
সাইবার চাঁদাবাজি
[সম্পাদনা]সাইবার চাঁদাবাজি হলো যখন কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনও ধরণের বস্তুগত লাভের দাবিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে।[অস্পষ্ট][৯] সাধারণত, কোনও গোষ্ঠী বা ব্যক্তি কোনও কোম্পানিকে হুমকিমূলক ইমেল পাঠায় যাতে বলা হয় যে তারা তাদের কোম্পানি সম্পর্কে গোপনীয় তথ্য পেয়েছে এবং তারা একটি নিরাপত্তা ফাঁসের সুযোগ নেবে অথবা এমন একটি আক্রমণ চালাবে যা কোম্পানির নেটওয়ার্কের ক্ষতি করবে। ইমেলের মাধ্যমে প্রেরিত বার্তায় সাধারণত আক্রমণ প্রতিরোধের বিনিময়ে অর্থ দাবি করা হয়।[১০][১১]
মামলাসমূহ
[সম্পাদনা]মার্চ ২০০৮ সালে, আন্তঃরাজ্য যোগাযোগের মাধ্যমে চাঁদাবাজির ফেডারেল অভিযোগে অ্যান্থনি ডিগাটি গ্রেপ্তার হন। ডিগাটি নিউ ইয়র্ক লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির একটি ভেরিয়েবল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসিতে ৫০,০০০ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন এবং এর বিনিময়ে ১,৯৮,৩০৩.৮৮ ডলার ফেরত চেয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি তার এই দাবি মেনে না নিলে তিনি ৬০ লাখ ই-মেইল স্প্যাম পাঠানোর হুমকি দেন। তিনি ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এমন একটি ডোমেইন নিবন্ধন করেন যার ইউআরএল-এ নিউ ইয়র্ক লাইফের নাম যুক্ত ছিল, যাতে কোম্পানি সম্পর্কে মিথ্যা বিবৃতি প্রচার করা যায় এবং তিনি তার দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০ লাখ ডলার করেন।[১২] প্রসিকিউটরদের মতে, ডিগাটির উদ্দেশ্য কাউকে তথ্য জানানো বা সচেতন করা ছিল না, বরং তিনি "নিউ ইয়র্ক লাইফের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে এবং কোম্পানির লাখ লাখ ডলারের রাজস্ব ক্ষতি করতে" চেয়েছিলেন।[১৩] এরপর নিউ ইয়র্ক লাইফ ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সাথে যোগাযোগ করে এবং ডিগাটিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১ সালে, স্পেনের পুলিশ এমন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে, যে তার চুরি করা গ্রাহকের তথ্যের ভিত্তিতে নিনটেন্ডোকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিল। লোকটি ৪,০০০ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে নিনটেনডোর স্প্যানিশ শাখা নিনটেনডো আইবেরিকাতে ইমেইল পাঠায় এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে তথ্য সুরক্ষায় অবহেলার অভিযোগ তোলে। সে কোম্পানিকে হুমকি দেয় যে, তার দাবি মানা না হলে সে এই তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেবে এবং স্প্যানিশ ডেটা এজেন্সির কাছে অভিযোগ করবে। নিনটেনডো তার দাবি উপেক্ষা করার পর, সে একটি ইন্টারনেট ফোরামে কিছু তথ্য প্রকাশ করে দেয়। নিনটেনডো কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পর ঐ ব্যক্তিকে মালাগা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। লোকটি নিনটেনডোর কাছে কী দাবি করেছিল, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।[১৪]
৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে, অ্যামাজন ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের মালিক এবং বর্তমানে দ্য ওয়ার্ল্ডস বিলিয়নেয়ার্স জেফ বেজোস অভিযোগ করেন যে, ন্যাশনাল এনকোয়ারার এবং এর মূল কোম্পানি আমেরিকান মিডিয়া, ইনক. (এএমআই) তাকে চাঁদাবাজি র উদ্দেশ্যে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছে। তারা হুমকি দিয়েছিল যে, তিনি যদি প্রকাশ্যে এই কথা স্বীকার না করেন যে "এএমআই-এর প্রতিবেদনগুলো রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা রাজনৈতিক শক্তি দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কোনো প্রমাণ বা ভিত্তি তার জানা নেই", তবে তারা তার নগ্ন ছবি প্রকাশ করে দেবে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন][১৫] এই হুমকিটি ছিল ট্যাবলয়েডটির বিরুদ্ধে বেজোসের তদন্তের একটি প্রতিক্রিয়া। ট্যাবলয়েডটি লরেন সানচেজের সাথে তার সম্পর্কের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছিল, যার জেরে ঐ বছরের ৯ জানুয়ারি বেজোস এবং তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি তাদের বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন।[১৬] বেজোস তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন এবং মিডিয়ামে এই হুমকির কথা প্রকাশ করে দেন।[১৭]
২১ অক্টোবর ২০২০ সালে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান 'ভাস্তামো' থেকে প্রায় ৪০,০০০ রোগীর রেকর্ড চুরি হয়েছিল।[১৮][১৯][২০] জোরপূর্বক অর্থ আদায়কারীরা ৪০টি বিটকয়েন দাবি করে—যা সেসময় প্রায় ৪,৫০,০০০ ইউরোর সমতুল্য ছিল—অন্যথায় চুরি হওয়া তথ্যগুলো প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। দাবি আদায়ের জন্য চাপ বাড়াতে তারা একটি টর মেসেজ বোর্ডে প্রতিদিন ১০০ জন রোগীর রেকর্ড প্রকাশ করতে থাকে। ফাঁস হওয়া রোগীর এই রেকর্ডগুলোতে রোগীদের পুরো নাম, বাড়ির ঠিকানা, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর এবং প্রতিটি সেশনের থেরাপিস্ট ও ডাক্তারদের লেখা মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১৯] কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হওয়ার পর, অপরাধীরা সরাসরি ভুক্তভোগীদের ইমেইল পাঠিয়ে দাবি করে যে, তাদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০০ ইউরো অথবা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৫০০ ইউরো পরিশোধ করতে হবে।[২১] কোম্পানিটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক অপর্যাপ্ততা পরিলক্ষিত হয়: সংবেদনশীল তথ্যগুলো এনক্রিপ্ট করা ছিল না[২২] এবং দৃশ্যত সিস্টেমের রুট পাসওয়ার্ডটিও অত্যন্ত দুর্বল ছিল।[২৩] নভেম্বর ২০১৮ সালে, সাইবার অনুপ্রবেশকারীরা প্রথমবারের মতো রোগীদের এই রেকর্ডগুলোতে প্রবেশ করেছিল, অথচ এই নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো ২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি এই সাইবার আক্রমণটিকে "অত্যন্ত নির্মম" বলে আখ্যায়িত করেন।[২০]
অনুরূপ অপরাধসমূহ
[সম্পাদনা]- ব্যাজার গেম: এখানে লক্ষ্যবস্তুকে (যেমন: কোনো বিবাহিত ব্যক্তি) কৌশলে একটি আপত্তিকর অবস্থায় ফেলা হয়, যাতে পরবর্তীতে তাকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা যায়।
- ক্লিপ জয়েন্ট : এটি এমন এক ধরণের বিনোদন কেন্দ্র (সাধারণত স্ট্রিপ ক্লাব), যেখানে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করে ভেতরে নেওয়া হয় এবং নিম্নমানের সেবা বা পণ্যের বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। অনেক সময় কোনো সেবা না দিয়েই টাকা রাখা হয়। হাস্যরসাত্মক চলচ্চিত্র ‘পর্কিস’-এ এর একটি উদাহরণ দেখানো হয়েছে।
- জবরদস্তি: ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, প্রতারণা বা অন্য কোনো চাপের মুখে কোনো ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে বাধ্য করা বা কোনো কাজ থেকে বিরত রাখাকেই জবরদস্তি বলা হয়। এগুলো মূলত ভুক্তভোগীকে কাঙ্ক্ষিত উপায়ে কাজ করাতে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- প্রতারণা: এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত (যেমন: কন, গ্রিফট, স্ক্যাম বা সোয়াইন্ডল)। মূলত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিশ্বাস অর্জন করে তাদের সাথে প্রতারণা করার প্রচেষ্টাকেই এটি বোঝায়।
- ক্রিপ্টোভায়রোলজি: এটি একটি সফটওয়্যার স্ক্যাম যেখানে সর্বজনীন-চাবি ক্রিপ্টোগ্রাফি সিস্টেমের মাধ্যমে ভুয়া ‘চাবি’ তৈরি করে ব্যবহারকারীর ডেটা লক করে দেওয়া হয়। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত সেই ডেটা আর উদ্ধার করা যায় না।
- ডগন্যাপিং: মালিকের কাছ থেকে কোনো কুকুর (সাধারণত দামী বা বিশুদ্ধ জাতের কুকুর) চুরি করার অপরাধ। এ ধরনের কুকুরের বাজারমূল্য কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
- চড়া সুদে ঋণদান: চড়া সুদে ঋণদান বলতে এমন ব্যক্তি বা সংস্থাকে বোঝায় যারা কোনো জামানত ছাড়াই উচ্চ সুদে ঋণ দেয়। এই ঋণের টাকা আদায়ের জন্য প্রায়ই ব্ল্যাকমেইল বা সহিংসতার হুমকি ব্যবহার করা হয়।
- মাত্রাতিরিক্ত দাম নির্ধারণ: এটি বিক্রেতার দ্বারা কোনো পণ্যের অন্যায্য উচ্চমূল্য নির্ধারণ করাকে বোঝায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশে আইনিভাবে এটি একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যা বিশেষ করে জরুরি অবস্থার সময় কার্যকর করা হয়।
- র্যাকেট: প্রতারণার মাধ্যমে কোনো সমস্যা সমাধানের পরিষেবা দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া। অথচ বাস্তবে সেই সমস্যার কোনো অস্তিত্ব নেই, কিংবা ঐ পরিষেবায় সমস্যার কোনো সমাধান হবে না।
- সেক্সটোরশন: কাউকে বাধ্য করে তার যৌনতাপূর্ণ ছবি বা ভিডিও হাতিয়ে নেওয়া অথবা তাকে দিয়ে কোনো যৌনকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করা।
- সন্ত্রাসবাদ: ভয়ভীতি বা ত্রাস সৃষ্টি করার নীতি। এটি সাধারণত এমন একটি আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট আদর্শিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য করা হয় (সাধারণত এটি ব্যক্তিগত লাভ বা একাকী আক্রমণের চেয়ে ভিন্ন)। এতে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো সন্ত্রাসবাদের কোনো সর্বজনীন ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে পারেনি।
- টাইগার অপহরণ: কোনো ব্যক্তিকে জিম্মি করে তার প্রিয়জন বা পরিচিত কাউকে কোনো নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধ্য করা। যেমন: দোকানদারের সন্তানকে জিম্মি করা যাতে দোকানদার সিন্দুক খুলে দেয়। শিকারকে বাঘের মতো আগে থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয় বলে এর নাম এমন রাখা হয়েছে। এর সাথে প্রায়ই মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 লিন্ডগ্রেন, জেমস (এপ্রিল ১৯৮৪)। "ব্ল্যাকমেইলের পরস্পরবিরোধিতা উন্মোচন"। কোলাম্বিয়া ল' রিভিউ। ৮৪ (৩): ৬৭০–৭১৭। ডিওআই:10.2307/1122502। জেস্টোর 1122502।
- ↑ "Exaction - এক্স্যাকশনের সংজ্ঞা ফ্রি অনলাইন অভিধান, থিসরাস ও বিশ্বকোষে"। Thefreedictionary.com। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুন ২০১২।
- ↑ "নির্ভুলের সংজ্ঞা - অভিধান - এমএসএন ইনকার্টা"। ইনকার্টা অভিধান। ১ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "চাঁদাবাজি"। Investopedia (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২১।
- ↑ "Extortion - Essential Elements and the Broader Reach of RICO"। Stimmel Law।
- ↑ "ব্ল্যাকমেইল, গোপনীয়তা এবং চুক্তির স্বাধীনতা"। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া ল’ রিভিউ। ১৪১ (৫): ১৮১৭–১৮৪৭। ১৯৯২। ডিওআই:10.2307/3312575। জেস্টোর 3312575।
- ↑ দ্য স্কটিশ বিট অফিসার'স কম্প্যানিয়ন (৬ষ্ঠ সংস্করণ)। জেইন্স পুলিশ রিভিউ। ২৯ জুন ২০১০। পৃ. ৮৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০৭১০৬-২৯২৮-৯।
- ↑ জুরি ম্যানুয়াল (২০১৮ সংস্করণ)। পার্লামেন্ট হাউস, এডিনবর্গ: জুডিশিয়াল ইনস্টিটিউট ফর স্কটল্যান্ড। ৯ নভেম্বর ২০১৮। পৃ. ৪৬.১। ৩০ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১৯।
- ↑ সালকোভস্কি, অ্যাডাম জে.। "সাইবার-চাঁদাবাজি: সার্ভার কক্ষে হাতির সঙ্গে সম্পর্কিত কর্তব্য ও দায়"। এসএসআরএন ইলেকট্রনিক জার্নাল। ২০০৭: ১০১–১৪৪।
- ↑ "কম্পিউটার নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও গোপনীয়তা"। ১১ অক্টোবর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "ব্র্যান্ড.কম-এর মাইক জামুটো Meetup.com-এ চাঁদাবাজি নিয়ে আলোচনা করেছেন"। ডেইলিগ্লোব.কম। ৫ মার্চ ২০১৪। ১২ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০১৪।
- ↑ "Alleged Cyber-Extortionist Indicted: Feds Say Anthony Digati Tried To Chill, Defame Business On Internet To Extract $200,000 In Bizarre Social-Networking Plot"। Patrickpretty.com। ২২ এপ্রিল ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০১৪।
- ↑ Gendar, Alison (৮ মার্চ ২০১০)। "Anthony Digati arrested for allegedly threatening New York Life with email spam attack"। NY Daily News। ২৯ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০১৪।
- ↑ Woollacott, Emma (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১)। "Police arrest man over Nintendo extortion"। TG Daily। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০১৪।
- ↑ Goldman, David (৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "Amazon founder Jeff Bezos says National Enquirer publisher tried to extort him | CNN Business"। CNN (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ Bezos, Jeffrey (৯ জানুয়ারি ২০১৯)। "Jeff Bezos announces divorce from MacKenzie Bezos after 25 years together"। The Washington Post।
- ↑ Bezos, Jeffrey (৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "No thank you, Mr. Pecker"। Medium। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
- ↑ "Psychotherapy centre's database hacked, patient info held ransom"। Yle Uutiset (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২০।
- 1 2 "Extortionist publishes more sensitive data on psychotherapy centres' patients"। Yle Uutiset (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২০।
- 1 2 Sipilä, Jarkko (২৭ অক্টোবর ২০২০)। "Therapy patients in Finland blackmailed after data breach"। CNN। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ "Psychotherapy centre data breach victims receive extortion emails"। Yle Uutiset (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ "Tietoturva | Terapiapotilaisiin kohdistunut tietomurto on voinut vaarantaa tuhansien ihmisten tietosuojan, kyseessä on täysin "poikkeuksellinen tapahtuma""। Helsingin Sanomat (ফিনিশ ভাষায়)। ২২ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ "Kiristäjä julkaisi suomalaisten arkaluontoisia terapiakeskusteluja – vaatii 450 000:ta euroa tai jatkoa seuraa"। Ilta-Sanomat (ফিনিশ ভাষায়)। ২১ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২০।