চলচ্চিত্র সমালোচনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

চলচ্চিত্র সমালোচনা (Film criticism) হচ্ছে চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্র মাধ্যমের বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়ন। এই ধারণাটি প্রায়ই চলচ্চিত্র পর্যালোচনা (film review) এর সাথে বিনিময়যোগ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একটি চলচ্চিত্র পর্যালোচনা ক্রেতাদের জন্য একটি সুপারিশ হিসেবে কাজ করে। যাই হোক, সকল চলচ্চিত্র সমালোচনাই পর্যালোচনার আকার নেয় না।

সাধারণভাবে, চলচ্চিত্র সমালোচনাকে দুটো শ্রেণীবিভাগে ভাগ করা যায়: সাংবাদিক সমালোচনা (journalistic criticism) যা সংবাদপত্র, পত্রিকা এবং অন্যান্য জনপ্রিয় গণমাধ্যমে নিয়মিত ছাপা হয়; এবং চলচ্চিত্র পণ্ডিতদের দ্বারা কেতাবি সমালোচনা, যেখানে এই চলচ্চিত্র পণ্ডিতগণ চলচ্চিত্র তত্ত্বগুলো সম্পর্কে জানেন এবং তাদের লেখাগুলো একাডেমিক জার্নালে প্রকাশিত হয়। কেতাবি চলচ্চিত্র সমালোচনা খুব কমই পর্যালোচনার আকার লাভ করে, বরং এটি চলচ্চিত্রের বিশ্লেষণ, এর জঁরার ইতিহাসে চলচ্চিত্রটির অবস্থা, বা কেবলই চলচ্চিত্রের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করে।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে চলচ্চিত্রের আবির্ভাব হয়। ১৯০০ এর দশকের প্রথম দিকে চলচ্চিত্রের প্রথমদিকের শৈল্পিক সমালোচনার আবির্ভাব হয়। চলচ্চিত্র সমালোচনার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় দ্য অপটিক্যাল ল্যান্টার্ন এণ্ড সিনেমাটোগ্রাফ নামক সাময়িকীতে, পরবর্তীতে ১৯০৮ সালে বায়োস্কোপ পত্রিকা চলচ্চিত্র সমালোচনা প্রকাশ করে।[২]

প্রাচীনকাল থেকে শিল্প হিসেবে সংগীত, সাহিত্য, চিত্রকর্মের অস্তিত্ব থাকলেও চলচ্চিত্র তুলনামূলকভাবে নতুন ধরণের শিল্প। এজন্য চলচ্চিত্র নিয়ে প্রথমদিককার রচনাগুলোতে এটা নিয়েই যুক্তি দেখানো হত যে চলচ্চিত্রকেও শিল্প হিসেবে সম্মান করা যেতে পারে। ১৯১১ সালে রিকশিওত্তো ক্যানুডো একটি ইসতেহার লেখেন যেখানে চলচ্চিত্রকে ষষ্ঠ শিল্প (পরবর্তীতে "সপ্তম শিল্প") হিসেবে দাবি করা হয়।[৩] এরপরও কয়েক দশক ধরে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত শিল্পের চেয়ে চলচ্চিত্রকে কম সম্মানের শিল্প হিসেবে মূল্যায়ন করা হত।[৪]

১৯২০ এর দশকে সমালোচকগণ চলচ্চিত্রকে কেবলমাত্র বিনোদনের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে, সেই সাথে এর গুণ ও মূল্যের জন্যেও বিশ্লেষণ করতেন। চলচ্চিত্রের বর্ধিষ্ণু জনপ্রিয়তার জন্য প্রধান প্রধান সংবাদপত্র চলচ্চিত্র সমালোচকদের ভাড়া করতে শুরু করে।[২] ১৯৩০ এর দশকে চলচ্চিত্র শিল্পে চলচ্চিত্র শিল্পীদের নিয়ে তারকাখ্যাতি এবং সেলিব্রিটি এর ধারণা তৈরি হয়, যার ফলে চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বা একধরনের ঘোর তৈরী হয়। গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে চলচ্চিত্র শিল্পীদের সাথে চলচ্চিত্র সমালোচকদেরকেও লাল গালিচায় দেখা যেত।

১৯৪০ এর দশকে চলচ্চিত্র সমালোচনার এক নতুন ধরনের আবির্ভাব হয়। এরকম রচনা আসতে শুরু করে যেখানে একটি বৈশিষ্ট্যসূচক আকর্ষণের সাথে চলচ্চিত্রের বিশ্লেষণ করা হত যাতে সমালোচকদের কথাগুলো পাঠকদেরকে প্ররোচিত করে।[২] চলচ্চিত্র সমালোচকদের এই রীতিই চলচ্চিত্র সমালোচনাকে মূলধারায় নিয়ে আসে, জনপ্রিয় পত্রিকায় সমালোচকগণ মনোযোগ কাড়তে থাকেন। এরফলে চলচ্চিত্র পর্যালোচনা এবং সমালোচকদের কথা বেশিরাগ মুদ্রন মাধ্যমে চলে আসে। পরের দশকগুলোতে চলচ্চিত্র সমালোচকদের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে যায়, এবং এই শিল্পে জেমস এজি, এন্ড্রু স্যারিস, পলিন কায়েল এর মত নামগুলো খুব বিখ্যাত ও পরিচিত হয়। বর্তমান সময়ের বিখ্যাত চলচ্চিত্র সমালোচকদের মধ্যে রয়েছেন রজার এবার্ট এবং পিটার ট্রেভারস

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Reviews vs Criticism - Film & Television Studies"The University of Vermont Libraries Research Guides। অক্টোবর ১৫, ২০১৭। অক্টোবর ৬, ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৩, ২০১৭ 
  2. Battaglia, James (মে ২০১০)। "Everyone's a Critic: Film Criticism Through History and Into the Digital Age"Senior Honors Theses: 32 – Digital Commons-এর মাধ্যমে। 
  3. Giovanni Dotoli, Ricciotto Canudo ou le cinéma comme art, Preface by Jean-Louis Leutrat, Fasano-Paris, Schena-Didier Érudition, 1999
  4. "How the Internet Led to the Decline of Female Film Critics"। The Atlantic। ২০১৫-১২-২৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-২১