বিষয়বস্তুতে চলুন

চন্দ্রাবতী শিওরান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চন্দ্রাবতী শিওরান
সংসদ সদস্য, লোকসভা
কাজের মেয়াদ
১৯৭৭  ১৯৮০
পূর্বসূরীজানা নেই
উত্তরসূরীবংশীলাল
নির্বাচনী এলাকাভিওয়ানি
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৯২৮-০৯-০৩)৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৮
দালাওয়াস গ্রাম, চারখি দাদরি,
মৃত্যু১৫ নভেম্বর ২০২০(2020-11-15) (বয়স ৯২)
পণ্ডিত বি.ডি. শর্মা পিজিআইএমএস রোহতক
রাজনৈতিক দলভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
অন্যান্য
রাজনৈতিক দল
জনতা পার্টি, লোকদল, বিশাল হরিয়ানা পার্টি
সন্তানআমান শিওরান ডালাওয়াস (পাতেলা)

চন্দ্রাবতী শিওরান (৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৮ - ১৫ নভেম্বর ২০২০) ছিলেন একজন আইনজীবী, ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং কর্মী। তিনি একজন এমপি (লোকসভা সংসদ সদস্য) ও সেইসঙ্গে ৬ বারের বিধায়ক এবং পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

প্রাথমিক জীবন

[সম্পাদনা]

চন্দ্রাবতী শিওরান ১৯২৮ সালে হাওলদার হাজারীরাম শিওরানের পুত্র মোহরসিংয়ের জাট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তার মা ছিলেন রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার ঘরদানাকালান গ্রামের ধৌলাবাই। তার মা ধৌলাবাই ১৯৩২ সালে মারা যান, সেইসময় চন্দ্রাবতীর বয়স ছিল চার বছর। তার বাবা হাওলদার হাজারীরাম ১৯৪৪ সালে ৫৭ বছর বয়সে মারা যান, সেইসময় চন্দ্রাবতী পিলানিতে শিক্ষাগ্রহণ করছিলেন। এটি লক্ষণীয় যে, পরিবারের ঐতিহ্য অনুসারে শৈশবেই তাঁর বড়বোনের এবং তাঁর বিয়ে হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু তাঁর বয়স কম হওয়ায় তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয়নি। কয়েকবছর পর তাঁর স্বামী মারা যান, কিন্তু চন্দ্রাবতী তখন এই তথ্যগুলি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

রাজনৈতিক জীবন

[সম্পাদনা]

ভিওয়ানির ডালাওয়াস গ্রামের বাসিন্দা চন্দ্রাবতীর কৃতিত্বের তালিকা বেশ বড়।তিনি ছিলেন রাজ্যের প্রথম মহিলা সংসদ সদস্য (১৯৭৭), হরিয়ানার প্রথম মহিলামন্ত্রী (১৯৬৪-৬৬) এবং প্রথম মহিলা বিরোধী দলীয়নেতা (১৯৮২-৮৫)। তিনি রাজ্যের প্রথম নিবন্ধিত আইনজীবীও ছিলেন। পরবর্তীতে চন্দ্রাবতী রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।১৯৫৪ সালে তিনি অবিভক্ত পাঞ্জাবের বাধরা থেকে বিধায়ক হন। ১৯৮২সালে, তিনি আবার লোকদলের টিকিটে এই এলাকা থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ এবং ১৯৭২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কংগ্রেসের টিকিটে লোহারু থেকে জয়ী হন।১৯৭৪ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বংশীলাল কর্তৃক মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর চন্দ্রাবতী কংগ্রেস ত্যাগ করেন। পরবর্তীকালে, তিনি কংগ্রেস বিরোধী শক্তিতে (লোকদল, জনতা পার্টি এবং পরে জনতা দল) যোগ দেন।চন্দ্রাবতীর আত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী কানওয়ারপাল জুন স্মরণ করেন যে ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে খুব পছন্দ করতেন এবং তাঁকে চন্দ্রো বলে ডাকতেন। "চন্দ্রাবতী একবার আমাকে বলেছিলেন যে ইন্দিরাগান্ধী তাঁকে কংগ্রেসে ফিরে যেতে বলেছিলেন এবং মুখ্যমন্ত্রী পদের আশ্বাস দিয়েছিলেন।কিন্তু চন্দ্রাবতী জনতা পার্টির সাথেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন," তিনি বলেন।

চন্দ্রাবতী হরিয়ানা বিধানসভার প্রথম মহিলা সদস্য এবং হরিয়ানার প্রথম মহিলা লোকসভা সদস্য ছিলেন।[]তিনি ১৯৯০ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৯০ সালের ১৮ই ডিসেম্বর পর্যন্ত পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন।[] এর আগে, তিনি হরিয়ানা সরকারের একজন মন্ত্রী (১৯৬৪ - ৬৬ এবং ১৯৭২ - ৭৪) ছিলেন।[]১৯৭৭ সালে, তিনি জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে ভিওয়ানি আসনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বংশীলালকে পরাজিত করেন এবং ষষ্ঠ লোকসভায় সাংসদ নির্বাচিত হন।[]

১৯৬৪ - ৬৬ তিনি হরিয়ানার মন্ত্রী এবং ১৯৭২ - ৭৪ সালে প্রতিমন্ত্রী, ১৯৭৭ - ৭৯ সালে জনতাপার্টির সভাপতি এবং ১৯৮২ - ৮৫ সালে বিরোধী দলীয় নেতা এবং পরে হরিয়ানার একজন সিনিয়র ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নেতা ছিলেন।[]তিনি ১৯৫৪ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন পেপসুর মহেন্দ্রগড় জেলার বাধরা আসন থেকে তাঁর প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়ী হন। তিনি পেপসু সরকারের (পাতিয়ালা এবং পূর্বপাঞ্জাব রাজ্য ইউনিয়ন) সংসদীয় সচিব ছিলেন।[] তিনি ১৯৬২ সালে এমএলএ নির্বাচিত হন।তিনি ১৯৬৮ সালে (লোহারু) বিধায়ক নির্বাচিত হন (তখন হিসার জেলায় ছিল)।[] ১৯৭২ সালে তিনি আবারও বিধায়ক নির্বাচিত হন।[] তিনি ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত হরিয়ানার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিধানসভায় থাকাকালীন, তিনি প্রথমে পাঞ্জাবে এস্টিমেট কমিটিতে সদস্য এবং পরে হরিয়ানায় এর চেয়ারপারসন হিসেবে কাজ করেছিলেন।তিনি হরিয়ানায় লাইব্রেরি কমিটিরও চেয়ারপারসন ছিলেন।তিনি ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত পাঞ্জাবে এবং পরে হরিয়ানায় প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছিলেন।

তিনি ১৯৭৭ সালে বংশীলালকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো লোকসভায় নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত এর সদস্য ছিলেন।[] এইসময়কালে, তিনি লোকসভায় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পাবলিক আণ্ডারটেকিং কমিটির সদস্যও ছিলেন।

তিনি ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন হরিয়ানা জনতার সভাপতি ছিলেন। ১৯৮২ সালে লোকদল প্রার্থী হিসেবে তিনি পঞ্চমবারের মতো বিধায়ক নির্বাচিত হন।[] চন্দ্রাবতী ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ করেছিলেন।[] ১৯৯১ সালে জনতা দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করে তিনি লোহারু থেকে ষষ্ঠবারের বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন।[] তিনি হরিয়ানার জন্য ন্যায়বিচার পেতে চৌধুরী দেবীলালের নেতৃত্বে পরিচালিত নয়াযাত্রায় (ন্যায় বিচারের জন্য পদযাত্রা) সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি ১৩টি নির্বাচনে লড়েছেন: ২টি এমপি এবং ১১টি বিধানসভার, যার মধ্যে তিনি ৭টি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।

মৃত্যুসংবাদ

[সম্পাদনা]

পুদুচেরির প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর চন্দ্রাবতী রবিবার (১৫ই নভেম্বর ২০২০) সকালে রোহতকের পিজিআইএমএস-এ মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২।তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।

চণ্ডীগড়: মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর এবং বিরোধীদলনেতা ভূপিন্দরসিং হুডা পুদুচেরির প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর চন্দ্রাবতীর মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের প্রতিসমবেদনা জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. PTI (১৫ নভেম্বর ২০২০)। "Haryana's first woman MP Chandrawati passes away"The Hindu (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  2. "PONDICHERRY LEGISLATIVE ASSEMBLY"। National Informatics Centre। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১২
  3. "Worldwide Guide to Women in Leadership"। guide2womenleaders। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১২
  4. "sixth Loksabha Members"। National Informatics Center। ২১ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১২
  5. টেমপ্লেট:ওয়েবউদ্ধৃতি
  6. 1 2 3 4 5 6 7 "Chandrawati: First woman MLA from Haryana"Tribune India। সংগ্রহের তারিখ ৬ফেব্রুয়ারি২০২৬ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |সংগ্রহের-তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)