চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

স্থানাঙ্ক: ২২°১৮′৪৮″ উত্তর ৯১°৪৭′৫৯″ পূর্ব / ২২.৩১৩৪৫৪° উত্তর ৯১.৭৯৯৬১৯° পূর্ব / 22.313454; 91.799619
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ
সংক্ষেপেসিপিএ
সদরদপ্তরবন্দর ভবন, ডাকবাক্স: ২০১৩, চট্টগ্রাম - ৪১০০
স্থানাঙ্ক২২°১৮′৪৮″ উত্তর ৯১°৪৭′৫৯″ পূর্ব / ২২.৩১৩৪৫৪° উত্তর ৯১.৭৯৯৬১৯° পূর্ব / 22.313454; 91.799619
ওয়েবসাইটhttp://www.cpa.gov.bd
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারের একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। এটি দেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর তথা চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত।[১] বাংলাদেশ সরকারের নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অংশ হিসেবে একজন চেয়ারম্যান ও চার জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি বোর্ড চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।[২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চট্টগ্রাম, মংলা এবং পায়রা বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর হিসেবে বিবেচিত। চট্টগ্রাম বন্দরে মূলতঃ আমদানী নির্ভর কন্টেইনারবাহী পণ্যাদি সরাসরি বন্দর এবং বহিঃনোঙ্গরে খালাস করা হয়। এটি সিঙ্গাপুর, হংকং, মালয়েশিয়ার পেনাংসহ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় সামুদ্রিক বন্দরসমূহের মধ্যে অন্যতম কর্মব্যস্ত আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর।

ইংরেজ শাসন আমলের শুরুর দিকে ইংরেজ ও দেশীয় ব্যবসায়ীরা বার্ষিক এক টাকার বিনিময়ে নিজ ব্যয়ে কর্ণফুলি নদীতে কাঠের জেটি নির্মাণ করেন। পরে ১৮৬০ সালে প্রথম দুটি অস্থায়ী জেটি নির্মিত হয়। ১৮৭৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কমিশনার গঠিত হয়। ১৮৮৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে দুটি মুরিং জেটি নির্মিত হয় ও ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর কমিশনার কার্যকর করা হয়। ১৮৯৯-১৯১০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কমিশনার ও আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে যুক্তভাবে চারটি স্থায়ী জেটি নির্মাণ করে। ১৯১০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে রেলওয়ে সংযোগ স্থাপিত হয়। ১৯২৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দরকে বড় বন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর এবং পরবর্তীতে বন্দরে ট্যারিফ বৃদ্ধি পাওয়ার পর, ১৯৬০ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বন্দর কমিশনারকে চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাস্ট হিসেবে রূপান্তর করা হয়। ক্রমাগত সম্প্রসারণ এবং কার্যকর শাসনের অভাবের কারণে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর বন্দরকে স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা দেওয়া হয় ও ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাস্টকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে পরিণত করা হয় (সূত্রঃ https://bn.wikipedia.org/wiki/চট্টগ্রাম_বন্দর)।

চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিষ্ঠার পর প্রথমে মাঝি (শ্রমিক সর্দার) এবং মেট (সহকারী সর্দার)-এর অধীনে সনাতন পদ্ধতিতে ব্যক্তি উদ্যোগে শ্রমিক নিয়োজিত করে 'চট্টগ্রাম বন্দর ডক শ্রমিক বুকিং নির্বাহী সংস্থা'র অধীনে শ্রমিক নেতাদের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থিত বিভিন্ন জেটিতে মালামাল খালাস করে প্রথমে তৎসংলগ্ন বিভিন্ন শেডে সংরক্ষণ করে পরে রেলওয়াগন,আন্তঃজেলা ট্রাক সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আমদানীকৃত পণ্যাদি প্রেরণ করা হতো। বিংশ শতাব্দীর সত্তর দশকের শেষ দিকে চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড পরিমাণ মালামাল উঠা-নামার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার জাতীয় সংসদে এক প্রস্তাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানায় এবং দেশে বিদ্যমান সকল নৌ বন্দরের মানোন্নয়ন সংক্রান্ত বিল পাস করা হয়। অতঃপর 'চট্টগ্রাম বন্দর ডক শ্রমিক বুকিং নির্বাহী সংস্থা'-কে সরকারীকরণ (স্বায়ত্তশাসিত) করে চ.ব.ক সাংগঠনিক বিধিমালার আওতায় ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অঙ্গ সংস্থা হিসেবে 'চট্টগ্রাম ডক শ্রমিক ব্যবস্থাপনা বোর্ড'-এ উন্নীত করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মাননীয় চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে এই সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন। পাশাপাশি চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষের অঙ্গ সংস্থারূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মংলা ডক ওয়ার্কাস ম্যানেজমেন্ট বোর্ড। ২০০৬ সালে এক এগারো পরবর্তী তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক ২০০৮ সালের জুন মাসে চট্টগ্রাম ডক শ্রমিক ব্যবস্থাপনা বোর্ড বিলুপ্ত ঘোষণা করে কয়েকশত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরকারী চাকুরী বিধিমালা (আত্মীকরণ) এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চাকুরী প্রবিধানমালার অধীনে আত্মীকরণ করা হয়। পরবর্তিতে শ্রমিকদের যথাযথ পরিচালনা-ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পৃথক শ্রম দপ্তর গঠন করা হয়। (সূত্রঃ https://www.linkedin.com/post/edit/6929477771077312512/)

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১) সচিব বিভাগ ২) প্রশাসন বিভাগ ৩) অর্থ ও হিসাব বিভাগ এবং ৪) পরিবহন বিভাগ নিয়ে গঠিত। চেয়ারম্যান পদাধিকার বলে সংস্থা প্রধান। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বিদ্যুৎ এবং পানি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। (www.cpa.govbd.org)

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পোষ্যদের জন্য কতিপয় মৌলিক নাগরিক সুবিধাদির মধ্যে রয়েছে। যেমন: বন্দর কলোনী, পূর্ব কলোনী, বন্দর হাই স্কুল কলোনী এবং পোর্ট অফিসার্স কলোনী, বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল, বিদ্যালয়, বন্দর স্টেডিয়াম, মসজিদ ইত্যাদি।

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "CPA, Navigation"। ২ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  2. "CPA, Administrative Ministry"। ২০ মে ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]