ঘানায় ধর্মহীনতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ঘানায় ধর্মহীনতা পরিমাপ করা বেশ কঠিন, কারণ দেশটিতে নিয়মিত জনতাত্ত্বিক জরিপ খুব একটা হয় না এবং উপলব্ধ পরিসংখ্যানগুলোও প্রায় অনেক বছর পুরানো। ঘানার বেশিরভাগ নাগরিক নিজেদেরকে খ্রিস্টান (৭১%) অথবা মুসলিম (১৮%) বলে দাবি করে।[১][২] ঘানার অনেক নাস্তিকই বিতাড়নের ভয়ে প্রকাশ্যে তাদের বিশ্বাস প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নয়।[৩] বেশিরভাগ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও ধর্মীয় সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রেসবিটেরিয়ান বয়েজ স্কুল, হলি চাইল্ড স্কুল এবং আরও অনেক বিদ্যালয়ের নামের মধ্যেই এটি স্পষ্ট।[২] ঘানায় নাস্তিকরা খুবই সংখ্যালঘু।[৪]

২০১০ সালে হওয়া ঘানার জনশুমারিতে দেখা যায় সেখানে মোট জনসংখ্যার ৭১.২% খ্রিস্টধর্ম, ১৭.৬% ইসলাম ধর্ম ও ৫.২% লোকজ ধর্মে বিশ্বাসী এবং ৫.৩% ব্যক্তি ধর্মহীন।[৫] অন্যান্য ধর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম এবং নিছিরেন বৌদ্ধধর্ম, তাওবাদ, সকা গাক্কাই, শিন্তৌ ধর্ম এবং ইহুদি ধর্ম।[৬]

ঘানার সমস্ত নাগরিকই কোন না কোন ধর্ম পালন করে, এই সাধারণভাবে স্বীকৃত দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে কিছু স্পষ্টবাদী নাস্তিক, মুক্তচিন্তাবিদ এবং সংশয়বাদীদের একটি ছোট দল রয়েছে যারা হিউম্যানিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ঘানা নামে একটি মানবতাবাদী দল গঠন করেছে। দলটি ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে একটি মানবতাবাদী সম্মেলনের আয়োজন করে যা ঘানায় মানবতাবাদের অগ্রগতির সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সারা বিশ্বের মানবতাবাদীদের একত্রিত করেছিল।[৭]

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে একই সংস্থা দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। এতে মানবতাবাদের সাথে প্রাসঙ্গিক অতিরিক্ত বিষয় যেমন নারীবাদ, পশ্চিম আফ্রিকায় জাদুবিদ্যার অভিযোগ এবং মানবতাবাদী অনুষ্ঠানের উপর আলোচনা যুক্ত ছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় পঞ্চাশ জন সদস্য রয়েছে। সমিতিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করার এবং নাগরিক সমাজে এটিকে আরও বিস্তৃতভাবে পরিচিত করার জন্য এখনও কাজ চলছে।

প্রকাশ্যে নাস্তিকতা বা ধর্মীয় বিদ্বেষের দাবি জনসাধারণের ক্ষোভের কারণ হতে পারে। এর একটি উদাহরণ হতে পারে জনপ্রিয় হিপলাইফ শিল্পী এমজবেল কর্তৃক যখন যিশুকে নকল বলার ঘটনাটি।[৮][৯][১০][১১][১২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Humanism In Ghana"। Modern Ghana। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৩-১৭ 
  2. ZUCKERMAN, P. (২০০৯)। Atheism and Secularity। ABC-CLIO। পৃষ্ঠা 75। আইএসবিএন 9780313351822 
  3. "Humanists call for African age of "Enlightenment""। Reuters। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১২-০৯ 
  4. "Global Index of Religiosity and Atheism" (PDF)Gallup। ২০১৭-০৮-০২ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৯-০২ 
  5. "Ghana - 2010 Population and Housing Census" (PDF)Ghana Statistics Service। Government of Ghana। ২০১০। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০১৩ 
  6. "2010 Population & Housing Census" (PDF)Statsghana.gov.gh। ২০১৩-০৯-২৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-২০ 
  7. "In world's most religious country, humanists rally for secular space"CS Monitor। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১২-০৭ 
  8. Daily Guide। "Mzbel Gets Support -For Saying Jesus Christ Is Fake"। www.modernghana.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০২-১৯ 
  9. "The lonesome life of Ghana's atheists"। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  10. "What's Up Africa: Looking for Ghana's atheists"। ৪ মে ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ – www.bbc.co.uk-এর মাধ্যমে। 
  11. "National Commission On Culture"। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  12. "The lonesome life of Africa's atheists"। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭