গ্রাহাম ভিভিয়ান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গ্রাহাম ভিভিয়ান
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামগ্রাহাম এলেরি ভিভিয়ান
জন্ম (1946-02-28) ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ (বয়স ৭৫)
অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক
ভূমিকাব্যাটসম্যান
সম্পর্কগিফ ভিভিয়ান (পিতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১০৯)
৫ মার্চ ১৯৬৫ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট২০ এপ্রিল ১৯৭২ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
একমাত্র ওডিআই
(ক্যাপ ১০)
১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩ বনাম পাকিস্তান
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৮৮ ১৭
রানের সংখ্যা ১১০ ১৪ ৩,২৫৯ ৪৩৩
ব্যাটিং গড় ১৮.৩৩ ১৪.০০ ২৮.৩৩ ৩৩.৩০
১০০/৫০ -/- -/- ৩/১৭ ১/২
সর্বোচ্চ রান ৪৩ ১৪ ১৩৭* ১২৬
বল করেছে ১৯৮ - ৪,০৭৯ -
উইকেট - ৫৬ -
বোলিং গড় ১০৭.০০ - ৩৮.০০ -
ইনিংসে ৫ উইকেট - - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - - - -
সেরা বোলিং ১/১৪ - ৫/৫৯ -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/- -/- ৪১/- ২/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৪ মার্চ ২০২০

গ্রাহাম এলেরি ভিভিয়ান (ইংরেজি: Graham Vivian; জন্ম: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৬) অকল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, লেগ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন গ্রাহাম ভিভিয়ান

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত গ্রাহাম ভিভিয়ানের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। কোনরূপ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছাড়াই টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার।[১]

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে ব্রাবিন প্রতিযোগিতায় অকল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ দলের পক্ষে লেগ-স্পিন অল-রাউন্ডার হিসেবে কিছু সুন্দর খেলা প্রদর্শন করেন। তিন খেলায় ১০ ৪৭ গড়ে ২৩ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তার সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৫/৫৯। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে অকল্যান্ডের সদস্যরূপে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে এ কৃতিত্ব অর্জন করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন গ্রাহাম ভিভিয়ান। ৫ মার্চ, ১৯৬৫ তারিখে কলকাতায় স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২০ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। এছাড়াও, ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে সফরকারী পাকিস্তান দলের বিপক্ষে একমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন।

নিজস্ব ঊনবিংশতিতম জন্মদিনের পরপরই টেস্ট দলে খেলার জন্যে তাকে মনোনীত করা হয়। প্রথম-শ্রেণীর কোন খেলায় অংশগ্রহণ বাদেই কলকাতায় স্বাগতিক ভারত দলের মুখোমুখি হন তিনি। ভারত সফর শুরুর পূর্বে প্রস্তুতিমূলক খেলায় বেশ ভালো খেলেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে কার্যকর ৪৩ রান তুলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এটিই তার সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এ পর্যায়ে সফরকারী দলটি ১০৩/৭ তুলে ইনিংস পরাজয়ের ক্ষণ গুনছিল। তিনি দলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন।[২] পাঁচ টেস্ট থেকে প্রাপ্ত একমাত্র উইকেটও এ টেস্ট থেকেই আসে।

ইংল্যান্ড গমন[সম্পাদনা]

১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাকে দলে রাখা হয়। জাতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন তিনি। কিন্তু, ইংল্যান্ডের পিচে তাকে বেশ বিরূপ পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ব্যাট কিংবা বল হাতে কোন সফলতার স্বাক্ষর রাখেননি। এমনকি কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি তিনি।[৩]

১৯৬৯-৭০ মৌসুমে টেস্টবিহীন সংক্ষিপ্ত সফরে অস্ট্রেলিয়া যান। মেলবোর্নে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৩৭ রানের ইনিংস খেলেন। এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি ছিল। তাসত্ত্বেও নিউজিল্যান্ড একাদশ মাত্র ২২০ রানে গুটিয়ে যায়। দলের সংগ্রহে ২২/৪ থাকাবস্থায় মাঠে নামেন ও অপরাজিত অবস্থায় প্যাভিলিয়নে ফেরৎ যান।[৪]

১৯৭১-৭২ মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে যান। স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চার টেস্টে অংশগ্রহণ করলেও সফল হননি তিনি। ব্যাট ও বল উভয় বিভাগেই তাকে নাস্তানুবাদ হতে হয়। তবে, তার ফিল্ডিং বেশ দর্শনীয় ছিল। হেনরি ব্লোফেল্ডের ভাষায় ১৯৭১-৭২ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দল যে ধরনের ফিল্ডিং করেছে তা কোথাও ও কোন দলের মাঝে দেখা যায়নি। তন্মধ্যে গ্রাহাম ভিভিয়ানের ফিল্ডিংয়ের মান অসাধারণ ও সকলের সেরা ছিল।[৫]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যান। তবে, তাকে আর কোন টেস্টে অংশ নিতে দেখা যায়নি। ১৯৭৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এরজন্যে বৃহদাংশেই তার চোখের সমস্যা দায়ী ছিল।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৯৮১ সালে খেলাধুলার মাঠের জন্যে কৃত্রিম আচ্ছাদনযুক্ত আবরণকারী প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। ২০০৭ সালে নিউজিল্যান্ডীয় কারখানায় ৯৫০০০০ বর্গমিটার বিভিন্ন ধরনের আচ্ছাদনযুক্ত আবরণ তৈরি করে।[৬] তার পিতা গিফ ভিভিয়ান ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সাত টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Which bowler has dismissed the most opening batsmen in Tests?"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০১৯ 
  2. India v New Zealand, Calcutta, 1964-65
  3. Wisden 1966, pp. 272-74.
  4. Victoria v New Zealanders, 1969-70
  5. Wisden 1973, p. 880.
  6. Big Mexico contract for Tiger Turf
  7. "Golden gloves"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৭ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]