বিষয়বস্তুতে চলুন

গ্যাংস অব নিউ ইয়র্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গ্যাংস অফ নিউ ইয়র্ক
পরিচালকমার্টিন স্কোরসেজি
প্রযোজকআলবার্টো গ্রিমাল্ডি
হার্ভে ওয়েনস্টেইন
রচয়িতাজে কক্স
স্টিভেন জেইলিয়ান
কেনেথ লনেরগান
শ্রেষ্ঠাংশেলিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও
ড্যানিয়েল ডে-লুইস
ক্যামেরন ডায়াজ
জন সি. রেইলি
হেনরি থমাস
জিম ব্রডবেন্ট
লায়াম নেসন
ব্রেন্ডেন গ্লিসন
বারবারা বুশে
সুরকারহাওয়ার্ড শোর
চিত্রগ্রাহকমাইকেল বলহজ
সম্পাদকথেলমা শুনমেকার
প্রযোজনা
কোম্পানি
মিরাম্যাক্স ফিল্মস
ইন্টারমিডিয়া ফিল্মস
ইনিশিয়াল এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপ
পরিবেশকমিরাম্যাক্স ফিল্মস (যুক্তরাষ্ট্র)
এন্টারটেনইমেন্ট ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটরস (যুক্তরাজ্য)
মুক্তি২০ ডিসেম্বর, ২০০২
স্থিতিকাল১৬৬ মিনিট
দেশযুক্তরাষ্ট্র
ভাষাইংরেজি
নির্মাণব্যয়$ ৯ কোটি ৭০ লক্ষ
আয়$ ১৯,৩৭,৭২,৫০৪

গ্যাংস অফ নিউ ইয়র্ক (ইংরেজি: Gangs of New York) হচ্ছে ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি মার্কিন ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র, যা মূলত ১৯ শতকের নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের ফাইফ পয়েন্ট এলাকাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন মার্টিন স্কোরসেজি, এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন জে কক্স, স্টিভেন জেলিয়ান, এবং কেনেথ লনেরগান। চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে লেখক হার্বার্ট অ্যাশবুরির ১৯২৮ সালের বই দ্য গ্যাংস অফ নিউ ইয়র্ক অনুসারে। চলচ্চিত্রটির চিত্রধারণ হয়েছে ইতালির রোমে, এবং এটির বিপণনে ছিলো মিরাম্যাক্স ফিল্মস। চলচ্চিত্রটি ২০০৩ সালে সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলো।



ফিল্মটির ঘটনা ১৮৬২ থেকে ১৮৬৩ সালের মধ্যে ঘটে, যখন দীর্ঘদিনের ক্যাথলিক–প্রোটেস্ট্যান্ট দ্বন্দ্ব হঠাৎ সহিংস রূপ নেয়। একই সময়ে আইরিশ অভিবাসী সম্প্রদায় যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময় বাধ্যতামূলক সেনাসেবার (conscription) বিরোধে বিক্ষোভ করছিল।

পরিচালক মার্টিন স্করসেজি এই প্রকল্প নিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে কাজ করেছেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৯ সালে মিরাম্যাক্স ফিল্মস এটি অধিগ্রহণ করে। মূল শুটিং হয় ইতালির রোম শহরের চিনেচিত্তা স্টুডিওতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে।

Gangs of New York ২০০১ সালেই সম্পূর্ণ হয়, কিন্তু ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার কারণে এর মুক্তি স্থগিত রাখা হয়। পরে এটি ২০ ডিসেম্বর ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এবং সারা বিশ্বে মোট ১৯৩.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে।

ছবিটি মোটের ওপর ইতিবাচক সমালোচনা পায়, বিশেষ করে ড্যানিয়েল ডে-লুইসের অভিনয় উচ্চ প্রশংসা কুড়ায়। ৭৫তম অস্কার অ্যাওয়ার্ডসে এটি ১০টি বিভাগে মনোনয়ন পায়—যার মধ্যে ছিল সেরা ছবি, সেরা পরিচালক (স্করসেজি), এবং সেরা অভিনেতা (ডে-লুইস)। তবে কোনো বিভাগেই পুরস্কার জিততে পারেনি।[]

শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয়

[সম্পাদনা]

কাহিনী সংক্ষেপ

[সম্পাদনা]

১৮৪৬ সালের নিউইয়র্কের কুখ্যাত বস্তি ফাইভ পয়েন্টস–এ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং — অ্যাংলো-প্রোটেস্ট্যান্ট কনফেডারেশন অব আমেরিকান নেটিভস, যার নেতা উইলিয়াম “বিল দ্য বুচার” কাটিং, এবং আইরিশ ক্যাথলিক অভিবাসীদের ডেড র‍্যাবিটস, যার নেতা “প্রিস্ট” ভ্যালন — শেষবারের মতো যুদ্ধ করে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করতে। লড়াইয়ে বিল ভ্যালনকে হত্যা করে এবং ডেড র‍্যাবিটস গ্যাংকে বেআইনি ঘোষণা করে। ভ্যালনের ছোট ছেলে ঘটনাটি দেখে বাবার হত্যার ছুরিটা লুকিয়ে রাখে এবং পরে ব্ল্যাকওয়েলস আইল্যান্ডের একটি অনাথ আশ্রমে পাঠানো হয়।ষোলো বছর পর, ১৮৬২ সালে, ভ্যালনের ছেলে “অ্যামস্টারডাম” প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে ফাইভ পয়েন্টসে ফিরে আসে এবং লুকিয়ে রাখা ছুরিটি বের করে। পুরোনো পরিচিত বন্ধু জনি সিরোকো তাকে এলাকাটির বিভিন্ন গ্যাংয়ের সঙ্গে পরিচয় করায়—যাদের সবাই বিলকে খাজনা দেয়, কারণ এখনো বিলই এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

অ্যামস্টারডাম বিলের দলে যোগ দিতে তার অতীত পরিচয় গোপন করে। সে জানতে পারে তার বাবার সাবেক অনেক লেফটেন্যান্ট—যেমন “হ্যাপি” জ্যাক মুলরানি (যে এখন বিলের হয়ে কাজ করা দুর্নীততাকে িগ্রস্ত আইরিশ পুলিশ) এবং ম্যাকগ্লয়েন—এখন বিলের অধীনে কাজ করছে, যদিও বিল আইরিশদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে।

প্রতিবছর বিল ডেড র‍্যাবিটসের ওপর বিজয়ের বার্ষিকী উদযাপন করে, এবং অ্যামস্টারডাম ঠিক করে এ অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বিলকে হত্যা করবে। সে পকেটমারি ও প্রতারণায় পারদর্শী জেনি এভারডিনকে পছন্দ করতে শুরু করে — যার প্রতি জনিও দুর্বল। ধীরে ধীরে বিলের আস্থা অর্জন করে অ্যামস্টারডাম তার ঘনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে ওঠে এবং তামানি হলের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক উইলিয়াম এম. টুইডের নানা কারবারেও জড়িয়ে পড়ে। একদিন অ্যামস্টারডাম বিলের ওপর হত্যাচেষ্টা থেকে তাকে বাঁচায়, এবং এ কারণে মানসিকভাবে দ্বিধায় পড়ে—সে কি সত্যিই বিলকে সম্মান করতে শুরু করেছে?

বার্ষিকী উদযাপনের রাতে জেনিকে নিয়ে ঈর্ষার ফলে জনি অ্যামস্টারডামের প্রকৃত পরিচয় বিলকে জানিয়ে দেয়। বিল একটি ছুরি–নিক্ষেপ খেলার মাধ্যমে অ্যামস্টারডামকে উত্তেজিত করে। বিল “প্রিস্ট” ভ্যালনের স্মরণে টোস্ট করার সময় অ্যামস্টারডাম তার দিকে ছুরি ছোড়ে, কিন্তু বিল তা আটকে দিয়ে পাল্টা ছুরি ছুড়ে তাকে আহত করে। এরপর বিল তাকে মারধর করে গরম ব্লেড দিয়ে গালে দাগ দেয় এবং তাকে তাড়িয়ে দেয় — কারণ তার মতে, অ্যামস্টারডামকে হত্যা করার যোগ্যই নয়।

গা ঢাকা দিয়ে থাকা অবস্থায় জেনি তাকে সান ফ্রান্সিসকো পালিয়ে যেতে অনুরোধ করে; কিন্তু অ্যামস্টারডাম ফিরে আসে প্রতিশোধ নিতে। সে মৃত খরগোশ ঝুলিয়ে তার ফেরার ঘোষণা দেয়, যা পুরোনো আইরিশ গ্যাংদের জাগিয়ে তোলে। তদন্তে আসা দুর্নীতিবাজ মুলরানিকে অ্যামস্টারডাম হত্যা করে স্কোয়ারে ঝুলিয়ে দেয়। প্রতিশোধে বিল জনিকে নির্মমভাবে প্রহার করে এবং বর্শা দিয়ে বিদ্ধ করে; শেষে জনির আকুতিতে অ্যামস্টারডামই জনিকে গুলি করে তার কষ্টের অবসান ঘটায়।

এরপর অ্যামস্টারডামের গ্যাং ম্যাকগ্লয়েনকে মারধর করলে বিল তার দল নিয়ে গির্জার সামনে আসে। অ্যামস্টারডামও সেখানে ডেড র‍্যাবিটসদের নিয়ে হাজির হয়—পুরোনো ও নতুন সদস্য মিলিয়ে। সংঘর্ষ তখনই হয় না; কিন্তু বিল প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে। বিষয়টি পত্রিকায় ছাপা হয়, এবং অ্যামস্টারডাম টুইডকে একটি পরিকল্পনা জানায়: বিলের প্রভাব ভাঙতে টুইড মঙ্ক ম্যাকগিনকে শেরিফ প্রার্থী করবে, আর অ্যামস্টারডাম আইরিশ ভোট নিশ্চিত করবে। ভোট কারচুপির সহায়তায় মঙ্ক ভূমিধ্বস ভোটে জিতে যায়। অপমানে বিল তার নিজের গদা দিয়ে মঙ্ককে হত্যা করে। এতে ক্ষুব্ধ অ্যামস্টারডাম বিলকে প্রকাশ্য গ্যাং–যুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানায়, এবং বিল তা গ্রহণ করে।

এদিকে গৃহযুদ্ধের খসড়া সেনা নিয়োগবিরোধী দাঙ্গা শুরু হয় এবং সেনারা রাস্তায় নামে। দুই গ্যাং যখন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন নৌবাহিনীর কামানের গোলা এসে প্যারাডাইস স্কোয়ারে পড়ে এবং লড়াই শুরুর আগেই বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক গ্যাং সদস্য গোলাবর্ষণ, সেনার আক্রমণ বা দাঙ্গায় মারা যায়।

অরাজকতার মাঝে বিল ও অ্যামস্টারডাম মুখোমুখি হয়। বিল শার্পনেলে আহত হলে অ্যামস্টারডাম তার বাবার সেই ছুরি দিয়ে বিলকে হত্যা করে। বিল মৃত্যুর মুহূর্তে অ্যামস্টারডামের হাত ধরে থাকে।

অ্যামস্টারডাম ব্রুকলিনের একটি কবরস্থানে তার বাবার কবরের পাশে বিলের নাম লেখা একটি অস্থায়ী শিলালিপি বসায় এবং বাবার পাশে বিলকেও সমাহিত করে। অ্যামস্টারডাম ও জেনি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরায় দেখা যায় পরবর্তী শত বছরে নিউইয়র্ক সিটির স্কাইলাইন বদলে যাচ্ছে—ব্রুকলিন ব্রিজ, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, শেষ পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার পর্যন্ত—আর পুরোনো কবরস্থান ধীরে ধীরে আগাছায় ঢাকা পড়ে, আর তাদের ভুলে যাওয়া হয়।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Steven Zaillian

  1. তথ্য যুক্ত