গোলাম মুহাম্মদ তার্জি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Sardar Ghulam Mohammad Tarzi of Afghanistan-cropped.jpg

সর্দার গোলাম মুহাম্মদ খান তার্জি (জন্ম:কান্দাহার, এপ্রিল ৩০, ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দ – ১৯০০/১৯০১)[১] কান্দাহার এবং বেলুচিস্তান এর রাজা ছিলেন। তার পিতা সর্দার দিল খান এবং দাদা সর্দার পানিদা খান মুহাম্মাদিজি। তিনি পশতুন সৈন্য এবং কবি ছিলেন এবং সাথে সাথে আফগানিস্তানের সামরিক নেতা ছিলেন।[২] তাকে তার ঐতিহ্যগত পারিবারিক নাম তার্জি উদ্ভাবনের জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয়। এই উপাধিটি আফগানিস্তানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। [৩]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

তার্জি পরিবার মুহামেদজাই রাজকীয় উপ উপজাতিভুক্ত। এই উপজাতি বারাকজাই সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিখ্যাত। সৈনিক হিসেবে তরুণ বয়সেই তিনি কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। খুব শীঘ্রই আমির দোস্ত মুহাম্মদ তাকে রাজ্যের রাজকুমার এবং পণ্ডিত সম্রদায়ের সাথে তার পরিচয় এবং যোগাযোগ করিয়ে দেন। তার্জি আমির দোস্ত মুহাম্মদ এবং তার উত্তরসূরী আমির শের আলি খান উভয়ের সাথেই তার সর্ম্পক গড়ে তুলেছিলেন।[৪]

প্রধান[সম্পাদনা]

বিভিন্ন উপাত্ত থেকে দেখা যায় যে তার্জি দক্ষিণ আফগানিস্তান যার অধিকাংশেই তার পিতার শাসনের আওতায় ছিল সে এলাকার প্রধান হিসেবে তিনি নিয়োজিত ছিলেন। তার্জি সর্ম্পকে বোম্বে পররাষ্ট্র সচিব ভারত সরকারকে লেখা একটি প্রতিবেদনে বলা হয়::

" সর্দার গোলাম মুহাম্মদ কান্দাহারের সর্দার রহিম দিলের জ্যেষ্ঠ পুত্র। আমাদের প্রাপ্ত তথ্য মতে এক সময় তিনি বিখ্যাত গ্রাম্য প্রধান ছিলেন কিন্তু ঐ সময় যে তিনি আফগানিস্তানের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ছিলেন তার কোন নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার চাচাত ভাই, গর্ভণর তার সর্ম্পকে ভাল কোন মতামত প্রদান করেননি। আমরা যতদূর জানি তিনি কখনো ব্রিটিশ সরকারকে তাদের কাজে কোন রূপ সাহায্য করেননি এবং আমরা তার কাছে কোনভাবেই অনুগ্রহীত নয়।[৪]"

চিঠির পরবর্তী অংশ নিশ্চিত করে যে তার্জি একজন জাতীয়তাবাদী ছিলেন।চিঠিটি থেকে প্রমাণিত হয় যে তার সর্ম্পকে তার চাচাত ভাইয়ের ভাল ধারণা পোষণ করত না কারণ তার চাচাত ভাই পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।

কবি[সম্পাদনা]

তিনি করাচিতে স্থানান্তরিত হন এবং পরবর্তীতে ভারতে চলে যান। এখোনে এসে তিনি পুনরায় কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন এবং ভারতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শহর ভ্রমণ করেন যেখানে তাকে শাসক বিরোধীরা উষ্ণ অর্য্েথনা জানান। তিনি তার্জি ছদ্মনামে কাব্য রচনা করতেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯০০ সালের ৮ ডিসেম্বরে তার্জি সিরিয়ার দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন[১] যেখানে তিনি ছুটি কাটাতে এসেছিলেন।১৯৮৮-৮৯ এই সময়ে আফগানিস্তানে তার খ্যাতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হয়ত তার প্রকৃত মৃত্যুর তারিখ গোপন করা হয়েছে। [১] সিরীয় কর্তৃপক্ষ তার আনুষ্ঠানিক জানাযার ব্যবস্থা করেছিল। তার্জিকেন দামেস্কে অবস্থিত হযরত দাহদাহ সমাধিক্ষেত্রে দাফন করা হয়। তার দাফনের সময় প্রায় দশটি দেশ বা সাম্রাজ্যে প্রতিনিধিগণ সম্মান প্রদর্শনের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.royalark.net/Afghanistan/tarzi.htm Royal Ark
  2. Encyclopedia of the Developing World: Volume Three, pg. 1...Link
  3. Royal Arc: Ruling Houses of Afghanistan: Tarzi...Link

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]