গোয়া রাজ্য জাদুঘর
গোয়া রাজ্য জাদুঘরে প্রবেশকারী দর্শনার্থীরা, মে ২০০৮ | |
![]() | |
| স্থাপিত | ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭ এবং নতুন ভবনটি ১৮ জুন ১৯৯৬ সালে |
|---|---|
| অবস্থান | আদিল শাহের প্রাসাদ (পুরোনো সচিবালয়),[১] পানাজি, গোয়া, ভারত |
| স্থানাঙ্ক | ১৫°২৯′৩৫″ উত্তর ৭৩°৪৯′৫৯″ পূর্ব / ১৫.৪৯৩১৪০১° উত্তর ৭৩.৮৩৩০৭১৫° পূর্ব |
| ওয়েবসাইট | http://goamuseum.gov.in/ |
গোয়া রাজ্য জাদুঘর, যা পানাজির রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর নামেও পরিচিত, হল ভারতের গোয়ায় অবস্থিত একটি জাদুঘর। এটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এতে প্রাচীন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব, শিল্প ও কারুশিল্প এবং ভূতত্ত্ব সহ ভিন্ন বিভাগ রয়েছে। ২০০৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, জাদুঘরটিতে প্রায় ৮,০০০ নিদর্শন উপস্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল পাথরের ভাস্কর্য, কাঠের তৈরি জিনিস, খোদাই, ব্রোঞ্জের কাজ, চিত্রকলা, পাণ্ডুলিপি, দুর্লভ মুদ্রা আর নৃতাত্ত্বিক সামগ্রী। বর্তমানে, জাদুঘরটি পানাজির আদিল শাহের প্রাসাদে (পুরাতন সচিবালয়) অবস্থিত।[১] পানাজির পাট্টোতে অবস্থিত ইডিসি কমপ্লেক্সে অবস্থিত জাদুঘরের পূর্ববর্তী প্রাঙ্গণটি ভেঙে নতুন জাদুঘর ভবন নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে।[২][৩][৪][৫]
জাদুঘরটি আগে পানাজির পাট্টোর ইডিসি কমপ্লেক্সে অবস্থিত ছিল; এর আগে এটি পানাজির সেন্ট ইনেজ-এ অবস্থিত ছিল।[৬] বর্তমানে, জাদুঘরটি পানাজির আদিল শাহের প্রাসাদে (পুরাতন সচিবালয়) অবস্থিত।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৯৭৩ সালে গোয়ার সংরক্ষনাগার বিভাগের একটি প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর হিসেবে জাদুঘরটি প্রথম তৈরি করা হয়েছিল। পরে, ১৯৭৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর একটি ভাড়া করা ভবনে একটি ছোট জাদুঘর হিসেবে এটিকে চালু করা হয়। একটি নতুন জাদুঘর কমপ্লেক্স নির্মাণের পর, ১৮ জুন ১৯৯৬ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধন করেন।[৬][৭] জাদুঘরের প্রদর্শনীতে গোয়ার প্রাচীন ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তথ্য বিষয়ভিত্তিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা গোয়ার ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে।[৮][৯]
গ্যালারি
[সম্পাদনা]
গোয়া রাজ্য জাদুঘরে মোট চৌদ্দটি গ্যালারি রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হল: ভাস্কর্য গ্যালারি, খ্রিস্টীয় শিল্পকলা গ্যালারি, মুদ্রণ ইতিহাস গ্যালারি, ব্যানার্জি আর্ট গ্যালারি, ধর্মীয় অভিব্যক্তি গ্যালারি, সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান, সমসাময়িক আর্ট গ্যালারি, মুদ্রাবিদ্যা গ্যালারি, গোয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম গ্যালারি, মেনেজেস ব্রাগানজা গ্যালারি, আসবাবপত্র গ্যালারি, গোয়ার প্রাকৃতিক ঐতিহ্য গ্যালারি, পরিবেশ ও উন্নয়ন গ্যালারি এবং ভূতত্ত্ব গ্যালারি।[৭] জাদুঘরে ভারতের সকল অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী প্রায় ৮,০০০ নিদর্শন রয়েছে, এবং সেইসাথে ইনস্টিটিউট মেনেজেস ব্রাগানজা আর্ট গ্যালারি এবং কলা একাডেমি থেকে ধার করা ৬৪৫টি নিদর্শন রয়েছে।[৬]
শিল্প
[সম্পাদনা]
ভাস্কর্য গ্যালারিটি মূলত ৪র্থ থেকে ৮ম শতাব্দীর ব্রোঞ্জ নির্মিত হিন্দু ও জৈন ভাস্কর্যের নিদর্শন উপস্থাপন করে[৮]। এর মধ্যে রয়েছে প্রাচীন ভাস্কর্য যেমন নেত্রাবলীর কুবের, যক্ষী, উমা এবং মহিষাসুরমর্দিনী। এছাড়া, দক্ষিণ- শিলাহার যুগের দুটি তারিখবিহীন পাথরের ভাস্কর্যও রয়েছে। একটি হল কুন্দাইয়ের দুই যোদ্ধার কান্তদেবের ভাস্কর্য, যা পূর্বে নবদুর্গা মন্দিরের সামনে অবস্থিত ছিল এবং আরেকটি হল সূর্যের ভাস্কর্য, যা আগে শ্রী চন্দ্রেশ্বর ভূতনাথ মন্দিরের পরিক্রমা (প্রদক্ষিণপাঠ) এর অংশ ছিল।[১০] এছাড়া, ব্রোঞ্জের ভাস্কর্যও রয়েছে, যেগুলো ক্লদ এবং ডালনের মতো ইউরোপীয় শিল্পীদের কাজের অনুকরণ। গ্যালারিতে কদম্ব রাজা বীর বর্মার একটি তামার প্লেটে ১০৪৯ সালের একটি শিলালিপিও প্রদর্শিত আছে।[৬]

খ্রিস্টীয় আর্ট গ্যালারিতে, সাধু-সন্তদের বিভিন্ন ধরণের কাঠের ভাস্কর্য, ভক্তিমূলক চিত্রকর্ম এবং ঔপনিবেশিক আমলের কিছু কাঠের আসবাবপত্র রয়েছে। এছাড়াও এখানে জৈন মূর্তির প্রদর্শনী, তিনটি বৃহৎ উত্থিত শিল্পকর্ম, লুইস দে ক্যামোয়েস, আফোনসো দে আলবুকার্ক এবং ডোম জোয়াও দে কাস্ত্রোর আবক্ষ মূর্তি রয়েছে, যা পূর্বে পৌর উদ্যানের দেয়ালে ছিল।[১১]
গোয়ার প্রাক্তন রাজ্যপাল এস কে ব্যানার্জী জাদুঘরকে বেশ কিছু প্রদর্শনী উপহার দিয়েছিলেন এবং তাই তাঁর নামে একটি গ্যালারির নামকরণ করা হয়েছে, ব্যানার্জী আর্ট গ্যালারি। প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে সিন্ধু সভ্যতার টেরাকোটা পুরাকীর্তি, জনপদের সীলমোহর, গান্ধার শিল্পকলার প্লাস্টিক শিল্প, দক্ষিণ ভারতের ব্রোঞ্জের ছবি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কাঠের ছবি এবং ধোকরা অ লৌহঘটিত ধাতুর ঢালাই। এছাড়াও রয়েছে জয়পুর স্কুল, মারোয়ার স্কুল, মেওয়ার স্কুল ইত্যাদি রাজস্থানের ক্ষুদ্রাকৃতির চিত্রকর্ম, মুঘল চিত্রকর্ম, নাথদ্বারা, উড়িষ্যার পটচিত্র এবং সমসাময়িক শিল্পীদের চিত্রকর্ম।[৬]
বিজ্ঞান
[সম্পাদনা]রাজা বীরবর্মার আমলের বীরগল বা বীর পাথরগুলি সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়। এই পাথরগুলো গোপালপট্টনম ও হোনাভারের শাসকদের সেনাবাহিনীর মধ্যে হওয়া নৌযুদ্ধের প্রতীক। এগুলো স্থানীয় সর্দার বীরবর্মার নেতৃত্বে নৌযুদ্ধে নিহত নৌসৈন্যদের স্মরণে নির্মিত স্মারক পাথর, যিনি গোয়ার শাসক হিসেবে বিবেচিত হন। পাথরগুলি যুদ্ধের জন্য নৌযান তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তিগত দক্ষতার ইঙ্গিত দেয়। একটি বীরগলে একটি জাহাজের চিত্র রয়েছে যেটিতে "অক্ষীয় হাল" এবং সাতটি রোয়ার দেখানো হয়েছে। আরেকটি বীরগলে নয়টি ওয়ার হোল এবং একটি "স্টার্ন-পোস্ট রাডার" রয়েছে, যা অক্ষীয় রাডারের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ছিল। এই প্রদর্শনীগুলি ইঙ্গিত দেয় যে চালুক্য রাজারা যেমন কীর্তিবর্মণ প্রথম (৫৬৬-৫৯৭) গোয়ান অঞ্চল শাসন করেছিলেন।[১২] প্রদর্শনীতে প্রাচীন যুগের ইউটিলিটি জাহাজ, বিভিন্ন ধরণের খেলা, ওজন ও পরিমাপ, আখ পেষণকারী যন্ত্রের প্রতিরূপ, ক্রেন এবং কৃষি সরঞ্জামের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মাটির মডেলও রয়েছে।[৬]
পরিবেশ ও উন্নয়ন গ্যালারিতে গোয়ার অনেক গ্রামের সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী রয়েছে। [১১] ভূতত্ত্ব গ্যালারিতে ১০,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের একটি জীবাশ্ম হাড় রয়েছে।[৬]
অন্যান্য
[সম্পাদনা]
ধর্মীয় অভিব্যক্তি গ্যালারিতে গুপ্ত আমলের ভগবান বিষ্ণুর একটি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক ভাস্কর্য রয়েছে। অন্যান্য প্রদর্শনীতে গোয়ার অতীতের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ধর্মীয় আলোচনা প্রদর্শিত হয়। "তরঙ্গ" নামে একটি ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের প্রতিরূপ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত পাত্র, তালপাতা ও কাগজে লেখা বেশ কিছু ধর্মীয় পাণ্ডুলিপি, এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের কিছু চিত্র।[৬]
মুদ্রাবিদ্যা গ্যালারিতে পর্তুগিজ যুগের মুদ্রার একটি প্রদর্শনী রয়েছে।[৮] আসবাবপত্র গ্যালারিতে একটি জটিলভাবে খোদাই করা টেবিল এবং উঁচু পিঠের চেয়ার রয়েছে যা ষোড়শ শতাব্দীতে গোয়ায় অনুষ্ঠিত পর্তুগিজ ইনকুইজিশনের অংশ ছিল। টেবিলের দুই পায়ের এক ভাগে সিংহ ও একটি ঈগল এবং অন্য ভাগে চারটি মানুষের মূর্তি খোদাই করা আছে।[৮] আসবাবপত্র প্রদর্শনীতে রয়েছে পর্তুগিজ গভর্নর জেনারেলের একটি চেয়ার, হাতির দাঁতের কাজ করা একটি সোফা সেট, ছোট হাতির দাঁতের ছবি, ড্রয়ারের বাক্স এবং কিছু পশ্চিমা শৈলীর আসবাবপত্র।[৬] এই গ্যালারিতে উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনীতে রয়েছে ১৮ শতকের একটি জটিল খোদাই করা কাঠের রথ যা উৎসবে ব্যবহৃত হত।[৮][১১]
গ্যালারি
[সম্পাদনা]- গোয়া রাজ্য জাদুঘরের ছবি
- পুরাতন ছাপাখানা
- সংবাদপত্র এবং বই ছাপার জন্য ব্যবহৃত প্লেট
- ভাস্কর্য গ্যালারি
- বিরল পর্তুগিজ যুগের নোট
- প্রদর্শনীতে নিদর্শন
- একটি মূর্তি
- পর্তুগিজ যুগের নিদর্শন
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "Adil Shah palace crowded, 18th century artefacts left on road - Times of India"। indiatimes.com।
- ↑ Sayed, Nida (১০ মে ২০১৭)। "Goa state museum gears up to shift to Adil Shah palace"। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৮।
- ↑ "Goa state museum closed for visitors - Times of India"। indiatimes.com।
- ↑ "With 80% of artefacts packed, Goa state museum set to move - Times of India"। indiatimes.com।
- ↑ "Goa Museum - Government of Goa"। goamuseum.gov.in। ১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১৫।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 "State Archaeology Museum, Panaji"। Goa Tourism, Government of Goa। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৫।
- 1 2 "About Us"। Directorate of Museum, Government of Goa। ১ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৫।
- 1 2 3 4 5 Thomas ও Karafin 2009, পৃ. 114।
- ↑ "Home"। Official website of the Museum। ১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৫।
- ↑ Mitragotri 1999, পৃ. 122।
- 1 2 3 Harding 2003, পৃ. 116।
- ↑ Malekandathil 2010, পৃ. 27।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Harding, Paul (২০০৩)। Goa। Lonely Planet। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৪০৫৯-১৩৯-৩।
- McCulloch, Victoria; Stott, David (৩০ অক্টোবর ২০১৩)। Goa (with Mumbai)। Footprint Travel Guides। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৯০৯২৬৮-৪২-৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|কর্ম=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - Malekandathil, Pius (২০১০)। Maritime India: Trade, Religion and Polity in the Indian Ocean। Primus Book। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮০৬০৭-০১-৬।
- Mitragotri, Vithal Raghavendra (১৯৯৯)। A socio-cultural history of Goa from the Bhojas to the Vijayanagara। Institute Menezes Braganza।
- Thomas, Amelia; Karafin, Amy (২০০৯)। Goa and Mumbai। Lonely Planet। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৪১০৪-৮৯৪-০।
