বিষয়বস্তুতে চলুন

গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স

গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স
২০২৩ সালে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স
মানচিত্র
অবস্থানআবরার এভিনিউ, ঢাকা, বাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক২৩°৪৩′২৯″ উত্তর ৯০°২৪′৪১″ পূর্ব / ২৩.৭২৪৬৭৯° উত্তর ৯০.৪১১৫১৫২° পূর্ব / 23.724679; 90.4115152
চালুর তারিখ২০০৮
উন্নয়নকারীমেসার্স ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্স
মালিকবাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট
দোকান ও সেবার সংখ্যা৫৮৩
তলার মোট আয়তন১৯,০০০ বর্গফুট (১,৮০০ বর্গমিটার)
তলার সংখ্যা২০
গণপরিবহন সুবিধাগুলিস্তান

গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স বাংলাদেশের ঢাকার আবরার এভিনিউয়ে অবস্থিত একটি বিপণিবিতান। ২০০৫ সালে একই স্থানে নির্মিত পঞ্চাশ বছরের পুরোনো গুলিস্তান সিনেমা হল ভেঙ্গে এটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল যা ২০০৭ সালে থেমে গিয়ে অসম্পূর্ণ রয়ে যায়।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
১৯৬৩ সালে গুলিস্তান সিনেমা হল

ভারত বিভাজনের পর খান বাহাদুর ফজলে দোসানি ভারতের কলকাতা থেকে পাকিস্তানে অভিবাসিত হওয়ার পর ঢাকার রমনায় ১৯৫২ সালে লিবার্টি নামে একটি চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করে, যার নাম পরবর্তীতে হয় "গুলিস্তান"। এরপর ১৯৫৫ সালে প্রেক্ষাগৃহের উপরতলায় নাজ নামক আরেকটি চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহ তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ফজলে দোসানি দেশত্যাগ করে পাকিস্তানে চলে গেলে সরকার ১৯৭২ সালে প্রেক্ষাগৃহ ভবনটি অধিগ্রহণ করে, যার মালিকানা পায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট[]

২০০১ সালে প্রেক্ষাগৃহের ০.৬১৪০ একর জমিতে ২০ তলা বিপণিবিতান নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ মেসার্স ট্রাস্ট মেসার্স ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্সের সাথে পাঁচ বছরের একটি চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী মেসার্স ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনের দোকানগুলো বিক্রি করবে আর বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়মিত দোকানগুলো হতে ভাড়া আদায় করবে।[] ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রেক্ষাগৃহ ভবনটি ভেঙ্গে সেই জায়গায় একটি ২০ তলা বিশিষ্ট বিপণিবিতান নির্মাণ করা শুরু করে।[]

২০০৭ সালের মধ্যে ভবন সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এক এগারোর সময় নির্মাণকাজ অর্ধেক সম্পন্ন হয়ে থেমে যায়। অন্যদিকে মেসার্স ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্স দোকান বিক্রি করে ৩০০ কোটি টাকা আয় করে।[] ২০১২ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট মেসার্স ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের সাথে করা নির্মাণ চুক্তি বাতিল করে।[] ২০২৫ সাল অনুযায়ী বিপণিবিতানটি কেপিআই ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যার পাশাপাশি ভবনটির জন্য নতুন পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এর দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।[]

অবস্থা

[সম্পাদনা]

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তাবিত বিপণিবিতানে চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহ করার কথা ছিল। তবে বিপণিবিতানের নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায় তা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি।[]

চুক্তি অনুযায়ী ২০০৭ সালের মধ্যে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন না হলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্সের নিয়মিত ৫০,০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে, সেই হিসেবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৫.৫ কোটি টাকা জরিমানা অনাদায়ী অবস্থায় আছে। হিসাব অনুযায়ী দোকান ভাড়া থেকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি আয় করে মাত্র ১০ লাখ টাকা।[]

দুর্নীতি

[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠকে বিপণিবিতানের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আলোচনা করা হয় এবং সেগুলো সমাধানে তাগাদা দেওয়া হয়।[]

২০১৯ সালে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক বৈঠকে ভবনের ভূগর্ভস্থ তলার পার্কিং জোনে নিয়মবহির্ভূতভাবে গুদাম ও অবৈধ কাঠামো নির্মাণ করায় সেগুলো ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি ইজারাদারদের নিকট বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা ১.১৯ কোটি টাকা আদায়ের জন্য বলা হয়।[]

২০১৯ সাল পর্যন্ত গত এক দশকে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের ৩৪৩টি দোকান প্রভাবশালীদের মদদে বৈধ মালিক থাকা সত্ত্বেও দখল হয়ে গেছে। ভবনের ১০ম তলায় দখলকারীদের সুকৌশলে দোকান তৈরি করে দখল করতে সহায়তা করার অভিযোগে আনসার বাহিনীর একজন কমান্ডারকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।[]

২০২২ সালে বিপণিবিতানের ১৫৮ দোকান বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আদালতে মামলা করে। ২০২৪ সালে বিপণিবিতানের প্রশাসক ও মেসার্স ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের দুই পরিচালকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হয়।[]

ঘটনাবলী

[সম্পাদনা]

২০২২ সালে নাগরিক টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভবনটিতে নির্মাণকাজ আবার শুরু করে এবং এর চলাচলের পথগুলোতে টিনশেড দিয়ে আঁটকে দেয়, যার ফলে দোকানিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। সেই সময় কিছু দোকানি তাদের দোকান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে দিচ্ছে বলে জানায় এবং অভিযোগ করে যে তাদের দোকানগুলো আবার বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই ব্যাপারে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বা মেসার্স ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্স কেউ দায় স্বীকার করেনি।[] এক দোকান মালিক এর প্রশাসক ও কর্মকর্তার থেকে দোকান পুনঃক্রয় না করলে গুমের হুমকি পেয়েছিলেন এবং তারা তার দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।[]

একই বছরের ১৫ আগস্টে নির্মাণাধীন বিপণিবিতানের জন্য বহনকৃত রড ভবনের উপর থেকে রাস্তায় পড়ে গিয়ে ৫ পথচারীকে আহত করে।[১০]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 ফারুক, মোহাম্মদ ওমর (১৭ জানুয়ারি ২০১৯)। "গুলিস্তানের সেকাল-একাল"মানবজমিন
  2. 1 2 3 শফিক, শাহেদ (২১ জানুয়ারি ২০১৮)। "গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স: দুই কোটির কথা থাকলেও আসে ১০ লাখ টাকা"বাংলা ট্রিবিউন
  3. 1 2 "গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সে ১৫৮ দোকান বরাদ্দে দুর্নীতি"ঢাকা পোস্ট। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
  4. "নতুন রূপে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স"দৈনিক আমাদের সমাচার। ৬ জানুয়ারি ২০২৬।
  5. "গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ"রাইজিংবিডি.কম। ৩০ এপ্রিল ২০১৫।
  6. "গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স ভবন বকেয়া টাকা আদায়ের তাগিদ সংসদীয় কমিটির"দৈনিক ইনকিলাব। ২৬ আগস্ট ২০১৯।
  7. মোস্তফা, এম গোলাম (৩০ জানুয়ারি ২০১৯)। "মুক্তিযোদ্ধাদের হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুট!"ঢাকা টাইমস
  8. নয়ন, রাইসুল (১০ আগস্ট ২০২২)। "গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স: দোকান বিক্রিতে প্রতারণার অভিযোগ"নাগরিক টিভি। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  9. "ক্রয়কৃত জায়গা পুনরায় না কিনলে ব্যবসায়ীকে গুমের হুমকি!"বাংলানিউজ২৪.কম। ১৫ মে ২০২২।
  10. "গুলিস্তানে নির্মাণাধীন ভবনের রড পড়ল রাস্তায়, আহত ৫"বিডিনিউজ২৪.কম। ১৫ আগস্ট ২০২২।