বিষয়বস্তুতে চলুন

গুলজার আজমি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গুলজার আজমি
জন্ম১ মে ১৯৩৪
মৃত্যু২০ আগস্ট ২০২৩(2023-08-20) (বয়স ৮৮–৮৯)
নাগরিকত্বভারতীয়
পেশাসামাজিক কর্মী, আইনজীবী পরামর্শদাতা
কর্মজীবন১৯৫৪–২০২৩
প্রতিষ্ঠানজমিয়ত উলামায়ে হিন্দ

গুলজার আজমি (১ মে ১৯৩৪–২০ আগস্ট ২০২৩) ছিলেন একজন ভারতীয় মুসলিম সমাজকর্মী।[][] তিনি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের আইনী সেল ইনস্টিটিউটের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।[][][][][][][][১০]

প্রাথমিক জীবন

[সম্পাদনা]

গুলজার আজমির জন্ম ১৯৩৪ সালের ১ মে বোম্বেতে। তার বাবার নাম ছিল নূর মোহাম্মদ। উত্তর প্রদেশের খারেওয়ান, আজমগড়ে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি তার জীবনের বেশিরভাগ সময় মুম্বাইতে কাটিয়েছেন। তিনি তার ছয় ভাইবোনের মধ্যে পঞ্চম ছিলেন। মাত্র ৫ বছর বয়সে তার মায়ের ছায়া তার মাথা থেকে সরে যায়। তার প্রাথমিক শিক্ষা মুম্বাইয়ের ইমাম বাদায় অবস্থিত জেআর মিউনিসিপ্যাল স্কুলে সম্পন্ন হয়েছি। সেখানে তিনি পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েন। তারপর তিনি মুম্বাইয়ের মুহাম্মদ আলী রোডে অবস্থিত মাদ্রাসা দারুল উলুম ইসলামিয়ায় ধর্মতত্ত্ব এবং আরবি বিভাগে ভর্তি হন। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর সে তার বড় ভাইয়ের সাথে লেদ মেশিন টার্নারের কাজ শুরু করেন। প্রাথমিক যুগে তিনি সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনগুলিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। ১৯৫০ সাল থেকে তিনি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের হয়ে কাজ শুরু করেন। তিনি দলের একজন সিনিয়র নেতা হয়ে ওঠেন। [১১] জমিয়তের বিভক্তির পর, গুলজার ২০০৮ সালে আরশাদ মাদানী [১২][১৩] পক্ষের সঙ্গে ছিলেন।

২০১৫ সালে, তাকে মুম্বাইয়ের বাজম-ই-শাম’-ই-আদব কর্তৃক সিপাহ সালার-ই-মিল্লাত পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।[১৪]

আইনি সেল

[সম্পাদনা]

২০০৬ সাল থেকে, জমিয়ত কর্তৃক একটি আইনি সেল প্রতিষ্ঠা করে। এটি মিথ্যাভাবে জড়িত সন্ত্রাস-অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা প্রদান করে। [১৫] গুলজার আজমি আইনি সেলের দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।[১৬][১৭][১৮][১৯][২০] তিনি ৫০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির মামলা তদারকি করেছিলেন। তাদের বেশিরভাগকেই সন্ত্রাসী মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। ২০ আগস্ট ২০২৩ তারিখে তার মৃত্যুর সময়, তার নেতৃত্বে থাকা দল ৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১২৫ জনের আজীবন কারাদণ্ডের মামলা পরিচালনা করছিল।

গুলজার ভারতের প্রতিটি রাজ্যে আইনি দল গঠনের জন্য তার সময় ব্যয় করেছিলেন। শহীদ আজমি তার প্রথম সহযোগী আইনজীবীদের একজন ছিলেন। [২১][২২][২৩] তিনি ২০০৬ সালের মুম্বাই ট্রেন বোমা হামলা, ২০০৬ সালের মালেগাঁও বোমা হামলা,[২৪] ঘাটকোপার বিস্ফোরণ মামলা, ২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলা মামলার অভিযুক্তদের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। বন্দুকধারীর গুলিতে শহীদ আজমী মারা যান। আইনি সেলটি ফাঁসানো সন্ত্রাস মামলার সন্দেহভাজনদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা বিচার আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেছিল।[১১][২৫][২৬]

গুলজার আইনি দলের পক্ষ থেকে সম্প্রদায়ের মধ্যে আইন পড়ার জন্য বৃত্তি কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। প্রতিবছর সংগঠনটি ২৫ থেকে ৩০ জন আইনের ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি দেয়।[ তথ্যসূত্র প্রয়োজন ] [২৭]

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

রবিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৩, যখন গুলজার সাহেব মাগরিবের নামাজের জন্য অজু করতে যাচ্ছিলেন তখন তার পা পিছলে পড়ে মাথায় আঘাত পান। সেই সময় তিনি আঘাত অনুভব করেননি এবং মনেও রাখেননি যে তিনি পড়ে গেছেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে সে ঘুমিয়ে পড়েন। পরের দিন সকালে যখন গুলজার সাহেবের জ্ঞান না ফিরে আসলে তখন তাকে মুম্বাইয়ের মাসেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসায় জানা যায় যে তার মস্তিষ্ক তার স্থান থেকে সরে গেছে এবং মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে। ডাক্তাররা তাৎক্ষণিকভাবে মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার শুরু করেন এবং চিকিৎসা সফল হয়। কিন্তু তার জ্ঞান ফিরে আসেনি। ২০ আগস্ট, ২০২৩, সকাল ১০:২৭ মিনিটে তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি মারা যান। তার দাফনের নামাজ পিরু লেন, পাঠান ওয়াড়িতে পড়া হয়। তার মরদেহ মেরিন লাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। [২৮][২৯]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "'Ya Rab' faces court challenge"Business Standard (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৪
  2. "Cleric slams draft Haj policy, says equality should start with"Business Standard (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ অক্টোবর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৪
  3. TwoCircles.net (৯ জানুয়ারি ২০১৫)। "Gulzar Azmi: A man with hunger for integrity and justice"TwoCircles.net (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. Tarar, Aditya (১৩ জুন ২০২২)। "The matter of bulldozer action reached the Supreme Court, Jamiat Ulema-e-Hind filed a petition"Hindustan News Hub (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩
  5. "Jamait Ulema-e-Hind slams BJP leader over terror charge, ban demand"The Economic Times। ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪। আইএসএসএন 0013-0389। ২২ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩
  6. "Sabrang Alternative News Network"sabrang.com। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩
  7. Munsif (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)। "Supreme Court questions Love Jihad Law constitutionality, asks Central Government response"The Munsif Daily | Latest News India | World News | National and International Headlines (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩
  8. "Akshardham Temple attack case: Six acquitted seek compensation from Gujarat government"DNA India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩
  9. "Initiative to free nine 'framed' for blast Cops on thin ice after Aseemanand case"www.telegraphindia.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩
  10. "From Religious Harmony to Communalism to Terrorism to Genocide"The Milli Gazette (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৪
  11. 1 2 "How Gulzar Azmi Helped Wrongly Implicated Terror-Accused Fight for Justice Across India"The Wire। ২৩ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩
  12. "NGO working for Muslim community gives scholarship to Hindus"The Economic Times। ২৩ জুলাই ২০১৫। আইএসএসএন 0013-0389। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩
  13. "Arshad Madni elected JUH head for fourth time"The Milli Gazette (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৪
  14. "AWARDS"The Milli Gazette (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৪
  15. "An innocent man deserves a fair trial: Jamiat Ulama-i-Hind president"The New Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩
  16. "Gulzar Azmi, Face Of Jamiat Ulema-I-Hind And Advocate For Terror Accused, Passes Away"Free Press Journal (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩
  17. "Ramadan charity seeks to free 'innocent' Indian Muslims"BBC News (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ৬ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৪
  18. "Bid to use zakat to fund defence of Muslims accused in terror cases"The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ জুন ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৪
  19. "Two men, cleared of UAPA charges, regret the 9 years they lost in jail"India Today। ১৭ জুন ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৪
  20. "लखनऊ से गिरफ्तार संदिग्धों को कानूनी मदद देगी जमीयत उलेमा-ए-हिंद, आरोपियों के परिवार ने की थी अपील"Navbharat Times (হিন্দি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৪
  21. Sayed, Nazia; Hakim, Sharmin (১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬)। Six Minutes of Terror: The Untold Story of the 7/11 Mumbai Train Blasts (ইংরেজি ভাষায়)। Penguin UK। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮৬০৫৭-৫২-৫
  22. Mandhani, Apoorva (২২ জুলাই ২০২২)। "Shahid Azmi fought for wrongly accused all life. His own murder case let down by Jamiat, court"ThePrint (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৪
  23. "Threats, slurs, insults: It's a hard life for lawyers defending terror suspects"Hindustan Times (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৪
  24. "Malegaon blast: 7 accused to walk free today after 5 yrs"India Today (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩
  25. "Death sentence given in India train blasts case"Al Jazeera (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৪
  26. "Aurangabad Arms Case: Bilal Katib breathes fresh air after 16 years"ETV Bharat News (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ আগস্ট ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৪
  27. "NGO working for Muslim community gives scholarship to Hindus students"The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ জুলাই ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৪
  28. "ഭീകരവാദ കേസുകളിലെ നിരപരാധികൾക്ക് വേണ്ടി പോരാടിയ ജംഇയ്യത്ത് നേതാവ് ഗുൽസാർ അസ്മി അന്തരിച്ചു"Madhyamam (মালয়ালম ভাষায়)। ২০ আগস্ট ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৪
  29. Taslim, Nuruddin (২৮ ডিসেম্বর ২০২৩)। "২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বিদায় নিয়েছেন যে আলেমরা"Dhaka Post। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৪