গুটিদাড়া
| বৈশিষ্ট্যসমূহ | |
|---|---|
| শারীরিক সংস্পর্শ | না |
| দলের সদস্য | প্রতি দলে ১১ জন |
| মিশ্রিত লিঙ্গ | না |
| ধরন | দলগত খেলা |
| খেলার সরঞ্জাম | মহিষের শিংয়ের ঘুঁটি ও বাঁশের লাঠি |
| ভেন্যু | খোলা মাঠ, ফসলি জমি |
| প্রচলন | |
| দেশ বা অঞ্চল | ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
গুটিদাড়া বাংলাদেশের গ্রামীণ খেলা। দলগত খেলা গুটিদাড়ায় নির্ধারিত সময়ে গোলাকার ঘুঁটি (গুটি নামে প্রচলিত) ছোট লাঠি দিয়ে আঘাত করে সীমানার বাইরে ছুড়ে ফেলা পয়েন্ট অর্জনের চেষ্টা করা হয়। মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী খেলা। এই জেলায় প্রবীণ-নবীনদের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে গুটিদাড়া খেলা আয়োজনের ঐতিহ্য আছে।[১] জেলার প্রায় সব গ্রামে ফসল কাটানোর পর গুটিদাড়া খেলা হয়।[২]
বর্ণনা
[সম্পাদনা]গুটিদাড়া একটি দলগত খেলা। দুইদলে ভাগ হয়ে খেলা হয়। প্রতি দলে ১১ জন খেলোয়াড় থাকেন।[১] সাধারণত ফসল তোলার পর জমিতে গুটিদাড়া খেলা হয়।[৩] মাঠের সীমা নির্ধারণ হয়, খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়ায়। প্রতিদল ৩০ মিনিট করে দাড়া বা লাঠি দিয়ে গুটিতে আঘাত করে অনেক দূরে সীমানার বাইরে নিতে চেষ্টা করেন। অন্যদলের খেলায়াড় সেই গুটি লুফে নিতে চেষ্টা করেন। লুফে নিলে প্রতিপক্ষের পয়েন্ট কাটা বলে গণ্য হয়। সীমানা পার করার সময় বিপক্ষ দলের কেউ লুফে নিতে ব্যর্থ হলে গুটি ছোড়া দল পয়েন্ট অর্জন করে। এভাবে বেশি পয়েন্ট অর্জন করা দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।[৪]
খেলা পরিচালনার জন্য দুইজন রেফারি থাকেন। মুদ্রা নিক্ষেপের মাধ্যমে ঘুঁটি ছোড়ার সুযোগ নির্ধারিত হয়।[২]
সরঞ্জাম
[সম্পাদনা]গুটিদাড়া খেলার মূল সরঞ্জাম দুইটি - মহিষের শিং থেকে বানানো গোলাকৃতির ঘুঁটি ও বাঁশের তৈরি দেড় হাত লম্বা লাঠি। মহিষের শিং থেকে বানানো ঘুঁটি বর্তমানে দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় মেশিনে বানানো কৃত্রিম ঘুঁটি দিয়ে খেলা হয়।[১]
ঐতিহ্য ও প্রচলন
[সম্পাদনা]গুটিদাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রচলিত। বর্তমানে বাংলাদেশের সব জেলায় খেলাটির প্রচলন না থাকলেও এটিকে গ্রামীণ খেলা হিসেবে বাংলাদেশের ঐতিহ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থানীয় সাহিত্য অ্যাকাডেমির উদ্যোগে সাংগঠনিকভাবে শহরের পৌর এলাকার শেরপুরে ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতিবছর নবীন-প্রবীণদের মধ্যে গুটিদাড়া খেলার রীতি আছে।[৫] বার্ষিক প্রতিযোগিতা ছাড়াও খেলোয়াড়রা জেলার শাহবাজপুর, সরাইলসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।[৪]
তথ্যসূত্ৰ
[সম্পাদনা]- 1 2 3 বাবু, বিশ্বজিৎ পাল (১৫ জানুয়ারি ২০২৪)। "মহিষের শিং দিয়ে তৈরি গুটিতে প্রবীণ-নবীন লড়াই"। কালের কণ্ঠ। ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৪।
- 1 2 "ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গুটিদাড়া খেলা অনুষ্ঠিত"। সময়ের আলো। ১৫ জানুয়ারি ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ "ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঐতিহ্যবাহী গুটিদাড়া খেলা অনুষ্ঠিত"। দৈনিক ইত্তেফাক। ১৪ জানুয়ারি ২০২৪। ১৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৪।
- 1 2 "ঐতিহ্যবাহী 'গুটিদাড়া' খেলা দেখতে দর্শকদের ঢল"। বাংলা ট্রিবিউন। ১৫ জানুয়ারি ২০২৪। ১৪ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ "ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঐতিহ্যবাহী গুটিদাড়া খেলা অনুষ্ঠিত"। যায় যায় দিন। ১৫ জানুয়ারি ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২৪।