গিলবার্ট পার্কহাউজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গিলবার্ট পার্কহাউজ
গিলবার্ট পার্কহাউজ.jpg
১৯৪৯ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে গিলবার্ট পার্কহাউজ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামউইলিয়াম গিলবার্ট অ্যান্থনী পার্কহাউজ
জন্ম(১৯২৫-১০-১২)১২ অক্টোবর ১৯২৫
সোয়ানসী, গ্ল্যামারগন, ওয়েলস
মৃত্যু১০ আগস্ট ২০০০(2000-08-10) (বয়স ৭৪)
কারমার্দেন, ওয়েলস
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম পেস, কোচ
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৪৮)
২৪ জুন ১৯৫০ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট২৮ জুলাই ১৯৫৯ বনাম ভারত
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৪৮ - ১৯৬৪গ্ল্যামারগন
১৯৫০ - ১৯৫০/৫১এমসিসি
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৪৫৫
রানের সংখ্যা ৩৭৩ ২৩,৫০৮ ১৭
ব্যাটিং গড় ২৮.৬৯ ৩১.৬৮ ১৭.০০
১০০/৫০ ০/২ ৩২/১২৯ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৭৮ ২০১ ১৭
বল করেছে ২২৯
উইকেট
বোলিং গড় ৬২.৫০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/– ৩২৪/– ১/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৯ মার্চ ২০২০

উইলিয়াম গিলবার্ট অ্যান্থনী পার্কহাউজ (জন্ম: ১২ অক্টোবর, ১৯২৫ - মৃত্যু: ১০ আগস্ট, ২০০০) গ্ল্যামারগনের সোয়ানসী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ওয়েলসীয় বংশোদ্ভূত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও রাগবি ইউনিয়ন খেলোয়াড় ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন গিলবার্ট পার্কহাউজ

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত গিলবার্ট পার্কহাউজের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। গিলবার্ট পার্কহাউজ ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময়ই গ্ল্যামারগনের পক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, সোয়ানসীর পক্ষে রাগবি ইউনিয়ন খেলতেন তিনি।[১]

ওয়ালসের সোয়ানসী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী গিলবার্ট পার্কহাউজ গ্লুচেস্টারশায়ারের স্টোনহাউজে ওয়াইক্লিফ কলেজে পড়াশুনো করেছিলেন। যুদ্ধকালীন গ্ল্যামারগনের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীবিহীন খেলায় অংশ নেন। এছাড়াও ১৯৪৫ সালে আনুষ্ঠানিক খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৬ সালে উইজডেনে বলা হয় যে, তিনি সহজাত ভঙ্গীমায় গৌরবোজ্জ্বল অধিকারী খেলোয়াড়।[২]

১৯৪৮ সালে মৌসুম-পূর্ব প্রীতিখেলার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। তিন নম্বরে অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামেন ও পুরো মৌসুমেই এ অবস্থানে ব্যাটিং করেন। এ পর্যায়ে তার দল গ্ল্যামারগন প্রথমবারের মতো কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করেছিল। চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম খেলায় এসেক্সের বিপক্ষে ৪৬ ও ৫৯ রান তুলেন।[৩] মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে নিজস্ব প্রথম সেঞ্চুরির সন্ধান পান। সোয়ানসীতে সাসেক্সের বিপক্ষে ১১৭ রান করেন। এক সপ্তাহ বাদে হালে অনুষ্ঠিত খেলায় ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে করেন ১০৩ রান।[৪][৫] আগস্ট মাসে কিছুটা ছন্দহীনতার কবলে পড়লেও সামগ্রিকভাবে প্রথম মৌসুমে ২৫.০৭ গড়ে ১২০৪ রান তুলেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ কাউন্টি ক্যাপ লাভ করেন তিনি।[৬]

১৯৪৯ সালে গ্ল্যামারগন দল তাদের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারেনি। তবে, পার্কহাউজ তার পরিসংখ্যানের উত্তরণ ঘটাতে সচেষ্ট হন। ৩৩.১৩ গড়ে ১৪৯১ রান তুলেন তিনি।[৬] এ মৌসুমে দুইবার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান করেন। মৌসুমের প্রথম খেলায় হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ১২৬ ও জুলাইয়ের শুরুতে ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ১৪৫ রান তুলেন।[৭][৮]

স্বর্ণালী অধ্যায়[সম্পাদনা]

১৯৫১ সালে গ্ল্যামারগনের পক্ষে কাউন্টি খেলায় ফিরে আসেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্লিফ্টের প্রত্যাবর্তন ঘটলে তিনি পূর্বেকার তিন অবস্থানে খেলার সুযোগ পান। ১৯৫০ সালের ন্যায় এবারও মাঝারিমানের খেলা উপহার দেন। মাত্র দুই সেঞ্চুরি সহযোগে ২৭.৮৬ গড়ে ১২৮২ রান তুলেন।[৬] উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, তিনি নিরাশ করেছেন। বিশেষ করে স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসের অভাব ও এমরিজ ডেভিসের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে না খেলায় এর প্রধান কারণ ছিল।[৯]

১৯৫১ সাল থেকে পরবর্তী আট মৌসুম একই ধরনের খেলা উপহার দেন গিলবার্ট পার্কহাউজ। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে প্রত্যেক মৌসুমেই সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। প্রত্যেক মৌসুমেই দুইয়ের অধিক সেঞ্চুরি করেন। ব্যতিক্রম হিসেব ১৯৫২ ও ১৯৫৮ সালে কোন সেঞ্চুরির সন্ধান পাননি। ঐ মৌসুমগুলোর অধিকাংশ সময়ে ৩০-এর গড়ে রান পেয়েছিলেন। ১৯৫৭ সালে স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। ৩৫.৬৯ গড়ে ১৬৪২ রান তুলেন। ১৯৫৮ সালে নিকৃষ্ট সময় পাড় করেন। ২৪.৪৭ গড়ে ১১২৬ রান তুলেন।[৬] ১৯৫৩ সাল থেকে ইনিংস উদ্বোধনে ফেরৎ যান। শুরুতে এমরিজ ডেভিস, তারপর ক্লিফ্ট কিংবা অধিনায়ক উইল্ফ উলার ও অবশেষে বার্নার্ড হেজেসের সাথে নিয়মিতভাবে ব্যাটিং উদ্বোধন করতেন। ১৯৫৪ সালে নিজস্ব সর্বোচ্চ রানকে আরও বৃদ্ধি করেন। লর্ডসে মিডলসেক্সের বিপক্ষে ১৮২ রান করেন।[১০] দুই বছর পর ১৯৫৬ সালে ব্যক্তিগত সংগ্রহকে আরও স্ফীত করেন। সোয়ানসীতে কেন্টের বিপক্ষে ২০১ রান সংগ্রহ করেন তিনি।[১১]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন গিলবার্ট পার্কহাউজ। ১৯৫০, ১৯৫০-৫১ ও ১৯৫৯ সালে এ সাতটি টেস্ট খেলেন। ২৪ জুন, ১৯৫০ তারিখে লর্ডসে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৩ জুলাই, ১৯৫৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৫০ সালে গিলবার্ট পার্কহাউজের গুণবন্ধনায় মেতে উঠে উইজডেন কর্তৃপক্ষে। তাদের ভাষায় তিনি প্রায় দুর্দান্তগতিতে অগ্রসর হয়েছেন। এক মৌসুমে গ্ল্যামারগনের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে নিজের করে নিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে সহস্রাধিক রান স্পর্শ করেন।[১২] নিয়মিত ব্যাটিং উদ্বোধক ফিল ক্লিফ্টের অনুপস্থিতিতে গ্ল্যামারগন কর্তৃপক্ষকে নতুনভাবে ব্যাটিংয়ের অবস্থানে সাজাতে হয়। ফলশ্রুতিতে জুনের শুরুতে পার্কহাউজকে এমরিজ ডেভিসের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামানো হয়।[১৩] পরবর্তী প্রথম-শ্রেণীর খেলায় কম্বাইন্ড সার্ভিসেসের বিপক্ষে ১২৭ রান তুলেন। এ ইনিংসটি ধারাবাহিকভাবে তৃতীয় শতক ছিল।[১৪] এর মাত্র ১০ দিন পর সারের বিপক্ষে ১৬১ রান করেন। এরফলে, পূর্বতন সেরা সংগ্রহকে ছাপিয়ে যান তিনি।[১৫]

ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৫০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে ইংল্যান্ড দলে রাখা হয়। লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। ডেনিস কম্পটনের আঘাতপ্রাপ্তি এবং রেগ সিম্পসনট্রেভর বেইলিকে দলের বাইরে রাখার কারণেই মূলতঃ তিনি এ সুযোগ পেয়েছিলেন। পার্কহাউজ পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন। প্রথম ইনিংসে সনি রামাদিনআল্ফ ভ্যালেন্টাইনের স্পিন বোলিং মোকাবেলা করে ৩০ বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বেশ ভালো খেলেন। সিরিল ওয়াশব্রুকের সাথে চতুর্থ উইকেটে ৭৮ রান তুলেন। ৪৮ রান করে আউট হন ও দলে ওয়াশব্রুকের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হন।[১৬] উইজডেনে তার ইনিংসের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। পার্কহাউজ তার প্রথম টেস্টের মাধ্যমে সুন্দর ইনিংস খেলে সতর্কবার্তা পাঠান। খুব সুন্দর ইনিংস খেলেছেন তিনি। সাহসী, আত্মবিশ্বাসী ও স্ট্রোকের বৈচিত্র্যতা ছিল। চতুর্থ দিনের শেষ ওভারে ফুল টসের বলটি সোজাভাবে না মেরে সিলি মিড অফ এলাকা দিয়ে মারতে গিয়ে আউট হন। যখন ওয়াশব্রুকের কল্যাণে খেলাকে রক্ষা করার ভাবনা বৃদ্ধি পেতে থাকে, ঠিক তখনই এ ভুলটি হয়ে যায়।[১৭] ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম ওভারেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম জয় তুলে নেয়।

গ্ল্যামারগনে ফিরে এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা রানের রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। লেনলি’র স্ট্রাডি পার্কে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬১ রান তুলেছিলেন।[১৮] এর পরের খেলাতেই আরেকটি সেরা ইনিংস খেলেন। কিডারমিনস্টারে অনুষ্ঠিত বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ১৬২ রান সংগ্রহ করেন।[১৯]

ট্রেন্ট ব্রিজের তৃতীয় টেস্টেও পার্কহাউজ তার পূর্ববর্তী খেলার ধারা অব্যাহত রাখেন। প্রথম ইনিংসে ফলো-অনের কবলে পড়ে তার দল। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে বেশ ভালো খেলে। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ২৫/৪ হয়। তিনি ১৩ রান তুলেন। ২২৩ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস। এর প্রত্যুত্তরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫৫৮ রান তুলে। দ্বিতীয় ইনিংসে সিম্পসন ও ওয়াশব্রুক ইংল্যান্ডের ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নেমে ২১২ রান তুলে। তবে পনেরো মিনিটের মধ্যেই উভয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে আসেন। উইজডেনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, এরপর শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। জন ডিউজ ও পার্কহাউজ প্রথম জুটির চেয়েও ভালো খেলেন। এক পর্যায়ে দলের সংগ্রহ ৩২৬/২ হয়। তখন ইংল্যান্ড মাত্র নয় রান পিছিয়ে ছিল।[২০] কিন্তু, তারপর পার্কহাউজ ৬৯ রানে ফিরে যান। অপর দুই ব্যাটসম্যান দ্রুত বিদেয় নিলে ঐ খেলায় তার দল ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করে।[২১]

পরদিন লর্ডসে ইংল্যান্ড দলের ১১ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে দশজন বার্ষিকাকারে জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ার্সের মধ্যকার খেলায় অংশ নেন। প্রায়শই এর মাধ্যমে টেস্ট দলে খেলোয়াড়ের অন্তর্ভূক্তি করা হতো। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রান তুলে প্রায় একাই প্লেয়ার্স দলকে জয়লাভ করান।[২২] তবে, ওভালে সিরিজের চতুর্থ টেস্টের জন্য দলে নাম ঘোষণা করা হয়লে পার্কহাউজকে রাখলেও উইজডেনে তার মারাত্মক ঠাণ্ডার কবলে পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়।[২০] কাউন্টি ক্রিকেটে ১০ দিন খেলতে পারেননি। ১৯৫০ সালে সবগুলো ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়ে ৪৫.৩৮ গড়ে ১৯৯৭ রান তুলেন।[৬]

অস্ট্রেলিয়া গমন[সম্পাদনা]

১৯৫০-৫১ মৌসুমে অ্যাশেজ সিরিজ খেলার জন্যে ফ্রেডি ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে তিনি তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, অফ-সাইডে কিছুটা পরিচ্ছন্ন খেলা উপহার দিলেও ফাস্ট বোলারদের বিপক্ষে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি ও শর্ট বাউন্সারেও ব্যতিব্যস্ত থাকেন। তার এ ধরনের রক্ষণশৈলী খেলায় শারীরিক অসুস্থতা ও আঘাত প্রধান বিষয় ছিল। ফলশ্রুতিতে, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন।[২৩]

প্রথম টেস্ট শুরুর পূর্বে তিনি মাত্র একটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরে অবশ্য তাকে খেলায় নামানো হয়নি। অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে চারদিনের খেলায় অংশ নিয়ে ৫৮ ও ৪৬ রান করেন। ঐ দলটিতে আর্থার মরিস, কিথ মিলারনীল হার্ভে’র ন্যায় উদীয়মান তারকা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি ছিল। উইজডেনে মন্তব্য করে যে, পার্কহাউজ কার্যকর রান সংগ্রহ করলেও তিনি তার সেরা খেলা উপহার দিতে পারেননি।[২৪][২৫] এ দুই ইনিংসের কল্যাণে মেলবোর্নে অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের জন্যে তাকে দলে নেয়া হয়। নিম্নমূখী রানের খেলায় প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের প্রধান ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পড়ে। তিনি নয় রান তুলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন তিনি। জয়ের জন্যে মাত্র ১৭৯ রানের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে ২৯ রান বাকী থাকতেই সফরকারী দলের ইনিংস থেমে যায়। তিনি ২৮ রান তুলেছিলেন।[২৬] নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে পরের খেলায় ৯২ রান করেন। এটিই এ সফরে তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল। ফলশ্রুতিতে, সিডনিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করেন।[২৭] কিন্তু, এ টেস্টেও আবারও পরাজয়ের মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড দল। তিনি ২৫ ও ১৫ রান তুলেন।[২৮]

ইতোমধ্যেই সিরিজ পরাজয়বরণ করলে দল নির্বাচকমণ্ডলী চতুর্থ টেস্টের জন্যে খেলোয়াড় রদবদল করেন। ডেভিড শেপার্ডকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। সীমিত সুযোগ ও অনুজ্জ্বল রানের কারণে তাকে আর সিরিজে খেলানো হয়নি। তবে, নিউজিল্যান্ডে পদার্পণ করে আঘাতের কারণে দুই টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের দ্বিতীয়টিতে তাকে পুণরায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। নিম্নমূখী রানের খেলায় ২ ও ২০ করেন।[২৯]

ভারতের মুখোমুখি[সম্পাদনা]

১৯৫৯ সালে পার্কহাউজের খেলায় বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তার ব্যাটিংয়ের ধরন ও দ্রুতগতিতে রান সংগ্রহ করার প্রবণতা এবং হেজেসের সাথে কাউন্টি খেলায় উদ্বোধনী জুটিতে শক্তভাবে ভিত গড়া প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। উইজডেনে উল্লেখ করা হয় যে, ১৯৫৮ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে দলে ভিত গভীরতর হওয়ায় শিরোপার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাব গড়ে উঠে।[৩০] মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই গিলবার্ট পার্কহাউজ চারটি সেঞ্চুরি করে ফেলেন। পূর্বেকার শীত মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিপর্যয়কর অ্যাশেজ সিরিজ খেলার পর টেস্ট মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে মাঝারিমানের ভারত দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে ইংল্যান্ড দলনির্বাচকমণ্ডলী ল্যাঙ্কাশায়ারের বামহাতি ব্যাটসম্যান জিওফ পুলারকে দলে নেয়। লিডসের হেডিংলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে পুলারের সাথে নতুন উদ্বোধনী জুটি গড়েন। উইজডেনের ভাষ্য মতে, নতুন এ জুটি বেশ ভালোভাবে সন্তুষ্টিবিধান করতে পেরেছে। প্রথম ইনিংসে এ দুজন ১৪৬ রান তুলেন। এ সংগ্রহটি গত ২৬ টেস্টের মধ্যে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ ছিল। এছাড়াও, ভারতের বিপক্ষে দলটি প্রথম উইকেটে সর্বোচ্চ রান তুলে।[৩১] পার্কহাউজ ৭৮ ও পুলার ৭৫ রান তুলেন। ইংল্যান্ড দল ইনিংস ব্যবধানে বিজয়ী হয়।[৩২]

পার্কহাউজ ও পুলারকে সিরিজের চতুর্থ টেস্টের জন্যেও দলে রাখা হয়। ওল্ড ট্রাফোর্ডে পুলার ১৩১ রান তুলেন। ল্যাঙ্কাশায়ারীয় এই ব্যাটসম্যান নিজ মাঠে তার প্রথম সেঞ্চুরির সন্ধান পান। তবে, সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পেরে হুকের মারে প্রথম ইনিংসে ১৭ রানে বিদেয় নেন। সফরকারী দলকে ফলো-অনে না ফেলে দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড খেলে। ভারত দল রক্ষণাত্মক বোলিংয়ে অগ্রসর হয়। উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, পার্কহাউজ ও পুলার - উভয়েই ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এমসিসি দলের সদস্য হিসেবে স্থান পেতে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। ফলে, তারা কোন ঝুঁকি নেননি ও উদ্দেশ্যবিহীন ক্রিকেট খেলায় ১৩,০০০ দর্শকের অধিকাংশের কাছে বিরক্তির উদ্রেক ঘটান।[৩৩] পার্কহাউজ ৪৯ রান তুলে দলের ইনিংসে সর্বোচ্চ রানধারী হন।[৩৪] কিন্তু, এটিই টেস্ট খেলোয়াড় হিসেবে তার সর্বশেষ খেলায় অংশগ্রহণ ছিল। সিরিজের পঞ্চম টেস্টের জন্যে রমন সুব্বা রাওকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ঐ মৌসুমের শীতকালে তাকে দলে রাখা হয়নি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পরও ১৯৫৯ সালের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে গিলবার্ট পার্কহাউজ তার দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী অব্যাহত রাখেন। ১৯৫০ সালের খেলাকেও তিনি ছাঁপিয়ে যান। এ মৌসুমে ২২৪৩ রান তুলেন। এক মৌসুমে এটিই তার একমাত্র দুই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা ছিল। ৪৮.৭৬ গড়ে সংগৃহীত এ রান ঐ মৌসুমের নবম স্থানে নিয়ে যায়।[৬][৩৫]

অবসর[সম্পাদনা]

স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে অগ্রসর হবার ফলে পরবর্তী তিন মৌসুম ১৯৫০-এর দশকের ন্যায় মৌসুমে সহস্র রানের দিকে নিয়ে যান তিনি। এ পর্যায়ে দুই সেঞ্চুরি বা এর কম সেঞ্চুরি করতেন ও ইনিংস প্রতি ৩০-এর রানের দিকে থাকতেন।[৬] মে, ১৯৬০ সালে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ১২১ রান করেন। এরফলে, অন্য ষোলটি প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি দলের বিপক্ষে কমপক্ষে একটি সেঞ্চুরি করার কীর্তিগাঁথা রচনা করেন তিনি।[৩৬]

১৯৬২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ১২৪ রান তুলেন। গ্ল্যামারগনের সদস্যরূপে প্রতিপক্ষীয় দলটির বিপক্ষে এটি তার ৩২তম শতক ছিল। এমরিজ ডেভিসের গড়া ৩১ শতকের রেকর্ড ভেঙ্গে নিজের করে নেন।[৩৭] তবে, মৌসুমের শেষদিকে ১২টি কাউন্টি খেলা থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়। ১৯৪৮ সালে গ্ল্যামারগনের পক্ষে অভিষেক ঘটার পর এটিই প্রথম ঘটনা হিসেবে তাকে দলের বাইরে রাখা হয়েছিল।[৩৮] ১৯৬৩ সালে মাত্র ১১ খেলায় অংশ নেন। ১৯৬৪ সালে অর্ধ-ডজন খেলায় অংশগ্রহণ শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন গিলবার্ট পার্কহাউজ।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

ক্রিকেটার হিসেবে দ্রুতলয়ে রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখাতেন ও স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটাতেন। উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, তার ব্যাটিংশৈলীতে বিশেষ কারুকাজ ছিল না। তিনি অর্থোডক্স ভঙ্গীমায় ব্যাটিং করতেন। পিছনের পায়ে ভর রেখে দ্রুতগতিতে দক্ষতার সাথে হুক ও কভার ড্রাইভ উভয়টিই করতেন। এছাড়াও দর্শনীয় ভঙ্গীমায় অন ড্রাইভ মারতেন।[১]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ওরচেস্টারশায়ারের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি এডিনবরার দিকে ধাবিত হন। সেখানে তিনি স্টুয়ার্ট মেলভিল কলেজে ক্রিকেট ও রাগবি খেলায় প্রশিক্ষণ দেন। অবসর গ্রহণের পর ১৯৮৭ সালে ওয়েলসে চলে যান।[১]

১০ আগস্ট, ২০০০ তারিখে ৭৪ বছর বয়সে ওয়ালসের কারমার্দেন এলাকায় গিলবার্ট পার্কহাউজের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Obituary"। Wisden Cricketers' Almanack (2001 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 1597–1598। 
  2. "The Counties in 1945"। Wisden Cricketers' Almanack (1946 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 225 
  3. "Glamorgan v Essex"। www.cricketarchive.com। ৮ মে ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  4. "Glamorgan v Sussex"। www.cricketarchive.com। ৭ জুলাই ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  5. "Yorkshire v Glamorgan"। www.cricketarchive.com। ১৪ জুলাই ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  6. "First-class Batting and Fielding in each Season by Gilbert Parkhouse"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  7. "Glamorgan v Hampshire"। www.cricketarchive.com। ৭ মে ১৯৪৯। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  8. "Nottinghamshire v Glamorgan"। www.cricketarchive.com। ৬ জুলাই ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  9. "Glamorgan in 1951"। Wisden Cricketers' Almanack (1952 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 327–328। 
  10. "Middlesex v Glamorgan"। www.cricketarchive.com। ২১ জুলাই ১৯৫৪। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  11. "Glamorgan v Kent"। www.cricketarchive.com। ২৩ মে ১৯৫৬। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  12. "Glamorgan in 1950"। Wisden Cricketers' Almanack (1951 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 324 
  13. "Glamorgan v Somerset"। www.cricketarchive.com। ৩ জুন ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  14. "Glamorgan v Combined Services"। www.cricketarchive.com। ৭ জুন ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  15. "Glamorgan v Surrey"। www.cricketarchive.com। ১৭ জুন ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  16. "England v West Indies"। www.cricketarchive.com। ২৪ জুন ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  17. "West Indies in England, 1950"। Wisden Cricketers' Almanack (1951 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 232 
  18. "Glamorgan v Gloucestershire"। www.cricketarchive.com। ৮ জুলাই ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  19. "Worcestershire v Glamorgan"। www.cricketarchive.com। ১৫ জুলাই ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  20. "West Indies in England, 1950"। Wisden Cricketers' Almanack (1951 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 239 
  21. "England v West Indies"। www.cricketarchive.com। ২০ জুলাই ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  22. "Gentlemen v Players"। www.cricketarchive.com। ২৬ জুলাই ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  23. "M.C.C. Team in Australia and New Zealand, 1950–51"। Wisden Cricketers' Almanack (1952 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 791 
  24. "M.C.C. Team in Australia and New Zealand, 1950–51"। Wisden Cricketers' Almanack (1952 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 813 
  25. "Australian XI v Marylebone Cricket Club"। www.cricketarchive.com। ১৫ ডিসেম্বর ১৯৫০। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  26. "Australia v England"। www.cricketarchive.com। ২২ ডিসেম্বর ১৯৫০। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  27. "New South Wales v Marylebone Cricket Club"। www.cricketarchive.com। ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫০। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  28. "Australia v England"। www.cricketarchive.com। ৫ জানুয়ারি ১৯৫১। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  29. "New Zealand v England"। www.cricketarchive.com। ২৪ মার্চ ১৯৫১। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  30. "Glamorgan in 1959"। Wisden Cricketers' Almanack (1960 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 376 
  31. "India in England, 1959"। Wisden Cricketers' Almanack (1960 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 289 
  32. "England v India"। www.cricketarchive.com। ২ জুলাই ১৯৫৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  33. "India in England, 1959"। Wisden Cricketers' Almanack (1960 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 296 
  34. "England v India"। www.cricketarchive.com। ২৩ জুলাই ১৯৫৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  35. "First-class averages, 1959"। Wisden Cricketers' Almanack (1960 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 251 
  36. "Glamorgan v Leicestershire"। www.cricketarchive.com। ৭ মে ১৯৬০। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  37. "Cambridge University v Glamorgan"। www.cricketarchive.com। ১২ মে ১৯৬২। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  38. "Glamorgan in 1962"। Wisden Cricketers' Almanack (1963 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 409 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]