গার্ট্রুড মিড
গার্ট্রুড এলা মিড | |
|---|---|
![]() ১৮৯৪ সালে গার্ট্রুড মিড | |
| জন্ম | ৩১ ডিসেম্বর ১৮৬৭ |
| মৃত্যু | ৬ নভেম্বর ১৯১৯ (বয়স ৫১) |
| জাতীয়তা | অস্ট্রেলীয় |
| শিক্ষা | এমবিবিএস, অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয় |
| পেশা | ডাক্তার |
| আত্মীয় | লিলিয়ান মিড (বোন) |
| মেডিকেল কর্মজীবন | |
গার্ট্রুড এলা মিড (৩১ ডিসেম্বর ১৮৬৭ – ৬ নভেম্বর ১৯১৯) ছিলেন একজন অস্ট্রেলীয় চিকিৎসক এবং নারী ও শিশু অধিকার কর্মী। মিড ছিলেন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় নিবন্ধিত তৃতীয় নারী চিকিৎসক। তিনি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার শিশু সুরক্ষা সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং বয়স্কদের জন্য বৃদ্ধাশ্রম ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের প্রাথমিক প্রবক্তা ছিলেন।
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
[সম্পাদনা]গার্ট্রুড এলা মিড ১৮৬৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর অ্যাডিলেডে ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক সাইলাস মিড এবং অ্যান মিড (বিবাহপূর্ব নাম স্টেপলস)-এর তৃতীয় সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন।[১] যখন তার বয়স ছয় বছর, তখন তার মা মারা যান এবং তার বাবা ইংল্যান্ডে ফিরে গেলে তিনি ও তার ভাইবোনেরা তাদের খালা ও চাচার তত্ত্বাবধানে কিছু সময় কাটান।[২] তার বয়স যখন দশ বছর, তখন তার বাবা আবার বিয়ে করেন।[২]
মিড তার পরিবারের সাথে ফ্লিন্ডার স্ট্রিট ব্যাপটিস্ট চার্চে যেতেন এবং এমিলিয়া বেয়ার্টজের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পর ১৮৮১ সাল জলে ডুবে ব্যাপটিজম গ্রহণ করেন।[২] তিনি তার বোন লিলিয়ানের সাথে অ্যাডভান্সড স্কুল ফর গার্লস-এ পড়াশোনা করেন, যা ছিল দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং প্রথম স্কুল যেখানে মেয়েদের ম্যাট্রিকুলেশন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হত।[৩] তার বয়স ষোলো বছরের কম হওয়ায় উপাচার্যের "বিশেষ অনুমতিতে" ১৮৮২ সালে তিনি অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।[২] তিনি ১৮৮৪ সালে দ্বিতীয় শ্রেণীর সম্মানসহ ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন[৪] এবং ১৮৮৫ সালে রাজ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।[২] মিড ১৮৮৭ সালে আন্ত্রিক জ্বরে জীবনের বাকি সময়টা তার স্বাস্থ্য দুর্বল ছিল।[২]

মিড প্রাথমিকভাবে ১৮৯০ থেকে ১৮৯১ সাল পর্যন্ত অ্যাডিলেড চিলড্রেনস হসপিটালে নার্সিং প্রশিক্ষণ নেন এবং তারপর অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিবিএস পড়া শুরু করেন,[১][৫][৬] যেখানে তিনি প্রথম বর্ষে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।[২] তবে তাকে এবং তার দুই সহপাঠী মেডিকেল ছাত্রী ভায়োলেট প্লামার ও ক্রিস্টিনা এল. গুডকে অসদাচরণের অভিযোগের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে হয়েছিল - বিশেষ করে মিড সংবাদপত্রকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছিলেন যে তারা "কোনো অবস্থাতেই বিকেল ৫টার পর কোনো রোগীকে পরীক্ষা করেননি।"[২] তাদের অবশেষে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত করা হয় এবং ১৮৯৭ সালে সেখান থেকে তারা স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে।[১][৫] এরপর মিড দুই বছর যুক্তরাজ্যে কাটান এবং লন্ডনের বেলগ্রেভ হসপিটাল ফর চিলড্রেন, এডিনবরার লেইথ হাসপাতাল এবং ডাবলিন হাসপাতালে[২] আবাসিক চিকিৎসক ও আবাসিক শল্যচিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছিলেন।[১]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]মিড ১৯০১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন এবং পার্থে চলে যান, সেখানে তখন তার বাবা ও বোন ব্লাঞ্চ বসবাস করছিলেন।[২] তিনি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ডাক্তার হিসেবে নিবন্ধিত তৃতীয় মহিলা ছিলেন।[১][৭] তিনি নিজের বাড়ি থেকেই চিকিৎসা করতেন এবং নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যের উপর বিশেষ মনোযোগ দিতেন। তিনি মিনিস্টারিং চিলড্রেনস লীগ কনভালেসেন্ট হোমের চিকিৎসা উপদেষ্টা এবং সেন্ট জন অ্যাম্বুলেন্স অ্যাসোসিয়েশনের একজন নার্স প্রশিক্ষক ছিলেন।[২] মিড এবং রবার্টা জুল "শিশুদের মধ্যে উদ্বেগজনক মৃত্যুহার" মোকাবেলার জন্য ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান হেলথ সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ঔপনিবেশিক সচিবের কাছে মায়েদের শিক্ষা এবং দুগ্ধ খামারের পয়পরিষ্কার ব্যবস্থার উন্নতির পরামর্শ দেন।[২]
মিড ১৯০৪ থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত অবিবাহিত মায়েদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হাউস অফ মার্সির মেডিকেল অফিসার ছিলেন এবং ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পার্থ চিলড্রেনস হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন।[১] ১৯১৬ সালে কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতাল চালু হলে তিনি অস্ট্রেলিয়ান ট্রেন্ড নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রসূতিবিদ্যার প্রতিনিধি ছিলেন।[১] তিনি যৌনবাহিত রোগের জন্য গঠিত ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান কাউন্সিলেও সেই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ১৯১৮ সালে একটি প্রতিবেদন পেশ করেন যেখানে এই বিষয়ে নার্সদের আরও বেশি শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।[১] তিনি পার্থে জেলা নার্সের ধারণা প্রস্তাব করেন।[৬]
মিড অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মহিলা ক্লাব কারাকাট্টা ক্লাবের সদস্য ছিলেন এবং ১৯১২ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচির সভাপতিও ছিলেন। তিনি মহিলাদের কাজ, আন্তর্জাতিক বিষয় এবং রেড ক্রস কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করতেন।[১] ১৯১২ সালে, তিনি ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনী সিনেটে চিকিৎসা প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হন। সরকার দ্বারা নির্বাচিত ১৮ জন সদস্যের মধ্যে তিনি ছিলেন দুজন মহিলার মধ্যে একজন,[৬][৮] এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী অধিকারের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেন।[৯] মিড তার জীবনের বাকি সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট এবং শিক্ষা কমিটিতে ছিলেন।[১]
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, মিড রেড ক্রস নার্সদের প্রশিক্ষণ দেন এবং ফ্রিম্যান্টল বেস হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও পার্থ ডিভিশনের শল্যচিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[১][৫] তিনি সেন্ট জন অ্যাম্বুলেন্স ব্রিগেডের আজীবন সদস্য ছিলেন।[৫]
মিড ১৯০৬ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার চিলড্রেনস প্রোটেকশন সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন,[১] যা 'বেবি ফার্মিং'-এর জঘন্য অপব্যবহারগুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিল এবং অভাবী শিশুদের যত্ন নেওয়ার জন্য উপযুক্ত পালক মায়েদের লাইসেন্স দেওয়া শুরু করেছিল।[১০] ১৯০৯ সালে, তিনি 'ডিপেন্ডেন্ট চিলড্রেন' গ্রন্থে লিখেছিলেন, "গত শতাব্দীতেই সভ্য বিশ্ব ধীরে ধীরে শ্বেতাঙ্গ পিতামাতার এমন শিশুদের প্রতি তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়েছে, যারা 'অনাকাঙ্ক্ষিত' হিসেবে বিবেচিত হয়।"[১১]
১৯১২ সালে, মিড সিলভার চেইন নার্সিং লীগের কমিটিতে যোগ দেন এবং বয়স্কদের জন্য কটেজ বাড়ি তৈরির একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করেন।[৫] মিড এবং মুরিয়েল চেজ উত্তর পার্থের রাইট স্ট্রিটে অবস্থিত প্রথম বাড়িটির নকশা ও সজ্জা তৈরী করেছিলেন।[১] তিনি অ্যাডিলেডে বয়স্কদের জন্য অনুরূপ একটি ধারণা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।[১] ১৯০৭ সালে, মিড ডব্লিউএ ব্যাপটিস্ট পত্রিকার জন্য "মেডিকেল মিশনস" নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন, যেখানে তিনি ডাক্তারদের "নিয়মিত চিকিৎসার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক কাজকেও গ্রহণ করার—অর্থাৎ শরীর নিরাময়ের পাশাপাশি মনকে জয় করার" প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।[১] মিড পার্থ সেন্ট্রাল ব্যাপটিস্ট চার্চের সদস্য ছিলেন, সেখানে তার ভগ্নিপতি এ.এস. উইলসন যাজক ছিলেন। তিনি "দরিদ্রদের প্রতি গভীর সহানুভূতির" জন্য পরিচিত ছিলেন।[১২]
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
[সম্পাদনা]মিড ১৯১৯ সালে নিজের ভাইয়ের সাথে দেখা করতে অ্যাডিলেডে ফিরে আসেন, তার ভাই ভারতে একজন চিকিৎসা ধর্মপ্রচারক ছিলেন এবং সেই সময় ছুটিতে ছিলেন। তিনি সেরিব্রাল এমবোলিজমে আক্রান্ত হন এবং ১৯১৯ সালের ৬ নভেম্বর মারা যান। তাকে ওয়েস্ট টেরেস কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।[১][১৩] তার মৃত্যুর পর, দ্য বুলেটিন সংবাদপত্র তাকে "[পার্থের] অন্যতম দরকারী নাগরিক" বলে অভিহিত করে।[১৪]
পার্থের সিলভার চেইন কটেজ হোমগুলো ১৯২০ সালে খোলা হয়েছিল, এবং ১৯৮১ সালে একমাত্র টিকে থাকা বাড়িটির নাম পরিবর্তন করে "ডঃ গার্ট্রুড মিড কটেজ হোম" রাখা হয়।[১][৭] ১৯৮৭ সালে, ফেডারেল সরকার অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরির চিশোলমে অবস্থিত মিড স্ট্রিটের নামকরণ তার নামে করে।[২][৭]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 Joske, Prue (১৯৮৬)। "Mead, Gertrude Ella (1867–1919)"। Australian Dictionary of Biography। খণ্ড ১০। Melbourne University Publishing।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 Pearce, Stefanie C (২০২৩)। "Gertrude: 'Beloved Physician'"। Rosalind M Gooden; Ken R Manley; Stefanie C Pearce (সম্পাদকগণ)। Silas Mead (1834-1909) and his Baptist family। Sydney: Morling Press। পৃ. ২৩১–২৫২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৪৫৪৯২৭-২-৯।
- ↑ "Advanced School for Girls in Adelaide in 1879 Australia's first public secondary girls school – 40 years before boys'"। Adelaide AZ।
- ↑ "University of Adelaide" (পিডিএফ)। Register। ১২ ডিসেম্বর ১৮৮৪। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১।
- 1 2 3 4 5 McCarthy, G. J. (২০ অক্টোবর ১৯৯৩)। "Mead, Gertrude Ella"। Encyclopedia of Australian Science।
- 1 2 3 Adrienne (১০ নভেম্বর ১৯১৯)। "The Late Dr Gertrude Mead: An Appreciation"। The West Australian। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১।
- 1 2 3 National Memorials Ordinance 1928: Determination। Australian Government Publishing Service। ১৫ মে ১৯৮৭।
- ↑ "Perth: Wednesday, 14 February 1912" (পিডিএফ)। Government Gazette। State of Western Australia। ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯১২। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১।
- ↑ Leong-Salobir, Cecilia Y. (২০১৩)। "Striving for equity and diversity"। University of Wollongong। পৃ. ৩। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১।
- ↑ Studies in Western Australian History, Volume 9। Department of History, University of Western Australia। ১৯৮৭। পৃ. ৪০।
- ↑ Interstate Congress of Workers (১৯০৯)। Dependent Children। WK Thomas। পৃ. ১৮৩।
- ↑ Hutton Neve, Marjorie (১৯৮০)। This Mad Folly: The History of Australia's Pioneer Women Doctors। Library of Australian History। পৃ. ১৫৫। আইএসবিএন ৯৭৮০৯০৮১২০৩৬৯।
- ↑ "Gertrude Ella Mead"। Find a Grave।
- ↑ "Personal Items"। The Bulletin। ডিসেম্বর ১৯১৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১।
- Pages using infobox medical person with unknown parameters
- ১৮৬৭ সালে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি
- ১৯১৯ সালে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি
- অ্যাডিলেডের চিকিৎসক
- অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- মেলবোর্ন মেডিকেল স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- ১৯শ শতাব্দীর অস্ট্রেলীয় চিকিৎসক
- ২০শ শতাব্দীর অস্ট্রেলীয় চিকিৎসক
- ২০শ শতাব্দীর অস্ট্রেলীয় নারী চিকিৎসক
- শিশু অধিকার কর্মী
- অস্ট্রেলীয় নারী অধিকার কর্মী
- ওয়েস্ট টেরেস কবরস্থানে সমাহিত ব্যক্তি
- অস্ট্রেলীয় ব্যাপটিস্ট
- অ্যাডভান্সড স্কুল ফর গার্লস-এ শিক্ষিত ব্যক্তি
- ইংরেজ বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় ব্যক্তি
- ১৮৬৭-এ জন্ম
- ১৯১৯-এ মৃত্যু
