গাধিমাই উৎসব
| গাধিমাই উৎসব गढ़िमाई पर्व | |
|---|---|
গধিমাই উৎসবে পশুপাখি | |
| ধরন | উৎসব |
| পুনরাবৃত্তি | পাঁচ বছর |
| ঘটনাস্থল | বারিয়ারপুর |
| অবস্থান (সমূহ) | বারা জেলা |
| পূর্ববর্তী ঘটনা | ২০১৯[১] |
| উপস্থিতি | ৫ মিলিয়ন মানুষ |
| ক্ষেত্র | গাধিমাই মন্দিরের চারপাশে ৩-৫ কিমি ব্যাসার্ধ |
| কার্যকলাপ | ধর্মীয় |
গাধিমাই উৎসব হলো ধর্মীয় উৎসব যা নেপালে প্রতি পাঁচ বছরে বারা জেলার বারিয়ারপুরের গাধিমাই মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়। ১৭৫৯ সালে সামন্ত প্রভু ভগবান চৌধুরী যখন স্বপ্ন দেখেন যে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দেবী গধিমাইয়ের উদ্দেশ্যে রক্তদান করতে হবে, তখন থেকেই এই উৎসবের সূত্রপাত হয়।[২] মূলত মাধেসি জনগণ এটি উদযাপন করে। শক্তির দেবী গাধিমাইকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানে মহিষ,[৩] শুকর, ছাগল, মুরগি ও কবুতর সহ অন্যান্য অনেক পশুদের বৃহৎ আকারে বলিদান করা হয়। লোকেরা নারকেল, মিষ্টি, লাল রঙের জামাকাপড় ইত্যাদিও দেয়।[৪] উৎসবটিকে বিশ্বের বৃহত্তম পশুবলি অনুষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।[৫][৬][৭][৮]
এটি অনুমান করা হয় যে ২০০৯ সালের গাধিমাই উৎসবের সময় ২৫০,০০০ পশুবলি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে, এটি ভুলভাবে রিপোর্ট করা হয়েছিল যে নেপালের মন্দির ট্রাস্ট উৎসবে সমস্ত ভবিষ্যতের পশুবলি বাতিল করার পরিকল্পনা করেছে।[৯][১০][১১]
উৎসব
[সম্পাদনা]দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই উৎসবে লক্ষাধিক লোক অংশগ্রহণ করে।[১২][১৩][১৪] কথিত আছে যে, এই উৎসবের উৎপত্তি হয়েছিল যখন সামন্ত প্রভু ভগবান চৌধুরী স্বপ্ন দেখেছিলেন যে তিনি জেল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দেবী গাধিমাইকে রক্ত বলি দিতে পারেন।[১৫]
অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বাস করেন যে হিন্দু দেবী গধিমাইয়ের উদ্দেশ্যে পশু বলিদান করলে মন্দের অবসান হয় এবং সমৃদ্ধি আসে। পশু অধিকার কর্মী এবং পার্বত্য অঞ্চলের নেপালি হিন্দুরা অসংখ্য প্রতিবাদ করেছেন।[১৬][১৭]
২০১৪ সালের অক্টোবরে, গৌরী মৌলেখি ( পিপল ফর অ্যানিম্যালস উত্তরাখণ্ডের ট্রাস্টি এবং হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল [এইচএসআই] পরামর্শদাতা) ভারত থেকে নেপালে পশুদের অবৈধভাবে জবাইয়ের জন্য পরিবহনের বিরুদ্ধে একটি আবেদন দায়ের করেন। এর পরে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করে ভারত সরকারকে নির্দেশ দেয় যে গধিমাইতে বলিদানের জন্য সীমান্ত পেরিয়ে পশুদের অবৈধভাবে পরিবহন করা বন্ধ করা হোক। [১৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Nepal animal sacrifice festival pits devotees against activists"। The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০২১।
- ↑ David N. Gellner; Sondra L. Hausner; Chiara Letizia (১ জানুয়ারি ২০২০)। Religion, Secularism, and Ethnicity in Contemporary Nepal। Oxford University Press। পৃ. ১৬৬–১৬৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-০৯৯৩৪৩-৬।
- ↑ Power, Gabriel। "What is Gadhimai festival and why is it so controversial?"। The Week UK (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০২১।
- ↑ Jolly, Joanna (২৪ নভেম্বর ২০০৯)। "Devotees flock to Nepal animal sacrifice festival"। BBC News। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০০৯।
- ↑ Patel, Atish (২ ডিসেম্বর ২০১৪)। "Smuggling a Sacrifice: Hindu Ritual Animal Slaughter Hit by Border Rules"। Wall Street Journal (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০২১।
- ↑ "World's 'largest animal sacrifice' begins in defiance of ban"। The Independent (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০২১।
- ↑ Bariyarpur, AFP in (৩ ডিসেম্বর ২০১৯)। "World's 'largest animal sacrifice' starts in Nepal after ban ignored"। the Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০২১।
- ↑ Sharma, Bhadra (৬ ডিসেম্বর ২০১৯)। "Nepal's Animal-Sacrifice Festival Slays On. But Activists Are Having an Effect."। The New York Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০২১।
- ↑ Ram Chandra, Shah। "Gadhimai Temple Trust Chairman, Mr. Ram Chandra Shah, on the decision to stop holding animal sacrifices during the Gadhimai festival. Later the trust denied the decision, as per trust such decision was obtained forcefully by animal rights activists. Trust said it is not in our hand to stop the sacrifice it is up to people, as trust or priest never ask devotee to offer sacrifice. It is their sole and self decision ." (পিডিএফ)। Humane Society International। ২১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৫।
- ↑ Meredith, Charlotte (২৯ জুলাই ২০১৫)। "Thousands of Animals Have Been Saved in Nepal as Mass Slaughter Is Cancelled"। Vice News। Vice Media, Inc.। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৫।
- ↑ KUMAR YADAV, PRAVEEN; TRIPATHI, RITESH (২৯ জুলাই ২০১৫)। "Gadhimai Trust dismisses reports on animal sacrifice ban"। ২৭ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৮।
- ↑ "Gadhimai festival begins despite protests in Nepal"। The Hindu। ২৪ নভেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০০৯।
- ↑ Sarkar, Sudeshna (২৪ নভেম্বর ২০০৯)। "Indians throng Nepal's Gadhimai fair for animal sacrifice"। The Times of India। ২৫ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০০৯।
- ↑ Budhathoki, Arun; Ellis-Petersen, Hannah (৩ ডিসেম্বর ২০১৯)। "Nepal animal sacrifice festival pits devotees against activists"। the Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০২১।
- ↑ David N. Gellner; Sondra L. Hausner; Chiara Letizia (১ জানুয়ারি ২০২০)। Religion, Secularism, and Ethnicity in Contemporary Nepal। Oxford University Press। পৃ. ১৬৬–১৬৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-০৯৯৩৪৩-৬।
- ↑ Shah, Pramada (২৪ নভেম্বর ২০১০)। "Never Again"। The Kathmandu Post। ৭ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০১২।
- ↑ "Gadhimai Festival: Why it must never happen Again"। Think Differently। ১২ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০১২।
- ↑ Sigdel, Chahana (২০ নভেম্বর ২০১৪)। "India confiscates hundreds of animals at Nepal border ahead of Gadhimai festival"। Times of India। ১০ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।