গহীনে শব্দ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গহীনে শব্দ
গহীনে শব্দ চলচ্চিত্রের পোস্টার.jpg
চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক পোস্টার
পরিচালকখালিদ মাহমুদ মিঠু
প্রযোজকফারিদুর রেজা সাগর
ইবনে হাসান খান (ইমপ্রেস টেলিফিল্ম)
রচয়িতাখালিদ মাহমুদ মিঠু
শ্রেষ্ঠাংশেইমন
কুসুম সিকদার
আবুল হায়াত
সালিম সুলতান
মাসুম আজিজ
সুরকারফরিদ আহমেদ
চিত্রগ্রাহকহাসান আহমেদ
সম্পাদকহিরো চাকমা
পরিবেশকইমপ্রেস টেলিফিল্ম
মুক্তি২৬ মার্চ ২০১০
দৈর্ঘ্য১০৫ মিনিট
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা

গহীনে শব্দ ২০১০ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র । ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন খালিদ মাহমুদ মিঠু[১]। ছবির প্রধান তিনটি চরিত্র অভিনয় করেছেন ইমন, কুসুম সিকদার, আবুল হায়াত, সালিম সুলতান ও মাসুম আজিজ ।

কাহিনী[সম্পাদনা]

নুরা একজন রাস্তার ভিখারী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নুরা মুক্তিযোদ্ধা ছিল। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে রাজাকাররা ডাকাত সেজে এসে তা পা কেটে ফেলে তাঁকে পঙ্গু করে দেয়। তার এক মেয়ে আছে যার নাম স্বপ্না, নুরার ইচ্ছা যে তার মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবে। নুরা লেখাপড়া করেনি ও তার মধ্যে এই পঙ্গুত্ব। কি করবে ভেবে না পেয়ে নুরা ভিক্ষা করতে শুরু করে। ঢাকার রাস্তায় ভিক্ষা করে টাকা জমিয়ে মেয়ে স্বপ্নাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় স্বপ্নার সাথে দেখা হয় নিলয়-এর। তারা একে অপরকে ভালবাসে ফেলে। নিলয় বিয়ে করতে চায় স্বপ্নাকে। কিন্তু স্বপ্না অত্যন্ত গরিব পরিবারের মেয়ে আর নিলয় তালুকদার পরিবারের ছেলে। স্বপ্না নিলয়কে সে বলতে পারে না যে তার বাবা একজন ভিক্ষুক। স্বপ্না জানে যে নিলয় তার পরিবারের ব্যপার জানলে তাকে বিয়ে করবে না।

একদিন ভিক্ষার করার সময় নিলয়ের সাথে নুরার দেখা হয় কিন্তু নিলয় জানে না এই ভিক্ষুক স্বপ্নার বাবা। নিলয় ঐ সময় তার মোবাইলে নুরার একটি ছবি তুলে রাখে। একদিন নিলয় বলে ঈদের ছুটিতে বেড়াতে যাবে স্বপ্নার গ্রামের বাড়িতে। স্বপ্নার অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিলয় স্বপ্নাকে রাজি করায়। নিলয় ঈদের ছুটিতে স্বপ্নার গ্রামের বাড়িতে আসে এবং স্বপ্নার বাবা নুরা-র সাথে দেখা হয়। দুজনেই চিন্তা করে যে তারা একে অপরকে কোথায় যেন দেখেছে কিন্তু সে সময় মনে করতে পারে না। স্বপ্নার গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরার পথে মোবাইলে তুলে রাখা ছবি দেখে নিলয় মনে করতে পারে যে স্বপ্নার বাবাই নুরা ভিক্ষুক। কিন্তু স্বপ্নাকে সে এটা জানায় না।

নিলয় বাসায় স্বপ্নার কথা বলবে সে সাহসও পায় না। হঠাৎ একদিন স্বপ্না নিলয়ের মোবাইলে দেখতে পায় তার বাবার ছবি ভিক্ষুকের অবস্থায় এবং বুঝতে পারে নিলয় সব কিছু জানে। সমাজ, পরিবার কিভাবে তাদের এই সম্পর্ককে বুঝবে নিলয় তা বুঝতে পারে না। কিছু ভেবে না পেয়ে নিলয় উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যায়। যাওয়ার সময় স্বপ্নাকে একটা চিঠি লিখে নিলয় তার অক্ষমতার কথা বর্ননা করে।

শ্রেষ্ঠাংশে[সম্পাদনা]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

  • ২৫তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
    • শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র - গহীনে শব্দ
    • শ্রেষ্ঠ পরিচালক - খালিদ মাহমুদ মিঠু (গহীনে শব্দ)
    • শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক - হাসান আহমেদ (গহীনে শব্দ)
    • শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক - কাজী সেলিম আহমেদ (গহীনে শব্দ)
  • শ্রেষ্ঠ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, আন্তর্জাতিক বিভাগ, ওকানাগান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, ভ্যাঙ্কুভার, ব্রিটিশ কলম্বিয়া, কানাডা[২]
  • শ্রেষ্ঠ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, তৃতীয় বিশ্ব স্বাধীন চলচ্চিত্র উৎসব, যুক্তরাষ্ট্র
  • প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত, সাইলেন্ট রিভার চলচ্চিত্র উৎসব, যুক্তরাষ্ট্র
  • শ্রেষ্ঠ পরিচালক, সাইলেন্ট রিভার চলচ্চিত্র উৎসব[৩]
  • শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেত্রী, সাইলেন্ট রিভার চলচ্চিত্র উৎসব[৩]
  • শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, সাইলেন্ট রিভার চলচ্চিত্র উৎসব[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে প্রদর্শনের জন্য মনোনীত হয়েছে 'গহীনে শব্দ'[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "কানাডায় পুরস্কৃত গহীনে শব্দ"banglanews24.com। ৩১ জুলাই ২০১০। 
  3. "Silent River 2011 Awards" (PDF)সাইলেন্ট রিভার চলচ্চিত্র উৎসব (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১১-০৯-১৭। ২০১২-০৪-০২ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]