মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ, ঢাকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
 গভঃ কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, ঢাকা
Govt. Commercial Institute, Dhaka
ধরনসরকারি
স্থাপিত১৯৬৬
ঢাকা, বাংলাদেশ
শিক্ষার্থী৮০০+
অবস্থান
সাত মসজিদ রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
ওয়েবসাইটতথ্য-বাতায়ন

মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ, ঢাকা (Mohammadpur Govt. College)(পূর্বনাম: গভঃ কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, ঢাকা) বাংলাদেশের একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেটি ঢাকা বিভাগীয় সদরে অবস্থিত।[১] ব্যবসায় শিক্ষার ক্ষেত্রে বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলে সরকারি পর্যায়ে পরিচালিত একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় | ২০১৬ সালে এই প্রতিষ্ঠানকে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ নামে রূপান্তর করা হয় এবং বর্তমানে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে |

কলেজ পরিচিতি[সম্পাদনা]

শিক্ষা কমিশন, ১৯৫৯-এর সুপারিশের আলোকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সুদক্ষ অফিসকর্মী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৬৫-১৯৬৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা USAID-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দেশের তৎকালীন ১৬টি জেলায় গভঃ কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়। রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদ রোডে ২.৯২ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত ঢাকা গভঃ কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট ছিল এদের মধ্যে অন্যতম। এ প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৬৫ সালে এবং শেষ হয় ১৯৬৭ সালে। ঐ একই বছর গভঃ কর্মাশিয়াল ইনস্টিউিটের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। একটি প্রশাসনিক ভবন, দুটি একাডেমিক ভবন, একটি ছাত্র হোস্টেল, অধ্যক্ষের বাসভবন, খেলার মাঠ, বাগান, পার্কসহ বিশাল অবকাঠামো নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা গভঃ কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটের যশ, খ্যাতি, ও সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।এখান থেকে পাস করে কোনো শিক্ষার্থীই বেকার থাকতেন না। এরই প্রেক্ষিতে ইনস্টিটিউটে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা ২০০৩ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপর থেকে বিশ্বায়নের ছোঁয়ায় এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তির প্রভাবে এ কোর্স কারিকুলামের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হ্রাস পেতে থাকে। এমতাবস্থায় গভঃ কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটগুলোকে সাধারণ সরকারি কলেজে রূপান্তরিত করার জন্য এবং একই সঙ্গে এগুলোর নাম পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার ২০১৬ সালে দেশের ১৬টি গভঃ কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটকে সাধারণ কলেজে রূপান্তরিত করার নিমিত্তে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ।২০১৬ সালের ১২ মে তারিখে পুরনো আঙিনায় নতুন নামে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এখানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখায় শিক্ষাদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ ঢাকার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কারণ, এ কলেজের তিনটি শাখার প্রতিটি বিষয়ের জন্য রয়েছে সরকারের বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ মেধাসম্পন্ন অভিজ্ঞ শিক্ষকম-লি। কলেজের সার্বিক উন্নতি, সরকারের সহস্রাব্দের লক্ষমাত্রা অর্জন (SDG), সর্বোপরি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সর্বোত্তম ফলাফল লাভের জন্য কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ হুমায়ূন কবির-এর যোগ্য পরিচালনায় মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং অভিভাবকদের সমন্বয়ে ও সহযোগিতায় মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। কলেজের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা চলতি বছর (২০১৮) উচ্চ মাধ্যমিক চূড়ান্ত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে। ২০১৭-১৮ সালের দ্বিতীয় ব্যাচ একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে কৃতকার্য হয়ে ২য় বর্ষে উত্তীর্ণ হয়েছে। ২০১৮ সালের এস.এস.সি পরীক্ষায় কৃতীত্বের সাথে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের গর্বিত ছাত্র হিসেবে ভর্তি করার জন্য সম্মানিত অধ্যক্ষ, শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রশাসন ইতোমধ্যে সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কলেজে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, আধুনিক ল্যাবরেটরি, ৫০টি ডেক্সটপসমৃদ্ধ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার ল্যাব, মাল্টিমিডিয়া ও সাউন্টসিস্টেম সমৃদ্ধ ক্লাসরুম, সিসিটিভি ক্যামেরা, বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স, ডাইনামিক ওয়েবসাইট, ছাত্রীদের কমনরুম, মানসম্পন্ন ক্যান্টিন প্রভৃতি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। আইসিটিসহ বিজ্ঞান শাখার প্রতিটি বিষয়ের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য পৃথক ল্যাবরেটরির ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে থাকেন। এখানে খেলার মাঠ, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া কক্ষ, শরীর চর্চা ও সুষ্ঠু সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঠিক মানসিক ও শারীরিক বিকাশের সহায়ক পরিবেশ বিদ্যমান।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; সময় নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]