খ্রিস্টধর্মের সমালোচনা
| খ্রিস্টধর্ম |
|---|
| ধারাবাহিক নিবন্ধের অংশ |
|
|
| ধর্মের সমালোচনা |
|---|
| বিষয়ে ধারাবাহিকের একটি অংশ |
| ধর্ম অনুযায়ী |
| ধর্মীয় ব্যক্তিত্য অনুযায়ী |
| ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী |
| ধর্মীয় সহিংসতা |
| সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ |
খ্রিস্টধর্মের সমালোচনা একটি দীর্ঘ ইতিহাস ধারণ করে, যার সূত্রপাত রোমান সাম্রাজ্যে এই ধর্মের প্রাথমিক উৎপত্তির সময়কালে। সমালোচকরা খ্রিস্টীয় বিশ্বাস ও শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মের নামে সংঘটিত কাজগুলোকেও চ্যালেঞ্জ করেন; এর মধ্যে ক্রুসেড থেকে শুরু করে আধুনিক কালের সন্ত্রাসবাদও অন্তর্ভুক্ত। খ্রিস্টধর্মের বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তির অবতারণা করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – এটিকে সহিংসতা, দুর্নীতি, কুসংস্কার, বহুদেবতাবাদ, সমকামভীতি, ধর্মান্ধতা, আত্মম্ভরিতা, নারী অধিকারের অবমাননা এবং গোষ্ঠীগত বিভেদের ধর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করা।
খ্রিস্টধর্মের প্রাথমিক বছরগুলোতে, নয়াপ্লাতোবাদ দার্শনিক পরফিরি তার এগেইনস্ট দ্য ক্রিশ্চিয়ানস নামক গ্রন্থ এবং সেলসাস ও জুলিয়ানের মতো অন্যান্য লেখকদের সাথে খ্রিস্টধর্মের অন্যতম প্রধান সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হন। পরফিরি যুক্তি দেন যে খ্রিস্টধর্ম মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণীর উপর ভিত্তি করে গঠিত, যা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।[১] রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে খ্রিস্টধর্ম অনুমোদন বা গ্রহণের পর, ভিন্ন ধর্মীয় কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে সরকার এবং ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ উভয়ের দ্বারাই দমন করা হয়;[২] তবে এর মধ্যে খ্রিস্টধর্ম অন্যান্য ইব্রাহিমীয় ধর্ম যেমন: ইহুদি ধর্ম ও ইসলাম থেকে ধর্মতাত্ত্বিক সমালোচনার সম্মুখীন হয়। উদাহরণস্বরূপ, মুসা বিন মৈমুন যুক্তি দেন যে এটি মূর্তিপূজা।[৩] এক হাজার বছর পর, প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার আন্দোলন ইউরোপীয় খ্রিস্টধর্মে একটি বড় ধরনের বিভাজন ঘটায় এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে খ্রিস্টান বিশ্বাস সম্পর্কে সমালোচনামূলক মতামত পুনরায় জাগিয়ে তোলে। আঠারো শতকে, ভলতেয়ার ও জঁ-জাক রুসোর মতো একেশ্বরবাদী দার্শনিকগণ খ্রিস্টধর্মকে প্রত্যাদিষ্ট ধর্ম হিসেবে সমালোচনা করেন।[৪] জ্ঞানালোকের যুগে ভলতেয়ার, ডেভিড হিউম, টমাস পেইন এবং ব্যারন দ’হলবাখের মতো প্রধান চিন্তাবিদ ও দার্শনিকগণ খ্রিস্টধর্মের সমালোচনা করেন।[৫] এই সমালোচনাগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল খ্রিস্টান বাইবেলের ঐতিহাসিক সত্যতাকে নাকচ করা এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান দুর্নীতিকে তুলে ধরা।[৫] অন্যান্য দার্শনিক, যেমন ইমানুয়েল কান্ট, ঈশ্বরের অস্তিত্বের চিরাচরিত যুক্তিসমূহের সমালোচনা করেন, একই সাথে নতুন যুক্তির মাধ্যমে খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্বকে সমর্থন করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।[৬]
আধুনিক সময়ে, খ্রিস্টধর্ম বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন এবং মতাদর্শ থেকে যথেষ্ট সমালোচনার সম্মুখীন হয়। আঠারো শতকের শেষের দিকে, ফরাসি বিপ্লবে বহু রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক ঐতিহ্যবাহী খ্রিস্টীয় মতবাদের সমালোচনা করেন, যার ফলে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের একটি ঢেউ ওঠে এবং শত শত গির্জা বন্ধ করে দেওয়া হয় ও হাজার হাজার যাজককে নির্বাসিত বা হত্যা করা হয়।[৭] ফরাসি বিপ্লবের পর, জন স্টুয়ার্ট মিল এবং কার্ল মার্ক্সের মতো উদারনীতিবাদ ও সাম্যবাদের বিশিষ্ট দার্শনিকগণ খ্রিস্টীয় মতবাদের সমালোচনা করেন। তারা যুক্তি দেন যে এই মতবাদ রক্ষণশীল ও গণতন্ত্র বিরোধী।ফ্রেডরিখ উইলিয়াম নিৎসে লেখন যে খ্রিস্টধর্ম এক ধরনের দাসত্বের নৈতিকতাকে উৎসাহিত করে, যা মানুষের ইচ্ছাশক্তির অন্তর্নিহিত আকাঙ্ক্ষাগুলোকে দমন করে।[৮] রুশ বিপ্লব, চীনা বিপ্লব এবং অন্যান্য আধুনিক বিপ্লবী আন্দোলনগুলোও খ্রিস্টীয় ধারণার সমালোচনার জন্ম দেয়।
এই ধরনের সমালোচনার আনুষ্ঠানিক খ্রিস্টান প্রতিক্রিয়াকে খ্রিস্টীয় আত্মপক্ষসমর্থন বা খ্রিস্টান অ্যাপোলজেটিক্স বলা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আউরেলিয়ুস আউগুস্তিনুস এবং টমাস আকুইনাসের মতো দার্শনিকগণ খ্রিস্টধর্মের অন্যতম প্রধান রক্ষক হিসেবে পরিচিত।
ধর্মগ্রন্থ
[সম্পাদনা]বাইবেলীয় সমালোচনা
[সম্পাদনা]বাইবেলীয় সমালোচনা, বিশেষত উচ্চতর সমালোচনা, এমন বিভিন্ন পদ্ধতির সমষ্টি যা অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে আলোকিত যুগ থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই সময়ে, পণ্ডিতগণ অন্যান্য সাহিত্যিক এবং দার্শনিক রচনায় ব্যবহৃত একই বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি ও দৃষ্টিকোণ বাইবেলের বিভিন্ন নথিপত্রের ওপর প্রয়োগ করতে শুরু করেন।[৯] এটি একটি বহুমাত্রিক শব্দ যা বিভিন্ন কৌশলকে অন্তর্ভুক্ত করে; এই কৌশলগুলো মূলত মূলধারার এবং উদারপন্থী খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ববিদগণ বাইবেলের অনুচ্ছেদগুলোর অর্থ অধ্যয়নের জন্য ব্যবহার করেন। এটি সাধারণ ঐতিহাসিক নীতি ব্যবহার করে এবং এটি মূলত প্রত্যাদেশ বা বিশ্বাসের পরিবর্তে যুক্তির উপর ভিত্তি করে গঠিত। বাইবেলীয় সমালোচনার চারটি প্রধান প্রকার রয়েছে:[১০]
- আকার সমালোচনা: সাহিত্যিক দলিল, বিশেষ করে বাইবেল, বিশ্লেষণের একটি পদ্ধতি; যার উদ্দেশ্য হলো সেসব পূর্ববর্তী মৌখিক ঐতিহ্য (গল্প, কিংবদন্তি, পৌরাণিক কাহিনি ইত্যাদি) অনুসন্ধান করা, যেগুলোর ওপর এই দলিলগুলো ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।
- ঐতিহ্য সমালোচনা: এটি বাইবেলের এমন একটি বিশ্লেষণধর্মী পদ্ধতি যা সেই সময়কালে ধর্মীয় রীতিনীতি ও প্রথা কীভাবে ধীরে ধীরে বিকশিত ও পরিবর্তিত হয়েছে—যখন গ্রন্থটি রচিত হচ্ছিল—তার উপর আলোকপাত করে।
- উচ্চতর সমালোচনা: বাইবেলীয় লেখকদের ব্যবহৃত উৎস এবং সাহিত্যিক পদ্ধতিগুলোর অধ্যয়ন।[১১][১২]
- নিম্নতর সমালোচনা: বাইবেলের প্রকৃত শব্দচয়নের নিয়মানুবর্তিতা ও অধ্যয়ন; এর লক্ষ্য হলো পাঠ্যগত বিশুদ্ধতা এবং বোধগম্যতা অর্জন।[১২]
পাঠ্য সমালোচনা
[সম্পাদনা]বাইবেলের প্রচুর সংখ্যক পাণ্ডুলিপির মধ্যে কিছু পাঠগত ভিন্নতা বিদ্যমান। এই পাঠগত ভিন্নতাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই হলো শব্দের গুরুত্বহীন ভুল বানান, শব্দক্রমের ভিন্নতা এবং সংক্ষিপ্ত শব্দের ভুল প্রতিলিপি।[১৩][১৪] বার্ট ডি. এরমানের মতো সমালোচকদের মতে, এই পাঠগত ভিন্নতা এবং অতিরিক্ত কিছু অংশ ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লিপিকার কর্তৃক সংযোজিত হয়েছিল।[১৫] ড্যানিয়েল বি. ওয়ালেস, ক্রেইগ ব্লমবার্গ এবং থমাস হাও-এর মতো কতিপয় রক্ষণশীল ইভাঞ্জেলিক্যাল সমালোচক এরমানের সিদ্ধান্ত এবং তিনি যেসব পাঠগত ভিন্নতা নির্বাচন করেছেন, সেগুলোর বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন।[১৬]
নূতন নিয়মে (নিউ টেস্টামেন্ট) গ্রন্থগুলোর মূল পাঠ নির্ধারণের প্রচেষ্টায় আধুনিক পাঠসমালোচকরা কিছু অংশকে সম্ভবত মূল লেখার অন্তর্ভুক্ত নয় বলে বিবেচনা করেন। বাইবেলের আধুনিক অনুবাদে এসব পাঠসমালোচনার ফলস্বরূপ কিছু পদ বাদ দেওয়া হয়েছে বা সেগুলিকে মূল পাঠের অংশ নয় বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এ ধরনের কিছু অংশ সম্ভবত পরবর্তী সময়ে সংযোজিত হয়েছে, এই সম্ভাব্য পরবর্তী সংযোজনগুলোর মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:[১৭][১৮]
- মার্কের সমাপ্তি[১৯]
- যোহনের সুসমাচারে বর্ণিত ব্যভিচারের অপরাধে ধৃত নারীর কাহিনী, পেরিকোপ অ্যাডুলটেরি
- প্রথম যোহনে ত্রিত্বের একটি স্পষ্ট উল্লেখ, যোহনীয় কমা
দ্য টেক্সট অফ দ্য নিউ টেস্টামেন্ট গ্রন্থে কার্ট ও বারবারা আলান্ড গ্রিক নিউ টেস্টামেন্টের সাতটি প্রধান সংস্করণের (টিশেন্ডর্ফ, ওয়েস্টকট-হর্ট, ফন সোডেন, ভোগেলস, মের্ক, বোভার ও নেসলে-আলান্ড) মধ্যে রূপভেদমুক্ত শ্লোকের মোট সংখ্যা এবং প্রতি পৃষ্ঠায় রূপভেদের হার (লিখনবিধি ত্রুটি বাদ দিয়ে) বিশ্লেষণ করেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৯৪৭টি শ্লোকের মধ্যে ৪৯৯৯টি শ্লোকে (৬২.৯%) সকল সংস্করণে সম্পূর্ণ ঐক্যমত রয়েছে। তাদের গবেষণায় প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী,[২০][২০]
সুতরাং, নিউ টেস্টামেন্টের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অংশে, আমরা যে সাতটি গ্রিক নিউ টেস্টামেন্টের সংস্করণ পর্যালোচনা করেছি, সেগুলো সম্পূর্ণভাবে একমত, শুধুমাত্র বানান সংক্রান্ত সামান্য পার্থক্য ছাড়া (যেমন, নামের বানান ইত্যাদি)। যে পদগুলোতে সাতটি সংস্করণের মধ্যে একটি শব্দেও ভিন্নতা রয়েছে, সেগুলো গণনা করা হয়নি। এই ফলাফলটি বেশ বিস্ময়কর, যা গত এক শতাব্দীতে নিউ টেস্টামেন্টের গ্রিক পাঠ্যগুলোর মধ্যে পাঠ্যগত পণ্ডিতরা যতটা সন্দেহ করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি ঐকমত্য প্রমাণ করে। গসপেল (সুসমাচার), অ্যাক্টস (প্রেরিতদের কার্যবিবরণী) এবং রেভেলেশনে (প্রকাশিত বাক্য) এই ঐকমত্য তুলনামূলকভাবে কম, যেখানে পত্রগুলোতে এটি অনেক বেশি।
মৃত সাগরের পাণ্ডুলিপির মধ্যে হিব্রু বাইবেলের পাঠ্যগুলোর আবিষ্কার ওল্ড টেস্টামেন্টের পাঠ্যগুলোর হস্তান্তরের ক্ষেত্রে উচ্চ মাত্রার নির্ভুলতা প্রদর্শন করে বলে মনে করা হয়:[২১]
বাইবেলীয় পান্ডুলিপি গুলো তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এগুলো প্রাচীন লিপিকার ও অনুলিপিকাররা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাইবেলকে কীভাবে হস্তান্তরিত করতেন তা প্রকাশ করে। এই পান্ডুলিপি গুলো আমাদের এই বিশ্বাসও যোগায় যে আমাদের ওল্ড টেস্টামেন্ট অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার নির্ভুলতার সাথে সংরক্ষিত হয়েছে...[২২]
অভ্যন্তরীণ অসঙ্গতি
[সম্পাদনা]সমালোচক ও সংশয়বাদীরা বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরেন, একই বৈশিষ্ট্যের জন্য বিভিন্ন সংখ্যা ও নাম এবং একই ঘটনার অনুমিত বিভিন্ন ক্রমকে সমস্যা হিসেবে উপস্থাপন করে।[২৩] এইসব সমালোচনার উত্তরে আধুনিক প্রামাণিক তত্ত্ব, দ্বি-উৎস তত্ত্ব (যার বিভিন্ন রূপ বিদ্যমান), এবং এই জোরালো বক্তব্যগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যে পালকীয় পত্রাবলিগুলো বেনামী লেখকের রচনা। এই সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে ঐতিহ্যবাদীদের সমর্থনপুষ্ট কিছু মতবাদ বিদ্যমান। এই মতবাদ অনুসারে, ধর্মগ্রন্থগুলো সঙ্গতিপূর্ণ; তোরাহ (মোশির পাঁচটি বই) একক উৎস থেকে লেখা হয়েছে,[২৪] [২৫] কিন্তু গসপেলগুলো (সুসমাচার) চারজন স্বতন্ত্র সাক্ষীর দ্বারা রচিত,[২৬] এবং হিব্রুদের সম্ভবত বাদ দিয়ে পৌলের সমস্ত পত্র প্রেরিত পৌল কর্তৃক লিখিত।
বাইবেল অধ্যয়নের সময় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা অপরিহার্য হলেও, কেউ কেউ মথি, মার্ক, লূক এবং যোহনের চারটি গসপেলের মধ্যে যিশুর পুনরুত্থানের বিবরণগুলোকে সমন্বয় করা কঠিন বলে মনে করেন। ই. পি. স্যান্ডার্স এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে অসঙ্গতিগুলো একটি ইচ্ছাকৃত জালিয়াতির সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়: "পুনরুত্থানের বিশ্বাস জাগানোর জন্য একটি ষড়যন্ত্র সম্ভবত আরও সঙ্গতিপূর্ণ গল্পের জন্ম দিত। পরিবর্তে, মনে হয় যেন একটি প্রতিযোগিতা ছিল: 'আমি তাকে দেখেছি,' 'আমিও,' 'মহিলারা প্রথমে তাকে দেখেছিল,' 'না, আমি দেখেছি; তারা তাকে একেবারেই দেখেনি,' এবং আরও অনেক কিছু।"[২৭]
অপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী
[সম্পাদনা]যিশুর আগমনের বহু শতাব্দী আগে ইহুদি নবীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে একদিন একজন মশীহ আগমন করবেন। ইহুদি ধর্ম অনুসারীদের বিশ্বাস, যিশু ঐ ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর কোনোটিই পূরণ করেননি। অন্যান্য সমালোচকদের মতে, ঐসব ভবিষ্যদ্বাণী হয় অত্যন্ত অস্পষ্ট, নয়তো বাস্তবে কখনও পূরণই হয়নি।[২৮] এছাড়াও, অনেকে মনে করেন, পুরনো নিয়মের লেখাগুলো নূতন নিয়মের বর্ণনাগুলোর রচনাকে প্রভাবিত করেছে।[২৯] খ্রিস্টীয় ধর্মতাত্ত্বিকরা মনে করেন, যিশু বহু ভবিষ্যদ্বাণী পূরণ করেছেন, যেগুলো তাদের মতে কাকতালীয়ভাবে পূরণ হওয়া প্রায় অসম্ভব।[৩০] অনেক খ্রিস্টান বিশ্বাস করেন, যিশুর দ্বিতীয় আগমন ঘটবে এবং তখন তিনি বাকি মশীহ সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূরণ করবেন। এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে শেষ বিচার, সার্বজনীন পুণরুত্থান, ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠা এবং মসীহীয় যুগের সূচনা।
নূতন নিয়মে যিশুর বংশধারা দাউদের বংশ পর্যন্ত অনুসরণ করা হয়েছে; তবে স্টিফেন এল. হ্যারিসের মতে:[৩১]
ইসরায়েলের নবীরা মশীহের যে কাজগুলো করার কথা বলেছিলেন, যিশু তা সম্পন্ন করেননি। তিনি চুক্তিবদ্ধ জাতিকে তাদের অ-ইহুদি শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করেননি, নির্বাসনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লোকদের পুনরায় একত্রিত করেননি, দাউদের রাজ্য পুনরুদ্ধার করেননি, অথবা বিশ্বে শান্তি স্থাপন করেননি (Isaiah 9:6-9:7; Isaiah 11:7-12:16)। ইহুদিদের অত্যাচারীদের হাত থেকে মুক্ত করে ঈশ্বরের প্রাচীন প্রতিশ্রুতিগুলো—ভূমি, জাতিসত্তা, রাজত্ব এবং আশীর্বাদ—পূরণের পরিবর্তে, যিশু এক "লজ্জাজনক" মৃত্যু বরণ করেন। যে রাজনৈতিক শক্তিকে মশীহের পরাস্ত করার কথা ছিল, তিনিই তাদের কাছে পরাজিত হন। প্রকৃতপক্ষে, হিব্রু নবীরা কখনোই এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেননি যে ইসরায়েলের ত্রাণকর্তাকে অ-ইহুদিদের হাতে একজন সাধারণ অপরাধীর মতো মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। আর সে কারণেই, যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়া ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা ইহুদিদের জন্য একটি "বিঘ্ন" হয়ে দাঁড়ায়।(1Cor 1:23)
নাজারেন ভবিষ্যদ্বাণী
[সম্পাদনা]যীশুর কুমারী জনন ও বংশধারা
[সম্পাদনা]পক্ষপাতদুষ্ট ব্যাখ্যা
[সম্পাদনা]ভুল অনুবাদ
[সম্পাদনা]ঐতিহাসিক আচরণের সমালোচনা
[সম্পাদনা]
উপনিবেশবাদ
[সম্পাদনা]দাসত্ব
[সম্পাদনা]খ্রিস্টান দাসপ্রথা বিলোপ আন্দোলন
[সম্পাদনা]খ্রিস্টধর্ম ও নারী
[সম্পাদনা]
খ্রিস্টধর্ম ও সহিংসতা
[সম্পাদনা]
বিজ্ঞান
[সম্পাদনা]
নীতিশাস্ত্র
[সম্পাদনা]
যিশু
[সম্পাদনা]বাইবেলে নৈতিকতা
[সম্পাদনা]খ্রিস্টধর্ম ও রাজনীতি
[সম্পাদনা]ডানপন্থী খ্রিস্টান
[সম্পাদনা]মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
[সম্পাদনা]নারীর ভূমিকা
[সম্পাদনা]
মতবাদ
[সম্পাদনা]অলৌকিকতা
[সম্পাদনা]
অবতার
[সম্পাদনা]নরক ও অভিশাপ
[সম্পাদনা]
মূর্তিপূজা
[সম্পাদনা]অন্তর্বর্তী স্থিতি (লিম্বো)
[সম্পাদনা]প্রতিবিধান
[সম্পাদনা]যিশুর দ্বিতীয় আগমন
[সম্পাদনা]পুরাতন নিয়মে পরকাল সংক্রান্ত ধারণার অসামঞ্জস্যতা
[সম্পাদনা]খ্রিস্টানদের সমালোচনা
[সম্পাদনা]কপটতা
[সম্পাদনা]গাউদিয়াম এৎ স্পেস নথিতে দাবি করে যে, খ্রিস্টানদের আচরণই নাস্তিকতার জন্মে একটি সহায়ক উপাদান হতে পারে। এতে লেখা আছে,
...বিশ্বাসীরা নাস্তিকতার জন্মে কম-বেশি জড়িত থাকতে পারেন। যদি তারা নিজেদের ধর্মীয় শিক্ষায় অবহেলা করেন, ভুল শিক্ষা দেন, অথবা ধর্মীয়, নৈতিক কিংবা সামাজিক জীবনে দুর্বলতা দেখান, তাহলে বলা যেতে পারে তারা প্রকৃত ঈশ্বর ও ধর্মের মুখচ্ছবিকে প্রকাশ না করে বরং আড়াল করে ফেলেন।[৩২]
ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় উভয় ধরনের সমালোচকই বহু খ্রিস্টানকে কপটতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।[৩৩] ফিলাডেলফিয়ার মনোবিজ্ঞানী টম হুইটম্যান দেখতে পান যে,
খ্রিস্টানদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যভিচার, নির্যাতন (যার মধ্যে মাদকাসক্তি, শারীরিক ও মৌখিক নির্যাতন অন্তর্ভুক্ত) এবং পরিত্যাগ। অপরদিকে, সাধারণ জনগণের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের সবচেয়ে বেশি উল্লেখিত কারণ হলো পারস্পরিক অমিল।[৩৪]
উপদলবাদ
[সম্পাদনা]কিছু চিন্তাবিদের মতে, খ্রিষ্টধর্ম দুর্বল হয়ে পড়েছে মূলত এই কারণে যে খ্রিষ্টানদের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস ও গির্জার শাসনব্যবস্থা নিয়ে ঐক্যমত নেই এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়বস্তু প্রায়শই আঞ্চলিক বা রাজনৈতিক প্রভাব দ্বারা নির্ধারিত হয়। জার্মান দার্শনিক আর্টুর শোপনহাউয়ার ব্যঙ্গ করে বলেন:[৩৫]
দক্ষিণ জার্মানিতে গির্জার যাজকদের কাছে ক্যাথলিক মতবাদই স্পষ্টত সত্য, আর উত্তর জার্মানদের কাছে প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদই সত্য বলে প্রতীয়মান। যদি এই বিশ্বাসগুলো বস্তুনিষ্ঠ কারণের ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে কারণগুলো হবে জলবায়ুভিত্তিক এবং উদ্ভিদের মতো, কিছু শুধু এক স্থানে আর কিছু অন্য স্থানে বিকশিত হয়। যারা এভাবে স্থানীয় প্রভাবের মাধ্যমে কোনো বিশ্বাসে দৃঢ়প্রত্যয়ী হন, তাদের সেই বিশ্বাস সাধারণ মানুষ অন্ধভাবে মেনে নেয় এবং বিশ্বাস করে।
কিছু খ্রিষ্টান মনে করেন যে ঐক্যবাদ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা আনতে সহায়তা করে, যেখানে অতীতে খ্রিষ্ট-সম্পর্কিত গ্রিক শব্দগুলোর ভুল অনুবাদ বিভ্রান্তিকর মতপার্থক্যের সৃষ্টি করেছিল। অ-সাম্প্রদায়িক খ্রিষ্টধর্ম, খ্রিষ্টধর্মের ভেতরের বিভাজন কমানোর আরেকটি পথ হলেও, অনেকখানি অ-সাম্প্রদায়িক বলে দাবি করা খ্রিষ্টীয় গোষ্ঠীও শেষ পর্যন্ত একই ধরনের সমস্যায় পড়ে।
খ্রিস্টানদের দ্বারা নিপীড়ন
[সম্পাদনা]

নাৎসি জার্মানিতে খ্রিস্টধর্ম
[সম্পাদনা]
খ্রিস্টান নিপীড়ন জটিলতা
[সম্পাদনা]অন্যান্য ধর্মের সমালোচনা
[সম্পাদনা]ইসলাম
[সম্পাদনা]মুসলিম পণ্ডিতগণ খ্রিস্টধর্মের সমালোচনা করেন, বিশেষত এর ত্রিত্বের ধারণার জন্য। তারা যুক্তি দেন যে এই মতবাদ একটি উদ্ভাবিত বিষয়, সৃষ্টিকর্তার ধারণা সম্পর্কে বিকৃতি এবং এমন একটি ধারণা উপস্থাপন করে যেখানে মনে হয় তিনজন সৃষ্টিকর্তা বিদ্যমান, যা শিরক অথবা বহুঈশ্বরবাদের অন্তর্ভুক্ত।[৩৬] কুরআনের ৯:৩১ আয়াত অনুসারে, খ্রিস্টানদের উচিত কেবল এক সৃষ্টিকর্তার অনুসরণ করা, কিন্তু তারা বহু ঈশ্বর তৈরি করেছে।
তারা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের পন্ডিত ও ধর্ম যাজকদেরকে রাব্ব বানিয়ে নিয়েছে এবং মারইয়ামের পুত্র মসীহকেও। অথচ তাদের প্রতি শুধু এই আদেশ করা হয়েছে যে, তারা শুধুমাত্র এক মা‘বূদের ইবাদাত করবে যিনি ব্যতীত ইলাহ হওয়ার যোগ্য কেহই নয়। তিনি তাদের অংশী স্থির করা হতে পবিত্র।[৩৭]
আধুনিক যুগে কিছু মুসলিম পণ্ডিত খ্রিস্টধর্মের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন। উদাহরণস্বরূপ, টেম্পল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক প্রয়াত ইসমাইল আল-ফারুকী তার ক্রিশ্চিয়ান এথিক্স: আ হিস্টোরিক্যাল অ্যান্ড সিস্টেমেটিক অ্যানালিসিস অফ ইটস ডমিন্যান্ট আইডিয়াস (১৯৬৭) গ্রন্থে যুক্তি দেন যে খ্রিস্টধর্ম বিভিন্ন প্রভাবকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা যিশুর মূল শিক্ষা থেকে ভিন্ন। এই সমালোচনায় তিনি একটি যুক্তিসঙ্গত এবং সুসংহত নৈতিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন, যেখানে খ্রিস্টধর্মের পেকাটিজম (মানুষের সহজাত পাপপ্রবণতা) ও সেভিয়রিজম (যিশুকে ত্রাণকর্তা রূপে বিশ্বাস)-এর মতো ধারণার বিপরীতে ইসলামিক দৃষ্টিকোণের তাৎপর্য তুলে ধরেন।[৩৮][৩৯] এই দৃষ্টিকোণ খ্রিস্টীয় ধর্মতাত্ত্বিক হেঁয়ালির সমালোচনা এবং ফারুকী কর্তৃক বিবেচিত একটি যুক্তিসঙ্গত ও সুসংহত নৈতিক কাঠামোর পক্ষে সমর্থন করে।[৪০]
ইহুদিধর্ম
[সম্পাদনা]
শ্লোমো বেন আদারেত খ্রিস্টধর্মকে এক ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসীতার একটি নিম্নতর রূপ বলে অভিহিত করেন, যেখানে ইহুদিধর্মের মতো ঈশ্বরের অখণ্ডতার অভাব রয়েছে।[৪১] মধ্যযুগে, মুসা বিন মৈমুন খ্রিস্টধর্মকে পৌত্তলিক ধর্মদ্রোহিতার একটি প্রধান উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করতেন।[৩]
ডেভিড ফ্লুসার খ্রিস্টধর্মকে "সস্তা ইহুদিবাদ" এবং অত্যন্ত ইহুদি-বিদ্বেষী বলে মনে করতেন। তিনি আরও মনে করতেন যে, "ইহুদি সম্প্রদায়কে তাদের নবপ্রবর্তিত বিশ্বাসে দীক্ষিত করতে খ্রিস্টধর্মের ব্যর্থতাই খ্রিস্টান সমাজে তীব্র ইহুদি-বিদ্বেষী মনোভাবের প্রধান কারণ হিসেবে পরিগণিত হয়।"[৪২] স্টিভেন স্যামুয়েল ওয়াইজ নাৎসি শাসনের সময় ইউরোপ থেকে ইহুদিদের উদ্ধারে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন,
যে খ্রিস্টান জগত লক্ষ লক্ষ ইহুদিকে রক্ষা করার জন্য ঐকান্তিক প্রার্থনা ও সর্বাত্মক মানবিক প্রচেষ্টা ব্যতিরেকে নির্বিচারে হত্যার অনুমতি দেয়, তা তার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অস্তিত্ব রক্ষার সক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে হারিয়েছে।[৪৩]
হিন্দুধর্ম
[সম্পাদনা]রামমোহন রায় খ্রিস্টীয় মতবাদের সমালোচনা করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে সেগুলো "অযৌক্তিক" এবং "আত্মবিরোধী"।[৪৪] তিনি আরও বলেন যে, মানুষ (এমনকি ভারতীয়রাও) অভাব ও দুর্বলতার সুযোগে খ্রিস্টান হচ্ছে, অনেকটা সেই সময়ের ইউরোপীয় ইহুদিদের মতো, যাদের প্রলোভন ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হতে বাধ্য করা হয়েছিল।[৪৫]
বিবেকানন্দ খ্রিস্টধর্মকে "ভারতীয় চিন্তাভাবনার ছোট ছোট অংশের সংগ্রহ" হিসেবে দেখেন। তিনি আরও বলেন, "আমাদের ধর্ম এমন এক ধর্ম যার থেকে বৌদ্ধধর্ম তার সমস্ত মহত্ত্ব নিয়ে বিদ্রোহী সন্তানের মতো বেরিয়ে এসেছে, এবং খ্রিস্ট ধর্ম হলো তারই একটি খুবই অসম্পূর্ণ অনুকরণ।"[৪৬]
দার্শনিক দয়ানন্দ সরস্বতী খ্রিস্টধর্মকে "বর্বর ধর্ম" এবং "মিথ্যা ধর্ম" বলে মনে করতেন, যা কেবল "বোকা এবং বর্বর অবস্থায় থাকা লোকেরাই বিশ্বাস করে"।[৪৭] তিনি আরও বলেন যে বাইবেলে এমন অনেক গল্প ও নীতি রয়েছে যা অনৈতিক, নিষ্ঠুরতা ও প্রতারণার প্রশংসা করে এবং পাপকে উৎসাহিত করে।[৪৮]
১৯৫৬ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকার "খ্রিস্টান মিশনারি কার্যকলাপের উপর নিয়োগী কমিটির প্রতিবেদন" প্রকাশ করে। ভারতে বিতর্কিত মিশনারি কার্যকলাপের উপর এই প্রভাবশালী প্রতিবেদনটি সুপারিশ করে যে অবৈধ উপায়ে ধর্মান্তরিতকরণের উপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা উচিত।[৪৯] ১৯৫০-এর দশকে কে.এম. পানিক্কারের লেখা এশিয়া অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন ডমিন্যান্স প্রকাশিত হয় এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতীয়দের মধ্যে খ্রিস্টান মিশনারিদের সমালোচনা করে লেখা প্রথম বইগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। বইটিতে বলা হয়, এশিয়াকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার কারণ ছিল মিশনারিদের সত্যের একচেটিয়া অধিকারের দাবি, যা এশীয় মানসিকতার কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল; সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র এবং খ্রিস্টীয় বিশ্বের নৈতিক ও জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের মনোভাবও এর জন্য দায়ী ছিল।[৪৯]
ভারতীয় লেখক এবং দার্শনিক রাম স্বরূপ ১৯৮০-এর দশকে খ্রিস্টান মিশনারি কার্যকলাপের হিন্দু সমালোচনার পুনরুজ্জীবন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন।[৫০] তিনি জোর দিয়ে বলেন যে খ্রিস্টধর্মের মতো একেশ্বরবাদী ধর্মগুলো "তাদের অনুসারীদের মধ্যে অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব জাগিয়ে তোলে"।[৫০] ভারতীয় এবং হিন্দু দৃষ্টিকোণ থেকে খ্রিস্টধর্মের সমালোচনা করা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের মধ্যে সীতা রাম গোয়েল এবং অরুণ শৌরি উল্লেখযোগ্য।[৫১][৫০] অরুণ শৌরি হিন্দুদের প্রতি "এই বিষয়ে সতর্ক থাকার" আহ্বান জানান যে "মিশনারিদের একটি মাত্র লক্ষ্য—আমাদেরকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ে রূপান্তরিত করা"; এবং তিনি লেখেন যে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা "একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত, শক্তিশালী এবং বিপুলভাবে সম্পদশালী সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করেছে"।[৫১] তার "ব্যাপকভাবে পঠিত এবং বহুল উদ্ধৃত" বই মিশনারিজ ইন ইন্ডিয়া-তে অরুণ শৌরি প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারণার পদ্ধতিগুলো ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হিসেবি এবং বস্তুবাদী। শৌরির মতে, মিশনারিদের কৌশল প্রণয়ন "যিশুর আদর্শের চেয়ে বরং ভারতের পরিকল্পনা কমিশন, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের মতোও মনে হচ্ছিল"।[৫০][৫২]
ভারতীয় দার্শনিক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ লেখেন:
দুর্ভাগ্যবশত খ্রিস্টধর্ম 'ঈর্ষান্বিত ঈশ্বরের' সেমেটিক বিশ্বাস এবং খ্রিস্টকে 'ঈশ্বরের একমাত্র পুত্র' হিসেবে দেখার ধারণা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তাই সিংহাসনের কাছে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে সহ্য করতে পারেনি। ইউরোপ যখন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে, তখন তাদের নিজস্ব উদার মানবতাবাদী ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও, তারা সেই উগ্র অসহিষ্ণুতাকে মেনে নেয় যা 'একবারেই সাধুদের কাছে প্রেরিত সত্য'-এ বিশ্বাসের স্বাভাবিক পরিণতি।[৫৩]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]পাদটীকা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]উক্তি
[সম্পাদনা]- ↑ Le Roy Froom, Prophetic Faith of Our Fathers , Vol. I, Washington D.C. Review & Herald 1946, p. 328.
- ↑ Martin 1991, পৃ. 3–4।
- 1 2 নোভাক, ডেভিড (১৯৯২)। "অধ্যায় ৩: মাইমোনিদিসের দৃষ্টিভঙ্গিতে খ্রিষ্টান ধর্ম"। ইহুদি-খ্রিষ্টান সংলাপ: একটি ইহুদি যুক্তি। নিউ ইয়র্ক: অক্সফোর্ড অ্যাকাডেমিক। পৃ. ৫৭–৭২। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৯৮৫৩৪১০।
- ↑ উইন্টার, এইচ. আর.; বেলোস, টি. জে. (১৯৮১)। পিপল অ্যান্ড পলিটিক্স: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু পলিটিকাল সায়েন্স। উইলি। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৭১-০৮১৫৩-১। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০২৩।
- 1 2 Martin 1991, পৃ. 4।
- ↑ ইমানুয়েল কান্ট, পরিশুদ্ধ বিবেচনার সমালোচনা, পৃষ্ঠা ৫৫৩–৫৬৯; পাশাপাশি ১৭৯৩ সালের মে মাসের কান্টের একটি চিঠি (Ak 11:414) যেখানে তিনি "খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা" প্রকাশ করেন যা "এই কাজের পথপ্রদর্শক" হিসেবে কাজ করেছে এবং যার লক্ষ্য ছিল "খ্রিস্টান ধর্মের সঙ্গে বিশুদ্ধতম ব্যবহারিক যুক্তির সংযুক্তি।"
- ↑ Robert R. Palmer and Joel Colton, A History of the Modern World (New York: McGraw Hill, 1995), pp. 388–92.
- ↑ Robert R. Palmer and Joel Colton, A History of the Modern World (New York: McGraw Hill, 1995), p. 630.
- ↑ Browning, W.R.F. "বাইবেলীয় সমালোচনা।" A Dictionary of the Bible. 1997 Encyclopedia.com. 8 Apr. 2010
- ↑ সন, বি.এ. বাইবেলীয় সমালোচনা, যার মধ্যে ফর্ম সমালোচনা, পরম্পরা সমালোচনা, উচ্চতর সমালোচনা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত অন্টারিও রিলিজিয়াস টলারেন্স কনসালটেন্টস, ২০০৮। ওয়েব: ৮ এপ্রিল ২০১০।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "RobinsonCriticism" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 Mather, G.A. & L.A. Nichols, Dictionary of Cults, Sects, Religions and the Occult, Zondervan (1993) (quoted in Robinson, Biblical Criticism
- ↑ Bruce Metzger, cited in The Case for Christ, Lee Strobel
- ↑ এহারম্যান, বার্ট ডি. (২০০৫)। Misquoting Jesus: The Story Behind Who Changed the Bible and Why। হারপারকলিন্স। আইএসবিএন ৯৭৮০০৬০৭৩৮১৭৪। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৩।
{{বই উদ্ধৃতি}}:-এ বহিঃসংযোগ (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার|পাতা নং=|ইউআরএল-প্রবেশ=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার|উদ্ধৃতি=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার|পাতা নং=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - ↑ Ehrman, Bart D. The Orthodox Corruption of Scripture. New York: Oxford U. Press, 1993
- ↑
ড্যানিয়েল বি. ওয়ালেস, "বার্টের বর্ণনায় সুসমাচার: বার্ট এহারম্যানের Misquoting Jesus বইয়ের একটি পর্যালোচনা প্রবন্ধ", Journal of the Evangelical Theological Society, জুন ২০০৬ (এছাড়াও পাওয়া যায় Bible.org-এ)।
- ক্রেইগ এল. ব্লম্বার্গ, "Misquoting Jesus: The Story Behind Who Changed the Bible and Why-এর পর্যালোচনা", ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৫ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে ডেনভার সেমিনারি, ফেব্রুয়ারি ২০০৬।
- হাউ, থমাস (২০০৬)। "বার্ট ডি. এহারম্যানের Misquoting Jesus বইয়ের জবাব"। International Society of Christian Apologetics। পৃ. পিডিএফ ডাউনলোড। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০১৩।
- ↑ এয়ারম্যান, বার্ট ডি. (২০০৬)। হুজ ওয়ার্ড ইজ ইট?। কন্টিনিয়ুয়াম ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশিং গ্রুপ। পৃ. ১৬৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮২৬৪-৯১২৯-৯।
- ↑ মেটজগার, ব্রুস (১৯৯৪)। একটি টেক্সচুয়াল ভাষ্য: নতুন নিয়ম (দ্বিতীয় সংস্করণ)। জার্মান বাইবেল সোসাইটি। উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগে থাকা "নাম" বৈধ প্যারামিটার নয়। সমর্থিত প্যারামিটারগুলি হল: details, dir, follow, group, name। - ↑ Mk. 16
- 1 2 কে. আলান্ড এবং বি. আলান্ড, "নবনির্মিত নিয়মিত পাণ্ডুলিপির সমালোচনামূলক সংস্করণসমূহ এবং আধুনিক পাঠ সমালোচনার তত্ত্ব ও চর্চা", ১৯৯৫, পূর্বোক্ত, পৃ. ২৯–৩০।
- ↑ Parry, Donald (১ জানুয়ারি ২০১০)। "The Dead Sea Scrolls Bible"। Studies in the Bible and Antiquity। ২ (১)।
- ↑ Parry, Donald (১ জানুয়ারি ২০১০)। "The Dead Sea Scrolls Bible"। Studies in the Bible and Antiquity। ২ (১): ২৭।
- ↑ উদাহরণস্বরূপ দেখুন The Skeptic's Annotated Bible থেকে তথাকথিত বিরোধগুলোর একটি তালিকা এবং রবার্ট জি. ইনগারসোলের প্রবন্ধ Inspiration Of Bible।
- ↑ এম. ডাব্লিউ. জে. ফেলান, The Inspiration of the Pentateuch, টু-এজড সোর্ড পাবলিকেশন্স (৯ মার্চ, ২০০৫) আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯৫৪৭২০৫-৬-৮
- ↑ রোনাল্ড ডি. উইদারাপ, Biblical Fundamentalism: What Every Catholic Should Know, লিটারজিক্যাল প্রেস (২০০১), পৃষ্ঠা ২৬।
- ↑ France, R.T., Tyndale New Testament Commentaries: Matthew, Inter-Varsity Press, Leicester, England (1985), pg. 17.
- ↑ Britannica Encyclopedia, Jesus Christ, p.17
- ↑ টিল, ফ্যারেল (১৯৯১)। "ভবিষ্যদ্বাণী: কল্পিত ও অপূর্ণ"। Internet Infidels। Internet Infidels। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০০৭।
- ↑ W. H. Bellinger, উইলিয়াম রিউবেন ফার্মার (১৯৯৮)। Jesus and the Suffering Servant: Isaiah 53 and Christian Origins। Trinity Press। আইএসবিএন ৯৭৮১৫৬৩৩৮২৩০৭। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৩।
নাজারতের যীশু কি "প্রভুর ধার্মিক দাস" সম্পর্কে যিশায়া ৫৩ অধ্যায়ের শিক্ষা ছাড়াই জীবন যাপন ও মৃত্যু বরণ করেন? এই গ্রন্থ কি যীশুর পক্ষে ঈশ্বরের জাতিসমূহকে উদ্ধারের পরিকল্পনা বোঝার ক্ষেত্রে কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেনি? — এই দুটি প্রশ্ন ১৯৯৫ সালের শরতে বেইলর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত "যিশায়া ৫৩ ও খ্রিস্টীয় উৎস" বিষয়ক একটি সম্মেলনে আলোচিত হয়, যার প্রধান প্রবন্ধসমূহ "Jesus and the Suffering Servant" গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।
- ↑ Peter W. Stoner, Science Speaks, Moody Pr, 1958, আইএসবিএন ০-৮০২৪-৭৬৩০-৯
- ↑ হারিস, স্টিফেন এল. (২০০২)। আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য বাইবেল (৬ষ্ঠ সংস্করণ)। ম্যাকগ্রো-হিল কলেজ। পৃ. ৩৭৬–৩৭৭। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৬৭৪২৯১৬০। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৩। (উক্তির আরও অংশ: B C D)
- ↑ Gaudium et spes, 19
- ↑ "দ্য ইভানজেলিকাল স্ক্যান্ডাল"। ১৩ এপ্রিল ২০০৫।
- ↑ টেমপ্লেট:ওয়েবউদ্ধৃতি
- ↑ শোপনহাউয়ার, আর্টুর। "ধর্ম: একটি সংলাপ"। আর্টুর শোপনহাউয়ারের প্রবন্ধসমূহ। টি. বেইলি সন্ডার্স কর্তৃক অনূদিত।
- ↑ Christianity: An Introduction, p. 125, by Alister E. McGrath
- ↑ "আত-তাওবা, আল কুরআন"। লিডস বিশ্ববিদ্যালয়। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।
- ↑ ইদরিসি, ফাতিয়াতুননূর (জানুয়ারি ২০২২)। "খ্রিস্টীয় নৈতিকতা: আল-ফারুকির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একটি পর্যালোচনা"। ফাতওয়া ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা জার্নাল, বিশেষ সংস্করণ। খণ্ড ২৭ নং ২। পৃ. ১–৯।
- ↑ মোহদ, সিতি হাজিজা (২০২৩)। "আল-ফারুকির 'খ্রিস্টীয় নৈতিকতা' গ্রন্থের একটি গঠিত সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ"। প্রিপ্রিন্ট। কুয়ালালামপুর।
- ↑ শেহু, ফাতমির (২০২৩)। "ইসমাঈল রাজি আল-ফারুকির 'ক্রিশ্চিয়ান এথিকস' গ্রন্থের নির্বাচিত পাঠ বিশ্লেষণের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্ম অধ্যয়নের পদ্ধতির অনুসন্ধান"। ইন্টেলেকচুয়াল ডিসকোর্স। খণ্ড ৩১ নং ১। আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়া প্রেস। পৃ. ৩১–৫৫। ডিওআই:10.31436/id.v31i1.1913।
- ↑ "Judaism and Other Religions", p. 88, publisher = Palgrave Macmillan
- ↑ অ্যান্টি-জুডাইজম এবং প্রারম্ভিক খ্রিস্টীয় পরিচয়: একাডেমিক ঐকমত্যের সমালোচনা, মিরিয়াম এস. টেলর, পৃষ্ঠা ৪১
- ↑ [http://www.jta.org/1943/02/19/archive/wise-criticizes-christian-world-for-failure-to-rescue-jews-in-nazi-europe নাৎসি ইউরোপে ইহুদিদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য খ্রিস্টীয় জগতের সমালোচনা করলেন ওয়াইজ — ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩
- ↑ আবিদুল্লাহ আল-আনসারী গাজী, রাজা রামমোহন রায়: ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং হিন্দু আত্ম-চেতনার প্রকাশ, পৃষ্ঠা ১৬৬, ২০১০।
- ↑ আবিদুল্লাহ আল-আনসারী গাজী, রাজা রামমোহন রায়: ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং হিন্দু আত্ম-চেতনার প্রকাশ, পৃষ্ঠা ১৬৯, ২০১০।
- ↑ অরবিন্দ শর্মা, নিও-হিন্দুদের দৃষ্টিতে খ্রিষ্টধর্ম, পৃষ্ঠা ৯৬, ১৯৮৮।
- ↑ পি. এল. জন পানিক্কার, গান্ধী অন প্লুরালিজম অ্যান্ড কমিউনালিজম, পৃষ্ঠা ৩৯, ২০০৬।
- ↑ জে. টি. এফ. জর্ডেন্স, দয়ানন্দ সরস্বতী: তার জীবন ও ভাবনা, পৃষ্ঠা ২৬৭।
- 1 2 অধ্যায় ৬, হিন্দুত্ব, ধর্মনিরপেক্ষ ভারত এবং খ্রিস্টান মিশনারি কার্যকলাপ অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন: ১৯৫৪–৫৭, সেবাস্টিয়ান সি. এইচ. কিম, ন্যাশনালিজম অ্যান্ড হিন্দুত্ব: এ খ্রিস্টিয়ান রেসপন্স: পেপারস ফ্রম দ্য ১০তম সিএমএস কনসালটেশন, মার্ক টি. বি. লেইং (সম্পা.), ২০০৫, আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭২১৪৮৩৮৬
- 1 2 3 4 পেন্টিকোস্টাল, ধর্মান্তরকরণ এবং সমকালীন ভারতে খ্রিস্টান-বিরোধী সহিংসতা, চ্যাড এম. বাউম্যান, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০১৫
- 1 2 সংঘ পরিবার কর্তৃক ধর্মান্তরণ নিয়ে বিতর্ক, ১৯৯৮–১৯৯৯, লেখক: সেবাস্টিয়ান কিম, উৎস: ট্রান্সফরমেশন, খণ্ড ২২, সংখ্যা ৪, খ্রিস্টিয়ান ধর্ম ও অন্যান্য ধর্ম (অক্টোবর ২০০৫), পৃষ্ঠা ২২৪–২৩৭
- ↑ ড. টিমোথি হেমব্রম। "অরুণ শৌরী অ্যান্ড হিজ খ্রিস্টিয়ান ক্রিটিক" এবং এস. আর. গোয়েলের ক্যাথলিক আশ্রমস গ্রন্থদ্বয়ের বই সমালোচনা, ইন্ডিয়ান জার্নাল অব থিওলজি, "বুক রিভিউস", ইন্ডিয়ান জার্নাল অব থিওলজি ৩৭.২ (১৯৯৫): ৯৩–৯৯।
- ↑ শিল্প, পল আর্থার (১৯৯২)। দ্য ফিলোসফি অব সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ। মোতিলাল বানারসীদাস প্রকাশন। পৃ. ৬৪১। আইএসবিএন ৯৭৮৮১২০৮০৭৯২১ – Google Books এর মাধ্যমে।