খেলার ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাপানী হেইয়ান বা কামকুরা যুগে প্রাচীন সুমো-কুস্তি প্রতিযোগিতা (৭৯৪ থেকে ১৩৩৩ সালের মধ্যে)

খেলার ইতিহাস প্রাচীন পৃথিবীর ইতিহাসেও খুঁজে পাওয়া যায়। যে শারীরিক ক্রিয়াকলাপগুলি ক্রমশ খেলাধুলায় পরিণত হয়েছিল, সেগুলি প্রাথমিকভাবে অনুষ্ঠান, যুদ্ধ এবং বিনোদন সম্পর্কিত ছিল।[১]

খেলাধুলার ইতিহাস অধ্যয়নের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন এবং ক্রীড়ার প্রকৃতি সম্পর্কে শিক্ষা পাওয়া যেতে পারে, কারণ খেলাধুলা প্রাথমিকভাবে মানবিক দক্ষতার বিকাশে জড়িত বলে মনে হয় (তুলনা খেলা)|[২] কেউ যদি ইতিহাসকে গভীরভাবে অনুসন্ধান করে, তার ক্রমহ্রাসমান প্রমাণ থেকে খেলাধুলার উৎস এবং উদ্দেশ্যের তত্ত্বগুলি আরও বেশি করেই সমর্থন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

খেলাধুলার সূচনা যখন হয়েছিল তখন থেকে দেখলে, এটি সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত ছিল। উদাহরণ স্বরূপ, ব্যক্তিরা পরিষেবা দানের জন্য উপযুক্ত এবং যোগ্য কিনা তা নির্ধারণের জন্য প্রতিযোগিতার মাধ্যম হিসাবে খেলাধূলা ব্যবহৃত হয়েছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] দলগত ক্রীড়াগুলি প্রশিক্ষণ এবং সামরিক বাহিনীতে লড়াইয়ের দক্ষতা প্রমাণ করার জন্য এবং একটি দল হিসাবে একসাথে কাজ করার (সামরিক সংস্থা) জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

প্রাগৈতিহাসিক খেলাধূলা[সম্পাদনা]

ফ্রান্সে ল্যাসকক্স গুহাগুলিতে পাওয়া গুহাচিত্রগুলি প্রায় ১৫,৩০০ বছর পূর্বের নব্য প্রস্তর যুগের স্প্রিন্ট এবং কুস্তির চিত্র পাওয়া গেছে।[৩][৪][যাচাইকরণ ব্যর্থ হয়েছে]মঙ্গোলিয়ার বয়ানখঙ্গোর প্রদেশে পাওয়া নব্য প্রস্তর যুগের (আনু.  ৭০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ গুহা চিত্রগুলি থেকে দেখা গেছে ভিড়ে ঠাসা দর্শকের সামনে কুস্তি প্রতিদ্বন্দিতা। [৫][যাচাইকরণ ব্যর্থ হয়েছে] মিশরের গিল্ফ কেবিরেরর এর কাছে ওয়াডি সুরার সাঁতারু গুহায় নব্য প্রস্তর যুগের গুহাচিত্র পাওয়া গেছে যেখান থেকে প্রায় ১০,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সাঁতার এবং ধনুর্বিদ্যা অনুশীলন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।[৬] প্রাগৈতিহাসিক জাপানের গুহা চিত্রগুলিতে সুমো কুস্তির মতো একটি খেলা চিত্রিত হয়েছে।[৭]

সম্ভবত শিকার সংগ্রহের বদলে কৃষিকার্য খাদ্য সংগ্রহের প্রাথমিক মাধ্যম হিসাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠার পরে, যাদের আগে শিকারীরর ভূমিকায় দেখা যেত – এবং সম্ভবত এই কারণে তারা প্রাকৃতিকভাবে বেশি শক্তিশালী ছিল – তাদের ব্যবহারিক দক্ষতায় প্রকাশের আর কোন উপায় ছিলনা। সুতরাং পরিবর্তে শিকারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অনুশীলনের অবিরাম প্রস্তুতির একটি পরিবেশ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সেটি এরপরে প্রতিযোগিতামূলক খেলায় পরিণত হয়েছিল, যে খেলার উদ্দেশ্য ছিল দেখে নেওয়া যে শিকারের বিভিন্ন পর্যায়ের জন্য কে সবচেয়ে "উপযুক্ত"; উদাহরণস্বরূপ, তাড়া করে ধরার গতি, কুস্তি করার শক্তি বা নির্ভুলভাবে দ্রুত শিকারটির প্রাণবধ করা এবং প্রতিযোগিতার ফলাফল কি হবে তাই নিয়ে বাজি ধরা। আজকের দিনে এই জিনিসটিকেই আমরা খেলাধুলা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছি।

প্রাচীন সুমের[সম্পাদনা]

An মিশরীয় সমাধি কক্ষে ম্যুরাল, খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০ খ্রিস্টাব্দের খুমহোটেপ ও নিয়ানখনুম সমাধি থেকে, কুস্তি প্রতিযোগিতা চলছে। [৮]

সুমেরীয় সভ্যতা থেকে প্রাপ্ত পাথরের ফলকগুলিতে কুস্তিগীরদের বিভিন্ন উপস্থাপনা পাওয়া গেছে।[৯] একটি ফলকে তিনজন কুস্তিগীরকে দেখানো হয়েছে যেটি খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ খ্রিস্টাব্দের। [১০] একটি ঢালাই ব্রোঞ্জ মূর্তি[১১] (সম্ভবত একটি ফুলদানির) নিম্নদেশ), যেটি ইরাকের খাফাজি থেকে পাওয়া গেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে দুজন কুস্তিগীর আঁকড়ে ধরে আছে। এটি সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০ অব্দের। মূর্তিটি খেলাধুলার প্রথম দিককার চিত্রগুলির মধ্যে একটি এবং এটি ইরাকের জাতীয় যাদুঘরে রাখা হয়েছে।[১২][১৩] প্রাচীন সুমেরে মুষ্টিযুদ্ধের উৎসের সন্ধান পাওয়া গেছে।[১০] গিলগামেশের মহাকাব্যে খেলাধুলার প্রথম ঐতিহাসিক নথির সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে গিলগামেশ এনকিদুর সাথে কটিবন্ধ কুস্তি লড়ছে। কিউনিফর্ম ফলকগুলি খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দের; তবে ঐতিহাসিক গিলগামেশ খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০ থেকে ২৬০০ এর মধ্যে বেঁচে ছিল বলে মনে করা হয়।[১৪] সুমেরীয় রাজা শুলগি খেলাধুলায় তাঁর দক্ষতা নিয়ে গর্ব করেছেন শুলগির এ এর স্ব-প্রশংসা, বি এবং সি[১৪]উরে খননের সময় মাছধরার বঁড়শি (এখন যেমন হয় তেমনটি নয়) পাওয়া গেছে, যার থেকে প্রমাণ হয়েছে ২৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে সুমেরে ছিপের ব্যবহার ছিল।[১৫]

প্রাচীন মিশর[সম্পাদনা]

খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে বেনি হাসানে পাওয়া ফারাওদের স্মৃতিচিহ্নগুলি[১৬] ইঙ্গিত দেয় যে কুস্তি, ভারোত্তোলন, লম্বা লাফ, সাঁতার, নৌচালন, তীরন্দাজী, মাছধরা সহ বেশ কয়েকটি খেলাধুলা[১৫] এবং মল্লক্রীড়া, পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বল ক্রীড়া, প্রাচীন মিশরে বিকশিত হয়েছিল এবং চর্চা হত। মিশরীয় অন্যান্য খেলাধুলার মধ্যে জ্যাভেলিন নিক্ষেপ এবং উচ্চ লম্ফ অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১৭] আগেকার দিনের কুস্তির বর্ণনার চিত্র পাওয়া গেছে সাক্কারার খুমোটেপ ও নিয়ানখখনুমের সমাধিতে, যেটি প্রায় ২৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের।[৮][১৮]


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Crowther, Nigel B. (২০০৭)। Sport in Ancient Times। Praeger series on the ancient world, ISSN 1932-1406। Westport, Connecticut: Greenwood Publishing Group। পৃষ্ঠা xxii। আইএসবিএন 9780275987398। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৫-৩০People in the ancient world rarely practiced sports for their own sake, especially in the earliest times, for physical pursuits had strong links with ritual, warfare, entertainment, or other external features. 
  2. "Role of Sports in the Development of an Individual and Role of Psychology in Sports*"। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  3. Capelo, Holly (জুলাই ২০১০)। "Symbols from the Sky: Heavenly messages from the depths of prehistory may be encoded on the walls of caves throughout Europe."Seed Magazine। ৮ মে ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  4. Gary Barber (১ ফেব্রুয়ারি ২০০৭)। Getting Started in Track and Field Athletics: Advice & Ideas for Children, Parents, and TeachersTrafford Publishing। পৃষ্ঠা 25–। আইএসবিএন 978-1-4120-6557-3। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  5. "Hartsell, Jeff., Wrestling 'in our blood,' says Bulldogs' Luvsandorj, 17 March 2011"। ২৪ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  6. Győző Vörös (২০০৭)। Egyptian Temple Architecture: 100 Years of Hungarian Excavations in Egypt, 1907-2007American Univ in Cairo Press। পৃষ্ঠা 39–। আইএসবিএন 978-963-662-084-4। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  7. Robert Crego (২০০৩)। Sports and Games of the 18th and 19th Centuriesবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজনGreenwood Publishing Group। পৃষ্ঠা 34–। আইএসবিএন 978-0-313-31610-4। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  8. Egypt Thomb ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৩ জুলাই ২০১১ তারিখে. Lessing Photo. 15 Feb 2011.
  9. Harriet Crawford (১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৪)। Sumer and the Sumeriansবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজন। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 247–। আইএসবিএন 978-0-521-53338-6। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  10. Kendall Blanchard (১৯৯৫)। The Anthropology of Sport: An IntroductionABC-CLIO। পৃষ্ঠা 99–। আইএসবিএন 978-0-89789-330-5। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  11. Time Inc (১৫ আগস্ট ১৯৩৮)। LIFE। Time Inc। পৃষ্ঠা 59–। আইএসএসএন 0024-3019। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  12. Faraj Baṣmahʹjī (১৯৭৫)। Treasures of the Iraq Museum। Al-Jumhuriya Press। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  13. David Gilman Romano (১৯৯৩)। Athletics and Mathematics in Archaic Corinth: The Origins of the Greek Stadion। American Philosophical Society। পৃষ্ঠা 10–। আইএসবিএন 978-0-87169-206-1। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  14. Nigel B. Crowther (২০০৭)। Sport in Ancient Times। Greenwood Publishing Group। পৃষ্ঠা 15–। আইএসবিএন 978-0-275-98739-8। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  15. Terry Hellekson (১৯ নভেম্বর ২০০৫)। Fish Flies: The Encyclopedia Of The Fly Tier's Art। Gibbs Smith। পৃষ্ঠা 2–। আইএসবিএন 978-1-58685-692-2। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  16. W. J. Hamblin (১২ এপ্রিল ২০০৬)। Warfare in Ancient Near East। Taylor & Francis। পৃষ্ঠা 433–। আইএসবিএন 978-0-415-25588-2। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  17. William J. Baker (১ জুলাই ১৯৮৮)। Sports in the Western Worldবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজন। University of Illinois Press। পৃষ্ঠা 8–। আইএসবিএন 978-0-252-06042-7। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  18. Michael Rice (৭ নভেম্বর ২০০১)। Who's Who in Ancient Egypt। Psychology Press। পৃষ্ঠা 98–। আইএসবিএন 978-0-415-15449-9। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Day, Dave. Professionals, Amateurs and Performance: Sports Coaching in England, 1789–1914 (2012)
  • Gorn, Elliott J. A Brief History of American Sports (2004)
  • Guttmann, Allen [de; fr]. Women's Sports: A History, Columbia University Press 1992
  • Guttmann, Allen. Games and Empires: Modern Sports and Cultural Imperialism, Columbia Univ Press, 1996
  • Guttmann, Allen. The Olympics: A History of the Modern Games (2002)
  • Holt, Richard. Sport and Society in Modern France (1981).
  • Holt, Richard. Sport and the British: A Modern History (1990) excerpt
  • Howell, Colin. Blood, Sweat, and Cheers: Sport and the Making of Modern Canada (2001)
  • Mangan, J.A. (১৯৯৬)। Militarism, Sport, Europe: War Without Weapons। Routledge। 
  • Maurer, Michael. "Vom Mutterland des Sports zum Kontinent: Der Transfer des englischen Sports im 19. Jahrhundert", European History Online, Mainz, 2011, retrieved: 25 February 2012.
  • Morrow, Don and Kevin B. Wamsley. Sport in Canada: A History (2009)
  • Murray, Bill. The World's Game: A History of Soccer (1998)
  • Polley, Martin. Sports History: a practical guide, Palgrave, 2007.
  • Scott A.G.M. Crawford (Hrg.), Serious sport: J.A. Mangan's contribution to the history of sport, Portland, OR : Frank Cass, 2004
  • Pope, S.W. ed. The new American sport history : recent approaches and perspectives, Univ. of Illinois Press, 1997

জার্নাল সমূহ

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:History of sports