খুর্দা রোড–বিশাখাপত্তনম বিভাগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
খুর্দা রোড–বিশাখাপত্তনম বিভাগ
18463 Prashanti Express at Alamanda with WAP-4 Loco.JPG
খুর্দা রোড–বিশাখাপত্তনম বিভাগে আলামন্দা রেলওয়ে স্টেশনে ১৮৪৬৩ প্রশান্তি এক্সপ্রেস
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
অবস্থাসক্রিয়
সেবাগ্রহণকারী অঞ্চলওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ
বিরতিস্থলখুর্দা রোড
বিশাখাপত্তনম
ক্রিয়াকলাপ
উদ্বোধনের তারিখ১৮৯৯
মালিকভারতীয় রেল
পরিচালনাকারীপূর্ব উপকূলীয় রেল, = দক্ষিণ উপকূলীয় রেল
প্রযুক্তিগত
ট্র্যাকের দৈর্ঘ্য৪২৪ কিমি (২৬৩ মা)
ট্র্যাক গেজ১,৬৭৬ মিলিমিটার (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) ব্রডগেজ
চালন গতিসর্বোচ্চ ১৩০ কিমি/ঘ (৮১ মা/ঘ)

খুর্দা রোড–বিশাখাপত্তনম বিভাগটি ভারতের ওড়িশা রাজ্যের খুর্দা রোড এবং অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমকে সংযুক্তকারী একটি রেলপথ, যা মূল রেলপথ হাওড়া-চেন্নাই প্রধান লাইনের অংশ।

ভূগোল[সম্পাদনা]

খুর্দা রোড–বিশাখাপত্তনম বিভাগটি পূর্ব উপকূলীয় সমভূমিগুলি পেরিয়েছে, প্রথমে ওড়িশার সমভূমিটির দক্ষিণ অংশটি মহানদী ব-দ্বীপ থেকে চিলকা হ্রদ পেরিয়ে কিছুটা পরে উত্তর সরকার উপকূল শুরু হয়। উপকূলীয় সমভূমিগুলি পূর্ব ঘাট এবং বঙ্গোপসাগরের মধ্যে অবস্থিত এবং কয়েকটি স্থানে পূর্বের ঘাটগুলি সমুদ্রের কাছাকাছি আসে। এই অঞ্চলে সমুদ্রের মধ্যে প্রচুর নদী প্রবাহিত হয় - রশিকুল্য, বংশধারা এবং নাগাবালি।[১][২][৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

হাওড়া-চেন্নাই প্রধান রেলপথ[সম্পাদনা]

১৮৯৩ সাল থেকে ১৮৯৬ সাএর সময়কালে, কটক থেকে বিজয়ওয়াড়া পর্যন্ত পুরো উপকূল জুড়ে প্রসারিত ১,২৮৭ কিলোমিটার (৮০০ মাইল) রেলপথ পূর্ব উপকূলীয় রাজ্য রেলওয়ে দ্বারা নির্মিত হয় এবং ট্রাফিকের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।[৪][৫] বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ে কটক পর্যন্ত রেলপথটি ১৮৯৯ সালের ১ জানুয়ারী চালু করে।[৪] পূর্ব উপকূলীয় রাজ্য রেলওয়ের দক্ষিণ অংশ (ওয়ালটাইয়ার থেকে বিজয়ওয়াড়া পর্যন্ত) ১৯০১ সালে মাদ্রাজ রেলওয়ের অধীনে ছিল।[৬] পূর্ব উপকূলীয় রেলপথের ৫১৪ কিলোমিটার (৩১১ মাইল) দীর্ঘ উত্তরের অংশটি কটক অবধি, পুরী শাখার রেলপথ সহ ১৯০২ সালে বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ের অধীনে আসে।[৫][৭]

শাখা রেলপথ[সম্পাদনা]

৭৯ কিমি (৪৯ মাইল) বিজয়নগরম–পার্বতীপুরম লাইনটি ১৯০৮-০৯ সালে খোলা হয় এবং সালুর পর্যন্ত একটি সম্প্রসারণ ১৯১৩ সালে নির্মিত হয়। পার্বতীপুরম-রায়পুর লাইনটি ১৯১৩ সালে শেষ হয়।[৪] (আরও তথ্যের জন্য ঝারসুগুড়া–বিজয়নগরম রেলপথ নিবন্ধটি দেখুন।)

১৯৬০ সালে, ভারতীয় রেলপথ তিনটি প্রকল্প গ্রহণ করে: কথাভালাসা-কোরাপুট-জেয়পুর-কিরন্দুল রেলপথ (দণ্ডকারণ্য প্রকল্প), টিলাগড়-বলাঙ্গির-ঝারসুগুড়া প্রকল্প এবং রাউরকেলা-কিরিবুরু প্রকল্প। তিনটি প্রকল্পই একসাথে নেওয়া হয়, এটি ডিবিকে প্রকল্প বা দন্ডকারণ্য বলাঙ্গির কিরিবুরু প্রকল্প হিসাবে জনপ্রিয় ছিল।[৮] কথাভালাসা-কিরন্দুল লাইনটি ১৯৬৬-৬৭ সালে খোলা হয়।[৫]

পারলাখেমুন্দি হালকা রেল ১৯০০ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে নওপদ-গুনুপুর লাইনটি চালু করে।[৪][৯] লাইনটি ২০১১ সালে ব্রডগেজে রূপান্তরিত হয়।[১০]

রেল পুনর্গঠন[সম্পাদনা]

১৯৪৪ সালে বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ে জাতীয়করণ করা হয়।[১১] পূর্ব রেল ১৯৫২ সালের ১৪ এপ্রিল মুঘলসরাইয়ের পূর্বের পূর্ব ভারতীয় রেল কোম্পানির অংশ এবং বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ে নিয়ে গঠিত হয়।[১২] ১৯৫৫ সালে, দক্ষিণ পূর্ব রেলকে পূর্ব রেল থেকে ভেঙে গঠন করা হয়। এটি বেশিরভাগ বিএনআর দ্বারা চালিত লাইনগুলি নিয়ে গঠিত।[১২][১৩] ২০০৩ এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া নতুন রেল জোনের মধ্যে পূর্ব উপকূলীয় রেল এবং দক্ষিণ পূর্ব মধ্য রেলওয়ে ছিল। এই উভয় রেলওয়ে দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ে থেকে ভেঙে গঠন করা হয়।[১২]

বৈদ্যুতীকরণ[সম্পাদনা]

হাওড়া-চেন্নাই মেল দক্ষিণ পূর্ব রেলপথের প্রথম ট্রেন, যা ১৯৬৫ সালে ডিজেল ইঞ্জিন (ডাব্লুডিএম-১) দ্বারা চালিত হয়।[১৩]

খুর্দা-বিশাখাপত্তনম বিভাগটি ২০০২ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়িত হয়। হাওড়া-চেন্নাই রুট ২০০৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়িত হয়।[১৪]

গতিসীমা[সম্পাদনা]

পুরো খড়গপুর-বিশাখাপত্তনম-বিজয়ওয়াড়া মূল রেলপথকে "বি-শ্রেণি" রেলপথ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়, যেখানে ১৩০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারে। শাখা রেলপথে গতি সীমা ১০০ কিলোমিটার/ঘণ্টা।[১৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Coastal Plains of India"। Country facts – the world at your finger tips। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০১-১৭ 
  2. "The Coastal Plains of India"। Zahie.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০১-১৭ 
  3. "Mahanadi River Delta, India, Asia"। The World Delta Database। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০১-১৭ 
  4. "Major Events in the Formation of S.E. Railway"। South Eastern Railway। ১ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৩ 
  5. "History of Waltair Division"। Mannanna.com। ১১ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৩ 
  6. "IR History: Part III (1900-1947)"। IRFCA। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০১-১৯ 
  7. "History"। East Coast Railway। ৩১ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৩ 
  8. Baral, Chitta। "History of Indian Railways in Orissa" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১১-২৭ 
  9. "Paralakhemedi Light Railway"। The Indian Express, 28 May 2009। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১২-১০ 
  10. "Performance of Waltair Division in 2011-12"। Waltair Division of East Coast Railway। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১১-২৭ 
  11. "IR History: Part - III (1900 - 1947)"। IRFCA। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১১-২১ 
  12. "Geography – Railway Zones"। IRFCA। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১১-২১ 
  13. "IR History: Part - IV (1947 - 1970)"। IRFCA। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১১-২১ 
  14. "IR History Part VII (2000-present)"। IRFCA। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০১-০২ 
  15. "Chapter II – The Maintenance of Permanent Way"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০১-০২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]