খিতান (খৎনা)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

খিতান (আরবি: ختان) বা খৎনা (আরবি: ختنة) পুরুষদের সুন্নত করার বিষয়টি মুসলমানরা তাদের ইসলামী সংস্কৃতির অংশ হিসাবে পালন করে। পুরুষ খৎনা ইসলামে ব্যপক প্রচলিত এবং আইনত ইসলামের সকল মাযহাব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত অনুশাসন হিসাবে গৃহীত হয়েছে।[১] এটি বৃহত্তর ইসলামী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চিহ্ন হিসাবে বিবেচিত হয়। [২]

ইসলামে পুরুষদের সুন্নত সমাসীন, তবে ইহুদিদের খৎনার মতো নয়। ইসলাম বর্তমানে বৃহত্তম একক ধর্মীয় গোষ্ঠী যেখানে এটি ব্যপকভাবে প্রচলিত আছে,[২] যদিও খৎনার কথা কুরআনে বর্ণিত হয়নি তবে এটি হাদিসে উল্লেখ আছে এবং এটি সুন্নাহ। ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার পরে এটি করা উচিত কিনা তা নিয়ে ওলামাদের মধ্যে মতবেধ আছে।[৩][৪][৫][৬]

ধর্মীয় উৎস[সম্পাদনা]

মধ্য এশিয়াতে (সম্ভবত তুর্কিস্তান) খৎনা করা হচ্ছে, আনু. ১৮৬৫ – ১৮৭২। পুনরুদ্ধার করা আলবুমেন মুদ্রণ

কোরআনে কোন আয়াতে সুন্নতের কথা উল্লেখ নেই। ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) এর সময়ে পৌত্তলিক আরব গোত্রের বেশিরভাগ পুরুষদের এবং কিছু মহিলাদের খৎনা করা হতো এবং ধর্মীয় কারণে ইহুদী পুরুষরা খৎনা করত।[৭] এটি আল-জাহিজ,[৮] পাশাপাশি জোসেফাস[৯] দ্বারাও প্রমাণিত হয়েছে।

কিছু ঐতিহ্য অনুসারে, মুহাম্মাদ লিঙ্গত্বক্ ছাড়া (খৎনা করা) জন্মগ্রহণ করেন, আবার কেউ কেউ বলেন যে তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব সাত দিন বয়সে তাঁর খৎনা করেছিলেন।[১০][১১] প্রাথমিক ইসলামী সম্প্রদায়ের মধ্যে তাদের অন্তর্ভুক্তির প্রতীক হিসাবে তাঁর প্রথম দিকের অনেক শিষ্যকে খৎনা করানো হয়েছিল।[১২] কিছু বিবরণে জানা যায় যে বাইজানটিয়ামের সম্রাট হেরাক্লিয়াস মুহাম্মদকে "খৎনা করা লোকদের নেতা" হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন।[১৩]

সুন্নি ইসলাম[সম্পাদনা]

ওলামাদের মধ্যে (মুসলিম আইনের পণ্ডিত) শরিয়াহতে (ইসলামী আইন) সুন্নত করার বাধ্যতামূলক সম্পর্কে ভিন্ন মত আছে। ফিকহের (ইসলামি আইনশাস্ত্র) হানাফি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আবু হানিফা এবং মালিক ইবনে আনাসের মতে খৎনা করা সুন্নতে মু'আক্কাদাহ — এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাফিঈহাম্বলি মাযহাব এটিকে সমস্ত মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক হিসাবে দেখেছে।[১৪]

শিয়া ইসলাম[সম্পাদনা]

সুন্নতের সময়[সম্পাদনা]

ডাচ ইস্ট ইন্ডিজে (বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া)  একটি শিশুর সুন্নতের পরে ঐতিহ্যবাহী মিছিল, ১৯১৫–১৯১৮ সালে।

প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

উদযাপন[সম্পাদনা]

ইন্দোনেশিয়ায় শিশুর খৎনা করার পর পেরাইয়ান সুনাতান নামে একটি ভোজের আয়োজন করা হয়, তবে ইন্দোনেশিয়ার কিছু ওলামা বলেন যে এটি বিদআত, তবে বেশিরভাগ ওলামা মনে করেন যে এটি বিদআত নয়। তুরস্কেও এটি ব্যাপকভাবে উদযাপন করা হয় এবং এটি "সুন্নেত তোরেনি" "সুন্নেত মেভলুদু" নামে পরিচিত।

নারী খৎনা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

তথ্যমূলক টীকা

উদ্ধৃতিসমূহ

  1. khitān Encyclopædia Britannica (2009)
  2. "Circumcision of boys"Religion & ethics—Islam। BBC। ২০০৬-০৩-২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৭-২৯ 
  3. "Male circumcision - the Islamic View"। Converting to Islam। ২০১৫-১২-১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০২-০৪ 
  4. "Is Circumcision obligatory after conversion?"। Islamicinvitationcentre.com। ২০১০-১২-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৫-২০ 
  5. "Considering Converting: Is it necessary to be circumcised?"। Qa.sunnipath.com। ২০০৫-০৭-০৩। ২০১২-০৭-১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৫-২০ 
  6. "Circumcision for Converts"। Qa.sunnipath.com। ২০০৭-০৩-২১। ২০১২-০৭-১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৫-২০ 
  7. W. La Barre, The Ghost Dance, London, 1972
  8. Volume II of al-Hayawan by Jahiz, ed. A. M. Harun, 7 vols., Cairo, 1938
  9. The Works of Flavius Josephus, translated by W. Whiston, 2 vols., London, 1858
  10. "Religions – Islam: Circumcision of boys"। BBC। ২০০৯-০৮-১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০২-২৬ 
  11. Al-Halabi, Ali Ibn-Burhan-al-Din. Alsirah al-halabiyyah. Vol.1 Beirut: Al-maktabah al-islamiyyah. (n.d.): 54–55
  12. source?
  13. Sahih Bukhari, vol. 1, book 1, no. 6
  14. "Medical Ethics of Male Circumcision"। Web.archive.org। ২০১০-০৫-৩০। ২০১০-০৫-৩০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৫-২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]