খরমুজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

Cantaloupes.jpg খরমুজ বা ফুটি গ্রীষ্মকালের এক সুস্বাদু আর খাদ্যগুণে ভরপুর একটি ফল। খরমুজ গ্রীষ্মে খাওয়ার জন্য একটি মিষ্টি, মাংসল এবং সরস ফল। এটি যেমন সুস্বাদু ঠিক তেমনি এটিতে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে। ভারতে ব্যাপক ভাবে চাষ হয়ে থাকে খরমুজ এবং অধিকাংশ অঞ্চলের মানুষজনই এটি খেতে পছন্দ করে। শরীরের জন্য বড়ই উপকারী কারণ এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলস। যা প্রচন্ড গরমে আপনার শরীরের জলের অভাব সহজেই মেটাবে। এটি ভিটামিন সি এবং বিটাকারোটিন সমৃদ্ধ এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। পাকা এবং কাঁচা দুভাবেই পরিবেশন করা হয়।এই ফল সালাদ হিসেবেও খাওয়া যেতে পারে। চলুন জেনে নিই খরমুজ বা ফুটিতে কী কী সুবিধা আছে- [১]

জলের অভাব পুরণ[সম্পাদনা]

খরমুজ শরীরের জলের অভাব পূরণ করে, এর সাথে সাথে এর ভিটামিন ও খনিজ আপনার স্বাস্থ্যকে চনমনে ও উজ্জীবিত রাখতে সাহায্য করবে। এই ফল চামড়ার আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং অত্যন্ত গরমে যদি এই ফলের জুস বা রস করে খাওয়া যায় তাহলে তা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী।

পরিপাকজনিত সমস্যার সমাধান[সম্পাদনা]

আপনার যদি পরিপাকজনিত কোনো শারীরিক সমস্যা থেকে থাকে তাহলে খরমুজকে আপনি আপনার রোজকার খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখবেন। খরমুজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে। এতে রয়েছে প্রচুর আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে সহায়ক।

প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়[সম্পাদনা]

খরমুজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি আমাদের সিস্টেমে নতুন শ্বেত রক্তকণিকা দিয়ে সজ্জিত করে যা শরীরের রোগের লড়াইয়ের সক্ষমতা জাগিয়ে তোলে এবং সংক্রমণ সফলভাবে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

কাশি ও সর্দি থেকে মুক্তি[সম্পাদনা]

সাধারনত ঋতুগত পরিবর্তনের সাথে সাথে কাশি, সর্দি এবং জ্বর হয়। খরমুজের বীজ দিয়ে কফ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং কাশি ও সর্দি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আপনার সালাদ বা দইয়ের সাথে শুকনো বা তাজা খরমুজের বীজ যুক্ত করুন।

হার্টের স্বাস্থ্যে উপকার করে[সম্পাদনা]

খরমুজে অ্যান্টিকোয়ুল্যান্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে পাতলা করে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে। এটি আমাদের ধমনীতে রক্তের মসৃণ প্রবাহকে উত্‍সাহ দেয় এবং আমাদের রক্তনালীগুলিকে কোনও অতিরিক্ত চাপ থেকে রক্ষা করে। ফলস্বরূপ, হার্টকে তার চেয়ে বেশি বেশি কঠোর পরিশ্রম করতে হয় না এবং হার্ট সুস্থ থাকে।

গর্ভাবস্থায় খরমুজের উপকারীতা[সম্পাদনা]

গর্ভাবস্থায় খরমুজ খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। উচ্চমাত্রায় ফোলেট থাকায় শরীরে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে এ ফল।সাথে অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট থাকায় নারীর পিরিয়ড নিয়মিতকরণে সহায়তা করে।

চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়[সম্পাদনা]

খরমুজ চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। যেহেতু এই ফল ভিটামিন এ ও বেটা কেরোটিনসমৃদ্ধ, তাই এটি দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তা ছাড়া এ ফল খেলে চোখে ছানি পড়ার ঝুঁকি কমে।

ত্বকের জন্য খুব উপকারী[সম্পাদনা]

খরমুজের শুকনো গুঁড়োকে যদি জলের সাথে গুলে ক্কাথ্‌ বানিয়ে ত্বকে লাগালে, রৌদ্রে ত্বকের জ্বলে যাওয়া অংশগুলিতে যদি এই ক্কাথ্‌ লাগানো যায় তাহলে তার খুব শীঘ্রই উপশম হয়ে যায়। এছাড়াও এই ফলের ক্কাথ্‌ ত্বকের পেলবতা ও সজীবতা রক্ষা করে। [২] [৩] [৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]