খণ্ডন-ভব-বন্ধন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
"খণ্ডন-ভব-বন্ধন"
সঙ্গীত
ভাষাবাংলা
ধারাস্তোত্র
গান লেখকস্বামী বিবেকানন্দ
Swami Vivekananda-1893-09-signed.jpg
সঙ্গীত রচয়িতাস্বামী বিবেকানন্দ
মিশ্রকল্যাণ রাগ, তালফেরতা (চৌতাল, তিনতাল ও একতাল)

খণ্ডন-ভব-বন্ধন বা শ্রীরামকৃষ্ণ-আরাত্রিক ভজন[১][২] হল হিন্দু সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের লেখা একটি বাংলা গান।[৩][৪] এই গানটি ঊনবিংশ শতাব্দীর হিন্দু ধর্মগুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসের উদ্দেশ্যে রচিত।[৫] গানটির রচনাকাল ১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দ।[৬][৭] এটি মিশ্রকল্যাণ রাগ ও তালফেরতায় (চৌতাল, তিনতাল ও একতাল) রচিত একটি ভক্তিগীতি।<

এই গানটিতে বিবেকানন্দ জাগতিক বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করার, এবং যাঁরা নিজেদের মুক্ত করতে পেরেছেন তাদের বিশ্বব্যাপী মুক্তি-চেতনা ছড়িয়ে দেবার ও বন্ধন ও দুঃখ থেকে মানুষকে মুক্ত হতে অনুপ্রেরিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।[৮]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বিবেকানন্দ ছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসের শিষ্য। রামকৃষ্ণ পরমহংসের শিক্ষা প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মঠমিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেটি হিন্দু সংস্কার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে পরিণত হয়েছিল। বিবেকানন্দ ছিলেন পাশ্চাত্যে বেদান্তযোগ দর্শনের প্রথম ও অন্যতম প্রধান প্রচারক। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রইউরোপ পর্যটন করে এই দুই দর্শন প্রচার করেছিলেন। ১৮৯৮ সালে রামকৃষ্ণ পরমহংসের শিষ্য নীলাম্বর বসুর বাড়িতে তিনি রামকৃষ্ণ মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। এই বাড়িতে অবস্থানকালেই তিনি এই গানটি রচনা করেছিলেন।

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সব মন্দিরেই দৈনিক পূজার্চনার পর সন্ধ্যারতির সময় এই গানটি গাওয়া হয়।[৯][১০]

বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

এই গানে বিবেকানন্দ দুঃখ ও জাগতিক বন্ধন থেকে ব্যক্তির মুক্তির কথা লিখেছেন। তিনি নিজেও তার আধ্যাত্মিক জীবন এই কাজে অতিবাহিত করেছিলেন।[৮]

এই স্তোত্রে বিবেকানন্দ তার গুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসকে সম্বোধন করে বন্দনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তার গুরু এমনই এক নিষ্কলুষ চরিত্র যিনি জগতের সকল বন্ধন খণ্ডন করতে সমক্ষ; তিনি মানুষের রূপধারী দিব্য জ্ঞানের প্রতিনিধি। গুরুর চোখের দিকে তাকিয়ে তিনি অনুভব করেছেন, তার চোখদুটি ঐশ্বরিক জ্ঞানের আলোকে উদ্ভাসিত এবং মায়াখণ্ডনকারী। মানুষকে মুক্ত করতে তিনি নিজে এই মানবদেহে বন্দী হয়ে এসেছেন। তাই তিনি তার গুরুকে পুনরায় বন্দনা করেছেন। শেষে তিনি তার গুরুকে "জ্যোতির জ্যোতি" বলে উল্লেখ করে তার হৃদয়ের অন্ধকার ও অজ্ঞান দূর করার জন্য গুরুর কাছে প্রার্থনা করেছেন।[২]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. "Sri Ramakrishna Arati" (PDF)। Indian Institue of Technology, Kanpur। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১২ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "Breaker of This World's Chain"। Vedanta.org। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১২ 
  3. "Swami Vivekananda biography"। Gujarat Government। ২১ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১২ 
  4. Suresh C. Dey (১ ডিসেম্বর ১৯৯০)। The Quest For Music Divine। New Delhi: APH Publishing। পৃষ্ঠা 100–। আইএসবিএন 978-81-7024-301-4। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১২ 
  5. Ranganathananda (Swami.)। A pilgrim looks at the world। Bharatiya Vidya Bhavan। পৃষ্ঠা 238। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১২ 
  6. "Sri Ramakrishna Stotram (Āchandālā …) by Swami Vivekananda"। Vedanta Centre। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০১২ 
  7. The Vedanta Kesari। Sri Ramakrishna Math.। ২০০৬। পৃষ্ঠা 244। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১২ 
  8. Santinath Chattopadhyay (জানুয়ারি ২০০১)। Swami Vivekananda: his global vision। Punthi Pustak। আইএসবিএন 978-81-86791-29-5। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১২  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "Chattopadhyay2001" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  9. swami Asuthoshananda। belur math pilgrimage (PDF)। Ramakrishna math Mylapore। পৃষ্ঠা 39। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১২ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  10. Banhatti, G.S.। Life and Philosophy of Swami Vivekananda। Atlantic Publishers & Distributors। পৃষ্ঠা 36। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১২