বিষয়বস্তুতে চলুন

ক্ষমা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ক্ষমা √ক্ষম্ +‎ আ → সংস্কৃত √ক্ষম্ (সহ্য করা) + "আ" (ভাব)। (ইংরেজি: forgiveness, pardon) ক্ষমা হলো অন্যের অপরাধ, ভুল বা অন্যায়ের জন্য ক্রোধ, প্রতিশোধ বা শাস্তির মনোভাব পরিত্যাগ করে তাকে মাফ করে দেওয়ার মানসিক বা নৈতিক আচরণ। এটি ব্যক্তিগত, সামাজিক ও ধর্মীয় নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি মানবিক গুণ হিসেবে বিবেচিত।[১]ক্ষমা সাধারণত তখন প্রয়োগ করা হয় যখন কোনো ব্যক্তি অন্যের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত, অপমানিত বা অন্যায় আচরণের শিকার হয় এবং প্রতিশোধ বা শাস্তির পরিবর্তে দয়া, সহনশীলতা বা উদারতার পথ বেছে নেয়।ক্ষমা সাধারণত তখন প্রয়োগ করা হয় যখন কোনো ব্যক্তি অন্যের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত, অপমানিত বা অন্যায় আচরণের শিকার হয় এবং প্রতিশোধ বা শাস্তির পরিবর্তে দয়া, সহনশীলতা বা উদারতার পথ বেছে নেয়। [২]

ধারণা

[সম্পাদনা]

নৈতিক দর্শনে ক্ষমাকে একটি ইতিবাচক মানবিক গুণ হিসেবে দেখা হয়। এটি মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহায়তা করে। অনেক সমাজে ক্ষমা পারস্পরিক সম্পর্ক পুনর্গঠন ও দ্বন্দ্ব নিরসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়। [৩]

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

[সম্পাদনা]

বিভিন্ন ধর্মে ক্ষমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়:

  • ইসলাম: ক্ষমা আল্লাহর একটি গুণ হিসেবে বিবেচিত এবং মানুষের প্রতি দয়া, সহনশীলতা ও অপরকে ক্ষমা করার জন্য কোরআন ও হাদিসে নির্দেশ ও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
  • খ্রিস্টধর্ম: যিশু খ্রিস্ট মানুষের প্রতি ক্ষমা ও দয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। অন্যের অপরাধ ক্ষমা করা ও শত্রুর প্রতি সদয় থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক আদর্শ।
  • বৌদ্ধধর্ম: ক্রোধ ও প্রতিশোধ পরিহার করে করুণা ও মৈত্রীর চর্চার মাধ্যমে ক্ষমাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
  • হিন্দুধর্ম: ক্ষমা (সংস্কৃত: क्षमा, kṣamā) ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মসংযমের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক গুণ। বিভিন্ন শাস্ত্র যেমন মহাভারত ও পুরাণে ক্ষমাশীলতা মানব চরিত্রের উচ্চতম গুণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।[৪]

সামাজিক গুরুত্ব

[সম্পাদনা]

ক্ষমা সামাজিক সম্পর্ক উন্নত করতে এবং দ্বন্দ্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিবার ও সমাজে পারস্পরিক ক্ষমাশীলতা সামাজিক স্থিতি ও শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে।[৫]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]
  • করুণা
  • সহনশীলতা
  • নৈতিকতা

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ Murphy, Jeffrie G. (১৯৮৮)। Forgiveness and Mercy। Cambridge University Press। পৃ. ১৪। আইএসবিএন ৯৭৮০৫২১৩৯৫৬৭০।
  2. ↑ Enright, Robert D. (২০০১)। The Psychology of Forgiveness। Springer।
  3. ↑ Huston, Tom L. (২০০০)। Social Interaction। Boston: McGraw‑Hill।
  4. ↑ Radhakrishnan, S. (১৯২৭)। The Hindu View of Life। New York: Harper & Brothers।
  5. ↑ Worthington, Everett L. (১৯৯৫)। "Dimensions of Forgiveness"। Journal of Psychology and Theology। ২৩ (3): ১৯৭–২০৬।