ক্লেইডিয়নের যুদ্ধ
| ক্লেইডিয়নের যুদ্ধ | |||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| বাইজেন্টাইন–বুলগেরীয় যুদ্ধসমূহের অংশ | |||||||
ক্লেইডিয়নে বাইজেন্টাইনরা বুলগেরীয়দের পরাজিত করে এবং জার স্যামুয়েল তার অন্ধ বাহিনীর দৃশ্য দেখে অচেতন হয়ে পড়েন। মানাসেস ক্রনিকল থেকে সংগৃহীত দৃশ্য। | |||||||
| |||||||
| বিবাদমান পক্ষ | |||||||
| বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য | প্রথম বুলগেরীয় সাম্রাজ্য | ||||||
| সেনাধিপতি ও নেতৃত্ব প্রদানকারী | |||||||
|
ব্যাসিল দ্বিতীয় নাইকেফোরোস জিপিয়াস কনস্টানটাইন ডায়োজেনিস থিওফিলাক্টোস বোটানিয়েটস † |
বুলগেরিয়ার স্যামুয়েল বুলগেরিয়ার গ্যাব্রিল রাদোমির | ||||||
| শক্তি | |||||||
| অজানা | অজানা | ||||||
| হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি | |||||||
| অজানা | সম্পূর্ণ বাহিনী বিধ্বস্ত, ১৫,০০০ বন্দি | ||||||
ক্লেইডিয়নের যুদ্ধ (প্রাচীন গ্রিক: Κλειδίον; অথবা ক্লিডিয়াম, ক্লিউচ গ্রামের মধ্যযুগীয় নাম অনুসারে, যার অর্থ আক্ষ. 'চাবি'; এটি 'বেলাসিটসার যুদ্ধ' নামেও পরিচিত) ১০১৪ সালের ২৯ জুলাই বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য এবং প্রথম বুলগেরীয় সাম্রাজ্যের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। এটি ছিল ১০ম শতাব্দীর শেষের দিকে এবং ১১শ শতাব্দীর শুরুতে বাইজেন্টাইন সম্রাট ব্যাসিল দ্বিতীয় এবং বুলগেরীয় সম্রাট স্যামুয়েলের মধ্যে প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে চলা সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি। যুদ্ধের ফলাফল ছিল বাইজেন্টাইনদের এক নির্ণায়ক বিজয়।
যুদ্ধটি আধুনিক বুলগেরীয় গ্রাম ক্লিউচের নিকটবর্তী বেলাসিটসা এবং ওগ্রাজদেন পর্বতমালার মধ্যবর্তী উপত্যকায় সংঘটিত হয়েছিল। ২৯ জুলাই বাইজেন্টাইন জেনারেল নাইকেফোরোস জিপিয়াসের নেতৃত্বে একটি সেনাদল অতর্কিতে বুলগেরীয়দের পেছন থেকে আক্রমণ করলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। এই ভয়াবহ যুদ্ধে বুলগেরীয় বাহিনী চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়। জয়ের পর সম্রাট দ্বিতীয় ব্যাসিল এক নৃশংস আদেশ দেন—হাজার হাজার বন্দি সৈন্যকে অন্ধ করে দেওয়া হয়। এই চরম নিষ্ঠুরতার কারণেই ইতিহাসে তিনি 'বুলগেরীয়-হন্তা' (Bulgar-Slayer) নামে কুখ্যাত হন। সম্রাট স্যামুয়েল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারলেও, নিজের অন্ধ সৈন্যদের করুণ দশা দেখে সহ্য করতে পারেননি। সেই শোকেই দুই মাস পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
যদিও এই সংঘর্ষেই প্রথম বুলগেরীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটেনি, তবে ক্লেইডিয়নের যুদ্ধ বাইজেন্টাইনদের জয়যাত্রা ঠেকানোর শক্তিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয়। বাইজান্টিয়ামের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসে এই যুদ্ধটি ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা সন্ধিক্ষণ।
প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল ৭ম শতাব্দীতে, যখন খান আসপারুখের অধীনে বুলগার জাতি পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের অন্যতম একটি প্রদেশে দানিউব নদী বরাবর একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। এর ফলে, বুলগেরীয় রাষ্ট্রটি তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বাইজান্টিয়ামের সাথে ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু যুদ্ধে লিপ্ত হয়।[১]
৯৬৮ সালে, কিভান রাজপুত্র সভিয়াতোস্লাভ উত্তর দিক থেকে বুলগেরিয়া আক্রমণ করেন।[২] সেই সময় নাগাদ বুলগেরীয় সাম্রাজ্য—যা একদা সিমিয়নের শাসনামলে বাইজান্টিয়ামের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল—তার শক্তির অনেকটা হারিয়ে ফেলেছিল।[৩] এই সংঘাতের সময় কিভান অভিযানগুলো বাইজেন্টাইনদের দ্বারা বারবার পরাজিত হয়। ৯৭১ সালে বুলগেরীয় রাজধানী প্রেসলাভ-এর পতনের পর থেকে বাইজেন্টাইনরা বুলগেরীয়দের সাথেও ক্রমাগত যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। এই যুদ্ধের ফলে বুলগেরীয় সম্রাট দ্বিতীয় বরিস কনস্টান্টিনোপলে তার রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং পূর্ব বুলগেরিয়া বাইজেন্টাইন শাসনের অধীনে চলে যায়।[৪] বাইজেন্টাইনরা ধারণা করেছিল যে এই পদক্ষেপটি স্বাধীন বুলগেরিয়ার সমাপ্তি ঘটাবে, কিন্তু পশ্চিম বুলগেরীয় ভূমিগুলো স্বায়ত্তশাসিত রয়ে যায়। সেখানে কোমিটোপুলি ভ্রাতৃদ্বয়—ডেভিড, মোজেস, অ্যারন এবং স্যামুয়েলের অধীনে বাইজেন্টাইনদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।[৫][৬]
৯৭৬ সালে বাইজেন্টাইন সম্রাট দ্বিতীয় ব্যাসিল সিংহাসনে আরোহণ করেই স্বাধীন বুলগেরিয়াকে পদানত করার লক্ষ্য স্থির করেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন পশ্চিম বুলগেরিয়ার শাসক স্যামুয়েল। তবে ব্যাসিলের প্রথম অভিযানটি ছিল চরম পরাজয়ের। ৯৮৬ সালে 'গেটস অফ ট্রাজান' পাসের যুদ্ধে বুলগেরীয়রা বাইজেন্টাইন বাহিনীকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেয় এবং সম্রাট কোনোমতে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।[৭] পরবর্তী দেড় দশক ব্যাসিল যখন নিজের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন এবং পূর্ব সীমান্তে ফাতিমীয়দের মোকাবিলায় ব্যস্ত ছিলেন, সেই সুযোগে স্যামুয়েল হাতছাড়া হওয়া বুলগেরীয় ভূখণ্ডগুলো পুনরুদ্ধার করেন। এমনকি তিনি একের পর এক দুঃসাহসী অভিযানের মাধ্যমে যুদ্ধকে সরাসরি শত্রুর সীমানায় নিয়ে যান। তবে দক্ষিণ গ্রিসের করিন্থ পর্যন্ত তার এই জয়যাত্রা ৯৯৬ সালে স্পারচেইওস-এর যুদ্ধে বড় ধরনের ধাক্কা খায়। ১০০০ সালের দিকে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করে ব্যাসিল আবারও বুলগেরিয়ার ওপর চড়াও হন। তিনি মোয়েশিয়া পুনর্দখল করার পর ১০০৩ সালে ভিডিন জয় করেন এবং তার পরের বছরই স্কোপিয়ের যুদ্ধে স্যামুয়েলকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন।
১০০৫ সালের মধ্যে সম্রাট ব্যাসিল থিসালি এবং দক্ষিণ ম্যাসেডোনিয়ার ওপর পুনরায় নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এই সময়কালে যুদ্ধের একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল লক্ষ্য করা যায়: বাইজেন্টাইনরা নিয়মিত বুলগেরিয়ার অভ্যন্তরে হানা দিয়ে দুর্গ দখল ও জনপদ লুণ্ঠন করত। অন্যদিকে, সংখ্যায় পিছিয়ে থাকায় বুলগেরীয়রা সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে চলত; তারা মূলত বাইজেন্টাইনদের মনোযোগ ঘোরাতে ম্যাসেডোনিয়া ও গ্রিসে চোরাগোপ্তা আক্রমণ চালাত। তবে এসব ছোটখাটো সাফল্য ব্যাসিলকে তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। ১০০৯ সালে বুলগেরীয়দের একটি পালটা আক্রমণ ক্রেটার যুদ্ধে ব্যর্থ হয়।[৮][৯] যদিও বাইজেন্টাইনরা তাৎক্ষণিক কোনো বড় জয় পায়নি, কিন্তু তাদের সুপরিকল্পিত 'ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধনীতি' বুলগেরীয়দের কোণঠাসা করে ফেলে। এর ফলে তারা একে একে তাদের শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো হারাতে থাকে এবং সামরিক শক্তি ক্রমশ হ্রাস পায়।[১০] ঐতিহাসিক জন স্কাইলিটজেসের মতে, সম্রাট ব্যাসিল প্রতি বছর বুলগেরিয়া আক্রমণ করে সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছিলেন। স্যামুয়েল চাইলেও সম্রাটকে সরাসরি যুদ্ধে বাধ্য করতে পারছিলেন না এবং একের পর এক পরাজয়ে তার শক্তি ফুরিয়ে আসছিল।[১১] অবশেষে ১০১৪ সালে যুদ্ধের চূড়ান্ত ক্ষণ উপস্থিত হয়, যখন স্যামুয়েল প্রতিজ্ঞা করেন যে—বুলগেরিয়ার হৃদপিণ্ডে প্রবেশের আগেই তিনি বাইজেন্টাইন বাহিনীকে রুখে দেবেন।
যুদ্ধের প্রস্তুতি
[সম্পাদনা]
বাইজেন্টাইন বাহিনীকে যে পার্বত্য পথগুলো দিয়ে আসতে হবে, স্যামুয়েল তা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই তিনি সেই পথগুলো দুর্ভেদ্য করার ব্যাপক প্রস্তুতি নেন। বুলগেরীয়রা সীমান্তে দীর্ঘ পরিখা খনন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ গিরিপথগুলোতে প্রাচীর ও দুর্গ গড়ে তোলে। এর মধ্যে স্ট্রুমা নদীর তীরের ক্লেইডিয়নের গিরিপথটি ছিল কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; কারণ বুলগেরিয়ার হৃদপিণ্ডে পৌঁছাতে ব্যাসিলের সামনে এই পথটি ছাড়া আর কোনো সহজ বিকল্প ছিল না। এছাড়া স্যামুয়েল বেলাসিটসা পাহাড়ের উত্তর ঢালগুলোকেও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যূহ দিয়ে সুরক্ষিত করেছিলেন।[১২] স্ট্রুমিতসা নদীর প্রশস্ত উপত্যকাটি ছিল আক্রমণের জন্য আদর্শ একটি পথ, যা বিগত বছরগুলোতে বাইজেন্টাইনরা বারবার ব্যবহার করেছে। এই প্রবেশপথটি সুরক্ষিত রাখতে বুলগেরীয়রা সেখানে এক শক্তিশালী সেনাদল মোতায়েন করে। এছাড়া স্যামুয়েল স্ট্রুমিতসাকেই তার মূল ঘাঁটি হিসেবে বেছে নেন, কারণ এটি ছিল থেসালোনিকি থেকে থ্রেস এবং ওহরিডগামী প্রধান সংযোগ সড়কের ঠিক মধ্যবর্তী এক কৌশলগত পয়েন্ট।[১৩] দক্ষিণের দুর্গম ভূখণ্ডে বুলগেরীয় বাহিনীর পাহারায় মাটির প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছিল।[১৪][১৫]
ক্লেইডিয়নে সম্রাট ব্যাসিলের বিশাল বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্তটি স্যামুয়েলের কাছে কেবল একটি সামরিক কৌশল ছিল না; বরং নিজের শাসনের ভিত টিকিয়ে রাখার এক মরিয়া লড়াই ছিল। একদিকে বাইজেন্টাইনদের অব্যাহত ধ্বংসাত্মক অভিযান, অন্যদিকে অভিজাত মহলে নিজের ক্ষমতা নিয়ে তৈরি হওয়া গভীর সংশয়—স্যামুয়েলকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল। ব্যাসিলের ক্রমবর্ধমান শক্তির কাছে স্যামুয়েলের প্রভাববলয় যে দ্রুত সংকুচিত হচ্ছিল, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে ১০০৫ সালে। সে সময় ডাইরাকিয়াম বন্দরের গভর্নর স্যামুয়েলের আনুগত্য ত্যাগ করে শহরটি সরাসরি ব্যাসিলের হাতে তুলে দেন, যা তার নেতৃত্বের জন্য ছিল এক চরম আঘাত।[১৬] এই হুমকি মোকাবিলা করতে স্যামুয়েল একটি বিশাল সেনাবাহিনী সংগ্রহ করেন, যা সংখ্যায় প্রায় ৪৫,০০০ ছিল।[১৭] সম্রাট দ্বিতীয় ব্যাসিল অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে এই অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে অভিজ্ঞ সেনাপতিদের নিয়ে এক বিশাল বাহিনী গড়ে তোলেন। এই সেনাদলের অন্যতম প্রধান ছিলেন ফিলিপ্পোপোলিসের (বর্তমান প্লোভদিভ) গভর্নর নাইকেফোরোস জিপিয়াস। এই জিপিয়াসই ছিলেন সেই বীর সেনানী, যিনি ১০০১ সালে স্যামুয়েলের হাত থেকে বুলগেরিয়ার প্রাচীন রাজধানী প্লিস্কা ও প্রেসলাভ পুনরুদ্ধার করে নিজের রণকৌশলের পরিচয় দিয়েছিলেন।
যুদ্ধ
[সম্পাদনা]বাইজেন্টাইন সেনাবাহিনী কনস্টান্টিনোপল থেকে কোমোটিনি, ড্রামা এবং সেরেস-এর মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে স্ট্রুমা নদীর ওপর রুপেল গিরিপথে পৌঁছায়। সেখান থেকে সেনাবাহিনী স্ট্রুমিতসা উপত্যকায় প্রবেশ করে এবং ক্লিউচ গ্রামের কাছে পৌঁছায়, যেখানে নদীটি বাঁক নিয়ে বেলাসিটসা এবং ওগ্রাজদেন পর্বতের কাছাকাছি এসেছে। সেখানে বুলগেরীয় সৈন্যদের দ্বারা রক্ষিত একটি পুরু কাঠের প্রাচীর বাইজেন্টাইন বাহিনীকে থামিয়ে দেয়।[১৮][১৯] বাইজেন্টাইনরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই কাঠের প্রাচীরে আক্রমণ চালায়, কিন্তু প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।[২০][২১]
এর জবাবে, স্যামুয়েল অন্যতম দক্ষ বুলগেরীয় অভিজাত নেস্টোরিতসার অধীনে একটি বিশাল বাহিনীকে দক্ষিণ দিকে পাঠান যাতে ব্যাসিলের মনোযোগ ক্লিউচের অবরোধ থেকে সরিয়ে নেওয়া যায়।[২২] নেস্টোরিতসার বুলগেরীয় বাহিনী থেসালোনিকি পর্যন্ত পৌঁছে যায়, কিন্তু শহরের স্ট্রাটেগোস (গভর্নর-জেনারেল) থিওফিলাক্ট বোটানিয়েটস এবং তাঁর পুত্র মিহাইলের অধীনে থাকা বাইজেন্টাইন সৈন্যরা একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে শহরের দেয়ালের বাইরে তাদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়। থিওফিলাক্টাস অনেক সৈন্য ও বিপুল পরিমাণ যুদ্ধ সরঞ্জাম দখল করেন এবং ব্যাসিলের সাথে যোগ দিতে ক্লিউচের দিকে উত্তর অভিমুখে যাত্রা করেন।[২৩][২৪]
গিরিপথের রক্ষকদের পরাস্ত করার প্রাথমিক প্রচেষ্টায় ব্যাসিল ব্যর্থ হন; প্রায় ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ বুলগেরীয় সৈন্যের দুর্ভেদ্য পাহারার কারণে বাইজেন্টাইন বাহিনী উপত্যকাটি অতিক্রম করতে পারেনি।[২৫] তবে এই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সম্রাট দমে যাননি। তিনি জেনারেল নাইকেফোরোস জিপিয়াসকে বেলাসিটসা পাহাড়ের দুর্গম ও খাড়া পথ দিয়ে ঘুরে গিয়ে পেছন থেকে অতর্কিত আক্রমণের নির্দেশ দেন[২৬][২৭], আর নিজে প্রাচীরের সম্মুখভাগে আক্রমণ চালিয়ে যান।[২৭] ২৯ জুলাই, জিপিয়াস অত্যন্ত সফলভাবে পাহাড় পাড়ি দিয়ে বুলগেরীয়দের পেছনে উপস্থিত হন এবং আক্রমণ শুরু করেন।[২৬] এই আকস্মিক সংকটের মুখে বুলগেরীয়রা যখন আত্মরক্ষার্থে তাদের দুর্গ ছেড়ে বেরিয়ে আসে, সেই সুযোগে ব্যাসিল সম্মুখভাগের প্রতিরক্ষা ব্যুহ তছনছ করে দেন এবং কাঠের প্রাচীরটি ধ্বংস করে ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।[২৮][২৯]
বুলগেরীয় বাহিনীর চরম বিপর্যয়ের মুখে হাজার হাজার সৈন্য প্রাণ হারায় এবং অবশিষ্টরা বাঁচার আশায় মরিয়া হয়ে পশ্চিম দিকে পালাতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্রাট স্যামুয়েল ও তাঁর পুত্র গ্যাব্রিল রাদোমির স্ট্রুমিতসা দুর্গ থেকে দ্রুত পূর্ব দিকে অগ্রসর হন। কিন্তু বর্তমান উত্তর ম্যাসেডোনিয়ার মোকরিয়েভো গ্রামের কাছে তাঁরা বাইজেন্টাইনদের প্রবল বাধার মুখে পড়েন এবং শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন।[৩০] মোকরিয়েভোর এই রণক্ষেত্রে অসংখ্য বুলগেরীয় সৈন্য নিহত ও বন্দি হয়।[৩১] সম্রাট স্যামুয়েল নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে কোনোমতে বেঁচে ফেরেন; তাঁর পুত্র অসীম সাহসিকতায় বাবাকে নিজের ঘোড়ায় তুলে প্রিলেপের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যান।[৩২] সেখান থেকে স্যামুয়েল তাঁর রাজধানী প্রেসপাতে ফিরে গেলেও, গ্যাব্রিল রাদোমির লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প নিয়ে পুনরায় স্ট্রুমিতসার দিকে রওনা হন।[৩৩]
বিশৃঙ্খল পরাজয়ের মুখে হাজার হাজার বুলগেরীয় সৈন্য নিহত হয় এবং বাকিরা মরিয়া হয়ে পশ্চিম দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্যামুয়েল এবং তাঁর পুত্র গ্যাব্রিল রাদোমির তাদের বাহিনীকে সাহায্য করার জন্য স্ট্রুমিতসা দুর্গ থেকে তৎক্ষণাৎ পূর্ব দিকে রওনা হন। কিন্তু আধুনিক উত্তর ম্যাসেডোনিয়ার মোকরিয়েভো গ্রামের কাছে এক ভয়াবহ যুদ্ধে তারা দ্রুত অগ্রসরমান শত্রুদের কাছে পরাজিত হন। মোকরিয়েভোতে অনেক বুলগেরীয় সৈন্য নিহত এবং আরও অনেকে বন্দি হয়। সম্রাট স্যামুয়েল নিজে কোনোমতে রক্ষা পান; তাঁর পুত্র সাহসিকতার সাথে তাঁকে নিজের ঘোড়ায় চড়িয়ে নিরাপদ স্থান প্রিলেপ-এ নিয়ে যান। প্রিলেপ থেকে স্যামুয়েল প্রেসপাতে ফিরে আসেন এবং গ্যাব্রিল রাদোমির লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্ট্রুমিতসার দিকে অগ্রসর হন।
পরবর্তী ঘটনাবলি
[সম্পাদনা]
বিজয়ী হওয়ার পর সম্রাট দ্বিতীয় ব্যাসিল স্ট্রুমিতসার দিকে অগ্রসর হন, যা ছিল সমগ্র ভারদার উপত্যকা দখলের মূল প্রবেশপথ। শহরের দিকে এগোতে এগোতে বাইজেন্টাইনরা তাদের যাত্রাপথের পূর্ব দিকে অবস্থিত মাতসুকিওন দুর্গটিও জয় করে নেয়।[৩৪] স্ট্রুমিতসাকে অবরুদ্ধ করতে এবং থেসালোনিকি যাওয়ার পথে থাকা সমস্ত বাধা উপড়ে ফেলতে সম্রাট ব্যাসিল তাঁর সেনাপতি বোটানিয়েটসের নেতৃত্বে একটি অগ্রবর্তী বাহিনী পাঠান। সম্রাট নিজে তাঁর মূল বাহিনী নিয়ে শহরটি ঘিরে ফেলেন। বুলগেরীয়রা শুরুতে বাধা না দিয়ে বোটানিয়েটসকে প্রতিরক্ষা প্রাচীরগুলো ধ্বংস করার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু কাজ শেষে ফেরার পথে একটি সংকীর্ণ গিরিপথে বোটানিয়েটসের বাহিনী বুলগেরীয়দের অতর্কিত আক্রমণের মুখে পড়ে। সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বাইজেন্টাইনরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং বুলগেরীয় বীর গ্যাব্রিল রাদোমির স্বয়ং বর্শার আঘাতে বোটানিয়েটসকে হত্যা করেন।[৩৫][৩৬] এর ফলে, ব্যাসিল দ্বিতীয় স্ট্রুমিতসার অবরোধ তুলে নিতে এবং পিছু হটতে বাধ্য হন। বাইজেন্টাইন বাহিনীর ফেরার পথে কিউবিকুলারিয়াস সার্জিয়াস তাঁর কথার জাদুতে মেলনিকের প্রহরীদের সম্রাট ব্যাসিলের বশ্যতা স্বীকার করতে রাজি করান।[৩৭] এই পতন বুলগেরীয়দের জন্য ছিল এক বিশাল আঘাত, কারণ সোফিয়া অভিমুখী দক্ষিণ দিকের প্রধান সামরিক সড়কটির নিয়ন্ত্রণ ছিল এই মেলনিক শহরের হাতেই।
বন্দিদের অবস্থা
[সম্পাদনা]স্কাইলিটজেসের নথিতে উল্লেখ আছে যে, ব্যাসিল বুলগেরীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত করেন এবং ১৫,০০০ সৈন্যকে বন্দি করেন (কেকাউমেনোসের মতে ১৪,০০০)। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ, যেমন ভাসিল জ্লাতারস্কি দাবি করেন যে এই সংখ্যাগুলো অতিরঞ্জিত। ১৪শ শতাব্দীর বুলগেরীয় অনুবাদে মানাসেস ক্রনিকলে বন্দিদের সংখ্যা ৮,০০০ বলা হয়েছে। ব্যাসিল বন্দিদের ১০০ জনের দলে বিভক্ত করেন এবং প্রতি দলের ৯৯ জনকে অন্ধ করে দেন; আর একজনকে এক চোখ অক্ষত রেখে ছেড়ে দেন যাতে সে অন্যদের পথ দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারে।[৩৮] ব্যাসিলের প্রিয় জেনারেল ও উপদেষ্টা বোটানিয়েটসের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এবং বুলগেরীয়দের মনোবল ভেঙে দিতেই এই নিষ্ঠুরতা করা হয়েছিল।[৩৯] আরেকটি সম্ভাব্য কারণ ছিল এই যে, বাইজেন্টাইনদের দৃষ্টিতে বুলগেরীয়রা ছিল বিদ্রোহী। আর বিদ্রোহীদের জন্য অন্ধ করে দেওয়া ছিল বাইজেন্টাইন সংস্কৃতির প্রচলিত শাস্তি।[৪০] এই কাজের জন্য ব্যাসিল বুলগারোকটোনোস (গ্রিক: Βουλγαροκτόνος, বুলগেরীয়: Българоубиец) বা "বুলগেরীয়-হন্তা" উপাধি লাভ করেন। ১০১৪ সালের ৬ অক্টোবর সম্রাট স্যামুয়েল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান; কথিত আছে যে, তাঁর সৈন্যদের অন্ধ অবস্থায় ফিরে আসতে দেখে তিনি এই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।[৪১][৪২]
পরিণতি
[সম্পাদনা]
বাইজেন্টাইনদের জয় যতটা সহজ মনে হয়েছিল, আসলে তা ছিল না—বোটানিয়েটসের মৃত্যু ও পরবর্তী সংঘাতগুলো তারই ইঙ্গিত দেয়।[৪৩] স্কাইলিটজেসের দেওয়া বুলগেরীয় পরাজয়ের বর্ণনা নিয়ে আধুনিক গবেষকদের মাঝে সংশয় থাকলেও, একটি বিষয়ে সবাই একমত: স্যামুয়েলের আকস্মিক মৃত্যু বুলগেরিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছিল।[৪৪][৪৫] তাঁর পরবর্তী শাসকেরা ব্যাসিলের রণকৌশলের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। ১০১৮ সালে ইভান ভ্লাদিস্লাভের মৃত্যুর মাধ্যমে বুলগেরিয়ার স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয়।[৪৬][৪৭] প্রায় দেড়শ বছর বাইজেন্টাইন শাসনের অধীনে থাকার পর ১১৮৫ সালে আসেন ভ্রাতৃদ্বয় আবারও স্বাধীন বুলগেরিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
ঐতিহাসিকদের মতে, বেলাসিটসার যুদ্ধই ছিল বুলগেরীয় সাম্রাজ্যের পতনের মূল কারণ। এই যুদ্ধে বুলগেরীয় সেনাবাহিনী এমন অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়, যা কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে আর সম্ভব ছিল না। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রান্তীয় ও অভ্যন্তরীণ প্রদেশগুলোর ওপর শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ফলে বাইজান্টিয়ামের সাথে যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণের ভার চলে যায় স্থানীয় গভর্নরদের হাতে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তাঁদের অনেকেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে সম্রাট দ্বিতীয় ব্যাসিলের কাছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করাকেই শ্রেয় মনে করেন।[৪৮]
এই যুদ্ধের প্রভাব কেবল বুলগেরিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সার্ব ও ক্রোয়্যাটদের ওপরও এর ঢেউ আছড়ে পড়ে। ১০১৮ সালের মধ্যে তারাও বাইজেন্টাইন সম্রাটের বশ্যতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়।[৪৯][৫০] এর ফলে সপ্তম শতাব্দীর পর এই প্রথম বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সীমানা আবারও দানিউব নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই বিজয়ের মাধ্যমে দানিউব থেকে পেলোপোনিস এবং অ্যাড্রিয়াটিক থেকে কৃষ্ণ সাগর পর্যন্ত—সমগ্র বলকান উপদ্বীপের ওপর বাইজান্টিয়ামের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।[৫১]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Mutafchiev, Book about the Bulgarians, p. 59
- ↑ Gyuzelev, Short History of Bulgaria, p. 68
- ↑ Bozhilov, Tsar Simeon the Great, pp. 115–116, 124–126, 137–144
- ↑ Pirivatrich, The State of Samuel, pp. 58–59
- ↑ Ioannes Scylitzes, Historia, in "Selected sources" Vol. II, p. 64
- ↑ Pirivatrich, The State of Samuel, pp. 94–95
- ↑ Angelov / Cholpanov, Bulgarian Military History in the Middle Ages (10th–15th centuries), pp. 39–41, 43–44
- ↑ Gyuzelev, Short History of Bulgaria, p. 71
- ↑ Nikolov, Centralism and regionalism in early Medieval Bulgaria (end of the 7th – beginning of the 11th centuries) p. 130
- ↑ Pirivatrich, The State of Samuel, pp. 135–136
- ↑ Ioannes Scylitzes, Historia, in "Selected sources" Vol. II, pp. 65–66
- ↑ Ioannes Scylitzes, Historia, II, p. 45
- ↑ Zlatarski, History of Bulgaria in the Middle Ages , Vol. I, Part 2, pp. 731–732, 736
- ↑ Nikolov, Centralism and Regionalism in Early Medieval Bulgaria , pp. 179–180
- ↑ বেলাসিটসা ও ওগ্রাজদেনের মাঝে স্যামুয়েলের নির্মিত প্যালিসেড বা কাঠের প্রাচীরের বর্ণনা (বুলগেরীয় ভাষায়) – G. Mitrev, The palisade of Samuel and the battle in 1014[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ], pp. 76–79, in: Macedonian Review (journal), 1993, issue 2
- ↑ Ostrogorski, History of Byzantium , pp. 404–405
- ↑ Nikolov, Centralism and Regionalism in Early Medieval Bulgaria , p. 131. জি. নিকোলভ স্থানীয় মিলিশিয়াসহ মোট বুলগেরীয় বাহিনীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৪৫,০০০ অনুমান করেন। বাইজেন্টাইন ঐতিহাসিক জর্জিউস মোনাকাস কন্টিনিউয়াস লিখেছেন যে বুলগেরীয় সেনাবাহিনীতে ৩,৬০,০০০ সৈন্য ছিল, যা একটি অতিরঞ্জিত সংখ্যা এবং প্রকৃত সংখ্যার প্রায় ১০ গুণ বড়।
- ↑ Zlatarski, History of Bulgaria in the Middle Ages, Vol. I, Part 2, p. 731
- ↑ Nikolov, Centralism and Regionalism in Early Medieval Bulgaria, p. 180
- ↑ Ioannes Scylitzes, Historia, II, p. 457
- ↑ Zonaras, ibid., IV, p. 121
- ↑ Nikolov, Centralism and Regionalism in Early Medieval Bulgaria, p. 146
- ↑ Ioannes Scylitzes, Historia, "Selected sources", Vol. II, p. 66
- ↑ Zlatarski, History of Bulgaria in the Middle Ages, Vol. I, Part 2, pp. 732–734
- ↑ Ioannes Scylitzes, Historia, p. 457
- 1 2 Savvidēs, Alexis G. K. (১৯৯৪)। "Προσωπογραφικό σημেইωμα για τον Βυζαντινό στρατηλάτη Νικηφόρο Ξιφία [বাইজেন্টাইন সৈনিক নাইকেফোরোস জিপিয়াসের জীবনলেখ্য]"। Βυζαντινή προσωπογραφία, τοπική ιστορία και βυζαντινοτουρκικές σχέσεις [Byzantine Prosopography, Topical History and Byzantine-Turkish Relations] (গ্রিক ভাষায়)। Athens: Κριτική Ιστορική Βιβλιοθήκη। পৃ. ২৫–২৭। আইএসবিএন ৯৬০-২১৮-০৮৯-৭।
- 1 2 Cedrin, pp. 457–458. জর্জ কেড্রেনোস-এর হিস্টোরিক্যাল সিনপসিস হলো জন স্কাইলিটজেস, জর্জ সিনসেলাস, থিওফেনস দ্য কনফেসর এবং আরও বেশ কয়েকজন ঐতিহাসিকের লেখার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি সংকলন।
- ↑ Ioannes Scylitzes, Historia, "Selected sources", Vol. II, p. 66
- ↑ Zlatarski, History of Bulgaria in the Middle Ages, Vol. I, Part 2, pp. 734–736
- ↑ Angelov / Cholpanov, Bulgarian Military History in the Middle Ages (10th–15th centuries), p. 55
- ↑ বুলগেরিয়ার ইতিহাসের ওপর গ্রিক উৎসসমূহ (বুলগেরীয় ভাষায়), Vol. VI, পৃ. ২৮৪
- ↑ Ioannes Scylitzes, Historia, p. 458
- ↑ Zonaras, ibid., p. 121
- ↑ Ioannes Scylitzes, Historia, p. 459
- ↑ Zlatarski, History of Bulgaria in the Middle Ages, Vol. I, Part 2, p. 738
- ↑ Angelov / Cholpanov, Bulgarian Military History in the Middle Ages (10th–15th centuries), pp. 55–56
- ↑ Ioannes Scylitzes, Historia, р. 460
- ↑ Ioannes Scylitzes, Historia, р. 458
- ↑ Gyuzelev, Short History of Bulgaria, p. 74
- ↑ Pirivatrich, The State of Samuel, p. 178. এস. পিরিভাটরিচ নির্দেশ করেছেন যে, বৈধ শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের জন্য বাইজান্টিয়ামে অন্ধ করে দেওয়া ছিল একটি ঐতিহ্যগত শাস্তি।
- ↑ Runciman, Steven (১৯৩০)। A History of the First Bulgarian Empire। London: G. Bell and Sons। পৃ. ২৪২। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ Dobrev, Ivan (২০০৪)। Новооткритият надпис за цар Самуил и събитията в 1014 г. [জার স্যামুয়েলের নতুন আবিষ্কৃত শিলালিপি এবং ১০১৪ সালের ঘটনাবলি]। Старобългарис-тика [Palaeobulgarica] (বুলগেরিয় ভাষায়)। ২৮ (3): ৩–২৪।
- ↑ Holmes, Catherine, Basil II (A.D. 976–1025)
- ↑ Stephenson, P., The Legend of Basil the Bulgar-Slayer, Cambridge University Press, 2003, আইএসবিএন ০-৫২১-৮১৫৩০-৪, p. 4
- ↑ Zlatarski, History of Bulgaria in the Middle Ages, Vol. I, Part 2, pp. 740–741
- ↑ Runciman, A History of the First Bulgarian Empire, p. 248 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে
- ↑ Whittow, Making of Orthodox Byzantium, pp. 387–388
- ↑ Nikolov, Centralism and Regionalism in Early Medieval Bulgaria, pp. 130–131, 143
- ↑ Stephenson, P., The Balkan Frontier in the Year 1000, pp. 123–124; Ostrogorsky, History of Byzantium, p. 408; Mutafchiev, Lecture notes on Byzantine history, Vol. ІІ, p. 280; Ćirković, Sima, Doseljavanje slovena i dukljanska država
- ↑ ক্রোয়েশিয়া বাইজান্টিয়াম কর্তৃক বিজিত হয়নি বরং এর করদ রাজ্যে পরিণত হয়েছিল – দেখুন Matanov, Hristo, The Medieval Balkans. Historical Essays, Sofia, 2002, আইএসবিএন ৯৫৪-৯৫৩৬-৬১-০, p. 150
- ↑ Vasiliev, A., History of the Byzantine empire, 6. The Macedonian epoch (867–1081), Relations of the Byzantine Empire with the Bulgarians and Magyars
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- জন স্কাইলিটজেস, Synopsis Historion, পল স্টিফেনসন কর্তৃক অনূদিত। মূল গ্রিক সংস্করণ
- Treadgold, Warren T., A History of the Byzantine State and Society, স্ট্যানফোর্ড: স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৯৭, আইএসবিএন ০-৮০৪৭-২৬৩০-২।
- Mutafchiev, Petar, বুলগারদের সম্পর্কে বই (Kniga za balgarite), বুলগেরীয় ভাষায়, বুলগেরীয় একাডেমি অফ সায়েন্সেস পাবলিশিং হাউস, সোফিয়া, ১৯৯২, আইএসবিএন ৯৫৪-৪৩০-১২৮-৩।
- Mutafchiev, Petar, বাইজেন্টাইন ইতিহাসের ওপর লেকচার নোট (Lektsii po istoria na Vizantia), বুলগেরীয় ভাষায়, খণ্ড ২, আনুবিস পাবলিশার্স, সোফিয়া, ১৯৯৫, আইএসবিএন ৯৫৪-৪২৬-০৬৩-৩।
- Gyuzelev, Vasil, দশম শতাব্দীর দ্বিতীয় চতুর্থাংশ থেকে একাদশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত বুলগেরিয়া, বুলগেরীয় ভাষায়, সম্পাদক: দিমিত্রভ, ইলচো, বুলগেরিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (Kratka istoria na Balgaria), সায়েন্স অ্যান্ড আর্টস পাবলিশার্স, সোফিয়া, ১৯৮৩।
- Bozhilov, Ivan, জার মহাপ্রতাপশালী সিমিয়ন (৮৯৩–৯২৭): মধ্যযুগীয় বুলগেরিয়ার স্বর্ণযুগ, বুলগেরীয় ভাষায়, ফাদারল্যান্ড ফ্রন্ট পাবলিশার্স, সোফিয়া, ১৯৮৩।
- Pirivatrich, Sardzan, স্যামুয়েলের রাষ্ট্র: পরিধি ও বৈশিষ্ট্য (Samuilovata darzhava. Obhvat i harakter), আগাতা-এ পাবলিশিং গ্রুপ, সোফিয়া, ২০০০, আইএসবিএন ৯৫৪-৫৪০-০২০-X।
- বুলগেরীয় ইতিহাসের নির্বাচিত উৎস (Podbrani izvori na balgarskata istoria), খণ্ড ২: মধ্যযুগে বুলগেরীয় রাষ্ট্র ও বুলগেরীয়গণ, টাঙ্গরা টাননাকরা আইকে পাবলিশার্স, সোফিয়া, ২০০৪, আইএসবিএন ৯৫৪-৯৯৪২-৪০-৬।
- Angelov, Dimitar এবং Boris Cholpanov, মধ্যযুগে বুলগেরীয় সামরিক ইতিহাস (১০ম–১৫শ শতাব্দী), বুলগেরীয় ভাষায়, বুলগেরীয় একাডেমি অফ সায়েন্সেস পাবলিশার্স, সোফিয়া, ১৯৯৪, আইএসবিএন ৯৫৪-৪৩০-২০০-X।
- Nikolov, Georgi (২০০৫)। প্রাক-মধ্যযুগীয় বুলগেরিয়ায় কেন্দ্রীয়করণ এবং আঞ্চলিকতা (৭ম শতাব্দীর শেষ – ১১শ শতাব্দীর শুরু) (বুলগেরিয় ভাষায়)। Sofia: Academic Press Marin Drinov। আইএসবিএন ৯৫৪-৪৩০-৭৮৭-৭।
- অস্টরোগোরস্কি, জর্জ, বাইজেন্টাইন রাষ্ট্রের ইতিহাস (Istoria na vizantiyskata darzhava), বুলগেরীয় ভাষায়, সোফিয়া, ১৯৯৮, আইএসবিএন ৯৫৪-৮০৭৯-৯২-৫।
- Zlatarski, Vasil (১৯৯৪) [1927]। মধ্যযুগে বুলগেরিয়ার ইতিহাস। খণ্ড ১। প্রথম বুলগেরীয় সাম্রাজ্যের ইতিহাস, অংশ ২। রাষ্ট্রের স্লাভিকীকরণ থেকে প্রথম সাম্রাজ্যের পতন পর্যন্ত (৮৫২–১০১৮)। Sofia: Marin Drinov Academic Publishers। আইএসবিএন ৯৫৪-৪৩০-২৯৯-৯।
- Pavlov, Plamen, প্রথম বুলগেরীয় রাজ্যের সূর্যাস্ত (১০১৫–১০১৮), বুলগেরীয় ভাষায়, মারিন ড্রিনভ একাডেমিক পাবলিশার্স, সোফিয়া, ১৯৯৯, আইএসবিএন ৯৫৪-৪৩০-৬৩০-৭।
- Ćirković, Sima, Doseljavanje slovena i dukljanska država, মন্টেনগ্রিনা ডিজিটাল লাইব্রেরি থেকে সংগৃহীত।
- Holmes, Catherine, ব্যাসিল দ্বিতীয় (৯৭৬–১০২৫ খ্রিস্টাব্দ), অনলাইন এনসাইক্লোপিডিয়া অফ রোমান এম্পাররস।
- Vasiliev, А., History of the Byzantine empire, অনলাইন সংস্করণ।
- Runciman, Steven, A History of the First Bulgarian Empire, একটি সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে।
- Stevenson, Paul, The Legend of Basil the Bulgar-Slayer, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৩, আইএসবিএন ০-৫২১-৮১৫৩০-৪।
- ক্লেইডিয়নের যুদ্ধ (ইংরেজি ভাষায়)।
- Jireček, K. J. (১৮৭৬)। Geschichte der Bulgaren (জার্মান ভাষায়)। Hildesheim, New York : Olms 1977। আইএসবিএন ৩-৪৮৭-০৬৪০৮-১।
{{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য), পৃ. ১৯৫–২০০।