ক্রিমিয়ান যুদ্ধ
| Crimean War | |||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| the Ottoman wars in Europe and the Russo-Turkish wars অংশ | |||||||||
Siege of Silistria by Bogdan Willewalde | |||||||||
| |||||||||
| বিবাদমান পক্ষ | |||||||||
|
|
| ||||||||
| সেনাধিপতি ও নেতৃত্ব প্রদানকারী | |||||||||
| শক্তি | |||||||||
|
Total: 673,900 |
Total: 889,000[২]–1,774,872[৩] 888,000 mobilised 324,478 deployed | ||||||||
| হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি | |||||||||
|
Total: 165,363 dead |
Total: 450,015 dead[৪][২][৫] 73,125 combat deaths 376,890 non-combat deaths Total: 630,000 dead[৬] Total: 522,000 dead[৭][৮] 35,671 combat deaths 37,454 non-combat deaths (Sep. 1854 – Oct. 1855 alone) | ||||||||
| Casualties include death by disease. In all cases, death by disease exceeded the sum of "killed in action" or "died of wounds". | |||||||||
রাশিয়ান সাম্রাজ্য এবং একটি জোটের মধ্যে লড়াই হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ওসমানীয় সাম্রাজ্য, দ্বিতীয় ফরাসি সাম্রাজ্য, গ্রেট ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাজ্য, এবং সার্ডিনিয়া-পিয়েমন্ট রাজ্য, অক্টোবর ১৮৫৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৮৫৬ পর্যন্ত।[৯] যুদ্ধের ভূ-রাজনৈতিক কারণগুলোর মধ্যে ছিল "পূর্ব প্রশ্ন" (ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অবনতি), পূর্ববর্তী রুশো-তুর্কি যুদ্ধে রাশিয়ার সম্প্রসারণের চেষ্টা, এবং ব্রিটিশ ও ফরাসি আগ্রহ, যা ওসমানীয় সাম্রাজ্য রক্ষা করে ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে চেয়েছিল।
যুদ্ধের নিকটতম কারণ ছিল ফ্রান্স এবং রাশিয়ার মধ্যে ফিলিস্তিনে ক্যাথলিক ও অর্থডক্স সংখ্যালঘুর অধিকার নিয়ে বিরোধ।[১০] সুব্লাইম পোর্টে তৎসার নিকোলাস প্রথমের দাবি অস্বীকার করার পর যে সাম্রাজ্যের অর্থডক্স নাগরিকদের তার সুরক্ষায় রাখা হবে, রাশিয়ান সেনারা জুলাই ১৮৫৩-এ ডানুবিয়ান প্রিন্সিপ্যালিটি দখল করে। অক্টোবর মাসে ওসমানীয়রা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।[১১] রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং সিনোপে ওসমানীয় নৌবাহিনীর ধ্বংসের কারণে জনসাধারণের ক্ষোভের প্রভাবে, মার্চ ১৮৫৪-এ ব্রিটেন ও ফ্রান্স ওসমানীয় পক্ষের সাথে যুক্ত হয়।[৯] রাশিয়ার অগ্রগতি জুনে সিলিস্ট্রিয়ায় থেমে যায়।
সেপ্টেম্বর ১৮৫৪ সালে, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর, জোটবদ্ধ বাহিনী ক্রিমিয়ায় অবতরণ করে রাশিয়ার প্রধান নৌ ঘাঁটি ব্ল্যাক সি-তে, সেভাস্তোপোল, দখল করার চেষ্টা করে। তারা আলমা যুদ্ধে প্রাথমিক জয় লাভ করে। অক্টোবরের শেষ দিকে রাশিয়ানরা পাল্টা আক্রমণ চালায় যা পরে বালাক্লাভা যুদ্ধ নামে পরিচিত হয়, কিন্তু ব্যর্থ হয়, এবং ইনকারম্যানে দ্বিতীয় পাল্টা আক্রমণও রাশিয়ার পরাজয়ে শেষ হয়। সামনে লড়াই স্থিত হয়ে যায় এবং শুরু হয় ১১ মাসের সেভাস্তোপোল অবরোধসেভাস্তোপোল অবরোধ, যা উভয় পক্ষের সেনাদের জন্য নিষ্ঠুর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ছোটো সামরিক অভিযানও সংঘটিত হয় ককেশিয়ান অঞ্চলে (১৮৫৩–১৮৫৫), হোয়াইট সি-তে (জুলাই–আগস্ট ১৮৫৪) এবং উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে (১৮৫৪–১৮৫৫)। সার্ডিনিয়া-পিয়েমন্ট রাজ্য ১৮৫৫ সালে জোটের পাশে যোগ দেয়।
সেভাস্তোপোল শেষমেশ ১৮৫৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মালাকফ রেডউটের উপর পুনরায় ফরাসি আক্রমণের পর পতিত হয়। কূটনৈতিকভাবে একাকী এবং যুদ্ধে যদি অব্যাহত থাকে পশ্চিম থেকে আক্রমণের সম্ভাবনার মুখোমুখি, রাশিয়া ১৮৫৬ সালের মার্চে শান্তি চেয়ে আবেদন করে। ফ্রান্স ও ব্রিটেন এই ঘটনাকে স্বাগত জানায়, কারণ যুদ্ধটি তাদের দেশের মধ্যে অপ্রিয় হয়ে পড়েছিল। ৩০ মার্চ ১৮৫৬-এ স্বাক্ষরিত প্যারিস চুক্তি যুদ্ধ শেষ করে। চুক্তিটি রাশিয়াকে ব্ল্যাক সিতে যুদ্ধজাহাজ রাখার অনুমতি দেয় না। ওসমানীয়দের স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য ওয়ালাচিয়া ও মোলডাভিয়া মূলত স্বাধীন হয়ে যায়। ওসমানীয় সাম্রাজ্যের খ্রিস্টানরা একটি নির্দিষ্ট মাত্রার সরকারি সমতার অধিকার পায়, এবং অর্থডক্স চার্চ বিরোধিত খ্রিস্টান চার্চগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরায় লাভ করে।[১২]
ক্রিমিয়ান যুদ্ধ ছিল এমন প্রথম কয়েকটি সংঘাতের মধ্যে একটি, যেখানে সামরিক বাহিনী স্ফোটক নৌ গোলা, রেলপথ এবং টেলিগ্রাফের মতো আধুনিক প্রযুক্ত[১৩]ি ব্যবহার করেছিল। এটি এছাড়াও লিখিত রিপোর্ট এবং ফটোগ্রাফে ব্যাপকভাবে নথিভুক্ত করা প্রথম যুদ্ধগুলোর মধ্যে ছিল। এই যুদ্ধ দ্রুত লজিস্টিক, চিকিৎসা ও কৌশলগত ব্যর্থতা এবং দায়িত্বহীনতার প্রতীক হয়ে ওঠে। ব্রিটেনে এর প্রতিক্রিয়া চিকিৎসা পেশায় পেশাদারীকরণের দাবি সৃষ্টি করে, যা সবচেয়ে প্রসিদ্ধভাবেফ্লোরেন্স নাইটিংগেললোরেন্স নাইটিংগেল, যিনি আধুনিক নার্সিংকে উদ্ভাবন করে এবং আহতদের সেবা প্রদানের সময় বিশ্বব্যাপী খ্যক্রিমিয়ান যুদ্ধ রাশিয়ান সাম্রাজ্যের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়। এটি ইম্পেরিয়াল রাশিয়ান আর্মি দুর্বল করেইম্পেরিয়াল রাশিয়ান আর্মি দুর্বল করে, অর্থনীতি ক্ষয় করে এবং ইউরোপে সাম্রাজ্যের প্রভাব হ্রাস করে। এই পরাজয় রাশিয়ার শিক্ষিত অভিজাতদের দেশটির মূল সমস্যা চিহ্নিত করতে বাধ্য করে। এটি রাশিয়ার সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের একটি উৎসাহক হিসেবে কাজ করে, যার মধ্যে ছিল ১৮৬১ সালের মুক্তিকরণ সংস্কার, যা রাশিয়ায় দাসপ্রথা উচ্ছেদ করে, এবং বিচারব্যবস্থা, স্থানীয় স্ব-শ
টেমপ্লেট:Campaignbox Russo-Ottoman Wars টেমপ্লেট:Campaignbox Crimean War
পশ্চিমা বিশ্লেষণ
[সম্পাদনা]উনিশ শতকে অটোমান সাম্রাজ্য (উসমানীয় সাম্রাজ্য) যখন ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছিল, তখন রুশ সাম্রাজ্য দক্ষিণ দিকে সীমানা বিস্তার করে সেই সুযোগ নিতে সজাগ অবস্থানে ছিল। ১৮৫০-এর দশকে ব্রিটিশ এবং ফরাসি সাম্রাজ্য অটোমানদের সাথে মিত্রতা করে এবং তারা যেকোনো মূল্যে রাশিয়ার এই অগ্রযাত্রা রুখে দিতে বদ্ধপরিকর ছিল।[১৪]
ইতিহাসবিদ এ. জে. পি. টেলর যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই যুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের আগ্রাসনের ফল ছিল না; বরং প্রধান শক্তিগুলোর পারস্পরিক ভীতি ও আশঙ্কার কারণেই এর সূত্রপাত হয়েছিল।াসএক অর্থে, ক্রিমিয়ার যুদ্ধ ছিল অনেকটা পূর্বনির্ধারিত এবং এর পেছনে ছিল অত্যন্ত গভীর কিছু কারণ। যুদ্ধ একবার শুরু হয়ে যাওয়ার পর প্রথম নিকোলাস, তৃতীয় নেপোলিয়ন কিংবা ব্রিটিশ সরকার—কারো পক্ষেই নিজেদের মর্যাদার লড়াই থেকে পিছিয়ে আসা সম্ভব ছিল না।
নিকোলাসের রাশিয়ার নিরাপত্তার স্বার্থে একটি অনুগত তুরস্ক (অটোমান সাম্রাজ্য) প্রয়োজন ছিল; নেপোলিয়নের প্রয়োজন ছিল নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার জন্য একটি বিজয়; আর ব্রিটিশ সরকারের প্রয়োজন ছিল পূর্ব ভূমধ্যসাগরের নিরাপত্তার জন্য একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম তুরস্ক। মূলত পারস্পরিক আগ্রাসন নয়, বরং দেশগুলোর মধ্যে বিরাজমান পারস্পরিক ভীতিই ছিল ক্রিমিয়ার যুদ্ধের মূল কারণ।[১৫]
প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতা: ১৮২০–১৮৪০-এর দশক
[সম্পাদনা]১৮০০-এর দশকের শুরুর দিকে অটোমান সাম্রাজ্য বেশ কিছু অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হয়। ১৮০৪ সালের সার্বীয় বিপ্লবের ফলে সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা বলকান অঞ্চলের প্রথম খ্রিস্টান রাষ্ট্র হিসেবে সার্বিয়া স্বায়ত্তশাসন লাভ করে। ১৮২১ সালের শুরুতে শুরু হওয়া গ্রীক স্বাধীনতা যুদ্ধ সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ ও সামরিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। এছাড়া অটোমান বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত নৃশংসতা (যেমন: চিওস হত্যাকাণ্ড) সাম্রাজ্যের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ণ করে।
১৮২৬ সালের ১৫ জুন সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ শত বছরের পুরনো জানি সারি (Janissary) বাহিনীর বিলুপ্তি ঘটান (যা 'শুভ ঘটনা' বা Auspicious Incident নামে পরিচিত)। এটি দীর্ঘমেয়াদে সাম্রাজ্যের জন্য মঙ্গলজনক হলেও, তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রকে একটি সুসংগঠিত সেনাবাহিনী থেকে বঞ্চিত করে।
১৮২৭ সালে নাভারিনোর যুদ্ধে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার সম্মিলিত নৌবহর অটোমানদের প্রায় সমস্ত নৌবাহিনী ধ্বংস করে দেয়। দীর্ঘ দশ বছরের যুদ্ধ এবং ১৮২৮-২৯ সালের রুশ-তুর্কি যুদ্ধের পর ১৮৩০ সালে গ্রিস পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। ১৮২৯ সালের আদ্রিয়ানোপল চুক্তির মাধ্যমে কৃষ্ণসাগর প্রণালী দিয়ে রাশিয়া ও পশ্চিম ইউরোপের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর অবাধ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়াও দানুবিয়ান প্রিন্সিপালিটিজ (মোলদাভিয়া ও ওয়ালাচিয়া) রাশিয়ার সংরক্ষণাধীন অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত হয়।
১৮৩০ সালে ফ্রান্স এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আলজেরিয়া দখল করে নেয়, যা এতদিন অটোমান শাসনের অধীনে ছিল। ১৮৩১ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী অনুগত শাসক মিশরের মুহাম্মদ আলী স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বেশ কিছু যুদ্ধে অটোমান বাহিনী পরাজিত হলে সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ রাশিয়ার সামরিক সাহায্য চাইতে বাধ্য হন। ১৮৩৩ সালে ১০,০০০ সৈন্যের একটি রুশ বাহিনী বসফরাস উপকূলে অবতরণ করে এবং মিশরীয়দের হাতে কনস্টান্টিনোপলের পতন ঠেকাতে সহায়তা করে।
জারের অস্থিরতার কারণগুলো মোটেও অস্পষ্ট ছিল না। ইব্রাহিম পাশার এই অগ্রযাত্রা কেবল তুরস্কের জন্যই হুমকি ছিল না, বরং একের পর এক চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া যেসব অধিকার অর্জন করেছিল সেগুলোকেও সরাসরি বিপন্ন করে তুলেছিল। কনস্টান্টিনোপলের সেই অকর্মণ্য অটোমান বংশের পরিবর্তে একটি শক্তিশালী আলবেনীয় রাজবংশের স্থলাভিষিক্ত হওয়া ছিল রাশিয়ার জন্য চরম অনভিপ্রেত। কারণ রাশিয়া স্বভাবতই ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের পথটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিল।[১৬] কনস্টান্টিনোপলে (ইস্তাম্বুল) একটি দুর্বল সরকার থাকাটাই ছিল রাশিয়ার জন্য সুবিধাজনক।

এর ফলে হুনকার ইসকেলেসি (Hünkâr İskelesi) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত লাভজনক ছিল। এই চুক্তিতে শর্ত ছিল যে, যদি রাশিয়া বা অটোমান সাম্রাজ্যের কোনো একটি আক্রান্ত হয়, তবে তারা একে অপরকে সামরিক সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া একটি গোপন অতিরিক্ত ধারায় বলা হয়, রাশিয়া যদি হুমকির মুখে পড়ে তবে অটোমানরা সৈন্য পাঠানোর পরিবর্তে বিদেশি যুদ্ধজাহাজের জন্য কৃষ্ণসাগর প্রণালীগুলো বন্ধ করে দিতে পারবে। এই সময়ে মিশর নামমাত্র অটোমান সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকলেও কার্যত স্বাধীনই থেকে যায়।
১৮৩১ সালের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ১৮৩৮ সালে মিশরের মুহাম্মদ আলী সিরিয়ার ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করেন। ১৮৩৯ সালের ২৪ জুন নেজিবের যুদ্ধে অটোমানরা মিশরীয়দের কাছে পরাজিত হয়। তবে এবার ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া, প্রুশিয়া এবং রাশিয়া তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসে। ১৮৪০ সালের ১৫ জুলাই লন্ডনে তারা একটি কনভেনশন স্বাক্ষর করে, যেখানে শর্ত দেওয়া হয় যে—সিরিয়া ও লেবানন থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার বিনিময়ে মুহাম্মদ আলী ও তার বংশধররা মিশরের শাসনক্ষমতা উত্তরাধিকারসূত্রে ভোগ করতে পারবেন। তদুপরি, মুহাম্মদ আলীকে অটোমান সুলতানের প্রতি আনুষ্ঠানিক আনুগত্য স্বীকার করতে বলা হয়।
মুহাম্মদ আলী এই শর্তগুলো মানতে অস্বীকার করলে ব্রিটিশ-অস্ট্রিয়ান যৌথ নৌবাহিনী নীল নদ বদ্বীপ অবরোধ করে, বৈরুতে বোমাবর্ষণ করে এবং একর (Acre) দখল করে নেয়। এরপর মুহাম্মদ আলী কনভেনশনের শর্তগুলো মেনে নিতে বাধ্য হন।

১৮৪১ সালের ১৩ জুলাই হুনকার ইসকেলেসি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলোর চাপে লন্ডন স্ট্রেটস কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়। এই নতুন চুক্তির ফলে যুদ্ধের সময় কৃষ্ণসাগরে বিদেশি যুদ্ধজাহাজ প্রবেশে বাধা দেওয়ার যে বিশেষ অধিকার রাশিয়ার ছিল, তা কেড়ে নেওয়া হয়। এর ফলে সম্ভাব্য রুশ-অটোমান যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ও ফরাসি যুদ্ধজাহাজের জন্য কৃষ্ণসাগরে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।
রুশ ঐতিহাসিকরা এই ইতিহাসকে সাধারণত রাশিয়ার আগ্রাসী পরিকল্পনা না থাকার প্রমাণ হিসেবে দেখেন। ঐতিহাসিক ভি. এন. ভিনোগ্রাদভ লিখেছেন: "এই নথিপত্রগুলোতে স্বাক্ষর ছিল এক সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের ফসল। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিবর্তে (যেহেতু হুনকার ইসকেলেসি চুক্তিটি কোনো বৃহৎ শক্তিই স্বীকৃতি দেয়নি), নতুন লন্ডন চুক্তিটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়, যা বসফরাস ও দার্দানেলেস প্রণালীকে সবার জন্য বন্ধ করে দেয়। কোনো সম্প্রসারণবাদী পরিকল্পনা না থাকলে এটি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।"[১৭]
১৮৩৮ সালে ব্রিটেন অটোমান সাম্রাজ্য ধ্বংস করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বরং ১৮৩৮ সালের বাণিজ্য চুক্তির পর (বাল্টা লিমান চুক্তি দেখুন), ব্রিটেন অটোমান সাম্রাজ্যের বাজারে অবাধ প্রবেশাধিকার লাভ করে। ব্রিটেন অটোমান সাম্রাজ্যের ওপর এমন এক শুল্ক চুক্তি চাপিয়ে দেয় যা কার্যত সাম্রাজ্যটিকে একটি 'মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে' পরিণত করে।[১৮] ফলে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থেই ব্রিটেন অটোমান সাম্রাজ্যের অখণ্ডতা রক্ষা করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। দীর্ঘমেয়াদে অটোমান সাম্রাজ্য এর ফলে আধুনিকায়ন ও শিল্পায়নের সুযোগ হারায়, কিন্তু স্বল্পমেয়াদে তারা নিজেদের অধীনস্থ জাতিগুলোর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং রাশিয়ার বলকান ও এশীয় প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর (মূলত ব্রিটেন) সমর্থন লাভের সুযোগ পায়।
প্রকাশ্যে ইউরোপীয় রাজনীতিবিদরা অটোমানদের নানা আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ১৮৩৯ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড পামারস্টন বলেছিলেন: "তুর্কি সাম্রাজ্যের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা, একে একটি 'মৃতদেহ' বা 'প্রাণহীন কাণ্ড' হিসেবে অভিহিত করা—এসবই পুরোপুরি আজেবাজে কথা। ইউরোপীয়দের সুরক্ষায় দশ বছরের শান্তি এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কারের সুযোগ পেলে এই সাম্রাজ্য কেন পুনরায় একটি সম্মানজনক শক্তিতে পরিণত হতে পারবে না, তার কোনো কারণ আমি দেখি না।"[১৯]
তবে অরল্যান্ডো ফিজেস দাবি করেছেন যে, "উদারপন্থী সংস্কারের প্রসারে ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য কেবল রাশিয়ার হাত থেকে অটোমান সাম্রাজ্যের স্বাধীনতা রক্ষা করাই ছিল না, বরং তুরস্কে ব্রিটেনের নিজস্ব প্রভাব বৃদ্ধি করাও ছিল।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল "ব্রিটিশ মুক্ত-বাণিজ্য স্বার্থকে উৎসাহিত করা (যা শুনতে চমৎকার মনে হলেও আদতে অটোমান সাম্রাজ্যের জন্য ক্ষতিকর ছিল)।"[২০]
"১৮৪০ থেকে ১৮৫১ সালের মধ্যে মিশর এবং দানুবিয়ান প্রিন্সিপালিটিসহ অটোমান সাম্রাজ্যে ব্রিটিশ রপ্তানি প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল (...) ফলে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অটোমান সাম্রাজ্য যাতে অন্য কারও হাতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা ব্রিটেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।"[২১]
"এই মুহূর্ত (১৮৩৮) থেকে তুরস্কে ব্রিটিশ উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। ১৮৫০ সাল নাগাদ তা প্রায় এগারো গুণ বৃদ্ধি পায়।"[১৮]
পশ্চিম ইউরোপীয় শক্তি বা রাশিয়ার সহায়তা দুবার অটোমান সাম্রাজ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিল ঠিকই, কিন্তু এর বিনিময়ে অটোমানরা তাদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়। ব্রিটেন ও ফ্রান্স অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের তুলনায় অটোমান সাম্রাজ্যের অখণ্ডতা রক্ষায় বেশি আগ্রহী ছিল, কারণ তারা কোনোভাবেই চায়নি রাশিয়া ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের সুযোগ পাক। অস্ট্রিয়ার মনেও একই ধরনের ভীতি কাজ করছিল।

রুশ সম্প্রসারণবাদ
[সম্পাদনা]পবিত্র জোটের (Holy Alliance) সদস্য হিসেবে রাশিয়া 'ইউরোপের পুলিশ' হিসেবে কাজ করছিল, যাতে ১৮১৫ সালের ভিয়েনা কংগ্রেসে প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে। ১৮৪৮ সালের হাঙ্গেরীয় বিপ্লব দমনে রাশিয়া অস্ট্রিয়াকে সহায়তা করেছিল। বিনিময়ে রাশিয়া আশা করেছিল যে, 'ইউরোপের রুগ্ন মানুষ' হিসেবে পরিচিত অটোমান সাম্রাজ্যের সাথে তাদের বিরোধগুলো মীমাংসা করার ক্ষেত্রে তারা পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে। তবে, অটোমান বিষয়ে রাশিয়ার এই আধিপত্য ব্রিটেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না, কারণ এটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তাদের নিজস্ব কর্তৃত্বের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াত।[২২]
১৭০০-এর দশকের শুরুতে মহামতি পিটারের (Peter the Great) আমল থেকেই রাশিয়া দক্ষিণ দিকে সীমানা বিস্তার শুরু করে। এর আগে শত শত বছর ধরে অটোমানরা উত্তর দিকে সাম্রাজ্য বাড়িয়েছিল এবং ক্রিমিয়ান-নোগাই দস্যুরা রাশিয়ায় হানা দিয়েছিল। রাশিয়া জনবিরল "ওয়াইল্ড ফিল্ডস" (Wild Fields) অঞ্চল পেরিয়ে কৃষ্ণসাগরের উষ্ণ পানির বন্দরগুলোর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। উত্তরের বন্দরগুলোর মতো এই বন্দরগুলো শীতকালে জমে বরফ হয়ে যায় না। রাশিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল সারা বছর বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া এবং একটি স্থায়ী নৌবাহিনী গড়ে তোলা।[২৩]
এই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে উদীয়মান রুশ রাষ্ট্রকে প্রথমে দানিয়িপার নদীর নিম্ন অববাহিকার জাপোরোজিয়ান কস্যাক (Zaporozhian Cossacks), তারপর ক্রিমিয়ান খানাতের[২৪] তাতার এবং পরবর্তীকালে সার্কাসিয়ানদের[২৫] সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে হয়।
"রাশিয়াকে একটি দক্ষিণদেশীয় শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা মূলত ১৭৭৬ সালে গুরুত্বের সাথে শুরু হয়। তখন সম্রাজ্ঞী ক্যাথরিন পটেমকিনকে 'নিউ রাশিয়া' (নভোরোসিয়া)-র দায়িত্ব অর্পণ করেন। এই অঞ্চলটি ছিল কৃষ্ণসাগরের উত্তর উপকূলীয় জনবিরল এলাকা, যা সম্প্রতি অটোমানদের কাছ থেকে জয় করা হয়েছিল। ক্যাথরিন পটেমকিনকে সেই এলাকায় জনবসতি স্থাপনের নির্দেশ দেন।"[২৬]
রাশিয়া যখন ওই গোষ্ঠীগুলোকে পরাজিত করে তাদের এলাকা দখল করে নেয়, তখন অটোমান সাম্রাজ্য রুশ সম্প্রসারণ রুখে দেওয়ার মতো কোনো 'বাফার জোন' বা মধ্যবর্তী অঞ্চল খুঁজে পাচ্ছিল না। ফলে উভয় সাম্রাজ্য সরাসরি দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। অটোমান সাম্রাজ্যের সাথে এই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিকও ছিল। রাশিয়া নিজেকে অটোমান শাসনের অধীনে থাকা ইস্টার্ন অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের রক্ষক হিসেবে বিবেচনা করত। উল্লেখ্য যে, ওই অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা আইনত দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতো।[২৭] যুদ্ধের পর ১৮৫৬ সালে ঘোষিত 'অটোমান সংস্কার ডিক্রি'র মাধ্যমে তাদের এই দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন করা হয়—যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল অমুসলিমদের ওপর ধার্য করা বিশেষ কর (জিজিয়া) বাতিল করা।[২৮]
ব্রিটেনের তাৎক্ষণিক ভীতি ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের বিনিময়ে রাশিয়ার সম্প্রসারণ। ব্রিটিশরা অটোমানদের অখণ্ডতা রক্ষা করতে চেয়েছিল এবং তারা শঙ্কিত ছিল যে রাশিয়া হয়তো ব্রিটিশ ভারতের দিকে অগ্রসর হতে পারে কিংবা স্ক্যান্ডিনেভিয়া অথবা পশ্চিম ইউরোপের দিকে হাত বাড়াতে পারে। রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে (অটোমান সাম্রাজ্যের মাধ্যমে) একটি বিভ্রান্তি বা ব্যস্ততা তৈরি করে রাখতে পারলে সেই হুমকি প্রশমিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া রয়্যাল নেভি (ব্রিটিশ নৌবাহিনী) শক্তিশালী রাজকীয় রুশ নৌবাহিনীর[২৯] উত্থানকেও আগেভাগে রুখে দিতে চেয়েছিল। ঐতিহাসিক টেলর ব্রিটিশ দৃষ্টিভঙ্গি এভাবে তুলে ধরেছেন:

"ক্রিমিয়ার যুদ্ধ মূলত 'প্রাচ্য সমস্যা'র (Eastern Question) চেয়ে বরং ইউরোপের স্বার্থেই বেশি সংঘটিত হয়েছিল; এটি তুরস্কের পক্ষে নয়, বরং রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়া হয়েছিল... ব্রিটিশরা রাশিয়ার ওপর ক্ষোভ থেকেই যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল এবং তারা ধারণা করেছিল যে, রাশিয়ার পরাজয় ইউরোপের শক্তির ভারসাম্যকে (Balance of Power) আরও শক্তিশালী করবে।"[৩০]
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Badem 2010, পৃ. 280।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 Clodfelter 2017, পৃ. 180।
- ↑ Brooks, E. Willis (১৯৮৪)। "Reform in the Russian Army, 1856-1861"। Slavic Review। ৪৩ (1): ৬৩–৮২। ডিওআই:10.2307/2498735। জেস্টোর 2498735।
- ↑ Figes 2010, পৃ. 489।
- ↑ Mara Kozelsky, "The Crimean War, 1853–56." Kritika: Explorations in Russian and Eurasian History 13.4 (2012): 903–917 online.
- ↑ Dumas ও Vedel-Petersen 1923, পৃ. 42।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Tashlykovনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Kozlovsky, N. (১৯১৪)। Vojna s Japoniey 1904-1905 (রুশ ভাষায়)। Main Military Medical Directorate। পৃ. ২৪৭–২৪৮। ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- 1 2 "Crimean War"। Encyclopedia Britannica। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০২২।
- ↑ "The Crimean War"। historytoday.com। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০২৪।
- ↑ Kerr, Paul (২০০০)। The Crimean War। Mcmillan। পৃ. ১৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৫২২৭২৪৮১।
- ↑ Figes 2010, পৃ. 415।
- ↑ Royle 2000, Preface।
- ↑ Matthew Smith Anderson, The Eastern Question, 1774–1923: A Study in International Relations. p. 37.
- ↑ Taylor 1954, পৃ. 60–61।
- ↑ Marriott 1917, পৃ. 222।
- ↑ V. N. Vinogradov (২০০৬)। "Lord Palmerston in European diplomacy"। New and Recent History (রুশ ভাষায়) (5): ১৮২–২০৯।
- 1 2 Figes 2011, পৃ. 32।
- ↑ Marriott 1917, পৃ. 214।
- ↑ Figes 2011, পৃ. 58।
- ↑ Badem 2010, পৃ. 59।
- ↑ Seton-Watson, Hugh (১৯৮৮)। The Russian Empire 1801–1917। Oxford: Clarendon Press। পৃ. ২৮০–৩১৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৮২২১৫২-৪।
- ↑ Figes 2010, পৃ. 11।
- ↑ Lincoln, W. Bruce (১৯৮১)। The Romanovs। New York: Dial Press। পৃ. ১১৪–১১৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৮৫-২৭১৮৭-৫।
- ↑ Bell, James Stanislaus (১৮৪০)। "Journal of a residence in Circassia during the years 1837, 1838, and 1839"। London: Edward Moxon। ওসিএলসি 879553602। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১৫ – archive.org এর মাধ্যমে।
- ↑ Figes 2011, পৃ. 23।
- ↑ Figes 2010, ch. 1।
- ↑ Lapidus, Ira M. (Ira Marvin) (২০০২)। A history of Islamic societies (2nd সংস্করণ)। Cambridge: Cambridge University Press। আইএসবিএন ০-৫২১-৭৭০৫৬-৪। ওসিএলসি 50227716।
- ↑ Strachan, Hew (জুন ১৯৭৮)। "Soldiers, Strategy and Sebastopol"। The Historical Journal। ২১ (2)। Cambridge University Press: ৩০৩–৩২৫। ডিওআই:10.1017/s0018246x00000558। আইএসএসএন 0018-246X। জেস্টোর 2638262। এস২সিআইডি 154085359।
- ↑ Taylor, Vincent (1954-02)। "The Day of the Last Supper"। Theology। ৫৭ (404): ৬০–৬১। ডিওআই:10.1177/0040571x5405740406। আইএসএসএন 0040-571X।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
<ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি- ক্রিমিয়ান যুদ্ধ
- আবদুলমেজিদ প্রথম
- ককেশিয়ান যুদ্ধ
- জর্জিয়ার সামরিক ইতিহাস
- রাশিয়ার সামরিক ইতিহাস
- রাশিয়ার নিকোলাস প্রথম
- রাশিয়া-তুর্কি যুদ্ধসমূহ
- রাশিয়ায় আক্রমণসমূহ
- চেচনিয়ার জড়িত যুদ্ধসমূহ
- কারকাসিয়ানদের জড়িত যুদ্ধসমূহ
- ১৮৫০-এর দশকে অটোমান সাম্রাজ্য
- উনিশ শতকে রাশিয়া
- রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে ক্রিমিয়া
- উনিশ শতকে ক্রিমিয়া
- ভিক্টোরীয় যুগ
- রাশিয়ার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার
- তৃতীয় নেপোলিয়ন
- রানী ভিক্টোরিয়া
- সার্কাসিয়ানদের (চেনকেস) সংশ্লিষ্ট যুদ্ধসমূহ
- ফ্রান্স সংশ্লিষ্ট যুদ্ধসমূহ
- মিশর সংশ্লিষ্ট যুদ্ধসমূহ
- গ্রিস সংশ্লিষ্ট যুদ্ধসমূহ
- ইতালি সংশ্লিষ্ট যুদ্ধসমূহ
- অটোমান সাম্রাজ্য সংশ্লিষ্ট যুদ্ধসমূহ
- যুক্তরাজ্য সংশ্লিষ্ট যুদ্ধসমূহ
- তিউনিসিয়া সংশ্লিষ্ট যুদ্ধসমূহ