ক্রিকেট বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
ব্যবস্থাপকআন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল
খেলার ধরনএকদিনের আন্তর্জাতিক
প্রথম টুর্নামেন্ট১৯৭৯
প্রতিযোগিতার ধরনবহুবিধ (নিবন্ধে উল্লেখিত)
দলের সংখ্যা১২
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্কটল্যান্ড (২য় শিরোপা)
সর্বাধিক সফল জিম্বাবুয়ে (৩বার শিরোপা)
সর্বাধিক রানকেনিয়া মরিস ওদুম্বে (১১৭৩)
সর্বাধিক উইকেটনেদারল্যান্ডস রোল্যান্ড লেফেব্রে (৭১)

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব (সাবেক - আইসিসি ট্রফি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় ক্রিকেট দলগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একদিনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। এ প্রক্রিয়ায় শীর্ষস্থানীয় দলগুলো ক্রিকেট বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পায়। ক্রিকেট বিশ্বকাপ বৈশ্বিক পর্যায়ের হয় ও বাছাইপর্বের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী প্রায় একশত দলের মধ্য থেকে ১৬ দলে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতি বিশ্ব ক্রিকেট লীগ নামে পরিচিত। বিশ্বকাপ শুরুর প্রায় ছয় বছর পূর্ব থেকে বাছাইপর্ব প্রক্রিয়া শুরু হয়। জিম্বাবুয়ে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল সর্বাধিক পর্যন্ত সর্বাধিক উপর্যুপরি তিনবার শিরোপা জয় করে।

প্রত্যেক বিশ্বকাপের পূর্বে আইসিসি তার সহযোগী ও অনুমোদনলাভকারী সদস্যদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বেশ কয়েকটি স্থান নির্ধারণ করে। টেস্টভূক্ত দলসহ কখনো কখনো অতীতে খেলা একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণকারী দলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। অন্যান্য দলগুলোকে এ যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতায় অগ্রসর হতে হয়।[১]

আফ্রিকা, আমেরিকাস, এশিয়া, পূর্ব এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলইউরোপ - আইসিসি’র এ পাঁচটি আঞ্চলিক সংস্থাভূক্ত এলাকায় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতাগুলোর আয়োজন করা হয়। স্ব-স্ব সংস্থা এ প্রতিযোগিতাগুলো পরিচালনা করে। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বকাপের জন্য প্রথম বাছাইপর্ব প্রতিযোগিতা আইসিসি ট্রফি’র প্রচলন ঘটানো হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৭৫ সালে ইংল্যান্ডে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় আইসিসি ট্রফি’র ন্যায় বাছাইপর্ব প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে বাছাইপর্বে অংশগ্রহণের জন্য বাছাইপর্ব প্রতিযোগিতাগুলোর আয়োজনের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়ার পরিবর্ধন করা হয়। বাছাই প্রতিযোগিতাগুলো আইসিসি ট্রফি’র অংশ ছিল।[২] অনেকগুলো দল সময়ে সময়ে পরিবর্তিত আইসিসি ট্রফিতে অংশ নিয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে আইসিসি বিশ্ব ক্রিকেট লীগ এ সকল বিষয়ে স্থলাভিষিক্ত হয়। ২০০৯ সাল থেকে আইসিসি ট্রফি ‘আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে।[৩]

বিশ্ব ক্রিকেট লীগ[সম্পাদনা]

বিশ্ব ক্রিকেট লীগ একদিনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতার একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা। এতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের পরিচালনায় টেস্ট মর্যাদা বহির্ভূত দলগুলো অংশ নেয়। লীগভিত্তিতে অনুষ্ঠিত খেলায় সকল সহযোগী ও অনুমোদনলাভকারী দল এতে অংশ নিতে পারে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক বিভাগ থেকে উত্তোরণ ও অবনমন প্রক্রিয়া অনুসৃত হয়। প্রথম ধাঁপে ২০০৭ সালে শেষ হয়। দলের ফলাফলের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন বিভাগে খেলার যোগ্যতাসহ ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে খেলার মর্যাদা দেয়া হয়। প্রারম্ভিকভাবে প্রথম বিভাগের ছয়টি দল থেকে নির্বাচন করা হয়। পরের ধাঁপে ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলার জন্য ২০০৮ সালে অতিরিক্ত দুইটি বিভাগকে যুক্ত করে গ্লোবাল ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লীগ শুরু হয়।

আইসিসি’র ৮৭টি সহযোগী ও অনুমোদনলাভকারী সদস্য দল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা লাভের অধিকারী। আইসিসি বিশ্ব ক্রিকেট লীগে দলের সংখ্যার উপর নির্ভর করে দুই থেকে পাঁচটি ধাঁপে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়।

গত বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া টেস্ট বহির্ভূত দল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ পায়। দ্বিতীয়তৃতীয় বিভাগের সেরা দলকে বাছাইপর্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তৃতীয় বিভাগ থেকে দুইটি দল দ্বিতীয় বিভাগে আসে। এরফলে চারটি দল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলে। অন্যান্য দল পূর্বের অবস্থানেই থাকে।

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাইপর্বের প্রথম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা শেষে আটটি দল পঞ্চম বিভাগে উত্তোরণ ঘটে। পঞ্চম বিভাগের শীর্ষ দুই দল চতুর্থ বিভাগে এবং শীর্ষ দুই দল তৃতীয় বিভাগে পৌঁছে। তৃতীয় বিভাগের শীর্ষ দুই দল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। বাছাইপর্বের শীর্ষ ছয় দল সংক্ষিপ্তকালের জন্য একদিনের মর্যাদা ও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়।[৩]

সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা: প্রত্যেক অঞ্চলের প্রতিযোগিতার শীর্ষ দলগুলো আইসিসি ও প্রত্যেক বিভাগের শূন্যস্থান পূরণে র‌্যাঙ্কিং প্রথার উপর নির্ভর করে কোন একটি বিভাগে উত্তোরণ ঘটে।

প্রথম বিভাগ: ৬-দল। সবগুলো দলই বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার অধিকার অর্জন করে।

তৃতীয় বিভাগ: ৮-দল। শীর্ষ দুই দল দ্বিতীয় বিভাগে পৌঁছে।

দ্বিতীয় বিভাগ: ৬-দল। শীর্ষ ৪ দল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা লাভ করে।

পঞ্চম বিভাগ: ৮-দল। শীর্ষ দুই দল চতুর্থ বিভাগে পৌঁছে।

চতুর্থ বিভাগ: ৫-দল। শীর্ষ দুই দল তৃতীয় বিভাগে পৌঁছে।

তৃতীয় বিভাগ (২য় সংস্করণ): ৬-দল। শীর্ষ ২ দল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা লাভ করে।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব: ১২-দল। শীর্ষ ৬ দল একদিনের আন্তর্জাতিকে খেলার মর্যাদা পায় ও শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা লাভ করে।

পূর্ববর্তী চূড়ান্ত খেলা[সম্পাদনা]

বছর স্বাগতিক চূড়ান্ত মাঠ বিজয়ী ফলাফল রানার-আপ
১৯৭৯  ইংল্যান্ড ওরচেস্টার  শ্রীলঙ্কা
৩২৪/৮ (৬০ ওভার)
শ্রীলঙ্কা ৬০ রানে বিজয়ী  কানাডা
২৬৪/৮ (৬০ ওভার)
১৯৮২  ইংল্যান্ড লিচেস্টার  জিম্বাবুয়ে
২৩২/৫ (৫৪.৩ ওভার)
জিম্বাবুয়ে পাঁচ উইকেটে বিজয়ী  বারমুদা
২৩১/৮ (৬০ ওভার)
১৯৮৬  ইংল্যান্ড লন্ডন  জিম্বাবুয়ে
২৪৩/৯ (৬০ ওভার)
জিম্বাবুয়ে ২৫ রানে বিজয়ী  নেদারল্যান্ডস
২১৮ (৫৮.৪ ওভার)
১৯৯০  নেদারল্যান্ডস দ্য হেগ  জিম্বাবুয়ে
১৯৮/৪ (৫৪.২ ওভার)
জিম্বাবুয়ে ছয় উইকেটে বিজয়ী  নেদারল্যান্ডস
১৯৭/৯ (৬০ ওভার)
১৯৯৪  কেনিয়া নাইরোবি  সংযুক্ত আরব আমিরাত
২৮২/৮ (৪৯.১ ওভার)
সংযুক্ত আরব আমিরাত দুই উইকেটে বিজয়ী  কেনিয়া
২৮১/৬ (৫০ ওভার)
১৯৯৭  মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর  বাংলাদেশ
১৬৬/৮ (২৫ ওভার)
বাংলাদেশ দুই উইকেটে বিজয়ী
(ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতি)
 কেনিয়া
২৪১/৭ (৫০ ওভার)
২০০১  কানাডা টরন্টো  নেদারল্যান্ডস
১৯৬/৮ (৫০ ওভার)
নেদারল্যান্ডস দুই উইকেটে বিজয়ী  নামিবিয়া
১৯৫/৯ (৫০ ওভার)
২০০৫ আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড ডাবলিন  স্কটল্যান্ড
৩২৪/৮ (৫০ ওভার)
স্কটল্যান্ড ৪৭ রানে বিজয়ী  আয়ারল্যান্ড
২৭৭/৯ (৫০ ওভার)
২০০৯  দক্ষিণ আফ্রিকা সেঞ্চুরিয়ন  আয়ারল্যান্ড
১৮৮/১ (৪২.৩ ওভার)
আয়ারল্যান্ড ৯ উইকেটে বিজয়ী  কানাডা
১৮৫ (৪৮ ওভার)
২০১৪ নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড লিঙ্কন  স্কটল্যান্ড
২৮৫/৫ (৫০ ওভার)
স্কটল্যান্ড ৪১ রানে বিজয়ী  সংযুক্ত আরব আমিরাত
২৪৪/৯ (৫০ ওভার)
২০১৮ জিম্বাবুয়ে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত হয়নি

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "What the next four years hold", Beyond the Test World, এপ্রিল ১৮, ২০০৯ 
  2. Cricinfo - 2005 ICC Trophy in Ireland
  3. World Cricket League World Cricket League Overview