ক্রিকেটের ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

যতদূর জানা যায়, ক্রিকেট খেলা শুরু হয়েছিলো ষোড়শ শতকের শেষদিকে। মূলতঃ দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যাণ্ডে শুরু হলেও অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি ইংল্যাণ্ডের জাতীয় খেলারূপে গণ্য হয় এবং ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে এটি সারাবিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ১৮৪৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলা হলেও ইতিহাস স্বীকৃত টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচ খেলা শুরু হয় ১৮৭৭ সালে। দর্শক সংখ্যার দিক দিয়ে ক্রিকেট, বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় খেলা, অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলের ঠিক পরেই। এই খেলার বিশ্বব্যাপী প্রশাসনের দায়িত্বে আছে একশোর বেশি সদস্য সংখ্যাযুক্ত সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল, যদিও এর মধ্যে শুধুমাত্র দশটি সদস্য দেশই টেস্ট ক্রিকেট খেলে।

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রারম্ভিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

প্রধান নিবন্ধ : ক্রিকেটের ইতিহাস ১৭২৫ পর্যন্ত

উৎস[সম্পাদনা]

ক্রিকেট খেলার উৎস অজানা। অনেক বিশেষজ্ঞ সর্বসম্মত হয়েছেন যে, সম্ভবত স্যাক্সন অথবা নরম্যানদের সময়ে উইল্ড-এ বসবাসকারী শিশুরা এই খেলা চালু করেছিলো। উইল্ড দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যাণ্ডের কেন্ট এবং সাসেক্স[১]-এর মধ্যবর্তী একটি ঘন অরণ্য ও তার মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা। ক্রিকেট খেলার সর্বপ্রথম স্পষ্ট উল্লিখিত তারিখ সোমবার, ১৭ই জানুয়ারি, ১৫৯৭ খ্রীস্টাব্দ (জুলিয়ান তারিখ; নীচে দেখুন)।

ক্রিকেটের উৎস সম্বন্ধে এছাড়াও আরো অনুমান করা হয়, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য যে এই খেলা ফ্রান্স অথবা ফ্লেন্ডার্সে শুরু হয়েছিলো। এই অনুমানের ক্ষেত্রে ক্রিকেট খেলার উল্লিখিত তারিখ বৃহস্পতিবার, ১০ই মার্চ, ১৩০০ খ্রীস্টাব্দ (জুলিয়ান তারিখ) এবং এটা ভাবা হয় যে পরবর্তীকালে রাজা দ্বিতীয় এডয়ার্ড "ক্রিগ (ইংরেজি creag) এবং অন্যান্য খেলা"-য় খেলেছিলেন ওয়েস্ট্মিনস্টার এবং নিউএন্ডেন নামক দুটি জায়গায়। মনে করা হয় যে, "ক্রিগ" হল ক্রিকেটেরই একটি পুরাতন ইংরাজি ভাষার শব্দ। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এর আগে এটি ছিল "ক্রেইক (ইংরেজি craic)", যার মানে "সর্বজনীন মজা এবং খেলা"।

এটা বিশ্বাস করা হয় যে, সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের খেলা হয়ে ওঠার আগে পর্যন্ত বহু প্রজন্ম ধরে ক্রিকেট খেলা শুধুমাত্র শিশুদের খেলা ছিল। সম্ভবত ক্রিকেট খেলা উদ্ভূত হয়েছিলো বোলস খেলা থেকে। যেহেতু বোলস একটু পুরানো খেলা, তাই মনে করা হয় বলটিকে তার লক্ষ্যের আগে ব্যাটসম্যান ব্যাট দিয়ে থামিয়ে সেটিকে আঘাত করে দূরে পাঠানো থেকেই ক্রিকেট খেলার উৎপত্তি। খেলা শুরু হয় মেষ-চারিত কোনো মাঠ বা ফাঁকা জায়গায়, মূল সরঞ্জামের মধ্যে বল হিসাবে ব্যবহার করা হয় ভেড়ার দলা পাকানো পশম (বা এমনকি একটি পাথর অথবা একটি ছোটো কাঠের ডেলা); ব্যাট হিসাবে ব্যবহার করা হয় একট লাঠি বা একটি বাঁকা দণ্ড বা খামারবাড়ির কোনও যন্ত্র; উইকেট হিসাবে একটি বসার টুল বা গাছের গোড়ার শিকড় অথবা কোনো দরজা (যেমন একটি উইকেট দরজা)।

প্রথম স্পষ্ট উল্লেখ[সম্পাদনা]

১৫৯৭ সালে ইংল্যাণ্ডের গিল্ডফোর্ড, সারে অঞ্চলে চলা জমির মালিকানার বিতর্ক সম্বন্ধীয় একটি আইনি মামলায় ক্রেকেট শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়। ঊনষাট বছর বয়সী জন ডেরিক নামক একজন শব-পরীক্ষক আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, তখন থেকে পঞ্চাশ বছর আগে যখন তিনি ফ্রী স্কুলে পড়তেন, তখন তিনি এবং তাঁর বন্ধুরা ওই জায়াগায় ক্রেকেট খেলেছিলেন। ডেরিকের বর্ণনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, ১৫৫০ সাল নাগাদ সারেতে এই খেলা হয়েছিলো এবং এটাই সর্বপ্রথম সর্বজনীনভাবে গৃহীত উল্লেখ।

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ক্রিকেট খেলার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৬১১ সালে, যখন সাসেক্সে দুইজন লোকের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশ করা হয় রবিবার গীর্জায় না গিয়ে ক্রিকেট খেলার জন্য। ওই একই বছর একটি অভিধান ক্রিকেটকে সংজ্ঞায়িত করে বালকদের খেলা হিসাবে এবং সম্প্রতি খেলাটি যে প্রাপ্তবয়স্করাও খেলছে তা উত্থাপন করে।

"ক্রিকেট" নামের উৎপত্তি[সম্পাদনা]

"ক্রিকেট" নামটির সম্ভাব্য উৎস হিসাবে অনেক শব্দের কথাই ধরা হয়। সর্বপ্রথম স্পষ্ট উল্লেখে এটাকে ক্রেকেট বলা হয়। এমনও হতে পারে, নামটি এসেছে মধ্য ওলন্দাজ ভাষাক্রিক(ইংরেজি krick(-e)) থেকে, যার অর্থ দণ্ড; অথবা পুরাতন ইংরেজি ভাষার শব্দ ক্রিক(ইংরেজি cricc) বা ক্রাইক(ইংরেজি cryce) থেকে, যার অর্থ পঙ্গু লোকের বগলে লাগিয়ে চলবার লাঠি বা ছড়ি, অথবা ফরাসি ভাষা ক্রিকোয়েট(ইংরেজি criquet) থেকে, যার অর্থ কাঠের থাম। ক্রিকস্টোয়েল(ইংরেজি krickstoel) একটি মধ্য ওলন্দাজ ভাষা যার অর্থ একটি দীর্ঘ নীচু বসার টুল যেগুলি গীর্জায় নতজানু হওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়; এটা অনেকটা প্রারম্ভিক ক্রিকেটে ব্যবহৃত দীর্ঘ নীচু উইকেটের মত যাতে দুটি স্টাম্প ব্যবহার করা হত। বন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোপীয় ভাষা বিশেষজ্ঞ হেইনার গিলমেইস্টার-এর মতে, "ক্রিকেট" শব্দটির উৎপত্তি হকির মধ্য ওলন্দাজ শব্দ মেট দে (ক্রিক্ কেট্ (ইংরেজি krik ket)) সেন (অর্থাৎ "দণ্ড নিয়ে তাড়া") থেকে।

আরো সম্ভবত, ক্রিকেটের পরিভাষাগুলি গড়ে উঠেছে দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যাণ্ডের সেই সময়কার ভাষা থেকে এবং ফ্লেন্ডার্স দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থেকে, বিশেষত যখন দেশটি পঞ্চদশ শতাব্দীতে ডাচি অব্ বার্গাণ্ডির অন্তর্ভূক্ত ছিল, দক্ষিণ ইংল্যাণ্ডের কথ্য ভাষায় অনেক মধ্য ওলন্দাজ শব্দ প্রবেশ করেছে।

সপ্তদশ শতাব্দীর গোড়ার দিক[সম্পাদনা]

ইংরেজ গৃহযুদ্ধ পর্যন্ত ক্রিকেট খেলার অনেক উল্লেখ পাওয়া যায় এবং এটা ইঙ্গিত করে যে, ক্রিকেট খেলাটি প্রাপ্তবয়স্কদের খেলারূপে গণ্য হয়েছিল যাতে যাজক দল অংশগ্রহণ করতো, তবে সেই সময়ে প্রাদেশিক পর্যায়ের কোনো দলের প্রামাণিক তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, এই খেলাকে কেন্দ্র করে অনেক প্রসারণশীল জুয়াখেলার কিছু প্রমাণ পাওয়া যায় যা পুরো অষ্টাদশ শতাব্দী ধরে এই খেলাটিকে চিহ্নিত করে। তবে, সাধারণত এটা বিশ্বাস করা হয় যে, গ্রামীণ ক্রিকেট শুরু হয়েছিল সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে, কিন্তু কাউন্টি (প্রাদেশিক) ক্রিকেট বা এই খেলায় লগ্নী তখনও শুরু হয়নি।

কমনওয়েল্থ্[সম্পাদনা]

১৬৪৮ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নতুন পিউরিটান সরকার "বেআইনি সমাবেশগুলি" কঠোর হাতে দমন করেছিল, বিশেষ করে যেসব খেলায় প্রচুর কর্কশ আওয়াজ হয় যেমন ফুটবল। সাব্বাথ (রবিবার) বিষয়ে যে প্রথা ছিল, সেই আইন চাইছিলো তার চেয়ে আরো কঠোর কোনো রীতি। যেহেতু নিম্নবর্গের মানুষদের কাছে সাব্বাথ(রবিবার)-ই একমাত্র অবসর সময় ছিল তাই কমনওয়েল্থের সময় ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছিলো। যাইহোক, এই খেলা কিছু বৈতনিক বিদ্যালয় যেমন উইনচেস্টার এবং সেন্ট পলস-এ জাঁকজমকভাবে বেড়ে উঠেছিলো। অলিভার ক্রনওয়েলের শাসনকালে ক্রিকেটকে যে নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়েছিলো এর কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই, তবে সরকারি বিরতির সময়ে কিছু প্রমাণ আছে যেটা সুপারিশ করে এটা গ্রহণযোগ্য যে কতৃপক্ষ এই খেলাটিকে "সাব্বাথ (রবিবার) লঙ্ঘনের" কারণ হিসাবে দেখেনি। বিশ্বাস করা হয় এই সময়ে সাধারণের মধ্যে মহত্ত্ব ক্রিকেট খেলাকে গ্রামীণ খেলার মাধ্যমে জড়িয়ে রেখে বাঁচিয়ে রেখেছিলো।

জুয়া এবং প্রেস কভারেজ[সম্পাদনা]

অষ্টাদশ শতাব্দীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

পৃষ্ঠপোষকতা এবং খেলোয়াড়[সম্পাদনা]

ইংল্যাণ্ডের বাইরে ক্রিকেটের প্রসার[সম্পাদনা]

আইনের উন্নয়ন[সম্পাদনা]

ইংল্যাণ্ডে ক্রমাগত উন্নতি[সম্পাদনা]

ক্রিকেট এবং সঙ্কট[সম্পাদনা]

ঊনবিংশ শতাব্দীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচনা[সম্পাদনা]

জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ[সম্পাদনা]

প্রতি ওভারে বলসংখ্যা[সম্পাদনা]

বিংশ শতাব্দীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

টেস্ট ক্রিকেটের বিকাশ[সম্পাদনা]

দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাসন (১৯৭০-৯১)[সম্পাদনা]

ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সীমিত-ওভারের ক্রিকেট[সম্পাদনা]

বিশ্লেষণমূলক এবং রৈখিক প্রযুক্তি[সম্পাদনা]

একবিংশ শতাব্দীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ঐতিহাসিক সূত্র[সম্পাদনা]

বই এবং অন্যান্য মুদ্রিত কর্ম[সম্পাদনা]

কাল-ভিত্তিক প্রাসঙ্গিক কিছু সূত্রের উদাহরণ[সম্পাদনা]

বিষয়-ভিত্তিক প্রাসঙ্গিক কিছু সূত্রের উদাহরণ[সম্পাদনা]

নির্বাচিত অনলাইন সূত্রাবলী[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. [Wynne-Thomas, Peter(১৯৯৭)], From the Weald to the World. Stationery Office Books

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]