বিষয়বস্তুতে চলুন

ক্যালাব্রিয়া

ক্যালাব্রিয়া
অঞ্চল
ক্যালাব্রিয়ার পতাকা
পতাকা
ক্যালাব্রিয়ার প্রতীক
প্রতীক
স্থানাঙ্ক: ৩৯°০০′ উত্তর ১৬°৩০′ পূর্ব / ৩৯.০° উত্তর ১৬.৫° পূর্ব / 39.0; 16.5
দেশইতালি
রাজধানীকাতানজারো
সরকার
  প্রেসিডেন্টরোবের্তো অক্কিউতো (এফ. আই.)
আয়তন
  মোট১৫,২২২ বর্গকিমি (৫,৮৭৭ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০২৫)[]
  মোট১৮,৩২,১৪৭
  জনঘনত্ব১২০/বর্গকিমি (৩১০/বর্গমাইল)
বিশেষণইংরেজি: Calabrian
ইতালীয়: Calabrese
জিডিপি[]
  মোট€৩২.৭৮৭ বিলিয়ন (২০২১)
সময় অঞ্চলসিইটি (ইউটিসি+১)
  গ্রীষ্মকালীন (দিসস)সিইএসটি (ইউটিসি+২)
আইএসও ৩১৬৬ কোডআইটি-৭৮
মানব উন্নয়ন সূচক (২০২১)০.৮৪৮[]
অতি উচ্চ · ২১টির মধ্যে ২০তম
এনইউটিএস অঞ্চলআইটিএফ
ওয়েবসাইটwww.regione.calabria.it

ক্যালাব্রিয়া[] ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের একটি অঞ্চল। এটি একটি উপদ্বীপ। ক্যালাব্রিয়ার উত্তরে বাজিলিকাতা অঞ্চল, পূর্বে আয়োনীয় সাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে মেসিনা প্রণালী (যা এটিকে সিসিলি থেকে আলাদা করেছে) এবং পশ্চিমে তিরেনীয় সাগর অবস্থিত। ২০২৫ সালের হিসাবে ক্যালাব্রিয়ার জনসংখ্যা ১৮,৩২,১৪৭ জন এবং আয়তন ১৫,২২২ বর্গকিলোমিটার (৫,৮৭৭ বর্গমাইল)[] এর রাজধানী কাতানজারো।

ক্যালাব্রিয়াকেই “ইতালি” নামের জন্মস্থান ধরা হয়।[] খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতক থেকে এখানে বসতি স্থাপন করা প্রাচীন গ্রিকরা এই নাম দেয়। তারা উপকূলজুড়ে প্রথম শহরগুলো গড়ে তোলে, যা ছিল গ্রিক উপনিবেশ। সেই সময় ক্যালাব্রিয়া ছিল ম্যাগনা গ্রিসিয়ার কেন্দ্র। এখানে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব যেমন পিথাগোরাস, হেরোডোটাস ও মিলো বসবাস করেছিলেন।

রোমান যুগে এটি রেজিও তিন-লুকানিয়া এৎ ব্রুট্টি নামক অঞ্চলের অংশ ছিল, যা ছিল অগাস্টান ইতালির একটি অঞ্চল। গথিক যুদ্ধ (৫৩৫–৫৫৪) শেষে এটি প্রায় পাঁচ শতাব্দী বাইজেন্টাইন শাসনের অধীনে ছিল এবং পুনরায় শক্তভাবে গ্রিক সংস্কৃতির প্রভাব ফিরে পায়। এ সময় সন্ন্যাসী জীবনধারা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। উপদ্বীপজুড়ে অসংখ্য গির্জা, আশ্রম ও মঠ গড়ে ওঠে, যেখানে বাসিলিয়ান সন্ন্যাসীরা পাণ্ডুলিপি নকল করার কাজে যুক্ত ছিলেন। বাইজেন্টাইনরা এখানে রেশম শিল্পের সূচনা করে এবং ক্যালাব্রিয়াকে ইউরোপের প্রধান রেশম উৎপাদন অঞ্চলে পরিণত করে। একাদশ শতকে দক্ষিণ ইতালিতে নর্মান বিজয় শুরু হলে ধীরে ধীরে লাতিনীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ক্যালাব্রিয়ায় তিনটি ঐতিহাসিক ভাষাভিত্তিক সংখ্যালঘু রয়েছে: গ্রেকানিচি (যারা ক্যালাব্রিয়ান গ্রিক ভাষায় কথা বলে), আর্বেরেশে জনগোষ্ঠী এবং গার্দিয়া পিয়েমন্তেজে বসবাসকারী অক্সিটান জনগোষ্ঠী। এই ভাষাগত বৈচিত্র্যের কারণে অঞ্চলটি বিশ্বজুড়ে ভাষাবিদদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়।

স্বচ্ছ নীল সমুদ্রজলের জন্য ক্যালাব্রিয়া বিখ্যাত। এখানে ছড়িয়ে আছে প্রাচীন গ্রাম, দুর্গ ও প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্যান। অঞ্চলে তিনটি জাতীয় উদ্যান রয়েছে: পোল্লিনো জাতীয় উদ্যান (ইতালির সবচেয়ে বড় উদ্যান), সিলা জাতীয় উদ্যান এবং আস্প্রোমন্তে জাতীয় উদ্যান।

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে ক্যালাব্রিয়া নামটি প্রথমে আধুনিক সালেন্তো উপদ্বীপের আপুলিয়া অঞ্চলের আদ্রিয়াটিক উপকূল বোঝাতে ব্যবহৃত হতো।[] খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকের শেষ দিকে নামটি পুরো সালেন্তো অঞ্চলের জন্য ব্যবহার শুরু হয়। তখন রোমান সম্রাট অগাস্টাস ইতালিকে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করেন। পুরো আপুলিয়া অঞ্চল তখন রেজিও সেকেন্ড আপুলিয়া এট ক্যালাব্রিয়া নামে পরিচিত হয়। সে সময় বর্তমান ক্যালাব্রিয়ার নাম ছিল ব্রুট্টিয়ুম। এই নামটি এসেছে এখানকার বাসিন্দা ব্রুট্টিয়ান জনগোষ্ঠীর নাম থেকে। পরে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য সালেন্তো এবং ব্রুট্টিয়ুমের আয়োনীয় অংশ নিয়ে ক্যালাব্রিয়া ডাচি গঠন করে। অষ্টম ও নবম শতকে ডাচির ক্যালাব্রিয়া অংশ লোমবার্ডদের দখলে গেলেও বাইজেন্টাইনরা ব্রুট্টিয়ুমে তাদের অবশিষ্ট অঞ্চল বোঝাতে ক্যালাব্রিয়া নামটি ব্যবহার করতে থাকে।[]

প্রাচীন গ্রিকরা ইতালয় শব্দটি ব্যবহার করত বর্তমান ক্যালাব্রিয়ার স্থানীয় জনগণ বোঝাতে। কিছু প্রাচীন গ্রিক লেখকের মতে এই নামটি এসেছে ওয়েনোত্রি জাতির কিংবদন্তি রাজা ইতালুস-এর নাম থেকে।[১০][১১]

সময়ের সাথে গ্রিকরা ইতালয় শব্দটি দক্ষিণ ইতালির বাকি অংশের জন্যও ব্যবহার করতে শুরু করে। পরে রোমানরা অঞ্চলটি দখল করার পর এই নামটি পুরো ইতালীয় উপদ্বীপের জন্য ব্যবহৃত হয়। শেষ পর্যন্ত এটি আল্পস অঞ্চলেও প্রয়োগ করা হয়।[১২][১৩][১৪][১৫][১৬][১৭]

ভূগোল

[সম্পাদনা]
ত্রোপেয়ার উপকূলীয় খাড়া পাহাড়
পোল্লিনো জাতীয় উদ্যান
লা সিলা জাতীয় উদ্যান
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে তোলা ক্যালাব্রিয়ার ছবি[১৮]
কাতানজারোর কাছাকাছি প্রাকৃতিক দৃশ্য

এই অঞ্চলটি সাধারণত ইতালীয় উপদ্বীপের “পায়ের আঙুল” নামে পরিচিত। এটি একটি দীর্ঘ ও সরু উপদ্বীপ। উত্তর থেকে দক্ষিণে এর দৈর্ঘ্য ২৪৮ কিলোমিটার (১৫৪ মাইল) এবং সর্বোচ্চ প্রস্থ ১১০ কিলোমিটার (৬৮ মাইল)। ক্যালাব্রিয়ার মোট আয়তনের প্রায় ৪২% (১৫,০৮০ বর্গকিলোমিটার) পাহাড়ি। প্রায় ৪৯% এলাকা পাহাড়ি ঢাল বা টিলাময়। সমভূমি রয়েছে মাত্র ৯%। অঞ্চলটি আয়োনীয় সাগরতিরেনীয় সাগর দ্বারা বেষ্টিত। মেসিনা প্রণালী এটিকে সিসিলি থেকে আলাদা করেছে। এখানে সিসিলির কাপো পেলোরো ও ক্যালাব্রিয়ার পুন্তা পেজ্জোর মাঝের সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ৩.২ কিলোমিটার (২ মাইল)

এ অঞ্চলে তিনটি প্রধান পর্বতমালা রয়েছে: পোল্লিনো, লা সিলা এবং আস্প্রোমন্তে। প্রতিটির নিজস্ব উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ আছে। উত্তরের পোল্লিনো পর্বতমালা দুর্গম এবং এটি ক্যালাব্রিয়াকে ইতালির বাকি অংশ থেকে প্রাকৃতিকভাবে আলাদা করেছে। কিছু অংশ ঘন বনাচ্ছন্ন, আবার কিছু অংশ বিশাল ও খোলা মালভূমি, যেখানে উদ্ভিদ কম। এখানে বিরল প্রজাতির বসনিয়ান পাইন গাছ পাওয়া যায়। এই এলাকা পোল্লিনো জাতীয় উদ্যানের অন্তর্ভুক্ত, যা ইতালির সবচেয়ে বড় জাতীয় উদ্যান এবং এর আয়তন ১,৯২৫.৬৫ বর্গকিলোমিটার।

লা সিলাকে অনেক সময় “ইতালির মহান বনভূমি” বলা হয়।[১৯][২০][২১] এটি একটি বিশাল মালভূমি, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,২০০ মিটার (৩,৯০০ ফুট) উঁচু। ক্যালাব্রিয়ার মধ্যভাগ জুড়ে এর বিস্তার প্রায় ২,০০০ বর্গকিলোমিটার (৭৭০ বর্গমাইল)। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বোট্টে দোনাতো, যার উচ্চতা ১,৯২৮ মিটার (৬,৩২৫ ফুট)। এখানে বহু হ্রদ ও ঘন শঙ্কু বৃক্ষের বন রয়েছে। লা সিলায় ইতালির সবচেয়ে উঁচু গাছগুলোর কয়েকটি দেখা যায় (যেগুলো “সিলার দৈত্য” নামে পরিচিত এবং প্রায় ৪০ মিটার (১৩০ ফুট) পর্যন্ত উঁচু হতে পারে)।[২২][২৩] সিলা জাতীয় উদ্যান ইউরোপের সবচেয়ে বিশুদ্ধ বাতাসের অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবেও পরিচিত।[২৪]

আস্প্রোমন্তে পর্বতগুচ্ছ ইতালীয় উপদ্বীপের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এটি তিন দিক থেকে সমুদ্র দ্বারা ঘেরা। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মোন্তালতো, যার উচ্চতা ১,৯৯৫ মিটার (৬,৫৪৫ ফুট)। এখানে সমুদ্রের দিকে নেমে যাওয়া বহু বিস্তৃত মানুষের তৈরি ধাপভূমি রয়েছে।

ক্যালাব্রিয়ার নিচু অঞ্চলগুলোর বেশিরভাগই বহু শতাব্দী ধরে কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে স্থানীয় ঝোপঝাড়ের পাশাপাশি আনা হয়েছে এমন গাছও রয়েছে, যেমন নাগফনি ক্যাকটাস। নিচু ঢালগুলোতে আঙুরের বাগান ও বিভিন্ন সাইট্রাস ফলের বাগান রয়েছে, যার মধ্যে দিয়ামান্তে সিত্রন উল্লেখযোগ্য। আরও উঁচুতে জলপাই ও চেস্টনাট গাছ দেখা যায়। আর পাহাড়ি উচ্চ অঞ্চলে সাধারণত ওক, পাইন, বিচ ও ফার গাছের ঘন বন রয়েছে।

জলবায়ু

[সম্পাদনা]

ক্যালাব্রিয়ার জলবায়ু সমুদ্র ও পর্বতের প্রভাব দ্বারা নির্ধারিত। উপকূলীয় অঞ্চলে সাধারণত ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু দেখা যায়। এখানে ঋতুভেদে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে। শীতকালে গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৪৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং গ্রীষ্মে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। পাহাড়ি এলাকায় স্বাভাবিক পার্বত্য জলবায়ু বিরাজ করে এবং শীতকালে প্রায়ই তুষারপাত হয়। তিরেনীয় সাগরের অনিয়মিত আচরণ অঞ্চলের পশ্চিম ঢালে ভারী বৃষ্টি নিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে আফ্রিকা থেকে আসা উষ্ণ বায়ু ক্যালাব্রিয়ার পূর্ব উপকূলকে শুষ্ক ও উষ্ণ করে তোলে। অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত পর্বতমালাও জলবায়ু ও তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে। পূর্ব উপকূল পশ্চিম উপকূলের তুলনায় বেশি উষ্ণ এবং এখানে তাপমাত্রার ওঠানামাও বেশি। ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে পশ্চিম উপকূলে পূর্ব উপকূলের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়। এই বৃষ্টি প্রধানত শীত ও শরৎকালে হয় এবং গ্রীষ্মে তুলনামূলক কম।[২৫]

নিচে ক্যালাব্রিয়ার জলবায়ুর দুইটি চরম রূপ দেখানো হয়েছে— উপকূলে উষ্ণ ভূমধ্যসাগরীয় উপধরন এবং মন্টে স্কুরোর উচ্চভূমির জলবায়ু।



ভূতত্ত্ব

[সম্পাদনা]
মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও ক্যালাব্রিয়ান আর্কের ভূ-টেকটনিক মানচিত্র। নীল অংশটি নিচে প্রদর্শিত ভূ-টেকটনিক ক্রস সেকশন নির্দেশ করে। ভ্যান ডাইক (১৯৯২) থেকে।[৩০]
ক্যালাব্রিয়ান আর্কের ভূ-টেকটনিক ক্রস সেকশন। বাম: উত্তর-পশ্চিম; ডান: দক্ষিণ-পূর্ব। ভ্যান ডাইক (১৯৯২) থেকে।[৩০]

ক্যালাব্রিয়াকে সাধারণত “ক্যালাব্রিয়ান আর্ক”-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা একটি খিলান-আকৃতির ভৌগোলিক অঞ্চল এবং দক্ষিণের বাসিলিকাতা অঞ্চল থেকে সিসিলি-এর উত্তর-পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। এতে পেলোরিতানো পর্বতমালা অন্তর্ভুক্ত (যদিও কিছু লেখক এই অঞ্চলকে উত্তরে নেপলস থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে পালের্মো পর্যন্ত বিস্তৃত বলে মনে করেন)। ক্যালাব্রিয়ান এলাকায় প্যালিওজোয়িক ও অপেক্ষাকৃত নবীন বয়সের ভিত্তিশিলা (স্ফটিক ও রূপান্তরিত শিলা) দেখা যায়, যা প্রধানত (উচ্চ) নিয়োজিন অবক্ষেপ দ্বারা আবৃত। গবেষণায় দেখা গেছে যে এই শিলাগুলো একাধিক ঠেলা-স্তরের স্তূপের উপরের অংশ গঠন করে, যা আপেনাইন পর্বতমালা এবং সিসিলীয় মাঘরেবিদেস অঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তার করেছে।[৩০]

মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় ব্যবস্থার নিয়োজিন বিকাশ দক্ষিণ-পূর্বমুখী ক্যালাব্রিয়ান আর্কের স্থানান্তরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা আফ্রিকান প্লেট ও তার অগ্রভাগের উপর অতিক্রম করেছে।[৩১][৩২]) ক্যালাব্রিয়ান আর্কের প্রধান টেকটনিক উপাদানগুলো হলো দক্ষিণ আপেনাইন ফোল্ড-অ্যান্ড-থ্রাস্ট বেল্ট, “ক্যালাব্রিয়া-পেলোরিতানি” বা ক্যালাব্রিয়ান ব্লক এবং সিসিলীয় মাঘরেবিদেস ফোল্ড-অ্যান্ড-থ্রাস্ট বেল্ট। অগ্রভাগ অঞ্চল গঠিত হয়েছে আপুলিয়া প্ল্যাটফর্ম (যা অ্যাড্রিয়াটিক প্লেটের অংশ) এবং রাগুসা বা ইব্লিয়ান প্ল্যাটফর্ম (যা আফ্রিকান প্লেটের সম্প্রসারণ) দ্বারা। এই প্ল্যাটফর্মগুলো আইওনীয় অববাহিকা দ্বারা পৃথক। তিরেনীয় মহাসাগরীয় অববাহিকাকে একটি পশ্চাৎ-খিলান অববাহিকা হিসেবে ধরা হয়। ফলে এই অধোগমন ব্যবস্থা দেখায় যে আফ্রিকান বৈশিষ্ট্যের দক্ষিণ প্লেটগুলো ইউরোপীয় বৈশিষ্ট্যের উত্তর প্লেটের নিচে প্রবেশ করছে।[৩০]

ক্যালাব্রিয়ার ভূতত্ত্ব এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অধ্যয়ন করা হয়েছে।[৩৩][৩৪][৩৫] প্রাথমিক গবেষণাগুলো প্রধানত এলাকার ভিত্তিশিলার বিবর্তনের উপর কেন্দ্রীভূত ছিল। নিয়োজিন অবক্ষেপ ধারাগুলোকে কেবল পর্বতগঠন-পরবর্তী ধারা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে সময়ের সাথে সাথে এই পরিভাষাগুলোর কালগত গুরুত্ব পোস্ট-ইওসিন থেকে পোস্ট-প্রারম্ভিক মায়োসিন এবং পরে পোস্ট-মধ্য প্লাইস্টোসিন পর্যায়ে স্থানান্তরিত হয়েছে।[৩০]

এই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এবং সাধারণত সর্বশেষ (মধ্য প্লাইস্টোসিন) বিকৃতি পর্যায়ের পর পুনরায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার ফল হিসেবে বিবেচিত হয়। কিছু গবেষক মনে করেন যে অধোগমন প্রক্রিয়া এখনও চলমান (যদিও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে)।[৩৬]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ক্যালাব্রিয়া ইতালিতে মানুষের বসবাসের সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শনের একটি স্থান। এখানে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৭,০০,০০০ সালে এক ধরনের হোমো ইরেক্টাস বাস করত। তারা উপকূলীয় এলাকায় তাদের উপস্থিতির চিহ্ন রেখে গেছে।[৩৭]

প্রাচীন প্রস্তর যুগে মানুষ বোস প্রিমিজেনিয়ুস নামে একটি চিত্র তৈরি করে, যা একটি পাহাড়ি পাথরের গায়ে খোদাই করা ষাঁড়ের ছবি। এর বয়স প্রায় ১২,০০০ বছর। এটি পাপাসিদেরো শহরের রোমিতো গুহাতে অবস্থিত।

নব্যপ্রস্তর যুগে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩,৫০০ সালে এখানে প্রথম গ্রাম গড়ে ওঠে।[৩৮]

প্রাচীন যুগ

[সম্পাদনা]

[...] ওএনোট্রিয়ুসের মৃত্যুর পর ওএনোট্রিয়া নতুন নাম পায়। তখন এর নাম হয় ইতালি ও মরগেতিয়া। পরে এর নাম হয় সিসিলি, খোনিয়া, ইয়াপিজিয়া ও সালেন্তিয়া। আরও পরে এক সময় এর নাম হয় ম্যাগনা গ্রেসিয়া।

জিরোলামো মারাফিওতি, ক্রোনিকে, এট অ্যান্টিকিটা ডি ক্যালাব্রিয়া[৩৯]

গ্রিকদের মতে উপনিবেশ স্থাপনের আগেই এই অঞ্চলে নানা জাতিগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। এদের মধ্যে ছিল আউসোনেস-ওএনোট্রিয়ান জনগোষ্ঠী, যারা পেশায় ছিল আঙ্গুরচাষী। এছাড়াও ইতালীয়, মরগেতেস, সিকেলস ও খোনে জনগোষ্ঠীও এখানে বসবাস করত।

কথিত আছে, পৌরাণিক শাসক ইতালুসের নাম থেকেই ক্যালাব্রিয়ার নাম হয় "ইতালি"।[৪০] ইতালুসকে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চদশ শতকের প্রথম ভাগের শাসক হিসেবে ধরা হয়।

সিরাকিউসের অ্যান্টিওখাসকে পাশ্চাত্যের প্রথম ইতিহাসবিদ বলা হয়। তিনি ইতালুসকে একজন ভাল ও জ্ঞানী রাজা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলতেন, ইতালুস কখনও বোঝানোর মাধ্যমে, আবার কখনও শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিবেশী জাতিগোষ্ঠীকে বশে আনতেন।[৪১]

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ক্যালাব্রিয়ার গ্রিক নগর-রাষ্ট্রসমূহ
ম্যাগনা গ্রেসিয়া আনু.খ্রিস্টপূর্ব ২৮০

প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালে ওএনোট্রি নামে একটি জনগোষ্ঠী এখানে বসতি স্থাপন করে। তারা আঙ্গুর চাষ করত।[৪২]

প্রাচীন সূত্রমতে তারা ছিল গ্রিক এবং তাদের রাজা ছিলেন ওএনোট্রুস। তবে অনেকের মতে তারা ছিল প্রাচীন ইতালিক জনগোষ্ঠী এবং তারা ইতালিক ভাষায় কথা বলত।[৪৩][৪৪][৪৫]

খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম ও সপ্তম শতকে গ্রিক বসতিস্থাপনকারীরা দক্ষিণ ইতালির উপকূলে অনেক উপনিবেশ স্থাপন করে। ক্যালাব্রিয়ায় তারা খোনে (পাল্লাগোরিও), কোসেন্তিয়া (কোসেনজা), ক্লাম্পেতিয়া (আমান্তেয়া), স্কিল্লায়ুম (স্কিল্লা), সিবারিস (সিবারি), হিপ্পোনিয়ন (ভিবো ভালেন্তিয়া), এপিজেফিরিয়ান লোক্রিস (লোক্রি), কাউলন (মোনাস্তেরাচে), ক্রিমিসা (চিরো মারিনা), ক্রোটোন (ক্রোটোনে), লাউস, মেদমা (রোসার্নো), মেতাউরোস (জোইয়া তাউরো), পেতেলিয়া (স্ত্রোঙ্গোলি), রেগিয়ন (রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়া), স্কিল্লেতিয়ুম (বোর্জিয়া), তেমেসা (কাম্পোরা সান জোভান্নি), তেরিনা (নোচেরা তেরিনেসে), পানদোসিয়া (আক্রি) এবং থুরিই নগর প্রতিষ্ঠা করে।

খ্রিস্টপূর্ব ৭৪৪ সালে খালকিদীয় বসতিস্থাপনকারীরা ক্যালাব্রিয়ার উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে রেগিয়ন নগর প্রতিষ্ঠা করে, (যা বর্তমানের রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়া)। অল্প সময়ের মধ্যেই খালকিদীয়রা প্রণালীর অপর প্রান্তে জাঙ্কলে নগর গড়ে তোলে (যা বর্তমানের মেসিনা নগর)। এর মাধ্যমে তারা ওই সমুদ্রপথের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করে। পরে রেগিয়ন ও জাঙ্কলে থেকে আসা খালকিদীয়রা মেতাউরোস (বর্তমান জোইয়া তাউরো) প্রতিষ্ঠা করে। একই নামের নদী (বর্তমান পেত্রাচে) এই নগরকে ইতালিক তাউরি নগর থেকে আলাদা করত।[৪৬][৪৭]

খ্রিস্টপূর্ব ৭১০ সালে আইওনীয় উপনিবেশকারীরা ক্রাতি নদীর মোহনায় সিবারিস নগর প্রতিষ্ঠা করে। এটি একই নামের উর্বর সমভূমিতে অবস্থিত ছিল।পরে এই উপনিবেশ থেকেই পাইস্তুম (বর্তমান লুকানিয়া অঞ্চল), লাও (একই নামের নদীর মোহনায়) এবং স্কিদ্রোস (বর্তমান চেত্রারো ও বেলভেদেরে মারিত্তিমোর মাঝামাঝি) প্রতিষ্ঠিত হয়। আইওনীয় উপনিবেশগুলোর মধ্যে ছিল ক্লাম্পেতিয়া (বর্তমান আমান্তেয়া ও সান লুচিদো অঞ্চলের মাঝামাঝি), তেমেসা (আমান্তেয়া ও নোচেরা তেরিনেসের মধ্যে), তেরিনা (বর্তমান সান্ত'ইউফেমিয়া সমভূমিতে), ক্রিমিসা (চিরো মারিনা) এবং পেতেলিয়া (স্ত্রোঙ্গোলি)।[৪৬][৪৭]

খ্রিস্টপূর্ব ৭৪৩ সালে আখেয়ান বসতিস্থাপনকারীরা ক্রোটোন প্রতিষ্ঠা করে (বর্তমান ক্রোটোনে)। শহরটি আজকের কাপো কলোনা এলাকায় ছিল। পরে ক্রোটোন ও সিবারিস একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই ক্রোটোনবাসীরা কাউলোনিয়া (বর্তমান মোনাস্তেরাচে মারিনার কাছে) এবং স্কিল্লেজিও (স্কুইল্লাচে) উপনিবেশ গড়ে তোলে। প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ সালে তারা ব্রিস্টাচিয়া প্রতিষ্ঠা করে। এটি বর্তমান উমব্রিয়াতিকো।[৪৬][৪৭]

প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৬৮০ সালে গ্রিক লোক্রিস অঞ্চল থেকে আসা উপনিবেশকারীরা এপিজেফিরিয়ান লোক্রিস প্রতিষ্ঠা করে, যা বর্তমান লোক্রি শহরের কাছে অবস্থিত। লোক্রিয়ানদের উপনিবেশ ছিল হিপ্পোনিয়ন (ভিবো ভালেন্তিয়া) এবং মেদমা (রোসার্নো)।[৪৬][৪৭]

ব্রুত্তিয়ানরা প্রতিবেশী লুকানিয়ানদের মতোই খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করে। তারা পোল্লিনো পর্বতের ওপারের আত্মীয়দের থেকে আলাদা হয়ে যায়। পরে তারা একটি সংঘবদ্ধ রাষ্ট্র গঠন করে। তাদের রাজধানী ছিল কনসেন্তিয়া, যা বর্তমান কোসেনজা। এটি ছিল প্রধান নগরগুলোর একটি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নগর ছিল পানদোসিয়া। তবে এই নগরের সঠিক অবস্থান এখন আর নিশ্চিত নয়। কিছু ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী এটি কাস্ত্রোলিবেরো, মারানো প্রিনচিপাতো ও মারানো মার্কেসাতো অঞ্চলের মধ্যে ছিল। আবার সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার অনুযায়ী এটি বর্তমান আক্রি শহরের কাছে ছিল। এছাড়া আউফুগুম (মোন্তালতো উফুগো), আর্জেনতানুম (সান মারকো আর্জেনতানো), বেরগাই, বেসিদিয়ে (বিসিনিয়ানো) এবং লিম্ফায়েউমের (লুজ্জি) নামও উল্লেখ করা হয়।[৪৬][৪৭]

খ্রিস্টপূর্ব ৫৬০ থেকে ৫৫০ সালের মধ্যে ক্রোটোন ও এপিজেফিরিয়ান লোক্রিসের মধ্যে দশ বছরব্যাপী যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধের শেষ হয় সাগ্রা নদীর যুদ্ধের মাধ্যমে। এই যুদ্ধে রেজ্জিও ও লোক্রির জোট বিজয়ী হয়।[৪৮][৪৯]

খ্রিস্টপূর্ব ৫১০ সালে ক্রোটোনবাসীরা পাশের সিবারিস আক্রমণ করে। ত্রিওন্তো নদীর তীরে দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একদিকে ছিল ১,০০,০০০ ক্রোটোনবাসী। অন্যদিকে ছিল ৩,০০,০০০ সিবারিসবাসী। ডোরীয়রা যুদ্ধে জয়ী হয়। তারা ৭০ দিন ধরে সিবারিস লুট করে। পরে ক্রাতি নদীর পানি শহরের ধ্বংসাবশেষের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।[৪৮][৪৯]

খ্রিস্টপূর্ব ৪৪৪ সালে এথেন্স ও পেলোপনেসীয় উপনিবেশকারীরা ধ্বংসপ্রাপ্ত সিবারিসের স্থানে তুরি নগর প্রতিষ্ঠা করে। এই উদ্যোগ নেওয়া হয় পেরিক্লিসের পরিকল্পনায়। এটি ছিল পেলোপনেশীয় যুদ্ধের সময়কার ত্রিশ বছরের শান্তিচুক্তি সংক্রান্ত সমঝোতার অংশ।[৪৮][৪৯]

খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৮ সালে লোক্রি রেজ্জিওর সম্প্রসারণ ঠেকাতে সাহায্য চায় সিরাকিউসের ডায়োনিসিয়াস প্রথমের কাছে। তখন রেজ্জিও আর লোক্রির মিত্র ছিল না। ক্রোটোনও শক্তি বাড়াচ্ছিল। সিরাকিউসের বাহিনী ক্যালাব্রিয়া উপদ্বীপে হস্তক্ষেপ করে। তারা সাগ্রা নদীর সরু অংশে (বর্তমান আল্লারো অঞ্চলে) ক্রোটোনবাসীদের পরাজিত করে। এরপর তারা দশ বছর ক্রোটোন দখল করে রাখে। এতে ক্রোটোনের শক্তির অবসান ঘটে। রেজ্জিও অঞ্চলও একই পরিণতির মুখে পড়ে। ডায়োনিসিয়াসের বহু আক্রমণ তারা ঠেকালেও, খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৬ সালে এগারো মাস অবরোধের পর শহরটি দখল হয়। এরপর কয়েক বছর তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।[৪৮][৪৯]

রেগিয়ন ছিল খ্যাতনামা নয়জন গীতিকবির একজন ইবাইকাসের জন্মস্থান। মেতাউরোস ছিল আরেক গীতিকবি স্তেসিখোরাসের জন্মস্থান। তিনি পাশ্চাত্যের প্রাচীন গীতিকবিদের অন্যতম ছিলেন। ক্রোটোন প্রাচীন অলিম্পিক ও অন্যান্য সর্বগ্রিক ক্রীড়ায় বহু বিজয়ী উপহার দেয়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন ক্রোটোনের মিলন, যিনি টানা ছয়টি অলিম্পিকে ছয়বার কুস্তিতে জয়ী হন। এছাড়া পাইথিয়ান ক্রীড়ায় সাতবার, নেমিয়ান ক্রীড়ায় নয়বার এবং ইস্থমিয়ান ক্রীড়ায় দশবার জয় পান। আরেকজন ছিলেন ক্রোটোনের অ্যাস্টিলোস, যিনি টানা তিনটি অলিম্পিকে ছয়টি দৌড় প্রতিযোগিতায় জয়ী হন।[৫০]

ক্রোটোনের আলকমায়োন ছিলেন একজন দার্শনিক ও চিকিৎসাবিদ। পিথাগোরাস ছিলেন গণিতজ্ঞ ও দার্শনিক। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৫৩০ সালে ক্রোটোনে এসে বসবাস শুরু করেন। তাদের কারণে শহরটি দর্শন, বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিদ্যার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। সিবারিসের গ্রিকরা "মেধাস্বত্ব" ধারণার সূচনা করে।[৫১]

সিবারিসবাসীরা অন্তত ২০টি উপনিবেশ গড়ে তোলে। এর মধ্যে ছিল পোসেইদোনিয়া (লাতিন: পাইস্তুম, যা তিররেনীয় সাগর তীরবর্তী লুকানিয়ায় অবস্থিত), লাউস (লুকানিয়ার সীমানায় অবস্থিত) এবং স্কিদ্রোস (লুকানিয়ার উপকূলে তারান্তো উপসাগরে অবস্থিত)।[৫২]

লোক্রির বাসিন্দা জালেউকুস পাশ্চাত্য গ্রিক বিশ্বের প্রথম আইন প্রণয়ন করেন। এই আইনকে বলা হয় "লোক্রিয়ান বিধি"।[৫৩][৫৪] এখানেই জন্মেছিলেন প্রাচীন কবি ও উপশ্লোক রচয়িতা নোসিস।

ক্যালাব্রিয়ার গ্রিক নগরীগুলো লুকানিয়াদের চাপে পড়ে। লুকানিয়ারা ক্যালাব্রিয়ার উত্তর অংশ দখল করে। এরপর তারা আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয় এবং ভেতরের একটি অংশ দখল করে নেয়। ধারণা করা হয় ৩৯০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে লাউসের কাছে থুরিয়ানদের পরাজিত করার পর তারা এই কাজটি করেছিল।

কয়েক দশক পরে ব্রুট্টিরা সুযোগ নেয়। গ্রিক নগরীগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই সুযোগে তারা হিপ্পোনিয়াম, তেরিনা এবং থুরি দখল করে।

ব্রুট্টিরা লুকানিয়াদের সহায়তা করে। তারা এপিরাসের আলেকজান্ডারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে (৩৩৪–৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)। আলেকজান্ডার এসেছিলেন তারেন্তুমকে সাহায্য করতে। তারেন্তুম ছিল আপুলিয়া অঞ্চলে। লুকানিয়ারা ওই অঞ্চলকেও চাপে রেখেছিল।

এরপর সিরাকিউসের আগাথোক্লেস তার নৌবহর নিয়ে ক্যালাব্রিয়ার উপকূলে আক্রমণ করেন। তিনি হিপ্পোনিয়াম দখল করেন। ব্রুট্টিদের কঠিন শান্তি চুক্তি মানতে বাধ্য করেন। তবে কিছুদিন পর তারা আবার হিপ্পোনিয়াম পুনর্দখল করে।

২৮৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আগাথোক্লেসের মৃত্যুর পর লুকানিয়া ও ব্রুট্টিরা থুরির ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। তারা এলাকা ধ্বংস করে। থুরি ২৮৫ ও ২৮২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমে দূত পাঠায়। তারা সাহায্য চায়। দ্বিতীয়বার রোম সৈন্য পাঠায়। তারা নগরীতে প্রহরা বসায়। এই ঘটনাই পরে পিরহাসের যুদ্ধের সূচনা করে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে "ইতালি" নামটি প্রচলিত হয়ে ওঠে। প্রথমে এটি মেজ্জোজর্নো অঞ্চলের নগর-রাষ্ট্রের বাসিন্দাদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাদের প্রথমে ইতালিওতেস বলা হতো। পরে ইতালিক বলা হয়। এরপর রোমানরা এলে নামটির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়। পরে এর মধ্যে সিসালপাইন গলও অন্তর্ভুক্ত হয়।

রোমানীকরণ

[সম্পাদনা]
খননকৃত মোজাইক মেঝে, স্বস্তিকা চিহ্ন, সিবারিস

খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর শুরুতে দক্ষিণ ইতালির নগরীগুলো স্বাধীন ছিল। তারা আগে সামনাইটদের মিত্র ছিল।[৫৫] তবে রোমের ক্রমাগত বিস্তারের ফলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে।[৫৬][৫৭] মধ্য ও উত্তর ইতালিতে বিস্তার তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তারা নতুন চাষযোগ্য জমি চাইত।[৫৮]

পিরহাসের যুদ্ধ

[সম্পাদনা]

২৮০ থেকে ২৭৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে তারেন্তুমের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধটি হয় রোম ও এপিরাসের রাজা তারান্তোর মধ্যে। এ সময় তারান্তো পিরহাসের সাহায্য চেয়েছিলেন। ২৮০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি ব্রুট্টি ও লুকানিয়াদের নিয়ে রোমানদের পরাজিত করেন। এই বিজয় ঘটে হেরাক্লিয়ার যুদ্ধে, যেখানে তিনি হাতি ব্যবহার করেন।

কিন্তু ২৭৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মালুয়েন্তুমে (বর্তমান বেনেভেন্তো) রোমানরা পিরহাসকে পরাজিত করে। এরপর তিনি সিসিলিতে চলে যান। সেখানে সিরাকিউস কার্থাজিনীয়দের বিরুদ্ধে সাহায্য চাচ্ছিলেন।

ক্যালাব্রিয়া অতিক্রম করার সময় পিরহাসের সেনাবাহিনী লোক্রিতে পার্সেফোনের মন্দির লুট করে বলে জানা যায়। বলা হয়, এতে দেবতাদের ক্রোধ নেমে আসে। এদিকে রোম মাগনা গ্রেসিয়ার কিছু শেষ নগর-রাষ্ট্রের সঙ্গে জোট গড়ে। এর মধ্যে রেজিওও ছিল। এসব কারণে পিরহাস নিজ দেশে ফিরে যান।[৫৯][৬০]

অবশেষে পিরহাস পরাজিত হন। রোমের প্রতিশোধ এড়াতে ব্রুট্টিরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে। তারা সিলা মালভূমির অর্ধেক অংশ ছেড়ে দেয়। এটি ছিল একটি পাহাড়ি অঞ্চল। সেখানে উৎকৃষ্ট পিচ ও কাঠ পাওয়া যেত।[৬১] রোম নগরীগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে দক্ষিণ ইতালিকে নিজের অধীনে আনে।[৬২]

পিউনিক যুদ্ধসমূহ

[সম্পাদনা]

২৬৪ থেকে ২৫১ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে প্রথম পিউনিক যুদ্ধ হয়। যুদ্ধটি সিসিলিতে সংঘটিত হয়। এতে রোম ও কার্থেজ মুখোমুখি হয়। যুদ্ধের শেষে সিসিলিয়া রোমান প্রদেশে পরিণত হয়।

কার্থেজ স্পেনের সাগুনতুম অবরোধ করলে নতুন সংঘাত শুরু হয়। ২১৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দ্বিতীয় পিউনিক যুদ্ধ শুরু হয়। কার্থেজের সেনাপতি হ্যানিবল সাগুনতুম ও মার্সেই দখল করেন। এরপর তিনি আল্পস পর্বতমালা অতিক্রম করেন। তিনি রোমানদের পরাজিত করেন ট্রেবিয়া নদী, তিচিনো নদী ও ট্রাসিমেনো হ্রদের যুদ্ধে। ২১৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আপুলিয়ার কান্নায়ের যুদ্ধেও রোমানরা পরাজিত হয়।[৬৩][৬৪]

কান্নায়ের বিজয়ের পর হ্যানিবল প্রথম বড় রাজনৈতিক সাফল্য পান। তিনি অল্প সময়ের জন্য রোমান অঞ্চলে আক্রমণ করেন। এরপর তিনি বিশ্রামের জন্য কাপুয়ায় চলে যান। হ্যানিবল তার ভাই মাগোকে কিছু সেনা নিয়ে ব্রুট্টিয়ামে পাঠান। উদ্দেশ্য ছিল যেসব নগরী রোম ত্যাগ করেছিল, তাদের আত্মসমর্পণ গ্রহণ করা। আর যারা মানেনি, তাদের বাধ্য করা।

পেতেলিয়ার জনগণ রোমের প্রতি অনুগত ছিল। তাই তারা কার্থেজীয়দের আক্রমণের শিকার হয়। ব্রুট্টিরাও হ্যানিবলের পক্ষে যোগ দেয়। তারা পেতেলিয়াকে আক্রমণ করে। ১১ মাস ধরে অবরোধ চলে। রোম সাহায্য করতে পারেনি। শেষে সম্মত হয়েই তারা আত্মসমর্পণ করে। শহরটি দখল করা হয়।

এরপর হ্যানিবল কোসেঞ্জায় যান। সেখানে প্রতিরোধ তুলনামূলক কম ছিল। শহরটি কার্থেজীয়দের হাতে পড়ে। একই সময়ে ব্রুট্টিদের একটি বাহিনী আরেকটি গ্রিক নগরী ক্রোটন অবরোধ করে। দুর্গ ছাড়া পুরো শহর দখল হয়। দুর্গে দুই হাজারের কম মানুষ ছিল। লোক্রির জনগণও ব্রুট্টি ও কার্থেজীয়দের পক্ষে যায়। কেবল রেজিও শেষ পর্যন্ত রোমের প্রতি অনুগত থাকে।[৬৩][৬৪]

হ্যানিবল পিউনিক যুদ্ধের ইতিহাস কার্থেজীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লিখিয়েছিলেন। তিনি নির্দেশ দেন, এটি ক্রোটনের জুনো লাসিনিয়ার মন্দিরে সংরক্ষণ করতে। যাতে রোমানরা ইতিহাস বিকৃত করতে না পারে। প্লুটার্কও তার লেখায় এই উৎস ব্যবহার করেন।

কিন্তু ২০৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দের গ্রীষ্মে রোমানরা ক্যালাব্রিয়ায় পৌঁছে। তারা ব্রুট্টিদের দাসে পরিণত করে। বিদ্রোহের শাস্তি হিসেবে এ কাজ করা হয়। বিশাল জমিদারি বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেগুলো রোমান অভিজাতদের দেওয়া হয়।[৬৩][৬৪]

দ্বিতীয় পিউনিক যুদ্ধে হ্যানিবলের মিত্ররা (নীল রঙে)

দ্বিতীয় পিউনিক যুদ্ধ (২১৮–২০১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) চলাকালে ব্রুট্টিরা হ্যানিবলের সঙ্গে জোট বাঁধে। হ্যানিবল তার সেনাপতি হান্নোকে ক্যালাব্রিয়ায় পাঠান। হান্নো ব্রুট্টি সৈন্য নিয়ে কাপুয়ার দিকে অগ্রসর হন। উদ্দেশ্য ছিল তাদের হ্যানিবলের প্রধান শিবিরে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু দুবারই তিনি পরাজিত হন।

ইতালিতে অভিযান স্থবির হয়ে গেলে হ্যানিবল ক্যালাব্রিয়ায় আশ্রয় নেন। সেখানে খাড়া পাহাড় ছিল, যা রোমান সৈন্যদের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিত। তিনি ক্রোটনে প্রধান শিবির স্থাপন করেন এবং চার বছর সেখানে থাকেন। পরে তাকে কার্থেজে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। রোমানরা ক্রোটনের কাছে তার সঙ্গে একটি যুদ্ধ করে, তবে তার বিস্তারিত জানা যায় না। বহু ক্যালাব্রিয়ান নগরী রোমের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ক্যালাব্রিয়া তখন এক সামরিক শাসকের অধীনে ছিল।[৬৫]

রোমান যুগ

[সম্পাদনা]
রোমান যুগে ক্যালাব্রিয়া

যুদ্ধের প্রায় দশ বছর পর রোমানরা ক্যালাব্রিয়ায় উপনিবেশ স্থাপন করে। ১৯৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তেম্পসা ও ক্রোটনে (ল্যাটিনে ক্রোটো) উপনিবেশ গড়া হয়। ১৯৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে থুরির ভূখণ্ডে কোপিয়াই (ল্যাটিনে থুরিয়ুম) স্থাপিত হয়। ১৯২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হিপ্পোনিয়নের এলাকায় ভিবো ভ্যালেন্তিয়া গড়ে ওঠে।[৬৬]

খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী থেকে "ক্যালাব্রিয়া" নামটি আধুনিক আপুলিয়া অঞ্চলের সালেন্তো উপদ্বীপের আদ্রিয়াটিক উপকূলকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। প্রথম শতাব্দীর শেষদিকে এই নাম পুরো সালেন্তো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। পরে রোমান সম্রাট অগাস্টাস ইতালিকে বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করেন। তখন আধুনিক ক্যালাব্রিয়ার নাম হয় রেজিও তৃতীয় লুকানিয়া ও ব্রুট্টি।[৬৭]

১৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে মাগনা গ্রেসিয়া জুড়ে বাক্কানালিয়া আচার দমন শুরু হয়। এটি ছিল দক্ষিণ ইতালিকে রোমান সংস্কৃতির অধীনে আনার পরিকল্পনার অংশ।[৬৮][৬৯]

১৩৬ থেকে ১৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে প্রথম দাস যুদ্ধ সিসিলিতে সংঘটিত হয়। সিরীয় দাস ইউনুস প্রায় দুই লক্ষ দাসকে সংগঠিত করেন। তিনি নিজেকে রাজা ঘোষণা করেন। চার বছর ধরে তিনি এন্না ও তাওরমিনার দুর্গ থেকে রোমান সৈন্যদের প্রতিরোধ করেন। শেষে রোম বিদ্রোহ দমন করে। প্রায় ২০ হাজার দাসকে দ্বীপজুড়ে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। এই দাস বিদ্রোহ ছিল অসন্তোষের প্রকাশ। দাসদের কোনো অধিকার ছিল না। অথচ রোমান অর্থনীতি তাদের ওপর নির্ভরশীল ছিল।[৬৮][৬৯]

১৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে কনসাল পোপিলিয়ুস লেনাতে কাপুয়া থেকে রেজিও পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেন। এটি ভিয়া পোপিলিয়া নামে পরিচিত। এই সড়ক বর্তমান মহাসড়ক এ২ ও তির্রেনা সড়কের পথ অনুসরণ করে রেজিওতে পৌঁছায়। এই সময়ে ক্যালাব্রিয়ার প্রধান নগরীগুলো ছিল কোসেঞ্জা, ক্রোটনে, তেমেসা, তুরি, ভিবো ভ্যালেন্তিয়া তাউরিয়ানুম এবং রেজিও।[৬৮][৬৯]

৯১ থেকে ৮৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে সামাজিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এর শেষে রোমান সিনেট ইতালিক জনগণকে রোমান নাগরিকত্ব দেয়।[৬৮][৬৯]

৭৩ থেকে ৭১ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে তৃতীয় দাস যুদ্ধ হয়। থ্রাকীয় গ্ল্যাডিয়েটর স্পার্টাকাস বহু হতাশ দাসকে একত্র করেন। তাদের মধ্যে অনেক ব্রুট্টিও ছিল। তিনি কাপুয়া থেকে উত্তরের দিকে অগ্রসর হন। তিনি বহু রোমান সৈন্যদলকে পরাজিত করেন। কিন্তু শেষে মার্কুস লিসিনিয়ুস ক্রাসুস সেলে নদীর যুদ্ধে তাকে পরাজিত করেন। প্রায় ৬ হাজার দাসকে অ্যাপিয়ান পথে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়।[৬৮][৬৯]

খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ সালে মার্কুস তুলিয়ুস সিসেরো ক্যালাব্রিয়া থেকে একটি চিঠি লেখেন। তখন তিনি গ্রিসের পথে যাত্রা করছিলেন। মার্চের আইডসে সিজারের হত্যার পর পরিস্থিতি খুব অস্থির ছিল। সেই চিঠিতে তিনি মাগনা গ্রেসিয়ার দুরবস্থার কথা উল্লেখ করেন।[৬৮][৬৯]

সাম্রাজ্যিক যুগ

[সম্পাদনা]
রেজিও তৃতীয় লুকানিয়া ও ব্রুট্টির মানচিত্র এবং প্রধান নগরীর নাম

ইতালির প্রশাসনিক বিন্যাস নতুনভাবে সাজানোর সময় অক্টাভিয়ান অগাস্টাস ক্যালাব্রিয়া ও বাসিলিকাতা একত্র করেন। তিনি এগুলোকে রেজিও তৃতীয় লুকানিয়া এৎ ব্রুট্টি অঞ্চলে যুক্ত করেন। এই অঞ্চলের রাজধানী ছিল রেজিও। এখানেই শাসকের আসন ছিল। রেজিও ছিল অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নগরী।[৭০][৭১]

আলারিক প্রথমের মৃত্যু। তাকে কোসেঞ্জার বুসেন্তো নদীর তলে সমাহিত করা হয় বলে প্রচলিত আছে

অগাস্টাস তার কন্যা জুলিয়াকে রেজিওতে নির্বাসনে পাঠান। তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ ছিল।[৭০][৭১]

৬১ খ্রিস্টাব্দে পল প্রেরিত রোমে যাওয়ার পথে একদিনের জন্য রেজিওতে থামেন। খ্রিস্টধর্ম ধীরে ধীরে ক্যালাব্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বন্দরনগরী ও ভিয়া পোপিলিয়া সড়কের আশপাশে এর বিস্তার ঘটে। এগুলো ছিল রোমান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।[৭০][৭১]

সম্রাট ত্রাজান তার শাসনকালে ভিয়া ত্রায়ানা সড়ক নির্মাণ করেন। এই পথটি উপকূলের মাঝামাঝি দিয়ে অগ্রসর হয়। বর্তমান তির্রেনা সড়কের পথের সঙ্গে এর মিল রয়েছে।[৭০][৭১]

৩০৫ খ্রিস্টাব্দে ব্রুট্টি বংশোদ্ভূত ক্যালাব্রিয়ান অভিজাত বুল্লা বিদ্রোহ করেন। তার সঙ্গে ছিল ৬০০ অশ্বারোহী ও ৫,০০০ পদাতিক সৈন্য। তাকে পরাজিত করা হয়। কিন্তু রোম কখনোই সিলা অরণ্যের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি।[৭০][৭১]

৩১৩ খ্রিস্টাব্দের ১ অক্টোবর কনস্টান্টাইন প্রথম মিলানের ফরমান জারি করেন। এতে খ্রিস্টধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর ধর্মটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ৩৯১ সালে সম্রাট থিওদোসিয়ুস প্রথম একে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করেন।

৩৬৩ খ্রিস্টাব্দে বাসিল দ্য গ্রেট ক্যালাব্রিয়ায় আগমন করেন। তখন তিনি কায়সারিয়ায় অবস্থান করছিলেন। তার শিষ্যরা নবম শতাব্দী থেকে বিভিন্ন মঠ ও সন্ন্যাসকেন্দ্র স্থাপন করেন। এর মাধ্যমে ক্যালাব্রিয়ান-গ্রিক সন্ন্যাসপ্রথার ভিত্তি গড়ে ওঠে।[৭০][৭১]

৩৬৫ খ্রিস্টাব্দে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। এর সঙ্গে জলোচ্ছ্বাসও ঘটে। এতে দক্ষিণ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল কেঁপে ওঠে। ক্যালাব্রিয়ার উপকূলীয় নগরীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[৭০][৭১]

পরে রোমান সাম্রাজ্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়। পশ্চিম অংশ শাসন করতেন হোনোরিয়ুস। তার রাজধানী ছিল রাভেন্না। ৪১০ সালে আলারিকের ভিসিগথ বাহিনী রোম আক্রমণ করে। তারা রোম লুট করে দক্ষিণে অগ্রসর হয়। প্রচলিত আছে, আলারিক কোসেঞ্জায় মারা যান। তাকে ক্রাতি ও বুসেন্তো নদীর মিলনস্থলে, দুই নদীর তলদেশে সমাহিত করা হয়।[৭০][৭১]

মধ্যযুগ

[সম্পাদনা]

৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর ইতালি জার্মানিক নেতা ওদোয়াকারের অধীনে যায়। পরে ৪৮৯ সালে এটি অস্ট্রোগথিক রাজ্যের অংশ হয়। অস্ট্রোগথ শাসকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে বাইজেন্টাইন সম্রাটদের প্রতিনিধি হিসেবে শাসন করতেন। প্রশাসনের পদগুলোতে রোমানরাই থাকতেন। প্রধান আইন জারি করতেন বাইজেন্টাইন সম্রাট।

ষষ্ঠ শতাব্দীতে অস্ট্রোগথ শাসনামলেও রোমানরা সরকার ও সংস্কৃতির কেন্দ্রে থাকতে পেরেছিল। রোমান কাসিওদোরুস ছিলেন সেই সময়ের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তি। তিনি স্কিল্লেটিয়ুমে জন্ম নেন, যা বর্তমান কাতানজারোর কাছে। তিনি প্রশাসক, রাজনীতিক, পণ্ডিত ও ইতিহাসবিদ ছিলেন। তিনি পূর্ব ও পশ্চিম, গ্রিক ও ল্যাটিন, রোমান ও গথদের মধ্যে বিভেদ দূর করতে চেষ্টা করেন। তিনি সরকারি খ্রিস্টধর্ম ও এরিয়ান খ্রিস্টধর্মের মধ্যেও সমন্বয় চান। এরিয়ান খ্রিস্টধর্ম ছিল অস্ট্রোগথদের ধর্মীয় মত, যা আগে নিষিদ্ধ ছিল।

তিনি স্কিল্লেটিয়ুমে তার ভিভারিয়ুম (মঠ) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ল্যাটিন ভাষায় বাইবেলের তিনটি সংস্করণ সংকলনের তত্ত্বাবধান করেন। তিনি প্রথম এক খণ্ডে সম্পূর্ণ ল্যাটিন বাইবেল সংকলন করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল কোডেক্স গ্রান্দিওর। এটি আধুনিক পশ্চিমা বাইবেলের পূর্বসূরি হিসেবে বিবেচিত।[৭২][৭৩][৭৪]

কাসিওদোরুস অস্ট্রোগথ শাসনের কেন্দ্রীয় প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। থিওদোরিক তাকে ৫০৭ সালে কোয়েস্টর সাক্রি পালাতিই পদে নিয়োগ দেন। তিনি লুকানিয়া ও ব্রুট্টিয়ুমের শাসক হন। ৫১৪ সালে কনসাল হন। ৫২৩ সালে মাগিস্টার অফিসিওরুম পদে অধিষ্ঠিত হন। পরে তিনি প্রধান মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।[৭৫] তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে ছিল গথদের ইতিহাস, প্রশাসনিক নথি এবং ধর্মীয় ও প্রাচীন শিক্ষার পরিচয়মূলক গ্রন্থ। এগুলো মধ্যযুগে খুব প্রভাবশালী ছিল।

বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান প্রথম ৫৩৫ থেকে ৫৫৬ সালের মধ্যে ইতালি পুনর্দখল করেন। কিন্তু ৫৬৮ থেকে ৫৯০ সালের মধ্যে লমবার্ডরা ইতালির বড় অংশ দখল করে। দক্ষিণ ইতালি প্রায় ৫০০ বছর বাইজেন্টাইনদের হাতে থাকে, ১০৫৯–১০৭১ সাল পর্যন্ত। এই সময় গ্রিক ভাষা সরকারি ও কথ্য ভাষা ছিল।

ক্যালাব্রিয়ার স্টিলো, রোসানো ও সান দেমেত্রিও করোনে ধর্মীয় মর্যাদা অর্জন করে। সপ্তম শতাব্দী থেকে আমেনদোলেয়া ও স্তিলারো উপত্যকায় বহু মঠ নির্মিত হয়। স্টিলো নির্জনবাসী ও বাসিলিয়ান সন্ন্যাসীদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। এখনো অঞ্চলে বহু বাইজেন্টাইন গির্জা দেখা যায়।

দশম শতাব্দীর রোসানোর গির্জা এবং সান দেমেত্রিও করোনের সানত আদ্রিয়ানো গির্জা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সানত আদ্রিয়ানো ৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে নরম্যানরা আগের বাইজেন্টাইন ভিত্তির ওপর এটি পুনর্নির্মাণ করে। এই দুটি গির্জা ইতালির সেরা সংরক্ষিত বাইজেন্টাইন স্থাপনার মধ্যে গণ্য হয়। এগুলো নির্মাণ করেন সেন্ট নীলুস দ্য ইয়াঙ্গার। তিনি নিচের টুফা গুহায় বসবাসকারী সন্ন্যাসীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলেন। বর্তমান "ক্যালাব্রিয়া" নামটি ক্যালাব্রিয়া ডাচি থেকে এসেছে।

প্রায় ৮০০ সালের দিকে সারাসেনরা ক্যালাব্রিয়ার উপকূলে আক্রমণ শুরু করে। তারা বাইজেন্টাইনদের কাছ থেকে অঞ্চলটি দখল করতে চেয়েছিল। এই আরব গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই সিসিলিতে সফল হয়েছিল। তারা জানত, ক্যালাব্রিয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

নিরাপত্তার জন্য ক্যালাব্রিয়ার মানুষ পাহাড়ে আশ্রয় নেয়। আরবরা পুরো ক্যালাব্রিয়া কখনোই পুরোপুরি দখল করতে পারেনি। তবে তারা কিছু গ্রাম নিয়ন্ত্রণ করেছিল। একই সঙ্গে পূর্ব বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ায়।[৭৬]

৯১৮ সালে সারাসেনরা রেজ্জো দখল করে। তারা শহরটির নাম পরিবর্তন করে রিভা রাখে। অনেক বাসিন্দাকে মুক্তিপণের জন্য আটক রাখা হয় এবং অনেককে দাস হিসেবে বন্দি করা হয়।[৭৭]

এই আরব আক্রমণের সময়ই আজকের ক্যালাব্রিয়ান রান্নার অনেক উপাদান জনপ্রিয় হয়, যেমন লেবুজাতীয় ফলবেগুন। লবঙ্গ ও জায়ফলের মতো বিদেশি মসলা তখন পরিচিত হয়।[৭৮]

বাইজেন্টাইন শাসনামলে নবম শতাব্দীর শেষভাগ ও দশম শতাব্দীর শুরুর দিকে ক্যালাব্রিয়া ছিল ইউরোপে রেশম উৎপাদন শুরু করা প্রথম অঞ্চলগুলোর একটি। আন্দ্রে গিয়্যুর মতে, কাঁচা রেশম উৎপাদনের জন্য তুঁত গাছ নবম শতাব্দীর শেষে বাইজেন্টাইনরা দক্ষিণ ইতালিতে নিয়ে আসে।[৭৯] প্রায় ১০৫০ সালের দিকে ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলে ২৪,০০০ তুঁত গাছ চাষ করা হতো। এ সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।[৮০]

দশম শতাব্দীর শুরুতে (প্রায় ৯০৩ সালে) কাতানজারো শহর মুসলিম সারাসেনদের দখলে যায়। তারা এখানে একটি আমিরাত গঠন করে। শহরটির আরবি নাম রাখা হয় কাতানসার (قطنصار)। অষ্টম শতাব্দীর একটি কবরস্থানে আরবি লিপিযুক্ত নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা আরব উপস্থিতির প্রমাণ দেয়। প্রায় ১০৫০ সালের দিকে কাতানজারো সারাসেন শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। পরে স্বল্প সময়ের জন্য আবার বাইজেন্টাইন শাসনে ফিরে যায়।[৮১]

আক্রিতে অবস্থিত নরম্যান টাওয়ার

১০৬০–এর দশকে নরম্যানরা দক্ষিণ ইতালিতে প্রবেশ করে। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন রবার্ট গিস্কার্দের ভাই রজার প্রথম। তারা এই সীমান্ত অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান গড়ে তোলে। তারা পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের আদলে শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে। স্থানীয় অভিজাতরাই প্রশাসন পরিচালনা করত।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নরম্যানরা ইংল্যান্ড জয়ের ছয় বছর আগেই দক্ষিণ ইতালিতে অবস্থান স্থাপন করে। পরে হেস্টিংসের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ক্যালাব্রিয়ায় তাদের উপস্থিতির একটি উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যৎ ক্রুসেডের ভিত্তি গড়া। প্রায় ৩০ বছর পর তারা জেরুজালেম রাজ্য ও সিসিলি রাজ্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।

ক্যালাব্রিয়া থেকে জাহাজ পবিত্র ভূমির দিকে যাত্রা করত। এর ফলে ক্যালাব্রিয়া ইউরোপের ধনী অঞ্চলের একটি হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও অন্যান্য অঞ্চলের অভিজাত পরিবারগুলো এখানে প্রাসাদ ও আবাস গড়ে তোলে। তারা পবিত্র ভূমিতে যাওয়ার পথে এখানে অবস্থান করত।

গিস্কার্দের পুত্র বোয়েমন্ড সান মারকো আরজেন্তানোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রথম ক্রুসেডের অন্যতম নেতা ছিলেন।

ক্যালাব্রিয়ার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য স্থান হলো ভিয়া ফ্রানচিজেনা, যা একটি প্রাচীন তীর্থযাত্রাপথ। এটি ক্যান্টারবুরি থেকে রোম ও দক্ষিণ ইতালি হয়ে ক্যালাব্রিয়া, বাসিলিকাতা ও আপুলিয়ায় পৌঁছায়। ক্রুসেডাররা এখানে বসবাস করত, প্রার্থনা করত এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নিত।

১০৯৮ সালে রজার প্রথমকে পোপ আর্বান দ্বিতীয় প্রেরিতের প্রতিনিধির সমমর্যাদা প্রদান করেন। তাঁর ছেলে রজার দ্বিতীয় পরে সিসিলির প্রথম রাজা হন। তিনি সিসিলির রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই রাজ্য প্রায় ৭০০ বছর টিকে ছিল।

নরমানদের শাসনে দক্ষিণ ইতালি একত্রিত হয়। এটি একক অঞ্চলে পরিণত হয়। তখন জমির উপর সামন্ততান্ত্রিক মালিকানা ব্যবস্থা চালু হয়। নরমানরা জমির প্রভু হয়। কৃষকেরা জমিতে সব কাজ করত।

১১৪৭ সালে রজার দ্বিতীয় করিন্থ ও থিব্‌স আক্রমণ করেন। এই দুটি শহর বাইজেন্টাইন রেশম উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। তিনি সেখানকার তাঁতিদের ও তাঁদের সরঞ্জাম বন্দি করেন। এরপর ক্যালাব্রিয়ায় নিজের রেশম কারখানা স্থাপন করেন। এর ফলে নরমানদের রেশম শিল্প দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

১১৯৪ সালে ফ্রেডেরিক দ্বিতীয় তাঁর মা সিসিলির রানি কনস্ট্যান্সের কাছ থেকে রাজ্য উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেন। তিনি এমন একটি রাজ্য গড়ে তোলেন যেখানে নানা সংস্কৃতি, দর্শন ও রীতি মিলিত হয়। তিনি বহু দুর্গ নির্মাণ করেন। নরমানদের নির্মিত দুর্গগুলোকেও মজবুত করেন।

১২৫০ সালে ফ্রেডেরিক দ্বিতীয়ের মৃত্যুর পর ক্যালাব্রিয়া আঁজুর ক্যাপেটীয় রাজবংশের অধীনে যায়। নেপলসের প্রথম চার্লসের শাসনে এটি পরিচালিত হয়। তাঁকে পোপ ক্লেমেন্ট চতুর্থ সিসিলির মুকুট প্রদান করেছিলেন।

১২৮২ সালে আঁজুর চার্লসের শাসনে ক্যালাব্রিয়া নতুন গঠিত নেপলসের রাজ্যের অংশ হয়। তখন সিসিলিয়ান ভেস্পারস বিদ্রোহের কারণে তিনি সিসিলি হারান। ফলে ক্যালাব্রিয়া আর সিসিলির রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত থাকেনি।

১৪শ শতকে সেমিনারার বারলাম আবির্ভূত হন। তিনি ছিলেন পেত্রার্কের গ্রিক ভাষার শিক্ষক। তাঁর শিষ্য লিওনৎসিও পিলাতো জিওভান্নি বোক্কাচ্চোর জন্য হোমারের রচনাগুলো অনুবাদ করেন।

এদিকে তুঁত চাষ উত্তর ইতালিতে ধীরে ধীরে শুরু হয়। কিন্তু ক্যালাব্রিয়ার রেশম সমগ্র ইতালি ও ইউরোপের প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদন দখল করে। উত্তর ও মধ্য ইউরোপে তুঁত চাষ কঠিন ছিল। তাই ব্যবসায়ীরা ক্যালাব্রিয়া থেকে কাঁচামাল কিনত। পরে তা প্রক্রিয়াজাত করে বেশি দামে বিক্রি করত।

ক্যালাব্রিয়ায় ভালদেনসীয়দের অভিবাসন

[সম্পাদনা]

ভালদেনসীয় জনগোষ্ঠীর একটি অংশ পশ্চিম আল্পস সংলগ্ন উপত্যকা অঞ্চল থেকে ক্যালাব্রিয়ায় বসতি স্থাপন করে। বিশেষ করে জার্মানাস্কা উপত্যকা, কিসোনে উপত্যকা এবং পেল্লিচে উপত্যকা থেকে তারা আসে। ধারণা করা হয়, ১৩শ শতকে সোয়াবীয় শাসনামলে এই বসতি স্থাপন শুরু হয়। তবে ১৪শ শতকের প্রথমার্ধে এটি বেশি বিস্তৃত হয়।

ইতিহাসবিদ পিয়ের জিল ১৬৪৪ সালে রচিত তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে, ১৩১৫ সালে ক্যালাব্রিয়ার কিছু ভূস্বামী ভালদেনসীয়দের জমি চাষের জন্য দেন। এর বিনিময়ে তাদের বছরে নির্দিষ্ট অর্থ দিতে হতো। তারা সেখানে সামন্তীয় বাধ্যবাধকতা ছাড়া নিজস্ব সম্প্রদায় গড়ে তুলতে পারত।

এর ফলে সান সিস্তো ও লা গার্দিয়ার মতো বহু নগরকেন্দ্র গড়ে ওঠে বা পুনর্বাসিত হয়। লা গার্দিয়া পরে গার্দিয়া পিয়েমোন্তেসে নামে পরিচিত হয়। এই সব এলাকায় প্রধানত ভালদেনসীয়রা বসবাস করত। এতে মধ্য ক্যালাব্রিয়ায় একটি ভাষাগত দ্বীপের সৃষ্টি হয়। এখানে প্রচলিত ভাষা ছিল অক্সিতঁ ভাষা। এটি আওস্তা উপত্যকা ও উত্তর পিয়েমন্ত অঞ্চলের প্রচলিত উপভাষা।

ভালদেনসীয়রা ১৬শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত এখানে বসবাস করে। এ সময় ইউরোপে ধর্মীয় যুদ্ধ শুরু হয়। এটি ছিল ক্যাথলিকপ্রোটেস্ট্যান্টদের মধ্যে সংঘর্ষ। ভালদেনসীয়রা লুথেরীয় বিশ্বাস গ্রহণ করে। এর ফলে তারা স্পেনীয় ভাইসরয় শাসনের অধীনে নির্যাতনের শিকার হয়।

প্রারম্ভিক আধুনিক যুগ

[সম্পাদনা]

১৫শ শতকে কাতানজারো তার রেশমবস্ত্র ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রতিবেশী সিসিলিতে রপ্তানি করত। শতকের মাঝামাঝি সময়ে কাতানজারোতে বৃহৎ পরিসরে রেশম সুতা কাটা শুরু হয়।

১৫শ শতকে কাতানজারোর রেশমশিল্প প্রায় সমগ্র ইউরোপে সরবরাহ দিত। বড় মেলায় এটি বিক্রি হতো। স্প্যানিশ, ভেনিসীয়, জেনোয়ান, ফ্লোরেন্টাইন এবং ডাচ ব্যবসায়ীরা এটি কিনত।

কাতানজারো ইউরোপের রেশমের রাজধানী হয়ে ওঠে। এখানে বড় রেশমকীট খামার ছিল। ভ্যাটিকানে ব্যবহৃত সব লেইস এখানেই তৈরি হতো। শহরটি রেশম, মখমল, দামাস্ক কাপড় ও ব্রোকেড তৈরির জন্য বিখ্যাত ছিল।

১৫১৯ সালে সম্রাট চার্লস পঞ্চম আনুষ্ঠানিকভাবে কাতানজারোর রেশমশিল্পের বিকাশ স্বীকৃতি দেন। তিনি শহরটিকে রেশম কারিগরদের একটি কনসুলেট গঠনের অনুমতি দেন। এই সংস্থা উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ নিয়ন্ত্রণ করত। ১৬শ শতকজুড়ে এই শিল্প সমৃদ্ধ ছিল।

১৪৪২ সালে আলফোনসো পঞ্চমের নেতৃত্বে আরাগোনীয়রা ক্যালাব্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেয়। তিনি আরাগন সাম্রাজ্যের অধীনে শাসনকার্য পরিচালনা করেন।

১৫০১ সালে ক্যালাব্রিয়া ফার্দিনান্দ দ্বিতীয়ের নিয়ন্ত্রণে আসে। তাঁর স্ত্রী কাস্তিলের রানি ইসাবেলা ১৪৯২ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের প্রথম সমুদ্রযাত্রায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।

আরাগোনীয় শাসনে ক্যালাব্রিয়া কঠিন সময় পার করে। এ সময় ভারী কর আরোপ করা হয়, জমিদারদের দ্বন্দ্ব বাড়ে এবং দুর্ভিক্ষ ও রোগ ছড়িয়ে পড়ে। ১৮শ শতকের শুরুর দিকে স্বল্প সময়ের জন্য অস্ট্রিয় হাবসবার্গদের শাসন ছিল। ১৭৩৫ সালে ক্যালাব্রিয়া স্পেনীয় বোরবোঁদের নিয়ন্ত্রণে আসে।

১৬শ শতকে ক্যালাব্রিয়া বিশ্ব ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ক্যালাব্রিয়ান চিকিৎসক ও জ্যোতির্বিদ লুইজি লিলিও গ্রেগরীয় পঞ্জিকা প্রবর্তন করেন।

১৪৬৬ সালে রাজা লুই একাদশ লিয়োঁ শহরে একটি জাতীয় রেশমশিল্প গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ইতালি থেকে বহু দক্ষ কর্মী আহ্বান করেন। এদের অধিকাংশই ছিল ক্যালাব্রিয়া থেকে।

কাতানজারোর প্রধান তাঁতিদের খ্যাতি তখন ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের লিয়োঁতে ডাকা হয়। সেখানে তারা বুনন কৌশল শেখায়।

১৪৭০ সালে এদের একজন (যিনি ফ্রান্সে জ্যাঁ ল্য কালাব্রে নামে পরিচিত ছিলেন) জাকার্ড ধরনের তাঁতযন্ত্রের প্রথম আদিরূপ তৈরি করেন। তিনি এমন এক নতুন যন্ত্র উদ্ভাবন করেন যা সুতা দ্রুত ও আরও নিখুঁতভাবে বুনতে পারত। পরবর্তী বছরগুলোতে এই যন্ত্রে ধারাবাহিক উন্নতি আনা হয়।

চার্লস পঞ্চম ১৫১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কাতানজারোর রেশমশিল্পের বিকাশ স্বীকৃতি দেন। তিনি শহরটিকে রেশম কারিগরদের একটি পরিষদ গঠনের অনুমতি দেন। এই পরিষদ উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করত। ১৬শ শতকজুড়ে এই শিল্প সমৃদ্ধ ছিল।

কারিগর সংঘ গঠনের সময় শহরটি জানায় যে সেখানে পাঁচ শতাধিক তাঁতযন্ত্র ছিল। ১৬৬০ সালে শহরের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৬,০০০। তখন রেশমশিল্পে ১,০০০ তাঁতযন্ত্র চালু ছিল। কমপক্ষে ৫,০০০ মানুষ এই শিল্পে কাজ করত।

কাতানজারোর রেশমবস্ত্র শুধু নেপলসের রাজ্যের বাজারেই বিক্রি হতো না। এগুলো ভেনিস, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডেও রপ্তানি করা হতো।

এই সময়ে উত্তর ক্যালাব্রিয়ার বহু শহরে সম্পূর্ণ আলবেনীয় সম্প্রদায় এসে বসতি স্থাপন করে। নেপলসের রাজাই তাদের আহ্বান জানান। তিনি জেরজ কাস্ত্রিওতি সেকেন্দার বেগের অবদানের স্বীকৃতি দেন। সেকেন্দার বেগ আঁজুভীয়দের বিরুদ্ধে এবং রাজার পক্ষে লড়েছিলেন।

১৪৭৮ সালের পর সেকেন্দার বেগের মৃত্যুর পরে তুর্কি অগ্রযাত্রা শুরু হয়। তখন আলবেনিয়া থেকে বহু শরণার্থী পালিয়ে আসে। রাজা তাদের পরিত্যক্ত গ্রামে বসবাসের অনুমতি দেন। তিনি তাদের নানা রাজকীয় অধিকার ও সুবিধাও দেন। এভাবেই আরবেরেশে সম্প্রদায়ের জন্ম হয়।

১৬শ শতকে ক্যালাব্রিয়ায় জনসংখ্যা ও অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। রেশমপণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে দামও বাড়ে। ফলে ক্যালাব্রিয়া ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেশমবাজারে পরিণত হয়।

পরবর্তীকালে আপেক্ষিক শান্তি ফিরে আসে। তবে ক্যালাব্রিয়া নেপলসের রাজ্যের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ অনুসরণ করে। ইতালীয় উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৎকালীন শক্তিধর রাষ্ট্র ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে সংঘর্ষে এটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

১৪৯৫ সালের ২৮ জুন রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ার উত্তরে সেমিনারার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নেপলসের রাজ্য দখল করা ফরাসি বাহিনী সেখানে হিস্পানো-নেপোলিটান সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে। এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন গনসালো ফের্নান্দেস দে কর্দোভা ও নেপলসের দ্বিতীয় ফের্দিনান্দ।

তবে পরের বছর তারা প্রতিশোধ নেন এবং ফরাসিদের বিতাড়িত করেন। ১৫০২ সালে কর্দোভা নিজেই রেজ্জো জয় করেন। তিনি এটিকে দ্বিতীয় ফের্দিনান্দের শাসনের অধীনে আনেন।

এরপর থেকে ক্যালাব্রিয়া দুই শতাব্দী স্পেনীয় শাসনের অধীনে ছিল। প্রশাসনিকভাবে অঞ্চলটি দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়: ক্যালাব্রিয়া উলতেরিওরে এবং ক্যালাব্রিয়া চিতেরিওরে।

প্রথমে উভয় অংশ এক গভর্নরের অধীনে ছিল। পরে ১৫৮২ সাল থেকে দুইজন পৃথক কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

ক্যালাব্রিয়া চিতেরিওরের প্রশাসনিক রাজধানী ছিল কোসেনজা। ১৬শ শতকে এই শহরে শিল্প ও মানবতাবাদী চর্চার এতটাই ব্যাপক বিকাশ ঘটে যে একে "এথেন্স অব ক্যালাব্রিয়া" বলা হতো।

১৫৫৭ সাল পর্যন্ত কোসেনজা ছিল রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনকেন্দ্র। নেপলসের পরে এখানেই দ্বিতীয় মানচিত্রবিদ্যা বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। ১৫১১ সালে আক্কাদেমিয়া কোসেন্তিনা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আউলো জিয়ানো পারাসিও। পরে দার্শনিক বার্নার্দিনো তেলেসিও এর সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁকে ফ্রান্সিস বেকন "নতুন মানুষের" মধ্যে প্রথম বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে ক্যালাব্রিয়া উলতেরিওরের দুটি প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল, যার প্রথমটি ছিল রেজ্জো ক্যালাব্রিয়া। ১৫৮২ থেকে ১৫৯৪ সাল পর্যন্ত এটি রাজধানী ছিল। তবে বারবার তুর্কি হামলায় শহরটি লুণ্ঠিত হয়। তাই ১৫৯৪ সালে গভর্নরের কার্যালয় কাতানজারোতে সরিয়ে নেওয়া হয়। কাতানজারো ২২০ বছরেরও বেশি সময় এই মর্যাদা ধরে রাখে।

১৫৬৩ সালে বার্নার্দিনো তেলেসিও "নিজস্ব নীতির আলোকে প্রকৃতির স্বরূপ" গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি প্রারম্ভিক আধুনিক অভিজ্ঞতাবাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তাঁর চিন্তাধারা ফ্রান্সিস বেকন, রেনে দেকার্ত, জিওর্দানো ব্রুনো, তোমাসো কাম্পানেলা ও থমাস হবসের উপর প্রভাব ফেলে।

১৬০২ সালে দার্শনিক ও কবি তোমাসো কাম্পানেলা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ সূর্যের নগরী রচনা করেন। পরে ১৬১৬ সালে তিনি "গ্যালিলিওর পক্ষে প্রতিরক্ষা" গ্রন্থ লেখেন। এটি ১৬২২ সালে প্রকাশিত হয়। এতে তিনি গ্যালিলিওকে তাঁর প্রথম বিচারের সময় সমর্থন করেন।

১৬১৩ সালে দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ আন্তোনিও সের্রা "জাতির সম্পদ ও দারিদ্র্য সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা" গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি বাণিজ্যবাদী ধারার পথিকৃৎ ছিলেন।

চার্লস পঞ্চমের শাসনকাল থেকে ক্যালাব্রিয়া স্পেনীয় রাজাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি নেপলসের রাজাও ছিলেন। ১৫২৮ সালের ২৮ আগস্ট কাতানজারো এক ফরাসি বাহিনীর অবরোধ প্রতিহত করে। এই বাহিনীকে কিছু ক্যালাব্রিয়ান ও আপুলিয়ান অভিজাত সমর্থন করেছিল। তারা ফ্রান্সপন্থী ছিল।

কৃতজ্ঞতা হিসেবে চার্লস পঞ্চম কাতানজারোকে সাম্রাজ্যিক ঈগল প্রতীক ব্যবহারের অধিকার দেন। তিনি শহরটিকে রাজকর থেকে অব্যাহতি দেন। এক কারলিন মূল্যমানের মুদ্রা তৈরির অধিকারও দেন।

১৫৩৫ সালে তিউনিস বিজয়ের পর সম্রাট ব্যক্তিগতভাবে ক্যালাব্রিয়া সফর করেন। ৫০০ জাহাজের বহর নিয়ে তিনি উসমানীয় সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেন এবং ২০,০০০ খ্রিস্টান দাসকে মুক্ত করেন।

আফ্রিকা অভিযানের পর তিনি সিসিলিতে অবতরণ করেন। তারপর ক্যালাব্রিয়ায় আসেন। তিনি আস্প্রোমন্তে অতিক্রম করেন এবং নিকাস্ত্রো, মার্তিরানো, কারপানজানো, রোলিয়ানো, তেস্সানো ও কোসেনজা সফর করেন। সেখান থেকে তিনি বিজিনিয়ানো, কাস্ত্রোভিল্লারি ও লাইনো হয়ে নেপলসে যান।

স্পেনীয় শাসনকালে বহু শহর সারাসেন হামলা থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। উদাহরণ হিসেবে জোইয়া (বর্তমান জোইয়া তাউরো) শহর প্রাচীর ও প্রহরী টাওয়ার দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়।

পালমি ও রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ার মতো শহরেও প্রতিরক্ষামূলক টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। পালমিতে আজও সারাসেন টাওয়ার দাঁড়িয়ে আছে।

ভারী কর আরোপ এবং ব্যারনদের ক্ষমতা বৃদ্ধির পরও জনগণ রাজসিংহাসনের প্রতি অনুগত ছিল। তারা রাজাকে গরিব মানুষের রক্ষক হিসেবে দেখত। রাজাকে শক্তিশালীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আশ্রয়দাতা হিসেবে মনে করতো।

১৬৪৭-১৬৪৮ সালে কাতানজারোর মানুষের আচরণ এই প্রেক্ষাপটে বোঝা যায়। অতিরিক্ত করের চাপে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা কর সংগ্রহকারীদের দপ্তরে হামলা চালায়। এই কর সংগ্রহকারীরা আরেন্দাতোরি নামে পরিচিত ছিল। পরে তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর গভর্নর হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বিদ্রোহের নেতাদের ফাঁসি দেন। এতে বাকি বিদ্রোহীরা পালিয়ে যায়।

আধুনিক যুগ

[সম্পাদনা]

১৭শ শতকে ক্যালাব্রিয়ার রেশমশিল্প সংকটে পড়ে। ইতালীয় উপদ্বীপ ও ইউরোপে, বিশেষ করে ফ্রান্সে, নতুন প্রতিযোগীরা উঠে আসে। একই সঙ্গে উসমানীয় সাম্রাজ্য ও পারস্য থেকে রেশম আমদানি বাড়তে থাকে।

১৭৩২ সালে পোপ ক্লেমেন্ট দ্বাদশ ঐতিহাসিক ইতালো-আলবেনীয় কলেজ ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ১৭৯৪ সালে সান বেনেদেত্তো উল্লানো থেকে সান দেমেত্রিও করোনে নামক জায়গায় স্থানান্তরিত হয়।

১৭৮৩ সালে ক্যালাব্রিয়ায় একাধিক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। এগুলোকে ১৭৮৩ সালের ক্যালাব্রিয়া ভূমিকম্প বলা হয়। এতে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ মারা যায়। ব্যাপক সম্পদের ক্ষতি হয়। ফলে এই সময়ের পর অঞ্চলের বহু স্থাপনা নতুন করে নির্মাণ করা হয়।

স্পেনীয় উত্তরাধিকার যুদ্ধের পর ১৭০৭ সালে নেপলসের রাজ্য অস্ট্রিয়ার অধীনে যায়। সম্রাট চার্লস ষষ্ঠ নেপলসের রাজাও হন। হাবসবার্গ রাজবংশ স্বল্প সময় শাসন করলেও তারা রাজ্যের রাজনৈতিক কাঠামো আধুনিক করার চেষ্টা করে।

১৭৩৩ সালে পোলিশ উত্তরাধিকার যুদ্ধ শুরু হলে স্পেনীয় বোরবোঁ রাজবংশ ফ্রান্সের মিত্র হিসেবে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা নেপলস আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। এই রাজ্যটি তারা ফিলিপ পঞ্চমের পুত্র চার্লস তৃতীয়ের হাতে তুলে দিতে চায়।

চার্লস ১৭৩৪ সালে নেপলসে প্রবেশ করেন। তিনি বিতোন্তোর যুদ্ধে অস্ট্রিয় বাহিনীকে পরাজিত করেন। এর মাধ্যমে তিনি রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেন, যদিও কিছু স্থানে প্রতিরোধ ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল রেজ্জো ক্যালাব্রিয়া, যা ১৭৩৪ সালের ২০ জুন দখল করা হয়।

তবে পরবর্তী দশ বছর তরুণ বোরবোঁ শাসনকে নেপলসে সক্রিয় অস্ট্রিয়পন্থী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়। ক্যালাব্রিয়ায় এই গোষ্ঠী বিশেষভাবে শক্তিশালী ছিল। ভেরজিনোর ডিউক ১৭৩৪ সালেই ইনফান্তের বিরুদ্ধে একটি পদাতিক রেজিমেন্ট গঠন করেছিলেন।

অস্ট্রিয় উত্তরাধিকার যুদ্ধ চলাকালে তিনি অস্ট্রিয়াদের আশ্বাস দেন যে পুনর্দখলের জন্য তিনি ১২,০০০ বিদ্রোহী জোগাড় করতে পারবেন।

কিন্তু ১৭৪৪ সালে ভেলেত্রির যুদ্ধে রাজা চার্লস সপ্তম অস্ট্রিয় আক্রমণ প্রতিহত করেন। এর পর অস্ট্রিয়পন্থী দল দুর্বল হয়ে পড়ে। বোরবোঁ কর্তৃপক্ষের বিচার ও অনুসন্ধানের ফলে তারা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়।

নেপলসের রাজা সপ্তম চার্লস সিংহাসনে বসার পর মহাদেশীয় মেজ্জোজোর্নো অঞ্চলে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। মানুষ আশা করেছিল, এখন নেপলস রাজ্যের সম্পদ রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। সিসিলিও রাজনৈতিকভাবে দক্ষিণ ইতালির সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে এটি বোরবোঁ শাসকের ব্যক্তিগত অধীনতায় ছিল। এর ফলে ক্যালাব্রিয়া লাভবান হয়। অঞ্চলটি আর প্রান্তিক রইল না। আবার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কেন্দ্রে ফিরে আসে।

১৭৩৫ সালে রাজা চার্লস এই অঞ্চলে ভ্রমণ করেন। তিনি সিসিলির রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হতে পালের্মো যাচ্ছিলেন। ২৪ জানুয়ারি তিনি ক্যালাব্রিয়া চিতেরিওরে পৌঁছান। প্রদেশের প্রধান তাকে স্বাগত জানান। এরপর রাজকীয় শোভাযাত্রা সিবারি, কোরিলিয়ানো, রোস্সানো, চিরো ও স্ত্রোংগোলি অতিক্রম করে। স্থানীয় সামন্তপ্রভুরা ও রোস্সানোর আর্চবিশপ ফ্রানচেসকো মারিয়া মুসচেত্তোলা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি ক্যালাব্রিয়া উলতেরিওরে প্রদেশের সীমানায় কাতানজারোর প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর ক্রোতোনে যান। সেখানে স্থানীয় অভিজাতরা তাকে স্বাগত জানায়। তিনি কুত্রোতেও অবস্থান করেন। সেখানে রোক্কার রাজপুত্র জিওভান বাত্তিস্তা ফিলোমারিনো তাকে আতিথ্য দেন।

ভ্রমণ অব্যাহত রেখে নেপলসের শাসক কাতানজারোতে চার দিন থাকেন। দে রিসো ও স্কিপানি পরিবারের অভিজাতরা তাকে সম্মান জানান। পরে তিনি মন্তেলেওনে যান এবং অবশেষে পাল্মি পৌঁছান। সেখানে রাজপুত্র জিওভান ফ্রানচেসকো গ্রিমালদি তাকে অতিথি হিসেবে গ্রহণ করেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তিনি মেসিনার উদ্দেশে রওনা দেন। স্কিল্লার রাজপুত্র গুলিয়েল্মো রুফোর ব্যবস্থায় নৌবহর তাকে সঙ্গ দেয়।[৮২][৮৩]

শাসনের শুরু থেকেই রাজা চার্লস সংস্কারের উদ্যোগ নেন। তাকে সহায়তা করেন দক্ষ তোস্কান মন্ত্রী বার্নার্দো তানুচ্চি। তাদের লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রীয় ক্ষমতা শক্তিশালী করা। তারা সামন্ত ও গির্জার প্রভাব কমাতে চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে দরিদ্র মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নও লক্ষ্য ছিল। কিন্তু স্থানীয় শাসক শ্রেণির প্রবল চাপ ও প্রতিরোধের কারণে ফলাফল সীমিত হয়। তাদের বিশেষাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।

অর্থ ও রাজস্ব খাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। ১৭৩৯ সালে বাণিজ্যের সর্বোচ্চ আদালত গঠন করা হয়। এতে বিচারক, বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকার ছিলেন। দেশীয় ও বৈদেশিক বাণিজ্যে তাদের পূর্ণ কর্তৃত্ব ছিল। ১৭৪১ সালে কনকর্ডাট চুক্তি করা হয় পবিত্র সিংহাসনের সঙ্গে। এর ফলে নেপলস রাজ্যে গির্জার সম্পত্তির উপর কর আরোপ করা হয়। একই সময়ে তথাকথিত কাতাস্তো অনচিয়ারি প্রবর্তন করা হয়। এতে সম্পত্তির মূল্য আউন্স এককে নির্ধারণ করা হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল করের বোঝা পুনর্বিন্যাস করা এবং দরিদ্রদের উপর কর কমানো। তবে অভিজাত ও ধর্মযাজকদের বিস্তৃত করমুক্তি এই সংস্কারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।[৮২][৮৩]

১৭৫৯ সালে কূটনৈতিক চুক্তি ও জটিল পারিবারিক ঘটনার কারণে রাজা চার্লসকে নেপলসের সিংহাসন ত্যাগ করতে হয়। তার সৎভাই স্পেনের ফার্দিনান্দ ষষ্ঠ মারা যান। এরপর তিনি স্পেনের মুকুট গ্রহণ করেন। নেপলস রাজ্য তার আট বছর বয়সী পুত্র দুই সিসিলির ফার্দিনান্দ চতুর্থের হাতে যায়। তার তত্ত্বাবধানে একটি রিজেন্সি পরিষদ গঠিত হয়। সেখানে তানুচ্চির প্রভাব ছিল নির্ণায়ক। এর ফলে সংস্কারনীতি চালু থাকে, বিশেষ করে গির্জা সম্পর্কিত ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসে। ১৭৬৯ সালে জেসুইটদের রাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ফার্দিনান্দ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও তানুচ্চি দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু ১৭৭৪ সালে নতুন রানি মারিয়া কারোলিনা অব অস্ট্রিয়ার উদ্যোগে তাকে অপসারণ করা হয়। রানি চেয়েছিলেন নেপলসকে অস্ট্রিয়ার প্রভাব বলয়ে আনতে। তবে রাজা কিছু সময় সংস্কারনীতি চালিয়ে যান। তিনি নেপলসের আলোকায়ন ধারার চিন্তাবিদদের সমর্থন দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ফের্দিনান্দো গালিয়ানি, আন্তোনিও জেনোভেসি ও গায়েতানো ফিলাঙ্গেরি।[৮২][৮৩]

এই সময়ে ক্যালাব্রিয়া একাধিক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে দিয়ে যায়। এর সঙ্গে গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনও ঘটে। ১৭৪৩ সালের প্লেগ মহামারি তার একটি উদাহরণ। এটি মেসিনা থেকে এসে রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়া ও আশপাশের এলাকায় আঘাত হানে। ফলে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাডাস্ত্রে অনসিয়ারিও প্রস্তুতের কাজ কিছু সময়ের জন্য বিলম্বিত হয়।

১৭৮৩ সালের ভূমিকম্পও ছিল আরেকটি বড় বিপর্যয়। এটি দক্ষিণ ক্যালাব্রিয়ায় আঘাত হানে এবং প্রায় ৫০,০০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে। রেজ্জিও শহর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পরে শহরটি আরও পরিকল্পিত ও সরল স্থাপত্য নীতির ভিত্তিতে নতুন করে গড়ে তুলতে হয়। পুনর্নির্মাণের বিপুল ব্যয় মেটাতে রাজা ফের্দিনান্দ চতুর্থ (যিনি ইতিমধ্যে স্ট্রংগোলির রাজকুমার ফ্রানচেসকো পিন্যাতেল্লিকে ভূমিকম্পপীড়িত এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা নিতে পাঠিয়েছিলেন)[৮৪] ১৭৮৪ সালের ৪ জুন কাসসা সাক্রা নামে একটি সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এর কাজ ছিল বিলুপ্ত ধর্মীয় সম্পত্তি ও মঠ বাজেয়াপ্ত করে সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ পুনর্নির্মাণে ব্যয় করা। কিন্তু বাস্তবে ধনী জমিদাররাই, যারা উদীয়মান কৃষিভিত্তিক বুর্জোয়া শ্রেণির সদস্য ছিল এবং সামাজিক উন্নতির সুযোগ খুঁজছিল, তারা সবচেয়ে ভালো জমিগুলো কম দামে নিজেদের দখলে নেয়। এতে ব্যারন ও স্থানীয় ধর্মযাজকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[৮২][৮৩]

বুরবোঁ রাজা ফের্দিনান্দের সংস্কারমূলক উদ্যোগ শেষ হয়ে যায় ফরাসি বিপ্লব-পরবর্তী ঘটনাবলির পর। ফরাসি বিপ্লবী বাহিনীর আক্রমণের ফলে এই বিপ্লবের ধারণাগুলো সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছিল। এতে পুরোনো শাসনব্যবস্থার রাজদরবারগুলো আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। এই কারণেই ১৭৯৮ সালের নভেম্বরে ফের্দিনান্দ চতুর্থ ফরাসিবিরোধী জোটে যোগ দেন এবং সৈন্য নিয়ে রোমে অগ্রসর হন। সেখানে পোপ পিয়াস ষষ্ঠকে অপসারণ করা হয়েছিল এবং রোমান প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়েছিল।

তবে বুরবোঁ সেনাবাহিনী প্রাথমিক সাফল্যের পর নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং পিছু হটতে বাধ্য হয়। ফরাসি বাহিনী ইতালীয় জ্যাকোবিন বিপ্লবীদের সমর্থন করছিল এবং তারা বুরবোঁদের নেপলস ছেড়ে সিসিলিতে পালাতে বাধ্য করে। এদিকে ১৭৯৯ সালের ২১ জানুয়ারি পারথেনোপীয় প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। এর প্রতিষ্ঠা দলিল প্রস্তুত করেছিলেন ক্যালাব্রিয়ার জ্যাকোবিন গিউসেপ্পে লোগোটেটা।[৮৫]

সমকালীন জনপ্রিয় চিত্র। এতে পাদুয়ার সেন্ট অ্যান্টনিকে খ্রিস্টীয় ও রাজকীয় বাহিনীকে রক্ষা করতে দেখা যায়। অগ্রযাত্রা ও যুদ্ধের সময় কার্ডিনাল ফাব্রিজিও রুফোকে ঘোড়ায় আরোহী অবস্থায় দেখানো হয়েছে।

তবে নতুন প্রজাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দক্ষিণ ইতালির সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমনভাবে দৃঢ় ভিত্তি পায়নি, বিশেষত ক্যালাব্রিয়ায়। কেবল কোসেনজা, কাতানজারো ও ক্রোতোনেই প্রজাতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়ায়। কিন্তু সিসিলীয় উপকূলসংলগ্ন অঞ্চল (যেমন রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়া, শিলা, বান্যারা ও পালমি) এবং বড় আয়োনীয় শহরগুলো বুরবোঁদের প্রতি অনুগত থাকে।

এতে পালার্মোতে নির্বাসিত বুরবোঁ রাজপরিবারের মধ্যে আশা জাগে যে তারা দ্রুত রাজ্য পুনর্দখল করতে পারবে। তাই ফের্দিনান্দ আনন্দের সঙ্গে কার্ডিনাল ফাব্রিজিও রুফোর প্রস্তাব গ্রহণ করেন। কার্ডিনাল ফাব্রিজিও রুফোর প্রস্তাব ছিল রাজা ও ধর্মের নামে ক্যালাব্রিয়ার কৃষক জনগণকে সংগঠিত করা, একটি সেনাবাহিনী গঠন করা এবং নেপলস পুনর্দখল করা।

১৭৯৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি "রাজাধিরাজের প্রতিনিধি" উপাধি পাওয়ার পরের দিনই কার্ডিনাল রুফো ক্যালাব্রিয়ায় অবতরণ করেন। তিনি প্রথম সৈন্যদল গঠন করেন শিলা ও বান্যারায় তার পারিবারিক জমিদারিতে।[৮৬]

শীঘ্রই রুফোর বাহিনী (যা চার্চ ও সিংহাসনের পতাকার নিচে অগ্রসর হওয়ার কারণে পবিত্র বিশ্বাসের সেনাবাহিনী নামে পরিচিত হয়) ২৫,০০০ সৈন্যে পরিণত হয়। এর সঙ্গে দস্যু, পথছাড়া সৈনিক ও পলাতকরাও যোগ দেয়। এই বাহিনী নিয়ে কার্ডিনাল পায়োলা ও ক্রোতোনে দখল করতে সক্ষম হন। শহর দুটি প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত নির্মমভাবে লুটপাটের শিকার হয়, যদিও রুফো লুটপাট ও সহিংসতা থামানোর চেষ্টা করেছিলেন।

মাত্র চার মাসের মধ্যেই তিনি পুরো নেপলস রাজ্য পুনর্দখল করেন। ১৭৯৯ সালের জুনে তিনি সেন্ট এলমো দুর্গে অবরুদ্ধ শেষ নেপলসের জ্যাকোবিনদের সম্মানজনক আত্মসমর্পণের সুযোগ দেন। কিন্তু এই শর্ত বুরবোঁ শাসক বা অ্যাডমিরাল হোরেশিও নেলসন কেউই মানেননি। আত্মসমর্পণের শর্ত ভঙ্গ করে নেলসন ১২৪ জন নেপলসের বিপ্লবীকে ফাঁসি দেন এবং রুফোর কাছ থেকে তার সেনানায়কত্ব কেড়ে নেওয়া হয়।[৮৭]

ফরাসি অন্তর্বর্তীকাল ও বুরবোঁ পুনঃস্থাপন

[সম্পাদনা]

সিংহাসন পুনরুদ্ধারের পরও রাজা ফের্দিনান্দ তার ক্ষমতা স্থিতিশীল করতে পারেননি। ১৮০৬ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সেনাদের নতুন ফরাসি আক্রমণের মুখে তিনি আবার পালার্মোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সেখানে তিনি ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সুরক্ষায় থাকেন। এদিকে নেপলসের রাজ্য নেপোলিয়ন তার বড় ভাই জোসেফ বোনাপার্টের হাতে তুলে দেন।

তবে মহাদেশীয় দক্ষিণ ইতালিতে রাজতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহ থামেনি। ক্যালাব্রিয়ায় এর বড় উদাহরণ দেখা যায়, যেখানে পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়, যা ক্যালাব্রিয়ান বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এতে দস্যু, কৃষক ও বুরবোঁ সেনাবাহিনীর ছিটকে পড়া সৈন্যরা অংশ নেয়। ব্রিটিশ সামরিক ইউনিটও এতে সহায়তা করে, যারা ওই অঞ্চলে অবতরণ করেছিল। এই তিন বছরব্যাপী বিদ্রোহ দমন করতে ফরাসিদের বড় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়। এতে অংশ নেন তাদের দুই সেরা জেনারেল আন্দ্রে মাসেনা ও জাঁ ম্যাক্সিমিলিয়ান লামার্ক। তারা নির্মম পদ্ধতিও ব্যবহার করেন। যেমন, যে গ্রামগুলো দস্যুদের আশ্রয় দিত বা বুরবোঁদের সমর্থন করত, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হয়। এর উদাহরণ হলো লাউরিয়াতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, যা মাসেনার সৈন্যরা ঘটায়।[৮৮]

তবুও নেপোলিয়নিক শাসনামল সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। ১৮০৬ সালের ২ আগস্ট জোসেফ বোনাপার্ট সামন্তব্যবস্থা বিলোপের ঘোষণা দেন। এর ফলে ব্যারনদের বিচারিক ক্ষমতা, সামন্তীয় ব্যক্তিগত সুবিধা এবং উৎপাদনের ওপর নিষেধাজ্ঞামূলক অধিকার (অর্থাৎ নির্দিষ্ট কার্যকলাপের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ) বাতিল হয়। ফরাসি সরকার যেসব জমি ও সম্পত্তি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করে, সেগুলো নতুন কৃষিভিত্তিক বুর্জোয়া শ্রেণির সদস্যরা কিনে নেয়। এই শ্রেণি তখন ক্রমে রাজনৈতিক শক্তিও অর্জন করছিল।

এর পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসনিকভাবে পুনর্গঠিত হয়। ১৮০৬ সালের ৮ ডিসেম্বরের ডিক্রির মাধ্যমে রাজ্যকে জেলায় ও মহকুমায় ভাগ করা হয়। ক্যালাব্রিয়া তখন দুই প্রদেশে বিভক্ত ছিল: চিতেরিওরে (যার রাজধানী কোসেনজা) এবং উলতেরিওরে (যার রাজধানী কাতানজারোর বদলে মনতেলেওনে নির্ধারিত হয়)। যোগাযোগের সুবিধা ও সামরিক প্রয়োজনের কারণে এই পরিবর্তন করা হয়। দুই প্রদেশই একজন ইনটেনদেন্তের অধীনে ছিল। প্রতিটি প্রদেশ চারটি জেলায় বিভক্ত ছিল, সেগুলো আবার উপমহকুমায়, আর সেগুলো থেকে বিভিন্ন পৌর এলাকায় বিভক্ত ছিল।

১৮১০ সালে নেপলসের সিংহাসনে রাজবংশগত পরিবর্তন ঘটে। নেপোলিয়ন তার ভাই জোসেফকে নতুন দখলকৃত স্পেন শাসনের জন্য পাঠান। তার পরিবর্তে নেপোলিয়নের ভগ্নিপতি, অর্থাৎ তার বোন ক্যারোলিন বোনাপার্টের স্বামী জোয়াকিম মুরা নেপলসের রাজা হন। নতুন রাজা তার রাজ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের কাজ আরও জোরদার করেন। তিনি করব্যবস্থায় বড় সংস্কার আনেন। বুরবোঁ আমলের টেস্টাটিকো, ফোকাটিকোটাসসা ডি'ইন্ডাস্ট্রিয়া কর বাতিল করে একক সরাসরি ভূমি কর চালু করেন, যা জমির মালিকানার ওপর ধার্য হতো।

১৮১১ সাল থেকে তিনি গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে সরকারি তদন্ত শুরু করেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি খনিজ সম্পদ ব্যবহারে আগ্রহ দেখান। এর একটি উদাহরণ হলো সের্রে অঞ্চলে মোঙ্গিয়ানা লৌহকারখানার সঙ্গে যুক্ত খনিগুলো।[৮২][৮৩]

নেপোলিয়নিক শাসনের অবসান ঘটে ১৮১৫ সালে। ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপোলিয়নের পরাজয়ের পর তার পতন ঘটে। ফলে অপসারিত বুরবোঁ শাসক আবার সিংহাসনে ফিরে আসেন। যদিও একই বছরের অক্টোবরে মুরা একটি ছোট সামরিক অভিযান চালিয়ে সিংহাসন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন। তার পরিকল্পনা ছিল এই অভিযানের মাধ্যমে পুরো মহাদেশীয় দক্ষিণ ইতালিতে বিদ্রোহ জাগানো।

কিন্তু নেপলসের সাবেক রাজা পিজ্জো কালাব্রোতে অবতরণ করার পর বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হন এবং বুরবোঁ সৈন্যদের হাতে ধরা পড়েন। পরে জেনারেল ভিতো নুনজিয়ান্তের সভাপতিত্বে গঠিত সামরিক ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ১৮১৫ সালের ১৩ অক্টোবর ক্যালাব্রিয়ার ওই শহরের দুর্গে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এভাবে সিংহাসনে ফিরে এসে ক্ষমতা সুসংহত করার পর বুরবোঁ রাজা তার শাসিত দুই রাজ্যের প্রশাসনিক একীকরণ শুরু করেন। ১৮১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বরের আইনের মাধ্যমে দুই সিসিলির রাজ্য গঠিত হয়। এর প্রথম সম্রাট হন ফের্দিনান্দ, যিনি তখন থেকে দুই সিসিলির প্রথম ফের্দিনান্দ নামে পরিচিত হন।[৮২][৮৩]

কার্বোনারি বিদ্রোহ থেকে এক হাজার লোকের অভিযান

[সম্পাদনা]

বুরবোঁদের সিংহাসনে প্রত্যাবর্তনের ফলে পরম রাজতান্ত্রিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ফরাসি শাসকেরা যে প্রশাসনিক সংস্কার চালু করেছিল, তা বাতিল করা হয়নি। বরং কেন্দ্রের সরকারের পক্ষে প্রান্তিক অঞ্চলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হওয়ায় এসব ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। ক্যালাব্রিয়ার ক্ষেত্রেও তাই ঘটে। ১৮১৬ সালের ১ মের রাজকীয় ফরমান অনুযায়ী সেখানে দুটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ গঠিত হয়: ক্যালাব্রিয়া উলতেরিওরে প্রিমা (যার রাজধানী রেজ্জিও) এবং ক্যালাব্রিয়া উলতেরিওরে সেকোন্দা (যার রাজধানী কাতানজারো)।[৮২][৮৩]

কিন্তু রাজাধিরাজের পরমতান্ত্রিক শাসন স্পষ্ট উদারপন্থী বিরোধিতা সৃষ্টি করে। এই বিরোধীরা ছিল মূলত সেই বুর্জোয়া নেতৃত্ব, যারা ফরাসি শাসনামলে উন্নতি লাভ করেছিল কিন্তু এখন সামাজিক মর্যাদার কারণে আবার অভিজাত ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছে পিছিয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে প্রধানত সেনা কর্মকর্তা ছিল, তবে বুর্জোয়া, বুদ্ধিজীবী ও সরকারি কর্মচারীরাও ছিল। এদের অনেকেই কার্বোনারি গোপন সংঘের সদস্য ছিল। এই সংঘের লক্ষ্য ছিল বিদেশি আধিপত্যমুক্ত ইতালি গঠন এবং ইতালির বিভিন্ন শাসককে উদার সংবিধান দিতে বাধ্য করা।

এই প্রেক্ষাপটে ১৮২০ সালের ১ জুলাই স্পেনে কাদিসের সংবিধান প্রদান করা হয়েছে মর্মে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বহু কার্বোনারি কর্মকর্তা বিদ্রোহে নামে। তাদের মধ্যে অশ্বারোহী বাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট জিউসেপ্পে সিলভাতি ও মিকেলে মোরেল্লি (যিনি ক্যালাব্রিয়ার মানুষ) উল্লেখযোগ্য। তারা তাদের রেজিমেন্ট নিয়ে নোলা থেকে যাত্রা করে ফের্দিনান্দ প্রথমকে সংবিধান দিতে বাধ্য করতে চায়। নেপলসের পথে তারা অনেক সমর্থক জোগাড় করে।

শেষ পর্যন্ত শাসক জনচাপের কাছে নতি স্বীকার করে সংবিধান দিতে বাধ্য হন। কিন্তু এই উদারপন্থী পরীক্ষা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ ফের্দিনান্দ নিজেই গোপনে সাহায্যের জন্য ডাকা অস্ট্রিয়ান সৈন্যরা নেপলসের কার্বোনারি বিদ্রোহ দমন করে। বিদ্রোহের প্রধান নেতা মোরেল্লি ও সিলভাতিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১৮২২ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের ফাঁসি দেওয়া হয়।[৮২][৮৩]

১৮২৫ সালে ফের্দিনান্দ প্রথমের মৃত্যুর পর তার পুত্র ফ্রানচেসকো প্রথম অল্প সময় শাসন করেন। এরপর ১৮৩০ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন তার ছেলে ফের্দিনান্দ দ্বিতীয়। তিনি প্রথমে কিছু আংশিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার করেন। তিনি রাজকীয় ব্যয় কমান, অপ্রয়োজনীয় দরবারি খরচ বাতিল করেন, মন্ত্রীদের বেতন কমান, সাবেক মুরাতপন্থী কর্মকর্তাদের সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে আনেন এবং সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন।

কিন্তু উদারপন্থীরা যে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আশা করেছিল, তা তিনি দেননি। বরং পূর্বসূরিদের তৈরি পুলিশনির্ভর শাসনব্যবস্থা বজায় রাখেন এবং যেকোনো রাজনৈতিক বিদ্রোহের ইঙ্গিত কঠোরভাবে দমন করেন। তবে তার বাবা ও দাদার তুলনায় ফের্দিনান্দ দ্বিতীয় নিজের রাজ্যের দূরবর্তী প্রদেশগুলোর অবস্থা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তাই তিনি সেগুলো পরিদর্শনে একাধিক সরকারি সফরে বের হন।

এই সফরগুলোর প্রথমটি শুরু হয় ১৮৩৩ সালের ৭ এপ্রিল। নেপলস থেকে যাত্রা করে তিনি সালা কনসিলিনা ও লাগোনেগ্রো পেরিয়ে ক্যালাব্রিয়ায় পৌঁছান। ১১ এপ্রিল তিনি কাস্ত্রোভিল্লারিতে ছিলেন। এরপর দ্রুত কোসেনজা ও মনতেলেওনে অতিক্রম করেন এবং ত্রোপেয়া, নিকোতেরা, বান্যারা ও রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়া পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি মেসিনার উদ্দেশ্যে জাহাজে ওঠেন।

কয়েক দিন পর তিনি আবার বান্যারায় ফিরে আসেন এবং পরে মোঙ্গিয়ানা লৌহকারখানা দেখতে যান। ২৩ এপ্রিল তিনি কাতানজারোতে অবস্থান করেন। এরপর আয়োনীয় উপকূল ধরে যাত্রা করে তারান্তো ও লেচ্চে যান, কাপিতানাতা অঞ্চল এবং প্রিনচিপাতো উলত্রা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত ৬ মে রাজধানীতে ফিরে আসেন।

এই সফরে বুরবোঁ শাসক বেশ কিছু উপকারী কাজ করেন। তিনি ক্ষমা ঘোষণা করেন, সেতু ও সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেন, কিছু সরকারি কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা সংশোধন করেন এবং ১৮৩২ সালের ৮ মার্চ ক্রাতি ও কোরাচি অববাহিকায় সংঘটিত ভূমিকম্পে সবকিছু হারানো মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য ত্রাণ বরাদ্দ করেন।[৮৯]

পরবর্তী কয়েক বছরে (বিশেষত ১৮৪৮ সালের বিপ্লবসমূহ শুরু হওয়ার আগে) ক্যালাব্রিয়া ছিল বহু উদারপন্থী ও জিউসেপ্পে মাজ্জিনিপন্থী বিদ্রোহের কেন্দ্র। কিন্তু এগুলো সবই বুরবোঁ শাসন দমন করে। বিদ্রোহীদের মধ্যে ইতালির অন্য অঞ্চলের দেশপ্রেমিকরাও ছিল। যেমন ভেনিসের বান্দিয়েরা ভ্রাতৃদ্বয় ১৮৪৪ সালে কোসেনজার ব্যর্থ বিদ্রোহকে সমর্থন দিতে আসে। কিন্তু তাদের একজন সঙ্গীর বিশ্বাসঘাতকতায় তারা ধরা পড়ে। পরে বুরবোঁ জেন্ডারমেরি সংক্ষিপ্ত বিচারের পর ওই বছরের আগস্টে রোভিতোতে তাদের গুলি করে হত্যা করে।

একইভাবে ক্যালাব্রিয়ান বিদ্রোহীরাও সক্রিয় ছিল। যেমন রিভোল্তা দি জেরাচে, মিকেলে বেল্লো, পিয়েত্রো মাজ্জোনি, গায়েতানো রুফ্ফো, দোমেনিকো সালভাদোরি এবং রোক্কো ভেরদুচি। তারা ১৮৪৭ সালে রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়া ও মেসিনায় ২ সেপ্টেম্বরের মাজ্জিনিয়ান বিদ্রোহের অংশ হিসেবে জেরাচে জেলা জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করে। কিন্তু উদারপন্থী বিদ্রোহ দমন হওয়ার পর তাদেরও গুলি করে হত্যা করা হয়।[৮২][৮৩]

১৮৪৮ সালের জানুয়ারিতে বহু গণআন্দোলনের চাপে রাজা দ্বিতীয় ফের্দিনান্দ যখন উদার সংবিধান দিতে বাধ্য হন, তখন দক্ষিণ ইতালির বহু উদারপন্থী সত্যিই পরিবর্তনের আশা করে। এপ্রিলের সংসদীয় নির্বাচনে তাদের অনেকেই নির্বাচিত হয়। কিন্তু শাসকের সংবিধান মানার কোনো ইচ্ছা ছিল না। ১৮৪৮ সালের ৫ মে তিনি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সংসদ ভেঙে দেন এবং বিদ্রোহী নেপলস শহরে গোলাবর্ষণ করান। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক হাজারেরও বেশি নিহত হয়।

এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্যালাব্রিয়ায় বুরবোঁ দমননীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কমিটি গড়ে ওঠে। কোসেনজা ও কাতানজারোর কমিটিগুলো সবচেয়ে সংগঠিত ছিল। তারা অস্ত্র, অর্থ ও স্বেচ্ছাসেবক জোগাড় করে বুরবোঁ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু সামরিক কৌশল নিয়ে মতভেদের কারণে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। জুন মাসে জেনারেল নুনজিয়ান্তে ও বুসাক্কার নেতৃত্বে ৫,০০০ বুরবোঁ সৈন্য এসে বিদ্রোহ দমন করে। পরাজয়ের পর শুরু হয় কঠোর রাজনৈতিক দমন। বিদ্রোহের প্রধান নেতাদের অনেকে মৃত্যুদণ্ড লাভ করেন, অনেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন (কিছু ক্ষেত্রে অনুপস্থিত অবস্থায়)।[৮২][৮৩]

এর ফলে বুরবোঁ রাজতন্ত্র ও উদারপন্থী বুর্জোয়া শ্রেণির মধ্যে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটে। গ্রেপ্তার ও নির্যাতনে ক্ষতিগ্রস্ত এই শ্রেণি দ্রুত ইতালির ঐক্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এই সমর্থনের ওপর ভর করেই জুসেপ্পে গ্যারিবল্ডি সিসিলি জয়ের পর ১৮৬০ সালের ১৯ আগস্ট মেলিতো দি পোর্তো সালভোর ক্যালাব্রিয়ান উপকূলে অবতরণ করতে সক্ষম হন।

গ্যারিবল্ডির স্বেচ্ছাসেবকদের সমর্থন দেয় রেজ্জিওর আগোস্তিনো প্লুতিনোর নেতৃত্বাধীন ক্যালাব্রিয়ান বিদ্রোহীরা। তাদের সহায়তায় ২১ আগস্ট পিয়াচ্চা দুয়োমোর যুদ্ধে তিনি রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়া দখল করেন। এরপর সোভেরিয়া মান্নেল্লিতে কর্নেল ভিয়ালের প্রায় ১২,০০০ সৈন্যকে নিরস্ত্র করে গ্যারিবল্ডির বাহিনী নেপলসের দিকে অগ্রসর হয়। ৬ সেপ্টেম্বর তিনি নেপলসে প্রবেশ করেন এবং জনগণের উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনা পান।

এরপর বিজয়ী ভলতুর্নোর যুদ্ধের (২৬ সেপ্টেম্বর–২ অক্টোবর ১৮৬০) মাধ্যমে বুরবোঁদের নেপলস পুনর্দখলের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ২৬ অক্টোবর ১৮৬০ তেয়ানোর সাক্ষাতে গ্যারিবল্ডি ও রাজা সাভয়ের দ্বিতীয় ভিক্টর ইমানুয়েলের সাক্ষাৎ হয়। এরপর নতুন দক্ষিণ ইতালীয় প্রজাদের উদ্দেশে ঘোষণা জারি করে তিনি মেজ্জোজর্নো অঞ্চলকে নিজের রাজত্বে অন্তর্ভুক্ত করেন।[৮৯]

১৮৬০ সালের ১৯ আগস্ট সিসিলি থেকে জুসেপ্পে গ্যারিবল্ডি ও তার লাল জামাধারী বাহিনী এক হাজারের অভিযানের অংশ হিসেবে ক্যালাব্রিয়ায় প্রবেশ করে।[৯০] নেপলসের রাজা দ্বিতীয় ফ্রানচেসকো তাদের থামাতে ১৬,০০০ সৈন্য পাঠালেও গ্যারিবল্ডির প্রায় ৩,৫০০ সৈন্য রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়ার যুদ্ধে প্রতীকী লড়াই জিতে যায়। এরপর সব প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে এবং ক্যালাব্রিয়ার সর্বত্র গ্যারিবল্ডিকে বুরবোঁদের দমনমূলক শাসন থেকে মুক্তিদাতা হিসেবে স্বাগত জানানো হয়।[৯০]

১৮৬১ সালে ক্যালাব্রিয়া নেপলসের রাজ্যের বাকি অংশের সঙ্গে মিলিয়ে ইতালির রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়। গ্যারিবল্ডি তখনও রিজোরজিমেন্তো আন্দোলন সম্পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল পোপের শাসিত, ফরাসি বাহিনী দ্বারা সুরক্ষিত রোম দখল করা। তাই তিনি আধা-সরকারি উৎসাহে নতুন সেনাবাহিনী গঠনের চেষ্টা শুরু করেন।[৯১]

কিন্তু রাজা দ্বিতীয় ভিক্টর ইমানুয়েল মনে করেন ফ্রান্সের সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকি খুব বেশি। তাই ১৮৬২ সালের ২৯ আগস্ট গ্যারিবল্ডির ঘাঁটি ক্যালাব্রিয়ার আস্প্রোমন্তে শহরে রাজকীয় ইতালীয় সেনাবাহিনী আক্রমণ চালায়।[৯২]

আস্প্রোমন্তের যুদ্ধে লাল জামাধারী বাহিনী পরাজিত হয়। আত্মসমর্পণের পর তাদের কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং গ্যারিবল্ডি গুরুতরভাবে আহত হন।[৯২]

১৮৬০ সালের ২১ অক্টোবরের গণভোটের মাধ্যমে ক্যালাব্রিয়া অন্যান্য দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর সঙ্গে সার্ডিনিয়ার রাজ্যের অংশ হয়ে যায়। ফলে নতুনভাবে সংযুক্ত অঞ্চলগুলোকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার জন্য নতুন রাজনৈতিক নির্বাচন ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৮৬১ সালের ২৭ জানুয়ারি। একই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তুরিন শহরে নতুন সংসদের উদ্বোধন হয়। নতুন সংসদের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল নতুন ইতালির রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা। ১৮৬১ সালের ১৭ মার্চ ভিক্টর ইমানুয়েল দ্বিতীয়কে সাংবিধানিক রাজা ঘোষণা করে এই নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে গণভোট ও সংসদীয় নির্বাচনের ভোটদানের পদ্ধতির মধ্যে বড় পার্থক্য ছিল। ১৮৬০ সালে অন্তত ২১ বছর বয়সী এবং নাগরিক অধিকারসম্পন্ন সব পুরুষ ভোট দিতে পেরেছিল। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনে পিয়েমন্তের নির্বাচনী আইন প্রযোজ্য হয়। এই আইন ছিল সম্পত্তিভিত্তিক। এতে ভোট দিতে পারত কেবল সেই পুরুষ নাগরিকরা, যাদের বয়স অন্তত ২৫ বছর, যারা পড়তে-লিখতে পারে এবং অন্তত ৪০ লিরা কর দেয়। ফলে খুব সীমিত ভোটারসংখ্যার কারণে বহু অভিজাত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সংসদে প্রবেশ করতে পারে। এদের মধ্যে অনেক ক্যালাব্রিয় দেশপ্রেমিকও ছিলেন, যেমন ফ্রানচেসকো স্তোক্কো এবং ভাই আন্তোনিনো প্লুতিনো ও আগোস্তিনো প্লুতিনো। তারা সে সময়ের প্রধান রাজনৈতিক শিবিরগুলোতে সক্রিয় ছিলেন: ঐতিহাসিক ডানপন্থা (যার প্রবণতা ছিল উদারপন্থী ও রক্ষণশীল) এবং ঐতিহাসিক বামপন্থা (যার ধারণা ছিল প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক)।[৯৩][৯৪]

১৮৮৫ সালে (উপরে) এবং ১৯১৫ সালে (নিচে) ক্যালাব্রিয়ার রেলপথের মানচিত্র

ডানপন্থা ও বামপন্থার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মূলত কেন্দ্রিত ছিল কীভাবে ইতালির একীকরণ সম্পূর্ণ করা হবে তা নিয়ে। তখনও ভেনিস ও রোম একীভূত হয়নি। মধ্যপন্থীরা চেয়েছিল কূটনৈতিক চুক্তি ও ঐতিহাসিক মিত্র ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় জাতীয় একতা সম্পন্ন করতে। কিন্তু গণতন্ত্রীদের ধারণা ছিল ভিন্ন। তারা মনে করত স্থানীয় জনগণের সম্মতিতে ইতালীয় সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ওই অঞ্চলগুলো মুক্ত করা উচিত।

এই মতভেদের একটি বাস্তব উদাহরণ দেখা যায় ১৮৬২ সালে, যখন আস্প্রোমন্তের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এটি ছিল জিউসেপ্পে গ্যারিবল্ডির আবারও হাজারের অভিযান পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা। তিনি সিসিলি থেকে যাত্রা করে রোম দখল করতে চেয়েছিলেন, পোপের কাছ থেকে তা নিয়ে ইতালির রাজ্যের হাতে তুলে দিতে।

সেই সময় ঐতিহাসিক বামপন্থার নেতা উরবানো রত্তাজ্জি সরকারে ছিলেন। কাভুরের মৃত্যুর পর তিনিই রাজ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিক হয়ে ওঠেন, কারণ তিনি রাজাধিরাজের আস্থা অর্জন করেছিলেন। ১৮৬২ সালের গ্রীষ্মে গ্যারিবল্ডি যখন সিসিলিতে যান, জনগণ তাকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে স্বাগত জানায়। সরকার মূলত বিষয়টি উপেক্ষা করে, সম্ভবত তার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত থাকলেও।

কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় যখন নেপোলিয়ন তৃতীয় (যিনি পোপ পায়াস নবমের বড় সমর্থক ছিলেন) চার্চের সাময়িক ক্ষমতা রক্ষায় ফরাসি সৈন্য পাঠানোর হুমকি দেন। তখন রাজা ভিক্টর ইমানুয়েল দ্বিতীয় ও প্রথম রত্তাজ্জি সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। রাজা এক ঘোষণায় গ্যারিবল্ডির পদক্ষেপ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন। সরকার সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয় তাকে থামাতে।

১৮৬২ সালের ২৫ আগস্ট প্রায় ৩,০০০ সৈন্য নিয়ে গ্যারিবল্ডি মেলিতো দি পোর্তো সালভোতে অবতরণ করেন। রেজ্জিও থেকে বের হওয়া এক সামরিক ইউনিট তার ওপর গুলি চালায়। ফলে গ্যারিবল্ডির বাহিনী পিছু হটে আস্প্রোমন্তের পাহাড়ি অঞ্চলে চলে যায়। তারা তিন দিন ধরে অগ্রসর হয়ে সান্ত’এউফেমিয়া দ’আস্প্রোমন্তের এলাকায় গামবারিয়ের কাছে শিবির স্থাপন করে।

এখানে ২৯ আগস্ট কর্নেল এমিলিও পাল্লাভিচিনির নেতৃত্বাধীন এক সামরিক বাহিনী গ্যারিবল্ডির স্বেচ্ছাসেবকদের আক্রমণ করে। সংক্ষিপ্ত গোলাগুলিতে উভয় পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। গ্যারিবল্ডিদের ৭ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়, আর নিয়মিত সেনাদের ৫ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়। সংঘর্ষ এড়াতে গ্যারিবল্ডি যুদ্ধবিরতির নির্দেশ দেন। বাম পায়ের গোঁড়ালিতে আহত অবস্থায় তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

পল্লাভিচিনি তাকে প্রথমে স্কিল্লায় নিয়ে যান, পরে পাওলাতে। সেখান থেকে তাকে সামরিক জাহাজ স্টিম ফ্রিগেট ডিউকা দি জেনোভাতে তুলে লা স্পেজিয়া শহরে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে ভারিগনানো দুর্গে বন্দি রাখা হয়। পরে তাকে সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হলেও এই ঘটনা ইতালির রাজনীতিতে বড় ধাক্কা আনে। এর ফলে রত্তাজ্জি সরকারপ্রধান পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং রাজার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি গ্যারিবল্ডিকে এই অভিযানের ব্যাপারে ভুল আশ্বাস দিয়েছিলেন, পরে পরিস্থিতি জটিল হলে তাকে একা ছেড়ে দেন।

নতুন রাজ্যের শুরুর বছরগুলোতে ক্যালাব্রিয়াও একত্রীকরণের পর দস্যুতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। মেজ্জোজর্নো অঞ্চলে দস্যুতা আগে থেকেই ব্যাপক ছিল। তবে বোরবোঁ রাজ্য থেকে ইতালীয় রাজ্যে রূপান্তরের সময় এতে বৈধতাবাদী ভাবধারাও যুক্ত হয়। রোমে নির্বাসিত দুই সিসিলির ফ্রান্সিস দ্বিতীয়ের সরকার এবং স্থানীয় বোরবোঁ সমর্থকেরা দক্ষিণে তাণ্ডব চালানো বিভিন্ন দস্যু দলকে পরিচালনা ও সমন্বয় করার চেষ্টা করে। তারা বিশেষ করে নতুন উদারপন্থী শাসনের সমর্থকদের ওপর আক্রমণ চালায়, যাদের বলা হতো "গালান্তুয়োমিনি"। এরা সাধারণত সেই কৃষিভিত্তিক মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ ছিল, যারা সামাজিক মর্যাদা খুঁজছিল এবং বোরবোঁ রাজবংশের কাছে আগে গুরুত্ব পায়নি।

এই প্রেক্ষাপটে বোর্জেস অভিযানকে দেখতে হবে। এটি ছিল নেপলস রাজ্য পুনর্দখলের জন্য বোরবোঁ সমর্থকদের একটি চেষ্টা, যার নেতৃত্ব দেন হোসে বোর্হেস। তিনি ছিলেন কাতালান এক সেনাপতি, যিনি স্পেনে কার্লিস্ট যুদ্ধে পরিচিতি পান। তিনি ভাবছিলেন, ষাট বছর আগে কার্ডিনাল ফাব্রিজিও রুফোর অভিযান অনুকরণ করে সফল হওয়া যাবে। স্থানীয় জনগণ তাকে সমর্থন করবে, এমন আশ্বাস পেয়ে বোর্হেস মাল্টা থেকে রওনা হন। ১৮৬১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি মাত্র ২১ জন লোক নিয়ে ব্রাঙ্কালেওনে নামক স্থানে অবতরণ করেন, যাদের বেশির ভাগই স্প্যানিশ ছিল। তার লক্ষ্য ছিল দস্যু দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের একত্র করে একটি বড় বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে পুরো নেপলস অঞ্চল পুনর্দখল করা যায়।

এই উদ্দেশ্যে তিনি ফার্দিনান্দ মিট্টিগার দলে যোগ দেন। তিনি ছিলেন ১২০ জন দস্যুর নেতা। তবে শিগগিরই মতবিরোধ দেখা দেয়। দস্যু নেতা প্লাতি শহরে হামলা চালিয়ে স্থানীয় উদারপন্থীদের ওপর প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল। বোর্হেস এতে রাজি ছিলেন না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মেনে নিতে হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর হামলা চালানো হয়, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। জাতীয় রক্ষীবাহিনী ও নিয়মিত সেনারা দস্যু ও বৈধতাবাদীদের প্রতিহত করে। এই ব্যর্থতার পর দুই নেতার সহযোগিতা ভেঙে যায়।

২০ অক্টোবর বোর্হেস ক্যালাব্রিয়া ছেড়ে বাসিলিকাতা যান এবং কারমিনে ক্রোক্কোর সঙ্গে যোগ দেন। এতে কিছু আংশিক সাফল্য মিললেও মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। কারণ দস্যু নেতা তার লোকদের নিয়মিত সেনাবাহিনীতে রূপান্তর করতে রাজি হননি। পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় কাতালান সেনাপতি কাতালান সীমান্ত পেরিয়ে পাপাল রাষ্ট্রসমূহে ঢুকে রোমে গিয়ে বোরবোঁ শাসককে রিপোর্ট করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তালিয়াকোৎসোতে ধরা পড়েন এবং ১৮৬১ সালের ৮ ডিসেম্বর সঙ্গে সঙ্গে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বোর্হেসের অভিযান ব্যর্থ হলেও দস্যুতার অবসান হয়নি। বরং মেজ্জোজর্নো অঞ্চলে তা আরও তীব্র হয়। এজন্য ১৮৬৩ সালের ১৫ আগস্ট প্রথম মিঙ্গেত্তি সরকার পিকা আইন জারি করে। এই আইন দস্যুতা দমনের জন্য দক্ষিণাঞ্চলে সাংবিধানিক অধিকার স্থগিত করে, অবরোধ অবস্থা জারি করে এবং ধৃত দস্যুদের সামরিক আদালতে বিচার করার ব্যবস্থা করে, যেখানে আপিল বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছিল না।[৯৫] ক্যালাব্রিয়ার ক্ষেত্রে এই আইন ক্যালাব্রিয়া চিতেরিওরে ও ক্যালাব্রিয়া উলতেরিওরে সেকোন্ডা প্রদেশে প্রয়োগ করা হয়। তবে রেজ্জিও এলাকা, নেপলসের আশপাশ এবং আপুলিয়ার কিছু অংশ এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না, কারণ সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। পিকা আইন ১৮৬৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এটি দস্যুতা দমনে ভূমিকা রাখে, তবে কঠোর দমনমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে এবং দক্ষিণাঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি।[৯৩][৯৪]

একটি মূল সমস্যা ছিল লাতিফুন্ডিয়াম ব্যবস্থা। এটি ছিল বিশাল জমিদারি ব্যবস্থা, যা অল্প কয়েকজন জমির মালিকের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। তারাই স্থানীয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণি গঠন করত এবং দক্ষিণের রাজনৈতিক শ্রেণির ভিত্তি ছিল। এতে ব্যাপক নিরক্ষরতার কারণও বোঝা যায়। মেজ্জোজর্নো অঞ্চলে নিরক্ষরতা সর্বোচ্চ ছিল, যেখানে জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ পড়তে বা লিখতে পারত না।

পুরো রাজ্যে কাসাতি আইন সম্প্রসারণ করা হলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। এই আইন প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ দুই বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষা চালু করেছিল। কিন্তু স্কুল ভবন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, শিক্ষক নিয়োগ ও বেতন দেওয়ার দায়িত্ব ছিল পৌরসভাগুলোর ওপর। অনেক দক্ষিণাঞ্চলীয় পৌরসভা এটি করতে পারেনি, কারণ তাদের বাজেট ঘাটতি ছিল বা কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার রাজনৈতিক ইচ্ছা ছিল না। স্থানীয় নেতারা আশঙ্কা করতেন, শিক্ষা মানুষের সামাজিক দাবি বাড়িয়ে দেবে।

১৮৭৭ সালের কোপ্পিন্নো আইনও একই সমস্যার মুখে পড়ে। এই আইন বাধ্যতামূলক শিক্ষা ৯ বছর বয়স পর্যন্ত বাড়ায় এবং স্কুল নির্মাণকারী পৌরসভাকে কম সুদে ঋণ দেয়। তবু দক্ষিণাঞ্চলের অনেক পৌরসভা কাজ শুরু করেনি। তারা ভয় পেয়েছিল, নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা কৃষক জনগোষ্ঠীকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে, ফলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের ভোটব্যাংক হারাবে।[৯৩][৯৪]

জাতীয় রাজনীতিতে ক্যালাব্রিয়া থেকে অনেক রাজনীতিবিদ উঠে আসেন। তাদের অনেকেরই ইতালীয় ঐক্য আন্দোলনের অতীত ছিল। তারা সে সময়ের বিভিন্ন ইতালীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। জিওভান্নি নিকোতেরো ছিলেন সাপ্রি অভিযানের অংশগ্রহণকারী এবং কার্লো পিসাকানের সহযোদ্ধা। তিনি আগোস্তিনো দেপ্রেতিস ও আন্তোনিও দি রুদিনি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তিনি পেন্টার্কি নামে বামপন্থী একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন। এই গোষ্ঠীর ঐতিহাসিক বামপন্থার প্রধান নেতারা ছিলেন রুদিনি, ফ্রানচেসকো ক্রিসপি, জিউসেপ্পে জানারদেল্লি, আলফ্রেদো বাচ্চারিনি এবং বেনেদেত্তো কাইরোলি। তারা দেপ্রেতিসের রূপান্তরবাদী নীতির বিরোধিতা করতেন। লুইজি মিচেলি ছিলেন মাজ্জিনিবাদী ও গ্যারিবল্ডিবাদী নেতা। তিনি তৃতীয় কাইরোলি সরকারের কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। বার্নারদিনো গ্রিমালদি ছিলেন প্রথম ক্রিসপি সরকার ও প্রথম জিওলিত্তি সরকারের অর্থমন্ত্রী। তার সময়েই ১৮৯৩ সালের ব্যাঙ্কা রোমানা কেলেঙ্কারি ঘটে।[৯৩][৯৪]

১৮৮০ের দশকে মেজ্জোজর্নো অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। ১৮৮৯ সালে ইতালি ও ফ্রান্সের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধ শুরু হলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতালীয় সরকার দুর্বল শিল্পকে রক্ষা করতে বিদেশি পণ্যে শুল্ক বাড়ায়। এর জবাবে ফ্রান্স ইতালীয় কৃষিপণ্য আমদানি বন্ধ করে দেয়। এতে দক্ষিণের অনেক খামার ধ্বংস হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি এবং তীব্র অর্থনৈতিক দমননীতির ফলে অভিবাসন বেড়ে যায়, বিশেষ করে আমেরিকায়। এতে শ্রমের চাহিদা কমে যায়, কিন্তু অনেক অঞ্চল জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং সেরা কর্মশক্তি হারায়। উদাহরণ হিসেবে কাস্ত্রোভিল্লারি ও আশপাশের এলাকায় ১৯০১ সালে সমুদ্রপাড়ি অভিবাসনের কারণে জনসংখ্যা ৭,১৯০ জন কমে যায়।[৯৬]

নতুন একীভূত ইতালির রাজ্যে উত্তর ইতালি (নর্ড) ও দক্ষিণ ইতালির (মেজ্জোজর্নো) মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় বৈষম্য ছিল। ক্যালাব্রিয়া ও পুরো দক্ষিণাঞ্চল অবহেলিত ছিল। রোমে সাধারণ ধারণা ছিল যে অঞ্চলটি খুব পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র। ১৯শ শতকের শেষ দিকে মেজ্জোজর্নোর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর ছিল, কারণ সরকার দক্ষিণে শিক্ষায় বিনিয়োগ করেনি।[৯৭]

রোমান প্রশ্নের কারণে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত রোমান ক্যাথলিক চার্চ ক্যাথলিক পুরুষদের বহিষ্কারের হুমকি দিয়ে ইতালীয় নির্বাচনে ভোট দিতে নিষেধ করেছিল (উল্লেখ্য, ইতালীয় নারীরা ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত ভোটাধিকার পাননি।)[৯৮] ক্যালাব্রিয়ার গভীর ধর্মপ্রাণ মানুষ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় অঞ্চল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ক্লায়েন্টেলিস্ট ব্যবস্থার ফল ছিল। তারা মূলত জমিদার অভিজাতদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করত। মেজ্জোজর্নোর অন্য অঞ্চলের প্রতিনিধিদের মতো তারাও শিক্ষায় বেশি অর্থ বরাদ্দের বিপক্ষে ভোট দিতেন। তাদের ধারণা ছিল, শিক্ষিত জনগণ পরিবর্তনের দাবি তুলবে, যা ঐতিহ্যবাহী অভিজাতদের ক্ষমতার জন্য হুমকি হবে।[৯৭]

দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে ১৯শ শতকের শেষ দিকে ক্যালাব্রিয়ার সমাজে এনদ্রাংহেতা নামে একটি সংগঠিত অপরাধচক্র প্রভাব বিস্তার করে। সিসিলির মাফিয়া ও কাম্পানিয়ার কামোরার মতো এটি ইতালীয় রাষ্ট্রের পাশে একটি "সমান্তরাল রাষ্ট্র" তৈরি করেছিল।[৯৯]

১৯০১ থেকে ১৯১৪ সালের মধ্যে ক্যালাব্রিয়ার মানুষ ব্যাপকভাবে অভিবাসন শুরু করে, মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায়। ১৯০৫ সালে সর্বোচ্চ ৬২,৬৯০ জন অভিবাসী যায়।[১০০]

১৯০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর ক্যালাব্রিয়া ও সিসিলি একসঙ্গে একটি ভূমিকম্প এবং পরবর্তী সুনামিতে বিধ্বস্ত হয়। এতে প্রায় ৮০,০০০ মানুষ মারা যায়।[১০১] দুর্যোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্রিটিশ ও রুশ নৌবাহিনীর জাহাজ উপকূলে পৌঁছে বেঁচে যাওয়া মানুষদের সাহায্য করতে শুরু করে। কিন্তু নেপলস থেকে রেজিয়া মারিনার উদ্ধার অভিযান পাঠাতে ইতালির দুই দিন সময় লাগে।[১০১] ইতালীয় কর্তৃপক্ষের বিশৃঙ্খল ও অকার্যকর প্রতিক্রিয়াও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। কর্মকর্তাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও সহযোগিতা না করার কারণে অনেক গ্রামে সাহায্য পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়, যা ক্যালাব্রিয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করে।[১০১] রোমে উত্তরাঞ্চল-প্রভাবিত সরকার ক্যালাব্রিয়ার মানুষদের গুরুত্ব দেয় না, এমন অভিযোগ কমাতে রাজা ভিত্তোরিও এমানুয়েল তৃতীয় নিজে উদ্ধার কার্যক্রমের দায়িত্ব নেন। তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রামগুলো ঘুরে দেখেন, যা সাভোই রাজবংশকে অঞ্চলে কিছু জনপ্রিয়তা এনে দেয়।[১০২] বিশেষ করে রাজা সরাসরি দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব বন্ধ হয় এবং সাহায্য অনেক বেশি কার্যকরভাবে পৌঁছায়। এতে ক্যালাব্রিয়ার মানুষরা ভিত্তোরিও এমানুয়েল তৃতীয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ হয়।[১০২]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও ফ্যাসিবাদের উত্থান

[সম্পাদনা]
৬৪তম পদাতিক ডিভিশন কাতানজারোর প্রতীক

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ক্যালাব্রিয়া ইতালির যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অংশ নেয়। সেখানে পাঁচটি ব্রিগেড গঠন করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ছিল কাতানজারো ব্রিগেড। এটি ১৪১তম ও ১৪২তম দুইটি রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত ছিল এবং প্রায় পুরোপুরি ক্যালাব্রিয়ান সৈন্যদের নিয়ে তৈরি ছিল। এই ব্রিগেডটি রাজকীয় সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও কঠোরভাবে নিযুক্ত ইউনিটগুলোর একটি ছিল, বিশেষ করে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে যুদ্ধে। এটি রাজাের আত্মীয় আওস্তার ডিউকের অধীনে তৃতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি ইসোনজোর তৃতীয় যুদ্ধে অংশ নেয় এবং মন্তে সান মিকেলে ১৯১৫ সালের ১৭ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সৈন্য (প্রায় ৬,০০০ জন) হারায়।[১০৩] এছাড়া ১৯১৬ সালের জুনে স্ট্রাফএক্সপেডিশন চলাকালে ১৪১তম রেজিমেন্ট তাদের সদস্যদের ৩৮ শতাংশ হারায়, যার মধ্যে ৩৩৩ জন নিহত হয়।[১০৪]

কাতানজারো ব্রিগেডকে নিয়ে লা দোমেনিকা দেল কোরিয়েরে এরপ্রচ্ছদ

যুদ্ধকালে বীরত্বের জন্য সম্মানিত হওয়ার পাশাপাশি কাতানজারো ব্রিগেড ইতালীয় ফ্রন্টে প্রকাশ্য বিদ্রোহের একমাত্র ঘটনাও ঘটায়। এটি ১৯১৭ সালের জুনে ঘটে। কারণ ছিল, বিশ্রামের জন্য পেছনে পাঠানোর পরও সৈন্যদের আবার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেঞ্চে ফেরার নির্দেশ দেওয়া। ১৪২তম রেজিমেন্টের কিছু কোম্পানির অনেক সৈন্য অফিসারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং তিনজন অফিসার ও চারজন কারাবিনিয়েরি হত্যা করে।[১০৫] অশ্বারোহী, মোবাইল আর্টিলারি ও কারাবিনিয়েরির সহায়তায় বিদ্রোহ দমন করার পর জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডে দশভাগের একভাগ শাস্তি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। সতর্কবার্তা হিসেবে ২৮ জন সৈন্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বাকি সৈন্যদের অস্ত্রধারী পাহারায় আবার সামনের সারিতে পাঠানো হয়।[১০৩]

ব্রিগেডের কমান্ডার আওস্তার ডিউক বিদ্রোহের কারণ হিসেবে কার্স্ট মালভূমিতে দীর্ঘ সময়ের কঠিন সেবা এবং অন্য ব্রিগেডের তুলনায় কম বিশ্রামের সুযোগকে দায়ী করেন। তবে সপ্তম সেনা কোরের কমান্ডার জেনারেল তেত্তোনির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্রোহের পেছনে সৈন্যদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক প্রচারণা এবং রাশিয়াতে সাম্প্রতিক পরাজয়ের খবর ভূমিকা রেখেছিল।[১০৬]

১৯১৮ সালের ৩ নভেম্বর ভিলা জিউস্তির যুদ্ধবিরতি দিয়ে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সাবেক সৈন্যদের অবসর দেওয়া শুরু হয়। তাদের বেশির ভাগই ছিল কৃষক। যুদ্ধের সময় তাদের বড় জমিদারি ভেঙে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ছিল। একই সঙ্গে ফিউমে ও ডালমাতিয়া-সংক্রান্ত জাতীয়তাবাদী উত্তেজনা দেশে ক্ষোভ ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এতে ধর্মঘট, জাতীয়তাবাদী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহী কৃষকদের দ্বারা পতিত জমি দখল শুরু হয়। এসব কৃষক নানা রাজনৈতিক রঙের লীগ ও সংগঠনে সংগঠিত ছিল।

এই পরিস্থিতিতে ১৯১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর ইতালির সরকারপ্রধান ফ্রানচেসকো সাভেরিও নিত্তির সরকার ভিসোক্কি ডিক্রি জারি করে। এটি কৃষিমন্ত্রী আকিলে ভিসোক্কির নামে নামকরণ করা হয়। এই ডিক্রি প্রিফেক্টদের ক্ষমতা দেয় যে তারা আইনগতভাবে গঠিত কৃষক লীগ বা কৃষি সংস্থার সদস্যদের চার বছরের জন্য পতিত জমি অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিতে পারবেন। জমি পেতে হলে কৃষক ও জমিদার প্রতিনিধিদের সমান অংশগ্রহণে গঠিত একটি কমিটির অনুমতি লাগত, যা প্রিফেক্টের তত্ত্বাবধানে কাজ করত। এতে জমি দখলের মেয়াদ ও কৃষকদের জমিদারকে দেওয়া ভাড়ার পরিমাণও নির্ধারণ করা হতো। তবে ডিক্রি কার্যকর হওয়ার সাত মাস পরেও ভূমি বণ্টনের প্রভাব খুব সীমিত ছিল। ধারণা করা হয়, মাত্র ২৭,০০০ হেক্টর জমি বরাদ্দ হয়। অনেক গবেষকের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য কৃষি উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং কৃষকদের দ্বারা পতিত জমি দখলের ঘটনাগুলোকে বৈধতা দেওয়া ছিল।[১০৭] ভিসোক্কি ডিক্রি রক্ষণশীল ও সমাজতান্ত্রিক উভয় পক্ষ থেকেই সমালোচিত হয়। আরিগো সেরপিয়েরি পরে ফ্যাসিবাদী যুগে কৃষিমন্ত্রী হন। তিনি একে "যুদ্ধোত্তর সময়ের সবচেয়ে নিন্দনীয় ব্যবস্থাগুলোর একটি" বলেন।[১০৮] অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক নেতা ফিলিপ্পো তুরাতি এটিকে খুবই "সাহসহীন" বলে মনে করেন।[১০৯]

১৯২০ সালের সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্রার্থীরা শক্ত অবস্থান নেয়। সাবেক সৈন্যদের সমর্থনে তারা নির্বাচিত হয়। এমনকি সারাসেনিও তার কাস্ত্রোভিল্লারি আসনে ভেটেরানদের সমর্থিত প্রার্থীর কাছে হেরে যান। এই সময় ইতালীয় সমাজতান্ত্রিক পার্টি সংসদে ১৫৬ জন সদস্য নিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠে। কিন্তু দলটি ভেতরে বিভক্ত ছিল। একদল ছিল সর্বাধিকপন্থী, যারা বুর্জোয়া বিরোধী বিপ্লব চাইত। অন্য দল ছিল সংস্কারবাদী, যারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সামাজিক সংস্কার এগিয়ে নিতে চাইত। এই দ্বন্দ্বের ফলে প্রথমে তুরাতি ও বিসোলাতির মতো সংস্কারবাদীদের বহিষ্কার করা হয়। তারা পরে ইউনিটারি সমাজতান্ত্রিক পার্টি গঠন করেন। এরপর ১৯২১ সালে লিভর্নো কংগ্রেসে বিভাজন ঘটে এবং ইতালির কমিউনিস্ট পার্টি জন্ম নেয়, যা পরে ইতালীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে রূপান্তরিত হয়।

একই বছরে বেনিতো মুসোলিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন সাবেক সমাজতান্ত্রিক নেতা, যাকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে হস্তক্ষেপবাদী অবস্থানের কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এই দলটি ১৯১৯ সালে মিলানে গঠিত ফাস্চি দি কম্বাত্তিমেন্তো আন্দোলন থেকে বিকশিত হয়, যার কর্মসূচি ছিল বিপ্লবী ও জাতীয়তাবাদী।

সমাজতন্ত্রবিরোধিতা বাস্তবে রূপ নেয় ফ্যাসিস্ট স্কোয়াডগুলোর হামলায়। তারা ছিল আন্দোলনের সশস্ত্র বাহিনী। তারা পত্রিকা অফিস, সমবায় প্রতিষ্ঠান ও পার্টি কার্যালয়ে হামলা চালাত। নেতাদের লাঠিপেটা করত এবং জোর করে ক্যাস্টর অয়েল খাওয়াত। এই স্কোয়াডগুলোর অর্থায়ন করত বড় শিল্পগোষ্ঠী ও জমিদাররা। তারা ইতালিতে সম্ভাব্য বলশেভিক বিপ্লবের ভয়ে আতঙ্কিত ছিল, বিশেষ করে তথাকথিত বিয়েন্নিও রোসোর পর। অনেক সময় পুলিশ এসব হামলা প্রতিরোধ করেনি, বরং একাধিক ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টদের পক্ষ নিয়েছে।[১১০]

ক্যালাব্রিয়াতেও ফ্যাসিস্ট স্কোয়াডদের কর্মকাণ্ড গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ১৯২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, কাসিনিয়ানা শহরে, যা আস্প্রোমন্তে অঞ্চলে অবস্থিত, কারাবিনিয়েরি ও ফ্যাসিস্টরা "গ্যারিবল্ডি" কৃষি সমবায়ের শ্রমিকদের ওপর গুলি চালায়। শ্রমিকরা রোচেল্লার রাজপুত্রের জমি দখল করে আন্দোলন করছিলেন। এই হামলায় সমাজতান্ত্রিক অ্যাল্ডারম্যান পাসকোয়ালে মিক্কিয়া এবং দুই কৃষক রোজারিও কন্তুর্নো ও জিরোলামো পানেত্তা নিহত হন। মেয়র ফ্রানচেস্কো চেরাভোলো গুরুতর আহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর জমি দখল আন্দোলন শেষ হয়ে যায়।[১১১]

এরপর ১৯২২ সালের ৪ অক্টোবর, কাসিনিয়ানা ফাসচিওর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবার গুলি ছোড়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে জিউসেপ্পে বত্তাই উপস্থিত ছিলেন। একটি রাইফেলের গুলিতে তাঁর সঙ্গে থাকা এক ফ্যাসিস্টের হাতে আঘাত লাগে। প্রতিশোধ হিসেবে স্কোয়াড্রিস্টরা গ্যারিবল্ডি সমবায়ের সভাপতির বাড়িতে হামলা চালায়। অন্যদিকে কারাবিনিয়েরি প্রায় এক ডজন ফ্যাসিবাদবিরোধীকে গ্রেপ্তার করে।[১১১]এই ঘটনাগুলো লেখক মারিও লা কাভাকে তাঁর উপন্যাস কাসিনিয়ানার ঘটনা রচনায় অনুপ্রাণিত করে।[১১২]

ক্যালাব্রিয়ার সমাজে ফ্যাসিবাদের বিস্তার দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতোই ছিল। শহরাঞ্চলে ফাসচিও সংগঠনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা। তারা স্কোয়াড্রাচ্চেদের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমর্থন নিশ্চিত করতেন। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে বড় জমিদার ও প্রভাবশালী গ্রাম্য নেতারাই ফ্যাসিবাদের মূল শক্তি হয়ে ওঠেন। তারা "লাল" সংগঠনগুলোকে দুর্বল করতে এবং নিজেদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে নতুন দলে যোগ দেন।[১১৩]

ইতালো বালবো, বেনিতো মুসোলিনি, চেজারে মারিয়া দে ভেক্কি এবং মিশেলে বিয়ানকি নেপলসের ক্রীড়া ময়দানে সমবেত ৪০,০০০ ফ্যাসিস্টকে পরিদর্শন করছেন।

১৯২২ সালের ২৮ অক্টোবর রোম অভিমুখে অভিযানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ক্ষমতায় আসে। এর পর দক্ষিণাঞ্চলেও একটি কেন্দ্রীভূত একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ১৯২৪ সালে সমাজতান্ত্রিক সাংসদ জিয়াকোমো মাত্তেওত্তি হত্যার পর এই শাসন আরও শক্ত হয়। ১৯২৫-১৯২৬ সালের লেজ্জি ফ্যাসিস্টাসিমি আইনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট দল ছাড়া সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়। সংবাদপত্রে সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়। ট্রেড ইউনিয়ন ও ধর্মঘট নিষিদ্ধ করা হয়। প্রশাসনিক দিক থেকেও পরিবর্তন আনা হয়। নির্বাচিত মেয়র পদ বাতিল করা হয়। এর পরিবর্তে পোদেস্তা নিয়োগ করা হয়, যাকে প্রিফেক্ট সরাসরি নিয়োগ দিতেন। পৌরসভার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় তার পূর্ণ ক্ষমতা থাকত।[১১৩]

এই সময়ে ক্যালাব্রিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন মিশেলে বিয়ানকি। তিনি বেলমন্তে কালাব্রোর বাসিন্দা ছিলেন এবং মুসোলিনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ১৯২২ সালের রোম অভিযানের চার নেতার একজনও ছিলেন তিনি। তিনি সাংসদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং পরে গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৩০ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। তাঁর সময়ে ক্যালাব্রিয়ায় বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ হয়। এর মধ্যে কামিলিয়াতেল্লো সিলানো স্কি রিসোর্ট উল্লেখযোগ্য, যার প্রাথমিক নাম ছিল কামিলিয়াতেল্লো বিয়ানকি। এছাড়া তোম্মাসো আরনোনি মেয়র থাকা সময়ে (১৯২৫-১৯৩৪) কোসেনজায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়।[১১৩]

১৯২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রেজ্জো ক্যালাব্রিয়া শহরে গুজব ছড়ায় যে বেনিতো মুসোলিনি মাত্তেওত্তি ঘটনার কারণে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এই খবরে শহরে সারারাত আনন্দ উদ্‌যাপন চলে।[১১৪]

পরদিন সকালে জানা যায় যে মুসোলিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব ত্যাগ করেননি। তবে আনন্দ উদ্‌যাপন দমন না করায় কয়েকজন ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। ক্যালাব্রিয়ার জমিদার অভিজাত শ্রেণি আদর্শগতভাবে ফ্যাসিবাদের প্রতি খুব দৃঢ় না হলেও, তারা শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার শক্তি হিসেবে ফ্যাসিস্ট শাসনকে দেখত। তাই তারা একনায়কতন্ত্রকে সমর্থন করে।[১১৫]

একইভাবে ক্যালাব্রিয়ার প্রিফেক্ট ও পুলিশ কর্মকর্তারাও রক্ষণশীল ছিলেন। তারা নিজেদের প্রথমে রাজা ভিক্টর ইমানুয়েল তৃতীয়ের সেবক এবং পরে মুসোলিনির অনুগত মনে করতেন। তবে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের চেয়ে ফ্যাসিবাদকে তারা বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করতেন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধীদের দমন করতেন।[১১৫]

ক্যালাব্রিয়ার ঐতিহ্যবাহী অভিজাত গোষ্ঠীগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ফ্যাসিস্ট দলে যোগ দেয়। স্থানীয় শাখাগুলোতে প্রভাব ও ক্ষমতা নিয়ে অভিজাত পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যায়।[১১৬]

এত কিছুর পরও ফ্যাসিস্ট শাসনে ক্যালাব্রিয়ার অবস্থার উন্নতি হয়নি। ১৯২৮ সালে গবেষক (এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী) উমবের্তো জানোত্তি বিয়াঙ্কো ও মানলিও রোসি দোরিয়া যে সমীক্ষা চালান, তা থেকে এই চিত্র স্পষ্ট হয়। তাদের গবেষণার ফল প্রকাশিত হয় ত্রা লা পেরদুতা জেন্তে গ্রন্থে। সেখানে তারা আফ্রিকো নামের আসপ্রোমন্তের একটি ছোট গ্রামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করেন। ১৯০৮ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে গ্রামটি টিকে ছিল। ভৌগোলিকভাবেও এটি ছিল বিচ্ছিন্ন। গ্রামজুড়ে রোগব্যাধি ছড়িয়ে ছিল। শিশু মৃত্যুর হার ছিল অত্যন্ত বেশি। নির্বিচারে কর আরোপ করা হতো। সেখানে কোনো চিকিৎসক ছিল না। বিদ্যালয়ও ছিল না, ক্লাস নেয়া হত শিক্ষকের শোবার ঘরেই। গ্রামের মানুষ মসুর ও ছোলার আটা দিয়ে তৈরি রুটি খেয়ে জীবন ধারণ করত।[১১৭]

সরকার দেশের গ্রামীণ চরিত্র ধরে রাখতে চেয়েছিল। এজন্য কৃষক ও শ্রমিকদের শহরে যাওয়া নিরুৎসাহিত করতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবু শহরাঞ্চলেও উন্নয়ন ঘটে। এর উদাহরণ হলো গ্রান্দে রেজ্জো প্রকল্প। এটি ছিল শহর সম্প্রসারণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকা একীভূত করার পরিকল্পনা। রেজ্জোর প্রথম পোদেস্তা জিউসেপ্পে জেনোয়েসে জেরবি এই পরিকল্পনার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন। তিনি প্রণালী উপকূলের শহরের সঙ্গে আশপাশের চৌদ্দটি পৌরসভা ও উপশহর যুক্ত করতে সক্ষম হন। এর মধ্যে ছিল কাতোনা, গাল্লিকো, অর্তি, পোদারগোনি, মোসোর্রোফা, গাল্লিনা, পেল্লারো, কান্নিতেল্লো, ভিলা সান জিওভান্নি, কাম্পো কালাব্রো এবং ফিউমারা। শেষের চারটি অঞ্চল ১৯৩৩ সালের ২৬ জানুয়ারির সরকারি ডিক্রির মাধ্যমে আলাদা হয়ে ভিলা সান জিওভান্নি পৌরসভা গঠন করে। যুদ্ধের পর কাম্পো কালাব্রো ও ফিউমারা আবার স্বায়ত্তশাসন পায়। এভাবে শহরের জনসংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়।

এই একীভবনের পেছনে নানা কারণ ছিল। কর্তৃপক্ষের যুদ্ধের কারণে থেমে থাকা ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠন দ্রুত শেষ করার ইচ্ছা ছিল। উপকূল বরাবর শহর বাড়ায় সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও যোগাযোগ সহজ করা সম্ভব হয়। ছোট পাহাড়ি গ্রাম থেকে মানুষকে একটি বড় শহরে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যও ছিল। ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে রেজ্জো ক্যালাব্রিয়া আধুনিকায়নের পথে এগোয়। নতুন নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠে। সামাজিক আবাসন নির্মিত হয়। পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল নতুন রেজ্জো দি ক্যালাব্রিয়া চেন্ত্রালে রেলওয়ে স্টেশন, মাগনা গ্রেচিয়ার জাতীয় জাদুঘর এবং ফ্রানচেস্কো চিলেয়া পৌর থিয়েটার।

ফ্যাসিস্ট শাসনের নির্মাণনীতি অন্য শহরগুলোকেও প্রভাবিত করে। গণপূর্তমন্ত্রী লুইজি রাজ্জার উদ্যোগে মনতেলেওনে দি ক্যালাব্রিয়া শহরে (যার নাম রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে বদলে ভিবো ভালেন্তিয়া রাখা হয়, এবং এখনো সেই নাম বহাল) একটি নতুন পৌর ভবন নির্মিত হয়। এটি ১৯৩৫ সালে উদ্বোধন করা হয়। একই বছরে বিমান দুর্ঘটনায় রাজ্জার মৃত্যু হলে, তাঁর স্মরণে শহরে ভাস্কর ফ্রানচেস্কো লোঙ্গোর নির্মিত একটি ব্রোঞ্জ মূর্তি স্থাপন করা হয়। ১৯৩৯ সালে স্বয়ং ডিউক সেটির উদ্বোধন করেন। ভিবো ভালেন্তিয়ায় সামরিক বিমানবন্দর, স্টেডিয়াম, একটি চত্বর এবং ঐতিহাসিক কেন্দ্রের একটি সড়কের নামও লুইজি রাজ্জার নামে রাখা হয়।[১১৮]

ইতালির অন্যান্য অঞ্চলের মতো ক্যালাব্রিয়াতেও ফ্যাসিবাদের প্রতি সর্বোচ্চ সমর্থন দেখা যায় ১৯৩৫-১৯৩৬ সালের দ্বিতীয় ইতালো-ইথিওপীয় যুদ্ধের সময়। বহু ক্যালাব্রিয়ান এই যুদ্ধে অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবকদের পাঠানো অর্থ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাত। এতে অঞ্চলের চরম দারিদ্র্য কিছুটা হলেও সাময়িক স্বস্তি পায়। ক্যালাব্রিয়ার উচ্চপদস্থ ধর্মীয় নেতাদের অনেকেও আফ্রিকায় উপনিবেশিক যুদ্ধকে সমর্থন করেন। ১৯২৯ সালের লাতেরান প্যাক্টসের পর চার্চ ও রাষ্ট্রের সহযোগিতার এটি ছিল এক শীর্ষ মুহূর্ত। উদাহরণ হিসেবে, রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ার আর্চবিশপ কারমেলো পুজিয়া (যিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগেই হস্তক্ষেপপন্থী ছিলেন) দেশের গৌরব ও ইতালীয় পতাকার প্রশংসায় একটি প্রার্থনা রচনা করান।[১১৮]

ফ্যাসিস্ট শাসনামলে ক্যালাব্রিয়ায় কয়েকটি বন্দিশিবির স্থাপন করা হয়। সেখানে এমন বিদেশিদের আটক রাখা হতো, যাদের ইতালিতে উপস্থিতি অযাচিত বলে মনে করা হতো। এর মধ্যে ছিল চীনা অভিবাসী ও বিদেশি ইহুদিরা (তবে ইতালীয় ইহুদিরা নয়)। এছাড়া রোমানি জনগোষ্ঠীর সদস্যদেরও আটক করা হয়, কারণ তাদের যাযাবর জীবনধারা রাষ্ট্রের চোখে অসামাজিক বলে বিবেচিত হতো।[১১৯]

১৯৩৮ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত এসব শিবির চালু ছিল। এগুলো মৃত্যুশিবির ছিল না। অধিকাংশ বন্দিই বেঁচে ফিরেছিলেন। তবে বন্দিদের জন্য পরিস্থিতি ছিল কঠোর ও কষ্টকর।[১২০]

১৯৪০ সালের ১০ জুন ইতালি ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে ক্যালাব্রিয়াও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের প্রথম সময়ে সাধারণ মানুষ দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে ভোগে। শ্রমশক্তির অভাব ছিল। মজুরি কম ছিল। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। এসব পণ্য আগেই স্বল্প ছিল এবং রেশনিংয়ের আওতায় ছিল। মাংস ও চিনি ইত্যাদি পণ্য কেবল কালোবাজারেই পাওয়া যেত, তাও তিনগুণ দামে। বড় জমিদাররাও এই পরিস্থিতির সুযোগ নেয়। তারা গুদামে রাখার কথা ছিল এমন ফসলের একটি অংশ গোপনে সরিয়ে রাখত। পরে সেগুলো কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করত।

মিত্রশক্তির বিমান হামলাও সাধারণ মানুষের মনোবল ভেঙে দেয়। কখনও কখনও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও নিহত হন। ১৯৪৩ সালের ৩১ জানুয়ারি রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ার আর্চবিশপ এনরিকো মন্তালবেত্তি মেলিতো দি পোর্তো সালভোতে পাস্তোরাল সফরে ছিলেন। সেই সময় মিত্রবাহিনীর একটি ফাইটার-বোমারু বিমানের গুলিবর্ষণে তিনি নিহত হন। ওই হামলায় মোট ১১ জন প্রাণ হারান।[১২১]

১৯৪৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ও কানাডীয় সেনারা অষ্টম ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অধীনে অপারেশন বেইটাউনের অংশ হিসেবে ক্যালাব্রিয়ায় অবতরণ করে। এটাই ছিল ইতালির মূল ভূখণ্ডে মিত্রবাহিনীর প্রথম অবতরণ।[১২২]

তবে ক্যালাব্রিয়ায় এই অবতরণ ছিল মূল আক্রমণ নয়, বরং একটি ভান। ক্যালাব্রিয়ার উপর পূর্ণ আঘাত আসে ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৩ তারিখে, যখন মার্কিন পঞ্চম সেনাবাহিনী সালের্নোতে অবতরণ করে। এর উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ ইতালিতে অক্ষশক্তির বাহিনীকে বিচ্ছিন্ন করা।[১২৩]

জার্মানরা আগেই ধারণা করেছিল যে মিত্রবাহিনী সালের্নোতেই নামবে। ফলে ক্যালাব্রিয়ায় তুলনামূলক কম লড়াই হয়। ক্যালাব্রিয়ায় থাকা ইতালীয় সেনাদের বেশিরভাগই অগ্রসরমান ব্রিটিশ ৫ম পদাতিক ডিভিশন (যুক্তরাজ্য) ও ১ম কানাডীয় ডিভিশনের কাছে আত্মসমর্পণ করে। অঞ্চলে জার্মান সেনা উপস্থিতিও ছিল সীমিত।[১২৩]

তবে অগ্রসরমান অ্যাংলো-কানাডীয় বাহিনীর প্রধান বাধা ছিল পিছু হটার সময় জার্মান বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ। জার্মান প্রকৌশলীরা পরিকল্পিতভাবে সেতু উড়িয়ে দেয়। রাস্তা ও রেললাইন ধ্বংস করে।[১২৪]

যেদিন আমেরিকানরা সালের্নোতে অবতরণ করে, সেদিনই জেনারেল ডুয়াইট আইজেনহাওয়ার রেডিওতে কাসিবিলে সন্ধি ঘোষণার কথা জানান। এই সন্ধি ৩ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সন্ধির ঘোষণা হওয়ার পর ইতালীয় বাহিনীর প্রতিরোধ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।[১২৩]

জার্মানরা দক্ষিণ ইতালির অধিকাংশ বাহিনী সালের্নোর যুদ্ধে নিয়োজিত করে। তাদের লক্ষ্য ছিল মিত্রবাহিনীকে সমুদ্রে ঠেলে দেওয়া। তাই তারা ক্যালাব্রিয়া থেকে বাকি সেনাদেরও সরিয়ে সালের্নোতে পাঠায়।[১২৩]

মিত্রশক্তির দখলদারির সময় ক্যালাব্রিয়ার কিছু ফ্যাসিস্ট সালো প্রজাতন্ত্রের পক্ষে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক ফ্যাসিস্টই ছিল ধনী পরিবার থেকে আসা। তারা সামাজিক সংস্কারের সম্ভাবনায় নিজেদের ক্ষমতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল। আদর্শগতভাবে নিবেদিত ফ্যাসিস্ট ছিল সংখ্যালঘু। যেমন, প্রিন্স ভালেরিও পিন্যাতেল্লি ছিলেন আদর্শবাদী ফ্যাসিস্টদের একজন।[১২৫]

১৯৪৪ সালের জুনে রোম মুক্ত হওয়ার খবর পেয়ে রেজ্জো ক্যালাব্রিয়াতে আনন্দ উদ্‌যাপন শুরু হয়। কিন্তু স্থানীয় ফ্যাসিস্টরা সেই উদ্‌যাপনে বাধা দেয়।[১২৫]

মিত্রবাহিনীর হাতে মুক্ত হওয়ার পর ক্যালাব্রিয়া তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় নিমজ্জিত ছিল।[১২৬] কৃষি খাত ছিল অত্যন্ত অনুন্নত। শিল্পখাত ছিল একেবারে শৈশব পর্যায়ে। কারখানা ছিল কম এবং দীর্ঘ ও বিধ্বংসী যুদ্ধের ফলে সেগুলো ভেঙে পড়েছিল। সিলা অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো টিকে থাকলেও উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় অংশ অন্যত্র পাঠানো হতো, যেমনটি ফ্যাসিস্ট আমলেও হতো। সড়ক ও পানীয় জলের মতো অবকাঠামো আগেই ছিল দুর্বল ও অপ্রতুল। যুদ্ধের পর সেগুলো আরও নাজুক হয়ে পড়ে।[১২৬]

সব মিলিয়ে অঞ্চলটি ছিল বিচ্ছিন্ন ও বিপর্যস্ত। যদিও এটি সরাসরি ফ্রন্টলাইনে ছিল না, তবুও আগে মিত্রবাহিনীর বোমা হামলা এবং পরে জার্মানদের পিছু হটার সময় ধ্বংসযজ্ঞে এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[১২৬]

পরিস্থিতির গুরুতরতা দেখে মিত্র কর্তৃপক্ষও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়ে পড়ে। হ্যারল্ড আলেকজান্ডারের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে, মিত্র সামরিক সরকারের সিভিল অ্যাফেয়ার্স প্রধান ইংরেজ মেজর জেনারেল ফ্রান্সিস রেনেল রড উল্লেখ করেন যে "হতাশ ও উদাসীন জনসংখ্যা" এবং "অদক্ষ আমলাতন্ত্র" নিয়ে শাসন চালানো অত্যন্ত কঠিন। তিনি এমনকি দস্যুবৃত্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।[১২৬]

এই দারিদ্র্য ভূমিহীন ও বঞ্চিত জনগণকে আন্দোলিত করে তোলে। সামাজিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর ফলে প্রতিক্রিয়াশীল জমিদার শ্রেণির ওপর ভিত্তি করে টিকে থাকা প্রায়-সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার চূড়ান্ত সংকট দেখা দেয়। তারা পরজীবী ভাড়ার আয়ে জমিকে আটকে রেখেছিল এবং উন্নয়ন থামিয়ে দিয়েছিল।[১২৬]

মিত্র সামরিক সরকার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবন পুনরায় চালু করার চেষ্টা করে। তবে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের মূল কাঠামো তারা ভেঙে দেয়নি।[১২৬] টাউন হলের সামনে জড়ো হওয়া জনতা অনেক সময় শুধু রুটির রেশন কার্ডের মতো খাদ্য সহায়তার দাবি জানাত।[১২৬] কিন্তু এসব বিক্ষোভ ক্রমে রাজনৈতিক রূপ নিতে থাকে। কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক কর্মীরা এগুলোর নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। আন্দোলনে স্পষ্ট ফ্যাসিবাদবিরোধী সুর শোনা যায়।[১২৬]

অনেক ক্ষেত্রে এসব বিক্ষোভ দাঙ্গায় রূপ নেয়। সহিংসতা ঘটে এবং কয়েকজন নিহত হন। ক্যালাব্রিয়ায় প্রথম বিদ্রোহ ঘটে ৯ সেপ্টেম্বর সকালে লিম্বাদি শহরে। সদ্য মুক্ত হওয়া শহরটি দ্রুত সংঘর্ষের ময়দানে পরিণত হয়। তবে সেখানে কোনো প্রাণহানি হয়নি। ঢেউয়ের মতো অন্য অনেক শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মিত্রবাহিনীর হাতে মুক্ত হওয়া বিভিন্ন শহরের মানুষ তাদের মেয়র ও পৌর সচিবদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।[১২৬]

সবচেয়ে পরিচিত ঘটনা হলো ৪ নভেম্বর কোসেনজার বিদ্রোহ। শুরুতে এটি ক্ষুধা ও আবাসন সংকটের কারণে শুরু হয়। পরে তা রাজনৈতিক সংগ্রামে রূপ নেয়। জনগণের ভোটে ফ্যাসিস্ট মেয়র এনরিকো হেন্দ্রিখ অপসারিত হন।[১২৬]

ফ্যাসিবাদের পতন এবং মিত্রবাহিনীর প্রবেশের ফলে ক্যালাব্রিয়ায় সমালোচনামূলক ও সচেতন জনমত গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলো প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করে। এর মধ্যে ছিল ইতালীয় সমাজতান্ত্রিক পার্টি, ইতালীয় কমিউনিস্ট পার্টি এবং খ্রিস্টীয় গণতন্ত্র। শেষোক্ত দলটি ছিল ক্যাথলিক আদর্শে অনুপ্রাণিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন। এটি ১৯৪২ সালে আধা-গোপন অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ডন লুইজি স্তুরজোর ইতালীয় পিপলস পার্টিের উত্তরসূরি ছিল। প্রতিটি দলের নিজস্ব পত্রিকা ও রাজনৈতিক কার্যালয় ছিল।[১২৭][১২৮]

এই সব ঘটনার প্রভাব পড়ে মিত্রবাহিনী মুক্ত করা ইতালির অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর। ইতালির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ ছিল কৃষক। উপদ্বীপের মধ্য ও উত্তর অংশে তারা তখনও নাজি-ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। একই সময়ে তারা নিজেদের দুর্দশাগ্রস্ত জীবনযাপনের প্রতিবাদে একের পর এক সহিংস আন্দোলন শুরু করে। তাদের প্রধান দাবি ছিল বড় বড় জমিদারি ভেঙে জমি বণ্টন করা। অনেক ক্ষেত্রে তারা অনাবাদি জমি দখল করে চাষ শুরু করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরও এমন ঘটনা ঘটেছিল।

নিজেদের অধিকার ফিরে পেতে সংগঠিত হওয়া কৃষকদের সামনে দাঁড়ায় ভূস্বামী ও বড় জমির মালিকদের একটি প্রভাবশালী শ্রেণি। এরা শুরুতে ফ্যাসিবাদের শক্ত সমর্থক ছিল। কিন্তু মিত্রবাহিনী অগ্রসর হওয়ার পর তারা পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের অবস্থান বদলাতে চায়। তাদের লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা ধরে রাখা।[১২৭][১২৮]

এই সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলার জন্য ১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর এক মাস আগে রোম মুক্ত হয় এবং সাভয়ের ভিক্টর ইমানুয়েল তৃতীয় তার পুত্র সাভয়ের উমবের্তো দ্বিতীয়ের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। উমবের্তো তখন রাজ্যের লেফটেন্যান্টের দায়িত্ব পান। এই সময়ে ক্যালাব্রিয়ার কমিউনিস্ট নেতা ফাউস্তো গুল্লো (যিনি দ্বিতীয় বাদোলিও সরকারে কৃষিমন্ত্রী ছিলেন এবং পরে দ্বিতীয় বোনোমি সরকার, তৃতীয় বোনোমি সরকার ও পারি সরকারে একই দায়িত্ব পালন করেন) কৃষকদের অবস্থার উন্নতির জন্য একগুচ্ছ ডিক্রি প্রস্তাব করেন। এসব ডিক্রি তাঁর নামানুসারে পরিচিত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ ডিক্রিগুলোর মধ্যে ছিল ভাগচাষ ব্যবস্থার সংস্কার (যেখানে বার্ষিক চুক্তির বদলে দুই বছরের চুক্তি চালু করা হয়; কৃষি সমবায়ে যুক্ত একক কৃষকদের অনাবাদি জমি দেওয়া), যারা তাদের উৎপাদিত ফসল সরকারি গুদামে জমা দিত তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া (যে ফসল আগে কালোবাজারে চলে যেত) এবং কাপোরালে বা দিনমজুর সংগ্রাহকের প্রথা নিষিদ্ধ করা।

ঐতিহাসিক পল গিন্সবর্গ এই ডিক্রিগুলোকে "বামপন্থী সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সংস্কারের পথে এগোনোর একমাত্র প্রচেষ্টা" বলে উল্লেখ করেছেন।[১২৯] এসব উদ্যোগের ফলে গুল্লো (যিনি "কৃষকদের মন্ত্রী" নামে পরিচিত হন)[১৩০] দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফল অর্জন করেন। প্রথমত দক্ষিণ ইতালির কৃষকেরা বুঝতে পারে যে রাষ্ট্র তাদের সমস্যার প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন নয়। দ্বিতীয়ত তারা উপলব্ধি করে যে সমবায়ের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের শক্তি অনেক বাড়ে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় (বিশেষ করে গিউসেপ্পে দি ভিত্তোরিওর নেতৃত্বাধীন ইতালিয়ান জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবারের সহায়তায়) গুল্লোর সংস্কার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়। আরও দুটি ডিক্রি জারি করা হয়, যার একটি ছিল করযোগ্য শ্রমহার নির্ধারণ নিয়ে এবং অন্যটি শ্রমিক নিয়োগের তালিকা নিয়ে। প্রথমটির মাধ্যমে শ্রমিক সংগঠনগুলো নির্ধারণ করতে পারত, একজন জমির মালিকের জমিতে কতজন শ্রমিক কাজ করবে। দ্বিতীয়টির মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগের দায়িত্বও সংগঠনের হাতে আসে। এতে অন্তত গরিবদের মধ্যে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয় এবং কৃষকেরা অনুভব করে যে ইউনিয়ন তাদের পক্ষেই আছে।[১২৯][১৩০]

তবে গুল্লোর ডিক্রিগুলোর বিরোধিতা করে জমিদার শ্রেণি। তারা কখনও সংগঠিত অপরাধচক্র ব্যবহার করে, কখনও খ্রিস্টীয় গণতন্ত্রীদের রক্ষণশীল অংশের সমর্থন নেয়। সরকারি পদক্ষেপগুলোর সম্ভাব্য বিপ্লবী প্রভাব দেখে খ্রিস্টীয় গণতন্ত্রীদের একটি অংশ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যায়ে অনেক খ্রিস্টীয় গণতন্ত্রী নেতা (যারা অতীত শাসনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন) ডিক্রিগুলোতে এমন সংশোধনী আনতে সক্ষম হন যাতে সেগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে যায়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অনাবাদি জমি বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিত একটি বিশেষ প্রাদেশিক কমিশন। এতে থাকতেন আপিল আদালতের সভাপতি, একজন জমিদার প্রতিনিধি এবং একজন কৃষক প্রতিনিধি। এই কমিশন প্রায়ই জমির মালিকদের পক্ষে রায় দিত। আবার কিছু ডিক্রি (যেমন কৃষকদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিধান) অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে জাতীয় কমিউনিস্ট নেতৃত্বের নমনীয় ভূমিকাও ভূমিকা রাখে। তারা সামাজিক সংঘাতকে তীব্র করতে চায়নি, কারণ এতে খ্রিস্টীয় গণতন্ত্রীদের সঙ্গে তাদের সরকারি জোট ভেঙে যেতে পারত।[১৩১] কমিউনিস্টরা এমন সব বিপ্লবী প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার পথে যায়নি, যেগুলোর শিকড় ছিল এসব সামাজিক ও অর্থনৈতিক দাবিদাওয়ার ভেতরেই। তারা বরং কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি পালমিরো তোয়ালিয়াত্তির কৌশল অনুসরণ করেছিল। তাঁর মতে, খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাট নেতা আলচিদে দে গাসপেরির সঙ্গে মিলিয়ে ধীরে ধীরে গণতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হওয়াই শ্রেয়, সরাসরি বিপ্লব নয়।

এই নীতির বিপরীত একটি ঘটনা ছিল কাউলোনিয়ার লাল প্রজাতন্ত্র। এটি ঘোষণা করা হয় ১৯৪৫ সালের ৬ মার্চ। ঘোষণাকারী ছিলেন পাস্কুয়ালে কাভাল্লারো, যিনি কাউলোনিয়া শহরের মেয়র ছিলেন। এই শহরে ১৯৪৪ সালের জানুয়ারি থেকেই ভূমিপতি শ্রেণি ও শ্রমজীবীদের মধ্যে সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছিল। সেই সময়েই, রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়ার প্রিফেক্ট তাঁকে মেয়র পদে নিয়োগ দেন। তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট, তবু তাঁকে বসানো হয়েছিল পাস্কুয়ালে সাভেরিও আস্কিউত্তির জায়গায়, যিনি ফ্যাসিবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মেয়র কাভাল্লারো স্থানীয় পার্টিজান শাখার সদস্যদের বিশেষ ক্ষমতা দেন। এই শাখার নেতৃত্বে ছিলেন তাঁর ছেলে এরকোলে কাভাল্লারো। তারা অস্ত্র হাতে পুলিশি তল্লাশি চালাত। বহু ক্ষেত্রেই এই তল্লাশি শেষ হতো ফ্যাসিবাদী নেতা ও বড় ভূমিপতিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায়।

এমনই এক অভিযানে, দুইজন ভূমিপতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় এরকোলে ও তার দুই সঙ্গীকে চুরির অভিযোগে কারাবিনিয়ারি বাহিনী গ্রেপ্তার করে। মেয়র সঙ্গে সঙ্গে ছেলের মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা শুরু করেন। এর ফলেই বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। ১৯৪৫ সালের ৫ মার্চ কাভাল্লারোর অনুগতরা এরকোলেকে মুক্ত করে। তারা কাউলোনিয়ায় ঢোকার সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ডাকঘর, টেলিগ্রাফ অফিস ও কারাবিনিয়ারি ব্যারাক দখল করে নেয়। পরদিন তারা গির্জার ঘণ্টা-টাওয়ারে হাতুড়ি ও কাস্তে-খচিত লাল পতাকা তুলে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে।

এই ঘটনার খবর টেলিগ্রামের মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গেই কমিউনিস্ট পার্টির কাছে পৌঁছে যায়।[১৩২]

সবার দায়িত্ব আলাদা করে ভাগ করা হয়েছিল। পার্টিজান শাখা এলাকার সশস্ত্র প্রতিরক্ষা সামলাত। নারীরা খাবার ও রসদ জোগান দিত। আর কমিউনিস্ট সদস্যদের দায়িত্ব ছিল পার্টি ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। বিপ্লবীরা একটি "জনগণের আদালত"ও গঠন করে। এটি শহরের চত্বরে বসত এবং "জনগণের শত্রুদের" বিচার করার ক্ষমতা রাখত। পাশাপাশি একটি আটক শিবিরও তৈরি করা হয়, যেখানে অনেক স্থানীয় ভূমিপতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বন্দি রাখা হয়।

এই বিপ্লবী অভিজ্ঞতা রক্ষণশীলদের পাশাপাশি কমিউনিস্ট নেতাদেরও চিন্তায় ফেলে। তারা কাভাল্লারোর ওপর চাপ দেন, যাতে তিনি উত্তেজনা কমান এবং বিদ্রোহের ইতি টানেন। এরপর মেয়র বিদ্রোহীদের মুখপাত্রের ভূমিকা নেন। তিনি প্রায় সবাইকে বাড়ি ফিরে যেতে ও অস্ত্র নামিয়ে রাখতে রাজি করান। তবে কিছু কট্টর বিদ্রোহী আত্মসমর্পণ না করে আত্মগোপনে চলে যায়।

শেষ পর্যন্ত ১৯৪৫ সালের ৯ মার্চ, মাত্র তিন দিনের মধ্যেই সবকিছুর অবসান ঘটে। রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়ার প্রিফেক্ট কারাবিনিয়ারি ও পুলিশের দল পাঠান কাউলোনিয়ায়। তারা ৩৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র দল গঠন, হত্যা, সাধারণ মানুষের ওপর সহিংসতা এবং সরকারি ক্ষমতা দখলের অভিযোগ আনা হয়। মামলাগুলো পাঠানো হয় লোক্রি আদালতে। পরে ১৯৪৫ সালের ১৫ এপ্রিল কাভাল্লারো মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন।[১৩১]

ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ জনাথন ডানেজ লিখেছেন, ক্যালাব্রিয়ায় উদারপন্থী, ফ্যাসিবাদী ও ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ের আমলাদের মধ্যে একটি "প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা" ছিল। প্রতিবারই রোমে শাসন বদলালেও, এই অঞ্চলের আমলারা নতুন ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। ১৯২২ কিংবা ১৯৪৩, কোনো সময়েই সরকারি কর্মচারীদের বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান হয়নি।[১৩৩]

এই প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতার মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্যমান সামাজিক কাঠামো টিকিয়ে রাখা।[১৩৩] ১৯৪৬ সালের ২ জুনের গণভোটে ক্যালাব্রিয়া (দক্ষিণ ইতালির অন্য অঞ্চলগুলোর মতোই) রাজতন্ত্র বজায় রাখার পক্ষে ভোট দেয়। উদারপন্থী ও ফ্যাসিবাদী যুগে যে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি চালু ছিল (যেখানে অভিজাত পরিবারগুলো নিজেদের সমর্থকদের সুবিধা দিত এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ব্যবহার করত) তা ১৯৪৫ সালের পরেও বহাল থাকে।[১৩৪]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্যালাব্রিয়ার মানুষের জীবনমান, যা আগেই খুব নিচু ছিল, আরও খারাপ হয়ে যায়। অঞ্চলটি ইতালির সবচেয়ে সহিংস ও আইনহীন এলাকাগুলোর একটি হিসেবে কুখ্যাত ছিল।[১৩৫]

ক্যালাব্রিয়ার কৃষকরা যখন অভিজাতদের মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা করত, তখন সাধারণত কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াত। ১৯৪৯ সালের ২৮ অক্টোবর মেলিস্সা শহরে পুলিশ একদল কৃষকের ওপর গুলি চালায়। তারা এক স্থানীয় ব্যারনের জমি দখল করেছিল। পালানোর সময় পেছন থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন কৃষক মারা যান।[১৩৬]

১৯৪৯ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে আবারও বড় আকারে অভিবাসন শুরু হয়। এই অভিবাসনের সর্বোচ্চ সময় ছিল ১৯৫৭ সাল। সে বছর প্রায় ৩৮,০৯০ জন ক্যালাব্রিয়ান অঞ্চল ছেড়ে চলে যায়।[১০০]

ইতালীয় প্রজাতন্ত্র

[সম্পাদনা]

ইতালীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর দক্ষিণপন্থী রাজতন্ত্রবাদী এনরিকো দে নিকোলা অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান হন। অন্যদিকে দে গাসপেরি আবার সরকার গঠনের দায়িত্ব পান। ১৯৪৬ সালের ১২ জুলাই দ্বিতীয় দে গাসপেরি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের প্রথম ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী হন।

সরকারি কাঠামো তখনও প্রধানত ফ্যাসিবাদবিরোধী বড় দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। তবে শীতল যুদ্ধের সময়কার পশ্চিমা ব্লক ও কমিউনিস্ট ব্লকের দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে বামপন্থী দলগুলোর প্রভাব স্পষ্টভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়। এর লাভ যায় খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাটদের ঝুলিতে। কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিকদের মন্ত্রিত্ব ৮ থেকে কমে ৬-এ নেমে আসে। এসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যেও খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য ছিল।

এর ফল হিসেবে সিসিলীয় খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাট মারিও স্কেলবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হন। কমিউনিস্ট এমিলিও সেরেনি হন গণপূর্ত মন্ত্রী। আর ১৯৪৩ সাল থেকে যিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, সেই গুল্লোকে বিচার মন্ত্রী করা হয়। তাঁর জায়গায় কৃষি মন্ত্রী নিযুক্ত হন খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাট আন্তোনিও সেগনি। তিনি ছিলেন সার্দিনিয়ার এক ভূমিপতি এবং ভবিষ্যতের ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি। খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাসির ভেতরে তিনি ছিলেন তুলনামূলক রক্ষণশীল ধারার প্রতিনিধি।[১৩৭][১৩৮]

গুল্লো যে ভূমি সংস্কারের উদ্যোগ শুরু করেছিলেন (বিশেষ করে দক্ষিণ ইতালিতে), কৃষি মন্ত্রী হিসেবে সেগনির নিয়োগকে অনেকেই তার কার্যত সমাপ্তি হিসেবে দেখেন। নতুন মন্ত্রী ভূমিপতি শ্রেণির দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে ১৯৪৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দুটি ডিক্রি জারি করেন। এর মাধ্যমে ভূমির মালিকরা সেই জমি আবার নিজেদের দখলে নিতে পারেন, যেগুলো কৃষকেরা উন্নয়ন করেনি বা চাষাবাদ শুরু করেনি।

একদিকে এতে দক্ষিণের অভিজাত শ্রেণির সমর্থন খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাট পার্টির দিকে যায় এবং দলটি ১৯৪৮ সালের ১৮ এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়। অন্যদিকে এই সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে। শ্রমজীবীরা আবার অনাবাদি জমি দখলের আন্দোলনে নামতে শুরু করে।

এই প্রেক্ষাপটেই ১৯৪৯ সালের শরতে ক্যালাব্রিয়ায় সংঘটিত হয় মেলিস্সার হত্যাকাণ্ড। ওই বছরের ২৪ অক্টোবর কাতানজারো ও কোসেনজা প্রদেশের প্রায় ১৪,০০০ ক্যালাব্রিয় কৃষক নিজেদের গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। তাদের সঙ্গে ছিল নারী, শিশু ও গৃহপালিত পশুও। তারা বড় বড় লাতিফুন্দিয়া বা বিশাল জমিদারির দিকে অগ্রসর হয়, জমি দখল করে চাষ শুরু করার উদ্দেশ্যে।[১৩৯]

এই পরিস্থিতিতে কৃষক-ভিত্তিক অভিজাত শ্রেণির কয়েকজন ক্যালাব্রিয় খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাট সংসদ সদস্য রোমে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মারিও স্কেলবার কাছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের দাবি করেন। স্কেলবা তখন দাঙ্গা দমনের জন্য যান্ত্রিক বাহিনী মোবাইল ইউনিট পাঠান ক্যালাব্রিয়ায়।

এই বাহিনী গিয়ে থামে মেলিস্সা, ক্যালাব্রিয়া শহরে, যা ক্রোতোনে প্রদেশের অন্তর্গত। সেখানে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী ফ্রাগালা এস্টেটে অবস্থান করছিল। এই জমিটির মালিক ছিলেন স্থানীয় ভূমিপতি ব্যারন লুইজি বেরলিঙ্গেরি। বাস্তবে ১৮১১ সালের সামন্ততন্ত্র-বিরোধী সংস্কার ও নেপোলিয়নিক আইন অনুযায়ী এই জমি পৌরসভার অধীনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেরলিঙ্গেরি পরিবার বছরের পর বছর পুরো জমিটাই দখল করে রেখেছিল।

এখন কৃষকেরা অন্তত অর্ধেক জমিকে পৌর সম্পত্তি হিসেবে দাবি করে। সমঝোতার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যারন এক-তৃতীয়াংশ জমি ছাড়তে রাজি হন। কিন্তু কৃষকেরা এতে সন্তুষ্ট হয়নি। ফলে ১৯৪৯ সালের ২৯ অক্টোবর পুলিশ প্রথমে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার জন্য ভয় দেখায়। এরপর তারা চোখের সমান উচ্চতায় গুলি চালায়। এতে ১৫ জন আহত হন এবং ৩ জন মারা যান। নিহতরা হলেন: ১৫ বছর বয়সী জিওভান্নি জিতো, ২৯ বছর বয়সী ফ্রানচেসকো নিগ্রো এবং ২৩ বছর বয়সী আঞ্জেলিনা মাউরো (ইনি পরে হাসপাতালে মারা যান)।[১৪০]

এই হত্যাকাণ্ডটি সিসিলিতে ১৯৪৭ সালের ১ মে সংঘটিত পোর্তেল্লা দেল্লা জিনেস্ত্রার ঘটনার সঙ্গে মিলিত হয়ে সারা ইতালিজুড়ে একের পর এক ধর্মঘট ও কৃষক আন্দোলনের জন্ম দেয়। এসব আন্দোলন পুলিশ কঠোরভাবে দমন করে। তবে লাগাতার অস্থির পরিস্থিতি দে গাসপেরিকে প্রথম ভূমি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।

এই সংস্কারগুলো অবশ্য একটি সামগ্রিক জাতীয় ভূমি সংস্কার ছিল না। বরং নির্দিষ্ট নির্দিষ্ট এলাকার জন্য আলাদা আলাদা আইন করা হয়। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৫০ সালের ১২ মে সিলা আইন পাস হয়। এটি প্রথমে পূর্ব সিলা অঞ্চলে প্রযোজ্য ছিল। এই আইনে ৩০০ হেক্টরের বেশি আয়তনের সেই সব লাতিফুন্দিয়া বাজেয়াপ্ত করার কথা বলা হয়, যেগুলোতে কোনো উন্নয়ন বা ভূমি সংস্কার করা হয়নি।

এই দুই শর্তই ভূমিপতি শ্রেণির জন্য একটি আইনি ফাঁক তৈরি করে। তারা জমি হারানো এড়াতে আত্মীয়দের মধ্যে জমি ভাগ করে দেয়, কিংবা সাময়িক কিছু উন্নয়ন কাজ দেখিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি যে এলাকা বাজেয়াপ্ত করার কথা ছিল, তা মূলত পাহাড়ি ও বনভূমি ছিল। ফলে সেখানে চাষাবাদ করাও ছিল কঠিন।

শেষ পর্যন্ত ১৯৫০ সালের ২১ অক্টোবর একটি বাস্তব অর্থে জাতীয় ভূমি সংস্কার আইন পাস হয়। এটি আংশিকভাবে মার্শাল পরিকল্পনার তহবিল দিয়ে অর্থায়িত ছিল। খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাসির রক্ষণশীল অংশের বেশিরভাগ সদস্য এই আইনে ভোটদানে বিরত থাকে বা এর বিপক্ষে ভোট দেয়। এই বিরোধিতার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের প্রশাসনের রক্ষণশীল সদস্যদের সমর্থনও ছিল।[১৪১]

কিছু গবেষকের মতে, এই সংস্কার ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাধ্যতামূলক বাজেয়াপ্তির মাধ্যমে জমি কৃষিশ্রমিকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। এর ফলে তারা বড় ভূমিপতির অধীনস্থ শ্রমিকে না থেকে কার্যত ছোট কৃষি উদ্যোক্তায় পরিণত হয়।[১৪২]

এটি একদিকে ইতিবাচক হলেও, অন্যদিকে খামারের আকার ছোট হয়ে যায়। এতে আধুনিক বড় আকারের কৃষি উদ্যোগ গড়ে ওঠার সুযোগ কমে যায়। তবে এই নেতিবাচক দিকটি অনেক ক্ষেত্রে কমে আসে সমবায়ের মাধ্যমে। কৃষি সমবায় গড়ে ওঠে। তারা উৎপাদন পরিকল্পনা ও পণ্যের বিক্রি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করে। এর ফলে জমি ভাগ হয়ে যাওয়ার পরও কৃষিতে আবার উদ্যোক্তা চরিত্র ফিরে আসে।

ফসলের উৎপাদন বাড়ে। বিস্তৃত চাষের বদলে নিবিড় চাষ শুরু হয়। জমির ব্যবহার আরও কার্যকর হয়। আগে যে কৃষিশ্রম ছিল অত্যন্ত কষ্টকর অথচ লাভজনক নয়, তা ধীরে ধীরে ফল দিতে শুরু করে। যদিও শিল্পোন্নয়নের ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কৃষি একটি গৌণ খাতে পরিণত হয়, তবু আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে প্রতি হেক্টরে উৎপাদন ও শ্রমের আয় বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।[১৪১][১৪২]

এর পাশাপাশি চতুর্থ দে গাসপেরি সরকার ১৯৫০ সালের ১০ আগস্ট আইন নং ৬৪৬-এর মাধ্যমে কাস্সা পের ইল মেজ্জোজর্নো প্রতিষ্ঠা করে। এটি ছিল একটি সরকারি সংস্থা। এর লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ ইতালির অবকাঠামো ও শিল্প উন্নয়নে অর্থায়ন করা, যাতে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো যায়। শুরুতে এর মেয়াদ ধরা হয়েছিল ১০ বছর, অর্থাৎ ১৯৬০ সাল পর্যন্ত। পরে একাধিকবার সরকারি অর্থ দিয়ে এটি পুনঃঅর্থায়ন করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯২ সালে আইনের মাধ্যমে সংস্থাটি বিলুপ্ত করা হয়।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার ছিল এ.এস.আই. পরিকল্পনা। এর পূর্ণ নাম ছিল শিল্প উন্নয়ন এলাকা পরিকল্পনা। ১৯৫৭ সালের ২৯ জুলাইয়ের আইন নং ৬৩৪-এর আওতায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, যা "মেজ্জোজর্নোর জন্য ব্যবস্থা" নামে পরিচিত ছিল। এর মাধ্যমে পৌরসভা, প্রদেশ ও বাণিজ্য চেম্বারের মতো সংস্থাগুলো একত্রে কনসোর্টিয়াম গঠন করে। লক্ষ্য ছিল শিল্প স্থাপন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ।[১৩৭][১৩৮][১৪২]

১৯৫০ সালে দক্ষিণ ইতালির পশ্চাৎপদতা বিবেচনায় নিলে কাস্সা পের ইল মেজ্জোজর্নোর মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যবহারের ফলাফল একেবারে অস্বীকার করা যায় না। অবকাঠামো ও মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে অঞ্চলটি দেশের বাকি অংশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ক্যালাব্রিয়ায় বাত্তিপালিয়া–রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়া রেললাইনের ২১২ কিলোমিটার অংশ দ্বিগুণ করা হয়। এই কাজ শেষ হয় ১৯৬৫ সালে।

তবে পরবর্তী সময়ে সংস্থাটির কাঠামো রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার হয়। এর ফলে সরকারি ব্যয়ের মান নেমে যায়। ব্যাপক অনিয়মও দেখা দেয়। যেমন দক্ষিণ ইতালিতে শিল্প গড়ার নামে এমন কিছু উদ্যোক্তাকে চুক্তির মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হয়, যাদের প্রতিষ্ঠান পরে অবাস্তব কোম্পানি বলে প্রমাণিত হয়।

এর ফল হিসেবে অনেক বড় বড় সরকারি প্রকল্প ও অবকাঠামো বাস্তবে কোনো কাজে আসেনি। কোথাও তা দক্ষিণের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই ছিল না, কোথাও আবার কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। এই ধরনের অব্যবহৃত বা অকার্যকর অবকাঠামোকেই তখন মরুভূমির ক্যাথেড্রাল হিসেবে অভিহিত করা হতে থাকে।[১৩৭][১৩৮][১৪২] ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশককে বলা হয় "অর্থনৈতিক অলৌকিকতার" সময়। এটি ছিল তুলনামূলকভাবে স্বল্প কিন্তু অত্যন্ত তীব্র একটি পর্ব। এই সময়ে শিল্পোন্নয়ন ঘটে, অর্থনীতি দ্রুত বাড়ে এবং মানুষের ভোগব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।[১৪৩]

এই সময়েই ইতালীয় শিল্প বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করে। এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল শিল্প যন্ত্রপাতির আধুনিকীকরণ। এই আধুনিকীকরণ সম্ভব হয় মার্শাল পরিকল্পনার অর্থায়নে কেনা মার্কিন প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির মাধ্যমে। এর ফলে উৎপাদন দ্রুত বাড়ে। মাত্র এক দশকের মধ্যে উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এর মধ্য দিয়ে ইতালির অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো বদলে যেতে শুরু করে। দেশটি ধীরে ধীরে প্রধানত কৃষিনির্ভর সমাজ থেকে একটি শিল্পভিত্তিক রাষ্ট্রে রূপ নেয়।

এই অগ্রগতির সবচেয়ে বড় সুবিধা পায় উত্তর ইতালির বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো। কারণ মার্কিন অর্থায়নের বড় অংশই তাদের হাতে গিয়েছিল। তবে ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও পুরোপুরি পিছিয়ে পড়েনি। পরিকল্পিত সহায়তা না পেলেও তারা নিজেদের নমনীয়তা ও বাজারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে টিকে থাকতে এবং এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এ ছাড়া সড়ক ও মহাসড়ক নির্মাণের ফলে মানুষ ও পণ্যের চলাচল অনেক দ্রুত হয়। এতে যানবাহন উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ে। বিভিন্ন পেশা ও কাজের ধরন বদলে যায়। সামগ্রিকভাবে মানুষের জীবনযাত্রায় গভীর পরিবর্তন আসে।[১৪৪][১৪৩]

তবে এই প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি দেশের সব জায়গায় সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। সব সামাজিক শ্রেণি বা সব উৎপাদন খাতও এর সুফল পায়নি। শিল্পের ভূমিকা দ্রুত বাড়তে থাকায় দক্ষিণ ইতালির বহু এলাকায় ১৯৫০ সালের ভূমি সংস্কার কার্যত ব্যর্থ হয়ে পড়ে।

পরিসংখ্যানই তা স্পষ্ট করে। ১৯৫১ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে কৃষিখাতে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ৮,২৬১,০০০ থেকে কমে দাঁড়ায় ১,৬২৯,০০০-এ। বিশেষ করে ৩০ বছরের নিচে বয়সী কৃষিশ্রমিকের সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে যায়। ১৯৫১ সালে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ৩,২৯৯,০০০, সেখানে ১৯৯১ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৩৪১,০০০-এ।[১৪৫]

এই পরিবর্তনের একটি বড় কারণ ছিল কৃষির যান্ত্রিকীকরণ। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে এর ফলে গ্রামীণ কৃষিশ্রমিকের সংখ্যা ৮ মিলিয়ন থেকে কমে ৫ মিলিয়নে নেমে আসে।[১৪৬][১৪৭]

ক্যালাব্রিয়ায় পরিস্থিতি ছিল আরও জটিল। সেখানে জনসংখ্যা বাড়ছিল, কিন্তু জমি ও অর্থনীতি মানুষের বেঁচে থাকার মতো কাজের সুযোগ দিতে পারছিল না। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জোর করে যে অভিবাসন বন্ধ রাখা হয়েছিল, তার পরপরই অঞ্চলটি থেকে ব্যাপক শ্রমিক অভিবাসন শুরু হয়।

এই অভিবাসন বৃদ্ধির পেছনে ছিল একাধিক কারণ। জমির ভৌগোলিক অস্থিরতা, অবকাঠামোর ঘাটতি, প্রতিকূল জলবায়ু ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল চরম বেকারত্ব ও অর্ধ-বেকারত্ব। সে সময় ক্যালাব্রিয়ার শ্রমবাজারে কাজের সুযোগ ছিল খুবই সীমিত।

এই বাস্তবতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয় দারিদ্র্য অনুসন্ধানবিষয়ক সংসদীয় কমিশনের প্রতিবেদনে। তদন্তে দেখা যায়, ১,৭৯,৫০০ জন ক্যালাব্রিয় (অর্থাৎ অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যার ৩৭.৭ শতাংশ) চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছিল। এই হার ছিল গোটা ইতালির মধ্যে সর্বোচ্চ। তুলনায় উত্তর ইতালিতে এই হার ছিল মাত্র ১.৫ শতাংশ, মধ্য ইতালিতে ৫.৯ শতাংশ, আর পুরো মেজ্জোজর্নো অঞ্চলে গড় হার ছিল প্রায় ২৮.৩ শতাংশ।[১৪৮]

১৯৫১ থেকে ১৯৬১ সালের দশকে প্রায় ৪ লাখ ক্যালাব্রিয় নিজেদের ভাগ্য অন্বেষণে অঞ্চল ছেড়ে চলে যায়। তাদের বড় একটি অংশ পাড়ি জমায় আমেরিকা মহাদেশে, বিশেষত কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যরা যায় ইতালির শিল্পনগরীগুলোতে, মূলত উত্তর ইতালিতে। সেখানে বিশেষ করে শিল্প ত্রিভুজ এলাকায় জনসংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। এই বৃদ্ধির সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ ছিল তুরিন (+৪২.৬ শতাংশ) ও মিলান (+২৪.১ শতাংশ)।[১৪৯]

বিদেশমুখী এই অভিবাসনের পাশাপাশি ক্যালাব্রিয়ার ভেতরেও আন্তঃআঞ্চলিক স্থানান্তর ঘটে। অর্থাৎ, বহু মানুষ পাহাড়ি ও পার্বত্য অভ্যন্তরীণ এলাকা ছেড়ে উপকূলীয় শহরগুলোতে চলে আসে। এসব উপকূলীয় কেন্দ্র যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে ভালোভাবে যুক্ত ছিল। সেখানে নির্মাণকাজ, নগর পরিষেবা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে তুলনামূলকভাবে বেশি কাজের সুযোগ ছিল।

এর ফলে অভ্যন্তরীণ গ্রামীণ অঞ্চলগুলো প্রায় সম্পূর্ণভাবে জনশূন্য হয়ে পড়ে। এর দীর্ঘমেয়াদি ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত প্রভাব আজও অনুভূত হয়। পাহাড় ও টিলার ওপর গড়ে ওঠা প্রাচীন জনপদগুলো নিজেদের স্বায়ত্তশাসন ও পরিচয় হারায়। তারা এমন এক সংকটে পড়ে, যেখান থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব হয়নি।

এর একটি উদাহরণ হলো মধ্যযুগীয় পুরোনো গ্রাম বাদোলাতো সুপেরিওরে। এটি সোভেরাতো শহরের কাছাকাছি অবস্থিত। নৃতত্ত্ববিদ ভিতো তেতির ভাষায়, এই গ্রামটি হয়ে উঠেছে "সমগ্র ক্যালাব্রিয়া এবং পুরো মেজ্জোজর্নোর পরিত্যাগ, ধ্বংস, পালিয়ে যাওয়া এবং আশার রূপক"।[১৫০]

প্রথম প্রজাতন্ত্রের আমলে (বিশেষ করে ১৯৬০-এর দশক থেকে) একাধিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এসব পরিকল্পনার আওতায় ইতালীয় রাষ্ট্র শিল্পায়নে পৃষ্ঠপোষকতা করে। পাশাপাশি আধুনিক সড়ক, রেলপথ ও বন্দর নির্মাণের মাধ্যমে ক্যালাব্রিয়ার অবকাঠামো উন্নত করার চেষ্টা করা হয়।[১৫১]

তবে এই পরিকল্পনা বড় ধরনের ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর খরচ অনুমানের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। কাজ শেষ করতেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৯৬৪ সালে রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়াকে সালার্নোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে এ৩ মহাসড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু ২০১৬ সাল পর্যন্তও এই মহাসড়ক পুরোপুরি শেষ হয়নি।[১৫১]

৫২ বছরেও এ৩ মহাসড়ক শেষ না হওয়াকে ইতালিতে একটি বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হয়। এই ব্যর্থতার ফলে ক্যালাব্রিয়ার অনেক এলাকাকে "শিল্প কবরস্থান" বলে বর্ণনা করা হয়। সেখানে একের পর এক ইস্পাত কারখানা ও রাসায়নিক শিল্প বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় সবকটিই শেষ পর্যন্ত দেউলিয়া হয়ে পড়ে।[১৫১]

এই সময়ের ক্যালাব্রিয় রাজনৈতিক অঙ্গনও ছিল অস্থির। মূল বিতর্কের বিষয় ছিল আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাজধানী নির্ধারণ। এটি কেবল মর্যাদার প্রশ্ন ছিল না। বরং সরকারি ও প্রশাসনিক খাতে কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগের সঙ্গেও জড়িত ছিল। এটি ছিল এমন এক অঞ্চল, যেখানে কাজের অভাব ও অভিবাসন দ্রুত বাড়ছিল।[১৫২]

ক্যালাব্রিয়ার ভেতরের স্থানীয় দ্বন্দ্ব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হয়। ১৯৬৩ সালে প্রথম মোরো সরকার গঠনের সময় রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়া ও কাতানজারো থেকে কোনো মন্ত্রী বা উপমন্ত্রীকে সরকারে রাখা হয়নি। তখন কেবল দু’জন ক্যালাব্রিয় রাষ্ট্রীয় পদ পান। তারা ছিলেন সমাজতন্ত্রী জিয়াকোমো মানচিনি (যিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রী হয়েছিলেন) এবং খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাট রিক্কার্দো মিসাসি (যিনি অনুগ্রহ ও বিচার মন্ত্রী হয়েছিলেন)। দু’জনই মূলত কোসেনজার অধিবাসী ছিলেন।

এ ছাড়া অর্থনৈতিক দিক থেকেও কোসেনজা, কাতানজারো ও রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়ার মধ্যে বহুদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। জনসংখ্যা ও উন্নয়নের দিক থেকে অঞ্চলগুলো ছিল একে অপরের থেকে ভিন্ন।

১৯৬৮ সালের ২১ মার্চ রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়া সিটি কাউন্সিল আঞ্চলিক আইন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। এতে বলা হয়, প্রণালীর শহর রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়াকেই আঞ্চলিক রাজধানী করা উচিত। শহরের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে এরপর "রেজ্জিওর স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন কমিটি" গঠন করা হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাট আইনজীবী ফ্রানচেসকো গাঙ্গেমি।

তবে ১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া আঞ্চলিক আইন ভিন্ন সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এই আইন ১৯৪৯ সালের সিদ্ধান্তই নিশ্চিত করে। সেই সিদ্ধান্তে সংসদের প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ক কমিটির অধীনে গঠিত তদন্ত কমিশন "ডোনাতিনি–মোলিনারোলি" প্রতিবেদন জমা দেয়। ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলের রাজধানী হবে কাতানজারো।[১৫৩]

এই পরিস্থিতি স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনের ওপরও প্রভাব ফেলে। এসব নির্বাচনে ছোট ধর্মনিরপেক্ষ বামপন্থী দলগুলো (বিশেষ করে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা) প্রথমবারের মতো তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে। এই সাফল্য মূলত রেজ্জিও ও কোসেনজা প্রদেশে সীমাবদ্ধ ছিল। এর ফলে শহরের মেয়র খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাট পিয়েত্রো বাত্তালিয়া ১৯৭০ সালের ৫ জুলাই ডুওমো চত্বরে প্রায় ৭,০০০ মানুষের সামনে আবেগঘন ভাষণ দেন। সেখানে তিনি আঞ্চলিক রাজধানী হওয়ার জন্য শহরের ন্যায্য দাবির কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

এর এক সপ্তাহ পর ১২ জুলাই শহরে বিদ্রোহের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। প্রথম সড়ক অবরোধ তৈরি হয় এবং একাধিক গণবিক্ষোভ শুরু হয়। একই দিনে ভিলা সান জোভান্নিতে পুরস্কার গ্রহণের জন্য আসা সিনেটের সভাপতি আমিন্তোরে ফানফানি জনতার তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন। ফানফানির এই উদাসীনতার প্রতিবাদে রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়ার আঞ্চলিক ডেপুটিরা (৫ জন খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাট ও ১ জন সমাজতন্ত্রী) ১৩ জুলাই নির্ধারিত আঞ্চলিক পরিষদের বৈঠক বর্জন করেন। বিপরীতে কমিউনিস্ট প্রতিনিধিরা সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।[১৫৪][১৫৫]

অবশেষে ১৯৭০ সালের ১৪ জুলাই প্রকৃত বিদ্রোহ শুরু হয়। এটি ইতিহাসে রেজ্জিও বিদ্রোহ নামে পরিচিত হয়ে আছে। এই আন্দোলনে বুর্জোয়া, যাজক, ছাত্র, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক কমিটিসহ শহরের প্রায় সব সামাজিক শ্রেণি অংশ নেয়। ওই দিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে রেলকর্মী ব্রুনো লাবাতে নিহত হন। এই ঘটনার পর সেপ্টেম্বরে রেজ্জিওর আর্চবিশপ ভিনচেন্‌জো ফেরোও এই সংঘাতে যুক্ত হন।[১৫৬]

এই বিদ্রোহকে সমর্থন দেয় উদার-রক্ষণশীল ধারার কয়েকটি সংবাদপত্র, যেমন গাজ্জেত্তা দেল সুদ ও ইল তেম্পো। পাশাপাশি বহু বুদ্ধিজীবী শহরের রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবির পক্ষে অবস্থান নেন। ধীরে ধীরে আন্দোলনের নেতৃত্ব মেয়র বাত্তালিয়ার হাত থেকে সরে যায়। তিনি বিষয়টি খুব দূর পর্যন্ত নিতে চাননি। এর বদলে নেতৃত্ব চলে যায় কট্টর ডানপন্থী আন্দোলনগুলোর হাতে, বিশেষ করে মোভিমেন্তো সোসিয়ালে ইতালিয়ানোর কাছে। তাদেরই প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সবচেয়ে কম আপস করা শক্তি হিসেবে দেখা হতো। অল্প সময়ের মধ্যেই মিস্সিনিরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল দান্নুন্‌জিও স্মৃতিবাহী স্লোগান বইয়া ছি মল্লা

এই পর্যায়ে সিআইএসএনএল ইউনিয়নের নেতা এবং রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়াভিত্তিক মিস্সিনি কর্মী চিচ্চিও ফ্রাঙ্কো পরিস্থিতির প্রশ্নাতীত নেতা হিসেবে উঠে আসেন। তখন শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড তৈরি হয়। রেলস্টেশন দখল করা হয়। সিসিলির দিকে যাওয়া সব ট্রেন ও ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিদ্রোহের প্রথম কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও সহিংস হয়ে ওঠে। এ সময় ১৯ দিন সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। ঘটে ১২টি বোমা হামলা, ৩২টি সড়ক অবরোধ, রেলস্টেশন দখলের ১৪টি ঘটনা, ডাকঘর দখলের ২টি ঘটনা, টেলিভিশন স্টেশন দখলের ১টি ঘটনা এবং প্রিফেকচারে ৪টি হামলা। সংঘর্ষে মোট ৫ জন নিহত হন। লাবাতের পাশাপাশি নিহত হন শহরের পরিবহন সংস্থার চালক আঞ্জেলো কাম্পানেল্লা, কোয়েস্তুরায় হামলার সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত পুলিশ ভিনচেন্‌জো কুরিলিয়ানো, ট্রেনে করে রেজ্জিও ছাড়ার সময় পাথরের আঘাতে নিহত ১৯ বছর বয়সী কর্মকর্তা আন্তোনিও বেলোত্তি এবং গুলিতে নিহত বারটেন্ডার কারমেলো ইয়াকোনিস। এ ছাড়া ৪২৬ জন গ্রেপ্তার হন এবং পুলিশের অভিযানে ২০০ জন আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালের কিছু চিকিৎসকও অপমান ও অবমাননা করেন।[১৫৭]

এমনকি শহরের কিছু অংশে তথাকথিত "স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্র" ঘোষণাও করা হয়। এর মধ্যে ছিল "সবার্রে প্রজাতন্ত্র" ও "সেন্ট ক্যাথারিনের গ্র্যান্ড ডাচি"। এসব ঘোষণা আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রবল রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

এই সময় ইতালীয় সরকারে ছিলেন এমিলিও কোলোম্বো। তিনি মারিয়ানো রুমরের পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী হন। সরকার প্রথমে রেজ্জিওর জনগণের প্রতি শান্ত হওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে হুমকি দেয়, সহিংসতা চলতে থাকলে শক্তি প্রয়োগ করা হবে। শেষ পর্যন্ত ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকার সেনাবাহিনী ও কারাবিনিয়েরি মোতায়েন করে রাস্তায় বিক্ষোভ ও শহুরে গেরিলা তৎপরতা দমন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এমনকি চরম বামপন্থী দলগুলোও (যেমন কমিউনিস্ট পার্টি ও পিএসআইইউপি) রেজ্জিও বিদ্রোহের নিন্দা করে। তারা এটিকে সংকীর্ণ আঞ্চলিক ও অপ্রলেতারীয় আন্দোলন বলে আখ্যা দেয়। এ নিয়ে অনেক সময় তাদের নিজেদের শহুরে ভোটারদের সঙ্গেও সংঘর্ষ হয়।

দীর্ঘ ১০ মাসের দাঙ্গা ও অস্থিরতার পর, ১৯৭১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের অবসান ঘটে। রেজ্জিওর জনগণ সরকার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য হয়। তবে এই সমঝোতা সংসদে নয়, আঞ্চলিক পরিষদে হয় – যেখানে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল সীমিত। প্রধানমন্ত্রী ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাট আন্তোনিও গুয়ারাসচি এবং বিভিন্ন দলের আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি আপসচুক্তি তৈরি করেন। এটি কোলোম্বো প্যাকেজ নামে পরিচিত।

এই চুক্তি অনুযায়ী কাতানজারো হবে আঞ্চলিক রাজধানী। রেজ্জিওতে থাকবে আঞ্চলিক পরিষদের সদর দপ্তর। কোসেনজায় স্থাপন করা হবে ক্যালাব্রিয়ার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় (যা আজকের ক্যালাব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়)। এ ছাড়াও জিওইয়া তাউরোকে দেশের পঞ্চম ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পাশাপাশি সালিনে ইয়োনিকায় একটি বড় রাসায়নিক কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

এই চুক্তি শহরের জনগণ মেনে নেয়। তবে জিওইয়া তাউরোর ইস্পাত কারখানা আন্তর্জাতিক ইস্পাতবাজারের সংকটের কারণে আর নির্মিত হয়নি। সালিনে ইয়োনিকার রাসায়নিক কারখানাটি নির্মিত হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কারণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, সেখানে উৎপাদিত রাসায়নিক খাদ্য-উপাদানগুলো ক্যান্সার সৃষ্টিকারী।[১৫৮][১৫৯][১৫৭]

রেজ্জিও বিদ্রোহের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায় নির্বাচনী ফলাফলে। ১৯৭২ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাল্লা ঘুরে যায় চরম ডানপন্থীদের দিকে। তারা শহরে ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে সবচেয়ে বড় দলে পরিণত হয়। অন্য সব রাজনৈতিক শক্তিকে পেছনে ফেলে তারা চিচ্চিও ফ্রাঙ্কোকে সিনেটে নির্বাচিত করতে সক্ষম হয়। একই বছরের অক্টোবরে রেজ্জিওতে দুই দিনের একটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তর ইতালির প্রায় ৪০,০০০ ধাতুশ্রমিক অংশ নেন, যারা সবাই সিজিআইএলের সদস্য ছিলেন। তারা রেজ্জিওবাসীর বিদ্রোহের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে এসেছিলেন। তবে স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া একরকম ছিল না। কেউ এই সংহতিকে স্বাগত জানায়, আবার কেউ তা উপেক্ষা করে বা বিরোধিতা করে। এতে উত্তর ও দক্ষিণ ইতালির সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।[১৬০]

রেজ্জিও বিদ্রোহ আজও ক্যালাব্রিয়া, এমনকি পুরো ইতালির ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর একটি। এর একটি বড় কারণ হলো সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের অভাব বা অনুপস্থিতি। অনেক দলিল নষ্ট করা হয়েছে বা গোপন রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে বুঝতে হলে ইতিহাসবিদদের বিশ্লেষণের দিকে তাকাতে হয়। সেখানে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। অনেক গবেষক মনে করেন, এটি কেবল একটি সংকীর্ণ স্থানীয় বিদ্রোহ ছিল না। এর পেছনে জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। আবার এটি পুরোপুরি ফ্যাসিবাদী বিদ্রোহও ছিল না, যদিও ইতালীয় সামাজিক আন্দোলন এতে নেতৃত্ব দেয়। বামপন্থীরা, বিশেষ করে কমিউনিস্টরা, একে ফ্যাসিবাদী বিদ্রোহ বলে আখ্যা দিলেও বাস্তবে এটি ছিল বহু শ্রেণি, বহু দল ও বহু প্রজন্মের মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি আন্দোলন।

অনেক ইতিহাসবিদের মতে, এটি মূলত ছিল একটি রাষ্ট্রবিরোধী বিদ্রোহ। স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রগুলোর ঘোষণাই তার প্রমাণ। আন্দোলনটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত এবং এর পেছনে কোনো সুস্পষ্ট কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছিল না, যদিও মেয়র বাত্তালিয়া ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্রোহে নদ্রাংঘেতাদেরও শক্ত উপস্থিতি ছিল। তারা চরমপন্থী বিপর্যয়কর ডানপন্থীদের সঙ্গে যোগসাজশ করেছিল, যেমন "বারাক্কা" অরাজকতাবাদীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।[১৬১] এ কারণে অনেকের ধারণা, রাষ্ট্রের ভেতরের বিচ্যুত অংশ এবং গোপন সংস্থাগুলিও এই বিদ্রোহে জড়িত ছিল। তাই রেজ্জিও বিদ্রোহকে সেই সময়কার ইতালিকে নাড়িয়ে দেওয়া তথাকথিত "টেনশনের কৌশল"-এর একটি অংশ হিসেবেও দেখা হয়।[১৬২]

১৯৮০-এর দশকে ক্যালাব্রিয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা মোটেও ভালো ছিল না। ক্যালাব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়েরো গালিয়ার্দো লিখেছেন, এই অঞ্চলের কোনো নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনা ছিল না। অঞ্চলটি আপাতদৃষ্টিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্লায়েন্টেল ব্যবস্থার হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বাস্তবে এটি পরিচালিত হতো সংগঠিত অপরাধ ও বিচ্যুত ফ্রিম্যাসনরির সঙ্গে যুক্ত ক্ষমতাকেন্দ্রগুলোর দ্বারা। এর ফলে ইতালির সবচেয়ে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ক্যালাব্রিয়ায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলো খুব ধীরগতিতে বাস্তবায়িত হতো। অনেক সময় সেগুলো এমন মানবিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতো, যা সেগুলো গ্রহণের জন্য উপযুক্ত ছিল না।

গালিয়ার্দোর মতে, এই অঞ্চলে বড় অঙ্কের সরকারি ব্যয়ে বহু প্রকল্প শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো মূলত কেন্দ্রের কিছু প্রভাবশালী উদ্যোক্তার স্বার্থে ছিল, প্রান্তিক এলাকার প্রকৃত প্রয়োজনের জন্য নয়। এর পাশাপাশি তিনি ব্যাপক নির্বাচনী ক্লায়েন্টেলিজমের স্থায়ী উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। নির্বাচিত রাজনৈতিক শ্রেণি এই ব্যবস্থাকে দূর করার বদলে নিজেদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য তা আরও পুষ্ট করতে চেয়েছিল।[১৬৩]

এই রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি ধীরে ধীরে ক্যালাব্রিয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ভেতরে ঢুকে পড়ে 'নদ্রাংঘেতা। এটি মাফিয়া ও কামোরার মতোই একটি অপরাধী সংগঠন। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অপহরণের যে সময়কাল শুরু হয়েছিল, তার মাধ্যমেই এই সংগঠনটি প্রথম বড় শিরোনামে আসে। এর একটি পরিচিত উদাহরণ হলো ১৯৭৩ সালে মার্কিন তেল ব্যবসায়ীর নাতি জন পল গেটি তৃতীয়কে অপহরণ। মুক্তিপণ হিসেবে ১৭০ কোটি লিরা পরিশোধের পর তাকে অটোস্ত্রাদা এ২-এর পাশে মুক্তি দেওয়া হয়।

১৯৮০-এর দশকে ক্যালাব্রিয়ার 'নদ্রিনে গোষ্ঠীগুলো আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তারা দক্ষিণ আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। একই সঙ্গে এলাকা ও মাদক বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন মাফিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সিসিলির মতোই ক্যালাব্রিয়ায় নদ্রাংঘেতা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরেও ঢুকে পড়ে। অনেক সময় তারা পৌর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের লোক বসিয়ে সরকারি চুক্তি নিয়ন্ত্রণ ও সেখান থেকে লাভবান হতো।

এই প্রসঙ্গে জিওইয়া তাউরো বন্দরের ঘটনাটি সুপরিচিত। ১৯৮৫ সালে বন্দরের কাজ শেষ হয়। এটি মূলত কলোম্বো প্যাকেজে পরিকল্পিত হলেও কখনো বাস্তবায়িত না হওয়া ইস্পাত শিল্পকেন্দ্রের জন্য একটি বাণিজ্যিক বন্দর হিসেবে ভাবা হয়েছিল। পরে এটি ভূমধ্যসাগর দিয়ে চলাচলকারী আন্তমহাদেশীয় জাহাজের কনটেইনার পরিবহনের ট্রানজিট হাবে পরিণত হয়। শুরু থেকেই এই বন্দরটি 'নদ্রিনা পিরোমাল্লি ও 'নদ্রিনা মোল্লে গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তারা এটি ব্যবহার করত ইতালিতে মাদক ও নকল পণ্য প্রবেশ করাতে।

১৯৯০-এর দশকে এই অপরাধী তৎপরতা দমনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটে অপারাচিওনে রিয়াচে চালু করা হয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় যাতে ১,৩৫০ জন সামরিক সদস্য অংশ নেয়। পরে একের পর এক বড় বিচার অনুষ্ঠিত হয় "ওয়াল স্ট্রিট, "কাউন্ট ডাউন", "হোকা টুকা", "নর্থ–সাউথ", "বেলজিয়াম" ও "ফিনে"। এসব মামলায় বহু 'নদ্রিনে জড়িত ছিল এবং এর ফলে কানাডা ও ক্যালাব্রিয়ার মধ্যে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চালানো আন্ডারওয়ার্ল্ড জোট সিদের্নো গ্রুপের অবসান ঘটে।[১৬৩]

তবে বিশ শতকের শেষ দিকে কিছু পরিবর্তনও দেখা যায়। এর পেছনে ছিল স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড এবং ক্যালাব্রিয়ার মানুষের একটি বড় অংশের ক্রমবর্ধমান সচেতনতা। তারা আগের চেয়ে বেশি করে জনজীবনে অংশ নিতে শুরু করে। এর একটি উদাহরণ হলো ১৯৯৩ সালের ২৮ নভেম্বর ইতালো ফালকোমাতার রেজ্জিও ক্যালাব্রিয়ার মেয়র নির্বাচিত হওয়া। তিনি ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর আকস্মিক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হন।

কেন্দ্র-বাম জোটের নেতৃত্বে ফালকোমাতা তথাকথিত রেজ্জিও বসন্তের প্রধান চরিত্র হয়ে ওঠেন। এটি ছিল এমন এক সময়, যখন তিনি বহু বছরের সামাজিক উদাসীনতা ও নাগরিক নিষ্ক্রিয়তার পর রেজ্জিওবাসীদের আবার শহরের প্রতি ভালোবাসা জাগাতে উৎসাহ দেন। তাঁর মেয়াদকালে তিনি বহুদিন ধরে আটকে থাকা রেজ্জিও ডিক্রির তহবিল ছাড় করাতে সক্ষম হন। এই অর্থ স্ট্রেইটের তীরবর্তী শহরের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। একই সঙ্গে তিনি অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং উন্মুক্ত বাজারের পরিসর কমিয়ে দেন। এই বাজারটি সংগঠিত অপরাধচক্রের দখলে ছিল এবং কোনো অনুমতি ছাড়াই রাস্তার স্টল বসিয়ে যানজট সৃষ্টি করত।[১৬৪]

অর্থনীতি

[সম্পাদনা]

ক্যালাব্রিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) নিম্নরূপ খাতে বিভক্ত: সেবা খাত (২৮.৯৪%), আর্থিক কার্যক্রম ও স্থাবর সম্পত্তি (২১.০৯%), বাণিজ্য, পর্যটন, পরিবহন ও যোগাযোগ (১৯.৩৯%), কর আদায় (১১.৪৯%), উৎপাদনশিল্প (৮.৭৭%), নির্মাণ (৬.১৯%) এবং কৃষি (৪.১৩%)। মাথাপিছু জিডিপি লোম্বার্ডি-এর তুলনায় ২.৩৪ গুণ কম এবং বেকারত্ব প্রায় ৪ গুণ বেশি।[১৬৫] ক্যালাব্রিয়ার অর্থনীতি এখনো প্রধানত কৃষিভিত্তিক।

এই অঞ্চলের অর্থনীতি প্রবলভাবে প্রভাবিত হয় নদ্রাংঘেতা নামক স্থানীয় মাফিয়া সংগঠনের উপস্থিতির কারণে।[১৬৬] সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচারব্যবস্থা সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে। এই প্রচেষ্টার ফলে ২০২১ সাল থেকে রিনাসচিতা স্কট বৃহৎ বিচারপ্রক্রিয়ার পর ২০০-রও বেশি চূড়ান্ত দণ্ডাদেশ হয়েছে।[১৬৭]

ক্যালাব্রিয়ার জলপাই বাগান

ক্যালাব্রিয়া কৃষিতে সমৃদ্ধ। সিসিলির পর এখানে ইতালির দ্বিতীয় সর্বাধিক জৈব খামারি রয়েছে।[১৬৮]

ট্রোপেয়া এলাকার লাল পেঁয়াজ গ্রীষ্মকালে মধ্য ক্যালাব্রিয়ার তিরেনীয় উপকূলে চাষ করা হয়।[১৬৯] এটি সংরক্ষিত ভৌগোলিক নির্দেশক (পিজিআই) মর্যাদা পেয়েছে।[১৭০]

জলপাই গাছ মোট ব্যবহৃত কৃষিজমির (ইউএএ) ২৯.৬% এবং বৃক্ষজাত ফসলের প্রায় ৭০% জুড়ে আছে।[১৭১] উপকূলীয় সমভূমি থেকে পাহাড়ি ও নিম্ন পার্বত্য অঞ্চল পর্যন্ত জলপাই চাষ বিস্তৃত। কারোলেয়া, অলিয়ারোলা ও সারাচেনা এখানে প্রধান জলপাই জাত। অঞ্চলটি জলপাই তেল উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় স্থানে।[১৭২]

ক্যালাব্রিয়ায় ৩টি সংরক্ষিত উৎপত্তি নির্দেশনা (পিডিও) তেল রয়েছে: কোসেনজা প্রদেশে "ব্রুজিও", লামেজিয়া তের্মে এলাকায় "লামেতিয়া" এবং সাম্প্রতিক "আলতো ক্রোতোনেজে"।[১৭৩] ডিওপি তেলের পাশাপাশি সংরক্ষিত ভৌগোলিক নির্দেশক তেলও আছে। "ওলিও দি ক্যালাব্রিয়া" পিজিআই-এর উৎপাদন এলাকা পুরো ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলজুড়ে। উৎপাদন সম্পূর্ণ দেশীয় জলপাই থেকে হয়।

ক্যালাব্রিয়া ইতালির মোট লেবুজাতীয় ফল উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ উৎপাদন করে।[১৭৪][১৭৫][১৭৬] এই অবদান প্রধানত ক্লেমেন্টাইন, মাল্টা, কমলা এবং লেবু উৎপাদনের মাধ্যমে আসে। ক্লেমেন্টাইন উৎপাদনে ক্যালাব্রিয়া দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ইতালিতে এই ফলের চাষযোগ্য জমির প্রায় ৬২% এবং মোট উৎপাদনের প্রায় ৬৯% এখানেই হয়।[১৭৭] "ক্যালাব্রিয়ার ক্লেমেন্টাইন" এই অঞ্চলে উৎপাদিত পিজিআই জাত।[১৭৮] এছাড়া চিনোত্তো ফল চাষ করা হয় এবং তা দিয়ে একই নামের কার্বনেটেড কোমল পানীয় তৈরি হয়।

সাইট্রন

ছোট ফলের মধ্যে বার্গামট কমলা ও সাইট্রন এবং লেবু-সাইট্রন সংকর ফল শুধু ক্যালাব্রিয়াতেই পাওয়া যায়। এই অঞ্চলের দক্ষিণ উপকূলে বিশ্বের প্রায় ৯০% বার্গামট উৎপাদিত হয়। এখানকার বার্গামট তেল নিষ্কাশনকে ঘিরে বড় শিল্প গড়ে উঠেছে।[১৭৯] হার্ভার্ড ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটি অ্যাটলাস অনুযায়ী, ইতালির বার্গামট তেলের শেষ নিট রপ্তানি হয়েছিল ২০০৯ সালে, যার মূল্য ছিল ২,৫৩,০০০ ডলার। ২০১০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আর কোনো নিট রপ্তানি হয়নি।[১৮০][১৮১] বার্গামট কমলার নিবিড় চাষ ১৮শ শতক থেকে শুরু হয় (তবে কেবল রেজ্জিও সংলগ্ন উপকূলেই, যেখানে ভূতাত্ত্বিক ও আবহাওয়াগত পরিস্থিতি সবচেয়ে অনুকূল)। চাবাদ হাসিদিক বংশের লোকেরা সুক্কোত উৎসবের জন্য এই অঞ্চল থেকে সাইট্রন (এত্রোগ) সংগ্রহ করতে পছন্দ করে।[১৮২]

রেজ্জিও দি ক্যালাব্রিয়া শহরে এসেনশিয়াল তেল ও লেবুজাত পণ্য শিল্পের পরীক্ষাগার নামে একটি বিশেষ গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে।

২০১৮ সালে ইতালির
লেবুজাতীয় তেলের রপ্তানি
মূল্য
বার্গামট $২,৫৫৫,০০০
কমলা $৩,৭৭০,০০০
লেবু $৬০,১০০,০০০
লাইম $০
লেবুজাত ফল, অন্যান্য $৭৫,৪০০,০০০
জুঁই $০

কোসেনজা প্রদেশ "দোত্তাতো" জাতের ডুমুর চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানকার শুকনো ডুমুর "ফিকি দি কোসেনজা" পিডিও নামে পরিচিত।[১৮৩] চেরিমোয়া গাছ, যা উষ্ণমণ্ডলীয় উৎসের, ইউরোপে কেবল রেজ্জিও দি ক্যালাব্রিয়া ও স্পেনে চাষ হয়।

কাতানজারো প্রদেশের সান ফ্লোরো ও কোরতালে এলাকার মধ্যে এখনও প্রাচীন রেশমচাষ ঐতিহ্য টিকে আছে। নতুন প্রজন্মের কারণে এই ঐতিহ্য এখনো জীবিত রয়েছে।

ইতালির ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলটি পোরচিনি মাশরুম উৎপাদনে সবচেয়ে বড়। এর প্রধান কারণ হলো পোল্লিনো, সিলা, সেরে এবং আস্প্রোমন্তে পর্বতমালার ঘন বনাঞ্চল।[১৮৪][১৮৫]

পোরচিনি মাশরুম ছাড়াও এখানে লাল পাইন মাশরুম (রোসিতিও) উৎপাদিত হয়। ক্যালাব্রিয়ার পাহাড়ি এলাকায় শাহবলুত উৎপাদনও ব্যাপক।[১৮৬]

ক্যালাব্রিয়ার পীচ ও নেকটারিন স্বাদ, মান, নিরাপত্তা ও বিপণন ব্যবস্থার দিক থেকে অনেক উন্নত হয়েছে। উৎপাদনের একটি অংশ দেশের ভেতরেই বিক্রি হয়, মূলত খুচরা বিক্রেতাদের কাছে। বাকি অংশ উত্তর ইউরোপে রপ্তানি করা হয়, বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়া ও জার্মানিতে।[১৮৭]

এই অঞ্চলে যষ্টিমধু চাষ ও উৎপাদনের খুব প্রাচীন ঐতিহ্য আছে। ইতালির মোট উৎপাদনের প্রায় আশি শতাংশই এই অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত।[১৮৮]

ক্যালাব্রিয়ার দীর্ঘ উপকূল রয়েছে এবং এখান থেকে কিছু স্বতন্ত্র মাছজাত পণ্য উৎপাদিত হয়:

উৎপাদন শিল্প

[সম্পাদনা]

খাদ্য ও বস্ত্রশিল্প এখানে সবচেয়ে উন্নত ও সক্রিয়। শিল্পখাতে মোট সংযোজিত মূল্যের প্রায় ৭.২% আসে উৎপাদনশিল্প থেকে। এই খাতের প্রধান শাখা হলো খাদ্য, পানীয় ও তামাকজাত পণ্য, যার অবদান জাতীয় গড়ের কাছাকাছি।[১৭১]

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ক্রোতোনে, ভিবো ভালেন্তিয়া ও রেজ্জো ক্যালাব্রিয়া এলাকায় কিছু পেট্রোকেমিক্যাল, প্রকৌশল ও রাসায়নিক শিল্প গড়ে উঠেছে।

কাতানজারো প্রদেশে বস্ত্র উৎপাদনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, বিশেষ করে রেশমশিল্পে। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক তরুণ এই খাতে নতুন প্রাণ দিয়েছে এবং সবুজ ও টেকসই অর্থনীতি-ভিত্তিক প্রকল্প চালু করেছে। বাস্তবে জিরিফালকো, সান ফ্লোরো ও কোরতালে পৌর এলাকায় এখনও রেশমচাষ চালু আছে, যেখানে রেশমকীট পালন ও তুঁতগাছ চাষ একসঙ্গে করা হয়।

তিরিওলো ও বাদোলাতো বিশেষভাবে পরিচিত "ভানকালে" তৈরির জন্য। এটি ক্যালাব্রিয়ার ঐতিহ্যবাহী শাল, যা উল বা রেশম দিয়ে বানানো হতো এবং অতীতে নারীরা নাচের সময় ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে পরত, অথবা ঘর সাজানোর কাজে ব্যবহার করত।

তিরিওলোতে কার্পেট, লিনেন, ঝাড়ু-উদ্ভিদের তন্তু, ববিন লেইস, সূচিশিল্প, মূল্যবান সিরামিক, আসবাবসামগ্রী ও ভাস্কর্যও তৈরি হয়। একই ধরনের বয়নশিল্প প্লাতানিয়া ও পেত্রিৎসি এলাকাতেও সক্রিয়, যেখানে একসময় শণ তন্তুও উৎপাদিত হতো।

সোভেরিয়া মান্নেল্লিতে ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্যালাব্রিয়ার সবচেয়ে পুরোনো বস্ত্রকারখানা লানিফিচিও লেও এখনও চালু আছে। এখানে এখনও উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকের বহু ঐতিহাসিক যন্ত্র সংরক্ষিত রয়েছে।

শিল্পকলা-ভিত্তিক সিরামিক তৈরির ঐতিহ্য (যার সূচনা ম্যাগনা গ্রেশিয়া যুগে) এখনও স্কুইল্লাচে ও সেমিনারার প্রাচীন শহরগুলোতে টিকে আছে।

প্রেসিলা অরণ্যের সবুজ গ্রাম সের্রাস্ত্রেত্তা কাঠশিল্পের জন্য পরিচিত, বিশেষ করে খড়-নকশাযুক্ত অনন্য চেয়ারের জন্য।

রেজ্জো দি ক্যালাব্রিয়াতে হিতাচি রেল ইতালির একটি কারখানা আছে, যেখানে আঞ্চলিক ট্রেনের কোচ তৈরি হয় (যেমন ভিভালতো)।[১৮৯]

অবকাঠামো ও পরিবহন

[সম্পাদনা]

মোটরওয়ে ও রেল

[সম্পাদনা]

এই অঞ্চলে তিনটি বহুল ব্যবহৃত সড়ক রয়েছে। দুটি জাতীয় মহাসড়ক উপকূল বরাবর গেছে (নাপোলি ও রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ার মধ্যে এসএস১৮ এবং রেজ্জো ক্যালাব্রিয়া ও তারান্তোর মধ্যে এসএস১০৬), অন্যটি হলো এ২ মোটরওয়ে।[১৯০] এই মোটরওয়েটি সালের্নোকে রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ার সাথে যুক্ত করে এবং পুরোনো অভ্যন্তরীণ পথ ধরে কোজেনজার পাশ দিয়ে যায়, যা নির্মাণে ৫৫ বছর লেগেছিল। তবে সংগঠিত অপরাধ চক্রের অনুপ্রবেশের কারণে ব্যয় অত্যন্ত বেড়ে যায়।[১৯১]

প্রধান সড়ক অবকাঠামোগুলোকে দুইটি আলাদা দলে ভাগ করা যায়। প্রথম দলটি ক্যালাব্রিয়াকে উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত অতিক্রম করা সড়কগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে:

নম্বর নাম ও
দৈর্ঘ্য
শুরু শেষ টোল সেবা
Simbolo dell'Autostrada A2 del Mediterraneoঅটোস্ত্রাদা এ২ দেল মেদিতের্রানেও
(৪৩২+৬০০ কিমির মধ্যে ২৭৮+৪০০ কিমি)
A৩০ থেকে ফিশিয়ানোর কাছে শুরুরেজ্জো ক্যালাব্রিয়াবিনামূল্যে হ্যাঁ
SS 206স্ত্রাদা স্তাতালে ১০৬ ইয়োনিকা
(৪৯১+০০০ কিমির মধ্যে ৪১৫,০০০ কিমি)
তারান্তোরেজ্জো ক্যালাব্রিয়াবিনামূল্যে হ্যাঁ
SS 18স্ত্রাদা স্তাতালে ১৮ তির্রেনা ইনফেরিওরে
(৫৩৫,১৩২ কিমি)
নাপোলিরেজ্জো ক্যালাব্রিয়াবিনামূল্যে হ্যাঁ

দ্বিতীয় দলটি হলো সেই সড়কগুলো, যা তির্রেনীয় উপকূল থেকে ইয়োনীয় উপকূল পর্যন্ত (পশ্চিম–পূর্ব) অঞ্চল অতিক্রম করে।

ক্যালাব্রিয়ার তির্রেনীয় উপকূলে উচ্চগতির রেলপথ রয়েছে। ফ্রেচ্চিয়ারজেন্তো ট্রেন রোম থেকে রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ার মধ্যে চলাচল করে। এছাড়া সিসিলি প্রণালী পেরিয়ে ক্যালাব্রিয়া ও সিসিলির মধ্যে অনেক ফেরি চলাচল করে। প্রধান ফেরিটি ভিলা সান জিওভান্নি থেকে মেসিনা পর্যন্ত যায়।

নৌপরিবহন ও বন্দর

[সম্পাদনা]
জিওইয়া তাউরোর সমুদ্রবন্দর

ক্যালাব্রিয়ার প্রধান বন্দরগুলো জিওইয়া তাউরো এবং রেজ্জো ক্যালাব্রিয়াতে অবস্থিত।

জিওইয়া তাউরো বন্দরে সাতটি লোডিং ডক রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ৪,৬৪৬ মিটার (১৫,২৪৩ ফুট)। এটি ইতালির বৃহত্তম বন্দর এবং ইউরোপের অষ্টম বৃহত্তম কন্টেইনার বন্দর। ২০১৮ সালে এখানে ৪০ লক্ষ টিইইউ কন্টেইনার পরিচালিত হয়েছিল।[১৯২][১৯৩]

এখানে ৩,০০০-এর বেশি জাহাজ আসে। ২০০৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপে আসা ৮০% কোকেন কলম্বিয়া থেকে এই বন্দরের মাধ্যমে প্রবেশ করত। বন্দরটি অবৈধ অস্ত্র পাচারেও জড়িত। এসব কার্যক্রম এনড্রাঙ্গেতা নামক অপরাধী সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করে।[১৯৪]

রেজ্জো বন্দরে পাঁচটি লোডিং ডক রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ১,৫৩০ মিটার (৫,০২০ ফুট)

অন্যান্য বন্দর:

  • ভিবো ভ্যালেন্তিয়া বন্দর
  • ভিলা সান জিওভান্নি বন্দর
  • কোরিলিয়ানো কালাব্রো বন্দর
  • ক্রোতোনে বন্দর

বিমান পরিবহন

[সম্পাদনা]
  • লামেজিয়া তেরমে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর – বর্তমানে যাত্রী সংখ্যার দিক থেকে ক্যালাব্রিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর
  • রেজ্জো ক্যালাব্রিয়া বিমানবন্দর – শহর কেন্দ্র থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে, ১৯৩৯ সালে নির্মিত এবং ক্যালাব্রিয়ার প্রথম বিমানবন্দর
  • ক্রোতোনে বিমানবন্দর

ক্যালাব্রিয়ায় ইতালির দুটি সবচেয়ে উঁচু সেতু রয়েছে:

  • ইতালিয়া ভায়াডাক্ট
  • সফালাস্সা ভায়াডাক্ট (এটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ও দীর্ঘ স্প্যান ফ্রেম সেতু)[১৯৫]

পরিকল্পিত সেতু

[সম্পাদনা]
মহাকাশ থেকে দেখা মেসিনা প্রণালী

সিসিলি ও ক্যালাব্রিয়াকে যুক্ত করার জন্য সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ১৮৬৫ সাল থেকে আলোচনা হচ্ছে। গত কয়েক দশকে সড়ক ও রেল সংযোগের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এটি হলে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সাসপেনশন সেতু হবে। ২০০৯ সালের ৬ মার্চে সিলভিও বেরলুসকোনি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর ২০০৯ সালে নির্মাণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল €৬.১ বিলিয়ন।[১৯৬]

এই পরিকল্পনা পরিবেশবাদী সংগঠন এবং স্থানীয় সিসিলিয়ান ও ক্যালাব্রিয়ানদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছে। তারা পরিবেশগত প্রভাব, অর্থনৈতিক টেকসইতা এবং সংগঠিত অপরাধের অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।[১৯৭][১৯৮]

২০২৫ সালের আগস্টে মেলোনি সরকারের অধীনে মেসিনা প্রণালী সেতু চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। নির্মাণ কাজ ২০২৫ সালের শরৎকালে শুরু হওয়ার কথা। সেতুটি ২০৩২ সালে খুললে ভিলা সান জিওভান্নি ও তোরে ফারোকে যুক্ত করবে এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সাসপেনশন সেতু হবে।[১৯৯]

জনসংখ্যা

[সম্পাদনা]
ঐতিহাসিক জনসংখ্যা
বছরজন.±%
১৮৬১ ১১,৫৪,৮৪০    
১৮৭১ ১২,১৮,৮৪২+5.5%
১৮৮১ ১২,৮১,৭৯৯+5.2%
১৯০১ ১৪,৩৯,৩২৯+12.3%
১৯১১ ১৫,২৫,৭৪৫+6.0%
১৯২১ ১৬,২৭,১১৭+6.6%
১৯৩১ ১৭,২৩,৪২৮+5.9%
১৯৩৬ ১৭,৭১,৬৫১+2.8%
১৯৫১ ২০,৪৪,২৮৭+15.4%
১৯৬১ ২০,৪৫,০৪৭+0.0%
১৯৭১ ১৯,৮৮,০৫১−2.8%
১৯৮১ ২০,৬১,১৮২+3.7%
১৯৯১ ২০,৭০,২০৩+0.4%
২০০১ ২০,১১,৪৬৬−2.8%
২০১১ ১৯,৫৯,০৫০−2.6%
২০২১১৮,৫৫,৪৫৪−5.3%
উৎস: জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (ইতালি)[২০০][২০১]

নিচে ২০,০০০-এর বেশি জনসংখ্যা রয়েছে—এমন ক্যালাব্রিয়ার কমুনগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:[২০২]

  1. রেজ্জো ক্যালাব্রিয়া – ১৬৮,৫৭২
  2. কাতানৎসারো – ৮৩,২৪৭
  3. কোরিলিয়ানো-রোস্সানো – ৭৪,০০২
  4. লামেজিয়া তেরমে – ৬৭,১৬৮
  5. কোজেনজা – ৬৩,২৪১
  6. ক্রোতোনে – ৫৮,১৮১
  7. রেন্দে – ৩৬,৮১৯
  8. ভিবো ভ্যালেন্তিয়া – ৩০,৯১৩
  9. কাস্ত্রোভিল্লারি – ২০,৫৬৬
  10. মোন্তালতো উফ্ফুগো – ২০,০৫০

সরকার ও রাজনীতি

[সম্পাদনা]

সহোদর প্রশাসনিক অঞ্চল

[সম্পাদনা]

প্রশাসনিক বিভাগ

[সম্পাদনা]

ক্যালাব্রিয়া পাঁচটি প্রদেশে বিভক্ত:

প্রতীক প্রদেশ মিউনিসিপ্যালিটি জনসংখ্যা আয়তন (কিমি) মানচিত্র
কাতানৎসারো ৮০ ৩৪০,৬৭৯ ২,৪১৫.৪৫
কোজেনজা ১৫০ ৬৬৮,৯৯২ ৬,৭০৯.৭৫
ক্রোতোনে ২৭ ১৬০,৭৭৫ ১,৭৩৫.৬৮
রেজ্জো ক্যালাব্রিয়া ৯৭ ৫১৬,৬০১ ৩,২১০.৩৭
ভিবো ভ্যালেন্তিয়া ৫০ ১৪৯,৮৯৯ ১,১৫০.৬৪
ক্যালাব্রিয়া ৪০৪ ১,৮৩৬,৯৪৬ ১৫,২২১.৯০
লা গার্দিয়া (গার্দিয়া পিয়েমন্তেসে) এবং ওক্সিতানিয়া অঞ্চলের অন্যান্য প্রধান শহর, ওক্সিতান ভাষাতে

১৮৬১ সালে ইতালির একীকরণের আগেই ক্যালাব্রিয়ার সরকারি জাতীয় ভাষা হিসেবে মানক ইতালীয় ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ক্যালাব্রিয়ায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নানা উপভাষা প্রচলিত ছিল। ক্যালাব্রিয়ান ভাষা সরাসরি লাতিন ভাষা থেকে উদ্ভূত।

বেশিরভাগ ভাষাবিদ ক্যালাব্রিয়ার বিভিন্ন উপভাষাকে দুইটি প্রধান ভাষা-গোষ্ঠীতে ভাগ করেন। এই অঞ্চলের উত্তরে[২০৫] ক্যালাব্রিয়ান উপভাষাগুলোকে নিয়াপোলিটান ভাষার অংশ হিসেবে ধরা হয় এবং এগুলোকে উত্তর ক্যালাব্রিয়ান বলা হয়। বাকি অঞ্চলে ক্যালাব্রিয়ান উপভাষাগুলোকে সাধারণত মধ্য ও দক্ষিণ ক্যালাব্রিয়ান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয় এবং এগুলোকে সিসিলিয়ান ভাষার অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তবে গার্দিয়া পিয়েমন্তেসে এবং রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ার কিছু এলাকায় গারদিওল (ওক্সিতান ভাষার একটি রূপ) ভাষা ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ক্যালাব্রিয়া এক সময় ফরাসি ও স্প্যানিশ শাসনের অধীনে থাকায় কিছু উপভাষায় স্প্যানিশ ও ফরাসি প্রভাব দেখা যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী হলো বোভেসিয়া অঞ্চলের নয়টি শহরের মানুষ, যারা প্রাচীন গ্রিক থেকে উদ্ভূত গ্রিকানিকো ভাষা ব্যবহার করে। এটি বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য শাসন ও প্রাচীন ম্যাগনা গ্রেসিয়ার স্মৃতিচিহ্ন।[২০৬]

ক্যালাব্রিয়ার অধিকাংশ মানুষ রোমান ক্যাথলিক। ইতিহাস অনুযায়ী ক্যালাব্রিয়ানরা গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের অনুসারী ছিল। ৭৩২ সালে দক্ষিণ ইতালির ধর্মীয় এলাকা কনস্টান্টিনোপলের প্যাট্রিয়ার্কের অধীনে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এছাড়া এই অঞ্চলে ইভানজেলিকাল খ্রিস্টানদের সম্প্রদায়ও রয়েছে।[২০৭]

ক্যালাব্রিয়াকে অনেক সময় "সন্তদের ভূমি" বলা হয়, কারণ প্রায় ২০০০ বছরের মধ্যে এখানে বহু সন্ত জন্মেছেন।[২০৮][২০৯][২১০][২১১]

ক্যালাব্রিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত সন্ত এবং অঞ্চলের পৃষ্ঠপোষক সন্ত হলেন ফ্রান্সিস অব পাওলা। এছাড়া আরেকজন পৃষ্ঠপোষক সন্ত হলেন কোলোনের ব্রুনো। তিনি কার্থুসিয়ান সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি ১০৯৫ সালে সেরা সান ব্রুনো শহরে চার্টারহাউস নির্মাণ করেন এবং ১১০১ সালে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।

বর্তমানে ইহুদি সম্প্রদায়ের আকার ছোট হলেও ক্যালাব্রিয়ায় ইহুদি উপস্থিতি বহু পুরোনো। কমপক্ষে ১৬০০ বছর (সম্ভবত ২৩০০ বছর) ধরে এখানে ইহুদিরা বাস করছে। ক্যালাব্রিয়ার ইহুদিরা ইহুদি জীবন ও সংস্কৃতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রেখেছে। সিসিলির ইহুদিদের সঙ্গে খুব মিল থাকলেও ইতিহাস ও ভূগোলের কারণে তাদের আলাদা জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখা হয়। এছাড়া ইতালীয় আনুসিমদের একটি ছোট সম্প্রদায় আবার ইহুদি ধর্মে ফিরে এসেছে।[২১২]

ক্যালাব্রিয়ার মানুষের ভূমিকা রেনেসাঁ মানবতাবাদরেনেসাঁ যুগে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সময় অনেক গ্রিক পণ্ডিত ক্যালাব্রিয়া থেকে এসেছিলেন, সম্ভবত গ্রিক প্রভাবের কারণে। প্রাচীন গ্রিক ভাষা পুনরুদ্ধার করা কঠিন ছিল কারণ মানুষরা ভাষাটি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন। এই সময় ক্যালাব্রিয়ান মানবতাবাদী ও কনস্টান্টিনোপল থেকে আসা শরণার্থীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এই সময় প্রাচীন গ্রিক অধ্যয়নের প্রধান কাজ করেছিলেন সেমিনারা মঠের দুইজন সন্ন্যাসী: ক্যালাব্রিয়ার বারলাআম, জেরাচের বিশপ, এবং তার শিষ্য লিওনজিও পিলাতো। পিলাতো রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ার কাছে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি প্রাচীন গ্রিকের শিক্ষক ও অনুবাদক ছিলেন এবং জোভান্নি বোক্কাচ্চোকে হোমারের রচনা অনুবাদে সাহায্য করেছিলেন।

রান্নাবান্না

[সম্পাদনা]
'নদুজা

ক্যালাব্রিয়ার রান্না দক্ষিণ ইতালীয় ধাঁচের ভূমধ্যসাগরীয় রান্না। এতে মাংস (শূকর, ভেড়া, ছাগল), সবজি (বিশেষ করে বেগুন) এবং মাছের ভারসাম্য থাকে। পাস্তা এখানেও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যান্য ইতালীয় অঞ্চলের তুলনায় ক্যালাব্রিয়ানরা খাবার সংরক্ষণে বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা সবজি ও মাংস জলপাই তেলে সংরক্ষণ করে। তারা সসেজ ও ঠান্ডা মাংসও বানায়, যেমন সোপ্রেসাতা, 'নদুজা, কাপোকোলো। উপকূলে মাছ সংরক্ষণ করা হয়, বিশেষ করে সোর্ডফিশ, সারডিন এবং কড (বাক্কাল্লা)।

স্থানীয় মিষ্টান্ন সাধারণত ভাজা বা মধু দিয়ে মিষ্টি করা হয়, যেমন কুদ্দুরাচি, নাকাতোল, স্কালিল্লে বা স্কালিদ্দে। এছাড়া বিস্কুট ধরনের বেক করা মিষ্টি যেমন নজুদ্দা

কিছু স্থানীয় বিশেষ খাবারের মধ্যে রয়েছে কাচিওকাভাল্লো চিজ, ত্রোপেয়ার লাল পেঁয়াজ, ফ্রিত্তুলি, কুরকুচি, লিকোরিস, লাগানে এ চিচিয়ারি, পেকোরিনো ক্রোতোনেজে, মরজেল্লো এবং পিনিওলাতা

প্রাচীনকালে ক্যালাব্রিয়াকে এনোত্রিয়া বলা হতো (গ্রিক: Οἰνωτρία, উচ্চারণ: ওয়েনোত্রিয়া)। প্রাচীন গ্রিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, (গ্রিক: Οἴνωτρος, উচ্চারণ: ওয়েনোত্রুস) ছিলেন লাইকাওনের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র এবং এনোত্রিয়ার নামকরণকারী।[২১৩]


কোজেনজা কালচিও স্টেডিয়াম

ক্যালাব্রিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হলো ফুটবল। ২০২৩–২৪ সেরিয়ে বি মৌসুমে ক্যালাব্রিয়া থেকে ২০টি দলের মধ্যে ২টি দল অংশ নিয়েছে: কোজেনজা কালচিও এবং কাতানৎসারো। অঞ্চলের অন্য বড় দল হলো ক্রোতোনে ও ভিবোনেজে, যারা ২০২৩–২৪ সেরিয়ে সিতে খেলছে।

ভায়োলা রেজ্জো ক্যালাব্রিয়া হলো রেজ্জো ক্যালাব্রিয়া ভিত্তিক একটি ইতালীয় পেশাদার বাস্কেটবল ক্লাব।

বিশ্ববিদ্যালয়

[সম্পাদনা]

ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলে ৩টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে

  • ক্যালাব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (কোজেনজা)
  • ম্যাগনা গ্রেসিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (কাতানৎসারো)
  • রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ার মেডিটেরানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

এছাড়া বেসরকারি রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ায় দান্তে আলিগিয়েরি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

স্বাস্থ্য

[সম্পাদনা]
ক্যালাব্রিয়ার সরকারি হাসপাতালসমূহ

ক্যালাব্রিয়ার স্বাস্থ্যসেবা চারটি প্রধান সরকারি হাসপাতাল এবং ত্রিশটি মাধ্যমিক হাসপাতালে সংগঠিত। এছাড়া বহু বেসরকারি হাসপাতালও রয়েছে। ঋণের কারণে ২০০৯ সাল থেকে এগুলো বিশেষ কমিশনার দ্বারা পরিচালিত হয়। এটিকে আঞ্চলিক পর্যায়ে স্বাভাবিক ও কার্যকর প্রশাসনে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়, যা ইতালীয় সংবিধানে নির্ধারিত।

চারটি প্রধান সরকারি হাসপাতাল হলো:

  • আজিয়েন্ডা ওস্পেদালিয়েরা "পুলিয়েজে-চিয়াচ্চিও", কাতানৎসারো
  • আজিয়েন্ডা ওস্পেদালিয়েরা "মাতের ডোমিনি", কাতানৎসারো
  • কোজেনজার আজিয়েন্ডা ওস্পেদালিয়েরা, কোজেনজা
  • রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ার ওস্পেদালি রিউনিতি, রেজ্জো ক্যালাব্রিয়া

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "Monthly Demographic Balance"ISTAT
  2. "Population on 1 January by age, sex and NUTS 2 region", www.ec.europa.eu, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩
  3. "Sub-national HDI – Area Database – Global Data Lab"hdi.globaldatalab.org (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০২৩
  4. "Calabria"অক্সফোর্ড ডিকশনারি ইউকে ডিকশনারি (ইংরেজি ভাষায়)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০১৯
  5. 1 2 "Calabria"Collins English DictionaryHarperCollins। ১ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০১৯
  6. "Calabria"মেরিয়াম-ওয়েবস্টার ডিকশনারি (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০১৯
  7. Guillotining, M., History of Earliest Italy, trans. Ryle, M & Soper, K. in Jerome Lectures, Diciassettesima serie, p.৫০
  8. Carpenter, T. H.; Lynch, K. M.; Robinson, E. G. D., সম্পাদকগণ (২০১৪)। The Italic People of Ancient Apulia: New Evidence from Pottery for Workshops, Markets, and Customs। New York City: Cambridge University Press। পৃ. ৩৮–৩৯। আইএসবিএন ৯৭৮১১৩৯৯৯২৭০১
  9. Colafemmina, Cesare (২০১২)। The Jews in Calabria। Leiden, The Netherlands: Brill। পৃ. আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪২৩৪১২৩
  10. Dionysius of Halicarnassus (১৯৩৭)। "1.35"Roman Antiquities। Harvard University Press। ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১
  11. Strabo (২০০৮) [১৯২৪]। "6.1.4"। Jones, H. L. (সম্পাদক)। Geography। খণ্ড ৩। Cambridge, Massachusetts: Harvard University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-৯৯২০১-৬। ৫ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১
  12. Pallottino, Missimo (২০১৪)। A History of Earliest Italy। New York City: Routledge। পৃ. ৫০আইএসবিএন ৯৭৮১৩১৭৬৯৬৮২৭
  13. Antonio Luce (২৫ জানুয়ারি ২০১১)। "italian travel team Calabria – Italy Travel Guide"। ১১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত YouTube এর মাধ্যমে।
  14. "Dante Alighieri Society of Massachusetts: A Concise History of Italy"। Dante Alighieri Society of Massachusetts, Inc.। ১১ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১৬
  15. "Cirò: Calabria's Ancient Wine from the Toe of Southern Italy's Boot – Into Wine"। ৯ অক্টোবর ২০০৮। ১৪ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০১৬
  16. "Guida Consiglio" (পিডিএফ)consiglioregionale.calabria.it। পৃ. ৭। ৩০ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০২১
  17. Coulter, Cornelia C. (১ জানুয়ারি ১৯৪২)। "Review of Calabria: The First Italy"। Classical Philology৩৭ (২): ২২৩–২২৫। ডিওআই:10.1086/362608জেস্টোর 264353
  18. NASA – Clouds and Sunlight ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ এপ্রিল ২০১২ তারিখে. Nasa.gov (30 December 2009). Retrieved on 28 July 2013.
  19. "Journeys"। ২ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৯
  20. "The Calabria National Park, sila Grande and Sila Piccola"www.madeinsouthitalytoday.com। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১৬
  21. "attivita_montagna – Costa Tiziana"। ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৮
  22. "The Giants of the Sila: memories and history of a biogenetic reserve – I Giganti della Sila"। ২১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৮
  23. "The Forest of Giants"www.ItalyTraveller.com। ২ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৯
  24. Rai। "Water, woodland, silence: the Sila Park"। ৯ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত YouTube এর মাধ্যমে।
  25. "Calabria climate: when to go to Calabria – Italy: travel, recipes, family and health"। ১৭ মার্চ ২০১৬। ২৬ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১৬
  26. "Reggio Calabria (RC) 21 m. s.l.m. (a.s.l.)" (পিডিএফ)। Servizio Meteorologico। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩
  27. "WMO climate nornals for 1991-2020: Monte Scuro-16344" (CSV)ncei.noaa.gov (Excel)। NOAA। ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  28. "WMO Climate Normals for 1981-2010: Monte scuro" (XLS)ncei.noaa.gov। NOAA। ১৭ মার্চ ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  29. "Climate Normals for Monte Scurto (Italian IP required)" (পিডিএফ)। Servizio Meteorologico। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  30. 1 2 3 4 5 van Dijk, J.P., Bello, M., Brancaleoni, G.P., Cantarella, G., Costa, V., Frixa, A., Golfetto, F., Merlini, S., Riva, M., Toricelli, S., Toscano, C., and Zerilli, A. (২০০০, a); ক্যালাব্রিয়ান আর্কের উত্তরাংশের জন্য একটি নতুন গাঠনিক মডেল। টেকটোনোফিজিক্স, ৩২৪, ২৬৭–৩২০।
  31. Argand, E. (১৯২২); এশিয়ার টেকটনিক্স। তৃতীয় আন্তর্জাতিক ভূতাত্ত্বিক কংগ্রেস, লিয়েজ, ১, ১৭১–৩৭২।
  32. Boccaletti, M., and Guazzone, G. (১৯৭২, b); ভূমধ্যসাগরের প্যালিওভূগোল ও ভূগতিবিদ্যার বিবর্তন: প্রান্তীয় অববাহিকা। মেম. সোস. জিওল. ইট., ১৩, ১৬২–১৬৯।
  33. Ogniben, Leo (১৯৭৩); বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে ক্যালাব্রিয়ার ভূতাত্ত্বিক কাঠামো। জিওল. রোমানা, ১২, ২৪৩–৫৮৫।
  34. Ippolito, Felice (১৯৫৯); ইতালির ভূতাত্ত্বিক গ্রন্থপঞ্জি, খণ্ড ৪, ক্যালাব্রিয়া। সি.এন.আর., রোম।
  35. Cortese, E. (১৮৯৫); ক্যালাব্রিয়ার ভূতাত্ত্বিক বর্ণনা। মেম. দেসক্রিট. কার্তা জিওল. ইট., ৯, ৩১০ পৃষ্ঠা, রোম।
  36. van Dijk, J.P.; Scheepers, P.J.J. (১৯৯৫)। "ক্যালাব্রিয়ান আর্কে নিয়োজিন ঘূর্ণন এবং প্লাইওসিন-বর্তমান ভূগতিবিদ্যার প্রেক্ষাপট"Earth-Science Reviews৩৯ (3–4): ২০৭–২৪৬। ডিওআই:10.1016/0012-8252(95)00009-7এইচডিএল:1874/19084এস২সিআইডি 128811666
  37. "History of Calabria" (পিডিএফ)Calabria: Italy's Best Kept Secret। ২০০৭। ৩০ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০২১
  38. "Storia della Calabria – Calabrian History"www.g-site.com। ২৭ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৯
  39. Marafioti, Girolamo (১৬০১)। Chroniche et Antichità Di Calabria (ইতালীয় ভাষায়)।
  40. "A Dictionary of Greek and Roman biography and mythology, I'talus"www.perseus.tufts.edu। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  41. Guerrisi, Vincenzo (২০২১)। Monografia da Altanum a Polistena, territorio degli Itali-Morgeti [Monograph from Altanum to Polistena, territory of the Italians-Morgetes] (ইতালীয় ভাষায়)। BookSprint Edizioni। আইএসবিএন ৯৭৮৮৮২৪৯৫৩০৭৮
  42. Bianco, Salvatore; Preite, Addolorata (১৮ ডিসেম্বর ২০১৪)। "Identificazione degli Enotri"Mélanges de l'École française de Rome - Antiquité (126–2)। ডিওআই:10.4000/mefra.2438। ১৯ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৩
  43. Sciarretta, Antonio (২০১০)। Toponomastica d'Italia. Nomi di luoghi, storie di popoli antichi। Milano: Mursia। পৃ. ১৭৪–১৯৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৮৮-৪২৫-৪০১৭-৫
  44. Lazzarini, Letizia; Poccetti, Paolo (২০০১)। Il mondo enotrio tra VI e V secolo a. C. L'iscrizione paleoitalica da Tortora। Loffredo Editore। আইএসবিএন ৯৭৮৮৮৮০৯৬৮৮২৫
  45. Mollo, Fabrizio (২০০১)। Archeologia per Tortora: frammenti dal passato। Potenza: Societa Tipografica Ed.।
  46. 1 2 3 4 5 Settis, Salvatore, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড I: La Calabria antica। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-১৫৮-৬
  47. 1 2 3 4 5 Caligiuri, Mario (১৯৯৬)। Breve storia della Calabria. Dalle origini ai giorni nostri [Brief history of Calabria. From its origins to the present day] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Newton & Compton। আইএসবিএন ৮৮-৮১৮৩-৪৭৯-০
  48. 1 2 3 4 Settis, Salvatore, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড I: La Calabria antica। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-১৫৮-৬
  49. 1 2 3 4 Caligiuri, Mario (১৯৯৬)। Breve storia della Calabria. Dalle origini ai giorni nostri [Brief history of Calabria. From its origins to the present day] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Newton & Compton। আইএসবিএন ৮৮-৮১৮৩-৪৭৯-০
  50. "Olympic Games – Winter Summer Past and Future Olympics"। ২০ ডিসেম্বর ২০১৮। ২৭ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০১৬
  51. "Intellectual Property (Stanford Encyclopedia of Philosophy)"। plato.stanford.edu। ১১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৫
  52. Matthews, Jeff। "Who were the Sybarites?"। ৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১৬
  53. "Locri"www.amalficoast.com। ২ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০১৯
  54. Simcox, Edith Jemima (৪ নভেম্বর ২০১০)। Primitive Civilizations: Or, Outlines of the History of Ownership in Archaic Communities। Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১০৮-০২১৮৪-৫। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৬
  55. Grant 1993, পৃ. 77
  56. Matyszak 2004, পৃ. 14
  57. Grant 1993, পৃ. 78
  58. Musti 1990, পৃ. 536
  59. Settis, Salvatore, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড I: La Calabria antica। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-১৫৮-৬
  60. Caligiuri, Mario (১৯৯৬)। Breve storia della Calabria. Dalle origini ai giorni nostri [Brief history of Calabria. From its origins to the present day] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Newton & Compton। আইএসবিএন ৮৮-৮১৮৩-৪৭৯-০
  61. Dionysius of Halicarnassus, Roman Histories, 20.5–6
  62. Lane Fox 2005, পৃ. 307
  63. 1 2 3 Settis, Salvatore, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড I: La Calabria antica। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-১৫৮-৬
  64. 1 2 3 Caligiuri, Mario (১৯৯৬)। Breve storia della Calabria. Dalle origini ai giorni nostri [Brief history of Calabria. From its origins to the present day] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Newton & Compton। আইএসবিএন ৮৮-৮১৮৩-৪৭৯-০
  65. Livy, The History of Rome, 30.19
  66. Livy, The History of Rome, 34.45, 53; 35.40
  67. Bernardini, Paolo; Camporeale, Giovannangelo (১ জানুয়ারি ২০০৪)। The Etruscans Outside Etruria। Getty Publications। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৯২৩৬-৭৬৭-২। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৬
  68. 1 2 3 4 5 6 Settis, Salvatore, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড I: La Calabria antica। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-১৫৮-৬
  69. 1 2 3 4 5 6 Caligiuri, Mario (১৯৯৬)। Breve storia della Calabria. Dalle origini ai giorni nostri [Brief history of Calabria. From its origins to the present day] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Newton & Compton। আইএসবিএন ৮৮-৮১৮৩-৪৭৯-০
  70. 1 2 3 4 5 6 7 8 Settis, Salvatore, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড I: La Calabria antica। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-১৫৮-৬
  71. 1 2 3 4 5 6 7 8 Caligiuri, Mario (১৯৯৬)। Breve storia della Calabria. Dalle origini ai giorni nostri [Brief history of Calabria. From its origins to the present day] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Newton & Compton। আইএসবিএন ৮৮-৮১৮৩-৪৭৯-০
  72. Peter Brown, The World of Late Antiquity: AD 150–750.
  73. TheGreatMysteries (৩ এপ্রিল ২০১১)। "Testament The Bible And History episode 6 Power And Glory part one (1 of 2)"। ১১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত YouTube এর মাধ্যমে।
  74. "Cassiodorus, Chapter 6: Vivarium"faculty.georgetown.edu। ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১৬
  75. Cassiodorus, Variae, 9.24–54, 38–39
  76. metatags generator। "Bleeding Espresso"। bleedingespresso.com। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৫
  77. The Italian Cities and the Arabs before 1095, Hilmar C. Krueger, A History of the Crusades: The First Hundred Years, Vol. I, ed. Kenneth Meyer Setton, Marshall W. Baldwin, (University of Pennsylvania Press, 1955), 50–51.
  78. generator, metatags। "History of Calabria – Bleeding Espresso"। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১৫
  79. Guillou, André; Delogu, Paolo (১৯৮৩)। "Il mezzoggiorno dai Bizantini a Federico II"। Storia d'Italia (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড III। UTET।
  80. Sakellariou, Eleni (২০১১)। Southern Italy in the Late Middle Ages: Demographic, Institutional Change in the Kingdom of Naples, c.1440-c.1530। Brill।
  81. "Catanzaro: What to see and what to do"। ২৯ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২০
  82. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 Caligiuri, Mario (১৯৯৬)। Breve storia della Calabria. Dalle origini ai giorni nostri [Brief history of Calabria. From its origins to the present day] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Newton & Compton। আইএসবিএন ৮৮-৮১৮৩-৪৭৯-০
  83. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 Placanica, Augusto, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড II: La Calabria moderna e contemporanea. Età presente, approfondimenti। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-৭০৩-৭
  84. Placanica, Augusto (১৯৮৪)। L'Iliade funesta. Storia del terremoto calabro-messinese del 1783 [১৭৮৩ সালের কালাব্রো-মেসিনা ভূমিকম্পের শোকাবহ ইতিহাস] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore।
  85. Battaglini, M (১৯৭৩)। La rivoluzione del 1799 a Napoli [১৭৯৯ সালের নেপলসের বিপ্লব] (ইতালীয় ভাষায়)। Messina-Florence: BiblioLife।
  86. Leoni, Francesco (১৯৭৫)। Storia della controrivoluzione in Italia (1789-1859) [ইতালিতে প্রতিবিপ্লবের ইতিহাস (১৭৮৯–১৮৫৯)] (ইতালীয় ভাষায়)। Naples: Guida।
  87. Viglione, Massimo (১৯৯৫)। La "Vandea italiana" [ইতালীয় ভঁদে] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Effedieffe।
  88. Lefebvre, Georges (২০০৯)। Napoleone [নেপোলিয়ন] (ইতালীয় ভাষায়)। Bari: Gangemi Editore।
  89. 1 2 Visalli, Vittorio (১৯৮৯)। I Calabresi nel Risorgimento italiano. Storia documentata delle rivoluzioni calabresi dal 1799 al 1862 [ইতালির রিসর্জিমেন্তোতে ক্যালাব্রিয়ানরা. ১৭৯৯ থেকে ১৮৬২ পর্যন্ত ক্যালাব্রিয়ার বিপ্লবের দলিলভিত্তিক ইতিহাস] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড II। Walter Brenner Editore।
  90. 1 2 Norwich, John Julius (২০০৭)। The Middle Sea: A History of the Mediterranean। New York: Alfred Knopf। পৃ. xxvii। আইএসবিএন ৯৭৮-০৩০৭৩৮৭৭২১
  91. Mack Smith, Denis (১৯৮৯)। Italy and Its Monarchy। New Haven: Yale University Press। পৃ. ১২–১৩। আইএসবিএন ০৩০০০৫১৩২৮
  92. 1 2 Mack Smith, Denis (১৯৮৯)। Italy and Its Monarchy। New Haven: Yale University Press। পৃ. ১৪। আইএসবিএন ০৩০০০৫১৩২৮
  93. 1 2 3 4 Caligiuri, Mario (১৯৯৬)। Breve storia della Calabria. Dalle origini ai giorni nostri [Brief history of Calabria. From its origins to the present day] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Newton & Compton। আইএসবিএন ৮৮-৮১৮৩-৪৭৯-০
  94. 1 2 3 4 Placanica, Augusto, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড II: La Calabria moderna e contemporanea. Età presente, approfondimenti। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-৭০৩-৭
  95. Martucci, Roberto (১৯৮০)। Emergenza e tutela dell'ordine pubblico nell'Italia liberale [Emergency and the protection of law and order in liberal Italy] (ইতালীয় ভাষায়)। Bologna: il Mulino।
  96. Stancati, Enzo (১৯৮৮)। Cosenza e la sua provincia dall'Unità al Fascismo [ইতালীয় ঐক্য থেকে ফ্যাসিবাদ পর্যন্ত কোসেনজা ও তার প্রদেশ] (ইতালীয় ভাষায়)। Cosenza: Pellegrini editore।
  97. 1 2 Mack Smith, Denis (১৯৮৯)। Italy and Its Monarchy। New Haven: Yale University Press। পৃ. ১৬৫আইএসবিএন ০৩০০০৫১৩২৮
  98. Mack Smith, Denis (১৯৮৯)। Italy and Its Monarchy। New Haven: Yale University Press। পৃ. ১৬৫-১৬৬আইএসবিএন ০৩০০০৫১৩২৮
  99. Sergi, Anna; Lavorgna, Anita (২০১৬)। 'Ndrangheta: The Glocal Dimensions of the Most Powerful Italian Mafia। London: Palgrave Macmillan। পৃ. ১৩–১৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৩৩১৯৩২৫৮৫৯
  100. 1 2 Sergi, Anna; Lavorgna, Anita (২০১৬)। 'Ndrangheta: The Glocal Dimensions of the Most Powerful Italian Mafia। London: Palgrave Macmillan। পৃ. ৫৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৩৩১৯৩২৫৮৫৯
  101. 1 2 3 Mack Smith, Denis (১৯৮৯)। Italy and Its Monarchy। New Haven: Yale University Press। পৃ. ১৮১আইএসবিএন ০৩০০০৫১৩২৮
  102. 1 2 Mack Smith, Denis (১৯৮৯)। Italy and Its Monarchy। New Haven: Yale University Press। পৃ. ১৮১-১৮২আইএসবিএন ০৩০০০৫১৩২৮
  103. 1 2 Thompson, Mark (২০০৯)। La guerra bianca. Vita e morte sul fronte italiano 1915-1919 [The White War. Life and death on the Italian front 1915-1919.] (ইতালীয় ভাষায়)। Il Saggiatore।
  104. Army General Staff Historical Office, Historical Diary 141st Infantry Regiment, Exhibit B-1 Rec. 136D 1213f (1.12.1915-30.11.1916), Army General Staff Historical Office Archives
  105. Rossi, Marco (২০১৪)। Gli ammutinati delle trincee [The mutineers of the trenches] (ইতালীয় ভাষায়)। Pisa: BFS edizioni।
  106. Melograni, Piero। "Storia politica della Grande Guerra 1915-1918" [Political history of the Great War 1915-1918]Mondadori (ইতালীয় ভাষায়) (5)।
  107. Cordova, Ferdinando (২০০৩)। Il fascismo nel Mezzogiorno: le Calabrie [মেজ্জোজর্নোতে ফ্যাসিবাদ: ক্যালাব্রিয়াসমূহ] (ইতালীয় ভাষায়)। Rubbettino: Soveria Mannelli।
  108. Serpieri, Arrigo (১৯৩০)। La guerra e la classe rurale italiana [যুদ্ধ ও ইতালীয় গ্রামীণ শ্রেণি] (ইতালীয় ভাষায়)।
  109. Degl'Innocenti, Maurizio (১৯৮৫)। Filippo Turati e il socialismo europeo [ফিলিপ্পো তুরাতি ও ইউরোপীয় সমাজতন্ত্র] (ইতালীয় ভাষায়)। Naples: Guida Editori।
  110. Placanica, Augusto, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [ক্যালাব্রিয়ার ইতিহাস] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড II: La Calabria moderna e contemporanea. Età presente, approfondimenti। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-৭০৩-৭
  111. 1 2 Franzinelli, Mimmo (২০০৩)। Squadristi. Protagonisti e tecniche della violenza fascista 1919-1922 [Squadrists. Protagonists and techniques of fascist violence 1919-1922.] (ইতালীয় ভাষায়)। Milan: Mondadori।
  112. La Cava, Mario (১৯৭৪)। I fatti di Casignana [The facts of Casignana] (ইতালীয় ভাষায়)। Turin: Einaudi।
  113. 1 2 3 Placanica, Augusto, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড II: La Calabria moderna e contemporanea. Età presente, approfondimenti। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-৭০৩-৭
  114. Mack Smith, Denis (১৯৮৯)। Italy and Its Monarchy। New Haven: Yale University Press। পৃ. ২৬০-২৬১আইএসবিএন ০৩০০০৫১৩২৮
  115. 1 2 Dunnage, Jonathan (১৯৯৯)। "Politics and Policing in the Southern Italian Community"। Dunnagee, Jonathan (সম্পাদক)। After the War: Violence, Justice, Continuity and Renewal in Italian Society। Leicester: Troubador Publishing। পৃ. ৩৮। আইএসবিএন ১৮৯৯২৯৩৫৬৬
  116. Dunnage, Jonathan (১৯৯৯)। "Politics and Policing in the Southern Italian Community"। Dunnagee, Jonathan (সম্পাদক)। After the War: Violence, Justice, Continuity and Renewal in Italian Society। Leicester: Troubador Publishing। পৃ. ৩৬৯–৩৭। আইএসবিএন ১৮৯৯২৯৩৫৬৬
  117. Zanotti Bianco, Umberto (২০০৯)। Tra la perduta gente [Among the lost people] (ইতালীয় ভাষায়)। Rubbettino: Soveria Mannelli।
  118. 1 2 Placanica, Augusto, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড II: La Calabria moderna e contemporanea. Età presente, approfondimenti। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-৭০৩-৭
  119. Capogreco, Carlo Spartaco (২০১৯)। Mussolini's Camps: Civilian Internment in Fascist Italy (1940–1943)। London: Routledge। পৃ. ৭৭–৭৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১১৩৮৩৩৩০৮৬
  120. Capogreco, Carlo Spartaco (২০১৯)। Mussolini's Camps: Civilian Internment in Fascist Italy (1940–1943)। London: Routledge। পৃ. ৭৭–৭৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১১৩৮৩৩৩০৮৬
  121. Placanica, Augusto, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড II: La Calabria moderna e contemporanea. Età presente, approfondimenti। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-৭০৩-৭
  122. Weinberg, Gerhard (২০০৫)। A World in Arms। Cambridge: Cambridge University Press। পৃ. ৫৯৯–৬০০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৬১৮২৬-৭
  123. 1 2 3 4 Weinberg, Gerhard (২০০৫)। A World in Arms। Cambridge: Cambridge University Press। পৃ. ৬০০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৬১৮২৬-৭
  124. Murray, Williamson; Millet, Alan (২০০০)। War to be Won। Cambridge: Harvard University Press। পৃ. ৩৭৮আইএসবিএন ০-৬৭৪-০০১৬৩-X
  125. 1 2 Dunnage, Jonathan (১৯৯৯)। "Politics and Policing in the Southern Italian Community"। Dunnagee, Jonathan (সম্পাদক)। After the War: Violence, Justice, Continuity and Renewal in Italian Society। Leicester: Troubador Publishing। পৃ. ৩৯। আইএসবিএন ১৮৯৯২৯৩৫৬৬
  126. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 Sergi, Pantaleone (২০১৫)। "La Calabria liberata. Tra ripresa democratica e dinamiche conservatrici" [Liberated Calabria. Between democratic recovery and conservative dynamics] (পিডিএফ)। Soverina, Francesco (সম্পাদক)। 1943: Mediterraneo e Mezzogiorno d'Italia [1943: Mediterranean and Southern Italy] (ইতালীয় ভাষায়)। I libri di Viella। আইএসবিএন ৯৭৮৮৮৬৭২৮৬৪৮৫
  127. 1 2 Placanica, Augusto, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড II: La Calabria moderna e contemporanea. Età presente, approfondimenti। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-৭০৩-৭
  128. 1 2 Sergi, Pantaleone (২০১৫)। "La Calabria liberata. Tra ripresa democratica e dinamiche conservatrici" [Liberated Calabria. Between democratic recovery and conservative dynamics] (পিডিএফ)। Soverina, Francesco (সম্পাদক)। 1943: Mediterraneo e Mezzogiorno d'Italia [1943: Mediterranean and Southern Italy] (ইতালীয় ভাষায়)। I libri di Viella। আইএসবিএন ৯৭৮৮৮৬৭২৮৬৪৮৫
  129. 1 2 Ginsborg, Paul (২০০৬)। Storia d'Italia dal dopoguerra ad oggi [History of Italy from the postwar period to the present] (ইতালীয় ভাষায়)। Turin: Einaudi।
  130. 1 2 Rossi-Doria, Anna (১৯৮৩)। Il ministro e i contadini: decreti Gullo e lotte nel Mezzogiorno, 1944-1949 [The minister and the peasants: Gullo decrees and struggles in the Mezzogiorno, 1944-1949] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Bulzoni।
  131. 1 2 Spriano, Paolo (১৯৭৫)। Storia del Partito Comunista Italiano [History of the Italian Communist Party] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড V। Turin: Einaudi।
  132. Serri, Mirella (২০০৮)। I profeti disarmati. 1945-1948, la guerra fra le due sinistre [The unarmed prophets. 1945-1948, the war between the two lefts] (ইতালীয় ভাষায়)। Milan: Corbaccio।
  133. 1 2 Dunnage, Jonathan (১৯৯৯)। "Politics and Policing in the Southern Italian Community"। Dunnagee, Jonathan (সম্পাদক)। After the War: Violence, Justice, Continuity and Renewal in Italian Society। Leicester: Troubador Publishing। পৃ. ৩৭। আইএসবিএন ১৮৯৯২৯৩৫৬৬
  134. Dunnage, Jonathan (১৯৯৯)। "Politics and Policing in the Southern Italian Community"। Dunnagee, Jonathan (সম্পাদক)। After the War: Violence, Justice, Continuity and Renewal in Italian Society। Leicester: Troubador Publishing। পৃ. ৪১। আইএসবিএন ১৮৯৯২৯৩৫৬৬
  135. Dunnage, Jonathan (১৯৯৯)। "Politics and Policing in the Southern Italian Community"। Dunnagee, Jonathan (সম্পাদক)। After the War: Violence, Justice, Continuity and Renewal in Italian Society। Leicester: Troubador Publishing। পৃ. ৪১=৪২। আইএসবিএন ১৮৯৯২৯৩৫৬৬
  136. Dunnage, Jonathan (১৯৯৯)। "Politics and Policing in the Southern Italian Community"। Dunnagee, Jonathan (সম্পাদক)। After the War: Violence, Justice, Continuity and Renewal in Italian Society। Leicester: Troubador Publishing। পৃ. ৪৩। আইএসবিএন ১৮৯৯২৯৩৫৬৬
  137. 1 2 3 Sergi, Pantaleone (২০১৫)। "La Calabria liberata. Tra ripresa democratica e dinamiche conservatrici" [Liberated Calabria. Between democratic recovery and conservative dynamics] (পিডিএফ)। Soverina, Francesco (সম্পাদক)। 1943: Mediterraneo e Mezzogiorno d'Italia [1943: Mediterranean and Southern Italy] (ইতালীয় ভাষায়)। I libri di Viella। আইএসবিএন ৯৭৮৮৮৬৭২৮৬৪৮৫
  138. 1 2 3 Ginsborg, Paul (২০০৬)। Storia d'Italia dal dopoguerra ad oggi [History of Italy from the postwar period to the present] (ইতালীয় ভাষায়)। Turin: Einaudi।
  139. Cinanni, P (১৯৭৭)। Lotte per la terra nel Mezzogiorno, 1943-1953 [Land struggles in the Mezzogiorno, 1943-1953] (ইতালীয় ভাষায়)। Milan: Marsilio।
  140. Bevilacqua, Piero (১৯৮০)। Le campagne del Mezzogiorno tra fascismo e dopoguerra: il caso della Calabria [The countryside of southern Italy between fascism and the postwar period: the case of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। Turin: Einaudi।
  141. 1 2 Bernardi, Emanuele (২০০৬)। La riforma agraria in Italia e gli Stati Uniti [Land reform in Italy and the United States] (ইতালীয় ভাষায়)। Bologna: Il Mulino।
  142. 1 2 3 4 Barberis, Corrado (১৯৫৭)। Teoria e storia della riforma agraria [Theory and history of land reform] (ইতালীয় ভাষায়)। Florence: Vallecchi।
  143. 1 2 Crainz, Guido (১৯৯৬)। Storia del miracolo italiano. Culture, identità, trasformazioni fra anni Cinquanta e Sessanta [History of the Italian Miracle. Cultures, identities, transformations between the 1950s and 1960s] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Donzelli।
  144. Ginsborg, Paul (২০০৬)। Storia d'Italia dal dopoguerra ad oggi [History of Italy from the postwar period to the present] (ইতালীয় ভাষায়)। Turin: Einaudi।
  145. Barberis, Corrado (১৯৯৯)। Le campagne italiane dall'Ottocento ad oggi [The Italian countryside from the 19th century to the present] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome-Bari: Laterza।
  146. Gallo, Stefano (২০১২)। Senza attraversare le frontiere [Without crossing borders] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome-Bari: Laterza।
  147. Vecchio, Bruno (১৯৯২)। "Geografia degli abbandoni rurali" [Geography of rural abandonment]। Bevilacqua, Piero (সম্পাদক)। Storia dell'agricoltura italiana in età contemporanea [History of Italian agriculture in contemporary times] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড I। Venice: Marsilio।
  148. Cassa per il Mezzogiorno (সম্পাদক)। Attuazione della legge speciale per la Calabria nel periodo 1955-1967 [Implementation of the special law for Calabria in the period 1955-1967] (ইতালীয় ভাষায়)।
  149. Barberis, Corrado (১৯৬১)। Le migrazioni rurali in Italia [Rural migration in Italy] (ইতালীয় ভাষায়)। Milan: Feltrinelli।
  150. Teti, Vito (২০০৪)। Il senso dei luoghi [The sense of places] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Donzelli।
  151. 1 2 3 Sergi, Anna; Lavorgna, Anita (২০১৬)। 'Ndrangheta: The Glocal Dimensions of the Most Powerful Italian Mafia। London: Palgrave Macmillan। পৃ. ১৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৩৩১৯৩২৫৮৫৯
  152. Ferraris, P (১৯৭১)। "I cento giorni di Reggio: i presupposti della rivolta e la sua dinamica" [The hundred days of Reggio: the preconditions of the revolt and its dynamics]Giovane Critica: ২–৪২।
  153. De Virgilio, Alessandro (২০১৪)। Le quattro giornate di Catanzaro. 25-28 gennaio 1950: la città in rivolta per il capoluogo [The Four Days of Catanzaro. January 25-28, 1950: the city in revolt for the capital city] (ইতালীয় ভাষায়)। Rubbettino। আইএসবিএন ৯৭৮-৮৮৪৯৮৪০৫২০
  154. Placanica, Augusto, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড II: La Calabria moderna e contemporanea. Età presente, approfondimenti। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-৭০৩-৭
  155. Ginsborg, Paul (২০০৬)। Storia d'Italia dal dopoguerra ad oggi [History of Italy from the postwar period to the present] (ইতালীয় ভাষায়)। Turin: Einaudi।
  156. Baldoni, Adalberto (২০০৯)। Storia della destra, Dal postfascismo al Popolo della libertà [History of the Right, From Post-Fascism to the People of Freedom] (ইতালীয় ভাষায়)। Florence: Edizioni Vallecchi।
  157. 1 2 D'Agostino, Fabrizio (১৯৭২)। Reggio Calabria. I moti del luglio 1970 - febbraio 1971 [Reggio Calabria. The uprisings of July 1970 - February 1971] (ইতালীয় ভাষায়)। Milan: Feltrinelli।
  158. Placanica, Augusto, সম্পাদক (১৯৮৮)। Storia della Calabria [History of Calabria] (ইতালীয় ভাষায়)। খণ্ড II: La Calabria moderna e contemporanea. Età presente, approfondimenti। Rome-Reggio Calabria: Gangemi Editore। আইএসবিএন ৮৮-৭৪৪৮-৭০৩-৭
  159. Ginsborg, Paul (২০০৬)। Storia d'Italia dal dopoguerra ad oggi [History of Italy from the postwar period to the present] (ইতালীয় ভাষায়)। Turin: Einaudi।
  160. Guerrazzi, Vincenzo (২০০৩)। Nord e Sud uniti nella lotta [North and South united in struggle] (ইতালীয় ভাষায়)। Padua: Frilli। আইএসবিএন ৯৭৮-৮৮৮৭৯২৩৭২৮
  161. Caprara, MArio; Semprini, Gianluca (২০১১)। Neri, la storia mai raccontata della destra radicale, eversiva e terrorista [Neri, the never-told story of the radical, subversive, terrorist right wing] (ইতালীয় ভাষায়)। Rome: Edizioni tascabili Newton।
  162. Cuzzola, Fabio (২০০১)। Cinque anarchici del Sud [Five anarchists from the South] (ইতালীয় ভাষায়)। Reggio Calabria: Città del Sole Edizioni।
  163. 1 2 Gagliardo, Piero (১৯৮৭)। "Cenni sulla situazione sociale ed economica della Calabria" [Notes on the social and economic situation in Calabria]। Bodone, P; Denisi, A (সম্পাদকগণ)। In Calabria alle origini di una storia e di una fede [In Calabria at the origins of a history and a faith] (ইতালীয় ভাষায়)। Reggio Calabria: Laruffa। আইএসবিএন ৯৭৮-৮৮৭২২১০৪৩৭
  164. Gaspari, Oscar; Forlenza, Rosario; Cruciani, Sante (২০০৯)। Storie di sindaci per la storia d'Italia [Stories of mayors for the history of Italy] (ইতালীয় ভাষায়)। Donzelli। আইএসবিএন ৯৭৮-৮৮৬০৩৬৪২৫৮
  165. "Unemployment NUTS 2 regions Eurostat"। ১২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মে ২০২১
  166. Donadio, Rachel (৭ অক্টোবর ২০১২)। "In Italy, Calabria is drained by corruption"The New York Times। ৪ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৭
  167. https://www.nytimes.com/2023/11/20/world/europe/mafia-trial-italy-mobsters.html
  168. "Biologico, l'Italia resta prima in Europa – AgroNotizie – Economia e politica"। agronotizie.imagelinenetwork.com। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৫
  169. "Il Territorio" (ইতালীয় ভাষায়)। Consorzio Cipolla Rossa di Tropea Calabria IGP। ৩ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০২০
  170. "Consorzio Cipolla di Tropea IGP"। ১২ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২০
  171. 1 2 "Portraits of the Regions"। DG REGIO of the ইউরোপীয় কমিশন। মার্চ ২০০৪। ২১ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১০
  172. Italian olives[অধিগ্রহণকৃত!] Retrieved 3 July 2018
  173. "PDO Oil: Calabrian extra virgin olive oil" (ইতালীয় ভাষায়)। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ১৪ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২০
  174. Redazione (১৯ জানুয়ারি ২০১৬)। "Calabria at the top of citrus fruit production"incalabria - La terra dell'impossibile (ইতালীয় ভাষায়)। ২৯ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২০
  175. "Fascinating Calabria: The Oranges perfume – SMAF Ltd"। ১৫ অক্টোবর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২০
  176. "Bergamot and Cedro – The Citrus Fruits of Calabria"ourlivesinitaly.com। ৮ আগস্ট ২০২০। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০২১
  177. "ISTAT. Istituto Nazionale di Statistica. Statistical Database. 2018"। ১৬ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২০
  178. Hicham Benabdelkamel; Leonardo Di Donna; Fabio Mazzotti; Attilio Naccarato; Giovanni Sindona; Antonio Tagarelli; Domenico Taverna (২০১২)। "Authenticity of PGI "Clementine of Calabria" by Multielement Fingerprint"J. Agric. Food Chem.৬০ (14): ৩৭১৭–৩৭২৬। বিবকোড:2012JAFC...60.3717Bডিওআই:10.1021/jf2050075পিএমআইডি 22458691
  179. Italy: Responsibly sourcing bergamot from Calabria। ২৭ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০২০
  180. "Net bergamot oil export in 2009"। ১৪ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২১
  181. "Net bergamot oil export in 2018"। ১৪ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২১
  182. "For Crown Heights Jews, An Italian Twist on an Ancient Tradition"DNAinfo New York। ১৮ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২১
  183. "Fichi di Cosenza DOP" (ইতালীয় ভাষায়)। ৭ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২০
  184. "Calabria"Global Epicurean। ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০১৬
  185. "Calabria itineraries from the Tyrrhenian to the Ionian"www.madeinsouthitalytoday.com। ৭ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০১৬
  186. "Italy – Agriculture, forestry and fishing"। ৪ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০২০
  187. "Italy: Peaches and nectrarines from Calabria to Northern Europe"। ৩ এপ্রিল ২০১৫। ১৮ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০২০
  188. "Liquorice: black gold in Calabria"। ২৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২০
  189. "hitachi completed production vivalto cars"। ১৪ জুলাই ২০১৭। ১৪ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২১
  190. (ইতালীয় ভাষায়) ...una vera e propria «vergogna italiana», in La storia della Salerno Reggio Calabria ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২২ জুলাই ২০১১ তারিখে, book about Salerno-Reggio Calabria
  191. Organised crime may be behind problems with southern motorway: Awkward questions remain about Italian infrastructure, in ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে
  192. "The largest European ports"। ২১ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২১
  193. "Top_20_ports_handling_containers"। ৫ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২১
  194. Bitter harvest ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে, দ্য গার্ডিয়ান, 19 December 2006
  195. "Sfalassa Bridge"। HighestBridges.com। ২৮ মার্চ ২০১০। ২২ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০১৩
  196. Italy revives Sicily bridge plan from BBC News. Retrieved 8 March 2009.
  197. Hooper, John (২ জানুয়ারি ২০০৮)। "Italian MPs kill plan to bridge Sicily and mainland"Guardian.co.uk। London। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০১০
  198. Kahn, Gabriel (১০ এপ্রিল ২০০৮)। "No Italian Job Takes Longer Than This Bridge"Wall Street Journal
  199. "Italy gives final go-ahead for landmark Sicily bridge project"reuters.com। ৬ আগস্ট ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০২৫
  200. "Popolazione residente e presente dei comuni. Censimenti dal 1861 al 1971" [Resident and present population of the municipalities. Censuses from 1861 to 1971] (পিডিএফ) (ইতালীয় ভাষায়)। জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (ইতালি)। ২৪ অক্টোবর ১৯৭১।
  201. "Dashboard Permanent census of population and housing"। জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (ইতালি)।
  202. "Statistiche demografiche ISTAT"demo.istat.it। ২৬ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৫
  203. "Sister and Friendship Cities"বারউড কাউন্সিল। ১৭ আগস্ট ২০১২। ২৭ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৫
  204. "Patto d'amicizia tra la Calabria ed il West Virginia" (পিডিএফ)। ২ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০১২
  205. "report for language code:sic"Ethnologue। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
  206. Kolasa-Sikiaridi, Kerry (১০ ডিসেম্বর ২০১৯)। "Calabrian Greek, a Language on the Brink of Extinction"Greek Reporter। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০২১
  207. "Secret Jews Evangelical Christians"। ২৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
  208. "Orthodox Europe :: Italy"orthodoxengland.org.uk। ২৮ নভেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
  209. "Orthodox Christianity in Southern Italy. Part 1"OrthoChristian.Com। ২ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
  210. "A JOURNAL OF ORTHODOX FAITH AND CULTURE – Road to Emmaus" (পিডিএফ)। ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
  211. "CALABRIA: ITALY'S HOLY MOUNTAINS"। ২৮ জুন ২০১২। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১৯
  212. "Center for the Study of Jewry in Calabria and Sicily"। ১২ জুন ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১০
  213. "Pausanias, Description of Greece, Arcadia, 8.3.5, at Theoi Project"। theoi.com। ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৫

উদ্ধৃত কাজসমূহ

[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • এনরিকো দাল লাগো এবং রিক হালপার্ন সম্পাদিত The American South and the Italian Mezzogiorno: Essays in Comparative History (২০০২) আইএসবিএন ০-৩৩৩-৭৩৯৭১-X
  • লারা ডানস্টন এবং টেরি কার্টার। Travellers Calabria (Travellers – Thomas Cook) (২০০৯) (ভ্রমণ সহায়িকা)
  • নেলসন মো। The View from Vesuvius: Italian Culture and the Southern Question (২০০২)
  • জেন শ্নাইডার। Italy's 'Southern Question': Orientalism in One Country (১৯৯৮)

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]