ক্যাওস (গণ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ক্যাওস
Chaos carolinense.jpg
ক্যাওস ক্যারোলিনেন্সে
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
ক্ষেত্র: ইউক্যারিওটা
পর্ব: অ্যামিবোজোয়া
উপপর্ব: লোবোসা
শ্রেণী: টিউবিউলিনিয়া
পরিবার: অ্যামিবিডা
গণ: ক্যাওস
কার্ল লিনিয়াস, ১৭৬৭[১]
প্রজাতি

ক্যাওস (ইংরেজি: Chaos) অ্যামিবোজোয়া পর্বের অ্যামিবিডা পরিবারের একটি গণ বিশেষ।[২][৩][৪]

শ্রেণীবিন্যাসের ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে অগস্ট যোহান রোসেল ভন রোসেনহফ গ্রিক পৌরাণিক রূপ-পরিবর্তনকারী সমুদ্র দেবতা প্রোতিয়ুসের নামে দের ক্লেইন প্রোটিয়াস (জার্মান: Der Kleine Proteus; ছোট্ট প্রোটিয়াস) নামে অ্যামিবা সদৃশ একটি জীবের বর্ণনা দেন।[৫] ১৭৫৮ খ্রিষ্টাব্দে রোসেলের প্রোটিয়াসের চিত্র না দেখেই কার্ল লিনিয়াস তার নিজের শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতিতে এই জীবকে ভলভক্স ক্যাওস নাম দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করেন। কিন্তু যেহেতু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শৈবালের একটি গণের নামের সঙ্গে ভলভক্স শব্দটি যুক্ত করা হয়ে গেছিল, তাই তিনি এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন ক্যাওস ক্যাওস। ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে জোসেফ লেইডি স্বাদু জলের সমস্ত এককোষী অ্যামিবাকে একত্রে অ্যামিবা প্রোটিয়াস প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত করেন, যার মধ্যে ক্যাওস গণের প্রজাতিও অন্তর্ভুক্ত হয়।[৬]

১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে হেনরি ভ্যান পিটার্স উইলসন একটি বৃহদাকৃতি অ্যামিবা আবিষ্কার ও আলাদা করতে সক্ষম হন, যার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে অ্যামিবা প্রোটিয়াস প্রজাতির মিল থাকলেও এই জীবের শতাধিক নিউক্লিয়াস ছিল। যেহেতু ততদিনে বহু-নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট বৃহদাকৃতি অ্যামিবাগুলিকে পেলোমিক্সা নামক গণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে গেছিল, উইলসন তার আবিষ্কৃত জীবকে পেলোমিক্সা ক্যারোলিনেন্সিস নাম দেন।[২]

১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে আসা স্খেফার মতপ্রকাশ করেন যে, রোসেল বর্ণিত দের ক্লেইন প্রোটিয়াস, কার্ল লিনিয়াস বর্ণিত ক্যাওস ক্যাওস এবং উইলসন আবিষ্কৃত পেলোমিক্সা ক্যারোলিনেন্সিস একই জীব। এই কারণে তিনি জীবটির নাম ক্যাওস ক্যাওস রাখার পক্ষে মত দেন। বহু বিজ্ঞানীদের অমত সত্ত্বেও[৭][৮] অনেকে তার মত গ্রহণ করেন। আবার বেশ কিছু বিজ্ঞানী গণ হিসেবে ক্যাওস নামটি গ্রহণ করলেও উইলসন দ্বারা নামাঙ্কিত ক্যারোলিনেন্সিস শব্দটিকে প্রজাতির নাম হিসেবে গ্রহণ করেন।[৯] ১৯৭০-এর দশক পর্য্যন্ত এই জীবের জন্য তিন রকমের নামই প্রচলিত ছিল। কিন্তু পরবর্তী গবেষণা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই জীঈবের সঙ্গে অন্যান্য পেলোমিক্সা গণের প্রজাতিগুলির মধ্যে প্রচুর অমিল রয়েছে,[১০] যার ফলে এই জীবের নাম সর্বসম্মতিক্রমে ক্যাওস ক্যারোলিনেন্সিস দেওয়া হয়েছে।[৯]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

ক্যাওস গণের জীবগুলির সঙ্গে অ্যামিবা গণের জীবগুলির অনেক মিল রয়েছে। উভয় গণের প্রজাতিরা এককোষী এবং শেষ প্রান্তে গোলাকার মুণ্ড বিশিষ্ট একাধিক সিউডোপড গঠন করে।[১১] কিন্তু যেখানে অ্যামিবা গণের প্রজাতিদের একটিমাত্র নিউক্লিয়াস থাকে, সেখানে ক্যাওস গণের প্রজাতিদের কোষে শতাধিক থেকে সহস্রাধিক নিউক্লিয়াস উপস্থিত থাকে। এই কারণে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এই প্রজাতিগুলিকে পেলোমিক্সা নামক গণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সম্প্রতি, অণু জীববিদ্যার বিভিন্ন নিরীক্ষণ থেকে পূর্বের গবেষকদের সঠিকতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছে যে,[১২] এই গণের প্রজাতিরা পেলোমিক্সা অপেক্ষা অ্যামিবা গণের প্রজাতিদের সঙ্গে অধিক সম্পর্কযুক্ত।[১৩]

ক্যাওস প্রজাতিগুলির কোষ-পর্দা অত্যন্ত নমনীয়, যা প্রতি মূহুর্তে কোষের আকার পরিবর্তনে সাহায্য করে। সাইটোপ্লাজম দানাদার এন্ডোপ্লাজম এবং স্বচ্ছ অথচ গাঢ় এক্টোপ্লাজম- এই দুই ভাগে বিভক্ত। এন্ডোপ্লাজম অংশে নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া ইত্যাদি অঙ্গাণুগুলি অবস্থান করে। এই দুই প্রকার সাইটোপ্লাজমের প্রবাহের ফলে [[[১৪]

ক্যাওস প্রজাতিগুলি ব্যাক্টেরিয়া, শৈবাল, প্রোটিস্টা এমনকি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বহুকোষী প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে।[৩] সকল অ্যামিবোজোয়া প্রজতির মত এই গণের প্রজাতিরাও ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে সিউডোপড দ্বারা খাদ্যকণাকে চারিদিক থেকে আবদ্ধ করে ভ্যাকুওল তৈরি করে, যেখানে সেগুলি উৎসেচক দ্বারা ভেঙ্গে ফেলা হয়। এই প্রজাতির কোষের কোষ-পর্দায় কোন নির্দিষ্ট স্থান থেকে ফ্যাগোসাইটোসিস ঘটে না।[১৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Adl, Sina M.; ও অন্যান্য (অক্টোবর ২০০৫)। "The New Higher Level Classification of Eukaryotes with Emphasis on the Taxonomy of Protists"। Journal of Eukaryotic Microbiology52 (5): 399–451। ডিওআই:10.1111/j.1550-7408.2005.00053.xপিএমআইডি 16248873 
  2. Wilson, H. V. (জুলাই ১৯০০)। "Notes on a Species of Pelomyxa"। The American Naturalist34 (403): 535–50। জেস্টোর 2453844ডিওআই:10.1086/277702 
  3. Kudo, Richard (১৯৫৪)। Protozoology. 4th Ed. (PDF)। Springfield, Illinois: Charles C. Thomas। পৃষ্ঠা 442। 
  4. Deng, Yuru; ও অন্যান্য (২০০২)। "Fasting induces cyanide-resistant respiration and oxidative stress in the amoeba Chaos carolinensis : implications for the cubic structural transition in mitochondrial membranes"। Protoplasma219 (3–4): 160–67। ডিওআই:10.1007/s007090200017 
  5. Rosenhof, R. (1755). Monatlich herausgegebene Insektenbelustigungen, vol. 3, p. 621, [১].
  6. Leidy, Joseph (১৮৭৯)। Fresh-water Rhizopods of North America (PDF)। Washington: Government Printing Office। পৃষ্ঠা 30–35। 
  7. Wilber, CG (১৯৪৭)। "Concerning the Correct Name of the Rhizopod, Pelomyxa carolinensis"। Transactions of the American Microscopical Societ66 (1): 99–101। জেস্টোর 3223328ডিওআই:10.2307/3223328 
  8. Kudo, Richard (১৯৫৯)। "Pelomyxa and Related Organisms"। Annals of the New York Academy of Sciences78 (2): 474–486। ডিওআই:10.1111/j.1749-6632.1959.tb56118.x 
  9. King, Robert L.; Jahn, Theodore L. (১৯ মার্চ ১৯৪৮)। "Concerning the Genera of Amebas"। Science107 (2777): 293–4। জেস্টোর 1675718ডিওআই:10.1126/science.107.2777.293 
  10. Chapman-Andresen, Cicely (১৯৭১)। "Biology of the Large Amoebae"। Annual Review of Microbiology25: 27–48। ডিওআই:10.1146/annurev.mi.25.100171.000331পিএমআইডি 5005027 
  11. Patterson, David (১৯৯৬)। Free-Living Freshwater Protozoa: A Colour Guide। London: Manson। পৃষ্ঠা 99। আইএসবিএন 1-874545-40-5 
  12. Short, Robert B. (১৯৪৬)। "Observations on the Giant Amoeba, Amoeba Carolinensis (Wilson, 1900)"। The Biological Bulletin90 (1): 8–18। জেস্টোর 1538058ডিওআই:10.2307/1538058 
  13. Bolivar, Ignacio; ও অন্যান্য (২০০১)। "SSU rRNA-based Phylogenetic Position of the Genera Amoeba and Chaos (Lobosea, Gymnamoebia): The Origin of Gymnamoebae Revisited"Molecular Biology and Evolution18 (12): 2306–2314। ডিওআই:10.1093/oxfordjournals.molbev.a003777পিএমআইডি 11719580 
  14. Allen, RD; Allen, RS (১৯৭৮)। "Cytoplasmic Streaming in Amoeboid Movement"। Annual Review of Biophysics and Bioengineering7: 469–495। ডিওআই:10.1146/annurev.bb.07.060178.002345পিএমআইডি 352246 
  15. Thorp, James H. (২০০১)। Ecology and Classification of North American Freshwater invertebrates। San Diego: Academic। পৃষ্ঠা 71আইএসবিএন 0-12-690647-5 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Nozawa 1938: Chaos cyaneus n. sp., a large amoeba of Proteus type. Zoological magazine, Tokyo, 50: 292-293.
  • Smirnov, A.V.; Goodkov, A.V. 1997: Description of the large multinucleate lobose amoeba Chaos glabrum sp. n. (Lobosea, Amoebidae), with notes on the diagnosis of the genus Chaos. Acta protozoologica, 36(3): 227-233. Abstract
  • Willumsen, N.B.S. 1982: Chaos zoochlorellae sp. nov. (Gymnamoebia, Amoebidae) from a Danish freshwater pond. Journal of natural history, 16: 803-813. ডিওআই:10.1080/00222938200770641
  • Willumsen, N.B.S.; Siemensma, F.; Suhr-Jessen, P. 1987: A multinucleate amoeba, Parachaos zoochlorellae (Willumsen 1982) comb. nov., and a proposed division of the genus Chaos into the genera Chaos and Parachaos (Gymnamoebia, Amoebidae). Archiv für Protistenkunde, 134: 303-313.

টেমপ্লেট:অ্যামিবোজোয়া