কোন্ডাপল্লী সীতারামাইয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কোন্ডাপল্লী সীতারামাইয়া
Replace this image male bn.svg
জন্ম কৃষ্ণা জেলা, অন্ধ্র প্রদেশ, ভারত
জাতীয়তা ভারতীয়
পেশা রাজনীতি
প্রতিষ্ঠান সিপিআই (এম-এল) (জনযুদ্ধ)
যে জন্য পরিচিত ভারতের মাওবাদী আন্দোলন
দাম্পত্য সঙ্গী কোটেশ্বরাম্মা

কোন্ডাপল্লী সীতারামাইয়া (? - ১২ এপ্রিল, ২০০২) একজন ভারতেমাওবাদী কমিউনিস্ট নেতা। ইনি জনযুদ্ধ গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবীন নেতা ছিলেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

কোন্ডাপল্লী অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের কৃষ্ণা জেলার লিংগাভরম গ্রামে এক ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি জোন্নাপুডু গ্রামে বেড়ে ওঠেন। ছাত্রাবস্থাতে কমিউনিস্ট রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেওয়ার পরে তিনি কৃষ্ণা জেলা কমিটির সম্পাদক হন। তেলেঙ্গানা বিদ্রোহে তার ইউনিট অংশ নেয়। ১৯৬৪ সালে পার্টি বিভক্ত হলে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) দলে যোগ দেননি। রাজনীতি থেকে সাময়িকভাবে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে শিক্ষকতা কর‍তে থাকেন। ওয়ারঙ্গলের সেন্ট গ্যাব্রিয়েল বিদ্যালয়ে হিন্দির শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে করতে তার বন্ধুত্ব হয় কে.জি. সত্যমুর্থির সাথে। তারা দুজনে ভারতের নকশাল আন্দোলনের প্রধান দল কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী - লেনিনবাদী) তে যোগ দেন। অবিভক্ত সিপিআই (এম-এল) দলের অন্ধ্র রাজ্য কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে এই দল বহুধাবিভক্ত হয়ে যায়। সীতারামাইয়া সেন্ট্রাল অর্গানাইজিং কমিটি, সিপিআই (এম-এল) দলে যুক্ত হন ১৯৭২ সালে।[১] ১৯৭৪ সালে নবগঠিত রাজ্য কমিটির অন্যতম সদস্য হন তিনি। ১৯৭৭ সালের ২৬ এপ্রিল পুলিশ তাকে নাগপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ তার গাড়িতে অস্ত্র মজুত ছিল। জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি পূনরায় আত্মগোপন করেন। ১৯৭৭ সালে সেন্ট্রাল অর্গানাইজিং কমিটি ভেঙে বেরিয়ে আসেন ও ১৯৮০ সালের ২২ এপ্রিল নতুন দল সিপিয়াই এল এল (জনযুদ্ধ) এর প্রতিষ্ঠা করেন সীতারামাইয়া। ১৯৮২ সালে হায়দ্রাবাদের বেগমপেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে পুলিশ তাকে আবার গ্রেপ্তার করে। ওসমানিয়া হসপিটালের জেল কয়েদী বিভাগ থেকে ১৯৮৪ সালের ৪ জানুয়ারি আবার পলায়ন করেন তিনি। এর পরে পার্টির ভেতরে গণ লাইন নিয়ে অন্তর্দন্দ্ব শুরু হয়। কেজি সত্যমুর্থি, সত্যনারায়ণ রেড্ডি ও সীতারামাইয়ার মতবিরোধ হয়। দলের মাওপন্থী লাইন ও দেং জিয়াওপিং লাইনের বিরোধে সীতারামাইয়া ১৯৯১ সালে বহিষ্কৃত হন।[২] ১৯৯৩ সালে নিজের গ্রামের বাড়ি থেকে আবার পুলিশ তাকে ধরে।[৩] কিছুকাল জেলবন্দী থাকার পর শারীরিক অসুস্থতা ও বয়েসের কারনে মুক্তি পান কোন্ডাপল্লী সীতারামাইয়া।[১] পার্টির প্রধান নেতা হিসেবে উঠে আসেন মুপ্পালা লক্ষ্মণ রাও[২]

শেষ জীবন[সম্পাদনা]

শেষ জীবনে সীতারামাইয়া রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন। তিনি পার্কিসন্স রোগে আক্রান্ত হন। ২০০২ সালের ১২ এপ্রিল নিজের নাতনীর বাড়িতে ৮৭ বছর বয়েসে মারা যান এই প্রবীন মাওবাদী বিপ্লবী। মৃত্যুকালে রেখে যান তার স্ত্রী কোটেশ্বরাম্মা ও দুই নাতনি কে। তার শেষকৃত্যে অল্প কিছু মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রচার হয়।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Singh, Prakash (১৯৯৯)। The Naxalite Movement in India। New Delhi: Rupa & Co.। পৃ: ১০৫। আইএসবিএন 81-7167-294-9 
  2. "Top Naxals Woo Dalits to Split People's War Group"indiatoday.in। সংগৃহীত ১৭ জুলাই, ২০১৭ 
  3. "People War Group Leader Kondapalli Seetharamaiah"indiatoday.in। ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৩। সংগৃহীত ১৭ জুলাই, ২০১৭ 
  4. "A few admirers attend Kondapalli's funeral"thehindu.com। ১৪ এপ্রিল, ২০০২। সংগৃহীত ১৭ জুলাই, ২০১৭