বিষয়বস্তুতে চলুন

কোচিন রাজ্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কোচিন রাজ্য

കൊച്ചി രാജ്യം
দ্বাদশ শতাব্দী[]–১ জুলাই ১৯৪৯
কোচিন রাজ্য
পতাকা
কোচিন
অবস্থা
  • স্বাধীন রাজ্য (দ্বাদশ শতাব্দী–১৩৭০ খ্রিস্টাব্দ)
  • বিজয়নগর সাম্রাজ্যের (১৩৭০–১৫৬৫) অধীনে
  • স্বাধীন রাজ্য (১৫৬৫–১৭৬৬)
  • মহীশূর রাজ্যের অধীনে (১৭৬৬–১৭৯৯)
  • আধা-স্বাধীন অবস্থান; ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে অধীনতামূলক মিত্রতা (১৭৯৯–১৮১৫)
  • ভারতের দেশীয় রাজ্য (১৮১৫–১৯৪৭)
রাজধানীপেরুম্পদাপ্পু (পোন্নানি)
কোদুঙ্গালুর
ত্রিপুণিতুরা
ত্রিশূর
মাট্টানচেরি
সরকারি ভাষামালয়ালম
ধর্ম
সংখ্যাগরিষ্ঠ: হিন্দুধর্ম (দাপ্তরিক)
সংখ্যালঘু:
খ্রিস্টধর্ম
ইহুদি ধর্ম
ইসলাম
সরকারনিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র
দেশীয় রাজ্য
রাজা 
 দ্বাদশ শতাব্দী (প্রথম)
বীর কেরালা বর্মা
 ১৯৪৮–১৯৪৯ (সর্বশেষ)
রাম বর্মা অষ্টাদশ
দিওয়ান 
 ১৮১২–১৮১৮ (প্রথম)
জন মুনরো
 ১৯৪৪–১৯৪৭ (সর্বশেষ)
সি. পি. করুণাকর মেনন
ইতিহাস 
 প্রতিষ্ঠা
দ্বাদশ শতাব্দী[]
 বিলুপ্ত
১ জুলাই ১৯৪৯
জিডিপি (পিপিপি)আনুমানিক
 মোট
৬০০.০৩ কোটি মার্কিন ডলার
মুদ্রারুপি
পূর্বসূরী
উত্তরসূরী
চের সাম্রাজ্য
ত্রিবাঙ্কুর-কোচিন
বর্তমানে যার অংশভারত

কোচিন রাজ্য বা কোচিন রাষ্ট্র, যেটি পেরুমপদাপ্পু স্বরূপম নামেও পরিচিত,[] রাজধানী শহর কোচির (কোচিন) নামে যার নামকরণ করা হয়েছিল, সেটি বর্তমান কেরালা রাজ্যের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত একটি রাজ্য ছিল। এর উৎপত্তি দ্বাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে হয়েছিল এবং ১৯৪৯ সালের ১লা জুলাই ভারতীয় অধিরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত এই রাজ্য শাসনকার্য অব্যাহত রেখেছিল।[]

কোচিন রাজ্য, যা মূলত পেরুমপদাপ্পু স্বরূপম নামে পরিচিত ছিল, সেটি মধ্যযুগে পরবর্তী চেরদের শাসনাধীন ছিল।[] দ্বাদশ শতাব্দীতে মহোদয়পুরম চেরদের পতনের পর, অন্যান্য বহু প্রদেশের সঙ্গে পেরুমপদাপ্পু স্বরূপমও একটি স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে, ১৫০০ সালে মালাবার উপকূলে পর্তুগিজদের আগমনের পরেই পেরুমপদাপ্পু স্বরূপম রাজনৈতিক গুরুত্ব লাভ করে।[] পেরুমপদাপ্পু শাসকদের সাথে এডাপল্লির নাম্বুদিরি শাসকদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। এডাপল্লি শাসকদের থেকে পেরুমপদাপ্পু শাসকদের কাছে কোচি ও ভাইপিন হস্তান্তরের পর, পরবর্তীকালের শাসকরা কোচির রাজা হিসেবে পরিচিত হন।

ঐতিহাসিকভাবে কোচিনের রাজধানী ছিল কোদুঙ্গালুর (ক্রাঙ্গানোর), কিন্তু ১৩৪১ সালে এক ভয়াবহ বন্যার পর রাজধানী কোচিনে স্থানান্তরিত করা হয়।[] পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে কোচিন নিজেকে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে কালিকটের জামোরিনের আক্রমণের ফলে রাজ্যটি সংকুচিত হয়ে তার সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছিল।

যখন পর্তুগিজ নৌবহর ভারতে এসে পৌঁছোয়, ততদিনে কোচিন রাজ্য জামোরিনদের কাছে তাদের সামন্ত রাজ্যগুলিকে হারিয়েছিল, যার মধ্যে এডাপ্পল্লি ও ক্রাঙ্গানোরও ছিল; ঐতিহাসিকভাবে এই ক্রাঙ্গানোরই ছিল রাজ্যটির কেন্দ্রবিন্দু। কোচিন তার বিপন্ন স্বাধীনতা রক্ষার সুযোগ খুঁজছিল। রাজা উন্নী গোদা বর্মা ১৫০০ সালের ২৪শে ডিসেম্বর পেদ্রো আলভারেস ক্যাব্রালকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানান এবং কালিকটের জামোরিনের বিরুদ্ধে পর্তুগাল ও কোচিন রাজ্যের মধ্যে একটি মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন করেন।[] এই অঞ্চলে পর্তুগিজ ইস্ট ইণ্ডিজের নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি দুর্গ নির্মিত হয়েছিল, যেগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ফোর্ট ম্যানুয়েল[] কোচিন একটি দীর্ঘমেয়াদী পর্তুগিজ আশ্রিত রাজ্য (১৫০৩ – ১৬৬৩) হয়ে ওঠে, যা ভারতে দেশীয় ও বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে সহায়তা প্রদান করত। পর্তুগিজ-ওলন্দাজ যুদ্ধের পর, ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (১৬৬৩ - ১৭৯৫) কোচিনের মিত্র হয়ে উঠেছিল। ইঙ্গ-ওলন্দাজ যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (১৭৯৫ – ১৮৫৮, ১৮০৯ সালের ৬ই মে-এ নিশ্চিত) ক্ষমতায় আসে এবং কোচিন রাজ্যের ওপর ব্রিটিশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় ।

মাদ্রাজ রাজ্যের মানচিত্র, ১৯১৩

১৯৫০ সালে ত্রিবাঙ্কুর রাজ্য কোচিন রাজ্যের সাথে একীভূত হয় এবং ত্রিবাঙ্কুর-কোচিন রাজ্য গঠিত হয়। ১৯৫৬ সালে ভিলাভানকোড, কালকুলাম, থোভালাই, অগস্তীশ্বরম এবং সেনগোট্টাইয়ের পাঁচটি তামিল -সংখ্যাগরিষ্ঠ তালুককে ত্রিবাঙ্কুর-কোচিন থেকে মাদ্রাজ রাজ্যে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।[] ভারত সরকারের ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইন অনুসারে, ১৯৫৬ সালের ১লা নভেম্বর ত্রিবাঙ্কুর-কোচিনের মালয়ালম-ভাষী অঞ্চলগুলি মাদ্রাজ রাজ্যের মালাবার জেলা (লাক্ষাদ্বীপ এবং মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জ ব্যতীত) এবং দক্ষিণ কানাড়া জেলার কাসারগড় তালুকের সাথে একীভূত হয়ে আধুনিক মালয়ালম রাজ্য কেরালা গঠিত হয়।[]

অঞ্চলগুলি

[সম্পাদনা]
১৯৬০-এর দশকে কোচিন, ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার মাত্র কয়েক বছর পর

১৮০০ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে, কোচিন রাজ্যে আধুনিক ত্রিশূর জেলার বেশিরভাগ অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। যেগুলি ছিলনা সেগুলি হলো চাভাক্কাদ তালুক; আলাথুর তালুকের কিছু এলাকা; পালঘাট জেলার পুরো চিত্তুর তালুক; কোচি তালুক (ফোর্ট কোচি ব্যতীত); কানায়ান্নুর তালুকের বেশিরভাগ অংশ (এডাপ্পল্লি ব্যতীত); আলুয়া তালুকের কিছু অংশ (কারুকুট্টি, অঙ্গামালি, কালাডি, চৌবরা, কাঞ্জুর, শ্রীমূলানগরম, মালায়াতুর, মাঞ্জপরা); কুন্নাথুনাদ তালুকের কিছু অংশ এবং এর্নাকুলাম জেলার পারভুর তালুকের কিছু অংশ (চেন্দমঙ্গলম)। এই স্থানগুলি এখন কেরালার অংশ।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

উৎপত্তি

[সম্পাদনা]

কোচিন রাজ্যের উদ্ভব অথবা পেরুমপদাপ্পু স্বরূপম নামে পরিচিত কোচিন রাজপরিবার, সে সম্পর্কে কোনও লিখিত প্রমাণ বিদ্যমান নেই।[] যা কিছু লিপিবদ্ধ আছে, তা হলো লোককথা ও গল্প এবং শাসক রাজবংশের উৎপত্তি সম্পর্কে কিছুটা অস্পষ্ট ঐতিহাসিক চিত্র।

কেরালোলপাথি, কেরালামাহাত্ম্যম এবং পেরুমপাদাপ্পু গ্রাণ্ডাভারির মতো টিঁকে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলি হলো পৌরাণিক কাহিনী ও কিংবদন্তির সংকলন, যা প্রচলিত ঐতিহাসিক উৎস হিসেবে তেমন নির্ভরযোগ্য নয়।

পেরুমপাদাপ্পু গ্রাণ্ডাভারিতে রাজবংশের উৎপত্তি সম্পর্কে একটি অতিরিক্ত বিবরণ রয়েছে:

পেরুমপদপ্পু স্বরূপমের শেষ তাভাজি (রাজশাখা) ষোড়শাঙ্গংসুরাজ্যম নামক কলিযুগের দিনে অস্তিত্ব লাভ করেছিল। চেরামান পেরুমল ভূমিকে দুই ভাগে ভাগ করেন, নীলেশ্বরমের উত্তরে যার ১৭ অংশ এবং দক্ষিণে ১৭ অংশ, মোট ৩৪ অংশ—এবং তাঁর ক্ষমতা তাঁর ভাইপো ও পুত্রদের প্রদান করেন। কন্যাকুমারী ও গোকর্ণের (বর্তমানে কর্ণাটকে অবস্থিত) মধ্যবর্তী চৌত্রিশটি রাজ্য ‘থাম্পুরান’-কে প্রদান করা হয়েছিল, যিনি ছিলেন চেরামান পেরুমালের শেষ ভাগ্নির কন্যা।

কেরালোলপাথি ৩৪৫ সাধারণ অব্দে, পেরুমপাদাপু গ্রাণ্ডাভারি ৩৮৫ সাধারণ অব্দে এবং উইলিয়াম লোগান ৮২৫ সাধারণ অব্দে নিজেদের রাজ্যের বিভাজন রেকর্ড করেছিলেন। কেরালার এর পূর্ববর্তী বিভাজন সম্পর্কে কোনও লিখিত নথি নেই, তবে কিছু ঐতিহাসিকের মতে এই বিভাজন দ্বাদশ শতাব্দীর শুরুতে দ্বিতীয় চের রাজত্বকালে ঘটে থাকতে পারে।[]

 

প্রাথমিক ইতিহাস

[সম্পাদনা]

রাজ্যের মূল সদর দপ্তর ছিল বর্তমান মালাপ্পুরম জেলার পোন্নানির নিকটবর্তী পেরুমপদাপ্পুতে।[] তিরুনাভায়া যুদ্ধের পর কালিকটের জামোরিন যখন পোন্নানি অঞ্চলকে অধিভুক্ত করেন, তখন মধ্যযুগের প্রথম দিকে পেরুমপদাপ্পুর (পোন্নানির কাছে) শাসক কোদুঙ্গাল্লুরে পালিয়ে যান।

এরানাডের জামোরিন কালিকট (পোরলাথিরি রাজ্য) জয় করেন। এরপর তিনি পেরুমপদাপ্পু রাজ্যের কিছু অংশ জয় ক'রে তার ওপর নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিলেন।

উত্তরের মাতৃভূমি এবং মূল রাজধানী হারালেও, পেরুমপদাপ্পু রাজবংশ মধ্য কেরালার এক বিশাল এলাকা জুড়ে নিজেদের রাজ্য বজায় রেখেছিল (যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে 'পেরুমপদাপ্পু স্বরূপম' নামে পরিচিত)। তাদের রাজ্য উত্তরে পুক্কাইথা, পূর্বে আনাইমালা থেকে দক্ষিণে পুরক্কাড় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

রাজবংশ এবং উত্তরাধিকার

[সম্পাদনা]

পেরুমপদাপ্পু রাজবংশ থেকে অবশেষে পাঁচটি শাখা (মঠ, এলায়া, পল্লুরুত্তি, মাদাত্তুমকিল এবং চালিয়ুর) উদ্ভূত হয়েছিল, যার প্রত্যেকটির নিজস্ব পারিবারিক আসন, অনুচর এবং নায়ারদের সামরিক বাহিনী ছিল। এরপরে পাঁচটি শাখা (তাবলী) একজন সাধারণ শাসক রাজার (রাজা) অধীনে একত্রিত হয়েছিল, যিনি ছিলেন পাঁচটি শাখার সম্মিলিত বয়োজ্যেষ্ঠ পুরুষ সদস্য।

পেরুমপদাপ্পু (এবং ভবিষ্যৎ কোচিন) রাজবংশ কেরালায় প্রচলিত মাতৃতান্ত্রিক উত্তরাধিকার নিয়ম অনুসরণ করত (ত্রিবাঙ্কুরের অনুরূপ)। উত্তরাধিকার নারী সূত্রে চলত – অর্থাৎ, সেটি রাজার পুত্রদের কাছে নয়, বরং তাঁর সহোদর ভাইদের কাছে এবং তারপর তাঁর বোনের পুত্রদের (অর্থাৎ ভাগ্নেদের) মধ্যে চালিত হতো। তাত্ত্বিকভাবে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বয়সে দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরই উত্তরাধিকারী হওয়ার নিয়ম ছিল। পরবর্তীতে এই নিয়মটি শিথিল করা হয় এবং কার্যত রাজত্ব নির্বাচনমূলক হয়ে ওঠে, যাতে উত্তরাধিকারী খুব বেশি বয়স্ক বা অযোগ্য না হন। উপেক্ষিত প্রকৃত বয়োজ্যেষ্ঠকে প্রতীকী বা আনুষ্ঠানিক মর্যাদা দিয়ে পুরস্কৃত করা হতো (বিশেষত ধর্মীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ উপাধি মুপ্পুস্তানম)।

অবসর গ্রহণ বাধ্যতামূলকও ছিল – একটি নির্দিষ্ট বয়সে বা সামরিক অক্ষমতায় পৌঁছোলে রাজার অবসর গ্রহণ এবং ধর্মীয় জীবন যাপনে মনোনিবেশ করা প্রথা ও প্রত্যাশা ছিল। ক্ষমতা তাঁর উত্তরাধিকারীর কাছে, অথবা উত্তরাধিকারী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত একজন অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরিত হত।

উত্তরাধিকার নিয়ে প্রায়শই পাঁচটি শাখার মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হতো। কালিকটের জামোরিন এই পারিবারিক বিবাদগুলিকে কাজে লাগিয়ে, কখনও কখনও সালিশকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে, দক্ষিণের রাজ্যে নিজের প্রভাব বৃদ্ধি করেছিলেন।

কোচিনে স্থানান্তর

[সম্পাদনা]

ভবিষ্যৎ কোচিন শহরটি সেই সময় মূলত একটি দীর্ঘ বাঁধের ধারে অবস্থিত একটি ছোট গ্রাম ছিল। ১৩৪১ সালে পেরিয়ার নদীর প্রবল বন্যা ও জলস্ফীতির ফলে ভেম্বনাড় উপহ্রদ এবং আরব সাগরের মধ্যবর্তী সেই সংযোগস্থলে একটি জলপথ উন্মুক্ত হয়েছিল, যেখানে এখন কোচিন অবস্থিত। এটি দীর্ঘ কোচিন উপদ্বীপকে (কারাপুরম) বর্তমান ভাইপিন দ্বীপ থেকে পৃথক করেছে।

সমুদ্রের সাথে ক্রাঙ্গানোরকে সংযোগকারী জলপথগুলি পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায়, বাণিজ্যিক নৌপরিবহণ ক্রাঙ্গানোর থেকে সরে গিয়ে কোচিনের নতুন জলপ্রবাহ অঞ্চলের দিকে মোড় নিতে শুরু করে এবং বণিক পরিবারগুলি সেখানে স্থানান্তরিত হয়ে গুদামঘর ও অবশেষে বাড়িঘর গড়ে তুলতে শুরু করে। সম্পদ ও গুরুত্বে নতুন বন্দর নগরী কোচির (কোচিন) উত্থানের ফলে একদা-মহান পুরাতন বন্দর নগরী কোদুঙ্গাল্লুরের (ক্রাঙ্গানোর) পতন ঘটে। আদি শহরের নগর কেন্দ্রটি মাট্টানচেরি গ্রামে (বর্তমানে কোচি শহরের একটি জেলা, যা একসময় "কোচিম দে সিমা " নামে পরিচিত ছিল) অপেক্ষাকৃত উঁচু ভূমিতে গড়ে উঠেছিল।

পরবর্তীতে যে অঞ্চলটি কোচিন শহর হিসেবে পরিচিত হয়, সেই অঞ্চলের আদি মালিক ছিল এডাপ্পল্লীর (উপহ্রদের পূর্ব দিকে) রাজাদের অন্তর্গত এল্লাঙ্গাল্লুর রাজপরিবার (রেপেলিম)। ব্রাহ্মণ শ্রেণী থেকে উদ্ভূত এডাপ্পল্লি রাজপরিবার উত্তরাধিকারের ভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করত। ১৪০০ শতকের গোড়ার দিকে, এডাপ্পল্লীর রাজা বিয়ে করেছিলেন পেরুমপদাপ্পুর এলায়া শাখার এক কন্যাকে, এবং সেই কারণে তাঁদের পুত্র দুটি বংশের দ্বৈত রাজবংশের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন – পিতার দিক থেকে এডাপ্পল্লীর, এবং মাতার দিক থেকে পেরুমপদাপ্পুরের। কিন্তু সম্ভবত তিনি পেরুমপদাপ্পুর উত্তরাধিকারের সারিতে প্রথম ছিলেন না।

চতুর্দশ শতকের গোড়ার দিকে, এডাপ্পল্লীর রাজা তাঁর পুত্রকে তাঁর ভূসম্পত্তির একাংশ—বিশেষত দক্ষিণ ভাইপিন দ্বীপ এবং নতুন তৈরি হওয়া জমির চারপাশের কারাপুরম উপদ্বীপের উত্তরাংশ প্রদান করেছিলেন সামন্ততান্ত্রিক জায়গির হিসেবে। মূলত এটি কোনো স্থায়ী হস্তান্তর হওয়ার কথা ছিল না, বরং উত্তরাধিকারীকে তার শাসন দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দেওয়ার জন্য একটি প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করার কথা ছিল। পিতার উত্তরাধিকারী হওয়ার পর, আশা করা হয়েছিল যে পুত্র উপহ্রদ পেরিয়ে এডাপ্পল্লিতে চলে যাবেন এবং পরবর্তী উত্তরাধিকারীর কাছে কোচিনের আসনটি ছেড়ে দেবেন। যেহেতু শাসক সর্বদাই একজন প্রশিক্ষণরত রাজপুত্র ছিলেন, তাই তাঁকে "কোচ্চু থাম্পুরান " (অর্থাৎ 'কনিষ্ঠ প্রভু' বা 'কনিষ্ঠ রাজা') বলে সম্বোধন করা হতো, এবং এই কারণে তাঁর নামানুসারে জায়গিরটি "কোচি/কোচিন" নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। সুতরাং মূল 'কোচিন রাজ্য'টি (কোচি রাজ্যম) অনেক বড় পেরুমপদাপ্পু রাজ্য থেকে স্বতন্ত্র ও পৃথক একটি ছোট এডাপ্পল্লী শাখা হিসাবে শুরু হয়েছিল।

কোচিনের ক্রমবর্ধমান সম্পদ সেখানকার কনিষ্ঠ প্রভুকে ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি এনে দেয়, যা অবশেষে তাঁকে পেরুমপদাপ্পু রাজবংশের অন্যান্য শাখার জ্যেষ্ঠ আত্মীয়দের ওপর রাজা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম করে তোলে। একইসাথে, এটি তাঁকে সুযোগ করে দেয় কোচিনকে এডাপ্পল্লি থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজের স্বতন্ত্র পথ তৈরি করার।

এই পরিবর্তনের ফলে, বৃহৎ "পেরুমপদাপ্পু রাজ্য" (পেরুমপাদাপ্পু স্বরূপম) "কোচিন রাজ্য" নামে পরিচিত হতে শুরু করে এবং রাজ্যের রাজধানী কোদুঙ্গালুর থেকে বর্তমান কোচির ভাইপিনে স্থানান্তরিত হয়। নতুন রাজত্বকালে, নিয়ম পরিবর্তন ক'রে উত্তরাধিকারকে পেরুমপদাপ্পুরের সমস্ত শাখার পরিবর্তে কোচিনের এলায়া শাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল (শাখাগুলির জন্য এটি অত্যন্ত অসন্তোষের কারণ হয়েছিল)।

মিং রাজবংশের জোট (১৪১১-১৪৩৩)

[সম্পাদনা]

কোঝিকোডের বন্দর, যা কালিকট নামেও পরিচিত, মধ্যযুগীয় কেরালার উপকূলে একটি উন্নত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানে ছিল, অন্যদিকে কন্নুর, কোল্লাম এবং কোচি ছিল বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় সারির বন্দর, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা একত্রিত হতেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে মালাবার উপকূলে কালিকট এবং কোচিনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল, তাই চীনের মিং রাজবংশ হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং কোচিন ও তার শাসককে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করে, এই শাসক চীনাদের কাছে কেইলি (可亦里) নামে পরিচিত ছিলেন।[] কালিকট এই অঞ্চলের প্রভাবশালী বন্দর-শহর ছিল, কিন্তু কোচিন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছিল।[] পঞ্চম মিং রত্ন-অভিযানের জন্য, অ্যাডমিরাল চেং হো-কে কোচিনের শাসক কেইলির হাতে একটি রাজকীয় সিলমোহর তুলে দেওয়ার এবং তাঁর রাজ্যের একটি পর্বতকে ঝেংগুও ঝি শান (鎮國之山, যার অর্থ দেশ রক্ষাকারী পর্বত) হিসাবে মনোনীত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।[] চেং হো স্বয়ং ইয়ংলে সম্রাটের ঘোষণাপত্র খোদিত একটি শিলালিপি কোচিনে পৌঁছে দিয়েছিলেন।[] যতদিন কোচিন মিং চীনের সুরক্ষাধীন ছিল, ততদিন কালিকটের জামোরিন কোচিন আক্রমণ করতে পারেননি এবং একটি সামরিক সংঘাত এড়ানো গিয়েছিল।[] ফলস্বরূপ, মিং রাজবংশের রত্ন-অভিযানের সমুদ্রযাত্রা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোচিনের জন্য তা নেতিবাচক ফল বয়ে আনে, কারণ পরবর্তীতে কালিকটের জামোরিন কোচিনের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালান।[] পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে, জামোরিন কোচিন দখল করেন এবং নিজের প্রতিনিধিকে রাজা হিসেবে নিযুক্ত করেন।[]

কালিকটের অধীনস্থ

[সম্পাদনা]

কোচিনের নব্য রাজা এবং তাঁর পেরুমপদাপ্পু শাখার আত্মীয়দের (যারা নিজেদের ভূমিকা পুনরুদ্ধারে আগ্রহী ছিল) ও এডাপ্পল্লীর (যারা নিজেদের ভূমি পুনরুদ্ধারে আগ্রহী ছিল) মধ্যকার সংঘাত কালিকটের জামোরিনের হস্তক্ষেপ ডেকে আনে। জামোরিন আত্মীয়দের জন্য ন্যায়বিচারের নামে কোচিন আক্রমণ করেছিলেন। অবশেষে জামোরিনের সেনাবাহিনী সফল হয় এবং কোচিনের রাজাকে একটি বন্দোবস্তে আসতে বাধ্য করে। এই বন্দোবস্ত অনুযায়ী কোচিনের রাজা তাঁর নিজ রাজ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন এবং কালিকটের প্রতি আনুগত্যের শপথ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। উত্তরাধিকার নির্বাচনের সময় কোচিন রাজ্যকে জামোরিনের সম্মতি নিতে হতো এবং জামোরিনের অভিযানগুলির জন্য বার্ষিক কর দিতে হতো ও সৈন্য সরবরাহ করতে হতো।

১৫০০ সালে পর্তুগিজরা যখন এসেছিল, তখন পরিস্থিতি মোটামুটি এমনই ছিল। কোচিন রাজ্যটি আংশিকভাবে কালিকটের জামোরিনের অধীন ও আংশিকভাবে তাঁর সাথে যুদ্ধরত ছিল। কোচিনের রাজা, উন্নী গোদা ভর্দা (পর্তুগিজ ইতিহাসে "ত্রিমুমপারা রাজা" নামে পরিচিত) সেই সমঝোতায় ভীষণ ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি পর্তুগিজদের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করতে চেয়েছিলেন যাতে জামোরিনের ক্ষমতা উৎখাত, কোচিনের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং আত্মীয়দের ওপর নিজের আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়ার উপায় করা যায়।

পর্তুগিজ জোট (১৫০০ - ১৬৬৩)

[সম্পাদনা]
মাট্টানচেরি প্রাসাদ - মন্দির, যা পর্তুগিজরা রাজা বীর কেরালা বর্মা প্রথমকে দেওয়া উপহার হিসেবে নির্মাণ করেছিল।

আবিষ্কারের যুগে পর্তুগিজরা ১৪৯৮ সালে কোঝিকোডের কাপ্পাডে এসে পৌঁছোয়, যার ফলে ইউরোপ থেকে ভারতে একটি সরাসরি সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হয়। কোচিনেই ভারতে প্রথম ইউরোপীয় বসতি স্থাপিত হয়েছিল। ১৫০০ সালে, পর্তুগিজ অ্যাডমিরাল পেড্রো আলভারেস ক্যাব্রাল কালিকট থেকে বিতাড়িত হয়ে কোচিনে অবতরণ করেন। কোচিনের রাজা পর্তুগিজদের স্বাগত জানান এবং একটি মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। রাজা তাদের কোচিনে একটি কারখানা নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন (এবং ক্যাব্রালের প্রস্থানের পর ত্রিশজন পর্তুগিজ এবং চারজন ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসীকে কোচিন রাজ্যে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল)। সমর্থনের প্রস্তাবে আশ্বস্ত হয়ে রাজা তাঁর শত্রু কালিকটের জামোরিনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন।

১৫০২ সালে ভাস্কো দা গামার নেতৃত্বে একটি নতুন অভিযাত্রী দল কোচিনে এসে পৌঁছোয় এবং বন্ধুত্ব পুনর্নবীকরণ হয়। ভাস্কো দা গামা পরে কালিকটে বোমাবর্ষণ করেন[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এবং সেখানকার আরব কারখানাগুলি ধ্বংস করে দেন। এতে কালিকটের শাসক জামোরিন ক্ষুব্ধ হন এবং ভাস্কো দা গামার প্রস্থানের পর তিনি কোচিন আক্রমণ ক'রে পর্তুগিজ কারখানাটি ধ্বংস ক'রে দেন। কোচিনের রাজা ও তাঁর পর্তুগিজ মিত্ররা ভাইপিন দ্বীপে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে, একটি ছোট পর্তুগিজ সাহায্যকারী নৌবহরের আগমন এবং তার কিছু দিন পর দুয়ার্তে পাচেকো পেরেইরার আগমন ও আসন্ন মৌসুমি বায়ু জামোরিনকে শঙ্কিত করে তুলেছিল। কালিকট তার সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেয় এবং অবরোধ ত্যাগ করে।

সিরিয়ার একটি গির্জার স্যানাটোরিয়ামে রক্ষিত প্রেরিত থমাসের দেহাবশেষ

কোচিনের রাজার জন্য সিংহাসন সুরক্ষিত করার পর, পর্তুগিজরা কালিকটের যে কোনো ধরনের আক্রমণ থেকে পর্তুগিজ কারখানাকে রক্ষা করার জন্য সেটিকে ঘিরে একটি দুর্গ নির্মাণের অনুমতি পায় এবং ১৫০৩ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর একটি কাঠের দুর্গের ভিত্তি স্থাপন করা হয়, যা ছিল ভারতে পর্তুগিজদের দ্বারা নির্মিত প্রথম দুর্গ। এই দুর্গের নাম হয় ফোর্ট ইমানুয়েল (পর্তুগালের রাজার নামে নামকরণ করা হয়, এটি ফোর্ট কোচিতে অবস্থিত)। সম্পূর্ণ নির্মাণকাজটি স্থানীয় রাজার নির্দেশে করা হয়েছিল, যিনি শ্রমিক ও নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করেছিলেন। ১৫০৫ সালে কাঠের দুর্গের জায়গায় পাথরের দুর্গ নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীতে, শহরটির উন্নততর প্রতিরক্ষার জন্য ভাইপিন দ্বীপে 'ক্যাস্তেলো দে সিমা' নামক একটি দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল। পর্তুগিজ নৌবহরের প্রস্থানের সময় শুধুমাত্র দুয়ার্তে পাচেকো পেরেইরা এবং একটি ছোট নৌবহর কোচিনে থেকে গিয়েছিল। ইতিমধ্যে, কালিকটের জামোরিন এক বিশাল বাহিনী গঠন ক'রে তাদের আক্রমণ করলেন। পাচেকো পেরেইরা ও তাঁর অনুচরদের সহায়তায় কোচিন রাজ্য পাঁচ মাস ধরে কালিকটের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল।

কালিকটের জামোরিনের অধীনস্থ সামন্ত, তানুর রাজ্যের শাসক, কোঝিকোড়ে তাঁর অধিপতির বিরুদ্ধে পর্তুগিজদের পক্ষ নিয়েছিলেন। এর ফলে তানুর রাজ্য (ভেট্টাথুনাডু) ভারতে প্রথমদিকের পর্তুগিজ উপনিবেশগুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। তানুরের শাসকও কোচিনের পক্ষ নিয়েছিলেন।[] ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে কোচিনের রাজপরিবারের অনেক সদস্য ভেট্টম থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।[] তবে, রাজার অধীনে থাকা তানুর বাহিনী কোচিনের যুদ্ধে (১৫০৪) কালিকটের জামোরিনের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল।[] কিন্তু তানুর অঞ্চলের মুসলিম মাপ্পিলা বণিকদের আনুগত্য কালিকটের জামোরিনের প্রতিই ছিল।[১০]

কোচিনের রাজা পর্তুগিজদের সহায়তায় শাসনকার্য চালিয়ে যান। এদিকে, পর্তুগিজরা গোপনে জামোরিনের সাথে একটি জোট গঠনের চেষ্টা করেছিল। পরবর্তীকালে জামোরিনের কোচিন বন্দর জয়ের কয়েকটি প্রচেষ্টা পর্তুগিজদের সহায়তায় কোচিনের রাজা ব্যর্থ করে দেন। ধীরে ধীরে কোচিনে পর্তুগিজ অস্ত্রাগার বৃদ্ধি করা হয়েছিল, সম্ভবত রাজাকে কোচিন রক্ষা করতে সাহায্য করার জন্য। এবং দীর্ঘকাল ধরে, গোয়ার পরেই, পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কোচিনই ছিল ভারতে পর্তুগালের সেরা জায়গা। সেখান থেকে পর্তুগিজরা বিপুল পরিমাণে মসলা, বিশেষ করে গোলমরিচ রপ্তানি করত।

১৫৩০ সালে সন্ত ফ্রান্সিস জেভিয়ার এসে একটি ল্যাটিন খ্রিস্টান মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। কোচিনে পর্তুগিজ ভাইসরয় ভাস্কো দা গামার সমাধি ছিল, যাঁকে সেন্ট ফ্রান্সিস গির্জায় সমাহিত করা হয়েছিল এবং ১৫৩৯ সালে তাঁর দেহাবশেষ পর্তুগালে ফেরত পাঠানো হয়।[১১] আফোনসো ডি আলবুকার্কির সময়ের কিছু পরেই কেরালায় পর্তুগিজ প্রভাব হ্রাস পায়।[]

ওলন্দাজ জোট (১৬৬৩ - ১৭৬৬)

[সম্পাদনা]
ওলন্দাজ বণিকদের দ্বারা ১৭৪৪ সালে নির্মিত বোলগাটি প্রাসাদটি নেদারল্যান্ডসের বাইরে বিদ্যমান প্রাচীনতম ওলন্দাজ প্রাসাদগুলোর মধ্যে অন্যতম।

পর্তুগিজদের মিত্রতার পর ওলন্দাজরা কোচিনের রাজার সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করে। ততদিনে পর্তুগিজ ও তাদের মিত্রদের সাথে বিভিন্ন সংঘর্ষের পর ওলন্দাজরা কোল্লম জয় করে নিয়েছিল। কোচিন রাজপরিবারের অসন্তুষ্ট সদস্যরা কোচিনের রাজাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ওলন্দাজদের কাছে সাহায্য চেয়েছিল। ওলন্দাজরা সফলভাবে নজারাকাল বন্দরে অবতরণ করে এবং পরবর্তীতে পল্লীপুরমের দুর্গটি দখল করে, যা তারা জামোরিনের হাতে তুলে দেয়।

মহীশূরের আক্রমণ (১৭৬৬ - ১৭৯৯)

[সম্পাদনা]

মহীশূরের শাসক হায়দার আলি কোচিন জয় করেছিলেন। ১৭৬৩ সালে বেদনুর বিজয়ের পর খবরটি কন্নানোরের আলি রাজার কাছে পৌঁছোলে, তিনি অবিলম্বে হায়দারকে কেরালা আক্রমণ ক'রে কালিকটের জামোরিনের মোকাবিলায় সাহায্য করতে বলেন। পার্শ্ববর্তী শক্তিশালী কোলাথিরিদের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী কান্নানোরের মুসলিম সর্দার, দখলদারিত্বের সময় মহীশূরের একজন সক্রিয় মিত্র ছিলেন।

হায়দার কোলাথিরি রাজার প্রাসাদ দখল ক'রে তাতে আগুন লাগিয়ে দেন। রাজা নিজের অনুচরদের নিয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ বসতি তেল্লিচেরিতে পালিয়ে যান। জয়লাভের পর, হায়দার আলি বর্তমান উত্তর মালাবারের কোট্টায়াম রাজ্যে প্রবেশ করেন এবং কোট্টায়াম সেনাবাহিনীর কিছু প্রতিরোধের পর স্থানীয় মুসলমানদের সহায়তায় তা দখল করেন।

এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে কালিকট দখল করার পর, হায়দার আলি বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালঘাটের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পূর্বে কোয়েম্বাটুরের দিকে অগ্রসর হন। তিনি নব-অধিকৃত মালাবার প্রদেশের সামরিক গভর্নর হিসেবে আলি রাজাকে এবং বেসামরিক গভর্নর হিসেবে মাডোনাকে (একজন প্রাক্তন রাজস্ব কর্মকর্তা) নিযুক্ত করেন।

ব্রিটিশ জোট (১৮১৪ - ১৯৪৭)

[সম্পাদনা]
১৯১৩ সালে কোচিন

১৮১৪ সালে, ইঙ্গ-ওলন্দাজ চুক্তি অনুসারে, বাঙ্কা দ্বীপের বিনিময়ে ফোর্ট কোচি ও তার ভূখণ্ডসহ কোচি দ্বীপপুঞ্জ যুক্তরাজ্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের আগেও কোচিতে ইংরেজ বাসিন্দাদের থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। ব্রিটিশ রাজত্বকালে, কোচিন দেশীয় রাজ্যটি তিন দিকে (অর্থাৎ, উত্তরে, পশ্চিমে এবং পূর্বে) ব্রিটিশ মালাবার জেলা এবং দক্ষিণে ত্রিবাঙ্কুর দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল।[১২] ব্রিটেনের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষর ক'রে কোচিন পরাজয় থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বন্দরে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং রাজা বন্দরটির আরও উন্নয়ন করতে চেয়েছিলেন। রাজা ১৯২০ সালে তৎকালীন মাদ্রাজ গভর্নর লর্ড উইলিংডনের সহায়তায় রবার্ট ব্রিস্টো নামে একজন বন্দর প্রকৌশলীকে কোচিনে নিয়ে আসেন। ২১ বছর ধরে তিনি কোচিনের রাজাকে সাহায্য করেছিলেন কোচিনকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ বন্দরে রূপান্তরিত করতে, নবনির্মিত অভ্যন্তরীণ বন্দরের পাশে যেখানে জাহাজগুলি ভিড়ত, সেখানে বহুসংখ্যক বাষ্পচালিত ক্রেন সারি দিয়ে রাখা ছিল।[১৩]

এদিকে, ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত মালাবার জেলার অংশ থাকা ফোর্ট কোচিন, ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্যের ১৮৬৫ সালের মাদ্রাজ আইন ১০ (শহর উন্নয়ন আইন ১৮৫০-এর সংশোধনী)[১৪][১৫][১৬][১৭] অনুসারে ১৮৬৬ সালের ১লা নভেম্বর কন্নুর, তালসেরি, কোঝিকোড় এবং পালঘাটের সাথে একটি পৌরসভা হিসাবে গঠিত হয় এবং ১৮৮৩ সালে ১৮ সদস্যের একটি বোর্ড নিয়ে এর প্রথম পৌর পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কোচিনের মহারাজা ১৮৯৬ সালে মাট্টানচেরিএর্নাকুলামে নগর পরিষদ গঠন ক'রে স্থানীয় প্রশাসন চালু করেছিলেন। ১৯২৫ সালে, প্রশাসনে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে একটি কোচি বিধানসভাও গঠন করা হয়েছিল। পরিষদটি ৪৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত ছিল, যাদের মধ্যে ১০ জন আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হয়েছিলেন। থোট্টাক্কাট্টু মাধবিআম্মা ছিলেন ভারতের কোনো বিধানসভার প্রথম মহিলা সদস্য।[১৮]

১৯৪৭ সালে কোচিন প্রথম দেশীয় রাজ্য হিসেবে স্বেচ্ছায় নতুন ভারতীয় অধিরাজ্যে যোগদান করে।[১৯] ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি ভারত প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। ত্রিবাঙ্কুর কোচিনের সাথে একীভূত হয়ে ত্রিবাঙ্কুর-কোচিন গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির মালাবার জেলার সাথে একীভূত হয়েছিল। কাসারগড়কে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং কন্যাকুমারীকে এর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ১৯৫৬ সালের ১লা নভেম্বর ভারতের কেরালা রাজ্য গঠিত হয়েছিল।[২০]

প্রশাসন

[সম্পাদনা]

প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে, কোচিনকে সাতটি তালুকে বিভক্ত করা হয়েছিল (১৮৬০ থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত): চিত্তুর, কোচিন, ক্রাঙ্গানোর, কানায়ান্নুর, মুকুন্দপুরম, ত্রিচুর এবং তালাপল্লি।

তালুক ক্ষেত্রফল (বর্গ মাইলে) সদর দপ্তর
চিত্তুর ২৮৫ চিত্তুর
কোচিন ৬৩ মাটাঞ্চেরি
ক্রাঙ্গানোর ১৯ ক্রাঙ্গানোর (বর্তমানে কোডুঙ্গাল্লুর )
কানায়ান্নুর ৮১ এর্নাকুলাম
মুকুন্দপুরম ৪১৮ ইরিনজালাকুদা
তালাপল্লি ২৭১ ওয়াডাক্কাঞ্চেরি
ত্রিচুর ২২৫ ত্রিশুর (বর্তমানে ত্রিশূর )
মোট ১,৩৬২

রাজধানী

[সম্পাদনা]

দ্বাদশ শতাব্দীর শুরু থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত পেরুমপদাপ্পু স্বরূপমের রাজধানী ভানেরির পেরুমপদাপ্পু গ্রামের চিত্রকুডায় অবস্থিত ছিল। যদিও পেরুমপদাপ্পু স্বরূপমের রাজধানী ভানেরিতে ছিল, তবে মহোদয়পুরমে পেরুমপদাপ্পু রাজার একটি প্রাসাদ ছিল।

ত্রয়োদশ শতকের শেষভাগে যখন জামোরিনরা ভানেরি আক্রমণ করে, তখন পেরুমপদাপ্পু স্বরূপম তাদের রাজধানী ভানেরি থেকে মহোদয়পুরমে স্থানান্তরিত করে। ১৪০৫ সালে, পেরুমপদাপ্পু স্বরূপম তাদের রাজধানী মহোদয়পুরম থেকে কোচিনে নিয়ে যায়। ১৪ শতকের শেষের দিকে, জামোরিনরা থ্রিক্কানামাথিলাকাম জয় করে এবং এটি মহোদয়পুরমের (তিরুভাঞ্চিকুলম) জন্য ভয়ের কারণ হয়ে ওঠে, যার কারণেই হতে পারে যে পেরুমপদাপ্পু স্বরূপম তাদের রাজধানী মহোদয়পুরম থেকে কোচিনে পরিবর্তন করে। তাছাড়া, ১৩৪১ খ্রিস্টাব্দে এক বন্যায় পুথুভিপ্পু (ভাইপিন) নামে একটি দ্বীপ সৃষ্টি হয় এবং কোচিন ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক পোতাশ্রয় হয়ে ওঠে।[২১] পুরনো কোদুঙ্গাল্লুর (ক্রাঙ্গানোর) বন্দরের গুরুত্ব হ্রাস পাওয়াটাও রাজধানী স্থানান্তরের একটি কারণ হতে পারে। তখন থেকে পেরুমপদাপ্পু স্বরূপম কোচিন রাজপরিবার নামটি ব্যবহার করতে শুরু করে।

অবশেষে, ষোড়শ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজদের আগমন সম্ভবত কোচিনের রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছিল। কোচিন রাজ্য ছিল প্রথম ভারতীয় জাতিগুলির মধ্যে অন্যতম যারা একটি ইউরোপীয় শক্তির সাথে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং ১৫০০ সালে পেদ্রো আলভারেস ক্যাব্রালের সাথে বাণিজ্যের শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করে।

কালবঠ্ঠির প্রাসাদটি মূলত রাজাদের বাসস্থান ছিল। তবে ১৫৫৫ সালে রাজপ্রাসাদটি মাট্টানচেরিতে[২২] স্থানান্তরিত হয় এবং পরে ত্রিশূরে স্থানান্তরিত হয়। সেই সময় পেনভাজিথাম্পুরান (মহিলা থাম্পুরান) এবং অন্যান্য কোচুথাম্পুরানরা (ভল্লিয়াথাম্পুরান (রাজা) ব্যতীত অন্যান্য থাম্পুরানরা) ভেল্লারাপিল্লির একটি প্রাসাদে অবস্থান করতেন।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে থ্রিপুনিতুরা খ্যাতি লাভ করতে শুরু করে। রাজ্যটি ত্রিশূর, কোচিন এবং ত্রিপুনিতুরা থেকে শাসিত হত।[২৩] আনুমানিক ১৭৫৫ সালে পেনভাজিথাম্পুরান (মহিলা থাম্পুরান) এবং কোচুথাম্পুরানরা (অন্যান্য থাম্পুরানরা) ভেল্লারাপল্লি ত্যাগ করে থ্রিপুনিতুরায় বসবাস শুরু করেন। এইভাবে ত্রিপুনিতুরা কোচিন রাজপরিবারের রাজধানী হয়ে ওঠে।

কোচিনের মহারাজাদের তালিকা

[সম্পাদনা]

চেরামান পেরুমালের ভাইপো বীর কেরালা বর্মাকেই ঐতিহ্যগতভাবে কোচিনের প্রথম মহারাজা বলে মনে করা হয়। তবে, রাজবংশটির লিখিত নথিপত্র ১৫০৩ খ্রিস্টাব্দের। কোচিনের মহারাজাকে গঙ্গাধর কোভিল অধিকারীকালও বলা হত, যার অর্থ সকল মন্দিরের প্রধান।[২৪] রাজারা মাতৃতান্ত্রিক উত্তরাধিকার প্রথা অনুসরণ করতেন।

পাহাড় প্রাসাদ, প্রধান প্রাসাদ
রাম বর্মা চতুর্দশ, ১৮৬৮ সালে কোচিনের রাজা
রাম বর্মা পঞ্চদশ, যিনি সিংহাসন ত্যাগী মহামান্য নামে অধিক পরিচিত
মহারাজা কেরালা বর্মা থাম্পুরান ওরফে ঐক্য কেরলম থাম্পুরান

পর্তুগিজ মিত্র হিসেবে

[সম্পাদনা]
  1. উন্নিরামন কোয়িকল দ্বিতীয় (১৫০৩ - ১৫৩৭)
  2. বীর কেরালা বর্মা প্রথম (১৫৩৭ - ১৫৬৫)
  3. কেশব রাম বর্মা (১৫৬৫ - ১৬০১)
  4. বীর কেরালা বর্মা দ্বিতীয় (১৬০১ - ১৬১৫)
  5. রবি বর্মা প্রথম (১৬১৫ - ১৬২৪)
  6. বীর কেরালা বর্মা তৃতীয় (১৬২৪ - ১৬৩৭)
  7. গোদা বর্মা প্রথম (১৬৩৭ - ১৬৪৫)
  8. বীররায়রা বর্মা (১৬৪৫ - ১৬৪৬)
  9. বীর কেরালা বর্মা চতুর্থ (১৬৪৬ - ১৬৫০)
  10. রাম বর্মা প্রথম (১৬৫০ - ১৬৫৬)
  11. রানি গঙ্গাধরলক্ষ্মী (১৬৫৬ - ১৬৫৮, রাজপ্রতিনিধিত্ব)[২৫]
  12. রাম বর্মা দ্বিতীয় (১৬৫৮-১৬৬২)
  13. গোদা বর্মা দ্বিতীয় (১৬৬২–১৬৬৩)

ওলন্দাজ মিত্র হিসেবে

[সম্পাদনা]
  1. বীর কেরালা বর্মা পঞ্চম (১৬৬৩ - ১৬৮৭)
  2. রাম বর্মা তৃতীয় (১৬৮৭ – ১৬৯৩)
  3. রবি বর্মা দ্বিতীয় (১৬৯৩ – ১৬৯৭)
  4. রাম বর্মা চতুর্থ (১৬৯৭ – ১৭০১)
  5. রাম বর্মা পঞ্চম (১৭০১ – ১৭২১)
  6. রবি বর্মা তৃতীয় (১৭২১ - ১৭৩১)
  7. রাম বর্মা ষষ্ঠ (১৭৩১ – ১৭৪৬)
  8. কেরালা বর্মা প্রথম (১৭৪৬ – ১৭৪৯)
  9. রাম বর্মা সপ্তম (১৭৪৯ - ১৭৬০)
  10. কেরালা বর্মা দ্বিতীয় (১৭৬০ – ১৭৭৫)
  11. রাম বর্মা অষ্টম (১৭৭৫ - ১৭৯০)
  12. রাম বর্মা নবম (শাক্তন থাম্পুরান) (১৭৯০ - ১৮০৫)

একটি ব্রিটিশ দেশীয় রাজ্য হিসাবে

[সম্পাদনা]
  1. রাম বর্মা দশম (১৮০৫ - ১৮০৯) - ভেল্লারাপল্লি-ইল থিপেট্টা থাম্পুরান
  2. কেরালা বর্মা তৃতীয় (বীর কেরালা বর্মা) (১৮০৯ - ১৮২৮) – কার্কিডাকা মাসাথিল থিপেট্টা থাম্পুরান
  3. রাম বর্মা একাদশ (১৮২৮ - ১৮৩৭) - থুলম-মাসাথিল থিপেট্টা থাম্পুরান
  4. রাম বর্মা দ্বাদশ (১৮৩৭ - ১৮৪৪) – এদাভা-মাসাথিল থিপেট্টা থাম্পুরান
  5. রাম বর্মা ত্রয়োদশ (১৮৪৪ - ১৮৫১) - ত্রিশুর-ইল থিপেট্টা থাম্পুরান
  6. কেরালা বর্মা চতুর্থ (বীর কেরালা বর্মা) (১৮৫১ - ১৮৫৩) – কাশি-ইল থিপেট্টা থাম্পুরান
  7. রবি বর্মা চতুর্থ (১৮৫৩ - ১৮৬৪) – মাকারা মাসাথিল থিপেট্টা থাম্পুরান
  8. রাম বর্মা চতুর্দশ (১৮৬৪ - ১৮৮৮) - মিথুনা মাসাথিল থিপেট্টা থাম্পুরান
  9. কেরালা বর্মা পঞ্চম (১৮৮৮ - ১৮৯৫) - চিংগাম মাসাথিল থিপেট্টা থাম্পুরান
  10. রাম বর্মা পঞ্চদশ (স্যার শ্রী রাম বর্মা) (১৮৯৫ - ১৯১৪) - ওরফে রাজর্ষি, ত্যাগী মহামান্য
  11. রাম বর্মা ষোড়শ (১৯১৪ - ১৯৩২) - মাদ্রাসিল থিপেট্টা থাম্পুরান
  12. রাম বর্মা সপ্তদশ (১৯৩২ - ১৯৪১) - ধর্মিকা চক্রবর্তী, চৌরা-ইল থিপেট্টা থাম্পুরান
  13. কেরালা বর্মা ষষ্ঠ (১৯৪১ - ১৯৪৩) - মিদুক্কান থাম্পুরান
  14. রবি বর্মা পঞ্চম (১৯৪৩ - ১৯৪৬) - কুঞ্জপ্পান থাম্পুরান
  15. কেরালা বর্মা সপ্তম (১৯৪৬ - ১৯৪৮) - আইক্যা কেরালাম থাম্পুরান
  16. রাম বর্মা অষ্টাদশ (১৯৪৮ - ১৯৬৪) পরীক্ষিত থাম্পুরান নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি কোচিন দেশীয় রাজ্যের শেষ আনুষ্ঠানিক শাসক ছিলেন। তিনি ১৯৪৯ সালে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। একীকরণটি আরও এক বছরে সম্পন্ন হয়েছিল।

স্বাধীনতা-পরবর্তী (শুধুমাত্র খেতাবসার)

[সম্পাদনা]
  1. রাম বর্মা অষ্টাদশ (১৯৪৮ - ১৯৬৪) পরীক্ষিত থাম্পুরান নামে পরিচিত ছিলেন।
  2. রাম বর্মা উনবিংশ (১৯৬৪ - ১৯৭৫) - লালন থাম্পুরান - ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের ২৬ তম সংশোধনীর অধীনে ১৯৭১ সালে সরকারী স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
  3. রবি বর্মা (১৯৭৫ - ১৯৮৩)
  4. রামা বর্মা কুট্টাপ্পান থাম্পুরান (১৯৮৩ - ১৯৮৫)
  5. কেরালা বর্মা কাশী আপান থাম্পুরান (১৯৮৬ - ১৯৯০)
  6. কেরালা বর্মা আনিয়ান কোচুন্নি থাম্পুরান (১৯৯০ - ২০০৪)
  7. কেরালা বর্মা অষ্টম (২০০৪ - ২০০৪) মাত্র ছয় মাস - কোচুন্নি থাম্পুরান
  8. রাম বর্মা একবিংশ (২০১১ - ২০১৪) – কোচানিয়ান থাম্পুরান
  9. রবি বর্মা ষষ্ঠ (২০১৪ - ২০২০) – কোচানিয়ান থাম্পুরান
  10. রবি বর্মা সপ্তম (সেরি) (২০২০ - ২০২৪)
  11. কেরালা বর্মা কুঞ্জিকুত্তন থাম্পুরান (২০২৪ - ২০২৫)
  12. রবি বর্মা (আরটিআরভি) (২০২৫ বর্তমান)

কোচিনের প্রধানমন্ত্রীগণ (১৯৪৭-৪৯)

[সম্পাদনা]
ক্রম[] নাম চিত্র কার্যকাল[২৬] দল পরিষদ নিযুক্তি (সম্রাট)
থেকে পর্যন্ত কার্যকালের মেয়াদ
পানামপিল্লি গোবিন্দ মেনন ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ ২২ অক্টোবর ১৯৪৭ ৫১ দিন স্বশাসিত ষষ্ঠ পরিষদ (১৯৪৫–৪৮) কেরল বর্মা সপ্তম,

কোচিনের মহারাজা

টি. কে. নায়ার ২৭ অক্টোবর ১৯৪৭ ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ ৩৩৪ দিন
ই. ইক্কান্দা ওয়ারিয়ার ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ ৩০ জুন ১৯৪৯ ২৮৩ দিন বিধানসভা (১৯৪৮–৪৯)

কোচিনের প্রধানরা

[সম্পাদনা]

চেন্দামঙ্গলমের পালিয়াম পরিবারের পালিয়াথ আচান সপ্তদশ শতকের শুরু থেকেই কোচিন রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং কোচিনের মন্ত্রিত্বে বংশানুক্রমিক অধিকার ভোগ করেছেন। পালিয়াথ আচান ছিলেন রাজার পর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি, এবং তিনি মাঝে মাঝে রাজার চেয়েও বেশি ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন। ক্ষমতার দিক থেকে পেরুমপদাপ্পু স্বরূপমের পরেই পালিয়াম স্বরূপম দ্বিতীয় ছিল, কিন্তু সম্পদ ও ভূখণ্ডের দিক থেকে তারা অনেক বড় ছিল

এই অঞ্চলগুলির আশেপাশের অন্যান্য শক্তিশালী শাসকরা ছিলেন চেরানেলোর কার্থাভু যিনি আঞ্চি কাইমালসের প্রধান ছিলেন; মুরিয়ানাট্ট (মুকুন্দপুরম-নাদাভারম্বু) নাম্বিয়ার যিনি অরুণাত্তিল প্রভুসের প্রধান ছিলেন; কোডাসেরি কার্থা মাপপ্রানম প্রভু-ভেলোস নায়ার; চাঙ্গারামপোনাথ কার্থা; চেঙ্গাঝি নাম্বিয়ার (চেঙ্গাঝিনাড নাদুভাঝি) এবং এডাপ্পল্লি নামপিয়াথিরি।

কে পি পদ্মনাভ মেনন তাঁর হিস্ট্রি অফ কেরালা বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ডে উল্লেখ করেছেন যে, আঞ্জি কাইমলরা সমগ্র এর্নাকুলামের মালিক ছিল, যাদের প্রধান ছিলেন চেরানেল্লুর কার্থা। প্রকৃতপক্ষে, কেরালার পুরোনো মানচিত্রগুলিতে এর্নাকুলাম অঞ্চল আঞ্জি কাইমাল নামে পরিচিত ছিল। মালাবারে ওলন্দাজ (ওলন্দাজ রেকর্ডস নং ১৩), ১৯১০ দেখুন, সেখানে ১৭৪০ সালের একটি মানচিত্র দেখানো হয়েছে যা থেকে বোঝা যায় যে আঞ্জি কাইমালের ক্ষেত্র কোচিন রাজ্যের প্রায় দ্বিগুণ ছিল। গোলেনেসির (ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি) উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি যে অন্যান্য প্রধানদের উল্লেখ করেছেন তাঁরা হলেন ১) মুরিয়ানাত্ত নাম্বিয়ার ২) পালিয়াথ আচান (ওপরে উল্লিখিত), ৩) কোডাচেরি (কোটাসেরি) কাইমাল, ৪) কোরেট্টির কাইমালিওন (মহিলা কাইমাল), ৫) চাঙ্গেরা কোড্ডা কাইমাল এবং ৬) পানামুকাত্তু কাইমাল (পানাম্বাকাদু কাইমাল)। শেষের চারজন কাইমাল নন্দিয়েত্তর নাডুর কাইমাল নামে পরিচিত। ১৬৯৪ সালে ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হিয়ার ভ্যান রিডের তথ্য অনুসারে, নন্দিয়েত্তর নাডুর কাইমালদের ৪৩,০০০ নায়ার সৈন্য ছিল।

মাতৃবংশীয় উত্তরাধিকার

[সম্পাদনা]

কোচিন রাজপরিবার মারুমাক্কাতায়াম নামে পরিচিত এবং তারা মাতৃতান্ত্রিক উত্তরাধিকার প্রথা অনুসরণ করত। ঐতিহ্যগতভাবে পরিবারের নারী সদস্যরা নাম্বুদ্রি ব্রাহ্মণদের এবং পুরুষ সদস্যরা নায়ার / মেনন শ্রেণীর নারীদের বিয়ে করেন। পুরুষ সদস্যদের এই স্ত্রীরা মাতৃতান্ত্রিক প্রথা অনুসারে রানি নন, বরং তাঁরা নেথিয়ার আম্মা উপাধি লাভ করেন।[২৭]

ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান

[সম্পাদনা]

'ষোড়শক্রিয়াকাল' বলতে 'স্মৃতি' অনুসারে বিন্যস্ত ষোলটি পর্বকে বোঝায়, যা পরিবারের সকল সদস্যকে পালন করতে হয়।

  1. সেকোম (গর্ভাধানম): বিবাহের পর প্রথম যৌন মিলনের ঠিক আগে পালনীয় একটি রীতি।
  2. পুংসবনম : গর্ভধারণের ঠিক পরেই পালনীয়।
  3. সীমন্থম: পুংসবনমের পরে পালনীয়।
  4. জাতকর্ম: জন্মের ঠিক পরেই সম্পাদিত হয়।
  5. নামকরণ: শিশুর নামকরণ অনুষ্ঠান।
  6. (উপ)নিষ্ক্রাণম (বাথিলপুরপ্পাডু): এর মাধ্যমে শিশুকে প্রথমবারের মতো বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
  7. চোরুনু: শিশুর প্রথমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ভাত গ্রহণ।
  8. চৌলাম : ছেলে বা মেয়ের প্রথম চুল কাটার অনুষ্ঠান।
  9. উপনয়নম : পৈতা ধারণ করা, যা মালয়ালম ভাষায় পুনুল নামে পরিচিত (শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য)।
  10. মহানামনিভৃতম (আন্দুভৃতম):
  11. মহাবৃতম
  12. উপনিষদ্বৃতম
  13. গোদানম: আচার্যকে (পুরোহিত বা শিক্ষক) ধন্যবাদ জ্ঞাপনের অংশ হিসেবে পালিত একটি আচার, যার মধ্যে গরু দানও অন্তর্ভুক্ত।
  14. সমাবর্তনম: উপরোক্ত বৈদিক শিক্ষা সমাপ্তির জন্য একটি দীর্ঘ অনুষ্ঠান।
  15. বিবাহ
  16. অগ্নিধানম: মৃত্যুর পর ঔপাসনের সম্প্রসারণ এবং শ্রৌত প্রথার সূচনা হিসেবে সম্পাদিত একটি অনুষ্ঠান।

দেবতারা

[সম্পাদনা]
শ্রী পূর্ণাথ্রয়ীসা মন্দির
  • পরাদেবতা (দেবী): ভানেরি চিত্রকুডম, পাজায়ান্নুর ভগবতী, চাজুর পাজায়ান্নুর ভাগবতী
  • পরাদেবন (দেবতা): বিষ্ণু ( শ্রী পূরনাথরায়েসা ), তিরুভাঞ্চিকুলথাপ্পান (উত্তর পারভুর এবং কোডুঙ্গালোরের মধ্যে তিরুভাঞ্চিকুলমের ভগবান শিব)
  • অন্যান্য দেবতা: চোত্তানিক্কারা ভগবতী, পুলপল্লী থেভার এবং আরও অনেক কিছু

পুরুষ থাম্পুরানের নামকরণের অনুশীলন

[সম্পাদনা]

কোচিন রাজপরিবারে সকল পুরুষ থাম্পুরানদের নিম্নলিখিত প্রথা অনুসারে নামকরণ করা হতো।

  • জ্যেষ্ঠ পুত্র – রাম বর্মা
  • দ্বিতীয় পুত্র – কেরালা বর্মা[২৮]
  • তৃতীয় পুত্র – রবি বর্মা
  • চতুর্থ পুত্র - রাম বর্মা[২৯]

নারী থাম্পুরানদের নামকরণের রীতি

[সম্পাদনা]

কোচিন রাজপরিবারে থাম্পুরান নারীদের নামকরণ নিম্নলিখিত প্রথা অনুসারে করা হতো।

  • প্রথম কন্যা – অম্বা
  • দ্বিতীয় কন্যা – সুভদ্রা

এই নামকরণ রীতিটি তৃতীয় ও চতুর্থ ইত্যাদি কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা হয়।

মহিলা এবং পুরুষ উভয় সদস্যকেই "থাম্পুরান" নামে ডাকা হয় এবং তাদের পদবি একই (থাম্পুরান)।[২৯]

পারুকুট্টি নেথিয়ার আম্মা

[সম্পাদনা]

মহারাজা রাম বর্মা (জনপ্রিয়ভাবে মাদ্রাসিল থিপেট্টা থাম্পুরান নামে পরিচিত), যিনি ১৯১৪ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন, পারুকুট্টি নেথিয়ার আম্মা নামে একজন বিশেষভাবে পারদর্শী সহধর্মিণী তাঁর সহায়তা করেছিলেন।[৩০] আম্মা ত্রিশূরের বিখ্যাত ভাদাক্কে কুরুপাথ পরিবারের সদস্য ছিলেন, যেটি একটি অভিজাত নায়ার / মেনন পরিবার ছিল। তাঁর বাবা কুরুর নারায়ণন নাম্বুথিরিপ্পাদ এমন এক পরিবারের সদস্য ছিলেন যাদের ঐতিহ্যগতভাবে পালঘাটের রাজাদের অভিষেক করার সম্মান ছিল।[৩১] ১৮৮৮ সালে চোদ্দ বছর বয়সে তিনি তৎকালীন সিংহাসনের উত্তরাধিকারের চতুর্থ সারিতে থাকা মহারাজার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। রাজার পূর্বসূরীরা সিংহাসন ত্যাগের ফলে তাঁর স্বামী সিংহাসনে আরোহণ করেন। যেহেতু মহারাজা একজন পণ্ডিত ছিলেন এবং তাঁর অন্যান্য আগ্রহও ছিল, তাই আম্মা রাজ্যের অর্থব্যবস্থার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে বেতন চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং বর্ধিত রাজস্বের জন্য তিনি ১৭-তোপধ্বনির সম্মাননা লাভ করেন। পারুকুট্টি নেথিয়ার আম্মা জনহিতকর কাজের জন্য ১৯১৯ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের কাছ থেকে কায়সার-ই-হিন্দ পদক লাভ করেন এবং কোচিনের লেডি রাম বর্মা নামে পরিচিত হন।[৩২]

রাজবংশের সদস্যরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছেন। পরিবারটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রাজপরিবার, যার সদস্য সংখ্যা ১,০০০ জনেরও বেশি, এবং পরিবারের অনেক সদস্য এখনও থ্রিপুনিতুরা, ত্রিশূর (চাঝুর) এবং কোচির অন্যান্য অংশে বাস করেন।[৩৩] কোচিনের রাজপরিবারের বর্তমান প্রধান হলেন মৃণালিনী থাম্পুরান (জন্ম ১৯২৫), যাঁর বয়স ১০০ বছর এবং যিনি ত্রিপুরানিতুরায় বাস করেন।[৩৪][৩৫] পরিবারের অন্যান্য পরিচিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডঃ কোচা বর্মা,[৩৬] ডঃ ক্রিস কেরালা বর্মা।[৩৭]

ছবিঘর

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]
  1. বন্ধনীভুক্ত সংখ্যাটি নির্দেশ করে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পূর্বে এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 A Survey of Kerala History, A. Sreedhara Menon, DC Books, Kottayam (2007)
  2. Eapan (১২ মার্চ ২০২১)। The Permanent King of Cochin (ইংরেজি ভাষায়)। The Savings Trust Limited।
  3. 1 2 3 4 5 "Kingdom Of Cochin | Discover Our Rich Legacy"Kingdom Of Cochin (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২৬
  4. "The Rulers of Cochin | ICCI Cochin" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২৬
  5. 1 2 "The States Reorganisation Act, 1956" (পিডিএফ)legislative.gov.in। Government of India। ১৭ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০২১
  6. 1 2 Kerala.com (২০০৭)। "Kerala History"। ১০ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০০৮
  7. Pillai, Elamkulam Kunjan (১৯৭০)। Studies in Kerala History
  8. 1 2 3 4 5 6 7 Sen, Tansen (২০১৬)। "The Impact of Zheng He's Expeditions on Indian Ocean Interactions"। Bulletin of the School of Oriental and African Studies৭৯ (3): ৬০৯–৬৩৬। ডিওআই:10.1017/S0041977X16001038.
  9. Logan, William (২০১০)। Malabar Manual (Volume-I)। Asian Educational Services। পৃ. ৬৩১–৬৬৬। আইএসবিএন ৯৭৮৮১২০৬০৪৪৭৬
  10. S. Muhammad Hussain Nainar (১৯৪২)। Tuhfat-al-Mujahidin: An Historical Work in The Arabic Language। University of Madras।
  11. MSN Encarta Encyclopedia {{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  12. Kochi Rajyacharithram by KP Padmanabha Menon. P(1914)
  13. "The Cochin Saga"Robert Charles Bristow employed to develop Kochi port। Corporation of Kochi। ৩ মে ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০০৬
  14. "Chronological List of Central Acts (Updated to 17-10-2014)"Lawmin.nic.in। ৭ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০১৬
  15. Lewis McIver, G. Stokes (১৮৮৩)। Imperial Census of 1881 Operations and Results in the Presidency of Madras ((Vol II) সংস্করণ)। E. Keys at the Government Press। পৃ. ৪৪৪। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২০
  16. Presidency, Madras (India (১৯১৫)। Madras District Gazetteers, Statistical Appendix For Malabar District. (Vol.2 সংস্করণ)। The Superintendent, Government Press। পৃ. ২০। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২০
  17. Frowde, Henry (১৯০৮–১৯০৯)। Imperial Gazetteer of India (New সংস্করণ)। Clarendon Press। ১৬ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২০
  18. "History and culture of Kochi"। Corporation of Kochi। ৩ মে ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০০৬
  19. "Instrument of Accession of the State of Cochin"। Cochin State- Instrument of Accession and Standstill Agreement signed between Kerala Varma, Ruler of Cochin State and the Dominion of India। Ministry of States, Government of India। ১৯৪৭। পৃ. । সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০২২ National Archives of India এর মাধ্যমে।
  20. "Hidden India:The Kerala Spicelands"PBS। ২০০৭। ৮ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০০৮
  21. "History of Cochin – Ernakulam"। ২০০৭। ৮ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০০৮
  22. "Kochi – Queen of the Arabian Sea"। KnowIndia.netdate=2007। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০০৮
  23. "Cochin Royal Family History – Post-1715"। ২০০৭। ১৪ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০০৮
  24. Thampuran, Rameshan (২০০৭)। "Emergence of Kingdom of Cochin and Cochin Royal Family"। ১৩ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০০৮
  25. Education, Kerala (India) Department of; Menon, A. Sreedhara (১৯৬৫)। Kerala District Gazetteers: Ernakulam। Superintendent of Government Presses। পৃ. ১২৮।
  26. Responsible Governments (1947–56) ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৩ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে. Kerala Legislature. Retrieved on 22 April 2014.
  27. "Seeking royal roots"The Hindu। ৩ মার্চ ২০০৩। ২২ অক্টোবর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১২
  28. "Prince Chris Kerala Varma"kingdomofcochin.org। ২২ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০২৪
  29. 1 2 "History of Cochin Royal Family"cochinroyalhistory.org। ১০ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০
  30. "Cochin Royal Family History – Post-1715"। ২০০৭। ১৪ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০০৮
  31. "Kuruppath | History"। ১৫ এপ্রিল ২০২০। ১৫ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২০
  32. "The National Archives | A2A | Results"। ৮ মে ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০০৮
  33. "Seeking royal roots"The Hindu। ২০০৩। ৮ ডিসেম্বর ২০০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০০৮
  34. "History of Cochin Royal Family"cochinroyalhistory.org। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২১
  35. "Kingdom of Cochin History course"kingdomofcochin.org। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২৪
  36. "Profile of the Author"cochinroyalhistory.org। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
  37. "Prince Chris Kerala Varma"kingdomofcochin.org। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • কাটজ, নাথান এবং গোল্ডবার্গ, হেলেন এস. কাশরুত, বর্ণপ্রথা ও কাব্বালাহ: কোচিনের ইহুদিদের ধর্মীয় জীবন । মহনার বুকস, ২০০৫।
  • কুলকে, হারমান। ভারতের ইতিহাস । নিউ ইয়র্ক: রাউটলেজ, ২০০৪।
  • মেনন, পি. শুঙ্গুন্নি। প্রাচীনতম সময় থেকে ত্রাভাঙ্কোরের ইতিহাস । ১৮৭৮।
  • পিল্লাই, এলামকুলাম কুঞ্জন। কেরালার ইতিহাস বিষয়ক অধ্যয়ন । কোট্টায়াম, ১৯৭০।
  • রামচন্দ্রন, রাঠি। মধ্যযুগীয় কেরালার ইতিহাস । প্রগতি পাবলিকেশন্স, ২০০৫।
  • থাম্পুরান, রামেশান। কোচিন রাজপরিবারের বংশতালিকা
  • কেরালার ইতিহাস, কেপি পদ্মনাভ মেনন, খণ্ড। ২.
  • চাজহুর তাম্রশাসন, এস রাজেন্দু, কোট্টায়ম, 2015।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Kochi (India) topics

টেমপ্লেট:Princely states of the Madras States Agency