কেন ওয়াডসওয়ার্থ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কেন ওয়াডসওয়ার্থ
কেন ওয়াডসওয়ার্থ.png
১৯৭৪ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে কেন ওয়াডসওয়ার্থ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামকেনেথ জন ওয়াডসওয়ার্থ
জন্ম(১৯৪৬-১১-৩০)৩০ নভেম্বর ১৯৪৬
নেলসন, নিউজিল্যান্ড
মৃত্যু১৯ আগস্ট ১৯৭৬(1976-08-19) (বয়স ২৯)
নেলসন, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরন-
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১২১)
২৪ জুলাই ১৯৬৯ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ বনাম ভারত
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১১)
১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩ বনাম পাকিস্তান
শেষ ওডিআই২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ বনাম ভারত
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৩৩ ১৩ ১১৮ ৩০
রানের সংখ্যা ১,০১০ ২৫৮ ৩,৬৬৪ ৬০৩
ব্যাটিং গড় ২১.৪৮ ২৮.৬৬ ২৫.৬২ ৩০.১৫
১০০/৫০ ০/৫ ১/০ ২/- ১/২
সর্বোচ্চ রান ৮০ ১০৪ ১১৭ ১০৪
বল করেছে - - ১৬ -
উইকেট - - -
বোলিং গড় - - - -
ইনিংসে ৫ উইকেট - - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - - -
সেরা বোলিং - - - -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৯২/৪ ১৩/২ ২৬৫/২৬ ৩৯/৬
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

কেনেথ জন ওয়াডসওয়ার্থ (ইংরেজি: Ken Wadsworth; জন্ম: ৩০ নভেম্বর, ১৯৪৬ - মৃত্যু: ১৯ আগস্ট, ১৯৭৬) নেলসনে জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৬ সময়কালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন কেন ওয়াডসওয়ার্থ

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৬৯-৭০ ও ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের নিয়মিত উইকেট-রক্ষক হিসেবে সহস্রাধিক রান ও প্রায় ১০০ ব্যাটসম্যানকে আউট করতে সহায়তা করেছেন। সর্বদাই প্রতিভাধর উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল। খেলার বাইরেও নিয়মিতভাবে অনুশীলন করতেন। আক্রমণধর্মী ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রায়শঃই নিজ উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসতেন। তবে সময়ের প্রয়োজনে রক্ষণাত্মক ঢংয়েও খেলতেন।

সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে কেন ওয়াডসওয়ার্থের। ডিসেম্বর, ১৯৬৮ সালে ২২ বছর বয়সে বেসিন রিজার্ভে ওয়েলিংটনের বিপক্ষে প্লাঙ্কেট শীল্ডে তাঁর এই অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়েছিল। দুই মাস পর ডুনেডিনে সাউথ আইল্যান্ডের সদস্যরূপে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম সেঞ্চুরির সন্ধান পান। এছাড়াও এ স্তরের ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো উইকেট-রক্ষণে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

হক কাপে নেলসনের পক্ষে খেলেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৩৩ টেস্ট ও ১৩টি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নেয়ার সুযোগ ঘটে তাঁর। ১৯৬৯ ও ১৯৭৩ সালে দুইবার ইংল্যান্ড সফরে যান। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনার কারণে ১৯৬৯ সালে নিউজিল্যান্ড দলে অন্তর্ভূক্ত হয়ে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড সফর করেন। ২৪ জুলাই, ১৯৬৯ তারিখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে অভিষেক ঘটে কেন ওয়াডসওয়ার্থের। এরজন্য তাঁর উন্নততর ব্যাটিং নৈপুণ্য দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরীভূত হয়। স্বদেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা ব্যারি মিলবার্নের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন তিনি।

টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ব্যাটিংয়ের চেয়ে উইকেট-রক্ষণেই তাঁকে প্রাধান্য দেয়া হয়। প্রথম ১১ টেস্টে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল সাতের চেয়ে কম। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে নিউজিল্যান্ড দল গমন করে। ক্রিকেট বিশ্বে দলের সফরকে আসন্ন পরাজয়রূপে চিত্রিত করা হয়েছিল। জ্যামাইকার কিংস্টনে অনুষ্ঠিত পাঁচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে দলীয় সংগ্রহ ১০৮/৫ থাকা অবস্থায় তিনি গ্লেন টার্নারের সাথে যোগ দেন। ৬ষ্ঠ উইকেটে তাঁরা ২২০ রান যুক্ত করেন। তাঁদের এ জুটির সংগ্রহটি পরবর্তী ১৫ বছর নিউজিল্যান্ডীয় জুটির সর্বোচ্চ রানের স্বীকৃতি পায়।

১৯৭৪ সালে মেলবোর্নে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টে ৮০ রান তুলেন যা তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল। একই মৌসুমে ক্রাইস্টচার্চে একই দলের বিপক্ষে ওডিআইয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এরপর থেকে তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরবর্তী ১৭ টেস্টে ২৬.৬২ গড়ে রান তুলতে পেরেছিলেন কেন ওয়াডসওয়ার্থ। ১৯৭৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট বিজয়ে জয়সূচক রান করেছিলেন তিনি।[১]

ক্রিকেট বিশ্বকাপ[সম্পাদনা]

১৯৭৫ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসের উদ্বোধনী প্রতিযোগিতায় গ্লেন টার্নারের নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।[২] ঐ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পেরেছিলেন।

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেভান কংডনের সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ১৩০ রানের সর্বোচ্চ রান তোলার রেকর্ড গড়েছিলেন। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সালে একই দলের বিপক্ষে ক্রেগ ম্যাকমিলানব্রেন্ডন ম্যাককুলাম ১৬৫ রান তুলে এ রেকর্ডটি তাদের করে নেন। প্রথম উইকেট-রক্ষক হিসেবে নিজস্ব পঞ্চম ওডিআইয়ে সেঞ্চুরি করার গৌরবগাঁথা রচনা করেন। ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় অবশ্য তাঁর দল পরাজয়ের সম্মুখীন হয়।

দেহাবসান[সম্পাদনা]

মার্চ, ১৯৭৬ সালে ক্যান্টারবারির পক্ষে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেন। শেল ট্রফিতে ওতাগোর বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় প্রথম ইনিংসে ১১৭ রান তুলেছিলেন। এ ইনিংসের কল্যাণে তাঁর দল নয় উইকেটে জয় পেয়েছিল। এর পাঁচ মাস পর আকস্মিকভাবে ১৯ আগস্ট, ১৯৭৬ তারিখে মাত্র ২৯ বছর বয়সে নেলসনে দেহাবসান ঘটে তাঁর।

৩০ জানুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে কেন ওয়াডসওয়ার্থের স্মরণে নিউজিল্যান্ড আমন্ত্রিত একাদশ বনাম অস্ট্রেলিয়া একাদশের ৩৫ ওভারের খেলা সম্পন্ন হয়েছিল।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "New Zealand's great day of fulfilment"espncricinfo। ১৩ মার্চ ১৯৭৪। সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০১৪ 
  2. Cricinfo 1975 World Cup stats for New Zealand

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]